Category: ফুটবল

  • চিলিবাধা পেরিয়ে তৃতীয় হতে পারবে তো মেসির আর্জেন্টিনা?

    চিলিবাধা পেরিয়ে তৃতীয় হতে পারবে তো মেসির আর্জেন্টিনা?

    সর্বশেষ দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলিবাধা পার হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দুটি ফাইনালেই গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে তাদের কাছে হারে মেসিবাহিনী। এদিকে আগের দুইবারের এই দুই ফাইনালিস্টের এবার দেখা হচ্ছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও চিলি দু’দলই হেরে যাওয়ায় এবার তারা লড়বে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা দল হতে। যে লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ (শনিবার) রাত ১ টায়, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে চিলির বিরুদ্ধে জয়ের একচেটিয়া রেকর্ড রয়েছে আর্জেন্টিনার। ৮৯ বারের মুখোমুখি দেখায় আর্জেন্টিনার জয় ৬০ ম্যাচে। অন্যদিকে, চিলির মাত্র ৮ ম্যাচে। ফলাফল হয়নি ২১ ম্যাচে। সানচেজ-ভিদালদের থেকে যোজন-যোজন ব্যবধানে মেসি-আগুয়েরোরা এগিয়ে থাকলেও চিন্তার যেন শেষ নেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।

    আসলে আসরটা কোপার বলেই হয়তো আলবিসেলেস্তে ভক্ত-সমর্থকদের এত মাথা ব্যথা। এই টুর্নামেন্টে সবশেষ তিন দেখায় দুইবারই চিলির কাছে হেরেছে আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে দুটি ছিল আবার ফাইনাল ম্যাচ।

    শেষ ২২ বছর ধরে কোপার শিরোপা জিততে না পারা আর্জেন্টিনা এবার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হারে। যে কারণে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আরেকটি ব্যর্থ মিশন পার হতে যাচ্ছে মেসির। আজ তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি জিতলে হয়তো একটা সান্ত্বনা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন তিনি ও তার দল।

    এদিকে সেমিফাইনালের লাইনআপ ঠিক হওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে চিলির। ফাইনালে ওঠার প্রতিপক্ষ পেরু বলেই এমনটি মনে করা হয়েছিল। কিন্ত বেস্টথার্ডের এক দল হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা পেরুর কাছে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে হেরে অঘটনের জন্ম দেয় চিলি। এখন তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। আগের দুই আসরে আর্জেন্টিনাকে হারানোর রেকর্ডও অব্যাহত রাখতে মরিয়ে চিলি।

  • ফাইনালে পেরুকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল

    ফাইনালে পেরুকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল

    গ্রুপ পর্বে ৫ গোল খাওয়া পেরু ফাইনালের প্রতিপক্ষ। মারাকানার ফাইনালেও পেরু উড়ে যাবে ভেবে ব্রাজিলের সমর্থকরা হয়তো হাওয়ায় উড়ছেন। হলুদ সমর্থকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরেকটি গোল উৎসবের। তবে সমর্থকরা যতই উড়তে থাকুন, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ফাইনাল নিয়ে খুবই সতর্ক। তারা কিছুতেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না পেরুকে।

    ২২ জুন সাও পাওলোতে পেরুকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়া ম্যাচের প্রথম গোলদাতা মিডফিল্ডার কাসিমিরো ফাইনালে গোলোৎসবের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে পেরুকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা মিডফিল্ডার বলেছেন,‘এটা ফাইনাল। এমন ম্যাচে আমরা গোল উৎসব করতে পারবো, সেটা আশা করি না। তবে আমরা আশাবাদী ম্যাচটি জিততে পারবো। সেটা হয়তো সহজ হবে না। কারণ, ফাইনালে আমাদের মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে পেরু।

    ‘আমরা পেরুর সঙ্গে একটি ম্যাচ খেলেছি। তখন ছিল এক অবস্থা। এখন ভিন্ন। সেটা ছিল সাও পাওলোর মাঠ, এটা মারাকানা। পেরু জিততে চাইবে। ম্যাচটিকে এক্সট্রা টাইমে নিতে চাইবে। এমন কি টাইব্রেকারে। আমরাও জিততে চাইবো। তাই ভালো একটা ম্যাচ হবে আশা করি। আমাদের চোখ থাকবে ভালো পারফরম্যান্স করা, গোল করা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া’-বলেছেন কাসিমিরো।

