Category: বরিশাল

  • খালেদা জিয়ার মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিএনপি’র সমাবেশ

    খালেদা জিয়ার মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিএনপি’র সমাবেশ

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক (এমপি), উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি ও বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতি অধ্যাপক মেজবা উদ্দিন ফরহাদ বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগের উপর ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকারের শাষন ভর করার কারনে বিচারপতিরা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

    দেশের বিচারপতিরা অবৈধ আওয়ামী সরকারের মন খুশি করার মত যদি রায় প্রদান না করে তাহলে তাদেরকে সরিয়ে দিচ্ছে। অবৈধ সরকার উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে গনতন্ত্রকে নির্বাসিত করার অপচেষ্ঠা করে যাচ্ছে। তাই দেশ নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গনতন্ত্র উদ্বারের আন্দোলন আরো বেগবান করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের স্বোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

    আজ সোমবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা নিঃ শর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বরিশাল উত্তর জেলা ও দক্ষিন জেলা বিএনপি সহ মহানগর বিএনপি পৃথক ভাবে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সকাল ১১টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে উত্তর জেলা ও দক্ষিন জেলা বিএনপি যৌথভাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

    প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল কোতয়ালী বিএনপি সভাপতি এ্যাড. এনায়েত হোসেন বাচ্চু, উত্তর জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু, উত্তর জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুলাদী উপজেলা বিএনপি সভাপতি আঃ ছত্তার খাঁন, কোতয়ালী বিএনপি সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাবু, দক্ষিন জেলা বিএনপি নেতা ও বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক ওয়াহেদুল ইসলাম প্রিন্স, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপেন, বরিশাল দক্ষিন জেলা বিএনপি দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মন্টু খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আমিনুল ইসলাম লিপন, জেলা ছাত্রদল যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।

    জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যলয়ের সামনে একই দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বরিশাল মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপত্বি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, সহ-সাপতি রফিকুল ইসলাম রুনু সরদার, আব্বাস উদ্দিন বাবলু, আলমগীর হোসেন আলম(সুন্দর আলম), এ্যাড. আখতার হোসেন মেবুল, জেলা যুবদল সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহেদ আকন , মহানগর যুবদল সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম রতন,সাজ্জাদ হোসেন,জেলা মহানগর ছাত্রদল যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মুন্না। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি উপদেষ্ঠা মুক্তিযোদ্দা নুরুল আলম ফরিদ সহ মহিলাদলের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ গ্রহন করেন।
    বিএনপির তিনটি দলের বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশকে ঘিড়ে টাউন হল চত্বরে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

  • বয়স্ক ও বিধবাভাতা পেতে সীমাহীন ভোগান্তি

    বয়স্ক ও বিধবাভাতা পেতে সীমাহীন ভোগান্তি

    পটুয়াখালীর বাউফলে বয়স্ক ও বিধবাভাতা পেতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। ব্যাংকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটানা বসে থেকেও মিলছে না ভাতার টাকা। হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সুবিধাভোগীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৮৭৬১ জন বয়স্কভাতা এবং ৪২৬৩ জন নারী বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা পাচ্ছেন। উপজেলার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৩ মাস অন্তর ভাতা প্রদান করা হয়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মানুষগুলো কিভাবে ভাতার জন্য অপেক্ষা করছে; সেই অমানবিক দৃশ্য প্রতিটি ব্যাংকে ভাতা প্রদানের তারিখে দেখা যায়।

    গতকাল রোববার  বেলা ৩টায় কৃষি ব্যাংকের বাউফল শাখা পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কান্ত শরীরে সিঁড়ির ধাপে ভাতার অপেক্ষায় বসে আছেন দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া  গ্রামের মৃত কালু গাজীর স্ত্রী ফুলবানু (৭০)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলবানু বলেন, ‘লাডি (লাঠি) ছাড়া চলতে পারি না, হেই ব্যানে (সকালে) পোলায় আমারে লইয়া আইছে। বেইল (বেলা) শেষ হইয়া যাইতে আছে, এ্যাহন তামাইত (পর্যন্ত) ভাতার টাহা (টাকা) পাই নাই।’ একই ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের বৃদ্ধ রোশনে আলী সরদার বলেন, ‘প্রায় ১২ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে ব্যাংকে এসে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ এখন পর্যন্ত ভাতার টাকা পাইনি।’ ওই গ্রামের নুরু গাজীর বৃদ্ধ স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, মাত্র ৫০০ টাকা ভাতার জন্য দলবেঁধে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটানা বসে থাকতে হচ্ছে।

