Category: রাজণীতি

  • জামায়াতের হিন্দু শাখা গঠন, যা বলছেন নেতারা

    জামায়াতের হিন্দু শাখা গঠন, যা বলছেন নেতারা

    পীরগাছায় হিন্দু শাখার কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাক আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন কমিটি গঠনের আগে আমাকে আরও সিরিয়াস হওয়া লাগত। দোয়া করেন, ভবিষ্যতে যেন এ রকম না হয়। এদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর জব্বার জানান, কমিটি ওই ধরনের হয়েছে (জামায়াতের হিন্দু শাখা)। তবে তাদের নিয়ে আমরা আবারো বসব।

    নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বিজন চন্দ্র দাস জানান, জামায়াতের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের যোগাযোগ, বিপদ-আপদে পাশে থাকা, বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কমিটি করা হয়েছে। কমিটি করার সময় কারও চাপ ছিল না। এখনো কোনো চাপ বা ভয় নেই। কমিটি থাকবে কিনা, পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে বসে জানানো হবে। জামায়াতের হিন্দু/অমুসলিম কমিটি কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি সোজাসুজি উত্তর দেননি।

    সভাপতি মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ভবেশ চন্দ্র বর্মনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ভবেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জামায়াতের একটি অমুসলিম কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি ‘হিন্দু শাখা’ বলতে নারাজ। এ কমিটি থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই থাকবে। লোক পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু কমিটি থাকবে। কারও চাপে এ কমিটি করা হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, এখানে কারও চাপ নেই। মতবিনিময় সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি হয়েছে। আমিও সেখানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছি। তবে কমিটি গঠনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি সহকারী অধ্যাপক চাপে আছেন, শুনেছি।

    শুক্রবার রাতে উপজেলা জামায়াতের অফিসে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর জব্বার হিন্দু সম্প্রদায় ভাইদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে পাঁচজনকে নিয়ে একটি কমিটি ঘোষণা দেন। পরে সাংবাদিকরা ‘এটা কিসের কমিটি গঠন হলো’ তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ‘জামায়াতের হিন্দু শাখা’।

    এতে সভাপতি করা হয়েছে মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ভবেশ চন্দ্র বর্মনকে। সহসভাপতি দেবী চৌধুরাণী ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক তাপস চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক ওষুধ ব্যবসায়ী বিজন চন্দ্র দাস, সহসম্পাদক কিসামত ঝিনিয়া সনাতন সংঘের সভাপতি সুধারঞ্জন বর্মন ও অর্থসম্পাদক দেউতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র বর্মন।

    মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস আলীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক। ইউনিয়ন জামায়াত শাখার আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন, ইউনিয়ন জামায়াতের অর্থসম্পাদক হোসাইন আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার দুই শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়।

  • তাপসকে দুদকে তলব

    তাপসকে দুদকে তলব

    দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে ৩ নভেম্বর তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে তলব করা হয়।

    এতে বলা হয়, শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

    নোটিশে আরও বলা হয়, উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে।

  • আহতদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    আহতদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    দেশবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছে। হাজার হাজার লোক আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এখনো অনেকে চিকিৎসাধীন।

    তিনি বলেন, চিকিৎসা চলা অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। যারা জীবন দিয়েছেন আল্লাহ তাদের শাহাদাত কবুল করুন। নিহত ও আহতদের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের চিকিৎসার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকার মগবাজারস্থ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বৈঠক সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

    তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার ও জনগণের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনা অন্তরে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

    এ সময় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ২০২৫-২০২৬ কার্যকালের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগরী আমিরগণের নাম ঘোষণা করেন।

  • শেখ হাসিনার ‘স্পষ্ট অবস্থান’ জানাল ভারতীয় গণমাধ্যম

    শেখ হাসিনার ‘স্পষ্ট অবস্থান’ জানাল ভারতীয় গণমাধ্যম

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান নিয়ে নানা তথ্য জানা গেছে। এমনকি ভারত ছেড়ে তৃতীয় দেশে চলে যাওয়ারও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

    বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি সেফ হাউসে দুই মাসের বেশি সময় পার করেছেন শেখ হাসিনা।

    দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে একটি সেফ হাউসে বসবাস করছেন তিনি। সেখানে তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রী, সিনিয়র এমপি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি বাংলো শেখ হাসিনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে সঠিক ঠিকানা বা রাস্তার বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

    সূত্র জানিয়েছে, যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রোটোকল নিয়ে শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে লোদি গার্ডেনে হাঁটাহাঁটি করেন। তার একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ পোশাকে সেসব কর্মকর্তারা তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেন। একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই সুরক্ষা পাচ্ছেন। তিনি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এলাকাটিতে বসবাস করছেন। এখানে তার থাকার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার কাছের কয়েকজন গত ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পদত্যাগ করে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন। এরপর দুদিনের মধ্যে সেই জায়গা থেকে অন্যত্র চলে যান। এ ঘাঁটিতে তিনি পৌঁছালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সাক্ষাৎ করেন।

    আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ওই বিমানঘাঁটিতে বেশিক্ষণ ছিলেন না। সেখানে নিরাপদ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তারপরে তাকে দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত এলাকায় রাখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে শেখ হাসিনা যে এলাকাটিতে রয়েছেন সেই সেটি একটি হাই সিকিউরিটি এলাকা। সেখানে ভারতের পার্লামেন্টের অনেক সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা বসবাস করছেন। তিনি বাইরে যান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্র জানিয়েছে, তার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনে বিষয়টি কোর নিরাপত্তা গ্রুপকে জানানো হয় এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হয়।

  • আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার ( ২৩ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আদালত বরাবর ওই আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    গত ১৫ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পে অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাতসহ দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পরপরই দুদক উপপরিচালক রেজাউল করিম, সরকারি পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠীতে নিজ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমু।

    তার নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজ নামে, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ১৮ আগস্ট তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তার সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়।

  • ‘রাষ্ট্রপতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদত্যাগপত্র সরিয়ে ফেলেছেন’

    ‘রাষ্ট্রপতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদত্যাগপত্র সরিয়ে ফেলেছেন’

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরিয়ে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

    বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ইতালি বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান সালামের সংবর্ধনা ও সাংবাদিকতা বিকাশে জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র সরাসরি বা অফিশিয়াল যেকোনো মাধ্যমে জমা দিতে পারেন, ফিজিক্যালি তিনি উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনা তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কাছে জমা দিয়েছেন, যা চরম সত্য। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সংবিধানের অধীনে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। এই পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অফিশিয়াল ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে আড়াই মাস পর রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বলেন- পদত্যাগপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি পদত্যাগপত্র হারিয়ে যায়, এর সম্পূর্ণ দায়ভার রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তায়। তিনি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদত্যাগপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। তবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ করা বাস্তবতা এবং এটি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয়।’

    তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন, যা টিভিসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়েছে। তখন রাষ্ট্রপতি বলেন- তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পেয়েছেন।’

    রিপন বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মিডিয়া, টেলিভিশন পত্র-পত্রিকার ওপর সরকারি সংস্থার চাপের কারণে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। শত চাপের মুখেও কিছু মিডিয়া সত্য কথা তুলে ধরেছে। মিডিয়া হাউস ও মালিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    জিয়া প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভীন কাউসার মুন্নির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুব বিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জিয়া প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব মো. সারোয়ার হোসেন রুবেল।

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের হিজাব বাধ্যতামূলক হবে? যা বললেন ডা. শফিকুর

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের হিজাব বাধ্যতামূলক হবে? যা বললেন ডা. শফিকুর

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কাউকে কোনো কিছুতে বাধ্য করা হবে না। পোশাক পছন্দের দায়িত্ব নাগরিকের। রাষ্ট্র তার সবদিক থেকে সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে সহায়তা করবে। কাউকে কোনোকিছুতে বাধ্য করা হবে না।

    সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের রাজনীতি সিজন-৩ টকশোতে অংশ ‍নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমানকে আরও প্রশ্ন করা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা কেমন থাকবেন? জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ পাকিস্তান নাকি আফগানিস্তান হবে এমন প্রশ্ন প্রচলিত আছে।

    জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত সরকারে গেলে বাংলাদেশ পাকিস্তান হবে না, আফগানিস্তানও হবে না। বাংলাদেশ বাংলাদেশই থাকবে। জামায়াত ইসলামী বিশ্বাস করে, নারী-পুরুষের সম্মিলনে একটা সমাজ গড়ে ওঠে। সমাজ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। নারীকে বাদ দিয়ে সমাজ নয়,পুরুষকে বাদ দিয়ে সমাজ নয়। যার যার অবস্থানে আল্লাহর দেওয়া মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতানুযায়ী পরিবার ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে। এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। এদিক থেকে বিবেচনা করলে আফগানিস্তানে কী হচ্ছে দেখছি না। শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে কিছু খণ্ড চিত্র সামনে আসে। যেটুকু আসে তাই নিয়ে ধারণা।

    তিনি আরও বলেন, আমরা যে আদর্শটা লালন করি, এটা পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান না। এটি হচ্ছে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রব্যবস্থা, দেড় হাজার বছর আগে মদিনায় যে ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিল। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের স্থান দেওয়া হতো। আমরাও তেমনভাবে নারীদের স্থান দিতে চাই।

