


দয়া করে শেয়ার করুন. ইনি কারো বাবা, কারো স্বামী, কারো ভাই !! তাকে হারিয়ে পরিবারে এখন শোকের ছায়া!!
গতকাল সন্ধার পর থেকে এই ভদ্রলোক কে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না! মানসিক ভারসাম্যগ্রস্থ লোকটি বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বের হয়ে যান ! তারপর থেকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ! লোকটি বরিশাল সদরেরই কোথাও আছে !
যদি কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি উনাকে কোথাও দেখেন অথবা খুজে পান তবে অনুগ্রহ করে নিম্নোক্ত ফোন নম্বরে কষ্ট করে একটু জানাবেন. হারিয়ে যাওয়া মানুষটির নাম : সমীর কুমার দাস, বয়স : ৬৯, ঠিকানা : রাখালবাবুর পুকুর পাড়, সদর রোড, বরিশাল যোগাযোগ: সুশান্ত দাস : ০১৬৭০৭২২৩৪৩ শুভ : ০১৬১১৪২৪৩২৬ এজাজ : ০১৭৩০১৮৮৭৭২
-প্রচারে পরিবারের সদস্যবৃন্দ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ইমাম মাওলানা মো. আবু হানিফার শরীরে মল ঢেলে দেয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী মাওলানা আবু হানিফা ও তার ছেলে মো. মহিবুল্লাহ এমন অভিযোগ করেছেন।
মহিবুল্লাহ বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে যেতে চাইলেও ঘটনার ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এরপর রোববার ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী ওই ইমামের ছেলে বলেন, সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া জামায়াত নেতা (পদবি বলতে পারেননি) এজাহারভুক্ত আসামি এনামুল হাওলাদারের ভাই হাবীব মুন্সী বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে ও আমার বাবাকে প্রাণে শেষ করে দেবেন বলে হুমকি দেন। এজন্য তিনি প্রয়োজনে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করবেন বলেও ঘোষণা দেন।
নির্যাতনের শিকার মাওলানা আবু হানিফা বলেন, ‘জামায়াতের লোকগুলো সংঘবদ্ধ হয়ে আমার পথরোধ করে এভাবে ঘৃণ্য কায়দায় লাঞ্ছিত করেছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।’
তিনি বলেন, এর আগেও জামায়াতের সাবেক আমির শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলমগীর হোসেনের (বর্তমানে পটুয়ালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক) নির্দেশে জামায়াতের এসব লোকজন আমাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তাদের সংগঠনের মতাদর্শ ও আকিদাগত দ্বন্দ্বের কারণে। এরাই আমাকে সমাজে হেয় করা জন্য এমন ঘৃণিত কাজটি করেছে।
আবু হানিফা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর মামলা করলে গ্রেফতার হওয়া জামায়াতের লোক (পদবি জানাতে পারেননি) মো. এনামুল হাওলাদারের ভাই হাবীব মুন্সী সোমবার সকালে বাড়িতে এসে হুমকি প্রদান করেন মামলা তুলে নেয়ার জন্য।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি তেমন গ্রামের বাড়িতে যাই না। আর এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তবে ফেসবুকে দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন তিনি (আবু হানিফা)। আমি জামায়াতের সঙ্গে কোনো কালেই জড়িত ছিলাম না। আর যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারাও জামায়াতের সঙ্গে জড়িত না।’
ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ওই মাদ্রাসায় আমাদের এবং আবু হানিফাদের জমি রয়েছে। আবু হানিফার ওপর এমন ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জামায়াতের লোকজন মাওলানার ওপর এমন অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।
এদিকে জামায়াতের লোকজনের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ আলেম সমাজ ও স্থানীয়রা। তারা বিচারের দাবিতে আগামী বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসাটি। এই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবু হানিফা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে মজিবর রহমান বিজয়ী হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার আবু হানিফার উপর ক্ষুব্ধ হন।
কমিটির সভাপতির পদে হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষ জামায়াত-শিবিরের লোকজন শুক্রবার সকাল ৭টায় আবু হানিফার মাথায় ও শরীরে মল ঢেলে উল্লাস করে। এরপর ধারণ করা ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
পরে মাওলানা আবু হানিফা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- জাহাঙ্গীর খন্দকার, আবু হানিফার ছোট ভাই জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবদুল হক জানান, মামলা দায়েরের পরপরই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের বরিশাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম রফিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল শহরের বটতলা বাজার এলাকায়।
ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী এস এম আশিকুর রহমান জানিয়েছেন- সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বটতলা বাজার এলাকার রনির দোকানে ফল ক্রয় করতে যান। ওই সময় দোকানি রনি তাকে একটি তরমুজ কেটে দেখান। কিন্তু সেটি পছন্দসই না হওয়ায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক রফিক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার হয়। তখন এই রনির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ ফল বিক্রেতা একত্রিত হয়ে সাংবাদিক রফিকের ওপরে হামলা করে। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সকলে পালিয়ে যায়। তখন রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আলেকান্দা ফাঁড়ি পুলিশ ৩ হামলাকারীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করেছে।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- গুরুতর আঘাতে রফিকুলের মাথায় ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। যে কোন সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে প্রেরণ প্রয়োজন হতে পারে।

হুজাইফা রহমানঃ
বরিশালে ২৭টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত শনিবার রাতে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু ও নির্বাচন কমিশনার অর্পূব গৌতম এর পরিচালনায় এবং নির্বাচনী পরিষদের মাধ্যমে এই কমিটি গঠিত হয়। সেখানে নাট্যজন কাজল ঘোষকে সভাপতি ও মিন্টু করকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা আগামী এক বছর বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নেতৃত্ব দেবেন।
এর আগে এগিয়ে চলার ৩৫ বছর সংস্কৃতির সংগ্রাম এগিয়ে চলা অবিরাম এই শ্লোগানে এই বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ্যাড. এসএম ইকবাল এর সভাপতিত্বে এই সভায় বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিজন সৈয়দ দুলাল, শান্তি দাস, আক্কাস হোসেন, শুভংকর চক্রবর্তী, বাসুদেব ঘোষ, কাজী সেলিনা, সুশান্ত ঘোষ, সুর্দশন বিশ্বাস টুটুল, মিজানুর রহমান, বিনয় ভুষণ মন্ডল প্রমুখ।

রাকিব সিকদার নয়ন:
কলাপাড়া থানার এস আই মোঃ নাজমুল হাসান ‘ বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং পটুয়াখালী জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে সন্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপ্রত্র পেয়েছেন।
‘কমিউনিটি পুলিশিং’ এ প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখায় তিনি উপজেলার একমাত্র শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হন। পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পটুয়াখালী জেলা বেট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং এর শ্রেষ্ট অফিসার হিসাবে তার হাতে সন্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপ্রত্র তুলে দেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ মইনুল হাসান।
এসময় পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারবৃন্দ ও অন্যান্য পুলিশ অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। তিনি দির্ঘদিন ধরে কলাপাড়া থানায় সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পটুয়াখালী জেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর শ্রেষ্ট সম্মাননা পাওয়া কলাপাড়ার সবস্তরের জনগণ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসার জমি ও কমিটি নিয়ে বিরোধের জ্বের ধরে সুপারকে প্রকাশ্যে মারধর ও মাথায় মল ঢেলে লাঞ্চিত করার ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। রোববার (১৩ মে) দিবাগত রাতে মিনজু ও বাদল নামে ওই ২ জনকে বাকেরগঞ্জ থেকেই গ্রেফতার করা হয়। বাকীদের গ্রেফতারে রাতভর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিনজু (৪৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মোঃ হাসেম মুসল্লীর ছেলে এবং দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামী।