    বৃদ্ধ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টকর বিষয়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সুবিধাভোগী বলেন, মাঝে মধ্যে দ্রুত ভাতার টাকা পেতে দালালের মাধ্যমে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। হালিমা বেগম ও লাল বিবি জানান, ‘সরকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেসেজ পাঠিয়ে উপবৃত্তির টাকা দেয়। আমাদের ক্ষেত্রেও এই সুযোগ দিলে বৃদ্ধ মানুষগুলো কষ্ট থেকে রেহাই পেতেন।’ তবে কৃষি ব্যাংক বাউফল শাখার ব্যবস্থাপক এএইচএম আলতাফ হোসেন বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ বা টাকা নেন না।

    হয়রানি প্রসঙ্গে বাউফলের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অনলাইন ডাটাবেজ এর কাজ চলছে। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে সুবিধাভোগীরা মুঠোফোনে ভাতা পেয়ে যাবেন। এরপর তাদের আর কোনো হয়রানি পোহাতে হবে না।’

  • প্রত্যাশিত ফল না আসায় জগদিশ সারস্বত স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    প্রত্যাশিত ফল না আসায় জগদিশ সারস্বত স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না আসায় শিক্ষকদের অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে বরিশাল নগরীর জগদিশ সারস্বত স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি’র শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে ফল ঘোষণার পর কেউ প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় আবার কেউ অকৃতকার্য হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন। শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে ক্লাসে পাঠ দান না করানোয় এবং কোচিংয়ের নামে ব্যবসা করায় অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বলে তাদের অভিযোগ। এর সব দায়ভার শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ওই স্কুলের শিক্ষকদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

     

    তবে অকৃতকার্য কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের দায়ভার নিতে রাজী নন বরিশাল নগরীর জগদিশ সারস্বত স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহআলম। তিনি বলেন, ক্লাসে ঠিকভাবেই পাঠদান হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা ভালাভাবে ক্লাসের পড়া রপ্ত করতে পারেনি এবং বাসায়ও তারা তেমন লেখাপড়া করেনি। অভিভাকরাও শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারেনি। এ কারণে তারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। তারপরও কোন শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের ফল নিয়ে আপত্তি থাকলে পরীক্ষার ফল পুনমূল্যায়নের আবেদন করতে বলেন অধ্যক্ষ মো. শাহআলম।

    বরিশাল নগরীর জগদিশ সারস্বত স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার ২০৫ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে।

  • রাজাকারের ছেলে আ.লীগের এমপি

    রাজাকারের ছেলে আ.লীগের এমপি

    বরগুনা-২ আসন সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বাবা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সোহরাব।সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন বিশেষ আয়োজন ‘ইলেকশন এক্সপ্রেস’এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    বরগুনার পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে মাঠে নেমেছেন বর্তমান সাংসদসহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

    বর্তমান সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন ২০০৩ থেকে ২০১৪ এই ১১ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মেয়াদ শেষ না হতেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ না হতেই গোলাম সবুর টুলু এমপির মৃত্যুতে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হয়ে হ্যাট্রিক করেন তিনি।

     

    পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ নেই উল্লেখ করে মোশারফ হোসেন আরো বলেন- ‘আমাদের আওয়ামী লীগ আগে থেকেই সুসংগঠিত, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করেছেন তাতে আমরা অনেক ভালো আছি। গোলাম সবুর টুলু এমপির মৃত্যুর পরে শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং এমপি নির্বাচিত হয়। পাথরঘাটায় আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন দ্বন্দ নেই, শুধু সমস্যা হলো রিমন শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনা নয়। তিনি মূলত বিএনপি জামায়াত ও শিবির মনা। কারণ তার বাবা ছিলেন এই জেলার রাজাকার কমান্ডার।’