    দলের সেন্টারব্যাক মার্কুইনহাস এই ম্যাচ নিয়ে বলেন,‘মারাকানায় আমাদের বিরুদ্ধে পেরু আরো ভালো খেলার প্রত্যাশার কথা বলেছে। তারা সে চেষ্টা করবে। আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে ফাইনালে অনেক কিছু করার আছে। কারণ, ফাইনাল মানেই অন্যরকম এক ম্যাচ। পেরু সেমিফাইনালে চিলিকে উড়িয়ে দিয়ে অন্যরকম দলে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের পেরু আর ফাইনালের পেরু আলাদাই হবে।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল ও পেরু এ পর্যন্ত ৪৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল জিতেছে ৩২ বার, পেরু ৪ বার। ড্র হয়েছে ৯ টি ম্যাচ। এর আগের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল পেরু।

  • দেশের জার্সিতে ২০ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল মেসির!

    দেশের জার্সিতে ২০ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল মেসির!

    জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসি নিষ্প্রভ- এমন অভিযোগ পুরনো। ক্লাব জার্সিতে মুড়ি-মুড়কির মতো গোল করা এ আর্জেন্টাইন দেশের আকাশি-সাদা জার্সিতে পোস্ট খুঁজে পাননি খুব একটা। যে কারণে ক্লাবের হয়ে অনেক গোল ও অনেক ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব থাকলেও দেশকে এখনো কোনো ট্রফি এনে দিতে পারেননি এ সময়ের ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই তারকা।

    সর্বশেষ বুধবার সকালে আরেকটি ব্যর্থতার খতিয়ান লিখে নিয়েছেন মেসি, কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়ে। এবারের কোপায় মেসি করেছেন মাত্র একটি গোল। তাও প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে।

    বার্সেলোনাকে অনেক ম্যাচ জেতানো মেসি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দিনে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারলেন না। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বাঁচা-মরার ম্যাচে।

    আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ১৩৫ ম্যাচ খেলে ৬৮টি গোল করেছেন মেসি। আর বার্সেলোনার জার্সিতে ৪৫২ ম্যাচে করেছে ৪১৯ গোল।

    মজার বিষয় হলো জাতীয় দলের জার্সিতে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে তার অবদান খুবই কম। এ পর্যন্ত মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২০টি নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলেছেন। যে ম্যাচগুলোতে হারলেই বিদায়। সে রকম ২০ ম্যাচ খেলে মেসি গোল করেছেন মাত্র ৪টি।

    আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ৯টি বড় প্রতিযোগিতায় খেলেছেন মেসি; কিন্তু কোনো ট্রফি এনে দিতে পারেননি। নকআউট পর্বে যে চারটি গোল করেছেন মেসি তার সবগুলোই এসেছে ২০০৭ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায়।

    ২০০৭ সালে কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে পেরুর বিরুদ্ধে ৪-০ গোলের জয়ের একটি, সেমিফাইালে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে একটি এবং ২০১৬ সালের কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের জয়ে একটি এবং সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলের জয়ে একটি।

    ২০০৬ সাল থেকে মোট ৪টা বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন ফাইনালেও। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মেসি কোনো বিশ্বকাপেরই নকআউটে গোল করতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে যদি গোল করতে পারতেন, তাহলে বিশ্বকাপটা অন্তত জিততে পারতো আর্জেন্টিনা।

    ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক হয়। সেবার ছিলেন একেবারে তরুণ। বেশি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। গোল তো দুরে থাক। ২০১০ সালে ছিলেন দলের সেরা তারকা। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় রাউন্ড কিংবা কোয়ার্টার কোথাও গোল নেই মেসির।

    ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলেছিল ফাইনালে। মেসি করেছিলেন ৪ গোল। কিন্তু তার কোনোটাই নকআউট পর্বে নয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডি মারিয়ার গোলে সুইজারল্যান্ডকে, কোয়ার্টার ফাইনালে হিগুয়াইনের গোলে বেলজিয়ামকে, সেমিফাইনালে গোলশূন্য ড্র’য়ের পর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেখানেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি।

    ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করেছিলেন মেসি। সেটা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে তো ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো তার দলকে।

  • আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে এক যুগ পর ফাইনালে ব্রাজিল

    আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে এক যুগ পর ফাইনালে ব্রাজিল

    গত তিন কোপা আমেরিকার ব্যর্থতাপূর্ণ ফলাফলকে ভুলতে এবার ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছে ব্রাজিল। বিশেষ করে ২০১৬ সালের আসরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। এর আগে ২০১১ ও ২০১৫ সালের আসরে থামতে হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে।

