Category: রাজণীতি

  • মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন গয়েশ্বর, রিজভীসহ ১০২ জন

    মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন গয়েশ্বর, রিজভীসহ ১০২ জন

    রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের পুরোনো এক মামলা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ১০২ জন অব্যাহতি পেয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া এই আদেশ দেন।

    মামলা থেকে আরও অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট মাজারের সামনে পুলিশের কাজে বাধা ও যান চলাচল বন্ধের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

  • চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে: জিএম কাদের

    চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে: জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে পরিবহণ সেক্টর বাঁচাতে হবে। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহণ মালিকদের দাবি, সড়কের চাঁদার জন্য গণপরিবহণের ভাড়া বেড়ে যায়। গণপরিবহণের ড্রাইভার ও হেলপার নিয়োগ দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন, মালিকদের কর্তত্ব থাকে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের চাঁদাবাজচক্রের হাত থেকে মুক্তি দিতে হবে। পরিবহণ সেক্টরের সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছে, এটা আল্লাহর রহমত। এদেশের ছাত্র-জনতা গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচার হাসিনার পতন নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় আন্দোলনের নজির নেই। আন্দোলনে এত নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের ইতিহাসও নেই আমাদের দেশে। আমাদের বীর সন্তানরা জীবন দিয়ে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছে, যা আমরা পারিনি। শেখ হাসিনার পতন না হলে একদলীয় সরকারব্যবস্থা কায়েম হতো। দেশে মাত্র একটি দলই থাকত।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমরা যেতে চাইনি। আমাদের নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আমাদের দলের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি কারেছিল আওয়ামী লীগ। একটি গোষ্ঠীকে আমাদের দল ও প্রতীকের নামে কাউন্সিল করতে অন্যায়ভাবে অনুমতি দিয়েছিল তারা। হাস্যকর একটি মামলায় আমাকে রাজনীতি থেকে চার মাসের বেশি সময় দূরে রাখা হয়েছিল। আমরা নির্বাচন বর্জন করতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলোম, সবকিছুই রেডি ছিল। কিন্তু বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা আমাদের অফিস কর্ডন করে রাখে। আমাদের নির্বাচন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে দেয়নি, এটা সবাই জানে।

    জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান আতিক, মনিরুল ইসলাম মিলন, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনির আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, যুগ্ম মহাসচিব মো. সামছুল হক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এমএ রাজ্জাক খান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শিপন।

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো

    বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, নির্বাচনি রোডম্যাপ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, পাহাড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ছাত্র রাজনীতি ও সাংগঠনিক নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্র রাজনীতি বন্ধের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটির বিপক্ষে অবস্থান নেবে বিএনপি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা চালু করতে চায় দলটি। কারণ হিসাবে দলটি বলছে, দেশ গঠনে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬২ সালের পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ভার্চুয়ালি), সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (ভার্চুয়ালি), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের বিষয়টি আলোচনায় আনেন। তারা বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গত ১৫ বছরের গুম, খুন, অন্যায়-নির্যাতনের দায়ে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। ডাক্তার, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনার কথা, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেই। দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় হলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বলেন, দেশ চালায় মূলত রাজনীতিবিদরা। এই সরকারকে বুঝতে হবে আওয়ামী লীগ শেষ হয়েছে শুধু ভারতের সহযোগিতায় দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে। ফলে বর্তমান সরকার নির্বাচন দিতে দেরি করলে দেশ আবারও শেষ হয়ে যাবে। জনগণের চাহিদার গুরুত্বকে তাদের উপলব্ধি করতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কোনো কোনো নেতা বলেন, স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ক্ষেত্রে ভিন্ননীতি বর্তমান সরকারের। দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা পেতে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ব্যাপারে অন্তর্র্বর্তী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়তে পারে।

    এই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। বৈঠকে কেউ কেউ মত দেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ইন্ধনে তার দোসররা দেশে অস্থিরতা করার চেষ্টা করছে। পাহাড়ে হঠাৎ অস্থিরতা কেন হচ্ছে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এর পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর হাতে সন্ত্রাসীদের দমন করার পরামর্শ দেন কেউ কেউ।

  • শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা জানালেন জয়

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা জানালেন জয়

    ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে গত মাসে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

    বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেছেন, দেশে ফেরার বিষয়টা শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করবে।

    এর আগে, গত মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ দাবি করেছিলেন যে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে চায়।

    বাংলাদেশের গণআন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিচার দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। এমন প্রেক্ষিতেই তিনি ওই কথা বলেন।

    তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কী-না, মঙ্গলবার জানতে চাওয়া হলে জয় বলেন, ‘এটা তার (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্ত। এ মুহূর্তে আমি আমার দলের লোকজনকে নিরাপদে রাখতে চাই। ইউনূস সরকার তাদের ওপর যে নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে, সেটাকে আমি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই’।

    বাংলাদেশে আগামী দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে সেনাপ্রধান যে মন্তব্য করেছেন, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কার্যকর কোন সংস্কার বা নির্বাচন করা অসম্ভব।

    নির্বাচন আয়োজনের সময় আরো আগেই প্রত্যাশিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

    সোমবার রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশে ‘দেড় বছরের মধ্যেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ হওয়া উচিত’ বলে তিনি মনে করেন। তবে ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো’ তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাবেন।

    তার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, শেষপর্যন্ত আমরা একটা সময়সীমা পেয়েছি, এতে আমি খুশী। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত সরকার দেশে নানা সংস্কারের কথা বলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলবে।

    শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বাহিনী অকার্যকর হয়ে পড়লে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে।

    তবে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের অতীত কিছু উদাহরণও তুলে ধরেন।

    তিনি বলেছেন, দেশের সবচেয়ে পুরোনো এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য সংস্কার বা নির্বাচন করা অসম্ভব।

    তার ভাষায়, ‘এটা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নির্ভর করছে যে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করবে নাকি তাদের মতো করে নির্বাচন আয়োজন করবে’।

  • ফখরুলের সঙ্গে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, যে আলোচনা হলো

    ফখরুলের সঙ্গে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, যে আলোচনা হলো

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় গুলশান চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এই বৈঠক হয়।

    প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আমরা এ কথা বলেছি যে, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের জনগণ আমাদেরকে এদেশ পরিচালনায় দায়িত্ব দেয় তাহলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ তথা কোরিয়ার মানুষের স্বার্থ, সেই স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে উভয়ের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রেখে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবো।

    তিনি বলেন, কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ইনভেস্টমেন্ট- এগুলো আজকে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা খোলাখুলিভাবে কথা বলেছি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ছাত্র-জনতার যে বিপ্লব, সেই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের যে পরিবর্তন, সেই পরিবর্তন নিয়ে আলাপ হয়েছে।

    মঈন খান আরও বলেন, গত ১৭ বছর দুর্নীতিতে যে এদেশ রেকর্ড গড়েছিল, শুধু তাই নয়- এদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যেতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। আর ভবিষ্যতে কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে, যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক-স্পষ্টতই কোরিয়া কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ে বাংলাদেশে আসেনি। তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে, যাতে করে কোরিয়া ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জনগণ এ থেকে উপকৃত হতে পারে। সেটাই হচ্ছে কোরিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মূলনীতি। সেই নীতি আমরা অনুসরণ করেই কিন্তু দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক অতীতেও বজায় রেখেছি ।

    বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে ড. মঈন খান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাজভীরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১০ বছর নিষিদ্ধ হতে পারে আওয়ামী লীগ

    ১০ বছর নিষিদ্ধ হতে পারে আওয়ামী লীগ

    চলতি বছরের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে দমন পীড়ন চালায় শেখ হাসিনার সরকার। এতে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

    এদিকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

    পরিপ্রেক্ষিত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    সভায় গণহত্যায় কোনো বাহিনী বা দলের সম্পৃক্ততায় গুম, খুন যৌন নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ও জড়িত রাজনৈতিক দলকে ১০ বছর নিষিদ্ধ করাসহ ৮টি সংশোধনীর প্রস্তাব করে আইন মন্ত্রণালয়।

    সোমবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব দেন আইন উপদেষ্টা। এদিকে এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে আরও কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বিশিষ্টজনরা।

    উপরোক্ত অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ। এই দলটিও ১০ বছর নিষিদ্ধ হতে পারে মত দেন অনেকে।

    সভায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে সচল করার লক্ষ্যে প্রসিকিউশন ও ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে। এখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বোর্ডকে (ট্রাইব্যুনাল) পুনর্গঠন করা। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের সংস্কার কার্যক্রম এখানেই থেমে থাকবে না। যারা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তাদের সবার মতামত নিয়ে এই আইন সংশোধন করা হবে।

    রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ধারা ২০-এ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, এই নিষিদ্ধ কি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ অ্যাকটিভিটিসকে নিষিদ্ধ করবেন, নাকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিষিদ্ধ করা হবে। কারণ হচ্ছে সারা পৃথিবীতেই রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটি রয়েছে। দেশে নিষিদ্ধ হলে দেশের বাইরে কার্যক্রম চলছে, সেক্ষেত্রে নিষিদ্ধের এলাকা কোনটা হবে, এটা ঠিক করা হবে কীভাবে?

    চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব (চলতি দায়িত্ব) ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ইকতেদার আহমেদ, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম আসমা সিদ্দীকা, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (ড্রাফটিং) মো. রফিকুল হাসান, ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী অফিসের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সোস্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ড. জাহেদুর রহমান, সাংবাদিক সাঈদ আব্দুল্লাহ, সানজিদা ইসলাম, শরিফ ভূঁইয়া প্রমুখ নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।

  • সবুজ পাহাড়ে রক্তের দাগ দেখতে চাই না: জিএম কাদের

    সবুজ পাহাড়ে রক্তের দাগ দেখতে চাই না: জিএম কাদের

    পার্বত্য তিন জেলায় বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। এজন্য পাহাড়ি, বাঙালি ও প্রশাসনকে সচেতন থাকতেও আহবান জানান তিনি।

    মোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টি ও জাতীয় হকার্স পার্টির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জিএম কাদের বলেন, সবুজ পাহাড়ে রক্তের দাগ দেখতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা পার্বত্য এলাকার পর্যটন শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নস্যাৎ হতে দিতে পারি না। সব পক্ষকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আহ্বান জানাই।

    জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সভাপতি আজহারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে ও জাতীয় হকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ নিজামের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব মীর আব্দুস সবুর আসুদ, মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম জহির, মনিরুল ইসলাম মিলন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হুমায়ুন আহমেদ খান, এমএ রাজ্জাক খান, মিজানুর রহমান মিরু, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক এমএ সোবহান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, কেন্দ্রীয় সদস্য সামছুল হুদা মিয়া, একেএম নুরুজ্জামান জামান, রেজাউল করিম, আনোয়ার হোসেন শান্ত, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, এমএ কুদ্দুস মানিক, জাতীয় হকার্স জাতীয় ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান, নাজমুল রেজা।

    জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামাল উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন মাস্টার, হাফিজুর রহমান চৌধুরী, শফিকুল আলম মুকুল, পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী, আবু জাফর রিপন, শ্রী রতন সরকার, মো. আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক, আমরিন রহমান, কামাল হোসেন। জাতীয় হকার্স পার্টির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো. ফরিদ হোসেন, মো. রাজীব শরীফ, মো. ইসমাইল হোসেন আলো, সাজেদুল হক লিটন, আতিকুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

  • ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে শোকজ

    ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে শোকজ

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

    সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি নোয়াখালীতে তার নির্বাচনি এলাকায় মোটর শোভাযাত্রা করে কর্মসূচি পালন করায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।

    এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেল বহর বা অন্য কোনো যানবাহনের শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য কেন্দ্রীয়সহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। এছাড়াও পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে।

