Category: অন্যান্য

  • যেভাবে হোয়াটস অ্যাপে চলবে ইউটিউব

    যেভাবে হোয়াটস অ্যাপে চলবে ইউটিউব

    আইওএস ডিভাইসে অ্যাপের মধ্যেই ইউটিউব ভিডিও দেখতে নতুন ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ। আগে চ্যাটিং অ্যাপটিতে কোনো ইউটিউব লিঙ্ক পাঠানো হলে গ্রাহককে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বের হয়ে ইউটিউব অ্যাপে তা দেখতে হতো। আইওএস ডিভাইসের জন্য নতুন আপডেটে এবার হোয়াটসঅ্যাপেই ইউটিউব ভিডিও দেখা যাবে। সম্প্রতি হোয়াটস অ্যাপ সেটি আপডেট করেছে।

    হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে একটি ভাসমান উইন্ডোতে ইউটিউব ভিডিওটি চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন ফিচারটি পেতে আইওএস গ্রাহককে অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ সংস্করণ ২.১৮.১১-তে আপডেট করার কথা জানানো হয়েছে। ইউজারকে পাঠানো ইউটিউব লিঙ্কে চাপলেই হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে ইউটিউব ভিডিও দেখা যাবে। আগে লিঙ্কে চাপলে ইউটিউব অ্যাপ চালু হতো।

  • স্কুলে আগুন, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    স্কুলে আগুন, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ভারতের কাজকোটে স্কুল চত্বরে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন শিক্ষার্থীর। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন।

    শুক্রবার গভীর রাতে প্রাণসলা গ্রামের রাষ্ট্র কথা শিবিরে এই আগুন লাগে। নিহতরা সকলেই মেয়ে।

    সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠানের জন্য তাবু লাগানো হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে সেই তাবুতে আগুন লাগে। ঘুমের ঘোরে তিনজন ওই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ কিশোরী।

    কি থেকে আগুন লেগেছে তা পরিস্কার নয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারনা করছে ফায়ার সার্ভিস। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • সীমান্তে দু’বাংলার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

    সীমান্তে দু’বাংলার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে বসছে দুই বাংলার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। বিজয়ের আনন্দে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষাভাষি স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উদযাপন করেছে মহান বিজয় দিবস। এসময় উপস্থিত বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    শনিবার বিকেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের আয়োজনে পঞ্চগড় হান্নান শেখ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বাংলাবান্ধা সীমান্তে উপস্থিত হয়। পরে ভারতের নেতাজী জিএসএফপি স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ফুলবাড়ি সীমান্তে আসে।

    এক পর্যায়ে তারা তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা এবং ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে উপস্থিত হয়। পরে বিজিবি ও বিএসএফ এর সহায়তায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে ফুল দিয়ে কুশল বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ করে।

    পরে দুই দেশের শিক্ষার্থীরা সমবেত কন্ঠে নিজ নিজ দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। এসময় বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষার্থী ছাড়াও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হান্নান শেখ, বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন উপস্থিত ছিলেন।

    ভারতের পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবাশিষ প্রামাণিক বাংলাদেশের দুই সংসদ সদস্যকে উত্তরীয় পড়িয়ে স্বাগত জানান।

  • কাল কী সত্যিই কিছু একটা ঘটবে পৃথিবীতে!

    কাল কী সত্যিই কিছু একটা ঘটবে পৃথিবীতে!

    অপেক্ষা আর মাত্র ২৪ঘন্টার! পৃথিবীর উপরে আছড়ে পড়তে পারে গ্রহাণু! বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এদিন গ্রহাণু ‘ফ্যাথন ৩২০০’ একেবারে পৃথিবীর ধার ঘেঁষে বেরিয়ে যাবে৷ তাই যেকোন মুহূর্তে পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই বিশ্ব ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে!

    যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বারবারই পৃথিবীর সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহাণুর সংঘর্ষের কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ তা বিশ্বাস করছেন, আবার অনেকে একে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।   তবে এবার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে পৃথিবীতে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে! উল্কাপাত ও গ্রহাণুর আক্রমণে পৃথিবীর অবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়েই চিন্তিত মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

    জানা যায়, গ্রিক মিথলজির ধ্বংসের দেবতা ফেয়থনের নামানুসারেই একটি গ্রহাণুর নাম ‘ফ্যাথন ৩২০০’। আর এটি ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে পৃথিবীর অক্ষরেখা থেকে মাত্র ২০ লাখ মাইল দূর যাবে। তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

    নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্যাথনের আয়তন বর্তমানে ৫-৮ কিলোমিটার ব্যাসের হলেও তা ছিল আরও বড়। বেশ কয়েকবার সূর্যের কাছে যাওয়ায় তা ভেঙে ভেঙে ছোট হয়ে যায়।

    এর আগে নাসা জানিয়েছে, ২০৩৬ সালে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হতে চলেছে একটি গ্রহাণুর। তাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মানব সভ্যতা। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই গ্রহাণুটির নাম অ্যাপোফিস।

