Category: রাজণীতি

  • এরশাদের অবস্থার অবনতি, ঠিকমতো কাজ করছে না অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

    এরশাদের অবস্থার অবনতি, ঠিকমতো কাজ করছে না অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

    রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

    তিনি বলেন, তার বেশকিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করছে না।

    আজ বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্রিফকালে তিনি এ কথা বলেন।

    জি এম কাদের বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের পাশাপাশি এরশাদকে ঘুমের ও ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া হচ্ছে। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

    এর আগে বিকেলে জাপার সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    এদিকে এরশাদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ।

    Kader

    আজ বেলা আড়াইটায় জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এরশাদকে দেখতে যান।

    এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আকতার, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব এস এম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউ থেকে বের হয়ে বেগম রওশন এরশাদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

    শুক্রবার দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দোয়া করতে অনুরোধ জানান তিনি।

    এর আগে জানা যায়, রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশে নেয়ার অবস্থা নেই।

    তবে উন্নতির আশা রয়েছে বলে জানান তার ভাই জি এম কাদের। এরশাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।

    আজ রাতে ব্রিফকালে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশে নেয়ার অবস্থা নেই। তবে উন্নতির আশা করছেন চিকিৎসকরা।

    গত ২২ জুন বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে এরশাদকে দ্রুত সিএমএইচে নেয়া হয়।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের সমস্যা ধরা পড়ে। দুই দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে এলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।

    এই দফায় সিএমএইচে ভর্তি হলে এরশাদের ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

  • ওরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছিল : আমির হোসেন আমু

    ওরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছিল : আমির হোসেন আমু

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ওরা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেদিন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতা ও দক্ষিণ বাংলার কৃষককুলের নয়ন মনি আঃ রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ২১ বছর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

    এমনকি আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ বাষির্কী ১৫ আগস্ট পালন পর্যন্ত করতে দেয়নি। আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নেতা না সেএখন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন নেতা হওয়ার গৌরব অর্জণ করতে সক্ষম হয়েছে।

    সেই সাথে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তি আনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ৩৭টি পুরস্কার পেয়ে বংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

    তাই শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর অদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষে বাংলাদেশকে নেতৃত্বে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সকল মানুষের দাবীর মুখে সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সহ যুদ্বঅপরাধাদের বিচার করা।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ই জুলাই) সকাল ১১ টায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তন হল রুমে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে শুভেচ্ছা বক্তব্যতে তিনি একথাগুলো বলেছেন।

    বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিরিক্ষা কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী মর্যদা সম্পূর্ণ) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমাউন, হাফিজ মল্লিক, কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী এ্যাড. শ.ম. রেজাউল করিম (এমপি), পানিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান (এমপি), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আআহমেদ, কেন্দ্রীয় গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ ।

    প্রধান অতিথি সাবেক শিল্প মন্ত্রী আমির হােসেন আমু এসময় আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিল একটি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন তারই লক্ষে দেশকে আজ শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে সেই সঙ্গে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের সাথে বিশ্বের কাছে হয়েছে উন্নয়নশীল রোল মডেল।

    জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বাষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তি পালন, কর্মী সংগ্রহসহ ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার তিনটি লক্ষকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ্ ।

    তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভিতর কখনো হাইব্রিডদেরকে আশ্রয়-পশ্রয় দেব না।

    এই প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সবাইকে শক্তিশালি করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বরিশাল বিভাগের আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালি করা হবে।

    বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা সঞ্চলনা করেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম।

    বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় বিভাগের আওয়ামী লীগের দলীয় সকল সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, এবং জেলা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদক প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।

    প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল বরিশাল ক্লাব, জিলা স্কুল মোড়ে দলীয় পতাকার আদলে তিনটি দৃষ্টি নন্দন নির্মান করা হয়েছ তোড়ন সেই সাথে করা হয়েছে ব্যাপক সাজসজ্জা।

    এছাড়াও প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থ জোড়দার করা হয়েছে।

  • বরিশাল  ক্লাবে আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

    বরিশাল ক্লাবে আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার//তানজিম হোসাইন রাকিব:

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ই জুলাই) সকাল ১১ টায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তন হল রুমে আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আ.ফ.ম বাহউদ্দিন নাসিমের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন- সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি।

    ছবি: তানজিম হোসেন রাকিব

    বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমাউন, হাফিজ মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এমপি, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামিম এমপি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় বরিশাল বিভাগের দলীয় সকল সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা অংশগ্রহণ করেন।’