    দলটি বলছে, যেহেতু বিএনপি জনসম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল, সেহেতু জনগণের সমস্যা হয় এমন কাজ থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল, সব সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে দুই বার্তা দিয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনাদের অধিনস্ত কোনো ইউনিটে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে সফরকালে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল বহর ও কারসহ অন্য কোনো যানবাহনের শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। এসব শোভাযাত্রার কারণে পাশ দিয়ে চলাচলরত সাধারণ মানুষের যানবাহন বা পথচারীদের যাতায়াতে ভয়ানক বিঘ্ন ঘটে। যে এলাকায় সাংগঠনিক সভা, কর্মীসভা অথবা জনসভা হয়, সেই এলাকায় ঊধ্বর্তন নেতাদের আগমন ঘটলেও শোভাযাত্রার কারণে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয় এবং মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রং বেরং এর পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করতে। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, অনভিপ্রেত এবং দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থি। দলের অতি উৎসাহী কতিপয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের ছবি সম্বলিত পোস্টার প্রকাশ করছেন এবং ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলিয়ে রাখছেন। এহেন পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে।

  • শিগগিরই গঠিত হচ্ছে গণমাধ্যম কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা

    শিগগিরই গঠিত হচ্ছে গণমাধ্যম কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা

    শিগগিরই গঠিত হচ্ছে গণমাধ্যম কমিশন। আগামী সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।

    সোমবার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

    তথ্য ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, এই আন্দোলনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে কিছু গণমাধ্যমকর্মী ফ্যাসিবাদের পক্ষে ছিলেন। যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অবিচার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রত্যাহার করা হবে। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন ফ্যাসিবাদের পক্ষে কথা না বলেন, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

    মতবিনিময় সভায় প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর বলেন, ক্রোড়পত্রের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    সভাপতির বক্তৃতায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিডিয়া তালিকাভুক্তি, সংবাদপত্রের নিরীক্ষা, বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা উল্লেখ করেন এবং সমস্যা থেকে উত্তরণে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ক্রোড়পত্র খাতে ৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বকেয়া বিল দ্রুত পরশোধের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকরা প্রচার সংখ্যা নির্ধারণ, সংবাদপত্রের নিরীক্ষা, বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসংগতির কথা উল্লেখ করেন। তারা সংবাদপত্র সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার জন্য মিডিয়া কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মতবিনিময় সভায় সাত শতাধিক পত্রিকার সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

    মতবিনিময় সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট পরিদর্শন করেন।

  • ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্ক, মুখ খুললেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি

    ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্ক, মুখ খুললেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। প্রথমে ঢাবি শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি পরে সেক্রেটারি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা থেরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

    গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯দফার ঘোষক কাদের যখন শিবির সেক্রেটারিকে পরিচয় করিয়ে দেন তখন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি কিমিটির তালিকা প্রকাশ হয় যেখানে এসএম ফরহাদ নামে একজনের নাম উঠে আসে। তবে ছাত্রশিবির সেক্রেটারি বলছেন কবি জসীম উদ্‌দীন হল এবং সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের সাথে আমার (এস এম ফরহাদ) কোন সম্পৃক্ততা নেই।

    তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কোন পদপদবীর জন্য কোন সিভি আমি কখনো কাউকে দিইনি। কখনো আমি নিজেকে ছাত্রলীগ হিসেবে কোনো মাধ্যমে পরিচয়ও দেইনি। হল বা ডিপার্টমেন্টের কমিটিতে কাকে রাখা হবে সেটা সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে যেখানে আমি তাদের কার্যক্রমের সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অতীতের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়ানোর বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্পিরিট নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা বলে আমি মনে করি।

    তিনি আরও বলেন, হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও ডিপার্টমেন্ট ডিবেটিং ক্লাবের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ডিবেটের বিভিন্ন আয়োজনে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আমার উপস্থিত থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে| এগুলোর সবগুলোই ছিল ডিবেট ক্লাব সংশ্লিষ্ট আয়োজন। কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়।