    স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সাংসদ রিমনের কোন সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে পৌর আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন- ‘তিনি একাই আসে, আবার একাই যায়। তার কাছের ১০/১২ জন লোক আছে, যাদের নিয়ে তিনি সব সময় চলাফেরা করেন। তারা সবকিছু লুটপাট করে খাচ্ছে। এদের কাছে আমরা সবাই জিম্মি হয়ে আছি। তিনি মূলত কাজ করে মৌলবাদীদের। দলের জন্য তিনি কিছুই করেন না।’

    অন্যদিকে এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন তিনি দু’বার এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এতদিন তিনিই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন আরও দুজন।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপির পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় যুব লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শুভাষ চন্দ্র হাওলাদার। তাকে নিয়েও এলাকায় বেশ আলোচনা চলছে। তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তার প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সহানুভুতিও রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানায়।

    দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। অন্যদিকে প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফারজানা সবুর রুমকি। তিনি সব সময় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে গণসংযোগ, শুরু করেছেন সভা সেমিনার ও সামাজিক কাজকর্ম করে থাকেন।

    এরআগে হত্যা মামলার চিহ্নিত আসামিকে নিয়ে নিজ গাড়িতে চড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার অভিযোগ ওঠে বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে।

    এছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

    অন্যদিকে পৌরসভা নির্বাচনেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন হাচানুর রহমানকে দুবার সতর্ক করেছিল। বরগুনার বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র হেলিকপ্টারে নিয়ে গিয়েছিলেন সাংসদ শওকত হাচানুর। সে সময় তার এমন কর্মকাণ্ড বেআইনি বলে অভিযোগ উঠেছিল।

  • বরিশালে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলো তার্কিকদের সংগঠন ডিই.সি.বি.

    বরিশালে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলো তার্কিকদের সংগঠন ডিই.সি.বি.

    বরিশালের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে তিন এপ্রিল দুই হাজার আঠারো ইং তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার্কিকদের সংগঠন ” DEBATERS COMMUNITY OF BARISHAL ( De.C.B ) । মুক্তির প্রত্যয়ে অবিরাম যুক্তি , এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটির পথ চলা শুরু হলো।

    সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো বরিশাল বিভাগের সকল তার্কিকদের নিয়ে পরিচ্ছন্ন বিতর্ক সমাজ গঠন করা।বরিশালের সকল বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা।

    এই সংগঠনের কার্যপ্রণালী এগিয়ে নিতে চোদ্দজন সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি সকল সদস্যদের সম্মতিক্রমে গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যবৃন্দ হলো:

    আহ্বায়ক : শেখ সুমন।    যুগ্ম আহ্বায়ক : ১: মো: আবু সুফিয়ান শেখ ২: সামিয়া তিশা ৩: সানজিদ আলম সিফাত ৪: সাদিয়া নিশা ৫: হুজাইফা রহমান ৬: শিফা

    সদস্য সচিব: ১: আরিফ রহমান ২:ফারাবি নিহা ।   সদস্য: ১: পারভেজ হাসান ২: নুজহাত প্রাপ্তি ৩: ইমতিয়াজ ৪:মো: শামিম হাওলাদার ৫: ফয়সাল হোসেন অভিনন্দন সকল তার্কিকবৃন্দকে । আশা করছি সকলে একত্রে মিলে গড়ে তুলবো বিতর্কের নতুন প্লাটফর্ম।

    সংগঠনটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করবে জাতীয় অনলাইন দৈনিক বাংলার মুখ ২৪ ডট কম।

  • ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমকে গাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমকে গাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, এগ্রোভিটা গ্রুপ ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশাল শহরে যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থানার দুর্গা সাগর দিঘি এলাকা অতিক্রমকালে তার ল্যান্ড ক্রুরজার ভিএইচ গাড়ির চাকার ওপর অন্ধকার থেকে আড়াই ফিট লম্বা লোহার রড দিয়ে বিশেষভাবে তৈরী হুক ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা।এতে তার গাড়ির একটি চাকা বিকট শব্দে ব্লাস্ট হয়ে গেলেও অল্পের জন্য তিনি তার স্ত্রী,এক সহকারী ও চালক প্রাণে বেঁচে যান।

