Category: রাজণীতি

  • দুই-এক দিনের মধ্যে সুখবর আসছে: জামায়াত আমির

    দুই-এক দিনের মধ্যে সুখবর আসছে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশবাসী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সুখবর পেতে যাচ্ছে।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও পাতা ফাঁদে পা দেব না। কারও কাছে মাথা নত করব না, আবার সীমা লঙ্ঘনও করব না। দুই-একদিনের মধ্যে সুখবর পাবেন আশা করি।’

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সরকার যাতে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়, সেটার জন্য আমরা সহযোগিতা করব।’

    জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বিজয় এসেছে, চলমান ষড়যন্ত্রও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করব। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’

    সংলাপের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অপপ্রচার মোকাবিলায় আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করব।’

    এর আগে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে দেশের চলমান নানা ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

  • দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ

    দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ

    গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই ভারত সরকার বিচলিত। শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা ভারত বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করছে না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার, আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় বৈরিতার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশ, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

    ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের আলোচনার বিভিন্ন দিক জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ বিরোধী যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সম্প্রদায়ের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো উসকানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

    বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সবাই একটা কথা বলেছেন, আমাদের আর শক্তিহীন, দুর্বল, নতজানু ভাবার কোনো অবকাশ নেই। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার এবং উসকানির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং আমাদের ঐক্য অটুট রাখব। আমরা সাহসী থাকব, ভবিষ্যতে যেকোনো অপপ্রচার বা উসকানি দিলে আমরা আমাদের ঐক্যকে আরো বেগবান রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাব আকারে এসেছে— গোটা জাতি ভারতের অপপ্রচার বিরুদ্ধে যে ঐক্যবদ্ধ আছে; সবাই মিলে একটা সমাবেশ করতে পারি কি না, সবাই মিলে পলিটিক্যাল একটা কাউন্সিল করতে পারে কি না, নিরাপত্তা কাউন্সিল করতে পারে কি না; এজন্য প্রস্তাবনা এসেছে। আমাদের মধ্যে মত-পথ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকবে, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, অবস্থার ভিন্নতা থাকবে; কিন্তু দেশ, সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। সবার উপরে দেশ, এটা থেকে আমরা কখনো বিচ্যুত হবো না। বাংলাদেশকে দুর্বল, নতজানু, শক্তিহীন ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

    ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ; গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক।

    বৈঠকে আরও অংশ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমার ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ চারজন; খেলাফত মজলিসের আমির আব্দুল বাসিদ আজাদ, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন; রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম; জমিয়তে উলামে ইসলামের সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ ইউসুফি ও মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেনদি।

  • নাশকতার মামলায় মির্জা ফখরুল আব্বাস গয়েশ্বরসহ ৩৭ জনকে অব্যাহতি

    নাশকতার মামলায় মির্জা ফখরুল আব্বাস গয়েশ্বরসহ ৩৭ জনকে অব্যাহতি

    পুলিশের কাজে বাধা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর করা নাশকতার মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলটির ৩৭ নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

    এ মামলায় পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. ছানাউল্ল্যাহ মঙ্গলবার তাদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

    অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল প্রমুখ।

    শাহবাগ থানার পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক মো মতিউর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি করেছিলেন। তদন্ত শেষে গত ২৮ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

    গত ১২ নভেম্বর আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দেয় আদালত।

  • বাংলাদেশের জনগণ কারো দাদাগিরি পছন্দ করে না: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশের জনগণ কারো দাদাগিরি পছন্দ করে না: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশের জনগণ তাদের মাথার ওপর কারো দাদাগিরি একদম পছন্দ করে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াত আমির তার পোস্টে ভারতের সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ভারত নিজের দেশে তার প্রতিবেশি দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা দিতে যেখানে ব্যর্থ। সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তাদের থাকতে পারে না।

    বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যই তার কার্যকর ঔষধ।

    প্রসঙ্গত, ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে সোমবার ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের পতাকাও পোড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় ‍ইতোমধ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছে ভারত। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ বলছে, ভারত ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশন, ১৯৬১ লঙ্ঘন করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

  • বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

    ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সীমান্তের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ চলছে।

    দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।

    ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগানে পুরো নয়াপল্টন এলাকায় মুখরিত করেছেন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, সেখানে জাতপাতের ভেদাভেদ থাকবে না’

    ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, সেখানে জাতপাতের ভেদাভেদ থাকবে না’

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। কেউ কোন হস্তক্ষেপ করবে না ও জাতপাত ও ধর্মের ভেদাভেদ থাকবে না। যেখানে লেখাপড়া করে এদেশের যুবকেরা বেকারত্বের অভিশাপে আত্মহত্যা করবে না। যেখানে শিক্ষা অর্জন করে সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাবেন। এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মীয় উপসনালয়গুলোতে পাহারা দেওয়া লাগবে না।

    সোমবার সকালে ঝালকাঠির শহরের ব্রাকমোড় এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে ধৈর্য্য ধরেছি, এখনও ধরছি, আগামীতেও ধরবো। আমরা যে ত্যাগ শিকার করে এসেছি আগামীতেও ত্যাগ শিকার করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চাই অফিস–আদালতে কোথাও গিয়ে লাঞ্ছিত হতে হবে না। যেখানে জনগণ তাদের অধিকার সম্মানের সঙ্গে পাবেন। আমরা কথা দিচ্ছি এ দায়িত্ব যদি আমরা পাই তাহলে এর প্রতিদান দেব।

    ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ ও স্যালুট জানাই।

    জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন। অনন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী।

  • সাবেক রেলমন্ত্রী সুজন কারাগারে

    সাবেক রেলমন্ত্রী সুজন কারাগারে

    পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া আল আমিন নামে এক রিকশাচালককে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

    রোববার পঞ্চগড় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আশরাফুজ্জামান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    এর আগে শনিবার রাতে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রিজনভ্যানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাহারায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারে আনা হয়। এরপর সকাল ১০টায় তাকে আদালতে তোলা হয়। ২০ মিনিট শুনানি শেষে কড়া নিরাপত্তায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত তাকে ডিভিশন প্রদান করেন।

    আদালত সূত্রে জানায়, পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুম হন আল আমিন। এ ঘটনায় আল আমিনের বাবা মনু মিয়া ১০ নভেম্বর জেলা আ.লীগ সভাপতি ও সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনসহ ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা ও গুমের মামলা করেন। এ মামলায় আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক সংসদ-সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ-সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আ.লীগের সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম পল্লব, ছাত্রলীগ সভাপতি আবু নোমান হাসান, সম্পাদক সাদমান সাদিক প্লাবন পাটোয়ারীসহ ১৯ জন।

  • কিছু মানুষ গোটা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

    কিছু মানুষ গোটা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

    ৫ আগস্টের বিপ্লবের তিন মাস না যেতেই আসল চেহারা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেছেন, ‘এই চেহারা নিয়ে কোনো দিনই সাফল্য অর্জন করা যায় না। যতই বড় বড় কথা বলি, যতই লম্বা লম্বা বক্তৃতা করি। নিজের ঘরেই যদি বিভেদ থেকে যায়, আমরা সেটা কখনোই ঠিক করতে পারব না।’

    বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনে চিকিৎসক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভা হয়।

    হতাশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছুসংখ্যক মানুষ- তারা নিজেদের অত্যন্ত জনপ্রিয় সবচেয়ে দেশপ্রেমিক মনে করেন, আর গোটা জাতিকে আজকে তারা বিভাজনের দিকে উসকে দিয়ে একটা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’

    কারও নাম উল্লেখ না করে বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করবেন, আমি কারও নাম বলব না। কারও নাম বলতে চাই না। আপনারা ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করবেন যে যারা আজকে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলছে, অনৈক্যের দিকে ঠেলছে, তারা আমাদের আসলে শত্রু না মিত্র। এ জিনিসগুলো বুঝতে হবে। আমি কথাগুলো ইচ্ছা করেই আজকে তুলে ধরলাম।’

