Category: রাজণীতি

  • আইনি প্রক্রিয়ায় হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

    আইনি প্রক্রিয়ায় হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারত পালিয়ে যান সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। তার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। বিভিন্ন মহল থেকে হাসিনাকে ফেরানোর জন্য বলা হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। এবার বিষয়টি নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড, মুহাম্মদ ইউনূস।

    শুক্রবার, (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকার দেন তিনি। মঙ্গলবার এ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে ভয়েস অফ আমেরিকা।

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি দৃশ্যমান টানাপড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ইউনূস জানান, এটি একটি আইনগত বিষয় এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে।

    ভারতের সাথে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দুজনেরই দুই দেশেরই স্বার্থ হলো যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা । মাঝে মাঝে কতগুলা প্রশ্ন এসে যায় যেখানে সম্পর্কে একটু চির ধরে। যেমন সীমান্তে গুলি করলো, বাচ্চা মেয়ে মারা গেলো, বাচ্চা ছেলে মারা গেলো, এগুলো মনে কষ্ট দেয়।…এটাতে আমরা মনে করিনা যে সরকার ইচ্ছা করে, ভারতের সরকার ইচ্ছা করে এসব করেছে। যে সমস্ত কারণে এসব ঘটে, সেসব কারণগুলো যেন আমরা উৎখাত করতে পারি, যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে,যাতে নিরাপদে মানুষ জীবন নিয়ে চলাফেরা করতে পারে।

  • ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    ফেনীতে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গনি লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রাজধানীর বাড্ডা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা।

    ওসমান গনি লিটন ফেনী ছাত্রলীগ পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

    র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত ভিডিও পর্যালোচনা করে লিটনকে গ্রেফতার করা হয়।

  • ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা বুধবার

    ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা বুধবার

    দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর প্রকাশ্যে আসে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পরে সেক্রেটারিকে পরিচয় করিয়ে দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। এবার ঢাবিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এম এম ফরহাদ বলেছেন আগামীকাল বুধবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

    তিনি বলেন, আগামীকাল আমাদের কমিটি প্রকাশ করা হবে। এটি অনলাইনে ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। আমাদের কমিটি প্রস্তুত করার কিছু নেই। যে কমিটি আছে, তা প্রকাশ করা হবে।

    এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এক সাক্ষাৎকারে সাদিক কায়েম বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই আমরা আত্মপ্রকাশ করছি। আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি করতে চাইনি। আমাদের এতদিন বাধ্য করা হয়েছিল। আমাদের পুরো কমিটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

  • শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাভারে পোশাক শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শ্রমিক নিহতের এই ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের পর বিনা বিচারে আর কোনো নাগরিকের মৃত্যু ঘটবে না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ জাতীয় ঘটনা আরও ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করার এবং গুলি চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

    বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মন্ডল গ্রুপের শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালিকপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিপক্ষীয় মিটিং চলছিল। সমঝোতা না হওয়ায় শ্রমিকরা কারখানার বাইরে অবস্থান নেন। পরে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করেন। শ্রমিকরা র‍্যাব ও পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গুলি চালায়। এ সময় ৫ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আরও ৩০ জন শ্রমিক আহত হন। গুলিবিদ্ধ ৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় পিএমকে হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর গুলিবিদ্ধ কাউসার হোসাইন খানকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সেই সাথে নিহত কাউসার হোসাইন খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবার-পরিজন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

    পৃথক আরেক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে জালিম সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করেছেন। এতে তিনি সরকারের রোষানলে পড়ে অকথ্য জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এমনকি তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাঁকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটা জাতির জন্য খুবই লজ্জার বিষয়। তাকে জামিন না দেওয়ায় আমরা হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি।

    তিনি বলেন, বিরোধীমত দমনের নামে জালিম সরকারের আমলে দেয়া প্রতিটি মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা জালিম হাসিনা সরকারের মিথ্যা, সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সকলেই জামিন পাবেন। সরকারের দায়ের করা এমনই একটি নিকৃষ্ট মিথ্যা মামলায় মাহমুদুর রহমান জামিন না পাওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি।

  • জ্যাকব ৫ দিনের রিমান্ডে

    জ্যাকব ৫ দিনের রিমান্ডে

    প্রায় এক যুগ আগে সাভারে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: জহুরুল ইসলাম তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম সাইফুল ইসলামের আদালতে নাজিম উদ্দিন মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি সাভার মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ঢাকা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, তৎকালীন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ও সাভার মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে নাজিম উদ্দিন আলমসহ নেতাকর্মীরা আমিন বাজার ব্রিজের ওপর অবস্থান করছিলেন। পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। লাঠি পেটা ও গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলিতে নাজিম উদ্দিন আলমসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন।

