Category: রাজণীতি

  • বরিশাল নগরীর ৪৫টি পুজামন্ডপে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আর্থিক অনুদান প্রদান

    বরিশাল নগরীর ৪৫টি পুজামন্ডপে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর আর্থিক অনুদান প্রদান

    বেলায়েত বাবলুঃ
    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন, শুভ মহালয়ার শুভক্ষণে বরিশাল নগরীর পুজামন্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নগরীর ৩৯টি সার্বজনীন ও ৬টি ব্যক্তিগত মন্ডপে অনুদান প্রদান করা হয়। এসময় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্ম মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে আমরা সকলে বাঙালী -এ শ্লোগানেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন। মেয়র বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতার শ্লোগানে স্বাধীন হওয়া এদেশে যার, যার ধর্ম সে পালন করবেন, এখানে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব শান্তিপূর্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, বরিশালে ভয়ের কোন কারণ নেই। শান্তির নগরী বরিশালে শান্তি বজায় থাকবে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো। তাতে মেয়র থাকি আর না থাকি। আমি এক কথার মানুষ, মুখে যা বলি তা করার চেষ্ঠা করি। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয় উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে। আপনারা ভালবাসলেও অনেকেই আছেন তারা আমাকে সরাতে চায়। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি আমাদের কথা যদি জনগন বিশ্বাস না করে তাহলে আস্থার জায়গা থাকলো কই?।এতোদিনের অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি কর্মের মাধ্যমে জনগনের মাঝে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। এজন্য আমি বারবার বলি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে যাবোনা।
    অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বরিশাল মহানগরীর ৩৯টি সার্বজনীন পুজামন্ডপ কর্তৃপক্ষের হাতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ও মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ৬টি ব্যক্তিগত পুজা মন্ডপে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ও মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ০৫ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও একক চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, বরিশাল জেলা পুজা উদযাপন কমিটির পক্ষে রাখাল চন্দ্র দে, মানিক মুখার্জী কুডু, বরিশাল মহানগর পুজা কমিটির সভাপতি তমাল মালাকার, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পাসহ নগরীর সকল মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুদান প্রদান শেষে আগত পুজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। উল্লেখ্য আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে এবছরের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসব শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে। হিন্দু পঞ্জিকামতে, এ বছর দেবীদুর্গা হাতির পিঠে চেড়ে পৃথিবীতে অর্থাৎ বাবার বাড়িতে আসবেন। আর কৈলাসে স্বামীর বাড়িতে ফিরবেন নৌকায়।

  • নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই: কাদের

    নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই: কাদের

    নিউজ ডেস্কঃঃ নির্বাচন ও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন রাজপথে নামবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই নামবে। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে তাদের উন্নয়ন ও অর্জনের সঙ্গে এদেশের জনগণ রয়েছে, কাজেই অগণতান্ত্রিক পথে বিএনপির ক্ষমতা দখলের খোয়াব অচিরেই ভেঙে যাবে।

    রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    সরকারের পদত্যাগ দাবি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার কেন পদত্যাগ করবে? আর কার কাছে পদত্যাগ করবে?

    তিনি বলেন, সরকার একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকার পরিবর্তনের দুঃস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি মীমাংসিত ইস্যু। এ নিয়ে মাতামাতি করে কোনো লাভ নেই।

  • জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন

    জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন

    নিউজ ডেস্কঃঃ অস্ত্র আইনের মামলায় যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।

    ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম রায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    রাজধানীর গুলশান থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় রোববার দুপুরে।

    ২০১৯ সালে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করার পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার রায় হলো।

    রায়ের সময় জি কে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    জি কে শামীম ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

    ক্যাসিনোবিরোধী অভিযোগের মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালায় র্যাব। ওই ভবন থেকে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় অভিযান শেষে।

    তখনই শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

    এর মধ্যে অস্ত্র ও মুদ্রা পাচার মামলায় সবাইকে আসামি করা হলেও মাদক আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি দেখানো হয়। প্রত্যেক মামলাতেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

    রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন শামীম। র্যাব সদর দপ্তর, সচিবালয়ে ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ ছিল শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের হাতে রয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

  • বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্কঃঃ সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের তাৎক্ষণিক উপযুক্ত জবাব দিন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থ পাচারকারীসহ নানা অপরাধী।

    তিনি বলেন, সামাজিক গণমাধ্যমে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বেশিরভাগকেই অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

    সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে সরকার এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অন্যদের সবক দিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের চরিত্র ও অপকর্ম জনসমক্ষে তুলে ধরারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না, বরং আমাদের উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরুন।

    শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার সরকারের করা উন্নয়ন কার্যক্রম সব স্থানে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে আপনার এলাকার কংগ্রেসম্যান, সিনেটর এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবহিত করুন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেট ছিল ছয় লাখ কোটি টাকার ওপরে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে সারাবিশ্বে চলার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে যে মর্যাদা ও সম্মান অর্জন করেছে তা সমুন্নত রাখার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী আবারও জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বে আসন্ন তীব্র খাদ্য সংকট সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে ভবিষ্যতে তা থেকে বাঁচতে আরও বেশি করে খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান জানান।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চাই

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চাই

    নিউজ ডেস্কঃঃ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গণহারে বাংলাদেশে প্রবেশের এরই মধ্যে পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো যায়নি। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও দুরূহ করে তুলছে। আশাকরি, এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং জ্বালানি, খাদ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে। এ কারণে, আমাদের মতো অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চাই। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে নারী, শিশুসহ ও গোটা মানবজাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়। এর প্রভাব কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সব মানুষের জীবন-জীবিকা মহাসংকটে পতিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে, শিশুরাই বেশি কষ্ট ভোগ করে। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

  • কৃতজ্ঞচিত্তে সিটি মেয়র সাদিককে শ্রদ্ধা জানালো নরসুন্দর ইউনিয়ন

    কৃতজ্ঞচিত্তে সিটি মেয়র সাদিককে শ্রদ্ধা জানালো নরসুন্দর ইউনিয়ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়ন। সম্প্রতি নরসুন্দরের এক সদস্যকে চিকিৎসার জন্য বলার তিন ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসার সকল দায়ভার নিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় এই কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

    নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি রতন চন্দ্র শীল বলেন, আমরা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে মাননীয় মেয়র মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবে ইতিপূর্বেও তিনি আমাদের সদস্যদের পাশে দাড়িয়েছেন। মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করা এই মানুষটি দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করে আশির্বাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি বরিশালবাসীকে হৃদয়ে ধারন করেন। আমাদের সুযোগ্য অভিভাবক তিনি। তাছাড়া এই সহায়তা প্রদানের পর থেকে প্রতি সেলুনে সেলুনে আলোচনার ঝড় ওঠে।

    নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র শীল বলেন, আমরা কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সৃষ্টিকর্তা এই মহান মানুষটির সর্বাঙ্গিন কল্যাণ করুন।

    জানা গেছে, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করা বরিশাল নগরীর এক নরসুন্দরের পরিবারের আবেদনের তিন ঘন্টার মধ্যেই স্বজনদের কাছে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। গত শনিবার নগরীর সরকারি বরিশাল কলেজ সংলগ্ন রজনীগন্ধ্যা কমিউনিটি সেন্টারে বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও বিশ্বকর্মা পুজার আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নগরীর সাগরদী গাওসিয়া সড়ক নিবাসী ও একই এলাকার জয় হেয়ার ড্রেসার নামক প্রতিষ্ঠানের নরসুন্দর স্বপন চন্দ্র শীলের স্ত্রী রিতা রানী শীল জানান, তার স্বামী গত একবছর যাবত অসুস্থ্যতায় ভুগছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় স্বপন চন্দ্র শীল যেমন আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তেমনি কর্মস্থলে যেতে না পারায় সংসারের ভরণপোষন ও চালাতে পারছেন না। তিন লাখ টাকা হলে তার স্বামীকে অপারেশন করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে জানান রিতা রানী।

    তার এ কথা শুনে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ স্বপন শীলের অপারেশনের পুরো টাকা দেয়ার কথা বলে অনুষ্ঠান শেষে বাসায় দেখা করতে বলেন। পরবর্তীতে রিতা রানী তার পুত্র জয় শীলকে সাথে নিয়ে গতকালই মেয়রের কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে দেখা করেন।

    এসময় মেয়র তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্বপন শীলের চিকিৎসার জন্য নগদ তিন লাখ টাকা স্ত্রী রিতা রানী শীলের হাতে তুলে দেন।
    আর্থিক সহায়তার অর্থ পেয়ে অশ্রু সংবরণ করতে না পারা রিতা রানী বলেন, তার বিশ্বাস ছিলো মেয়রের সাথে দেখা করে তাদের দূরাবস্থার কথা জানালে মেয়র তাদের ফিরিয়ে দিবেন না। মেয়র তার বিশ্বাসের পুরোটাই বাস্তবায়ন করে চিকিৎসার পুরো টাকাই তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য দিয়েছেন। টাকাগুলো হাতে পেয়ে মেয়রের জন্য রিতা রানী দু’হাত তুলে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন বলেন সৃষ্টিকর্তা যেন মেয়রকে র্দীঘজীবী করে।