    তবে এবার আর কোনো ভুল করলো না তিতের দল। চির প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০০৭ সালের পর আবারও ফাইনালে পৌঁছে গেছে ব্রাজিল। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা। এবার তাদের ভাগ্যে রয়েছে কী?- তা বলে দেবে সময়।

    বুধবার ভোরের গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে ব্রাজিলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস ও রবার্তো ফিরমিনো। দুজনই করেছেন একটি করে গোল এবং একে অপরের গোলে এসিস্ট।

    দুঃস্বপ্নময় স্মৃতিজড়িত বেলো হরিজন্তে মাঠে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজায় স্বাগতিকরা। তবে রবার্তো ফিরমিনোর সে প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানি। সেটি আবার ছিল অফসাইডও।

    নবম মিনিটের মাথায় ফের আর্জেন্টাইন রক্ষণে হামলা চালায় ব্রাজিল। ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে রুখতে গিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ফাউল করে বসেন নিকলাস তালিয়াফিকো। ফলে ম্যাচের দশ মিনিট হওয়ার আগেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    তবু গোলের প্রথম সুযোগটা তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনাই। ফাঁকায় থাকা লিওনার্দো পারেদেস ১২ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক শট নেন ব্রাজিলের গোলবারের উদ্দেশ্যে। যা পরাস্ত করে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকেও। কিন্তু তা একটুর জন্য চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

    মিনিটদুয়েক বাদে নিজেদের রক্ষণভাগে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ফেলে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। যেটিকে রেফারি ফাউল না দিলেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    এদিকে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাত্র ১৯ মিনিটেই প্রথম গোল করে ফেলে ব্রাজিল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি আলভেসের দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের ফায়দা নেয় স্বাগতিকরা।

    দলের অধিনায়ক দানি দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল সামনে বাড়ান রবার্তো ফিরমিনোর উদ্দেশ্যে। যিনি বল রিসিভ না করে সরাসরি নিচু পাস দেন ডি-বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো গ্যাব্রিয়েল হেসুসের উদ্দেশ্যে। সুযোগসন্ধানী হেসুস কোনো ভুল করেননি গোলের সহজতম এ সুযোগটি কাজে লাগাতে। তার আলতো পায়ের টোকায় ১৯ মিনিটেই লিড নিয়ে ফেলে ব্রাজিল।

    আর্জেন্টিনার সামনে এ গোল শোধ করার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে। বাম পাশ থেকে লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকে সবার চেয়ে ওপরে লাফিয়ে মাপা হেড করেন সার্জিও আগুয়েরো। কিন্তু সেটি গিয়ে আঘাত হানে ক্রসবারে। ফলে গোল পাওয়া হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।

    প্রথমার্ধের বাকি সময়টা কাটে দুই দলের বিচ্ছিন্ন কিছু আক্রমণে। এর মধ্যে ৪০ মিনিটের মাথায় একসঙ্গে কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার মার্কস আকুনা এবং ব্রাজিলের অধিনায়ক দানি আলভেস। এছাড়া কোনো গোল না হওয়ায় ১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তরুণ ফরোয়ার্ড এভারটন সোয়ারেসকে উঠিয়ে উইলিয়ানকে মাঠে নামান ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। প্রথমার্ধের মতো এবারও শুরুতেই আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। তবে ফিলিপ্পে কৌতিনহোর দুর্বল প্রচেষ্টা থামিয়ে দিতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের।

    তবে মিনিটতিনেক বাদে দুই মিনিটের ব্যবধানে ব্রাজিলের রক্ষণে দুইবার হানা দেয় আর্জেন্টিনা। ৫০ মিনিটের মাথায় লাউতারো মার্টিনেজের বাম পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন।

    দুই মিনিট পর মেসি, আগুয়েরো ও মার্টিনেজের সম্মিলিত আক্রমণটিকে হতাশায় রূপ দেন রদ্রিগো ডি পল। ডি-বক্সের কোনা থেকে বল মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। ফলে সে যাত্রায়ও কোনো বিপদ হয়নি ব্রাজিলের।

    এক গোলের লিডে থাকলেও ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টায় কমতি রাখেনি ব্রাজিলও। ম্যাচের ৫৬ মিনিটের মাথায় হেসুসের নৈপুণ্যে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। তবে সে বলটি পেয়ে বারের ওপর দিয়ে মারেন বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় ফিলিপ্পে কৌতিনহো।