অপরদিকে বেল্লাল (২৫) বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে, তাকে ফেইজবুকে প্রকাশিত লাঞ্চিত করার ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে শুক্রবার (১১ মে) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে কাঠালিয়া গ্রামের কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওঃ মোঃ আবু হানিফকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করা হয় এবং লাঞ্চনার ভিডিও ধারন করা হয়। ঘটনার পর লাঞ্চনার শিকার মাদ্রাসার সুপার ও তার পরিবার লোকলজ্জায় বিষয়টি গোপন রাখতে চায়। তবে রোববার (১৩ মে) লাঞ্চনার ঘটনার একটি ভিডিও ধারনকারীদের মাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
এরপরপরই মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মোঃ আবু হানিফ বাদী হয়ে নিজের ছোটভাই জাকারিয়া হোসেন জাকিরসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী বলেন, কাঠালিয়া গ্রামে দারুল উলুম দীনিয়া আরাবিয়া কমপ্লেক্স ও এতিমখানা নির্মানের জন্য ২০০৯ সালে জায়গা ক্রয় করা হয়। জামায়াতপন্থী (লাঞ্চিতকারী) কিছু ব্যক্তি ওই জায়গা দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পায়তারা করলে ২০১৪ সালে একটি মামলা হয়। অপরদিকে কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদ্রাসায় কমিটির সভাপতি হিসেবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেটি এইচএম মজিবুর রহমান নির্বাচিত হন।
কিন্তু লাঞ্চনাকারীদের মধ্যে থাকা খন্দকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারনে লাঞ্চনাকারীরা জোটবদ্ধ হয়ে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। চাঁদা দিতে অসীকৃতি জানাতে তারা আমাকে নানান ধরনের হুমকি ও মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করার চেষ্টা করে। বাদী বলেন, ঘটনার দিন ১১ মে সকাল ৭ টায় হাটতে বের হই। বাড়ির ৫ শত গজ দূরে হাটতে গেলে মামলার নামধারী আসামী ও অজ্ঞাতনামাসহ ১৪/১৫ জন আমার পথরোধ করে চাঁদার ৫ লাখ টাকা দাবী করে এবং দিতে অসীকৃতি জানালে মারধর করে। একপর্যায়ে মাটির হাড়ির ভেতরে থাকা মানুষের পরিত্যক্ত মাল মাথায় ও গায়ে ঢেলে দেয়। তিনি বলেন, মেল ঢেলে দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বারাবারি না করার জন্য হুমকি দিলে লজ্জায় কোনভাবে বাড়িতে চলে যাই।
ভিকটিমের ছেলে মহিবুল্লাহ জানান, লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি যাতে কেউ না জানে সেজন্য স্থানীয় ২/১ জন গন্যমান্য ব্যক্তিতে জানিয়ে চুপ থাকি। কিন্তু যারা বাবাকে লাঞ্চিত করেছে তাদের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে সবাই তা দেখে ফোন দিতে থাকে। এরপরই মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেই আমরা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় মিনজু ও বাদল নামে ২ জনকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আঃ হক। তিনি জানান, মাদ্রাসার সুপারের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। জমি ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জ্বের ধরে শরীরে মল ঢেলে দেয়ার মতো কর্মকান্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে। ফেইসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দেখে ও প্রাথমিক তদন্তে সুপারকে লাঞ্চনা করার প্রমান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চাঁদাদাবী ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর ২ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারমধ্যে একজন এজাহারনামীয় এবং অপরজনেক ফেইসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্দ রয়েছেন। খবর পেয়ে রোববার সারাদিন আলেম সমাজসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সুপারের কাছে গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রাই দোষীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করছে। রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা এ কান্ড ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে জামায়াতপন্থী লোকজন রয়েছে। যাদেরকে সবাই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। আমরা চাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।

প্রায় তিনমাস পর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে আবারো তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ছুটির দিন শুক্রবার রাতে গোপনে ঠিকাদারদের বিল প্রস্তুতির অভিযোগে হিসাব শাখায় তালা দিল বেতনবঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত হিসাব শাখার তালা না খোলার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে কয়েকজন কাউন্সিলর ও ঠিকাদার শনিবার (১২ মে) সকালে নগর ভবনে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতা বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফের ৫ মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। গত বুধবার তারা মেয়র আহসান হাবিব কামালের সঙ্গে দেখা করে অন্তত দুইমাসের বেতন প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিসিসিতে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। মেয়র কামাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে বরাদ্দের টাকায় গোপনে ঠিকাদারদের বিল দেওয়ার জন্য রাতে হিসাব শাখায় কাজ করাচ্ছিলেন। সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খবর পেয়ে হিসাব শাখায় তালা দিয়েছে।