    মির্জা ফখরুল দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচনের পথে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যারা সরকারের (উপদেষ্টা) দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের এমন কোনো কথা না বলার অনুরোধ করেছেন, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, কারাগারে গেছে, নির্যাতিত হয়েছে। সেই মানুষগুলো ২০২৪-এর ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে। সেই বিজয় অর্জন হয়েছে রাজপথে অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের ভেতর দিয়ে। কিন্তু তার ফল কি এই বাংলাদেশ? তিন মাস হয়নি, এখনই রাস্তায় রাস্তায় লড়াই শুরু হয়েছে। একজন আরেকজনের বুকের রক্ত ঝরাচ্ছি। এখন পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আক্রমণ করছে।’

    এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লে­খ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কয়টা দিনে আমরা খুব চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, ভয়াবহভাবে উদ্বিগ্ন। আপনি চিন্তা করতে পারেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার জন্য আমরা এত দিন লড়াই করলাম, তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’ এ সময় তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ অন্যান্য সব পত্রিকাগুলোতে যে আক্রমণ শুরু হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির পোস্টের কথা উল্লে­খ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কী উন্মাদনা! যখন দেখি, আতঙ্কিত হই। পুড়িয়ে দাও জ্বালিয়ে দাও- এ ধরনের কথাবার্তা। চিন্তা করতে পারেন, কোন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। আমরা কি বুঝি আমাদের ভয়টা কোথায়, আতঙ্কটা কোথায়? আমরা কি বুঝি আততায়ী কোথায় ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আমাদের পেছনে। বুঝি না, বুঝলে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা আমাদের মুখ দিয়ে বের হতো না।’

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি ১৪-১৫ বছর ধরে লড়াই করেছি, বহুবার জেলে গেছি, যেকোনো সময় আবারও জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমি এই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আমি যা বিশ্বাস করি, আমার দল যা বিশ্বাস করে, সেই কথা আমার প্রাণ গেলেও আমি বলব। আমি বিশ্বাস করি, উদারপন্থী গণতন্ত্রে, বিশ্বাস করি বাক-স্বাধীনতায়, ভোটের স্বাধীনতায়। আমি জানি, অনেকে অনেক কিছু বলেন, কিন্তু আমি এতটুকুও চিন্তা করি না। কারণ, আমরা রাস্তায় থেকে লড়ে লড়ে এই জায়গায় এসেছি। সময়-সুবিধামতো পালিয়ে যাই না আমরা, সামনেই দাঁড়াই।’

    সমাজে ঘৃণা ও বিভাজন দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এই সমাজের শ্রেষ্ঠ লোকগুলো বসে আছেন। ছাত্রজীবনে আপনারা শ্রেষ্ঠ ছিলেন, কর্মজীবনেও শ্রেষ্ঠ। তাই আপনাদের সামনে এই প্রশ্নটা তুলছি। আর কত এই বিভাজন নিয়ে, আর কত ঘৃণা নিয়ে অমরা বাংলাদেশকে টেনে ওপরে তোলার চেষ্টা করব। বারবার টেনে তোলা হবে, আবার পড়বে ঘৃণা নিয়ে। দানবীয় শক্তি দিয়ে আবার উঠবে, আবার পড়বে। এ কোন জাতি আমরা। এবার যে সুযোগ হয়েছিল সবাই মিলে একসঙ্গে একজোটে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসার। ছেলেরাও ছিল, আমরাও ছিলাম।’

    ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সাবেক সভাপতি একেএম আজিজুল হক, ড্যাবের বর্তমান মহাসচিব আব্দুস সালাম প্রমুখ।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

    বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক শুরু হয়।

    দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    বিএনপির সূত্রে জানা যায়, দেশের চলমান পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম, নির্বাচনী রোডম্যাপ ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।

  • ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

    ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

    চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে তারা ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান।

    সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকনের কর্মী-সমর্থকেরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ভারতের উসকানি ও মদদে এ ষড়যন্ত্রমূলক অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ইসকনের কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত গ্রেফতার করে শহিদ সাইফুল হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে হিন্দুত্ববাদী ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভারতের কোনো ফাঁদে পা না দিতে সাধারণ সনাতনী হিন্দু ভাইবোনদের প্রতি আমরা আহ্বান করছি। আর যারা ভারতের চক্রান্তের সঙ্গে একীভূত হয়ে দেশবিরোধী অরাজকতা তৈরি করতে সক্রিয়, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নজির দেখাতে হবে সরকারকে।’