  • মেয়র স্যাররে কইয়েন আমারে একটা অটো গাড়ি দিতে

    মেয়র স্যাররে কইয়েন আমারে একটা অটো গাড়ি দিতে

    ২০০১ সালে অজানা এক রোগে দু’পা হারান তিনি। এর আগে তিনি ঢাকার একটি ছাপা খানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। দু’পা হারানোর পর থেকে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে তিনি ফুটপাতে শুয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে সংসার চালাচ্ছেন। তার সংসারে রয়েছে ৪ মেয়ে ও এক ছেলে। মানুষের কাছে হাত পেতে ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেয়েকে আঁখিকে উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) গন্ডি পার করিয়েছেন। অনার্সে ভর্তি করিয়ে টাকার অভাবে আর লেখাপড়া করাতে পারেন নি ওই মেয়েকে। বর্তমানে মেয়েটি নগরীর বাংলাবাজার এলাকার একটি দর্জির দোকানে কাজ করছেন।

    ছোটো ছেলেটি এখনও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। বড় ছেলেটা ঢাকায় চাকরির চেষ্টা করছেন কিন্তু চাকরির সন্ধান পাচ্ছেন না। ৪ মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন তিনি। কষ্ট করে সংসার চালিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়া করানোর খুবই ইচ্ছা ছিলো তার। কিন্তু যে পরিমাণ আয় হয় তাতে তিনি সংসার চালাতে পারছেন না, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাবেন কিভাবে। এসব কথা বলতে বলতে চোখ থেকে পানি ছেড়ে দিয়েছিলেন দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলি।

    এসময় তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, ‘‘মেয়র স্যার যদি আমাকে একটা অটো গাড়ি দিতেন তাহলে সেটা চালিয়ে আমি সংসার চালাতে পারতাম। মেয়র স্যার যে হুইল চেয়ারটি দিয়েছেন সেটা আমি চালাতে পারিনা। আমি কখনও হুইল চেয়ার চালাইনি। এর আগে কিছুদিন অটো রিকশা চালিয়েছি। মেয়র স্যার যদি হুইল চেয়ারটা ফেরত দিতেন বলে তাহলে দিয়ে দিবো কিন্তু আমাকে যেন একটা অটো গাড়ি দেন সেটা একটু বইললেন। আপনি আমার সন্তানের মতো, মেয়র স্যাররে আর পাইওনা, বলতেও পারিনা।

    আপনি আমার কথাটা মেয়র স্যারকে একটু বলবেন”। এসময় তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘মেয়র স্যার অনেক ভালো, মেয়র স্যার আমার জন্য যা করেছে সেটা এর আগে আর কেউ করেনি। আপনি যদি মেয়র স্যাররে আমার কথাটা একটু কইতে পারেন তাহলে স্যার অবশ্যই আমার কাছে ছুটে আসবেন”। দু’পা হারানো ইয়াকুব মিয়া রোদের মধ্যে শুয়েছিলেন, তার গা থেকে অঝোরে ঝরছিলো ঘাম। তার মধ্যে আবার চোখ থেকে পানি পড়ছে কষ্টের কথা মনে পড়ে। আপনি কেন ছায়ায় যাননা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ছায়ায় গেলে লোকেরা তাড়িয়ে দেয়। কোনো দোকানের সামনে বসতে দেয়না আমাকে”।

    উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে ইয়াকুব মিয়ার রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করার দৃশ্য নজরে আসে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। এরপরই তিনি তাকে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন। ইয়াকুব মিয়া হুইল চেয়ারটি চালাতে পারছেন না দাবি করে মেয়রের কাছে একটি অটো রিকশার দাবি করছেন। তার দাবি, মেয়র যদি একটি অটোরিকশা দেন তাকে তাহলে সেটি চালিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। এমন বাস্তবতায় মেয়র কি করেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

  • গ্যাসের মূল্য বাড়ানো বাজেটের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ : রাশেদ খান মেনন

    গ্যাসের মূল্য বাড়ানো বাজেটের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ : রাশেদ খান মেনন

    ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে বাজেটে পণ্যমূল্য না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা ভঙ্গ করা হয়েছে। কেবল তাই নয়, বাজেট অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সংসদকেও অপমান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটি ও প্রতিটি ইউনিয়নের শাখা সম্পাদকদের এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রাশেদ খান মেনন বলেন, সংসদে বাজেট আলোচনায় আমি এ বিষয়ে বাজেট পরবর্তী অধিবেশনের দিনগুলোতে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অন্যরাও কথা বলেছিলেন। সেসব কথার যে মূল্য নেই তা বোঝা যাচ্ছে। সংসদে খোলাখুলি আলোচনায় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতো। এতে না সংসদ, না সরকার, তবে কার কল্যাণ হলো?

    রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, গ্যাসের মূল্য বাড়াতে কেবল গৃহস্থালী খরচই বাড়বে না, কৃষকের সার, সেচের বিদ্যুৎ, পোশাক ও সুতাকল শিল্প, পরিবহনসহ অর্থনীতির সবখাতের ব্যয় বাড়বে। এতে কতখানি মূল্যস্ফীতি ঘটবে তা নিরূপণের বিষয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ একে ভালোভাবে নেয়নি।

    মেনন বলেন, চৌদ্দ দলের দায়িত্ব হবে সরকার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কাজের বিরোধিতা করা। আর শরিক দল হিসেবে এ ধরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করবে। তার জন্য পার্টির সক্ষমতা বাড়াতে পার্টি কংগ্রেসকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে পার্টিকে আরও দৃঢ়ভিত্তির উপর সংগঠিত করবে।

    ওয়ার্কার্স পার্টির বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান, উপজেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক গোলাম হোসেন, মতিউর রহমান কালু মাস্টার, খলিলুর রহমান প্রমুখ।

  • ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এরশাদ লাইফ সাপোর্টে

    ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এরশাদ লাইফ সাপোর্টে

    অনলাইন ডেস্ক :

    বোন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সিসিইউতে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এর আগে থেকে তিনি অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন।

    এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বিষয়টি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকালে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের জানিয়েছিলেন, বিগত চার দিন ধরেই এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। এখনও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

    চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ফুসফুসের সংক্রমণ চিকিৎসকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। এছাড়া তার কিডনিও প্রয়োজন মতো কাজ করছে না। ফলে তার শরীরে পানি জমেছে।

    ‘তবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা সাবেক রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবাই দিয়ে যাচ্ছেন। পল্লীবন্ধুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তারা।’

    জিএম কাদের বলেন, সিএমএইচের চিকিৎসকরা দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই পল্লীবন্ধুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন। সিএমএইচের চিকিৎসকরা মনে করলেই তাকে বিদেশ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ডাকা হবে।

    শুক্রবার (৫ জুলাই) সারাদেশের মসজিদসহ বিভিন্ন প্রার্থনালয়ে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জিএম কাদের।

    এর আগে বুধবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে জানান জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

    গত ২৭ জুন সকালে অসুস্থবোধ করলে জাপা চেয়ারম্যানকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও অবনতি ঘটে।

    এরশাদ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি সিঙ্গাপুর থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন। তারপর থেকে নিয়মিতই সিএমএইচে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছিলেন তিনি।

  • যে গোপন বিষয় জেনে ফেলায় পালাতে বাধ্য হলেন দুবাই শাসকের ৬ষ্ঠ স্ত্রী

    যে গোপন বিষয় জেনে ফেলায় পালাতে বাধ্য হলেন দুবাই শাসকের ৬ষ্ঠ স্ত্রী

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মেদ আল মাখতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া (৪৫) দেশ ছেড়ে পালিয়ে জার্মানি হয়ে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। অভিযোগ উঠেছে, পালানোর সময় তিনি তার স্বামীর ৩৩৩ কোটি টাকা সাথে করে নিয়ে গেছেন।

    দুবাইয়ের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে কেন তিনি পালালেন সেটা নিয়ে প্রিন্সেস হায়া প্রথমে মুখ না খুললেও এখন তার দাবি, প্রাণ হারানোর ভয়েই স্বামীকে ছেড়ে তিনি দুবাই থেকে পালিয়েছেন।

    দুবাইয়ের শাসক ৬৯ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মেদ আল মাখতুম একজন বিলিয়নিয়ার। ইন্সটাগ্রামে তিনি সম্প্রতি কয়েকটি কবিতা পোস্ট করেছেন, যেখানে একজন নারীকে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য দায়ী করেছেন।

    জর্ডান বংশোদ্ভূত প্রিন্সেস হায়া পড়াশুনা করেছেন ব্রিটেনে। ২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মেদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন হন। তিনি শেখ মোহাম্মেদের ষষ্ঠ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী। বিভিন্ন স্ত্রীর ঘরে দুবাইয়ের এই শাসকের ২৩টি সন্তান আছে বলে জানা যায়।

    প্রিন্সেস হায়া প্রথমে জার্মানি গিয়েছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে। এখন তিনি বাস করছেন লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেনসের একটি টাউন হাউজে যার মূল্য প্রায় ১০৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি এখন আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সেস হায়া, লন্ডনেই থাকতে চান তিনি। কিন্তু কেন তিনি দুবাইয়ের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পালিয়েছেন?

    তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, প্রিন্সেস হায়া সম্প্রতি তার স্বামীর এক কন্যা শেখ লতিফার দুবাই থেকে পালিয়ে আবার রহস্যজনকভাবে ফিরে আসার পেছনের কিছু গোপন বিষয় জেনে যান। শেখ লতিফা এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সাগর পথে পালিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতীয় উপকূলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের বাধা দেয় ও পরে দুবাইতে ফিরিয়ে নেয়।

    ওই ঘটনায় দুবাইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রিন্সেস হায়া তখন সে সময় আইরিশ প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সাথে কাজ করেছিলেন। দুবাই কর্তৃপক্ষ বলছে যে, শেখ লতিফা এখন দুবাইতে নিরাপদে আছেন, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে।

    এরপর প্রিন্সেস হায়া সত্যি কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এ নিয়ে তার স্বামীর পরিবার থেকে চাপ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।

    একটি সূত্র জানায়, তিনিও অপহরণের শিকার হতে পারেন বলে এখন আশঙ্কা করছেন। যদিও লন্ডনে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। তারা বিষয়টিকে একজনের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

    তবে যদি তার স্বামী তাকে ফেরানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন তাহলে এটা ব্রিটেনের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার বিষয় হবে। কারণ আরব আমিরাত যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ।

    ঘটনাটি জর্ডানের জন্যও বিব্রতকর। কারণ প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎ বোন। আবার জর্ডানের বিপুল সংখ্যক নাগরিক দুবাইতে কাজ করে ও বিপুল রেমিট্যান্স আয় করে। তাই দুবাইয়ের সাথে বিরোধে জড়ানো কঠিন হবে জর্ডানের জন্যও।

  • জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি ছিলেন তিন নম্বর পাঠক

    জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি ছিলেন তিন নম্বর পাঠক

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, স্বাধীনতার ইতিহাস মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই। যারা আজ স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক তোলার চেষ্টা করছেন, তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জন্ম হয়নি।

    আজ বুধবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা এবং মুন্সীর হাট ইউনিয়ন আ’লীগের যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সোবহান ভূইয়া হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি।

    স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিন নম্বর স্বাধীনতার পাঠক। তিনি কখনো ঘোষক ছিলেন না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন, ২ লাখ মা বোন ইজ্জত হারান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সাড়ে ১১ হাজার যুদ্ধ অপরাধীর তালিকা করেন এবং এদের বিচার করার জন্য দালাল আইন করেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দালাল আইন বাতিল করার মাধ্যমে এদের বিচারের পথ বন্ধ করে দেন। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে যা কখনো সম্ভব নয়। তার এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমান বাংলার স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি। তিনি যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য।

    প্রধান বক্তা হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, আজ থেকে ৭০ বছর আগে ঢাকার রোজ গার্ডেনে বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃবৃন্দ আওযামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি জাতীয় পার্টি ক্যান্টেনম্যান্টে সৃষ্টি হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সংগঠন সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগের বড় অর্জন আওয়ামী লীগের ডাকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছি।

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচিত সাংসদ সরোয়ার জাহান বাদশা, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম এ বাহার, জেলা আ’লীগ সদস্য আলী হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার, জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সামছুল আলম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ সারথী দত্ত, সদস্য কামাল উদ্দিন, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাসেম, উপজেলা আ’লীগ নেতা জি এম মীরহোসেন মীরু, ভ ম আফতাবুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক হেলাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও বাতিসা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন টিপু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব হোসেন মজুমদার, বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য কামরুল হাসান মুরাদ।

    এ ছাড়া ঘোলপাশা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ আহমেদ, মুন্সীরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজ আলম, গুনবতী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ খোকন, উজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন খোরশেদ, চিওড়া ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক, কাশিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, জগন্নাথদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম, কনকাপৈত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল, মিয়াবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জসীম উদ্দিন সর্দার, উপজেলা আ’লীগের সদস্য কামরুল আলম মোল্লা, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বিপ্লব, মাহবুবুল হক মোল্লা বাবলু, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউছার হানিফ, কাজী রাফি।

  • এরশাদ বোন ক্যানসারে আক্রান্ত

    এরশাদ বোন ক্যানসারে আক্রান্ত

    জাতীয় পার্টির চেয়ার‌্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বোন ক্যানসারে তথা হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া আগে থেকেই তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ শতাংশের কম ছিলো। ডাক্তারের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