বরিশাল সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ বাবদ মন্ত্রাণালয় থেকে পাওয়া ৩ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। অবশিষ্ঠ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ২৯৭ জন ঠিকদারের মধ্যে ভাগবন্টন করে দিয়েছেন। রাতে হিসাব শাখায় কাজ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, নগর ভবনে একশ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে হিসাব শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনে কাজ করতে না পেরে রাতে কাজ করেন।

বরিশালে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে হেরে ইমাম আবু হানিফার (৫০) মাথায় মল-মূত্র ঢেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্ত পরাজিত প্রার্থীর সহযোগী মো. মিনজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে মিনজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ইমামের মাথায় মল-মূত্র ঢালার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের এ ঘটনায় লাঞ্ছিত নেছারবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম আবু হানিফা রোববার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযুক্তরা হলো- পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার, সহযোগী জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। অভিযুক্ত সবার বাড়ি কাঠালিয়ায়।
সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ইমাম আবু হানিফা ও স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার।
এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।
এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর খন্দকার ইমামকে ধরে রাখে। এ সময় তার আরেক সহযোগী হাঁড়িভর্তি মল-মূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়া দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা।
এ বিষয়ে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং দেখেছি। যতই বিরোধিতা থাকুক সমাজের একজন সম্মানিত ইমামকে এভাবে কেউ অপমানিত করতে পারে ভাবতেও ঘৃণা লাগে। বিষয়টি দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হক জানান, মাদরাসার সুপার আবু হানিফা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিনজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

বরিশাল নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের কাশিপুর ফজলিাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন নির্মানাধিন ৭ তলা ভবনের নিচ থেকে মুক্তা আক্তার (৩৫) নামে এক রক্তাত্ত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয় ।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বাবা মো: মুজাহার আলী সরদার একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ইনেস্পেক্টর । স্বামী মো: কবির হোসেন একজন কাপড় ব্যবসায়ী । তার দুটি কন্না সন্তান রয়েছে । বড় মেয়ে মোসা: স্বর্না ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে মোসা: শোহেলী ২য় শ্রেনীর ছাত্রী ।
নিহত মুক্তা কাশিপুর ২৯ নং ওয়ার্ডের বিল্লা বাড়ির বাসিন্দা ছিল । মুক্তা আজ সকাল ১০ পর থেকে নিখোজ হয় । মুক্তার খালাতো ভাই মো: ফিরোজ খান এবং প্রতিবেশি মো: রাশেদ খান খান জানান,মুক্তা মানসিক সমস্যা ছিল,আজ সকালে নিখোজ হওয়ার পর অনেক খোজাখুজি করে এখানে রক্তাত্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিমান বন্দর থানা পুলিশ । এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: অপু সরোয়ার ,বিমানবন্দর থানার ওসি মো: আনোয়ার হোসেন ,ডিসি (নর্থ) মো: হাবিবুর রহমান , সিআইডির পরিদর্শক মো: সেলিম শাহনেওয়াজ ।
পুলিশ জানায় যেহেতু মুুুুক্তার শরীরে রক্ত দেখা গেছে সেহেতু পুলিশ সকল তথ্য সংগ্রহের জন্য লাশ ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম মর্গে পাঠানো হয়েছে । তবে হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সেটা এখনও বলা যাচ্ছে না।