  • আপনার সঙ্গে আলাদা করে কিছু বলব না স্যার: ব্যারিস্টার সুমন

    আপনার সঙ্গে আলাদা করে কিছু বলব না স্যার: ব্যারিস্টার সুমন

    আদালতে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রিমান্ড শুনানি শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    হত্যাচেষ্টা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার সুমন কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

    এ সময় সুমন বলেন, আপনার সঙ্গে আলাদা করে কিছু বলব না স্যার। আপনার মাধ্যমে সব আইনজীবীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি খুব সরি স্যার।

    এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয় সুমনকে। এ সময় তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশের কড়া প্রহরায় তাকে আদালতে তোলা হয়।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে যুবদল নেতা ও বাঙালিয়ানা ভোজের সহকারী বাবুর্চি হৃদয় মিয়াকে হত্যাচেষ্টা মামলার শুনানির শুরুতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল হালিম অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি শনাক্তকরণসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ড চান। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে শুনানি করেন।

    এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুনানি করেন।

    তিনি আদালতকে বলেন, এই আসামি ৫ আগস্টের পর ফেসবুকে এমনভাবে ছবি ভিডিও শেয়ার করেন যাতে বোঝা যায় তিনি লন্ডনের কোথাও আছেন। তিনি লন্ডন যাননি, বরং মিরপুরে তার বোনের বাসায় পালিয়ে ছিলেন। কিছু মানুষ আছেন যারা কোনো রাজনীতি করেন না, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে ভেলকি দেখায়। এই আসামি তাদেরই একজন। তিনি নিজেকে সেলফি এমপি দাবি করেন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছেন। মানুষকে সহায়তার নামে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমপি হয়ে তিনি দেশের সবচেয়ে দামি গাড়ি আমদানি করেছেন, তবে দুঃখের বিষয় সেটা ছাড়াতে পারেননি। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তায় বসিয়ে ভিডিও করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। গ্রেফতারের আগেও তিনি ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন আদালতে আসার কথা, যেন তিনি কি না কি উদ্ধার করে ফেলেছেন। এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হওয়া দরকার। এ সময় তিনি আসামি সুমনের সর্বোচ্চ রিমান্ড চান।

    এরপর আসামিপক্ষে একজন আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

    পরে আবারও বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করার একপর্যায়ে মহানগর পিপি তাদের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেন। আদালত আসামির কোনো বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে কথা বলতে রাজি হননি ব্যারিস্টার সুমন। এরপর আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।

    সুমনকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় মহানগর পিপির উদ্দেশ্যে তিনি কথা বলেন।

    এর আগে সোমবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই হৃদয় জুমার নামাজ আদায় করে মিরপুর-১০ নম্বরে সমাবেশে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ককটেল নিক্ষেপ করে, গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর ১০নং হাতিয়াইন ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

    এ ঘটনায় তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ব্যারিস্টার সুমন।

  • ব্যারিস্টার সুমন ৫ দিনের রিমান্ডে

    ব্যারিস্টার সুমন ৫ দিনের রিমান্ডে

    রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এই রায় দেন।

    এর আগে গ্রেফতারের পর পুলিশ আদালতে তার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।

    সোমবার দিবাগত রাতে মিরপুর-৬ নম্বর এলাকা থেকে রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগে সোমবার দিবাগত রাতে ১টা ১৮ মিনিটে সামাজিকমাধ্যমে সুমন লিখেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই’।

    গ্রেফতারের আগে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রথমেই জানাতে চাই আমি দেশেই রয়েছি। ঢাকা শহরেই আছি। ৫ আগস্টের পর আমি কোথাও যায়নি। শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণে আমি গোপনে ছিলাম।

    তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকেই আমাকে বলেছেন যে তুমি বিদেশে চলে যাও। কিন্তু আমি যায়নি। আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি কোনো দিন দুর্নীতি করিনি। ঢাকা শহরে আমার কোনো প্লট ও ফ্লাট নেই। তারপরও কেন আমি দেশ ছেরে যাব।

    ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমার নামে যদি কোনো মামলা হয়ে থাকে তাহলে তা আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করব। যেহেতু আমি আইনজীবী, আইনের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে।

    এতে গুঞ্জন তৈরি হয়, হয়তো পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তার ফেসবুকে পোস্টে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। মুহুর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

    প্রায়ই বিভিন্ন ভাইরাল ইস্যু নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলতেন ব্যারিস্টার সুমন। এবার নিজের আটকের খবরটি নিজেই ফেসবুকে জানালেন।

  • ৬০ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় সালমান এফ রহমানের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

    ৬০ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় সালমান এফ রহমানের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

    ৩৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের তথ্য চেয়ে ৬০টি ব্যাংক, রাজউক, গৃহয়ান কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা-গাজিপুর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।