    এ আক্রমণ সাজানোর সময় হেসুসকে অযাচিত ফাউল করায় ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখেন হুলেন ফয়েথ। ৫৮ মিনিটের মাথায় চতুর্থ হলুদ কার্ডটি দেখেন লাউতারো মার্টিনেজ।

    তার আগে ৫৭ মিনিটের মাথায় আবারও বারে লেগে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজের শট ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে ফিরে এলে বাম পায়ে শট নেন মেসি। কিন্তু সাইড পোস্টে লেগে ফিরে এসে সেটি। ফিরতি বল গোলমুখে বাড়ালেও, জায়গামতো ছিলেন না আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড়। ফলে সে যাত্রায়ও ম্যাচে ফেরা হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।

    এ আক্রমণের পরপরই জোড়া পরিবর্তন করেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মার্কস আকুনার বদলে তিনি মাঠে নামান অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে। রদ্রিগো ডি পলের বদলে আসেন জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কোনো।

    উল্টো ৭১ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। এবার গোল করেন রবার্তো ফিরমিনো, তাকে বলের জোগান দেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস। মাঝমাঠ থেকে একার নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান হেসুস।

    সুযোগ বুঝে পাস বাড়িয়ে দেন ডি-বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো ফিরমিনোর উদ্দেশ্যে। ফাঁকা জালে বল প্রবেশ করাতে কোনো সমস্যাই হয়নি লিভারপুল তারকা ফিরমিনোর। দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতেই জয়োল্লাস শুরু হয়ে যায় স্বাগতিকদের গ্যালারিতে।

    গোল হজম করলেও সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনেও। ডি-বক্সের কাছে দানি আলভেস হ্যান্ডবল করলে গোলের ২০ গজ দূরে ফ্রি-কিক পায় তারা। কিন্তু লিওনেল মেসির শট আটকে যায় রক্ষণ দেয়ালে। সেটি থেকে কর্নার পেলেও গোল করা হয়নি আর্জেন্টিনার।

    ম্যাচের ৮০ মিনিটের মাথায় দুই গোলেরই নায়ক হেসুসকে উঠিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। তার বদলে আসেন অ্যালান মারকুয়েস লোরেইরা। যিনি দুই মিনিটের মধ্যেই দেখেন ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি।

    শেষবারের মতো গোলের চেষ্টায় ৮৫ মিনিটের মাথায় নিকলাস তালিয়াফিকোকে উঠিয়ে পাওলো দিবালাকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। কিন্তু তাতে কাজের কাজ হয়নি কিছুই। গোল শোধ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনালে পৌঁছে গেছে ব্রাজিল।

  • মেসিদের চিন্তায় ঘুম হারাম ব্রাজিল কোচ তিতের

    মেসিদের চিন্তায় ঘুম হারাম ব্রাজিল কোচ তিতের

    ব্রাজিলে এখন গভীর রাত। ফুটবল পাগল দেশটিতে সমস্ত মানুষ এখন ঘুমে মগ্ন। কিন্ত এর মাঝেও একজনের চোখে ঘুম নেই। তিনি আর কেউ নন- ব্রাজিল ফুটবল দলের কোচ আদেনর লিয়োনারদো বাচ্চি। ফুটবল বিশ্বে যাকে সবাই চেনেন তিতে নামে। তার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল। আর মাত্র ১৮ ঘন্টা পর যে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। আসলে সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষই চোখের পাতা এক করতে দিচ্ছে না ৫৮ বছর বয়সী এই ফুটবল প্রফেসরকে।

    তিতে ঘুমাতে পারছে না- বিষয়টি তিনি নিজেই জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে। আগের রাতে না ঘুমাতে পেরে রাত সোয়া তিনটায় বিছানা ছেড়ে উঠে পায়চারি করেছেন উল্লেখ করে তিতে বলেন,‘আমি স্বাভাবিকভাবে ঘুমোতে পারছি না। কিন্তু আমি তো সুপারম্যান নই। আমাকে তো ঘুমোতে হবে। কিন্তু পারছি না। গতরাতে সোয়া ৩টায় জেগে শুধু ভেবেছি পরের দিন সেমিফাইনাল, কী করবো আমরা? আমাকে ভাবতে হচ্ছে একজন কোচ হিসেবে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সব কোচকেই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এটা কেবল আমার বেলায় নয়, আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিও হয়তো করছেন।

    পাঁচ বছর আগে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে যে মাঠে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল, বেলো হরিজন্তের সেই মিনেইরো স্টেডিয়ামেই এবারে সেমিফাইনাল খেলতে নামছে সেলেসাওরা। যদিও এ মাঠে রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইয়ে তারা ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু সেটা তো আর সেমিফাইনাল ছিল না!