    এই মামলায় জ্যাকবকে মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, সাভার থানার মামলায় সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    জ্যাকব ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরেই তিনি উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

  • গুলশান থেকে গ্রেফতার সাবেক সংসদ সদস্য জ্যাকব

    গুলশান থেকে গ্রেফতার সাবেক সংসদ সদস্য জ্যাকব

    সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, সাভার থানার মামলায় সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • সাবেক এমপি হেনরি স্বামীসহ গ্রেফতার

    সাবেক এমপি হেনরি স্বামীসহ গ্রেফতার

    মৌলভীবাজার পৌর শহর থেকে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা হেনরি ও তার স্বামী সাবেক সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাবু তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর শহরের সোনাপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মিয়ার বাসা থেকে র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।

    সূত্র যায়, সাবেক সংসদ সদস্য হেনরি ও তার স্বামী লাবু কয়েক দিন যাবত গোপনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই দম্পতির পরিকল্পনা ছিল মৌলভীবাজারের সীমান্ত দিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়া।

    র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গলের কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুননবী গ্রেফতারের সত্যতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

  • ধানের শীষের প্রচারণা শুরু, শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে বিএনপির ৩ সংগঠন

    ধানের শীষের প্রচারণা শুরু, শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে বিএনপির ৩ সংগঠন

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘রাজনৈতিক প্রাণ’ ফিরে পেয়েছে বিএনপি। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টার্গেট সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা। এজন্য দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় জোর দিচ্ছেন দলের নেতারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন সেজন্য মাঠে নেমেছে দলটির তিন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। হাইকমান্ডের নির্দেশে নেতাকর্মীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে যৌথ কর্মিসভা শুরু করেছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। একইসঙ্গে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণায় নেমেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও দখলবাজির অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় বিব্রত বিএনপি হাইকমান্ড। এরই প্রেক্ষাপটে বহিষ্কারও হন কয়েকশ নেতাকর্মী। প্রথম থেকেই দুর্নীতি, লুটপাট, দখল ও নির্যাতন-নিপীড়নের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বার্তা দেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও দলীয়শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানও নেন তিনি। আগামী দিনগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও বেশি সতর্ক রাখা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে এখন সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারই প্রাথমিক অংশ হিসাবে সারা দেশে যৌথ কর্মিসভা শুরু করেছে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। ভবিষৎ বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণ নিয়ে তারেক রহমানের যে বার্তা তা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পৌঁছে দেবেন সংগঠনের নেতারা।

    এদিকে শনিবার থেকে যৌথ কর্মিসভা শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী দলের তিন সংগঠন। ‘আমরা যদি থাকি সৎ-দেশ সংস্কার সম্ভব’ স্লোগান নিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঝালকাঠিতে প্রথমদিন সভা করেছেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়াও আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক কাঠামো যাচাই-বাছাই করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর বার্তা তৃণমূলে পৌঁছাবেন তারা। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা এবং বিএনপির কাছে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা কী, এ বিষয়েও জনগণের মতামত নেবেন তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এদিকে আজ থেকে জেলায় দলের নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ সংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন তারা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাও যৌথ কর্মিসভা ও লিফলেট বিতরণ করবে ৩ সংগঠন। তবে এবারের লিফলেটে শুধু ধানের শীষ প্রতীক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ছাড়া কোনো লেখা কিংবা নেতার ছবি থাকছে না। নেতারা বলেন, যৌথ কর্মিসভার পরে সংশ্লিষ্ট জেলার থানা পর্যায়ে ধানের শীষ লিফলেট বিতরণ হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে-দলকে তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ত করা। দেশ ও জনগণকে নিয়ে বিএনপির চিন্তাধারা গণমানুষের মধ্যে শেয়ার করা।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন শনিবার বলেন, সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই মাঠে নেমেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্য আগামী নির্বাচনের দিকে। এটাই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেন, এখন যারা সরকারে আসছেন, তারা নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের প্রধান অধিকার হচ্ছে ভোটের অধিকার। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব এই সরকার নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে বিদায় নেবে। সেজন্যে আমার এই সরকারকে সমর্থন দিয়েছি, এখনো দিচ্ছি এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছি। সেই সঙ্গে আমাদের দল ও অঙ্গ-সংগঠন সাংগঠনিক ও নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

    বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, বিগত ১৫ বছরে এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তরুণ প্রজন্ম ভোটার হয়েও ভোট বিমুখ। অনেকেই ব্যালট পেপার কিংবা ব্যালটে ‘ধানের শীর্ষ’ প্রতীক দেখেননি। এখন বিএনপির টার্গেট তরুণ ভোটারদের উজ্জীবিত করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা করা। গতানুগতিক রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনেও জোর দিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এজন্য সারা দেশে নতুনভাবে সংগঠনিক শক্তি সঞ্চয়ে বিভিন্ন উপায়ে মাঠে নেমেছেন দলটির নেতারা। এছাড়াও রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে নির্বাচনের বিকল্প দেখছেন না তারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বর্পূণ। নির্বাচনের দিনক্ষণ সুনির্দিষ্ট না থাকলেও বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোও দ্রুত সময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এজন্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপির। ধানের শীষের লিফলেট এটা একটা নির্বাচনি প্রস্তুতির সংকেত।

    যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা প্রথমে বিভাগীয় কর্মসূচি করেছি, এখন জেলায় জেলায় যাচ্ছি। আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে সংযত থাকে। মূলত কোনো বিশৃঙ্খলায় যাতে না জড়ান এবং প্ররোচিত হয়ে যাতে অপরাধ না করতে পারেন। শৃঙ্খলায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আসুক এটা আমরা চাই। আগে কোথাও গেলে শত শত মোটরসাইকেল, গাড়িবহর রিসিভ করত। যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতো, জনভোগান্তি হতো। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যাতে এসব না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করছি। বিনা কারণে ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে এলাকা ছেয়ে দেওয়া, পার্টি অফিস ঢেকে দেওয়ার যে প্রবণতা, আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসছি।

    স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বলেন, তিন সংগঠনের যৌথসভার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-রাজনীতি সম্পর্কে নেতাকর্মীদের আগে যে ধারণা ছিল, সেই ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক না। স্বাধীনতার মূল চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে রাজনীতি দরকার, আমরা সেই রাজনীতি চর্চা করতে চাই। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনীতির যে দর্শন, সেই সম্পর্কে এই নতুন রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হবে। যারা জনগণের মন জয় করতে পারবে, তারাই এই দেশে সুনামের সঙ্গে রাজনীতি করতে পারবে। তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনা আছে। ছোট কিংবা বড় কোনো অন্যায়কে বিএনপি কিংবা তার অঙ্গ সংগঠন ছাড় দেবে না।

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, যৌথ কর্মিসভায় নেতাকর্মীদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা দেওয়া হবে। নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যে ষড়যন্ত্রগুলো হচ্ছে, এগুলো মোকাবিলা করে মাঠে থাকতে হবে। মাঠে দু-একটি বিশৃঙ্খলা ঘটছে, সেখান থেকে নেতাকর্মীরা যেন সচেতন থাকে, নিজেদের বিরত রাখে এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন না ঘটে, এসব বিষয়ে দলের নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার কথাগুলো বিএনপিকে অবহিত করা হবে।

  • যে কারণে জামায়াত ইসলামপন্থি দলগুলোকে কাছে টানছে

    যে কারণে জামায়াত ইসলামপন্থি দলগুলোকে কাছে টানছে

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে মাথায় রেখে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে এক মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্মে আনা যায় কি না তা নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    দলটির নেতারা বলছেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করতে হবে- এটি কে ‘থিম’ ধরে ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন তারা, যার মূল লক্ষ্য হলো পরবর্তী সংসদ নির্বাচন।

    এসব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও অনেকে মনে করছেন জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও আরও কয়েকটি ইসলামপন্থি দলের অল্প পরিসরে হলেও নিজস্ব অবস্থান আছে এবং এর আলোকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে সময় ও অবস্থান ভেদে তাদের কিছুটা প্রভাবও তৈরি হয়েছে।

    বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের প্রভাব আছে রাজনীতিতে কিন্তু তারা আসলে এককভাবে নির্বাচনি রাজনীতিতে আগে কখনো তেমন সফলতা পায়নি। আর এখন নতুন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ মাঠে নেই। ফলে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের কথা চিন্তা করেই হয়তো ধর্মভিত্তিক দলগুলো একজোট হওয়ার চিন্তা করছে।

    প্রসঙ্গত, স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধন করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সেই সুযোগ নিয়ে তখন নিষিদ্ধ ইসলামপন্থি কয়েকটি দল রাজনীতি শুরু করেছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের অংশ হয়েছিল জামায়াত।

    দেশে এ মূহুর্তে ১১টি ইসলামপন্থী দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। তবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তে আটকে আছে। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এ নিবন্ধন বাতিল করেছিল।

    সাধারণত নির্বাচন এলে বরাবরই ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়ে যায়, তবে এবারই প্রথম জামায়াত ইসলামী নিজেই এ ধরনের দলগুলোকে এক প্লাটফর্মে আনা যায় কি না তা নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।

    জামায়াতের প্রচার বিভাগের মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ অবশ্য বলছেন তার দল আগেও অনেকবার এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলছেন, গোলাম আযমের (দলটির সাবেক আমির) সময় থেকেই ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোকে নিয়ে এমন চিন্তা হয়েছে। আর জামায়াত শুধু নির্বাচন নয় সামগ্রিক বিষয়েই গুরুত্ব দেয়। সে কারণেই ঐক্যের চেষ্টা শুরু হয়েছে।

    এখন কেন উদ্যোগ?