    এ ঘটনায় শনিবার বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে এবং লোহার রড দিয়ে তৈরী হুক ও রশি থানায় জমা দেওয়া হয়।

    এ প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল জানান বৃহস্পতি ও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করার পরেই ঈর্ষান্বিত হয়ে সুপরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয় ্তিনি আরও জানান গাড়ির চাকার ওপর লোহার রড দিয়ে তৈরী রশি দিয়ে বাঁধা বাকা হুক ছুঁেড় মারার সময় তার গাড়ির চালক রাস্তায় আঁধো অন্ধকারে দাঁয়ে থাকা একটি মটরসাইকেল ও কয়েকজন লোককে দেখতে পান। বিকট শব্দে চাকা ব্লাস্ট হয়ে যাওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে মটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান এ ব্যপারে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • স্ত্রীকে ঘরছাড়া করলেন বরগুনার ইউএনও

    স্ত্রীকে ঘরছাড়া করলেন বরগুনার ইউএনও

    বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরোয়ার হোসেন যৌতুক এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম চালান। কিন্তু তিনি নিজেই বিয়ের সময় যৌতুক নিয়েছেন।

    যৌতুক নেয়ার প্রমাণ (ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ) রয়েছে। ইউএনওর শ্বশুরবাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর সরোয়ার ধাপে ধাপে যৌতুক নিয়েছেন। এখন আরও ৫০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন শ্বশুর-শাশুড়িকে।

    টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনও করছেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ইউএনও সরোয়ারের সঙ্গে তার মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে আসামি করা হয়েছে।

    গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা করেন সরোয়ারের স্ত্রী রুকসানা আক্তার। আদালত আগামী ২৭ মে সরোয়ার ও তার মাকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

    ইউএনও সরোয়ারের শ্বশুর মুহাম্মদ সাদেক জানান, মেয়ে রুকসানা আক্তারকে সরোয়ারের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সময় নগদ এক লাখ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী দিই। পরে ছয় দফায় আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড শরীয়তপুর শাখার হিসাব নং-১০৯২৪৮৪৫৫৫০৩১-এর বিপরীতে ওই ব্যাংকের ঢাকার ধানমণ্ডি শাখার মাধ্যমে যৌতুক বাবদ চার লাখ টাকা দিই।

    এছাড়া সরোয়ারের বড় ভাই তরিকুল ইসলামের নামে ভোলা পৌরসভার মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নেয়ার জন্য ভোলার ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ওই ব্যাংকের ঢাকার ধানমণ্ডি শাখার মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিই।

    মুহাম্মদ সাদেক আরও জানান, যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই সরোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা রুকসানা আক্তারকে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। নতুন চাকরি এবং বেতন কমের অজুহাতে বিয়ের পর দীর্ঘ চার বছর সরোয়ার তার স্ত্রী রুকসানা আক্তারকে সঙ্গে রাখেননি। স্বামীর সঙ্গে থাকতে রুকসানা আক্তার চাকরি ছেড়ে গত বছরের ৪ আগস্ট স্বামীর কর্মস্থল ফরিদপুরের সদরপুরে যান।

    কিন্তু সরোয়ার ও তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। এরপরই তারা যৌতুক হিসেবে আরও ৫০ লাখ টাকা অথবা ঢাকায় ফ্ল্যাট বা প্লট কিনে দেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ঢাকায় তার (রুকসানার বাবা) বর্তমান ফ্ল্যাটটির অর্ধেক সরোয়ারের নামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