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই দুই দলের কোচ-খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি স্নায়ুচাপ। সে চাপ থেকেই কোচরা ছিঁড়তে চান নিজের মাথার চুল। ব্রাজিল কোচ তার নির্ঘুম রাতের কথা প্রকাশ করেছেন। আর্জেন্টাইন কোচ হয়তো তা চেপে যাচ্ছেন।

    এ ক’দিন ধরে ব্রাজিলের সাবেক-বর্তমান খেলোয়াড়রা মেসিকে নিয়ে বেশি সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে কি মেসি একাই খেলবেন? তিতের চোখে দলে আরো বিপদজনক খেলোয়াড় আছে।

    ‘এই ম্যাচে দুই দলে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত কারিশমারও লড়াই হবে। লিওনেল মেসি তো আছেনই, তাদের দলে আগুয়েরোর মতো ফুটবলারও আছেন। সবাইকেই তো সামলাতে হবে’-বলেছেন ব্রাজিলের কোচ।

    মেসি প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচ আরও বলেছেন,‘আপনি চাইলেই মেসিকে বাদ দিয়ে খেলতে পারবে না। তাকে মোকাবিলা করতেই হবে। সেক্ষেত্রে মেসিকে কতটা কম জায়গা দেয়া যায়, কতটা আটকে রাখা যায় মাঠে সে পরিকল্পনা থাকতে হবে।

  • মেসির ভয়ে কাঁপছে ব্রাজিল

    মেসির ভয়ে কাঁপছে ব্রাজিল

    বাংলাদেশ সময় বুধবার (০৩ জুলাই) ভোরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মধ্যকার কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গন এখন দুইভাগে বিভক্ত। দুই দলের সমর্থকরাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিদায় করে ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এ ম্যাচে একাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি- পন্ডিতদের মুখেমুখে এখন সে সম্ভাবনার কথা।

    যদিও চলমান কোপা আমেরিকায় মেসি এখনো নিজের মতো করে খেলতে পারেননি। চার ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র একটি, তাও আবার পেনাল্টি থেকে। তবে কি তিনি ব্রাজিলের বিরুদ্ধেই জ্বলে উঠতে চলেছেন?

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মেসিকে ব্রাজিলিয়ান শিবিরেও দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দেশটির সাবেক-বর্তমান তারকা খেলোয়াড়রা সেমিফাইনাল প্রসঙ্গ উঠলেই প্রথমে মেসির কথা বলছেন। সেলেসাওদের সাবেক দুই সুপারস্টার রোনালদো, রিভালদো এবং বর্তমান তারকা থিয়েগো সিলভা ও কুতিনহো সেমিফাইনালের আগে প্রশংসা করেছেন মেসির। তাদের ভয়টা আসলে মেসিকে নিয়েই।

    বুধবারের সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিভালদো বলেছেন,‘আপনার যদি একজন মেসি থাকে তাহলে সব কিছুই সম্ভব। কোপায় এখনো মেসি তার মতো করে খেলতে পারেনি। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিগ গেমে সে জ্বলে উঠতে পারে। মেসি জানে, দায়িত্ব আর চ্যালেঞ্জ কখন নিতে হয়।

    ব্রাজিলের আরেক সাবেক সুপারস্টার রোনালদো বলেছেন,‘মেসিকে নিয়ে আর কী বলার আছে? আমি চাইবো সে সারা জীবনই ফুটবল খেলুক। আমি বিশ্বাস করি, মেসি এমন একজন ফুটবলার যে মানুষকে আনন্দ দিতে পারে। আর্জেন্টিনার মানুষ মেসির দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ, তারা অনেক বছর কোনো ট্রফি জেতেনি। মেসি নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন এবার দেশকে একটা শিরোপা এনে দিতে।

    মাঠে মেসিকে প্রতি মুহুর্তের হুমকি উল্লেখ করে দলটির সেরা তারকা ফিলিপে কুতিনহো বলেছেন, মেসি যেকোনো মুহুর্তে ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারে। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন একটি দল। আমরা জানি, মেসি বামপ্রান্ত দিয়ে দ্রুত ঢুকতে পারে। তবে আমরা এটা জানি না যে, কখন সে এ কাজটি করবে।

    ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়েগো সিলভা আরও বেশি সতর্ক মেসিকে নিয়ে। তিনি বার্সেলোনার সুপারস্টারকে প্রতি মুহুর্তে কড়া পাহারায় রাখার কথা বলেছেন, ‘মেসি কী? আমার চোখে সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আমি পেলে, জিকো, ম্যারাডোনার খেলা দেখিনি। আমি মেসির খেলা দেখেছি। সে সবার চেয়ে আলদা একজন ফুটবলার।

  • অনলাইনে সরাসরি দেখুন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমির লড়াই

    অনলাইনে সরাসরি দেখুন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমির লড়াই

    ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়েই বুঁধ হয়ে আছে ক্রীড়াপ্রেমীরা। তবুও সবকিছুর মাঝে আলাদাভাবে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল। সারা বিশ্বের কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন ব্রাজিলের মিনেইরো স্টেডিয়ামের দিকে। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

    ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশেষ কিছু। এমন একটি ম্যাচ দেখার জন্য যুগের পর যুগও অপেক্ষা করতে রাজি ক্রীড়াপ্রেমীরা। সেটা যদি হয় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনাল, তাহলে তো কথাই নেই।

    কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে এবার মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। দুই দলের এই দ্রুপদি লড়াইটি আবার বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকরা সরাসরি টিভিতে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। কারণ, বাংলাদেশে প্রচারিত স্পোর্টস চ্যানেলগুলোর কোনোটিতেই দেখা যাচ্ছে না এবারের কোপা আমেরিকার খেলা।

    লাতিন আমেরিকার জমজমাট এই লড়াইয়ের খেলাগুলো দেখানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক স্পোর্টস চ্যানেল বেইন স্পোর্টসে। এছাড়া পিপিটিভি নামক একটি চ্যানেলেও সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে কোপা আমেরিকার ম্যাচ।

    তবে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা অনলাইনে বসে সরাসরি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি দেখতে পারবেন। কারণ, বেইন স্পোর্টসের সার্ভার ব্যবহার করে অনলাইনে সরাসরি ফুটবলের এই দ্বৈরথটি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ব্যবহারকারীরাও অ্যাপস ব্যবহার করে দেখতে পারবেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ। এমনকি রয়েছে অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিং।

    tv.bdixsports.com এই লিংকে প্রবেশ করলে পাওয়া যাবে দেশি-বিদেশি চ্যানেলগুলো তালিকা। সেখানে তিন নম্বর সারিতে রয়েছে ফুটবল চ্যানেল। তার শুরুতেই দেখা যাবে বেইন স্পোর্টস। এই চ্যানেলের ৩, ৪, ৬ এবং ১০- এই চারটি চ্যানেলেই দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। মোট চারটি ভাষা- ইংলিশ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ এবং আরবিতে সম্প্রচার করা হবে এই ম্যাচটি। সার্ভার থেকেই অনলাইনে সরাসরি ম্যাচ সম্প্রচার করবে টিভি চ্যানেলটি।

    navixsport.en.softonic.com এই লিংকটিতে পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপস। যেটা ডাউনলোড করে মোবাইলেও দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ।

    bdtv.live এই লিংকে প্রবেশ করলে অনলাইনে সরাসরি কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে। এছাড়া totalsportek.com এই লিংকেও লাইভ স্ট্রিমিং দেখা যাবে কোপা আমেরিকা সেমিফাইনালের।

  • সেমিফাইনালে উঠলেই হারে না আর্জেন্টিনা!

    সেমিফাইনালে উঠলেই হারে না আর্জেন্টিনা!

    ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে একটি পরিসংখ্যান তো আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখবেই। সেটা হলো ম্যারাডোনার দেশটির সেমিফাইনাল ভাগ্য। সেই ১৯২৮ অলিম্পিক গেমস ফুটবল থেকে শুরু করে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা পর্যন্ত মোট ১৩টি সেমিফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা হেরেছে মাত্র একটিতে। সেমিফাইনাল জয়ের রেকর্ড তাদের প্রায় শতভাগ।

    ১৯৮৭ সালে কোপা আমেরিকার আয়োজক ছিল আর্জেন্টিনা। ওই একবারই তারা সেমিফাইনালের হার্ডলস পার হতে পারেনি। উরুগুয়ের কাছে হেরেছিল ১-০ গোলে। বাকি ১২ বার সেমিফাইনালে কেউ আটকাতে পারেনি আর্জেন্টিনাকে। সর্বশেষ সেমিফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে কোপা আমেরিকায়।

    আর্জেন্টিনা যে ১৩টি সেমিফাইনাল খেলেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬টি কোপা আমেরিকায়। চারটি সেমিফাইনাল বিশ্বকাপে, দুটি কনফেডারেশন কাপ ও একটি অলিম্পিক গেমস ফুটবলে।

    আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচে অবশ্য অতীত গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনটি যাদের, ম্যাচও তাদের। স্নায়ুর চাপের এ ম্যাচে যারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে তারাই মাঠ ছাড়তে পারবে বিজয়ীর বেশে।

    এক নজরে আর্জেন্টিনার আগের ১৩ সেমিফাইনাল

    ১. অলিম্পিক গেমস ১৯২৮ : আর্জেন্টিনা ৬-০ মিশর
    ২. ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৩০ : আর্জেন্টিনা ৬-১ যুক্তরাষ্ট্র
    ৩. ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৮৬ : আর্জেন্টিনা ২-০ বেলজিয়াম
    ৪. কোপা আমেরিকা ১৯৮৭ : আর্জেন্টিনা ০-১ উরুগুয়ে
    ৫. ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৯০ : আর্জেন্টিনা ০-০ ইতালি (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ৪-৩)
    ৬. কনফেডারেশন কাপ ১৯৯২ : আর্জেন্টিনা ৪-০ আইভরি কোস্ট
    ৭. কোপা আমেরিকা ১৯৯৩ : আর্জেন্টিনা ০-০ কলোম্বিয়া (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ৬-৫)
    ৮. কোপা আমেরিকা ২০০৪ : আর্জেন্টিনা ৩-০ কলম্বিয়া
    ৯. কনফেডারেশন কাপ ২০০৫ : আর্জেন্টিনা ১-১ মেক্সিকো (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ৬-৫)
    ১০. কোপা আমেরিকা ২০০৭ : আর্জেন্টিনা ৩-০ মেক্সিকো
    ১১. ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৪ : আর্জেন্টিনা ০-০ নেদারল্যান্ডস (টাইব্রেকাওে আর্জেন্টিনা ৪-২)
    ১২. কোপা আমেরিকা ২০১৫ : আর্জেন্টিনা ৬-১ প্যারাগুয়ে
    ১৩. কোপা আমেরিকা ২০১৬ : আর্জেন্টিনা ৪-০ যুক্তরাষ্ট্র

  • মেসিকে নিয়েই যত ভয় ব্রাজিলের

    মেসিকে নিয়েই যত ভয় ব্রাজিলের

    অনলাইন ডেস্ক :: গত এক যুগে এক ডজনেরও বেশিবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কিন্তু ২০০৭ সালে কোপার ফাইনালের পর মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টে দুই দলের মহারণ আর দেখেনি বিশ্বের কোটি-কোটি ফুটবল ভক্ত। দীর্ঘ ১২ বছরের সেই অপেক্ষার পালার অবসান হচ্ছে চলমান কোপা আমেরিকায়। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি দলের লড়াইটা হতে যাচ্ছে সেমিফাইনালেই।

    দুই দলের এই মহারণে একটা অতৃপ্তি থেকেই যাবে দর্শকদের। মেসি আর নেইমারের লড়াইটা তো হচ্ছে না। ঘরের মাঠে কোপার সেমিফাইনালে যখন আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়বে ব্রাজিল তখন দেশটির এ সময়ের সেরা ফুটবলার নেইমার থাকবেন দর্শক হয়ে। তার অনুপস্থিতি একদিকে যেমন আর্জেন্টিনার স্বস্তি, অন্যদিকে দুনিয়া জুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের অস্বস্তি। নান্দনিক ফুটবলের দুই ধারকের লড়াইয়ে নেইমারের অনুপস্থিতি বড় একটা ঘাটতিই বটে।

    আয়োজক হিসেবে কোপায় ব্রাজিলের সাফল্য হিংসে করার মতোই। ল্যাটিন আমেরিকার এই ফুটবল টুর্নামেন্ট যতবার আয়োজন করেছে ব্রাজিল ততবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ২০০৭ সালের ফাইনালে তো আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল রবিনহো, আয়ালা, দানি আলভেজ আর মাইকনদের ব্রাজিল। এক যুগ পর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোপার সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ আর্জেন্টিনার।

    বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৬ টায় ব্রাজিলের অন্যতম বড় শহর বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পেলে আর ম্যারাডোনার উত্তরসূরীরা। ইতিহাসে চোখ রাখলে ব্রাজিলই এই ম্যাচে এগিয়ে থাকবে। সেটা স্বাগতিক বলেই। কিন্তু আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকবে দলে মেসি নামের এক ফুটবলারের কারণে। এ সময়ের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাকে রুখে ব্রাজিল কি পারবে ঘরের মাঠে কোপার শতভাগ সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে?