    জামায়াত যাদের সঙ্গে আলোচনা বা মত বিনিময় করেছে এমন কয়েকটি দল জানিয়েছে, মূলত আগামী নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলোকে এক মঞ্চে আনা বা এক জায়গায় নিয়ে আসাই এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে।

    দলটির সূত্রগুলো বলছে ইতোমধ্যেই ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল এবং কয়েকজন ইসলামি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন জামায়াতের নেতারা।

    প্রসঙ্গত, তরিকত ফেডারেশন, খেলাফত আন্দোলন, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের নাম নিবন্ধিত দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আছে।

    আবার পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর সেনাপ্রধান জামায়াতে ইসলামী, হেফাজত ও খেলাফত মজলিসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘরানার রাজনীতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও অনেকে মনে করেন। এর বাইরে ইসলামি আন্দোলন রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়।

    দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলো এমন কয়েকটি ইসলামি দলকে বাদ দিয়ে বাকীদের নিয়ে একত্রিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন তারা।

    তিনি বলছেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে সামনে নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন হয় তার ওপর। তবে ইসলামী সংগঠনগুলোর উপলব্ধি হলো মাঠের জনগণ চায় আমরা এক হই। এটাকে বিবেচনায় নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে কোন ফরম্যাটে কী হবে তা নির্ভর করবে নির্বাচন কেমন হয় তার ওপর।

    আবার কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও সংগঠনটির নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

    সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলছেন দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।]

    তিনি বলেন, আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। দেখা যাক কী হয়। এখনো বলার মতো কোন পর্যায়ে আসেনি।

    একই ধরনের কথা বলেছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। তিনি শুধু বলেছেন, আলোচনার প্রক্রিয়ায় আমরা আছি। তবে চূড়ান্ত কিছু হয়নি।

    তবে জামায়াতের উদ্যোগে ঐক্য প্রক্রিয়ার আলোচনায় ইসলামপন্থী দলগুলো অংশ নিলেও কয়েকটি দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার জামায়াত প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর কিছু লেখা বা বক্তব্য নিয়ে আপত্তি আছে। সেগুলোর সুরাহা কীভাবে হবে সেই প্রশ্নও আছে অনেকের মধ্যে।

    জামায়াত উদ্যোগ নিলো কেন

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হলেও শেখ হাসিনার বিদায়ের তিন সপ্তাহের মাথায় অন্তর্বর্তী সরকার সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তারও আগে শেখ হাসিনার বিদায়ের পরপরই সেনাপ্রধান যাদের সঙ্গে নতুন সরকারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন সেখানে জামায়াতের আমিরও উপস্থিত ছিলেন।

    দলটির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বলছেন এখন তারা যেটি চাইছেন সেটি হলো ইসলামি ভাবধারা বা আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন বা এ ধরনের সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসা।

    যদিও অনেকে মনে করেন আগামী নির্বাচনে কোন কারণে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলে কিংবা অংশ নিতে না পারলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামি শক্তি’র প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ২০-দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার পর থেকে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে বিএনপি।

    এরপর ২০-দলীয় জোটের দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করলেও জামায়াতের সঙ্গে দলটির প্রকাশ্যে আর সম্পর্ক গড়েনি। এমনকি ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও দল দুটির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে এসেছে।

    বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন ইসলামপন্থী দলগুলো এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং সেজন্যই তারা হয়ত মনে করতে পারে যে জোটবদ্ধ থাকলে নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের শক্তি আরও দৃশ্যমান হবে। যদিও পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলছে নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনসহ কয়েকটি বিষয়ের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে চান তারা। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অবশ্য শুরু থেকেই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

    অন্যদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বরাবরই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন সরকারকে সময় দেয়ার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।

  • বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ৩ দিনের রিমান্ডে

    বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ৩ দিনের রিমান্ডে

    বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সুমন সেরনিয়াবাত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক পদেও রয়েছেন।

    বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূরুল আমীন এই আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুমন সেরনিয়াবাতকে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

    একই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক শামীম। তিনি বরিশাল সদর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

    প্রসঙ্গত, ৪ আগস্ট বরিশালে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট কোতোয়ালি মডেল থানায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৬০০-৭০০ জনকে।