    ২০০৪ সালেই প্রথম নজরে পড়েছিল গ্রহাণুটি। এরপর গত ১৭ বছর ধরেই গ্রহাণুটির দিকে নজর রাখছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। আর শেষ পর্যন্ত তারা জানান, ২০৩৬ সালে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হবে গ্রহাণুটির। এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ডুয়েন ব্রাউন নামে ওয়াশিংটন হেডকোয়ার্টারের এক কর্মকর্তা।

    স্টিভ চেসলি নামে নাসার এক বিজ্ঞানী এবং পল খোদাস ২০০৯ সাল থেকে গ্রহাণুটির উপর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছিলেন। তারপরেই তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ২০৩৬ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীতে আঘাত হানবে অ্যাপোফিস।

    ডেভ থোলেন নামে এক বিজ্ঞানী এবং তার সহকারীরাও একই দাবি করেছেন। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নাসা তার ওয়েবসাইটেও এই সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে। তবে শুধু ২০৩৬ সালই নয়, ২০২৯ এবং ২০৬৮ সালেও পৃথিবীর খুব কাছ থেকে উড়ে যাবে অ্যাপোফিস। যা থেকেও রয়েছে প্রবল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা।

  • মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    গত ২ মাস ধরে এক কিশোরীকে ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে ৩ জন ব্যক্তি। এরপর সেই কিশোরী যখন পুলিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন তারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে কিশোরীকে হত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে কিশোরীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেইনপুরি জেলায়।

    পুলিশ জানায়, মা-বাবাকে খুন করার হুমকি দিয়ে দুই ‌মাসেরও বেশি সময় ধরে ৩ জন অভিযুক্ত সেই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে গেছে। কিছুদিন আগে সেই কিশোরী এই ঘটনাটি তার মা-বাবার কাছে জানালে তারা পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার ২দিন পরও পুলিশ কোনও ধরনের পদক্ষেপ করেনি।

    বুধবার সেই ৩ অভিযুক্তকে আক্রান্তের বাড়ির পাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সেই সময় ওই কিশোরী একাই ছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরের মধ্যে ঢুকে তার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে দেয়।

    এই ঘটনার পরই ফেরার ৩ অভিযুক্ত। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের।

  • বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানান কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এর পরপরই সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    যেখানে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। এরপর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব), ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমীন, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। অপরদিকে এখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে শহরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে ৭১’র মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

    এরআগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের সব সরকারি বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে দু’দিন আগে থেকেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জার মাধ্যমে আলোকিত করা হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় ও বিবির পুকুরকে ঘিরে বাহারী রংয়ের আলোকসজ্জা করার পাশাপাশি ব্যানার-ফ্যাস্টুন, তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়কে রাজনৈতিক নেতারা তেরণ ও ব্যানার টানিয়ে রেখেছে।

  • রোগীদের লিভারে স্বাক্ষর করে আদালতে শল্যচিকিৎসক

    রোগীদের লিভারে স্বাক্ষর করে আদালতে শল্যচিকিৎসক

    রোগীদের লিভারের ওপর খোদাই করা ব্রিটেনের এক বিখ্যাত সার্জন সাইমন ব্রক্ষলের নামের দু’টি আদ্যক্ষর মিলেছে। ‘SB’ লেখা সেই স্বাক্ষর নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে বার্মিংহাম সহ গোটা ব্রিটেনে। মামলা দায়ের হয়েছে বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক ব্রক্ষলের বিরুদ্ধে।

    আদালতে প্রশ্ন উঠেছে, কোনও অনুমতি ছাড়া অপারেশন থিয়েটারে অচৈতন্য রোগীর শরীরে কি কেউ তার নামের আদ্যক্ষর খোদাই করে দিতে পারেন? তা কি দণ্ডনীয় অপরাধ নয়? কিন্তু ঘটনা হল, দণ্ডনীয় কি না, হলে তার দণ্ড কী, তা নিয়ে ধন্দে পড়ে গিয়েছে আদালতও। যেহেতু এমন ঘটনা ব্রিটেন কেন, গোটা বিশ্বে ঘটেনি এর আগে। ফলে, আইনের বইতেও লেখা নেই তার দণ্ড কী হতে পারে।

    সেই শল্যচিকিৎসক সাইমন ব্রক্ষল জানিয়েছেন, এটা তার একটা শখ। রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচারের সময় তিনি তার নামের আদ্যক্ষর দু’টি লিখে রাখেন, কাজটা যে তারই করা, তার প্রমাণ হিসাবে।

    ৫৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ব্রক্ষল গত ১২ বছর ধরে যথেষ্টই সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন কুইন এলিজাবেথ হসপিটালে। সেই হাসপাতালে ডাক্তারির পোস্টডক্টরাল ছাত্রদের ক্লাসও নিয়েছেন তিনি দীর্ঘ দিন। একটি ভেঙে পড়া বিমানের গুরুতর জখম দুই পাইলটের অক্ষত লিভার অন্য এক জনের শরীরে নিখুঁত ভাবে প্রতিস্থাপন করে ২০১০ সালে খবরের শিরোনামে চলে এসেছিলেন ব্রক্ষল।