    ২০০৭ সালের কোপার আসরটা ভালো যায়নি মেসির। মাত্র দুটি গোল করেছিলেন ৬ ম্যাচে। চলমান কোপায় এ পর্যন্ত হওয়া চার ম্যাচে গোল করেছেন একটি। সেমিফাইনালই এখন তার কিছু করে দেখানোর সবচেয়ে বড় জায়গা। মেসিকে নিয়ে তার ভক্ত-সমর্থকদের কল্পনার কমতি নেই। ভাবনা কমতি নেই ব্রাজিল দলের ফুটবলারদেরও। কারণ, দলের সবাই জানেন এক মেসি যেকোনো সময় বদলে দিতে পারেন ম্যাচের চিত্র। ম্যাচে তেমন সময় যদি সত্যি এসে যায় তাহলে তো ব্রাজিলের কপালে দু:খই আছে!

    ব্রাজিল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন। ম্যাচকে সামনে রেখে বললেন, ‘মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তিনি এখন ছন্দেও আছেন। তাই আমাদেরকে অবশ্যই মেসির ওপর আলাদা নজর রাখতে হবে। মাঠে মেসি উইথবলে থাকুক অথবা উইথআউট বলে-আমরা তাকে চোখে চোখেই রাখবো। প্রতি মুহূর্ত তাকে নজরে রাখতে হবে।’

    পিএসজি’র এই ডিফেন্ডার মেসিকে নিয়ে আরও বলেন, ‘মাঠে কখনো মেসি বলে থাকবেন, কখনো হয়তো বলছাড়া হাঁটবেন। কিন্তু মেসি সবসময় জায়গা খুঁজবেন, সুযোগ খুজবেন এবং পাল্টা আক্রমনের চেষ্টা করবেন। আমরা সবসময় তাকে পাহারায় রাখবো।

  • অবশেষে দেশপ্রেম জেগে উঠল মেসির!

    অবশেষে দেশপ্রেম জেগে উঠল মেসির!

    বার্সেলোনার হয়ে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি যতটা না আলোচিত, তার চেয়ে বেশি সমালোচিত আর্জেন্টিনার হয়ে। কারণ অবশ্যই পারফরম্যান্স নয়; বেশির ভাগ আর্জেন্টাইনদেরই দাবি দেশের হয়ে নিবেদিতপ্রাণ নয় মেসি। তাই তো দেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও আর্জেন্টিনায় এক কার্লোস তেভেজের সমান জনপ্রিয়তাও নেই মেসির।

    বছর জুড়ে ক্লাবের হয়ে খেলায় জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ খুব কমই পান ফুটবলাররা। তবে যতটুকু পান, এর মধ্যেই সবাই চেষ্টা করেন দেশের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিতে। মেসি কখনো যে তা করেননি তাও কিন্তু নয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে শেষ তিন মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালে তোলার কারিগর এই মেসিই। তবুও দেশের প্রতি টান কম এই অপবাদ মেসির গায়ে যেন লেগে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে।

    তবে এবার কোপা আমেরিকার শুরু থেকেই যেন ভিন্ন এক মেসিকে আবিষ্কার করা গেছে। পারফরম্যান্স গড়পড়তা হলেও, অধিনায়ক হিসেবে দলকে এক সুতোয় বাঁধতে পেরেছেন তিনি। যার প্রমাণ মিলেছে কলম্বিয়ার কাছে হেরে কোপা শুরু করলেও বাকি ম্যাচগুলোতে দলের একাত্মতা। খারাপ সময়ে দলের বাকিদের একজন আদর্শ নেতা হিসেবে আগলে রাখছেন তিনি।

    এদিকে গতকাল ভেনেজুয়েলা ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে নিজের ঠোঁটও মিলিয়েছেন মেসি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩৪টি ম্যাচ খেলে ফেললেও কখনো মেসিকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দেখা যায়নি। এ কাজ করতে তার যেন বড্ড অনীহা!

    কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে একটি শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর মেসি সময়ের সঙ্গে যেন পুরো বদলে গেছেন। হন্যে হয়ে আছেন নিজের ও দেশের জন্য বড় কিছু অর্জন করার। তাই হয়তো, জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সঞ্জীবনী শক্তি সঞ্চার করতে মরিয়া তিনি। সেই সঙ্গে দেশকে যে তিনি কম ভালোবাসেন না তা প্রমাণ করতেও বদ্ধপরিকর।