  • বাংলাদেশে বিপুল মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিপুল মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিউজ ডেস্কঃঃ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পেরে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান করা হোটেলে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চ-স্তরের পলিসি গোলটেবিলে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

    সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অবকাশ, রয়্যালটির রেমিটেন্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থান নীতি এবং পুরোপুরি প্রস্থানের সময় লভ্যাংশ ও মূলধন নিয়ে যাওয়ার সুবিধা।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) এবং বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৬ লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছে, ফলে, বাংলাদেশ আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এমনকি যদি প্রয়োজন হয়, আমরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের’ প্রস্তাব করতে পরলে খুশি হবো।

    তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার অভূতপূর্ব সম্ভাবনা প্রদান করেছে।

    তিনি আরও বলেন, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে রয়েছে।

    প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন হচ্ছে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবেশী দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যাবে। আমরা ক্রমাগত আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করছি এবং দেশে যোগাযোগ উন্নত করছি।

    ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উভয়ই উন্নত করেছে, যেখানে ঢাকা মেট্রো-রেল প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রুত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা যোগ করবে’- বলেন শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি মর্যাদা থেকে স্নাতক হতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাস্কেট বাড়ানোর জন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। আইএলও রোডম্যাপ উদ্যোগ মোকাবিলা করার জন্য কর্মের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং সময়রেখা প্রদান করে এবং শ্রম খাতে প্রতিকারের পরামর্শ দেয়।
    তাঁর সরকার এই সেক্টরে ক্রমাগত উন্নতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে পর্যাপ্তভাবে নিযুক্ত রয়েছে। মার্কিন সরকার শ্রম ইস্যুতে ৩+৫+১ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে।

    দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের অর্থনৈতিক পরামর্শের ফলোআপ সিদ্ধান্ত হিসাবে একটি ‘সরকার থেকে সরকার’ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এইদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিটি সাফল্য কামনা করেন এবং আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে, বলেন, আসুন আমরা আবারও একটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্বের জন্য আমাদের হাত মেলাই।
    এ বছর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামরিক-সামরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসহ বিস্তৃত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের প্রসারের মাধ্যমে পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে দুদেশের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২১-২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি শোষণমুক্ত সমাজ এবং পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে, তিনি আরও বলেন, ‘আমার সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে: ওবায়দুল কাদের

    শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে: ওবায়দুল কাদের

    নিউজ ডেস্কঃঃ ‘শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এটা হয়তো জানে না বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও পিছু হটতে জানেন না, ভয় পান না। যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকেন, বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। তিনি (শেখ হাসিনা) হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা হেরে যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হেরে যাবে।

    মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে লালবাগ থানা ও ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‘রাজপথ এখন থেকে বিএনপির দখলে থাকবে’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলন করতে চাইলে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে আন্দোলন করুন। আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করবেন না। রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। আপনারা ফাঁকা মাঠে আন্দোলন করবেন, আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে বসে আঙুল চুষবে, তা তো হবে না।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আন্দোলন করার জন্য মাঠে কিছু লোক নামিয়েছে। কারা কত দিন থাকেন আমরাও দেখবো। গতবার নির্বাচনের সময়ে ২০ দলীয় জোটের অবস্থা ছিল জগাখিচুড়ি। এখন তাদের অবস্থা আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনের মতো।

    দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করতে নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, তাদেরকে শেখ হাসিনা ছাড় দেবেন না। স্লোগান দিয়ে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, শক্তি প্রদর্শন করে নেতা হতে পারবেন না। যে যার এলাকায় জনপ্রিয়, তিনিই সেখানে নেতা হবেন।

    সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

    এতে সভাপতিত্ব করেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান।

  • নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্কঃঃ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

    ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

    সেখানে ২০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত সংবর্ধনায় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    দিনের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত সংবর্ধনাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, বতসোয়ানা, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র ও জাতিসংঘ আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের টেকসই আবাসন শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পদ্মা সেতুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং এরপর কসোভোর প্রেসিডেন্ট ড. ভজোসা ওসমানি-সাদ্রিউ, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলারমো লাসো মেন্ডোজা এবং রাবাব ফাতিমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) এর উপর একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন এবং আইওএম মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিটোরিনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন।

    পরে, তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেচ আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন এবং আইসিসির প্রসিকিউটর নিক ক্লেগ এবং করিম খানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

  • যার নেতৃত্বে বদলে গেছে বাংলাদেশ

    যার নেতৃত্বে বদলে গেছে বাংলাদেশ

    আমার আর হারাবার কিছুই নেই, পিতা, মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি।’ সেদিন বাঙালি জাতিও তাকে নিজের করে নিয়েছিল। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৮১ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

    বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাল ধরে দলকে একত্রিত করলেন এবং সারা বাংলাদেশ বিচরণ করে মানুষের মধ্যে মিশে যান। বঙ্গবন্ধুর মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করলেন। সারা বাংলাদেশের মানুষ যেখানেই শেখ হাসিনাকে পেয়েছে বৃদ্ধা মায়েরা তাকে জড়িয়ে ধরে আপ্লুত হয়ে বলতেন এসেছে, শেখের বেটি এসেছে, নিশ্চই আমরা আবার এগিয়ে যাব। শেখ হাসিনা জানেন এদেশের মানুষ কী চায়। বাংলাদেশের কোন জেলার কোন উপজেলায় পাশ দিয়ে কি নদী প্রবাহিত; ঐ এলাকায় মানুষের কি সমস্যাÑতা তিনি বলে দিতে পারেন, কারণ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ হাসিনা। তিনি সারা বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে রয়েছেন।

    কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ছয় দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। জাতির পিতা কি কি করতে চেয়েছিলেন তা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শিক্ষা নিয়েছিলেন এবং তাঁর নীতি আজকে তিনি অনুসরণ করে চলছেন। পিতার মতো তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি কখনো পিছপা হননি; দাবি আদায়ের মাধ্যমে আন্দোলন সফল করেই ফিরেছেন। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি বারবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন।

    পার্বত্য শান্তি চুক্তি, গঙ্গার পানি চুক্তি, সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি, দীর্ঘদিনের স্থল সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে ছিটমহলবাসীর দুর্ভোগের লাঘব করা, আইসিটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন ইত্যাদি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা যেমন তাকে অবিস্মরণীয় নেতায় পরিণত করেছে ঠিক তেমনি বিশ্বব্যাংকের অন্যায় আচরণ ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে পদ্ধাসেতু নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণ বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতির বিশ্লেষকদের কাছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে কঠিন প্রতিজ্ঞাদীপ্ত করে তোলে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৫-পরবর্তী সবচেয়ে দৃঢ় মনোবলের সফল রাষ্ট্রনায়ক। তিনি টানা ৪১ বছর ধরে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৮ বছরের বেশি সময় চতুর্থবারের মতো সরকার পরিচালনা করেছেন। দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৩ বছর আগের মাথাপিছু আয়কে চারগুণের বেশি বাড়িয়ে ২৮২৪ ডলারে উন্নীত করেছেন। পেয়েছেন ৪০টির বেশি আন্তজার্তিক পদক ও স্বীকৃতি। লিখেছেন চল্লিশটির অধিক বই। এক জীবনে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও এত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব অনন্য ও অতুলনীয় অর্জনের পিছনে রয়েছে নানান চড়াই-উৎরাই ও স্বজন হারানোর বেদনার দীর্ঘ সংগ্রামের সাহসী জীবন। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীসহ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার প্রচেষ্টা হয়েছিল আমার মনে হয় আল্লাহ তাকে নিজ হাতে রক্ষা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবেন বলেই হয়তো আল্লাহ শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানোসহ কমপক্ষে ২০ বার তাঁকে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তার পিছু ছাড়েনি। কিন্তু জাতীয় জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাৎক্ষণিক ও যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন না।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সংবিধানে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে জাতপাতের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ থাকবে না। দেশের উত্তর দক্ষিণ বা পূর্ব পশ্চিমে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। নারী পুরুষের মধ্যে সমঅধিকার থাকবে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শত বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণ পালন করতে পেরেছি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিু মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। মুজিব শতবর্ষে তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। স্বাধীনতার সুফল হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরের সুবিধা স¤পন্ন নগরে পরিণত করতে আমার গ্রাম-আমার শহর কর্মসূচীর মাধ্যমে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

    কোভিড-১৯ মহামারী মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন জীবিকাকে মারাÍকভাবে ব্যাহত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এ অবস্থা সফলভাবে মোকাবিলা করছে। জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিকেই এশিয়া প্রকাশিত ‘নিকেই কোভিড-১৯ রিকোভারি সূচক’-এর তথ্য মতে, করোনা মহামারি সামলে উঠার ক্ষেত্রে বিশ্বের যে দেশগুলো সবচেয়ে ভালো করছে, সেই তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের ফলে এ সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

    নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু চিন্তা করতেন পুরুষের সঙ্গে নারীকেও এগিয়ে যেতে হবে। সে জন্য তিনি পুলিশ বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগ দিয়েছিলেন।

    বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে নারীদের অন্তর্ভূক্তি করেছেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নারী শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ হতে ইউনেস্কো পিস ট্রি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর ভূমিকার জন্য এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয় এবং ইউএন উইমেনের পক্ষ থেকে প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কারণে বাংলাদেশকে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড এ ভূষিত করা হয়। পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত সাফল্যের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ইউএনইপি হতে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এগুলো সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কারণে।

    শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অত্যন্ত সফলতার সাথে অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে, ২০১৩ সালেই অর্জন করে বিশ্বকে তাক লগিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এসডিজি লক্ষমাত্রাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জন করবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসডিজি অর্জনের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার দেওয়া হয়। দারিদ্র দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশ্ব সংস্থার সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক নিউ ইয়র্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কার প্রদান করেন।

    ব্যক্তি জীবনে আমি সৌভাগ্যবান কারণ স্বাধীন বাংলাদেশের রুপকার বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছিলাম আর তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশ সেবায় কাজ করতে পারছি। ওয়ান ইলেভেন-এর সময় তৎকালীন সরকার আমেরিকা থেকে যখন তাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছিল না তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশে ফিরে যাবই’ এবং তিনি দেশে ফিরেছেন। সেদিনও শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণ বাধভাঙা স্রোতের মতো সমবেত হয়েছিল। তিনি ফিরে আসলে আমি তাঁর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার এলাকার হোম ওয়ার্ক তুমি কেমন করেছো?’ জবাবে আমি তাকে বলেছিলাম, ‘এই আসনটি (ঢাকা-১০ বর্তমানে-১২) আমরা আপনাকে উপহার দিতে পারব।’

    তখন উনি আমাকে বলেছিলেন ‘কাজ করে যাও।’ কিন্তু তিনি যে আমাকে নমিনেশন দেবেন, সেটা তখন আমি ভাবতে পারিনি। নির্বাচনের পরে তিনি আমাকে বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং প্রেস কাউন্সিল এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের বিষয়ে আমি সম্যক ধারণা পাই। তাছাড়া তিনি আমাকে যে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমি তা সম্পূর্ণরূপে পালন করতে চেষ্টা করেছি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি আমাকে প্রতিমন্ত্রী করলেন। আমার ধারণা ছিল না যে আমি মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হবো। উনাকে সালাম করতে গেলে উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি বিস্মিত হয়েছ?’ আমি বলেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিস্মিতই!

    তিনি বললেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে; মানুষ তাদের স্বজনদের হারিয়েছে। এ মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ভুলতে পারব না। তুমি একজন সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা; এজন্যই তোমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছি।’ তারপর বের হয়ে আসার সময় তিনি আমাকে বলেন, আজকে থেকে তুমি সারা বাংলাদেশ ঘুরবে, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি উপজেলায় কী কী সমস্যা আছে ঘুরে ঘুরে দেখবে এবং এগুলি নিয়ে কাজ করবে। তিনি আমাকে দেশের কোন প্রান্তে কোন ধরনের সমস্যা বিদ্যমান এবং তার সমাধান প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা দিলেন। আমি তাঁর নির্দেশনা মতো সারাদেশ ঘুরছি। আমার বাসাতেও যারা আসে আমি মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের কথা শুনি; চেষ্টা করি সকলের সমস্যার সমাধান করতে।

    বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে তিনি যতটা অনমনীয় আবার মানুষের সেবায় তিনি ঠিক ব্যতিক্রম। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট যখন রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমার হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল, তখন শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি ভুলে গেছো ১৯৭১ সালের কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তোমরা কি পার্শ—বর্তী দেশে আশ্রয় নাওনি? দেশের ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাওয়াতে পারি তাহলে এদেরকেও খাওয়াতে পারব। আসতে দাও; অন্তত জীবনটাতো বাঁচবে ওদের।’

    আজ বিশ্ব বিবেক শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘মানবতার জননী, স্টার অব দ্য ইস্ট’। বঙ্গবন্ধু কন্যা ২০০৮ সালে বলেছিলেন, বদলে দিবেন বাংলাদেশকে। তিনি যথার্থই বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। তিনি যতদিন নেতৃত্বে থাকবেন ততদিন দুর্বার গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এদেশকে আর পিছনে ফিরে যেতে হবে না। একমাত্র তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে সামিল হবে। তার দূরদর্শিতা দক্ষতায় বারবার তিনি তা প্রমাণ করেছেন।

    লেখক: জাতীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়