    সেই ব্রক্ষলের নিজের নামের আদ্যক্ষর খোদাই করার ‘কীর্তি’টা কেউ হয়তো কোনও দিন জানতেই পারতেন না, যদি না ২০১৩ সালে এক রোগিনীর শরীরে তার লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার ব্যর্থ হত। সেই প্রতিস্থাপনের পর কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় রোগির। তখন অন্য শল্যচিকিৎসকরা তার লিভার পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, তার ওপর ব্রহ্মলের নামের দু’টি আদ্যক্ষর ‘SB’-এর সন্ধান পান।

  • এক নজরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন

    এক নজরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু ২০০৯ পর্যন্ত কয়েক দফায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ১৯৪৪ এর ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরির জন্ম। পিতার নাম মরহুম হোসেন আহমদ চৌধুরি আর মাতা মরহুম বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন মেজ। পিতা চাকরি করতেন আসাম বেংগল রেলওয়েতে। পিতার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন পড়াশোনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, কাজেম আলি ইংলিশ হাই, আর প্রবর্তক সংঘে। স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

    স্কুল শেষে শেষে বাবার আদেশে ভর্তি হয়ে ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্সে। সেখানের পাট না চুকিয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম কলেজে। বছর না ঘুরতেই কমার্স কলেজম, শেষ পর্যন্ত সিটি কলেজ।

    সিটি কলেজেই তার বিপ্লবী রাজনৈতীক জীবনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

    জহুর আহমদ চৌধুরীর হাত দিয়ে রাজনীতি শুরু। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুধ্যে অংশ নিতে গিয়ে আইএস আইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদরদপ্তরের কাছে গ্রফতার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস।

    শহিদ ভেবে বাবা ছেলের নামে দিয়ে ছিলো ফাতেহা। এরই মাঝে একদিন মানসিক রোগীর নাটক করে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে পালিয়ে বেরোন মহিউদ্দিন। পাড়ুই জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষন শেষে সক্রিয়ভাবে সম্মুখসমরে অংশ নেন। ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

    বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দীন। কিন্তু তৎকালিন সময়ে প্রবল ক্ষমতাশালী হয়েও ক্ষমতার মোহ স্পর্শ করেনি তাকে।

    কিছুদিন না যেতেই ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। অল্পের জন্য মহিউদ্দিন ধরা পরা থেকে বেঁচে যান, মৃত্যু বরণ করেন সাথী মৌলভি সৈয়দ। পালিয়ে গিয়ে ভারতে প্রতিবিপ্লবীদের সাথে যোগ দেন। লক্ষ্য সামরিক জান্তা, খুনি মোশতাককে সামরিকভাবেই পরাস্ত করা। কিছুদিন পরেই দলের নির্দেশে পন্থা পরিবর্তন করে আবার সক্রিয় হন প্রকাশ্য রাজনীতিতে।

    দেশে এসেই নির্যাতন, আর একের পর এক কারাভোগ। তখন স্বৈরাচার জিয়া ক্ষমতায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর জিয়ার দমন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে গোপন ষড়যন্ত্রের ভুমিকা, প্রতিবাদী করে তোলে মহিউদ্দিনকে। দলের নির্দেশে চলে বৈপ্লবীক প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। তরুণ ছাত্রনেতা মহিউদ্দিনের জুজুতে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা তটস্থ।

    মাঝে আওয়ামী লীগের ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠলো। বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকাকে নগণ্য করতে তাকে ঠেকাতে শত্রুরা উঠেপরে বসলো। অদম্য সাহসী মহিউদ্দীন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে দলবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য ঝাপিয়ে পরলেন। সব বাধা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের কাণ্ডারির দায়ীত্ব নিতে সহয়তা করলেন।

    স্বৈরাচারি সামরিক জান্তা এরশাদের শাসনামলে চট্টগ্রামে স্বয়ং জান্তা প্রধানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে চক্ষুশূল হন সরকারের। ফলে আবারও রাজনৈতিক বন্দি। ততদিনে চট্টগ্রামের আপামর জনতার নয়নমনি হয়ে উঠেন মহিউদ্দীন চৌধুরী।

    একানব্বইয়ের ঘুর্ণিঝড়ে দুস্হ জনতার পাশে দাঁড়িয়ে, অসহযোগ আন্দোলনে খালেদার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গরিব-দুঃখি-শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে মহিরুহে পরিনত হন আজকের মহিউদ্দীন।

    ওয়ান ইলেভেনের শাসনামলে জেলে যান। ষাটোর্ধ বয়সে কারান্তরিন ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই নির্মম ভাবে ইন্তেকাল করেন আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পা। নানান টালবাহানা করে টুম্পাকে মৃত্যু অবধারিত জেনেও দেখতে দেয়নি অনির্বাচিত সরকার নামক ভদ্রবেশি আরেক নব্য সামরিক জান্তা। শতচেষ্টা আর মানসিক নির্যাতন করেও টলাতে পারে নি সরকার মহিউদ্দীনকে একটুও।

    তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

    ২০০৫ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের তুলনায় ভোটের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।