    রুকসানার পরিবার সূত্র জানায়, সরোয়ারের নামে ফ্ল্যাট লিখে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৮ জানুয়ারি রাতে বাবার (মুহাম্মদ সাদেক) সামনেই রুকসানাকে তার শাশুড়ি ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এরপর থেকে রুকসানা আক্তার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    রুকসানার পরিবার সূত্র আরও জানায়, গত ৯ জানুয়ারি আমতলীর ইউএনও সরোয়ার হোসেন বাসার পিয়নের মাধ্যমে স্ত্রী রুকসানার ব্যবহারের কিছু মালামালসহ তাকে (রুকসানা) ইউএনওর গাড়িতে (শোরুম নং-ঢাকা ১৪৮/অ) করে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল পৌঁছে দেন। আমতলী থেকে স্ত্রীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়ার পর গত তিন মাস তিনি স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সরোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি একান্তই আমার পারিবারিক বিষয়। আমার স্ত্রী রুকসানা মামলা দায়েরের পর আমার মা (জান্নাতুল ফেরদৌস) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চুরির মামলা করেছেন। ওই মামলায় আমার স্ত্রী, শ্বশুর মুহাম্মদ সাদেক, শাশুড়ি শিরিন আকতার ও শ্যালক ইমতিয়াজ বেল্লাল জিসানকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

  • এবার বরিশালে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ-গ্রেফতার বখাটে জেলহাজতে

    এবার বরিশালে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ-গ্রেফতার বখাটে জেলহাজতে

    বরিশাল নগরের গোরস্থান রোড এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বখাটে হাফিজুর রহমান তাওহীদকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেল পাঠানোর নির্দেশ দেন

    এর আগে দুপুরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বখাটে তাওহীদ।

    কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান জানান, গোরস্থান রোড এলাকার ভাড়াটিয়া ১১ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে বাসায় একা পেয়ে তাওহীদ ধর্ষণ করে।
    রাতে ছাত্রীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর রাতে নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় প্রায়ই ভিকটিমের বাসায় যাতায়াত করতো বখাটে তাওহীদ। রোববার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীর বাবা ও মা বাসার বাইরে জন্য যায়।

    সুযোগ বুঝে তাওহীদ ওই বাসায় গিয়ে ছাত্রীকে দরজা খুলতে বলে। পরে দরজা খুললে তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা বেরিয়ে এলে অন্ধকারে পালিয়ে যায় তাওহীদ।

    এ ঘটনায় রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে।

  • কলেজ ছাত্রীর ধর্ষন কারীদের ফাসির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন।

    কলেজ ছাত্রীর ধর্ষন কারীদের ফাসির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন।

    রাকিব সিকদার নয়ন:

    বরিশাল নগরের কাশীপুর গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে গণধর্ষনের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের ফাসির দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। বরিশালের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের আয়োজনে সোমবার বেলা ১১ টায় কাশীপুর গার্লসস্কুল এন্ড কলেজের সামনে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

    এ মানব বন্ধনে বিভিন্ন মহলের লোকজন উপস্থিত ছিলেন, তারা ধর্ষকদের সর্বচ্চো শাস্তি দাবি করেছেন।

    গত শুক্রবার সকালে বিএম কলেজের সামনের একটি মেসে সহপাঠীর কাছে নোট নিতে আসা কাশীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে (১৭) কলেজ রো’র একটি ছাত্র মেসে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে ধর্ষিতার পরিবার। আর পুলিশ ওইদিনই মামলায় অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করে

  • বরিশালেও প্রার্থী বদলের দাবি বিএনপিতে

    বরিশালেও প্রার্থী বদলের দাবি বিএনপিতে

    গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৩ সালের বিজয়ী দুই প্রার্থীকে বিএনপি পাল্টে দেয়ার পর বরিশালে কী হয়, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এই মহানগরে পাঁচ বছর আগে নির্বাচিত আহসান হাবীব কামালকে নিয়ে বিএনপিতে বিভেদের আভাস স্পষ্ট।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে পাঁচ মহানগরে ভোট হবে তার মধ্যে প্রথম দফায় হচ্ছে গাজীপুর এবং খুলনায়। ১৫ মে এই ভোট শেষে ঈদের পর রাজশাহী বরিশাল ও সিলেটে হবে ভোটের তফসিল।

    আপাতত গাজীপুর ও খুলনার দিকে দেশবাসীর দৃষ্টি থাকলেও যে তিন নগরে ভোটের প্রস্তুতি চলছে, সেসব এলাকায় নেতা-কর্মীরা নানা হিসাব কষতে ব্যস্ত।

    প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে মনোনয়নের জন্য চলছে নেতাদের চেষ্টা, তদবির। সেই সঙ্গে চলছে গণসংযোগ।

    ২০০৮ সালে বরিশালে বিজয়ী আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হীরনকে ২০১৩ সালে ২২ হাজার ভোটে হারিয়ে মেয়র হন আহসান হাবীব কামাল।

    বর্তমান সরকারের আমলে মহানগরগুলোতে বিএনপির মেয়ররা মামলা সাময়িক বরখাস্তের  পড়লেও সে তুলনায় নিরাপদেই ছিলেন বরিশালের কামাল।

    এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে কামালকে নিয়ে কিছুটা সন্দেহ, অবিশ্বাস দানা বেঁধেছে। দলের একটি অংশ প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচিতে তাকে নানাভাবে লাঞ্ছনার চেষ্টাও হয়েছে।

    জেলা বিএনপির একটি বড় অংশই গাজীপুর এবং খুলনার মতো বরিশালেও প্রার্থী পাল্টানোর পক্ষে। তারা সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারকে আবার মনোনয়ন দেয়ার দাবি তুলছেন।

    তবে মেয়র কামাল আশা করছেন, দলীয় প্রতীকে ভোটেও তাকেই প্রার্থী করবে দল। আর মনোনয়ন পেলে গতবারের চেয়ে বেশি ভোটে জয় আশা করছেন তিনি।

    কামাল বলেন, দল যদি মনোনয়ন দেন তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আর দলের নেতাকর্মীরা যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো সঠিক নয়।

    এর বাইরে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহীনও কেন্দ্র দেন দরবার করছেন।

    প্রার্থী হতে আগ্রহী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিনও।

    তিনি বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করছি। দল যা করবে তাই মেনে নেব। এই জন্য দ্বন্দ্বের প্রশ্ন আসে না।’

    বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করেছি, করব। দল কখনোই নিরাশ করবে না। বিএনপির প্রার্থিতা পেলে আওয়ামী লীগের সামনে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াতে পারব বলে মনে করি।’

    জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘প্রার্থী কে হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে সন্দেহ আছে। সরকার সকল জায়গায় প্রভাব খাটায়। এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

    বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ২০০৩ সালে বরিশালে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচনে মেয়র হন সরোয়ার। তবে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। আর সে সময় বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সুযোগে জিতে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ।

    এমনিতে বরিশাল সদর আসন বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু হীরন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অবস্থান যে শক্তিশালী হয়েছে, সেটা ২০১৩ সালের নির্বাচনেই স্পষ্ট। আগের নির্বাচনে বিএনপির তিন প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগিতে জিতেছিলেন হীরন। আর ২০১৩ সালে বিএনপিতে ছিল একক প্রার্থী। আর তার কাছে হীরনের হার হলেও আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি ভোট পান তিনি।

    গত পাঁচ বছরে মেয়র কামালের কাজ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন আছে। এমনটি তার দল বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও যে খুব একটা সন্তুষ্ট তা নয়।

    বরিশাল যুবদলের এক নেতা বলেন, ‘মেয়র কামাল পাঁচ বছর পদে থাকাকালে দলের কাজে অংশ নেননি। কোনো কর্মসূচিতেই তাকে পাওয়া যায় না। এই সময়ে তিনি নিজের আর নিজ পুত্রের জন্য কাজ করেছেন। দলের জন্য তার ত্যাগ শূন্য।’

    আরেক আলোচিত প্রার্থী বিলকিস জাহান শিরিন সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ওই যুবদল নেতা বলেন, ‘তিনি তো সব সময় ঢাকায়ই থাকেন। তবে তিনি বিএনপির একজন শক্ত প্রার্থী সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

    মহানগর বিএনপির একজন নেতা বলেন, ‘সব কিছুই এখন নির্ভর করছে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের উপর। বরিশাল সিটি নির্বাচনে একজন শক্ত প্রার্থী দরকার।’