    বুধবার জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

    সভায় এরশাদের সুস্থতা কামনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরের মসজিদ, মন্দির, গির্জায় দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এরশাদের চিকিৎসাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে ৯ সদস্যের একটি কমিটি।

    এরশাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে একজন চিকিৎসক আসবেন। তিনি এরশাদের শারীরিক অবস্থা দেখে তারপর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানান রাঙ্গা।

    যৌথসভায় জাপার ৮০ শতাংশ প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

    এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, তিনি অসুস্থ, তিনতলায় হেঁটে উঠতে পারেন না, তাই আসেননি। তবে সভার সব খবর তাকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে।

    এরশাদ অসুস্থ হওয়ায় সভার সভাপতিত্ব করেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

    এসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মৃত্যুর আগেই জাপার আলোচনায় এরশাদের কবর

    মৃত্যুর আগেই জাপার আলোচনায় এরশাদের কবর

    মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবরস্থান কোথায় হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি দলটির শীর্ষ নেতারা।

    বুধবার দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয়ে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের এই যৌথসভা চলে আড়াই ঘণ্টা। সভায় এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও এরশাদের কবরস্থান কোথায় হবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

    রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বাইরে থেকে ভালো চিকিৎসক আনা যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়। সভায় এরশাদের কবরস্থানের জায়গা কেনার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ। তবে এরশাদের করবস্থান কোথায় হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

    সভাপতিত্ব করেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সভায় জাপার ৩৮ জন প্রেসিডিয়াম ও এমপি উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে দুপুর একটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে।

    আজ সকালে আমি সিএমএইচে গিয়েছিলাম। তিনি আমার কণ্ঠ শুনে চোখ ও হাত নাড়িয়েছেন।

    বিকেলের জাপার যৌথসভার বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সভায় শুরুতেই জিএম কাদের এরশাদের কথা বলতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতারা এরশাদের কবরস্থান নিজস্ব কেনা জায়গায় পাবলিক প্লেসে করার পক্ষে মত দেন।

    তবে কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য দাবি করেন, এরশাদ সেনানিবাস অথবা আসাদ গেটের বিপরীতে সংসদ প্রাঙ্গণে তার কবরের কথা বলেছেন। সভায় পার্টির নেতারা এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘এরশাদ দেশের সতের কোটি মানুষের নেতা। তার কবরস্থান যদি সেনানিবাসে হয় তাহলে সাধারণ মানুষ তার কবরস্থান জিয়ারত করতে যেতে পারবে না।

    সভা সূত্র আরও জানায়, সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুরের আদাবরে জায়গা কিনে কবরস্থান কেনার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আদাবরে না পাওয়া গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা জায়গা এরশাদের কবরস্থানের জন্য লিখে দেব।

    এরপর প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ পাবলিক প্লেসে এরশাদের কবরস্থান করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নেতা এরশাদের কবরস্থানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ কোটি টাকা দেব। স্যারকে যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে নেয়া হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় খরচও আমি বহন করব।

    Ershad-1

    সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এম এ সাত্তার, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এটিইউ তাজ রহমান, আজম খান প্রমুখ।

    সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি মূলত মাইলিড প্লাস্টিক সিনডম রোগে আক্রান্ত।

    যৌথ সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হবে। এরশাদ বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে উপস্থিত সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পার্টি চেয়ারম্যান দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন।

    মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নত চিকিৎসায় প্রয়োজন হলে সিএমএইচের চিকিৎসকরা সিঙ্গাপুর অথবা অন্য কোনো দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পল্লীবন্ধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। অথবা বিদেশ থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হবে। সব কিছুই সিএমএইচের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী হবে।

    সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের প্রায় ৮০ শতাংশ উপস্থিত ছিলেন বলে জানান জাতীয় পার্টি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি হয়েছে। তারা সারাদেশের জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সাঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন।

    এ ছাড়া আগামী শুক্রবার সারাদেশের সকল ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানিয়ে প্রতিদিন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন বলে জানান জাপা মহাসচিব রাঙ্গা। এ সময় অন্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে চলতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্বের প্রশ্নে কোনো বিভ্রান্তি বা বিভেদ নেই। কোনো মতানৈক্য নেই। জাতীয় পার্টির সবাই একই সুতায় ঐক্যবদ্ধ আছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা প্রতিদিন জানানোর জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব।