Category: অন্যান্য

  • চরমোনাই বার্ষরিক অগ্রাহায়নের ওয়াজ মাহফিল শুরু আগামীকাল

    চরমোনাই বার্ষরিক অগ্রাহায়নের ওয়াজ মাহফিল শুরু আগামীকাল

    সিমু আক্তার

    বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফের ৩দিন ব্যাপী অগ্রাহায়নের বার্ষরিক ওয়াজ-মাহফি আগামিকাল রবিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে । বুধবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্য দিয়ে বার্ষরিক মাহফিলের সমাপ্তি হবে। বিশ্ব ইজতেমার পর চরমোনাই মাহফিলকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সমাবেশ হিসাবে গণ্য করা হয় ।

    শনিবার জোহরের নামাজের পর চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা করবেন । সুত্র মতে, ৩ দিনে মোট ৭টি বয়ান হবে। তার মধ্যে ৫টি বয়ান করবেন চরমোনাই পীর ও ২টি বয়ান করবেন চরমোনাই পীরের ভাই মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। উদ্বোধনী বয়ানের পর প্রত্যেক দিন ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর মুসুলীদের উদ্যেশ্যে বয়ান করবেন চরমোনাইর পীর।

    বুধবার সকাল ৮টার দিকে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি হবে।  এদিকে মাহফিল উপলক্ষে আগ থেকেই চরমোনাই অনুসারীরা মাহফিলে আসতে শুরু করেছেন।  মুসুলীদের জন্য মাঠে প্যান্ডেল করার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার জন্য মুজাহিদ কমিটিও মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন ।

  • জয়বাংলায় মুখরিত ঢাকার রাজপথ, এ যেন আরেক ৭ই মার্চ

    জয়বাংলায় মুখরিত ঢাকার রাজপথ, এ যেন আরেক ৭ই মার্চ

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি অর্জন করায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতেছে ঢাকাবাসী।

    জয়বাংলা স্লোগানে-স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে ঢাকার রাজপথ। আজ শনিবার বেলা ১২টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছে হাজারো মানুষ। এসময় তাদের প্রত্যেকের কন্ঠে বাজনার তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান। আর মূল শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হবে।

    বেলা দেড়টার দিকে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন, শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের জনগণকেও এ শোভযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

    ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক এই ৭ মার্চের ভাষণটি  ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি অর্জন করায় সারাদেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সরকার। আর ঢাকা মহানগরী আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির উদ্যোগে রাজধানীতে এ শোভাযাত্রা হচ্ছে।

    শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা যাত্রাবাড়ী জাহিরুন নেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ ওয়াক্কাস আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ৫০ জন এসেছি।

    জাতির জনকের ভাষণের স্বীকৃতির এই সমাবেশকে সফল করতে আমাদের শিক্ষক এবং ছাত্রীরাও এসেছেন। এদিকে শোভাযাত্রাকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের সতর্ক থাকতে দেখা গেছে।

  • শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, দিনাজপুরে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

    শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, দিনাজপুরে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

    বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। বন্ধ রয়েছে দিনাজপুর-রংপুর রুটে যান চলাচল।

    বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিবহনকারী একটি বাস ও তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়। শহরের মহারাজা স্কুল মোড়ে বটতলা থেকে বাস টার্মিনাল সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ছাত্রদের মাঝে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে মহ্সাড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা পঞ্চগড় থেকে আসা শাহী পরিবহন ও দিনাজপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রায় পরিবহন নামে দুটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম। দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ ও শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরের সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

  • বরিশালে জেলা প্রশাসক বদল হতেই খালখেকোরা বেপরোয়া

    বরিশালে জেলা প্রশাসক বদল হতেই খালখেকোরা বেপরোয়া

    গত এপ্রিলে ঘটা করে বরিশালের খাল দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামে বরিশাল প্রশাসন। কিছু খাল উদ্ধার করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয় খালপাড়ে।

    তবে হঠাৎ জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে যাওয়া এবং নতুন কর্তৃপক্ষের সময় অভিযান না চলায় দখলদাররা এখন আরো বেপরোয়া। অধিকাংশ খালের অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে। অবশ্য বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান এ জন্য উল্টো আগের প্রশাসনকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন , ‘খালগুলো খুব তাড়াহুড়া করে দখলমুক্ত করা হয়েছিল এবং এরপর পুনঃখননও করা হয়নি। স্থায়ীভাবে খাল দখলমুক্ত রাখতে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। তাই ফের দখল করে নেওয়া হচ্ছে। ’

    গত এপ্রিলে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে চলা অভিযানে সিটি করপোরেশনও সহায়তা করেছিল। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান  বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বরিশালের খালগুলো দখলমুক্ত করা হয়েছিল। তবে খালগুলো দখলমুক্ত করার পরই ফের দখল হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার ছিল না। কারণ খাল বরিশাল নগরের অভ্যন্তরে হলেও তার মালিক জেলা প্রশাসন। এ কারণে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের। তবে আমরা খাল উদ্ধারে লোকবল দিয়ে সহায়তা করেছি, আমরা প্রত্যেক খালের পাশে নামসহ বিলবোর্ড দিয়েছি। এখন জেলা প্রশাসন ফের চাইলে আমরা খাল উদ্ধারে সহায়তা করব। ’

    সরেজমিনে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নওগাঁ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ভেদুরিয়া খাল দখল করে পাকা দোকানঘর তৈরি করছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য গ্রাম্য চিকিৎসক নাসির উদ্দিন। তাঁর দাবি, আগে তাঁর অস্থায়ী দোকানঘর ছিল। নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ভেঙে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, পরে উত্তোলন করা যাবে। তাই পাকা করে ঘর করেছি। তবে তা পুরোপুরি খালের মধ্যে নয়। ’

    সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি এলাকার আনন্দ বাজারসংলগ্ন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগকর্মী সোহেল সাগরদী খাল দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন স্থায়ীভাবে। তাঁর দাবি, ওই জমি আগে তাঁদের ছিল। পরে খাল হওয়ায় তাঁরা অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করেছিলেন। ভেঙে দেওয়ায় এখন ইট দিয়ে ঘর করা হয়েছে।

    একইভাবে নগরীর বটতলা বাজার থেকে চৌমাথা পর্যন্ত বটতলা খাল এমনভাবে দখল করা হয়েছে, দেখে মনে হবে খালের অস্তিত্বই ছিল না। বটতলা হয়ে জিলা স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাটার খাল ভরাট করে স্থাপনা করা হয়েছে। জেল খালেরও দুই পাশে ফের গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। শুধু তাই নয়, এই খালের শাখা নথুল্লাবাদ খালও দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সাগরদী খালের দুই পাশে এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই এটি খাল ছিল। কাজীপাড়া খাল, সাগরদী খাল, টিয়াখালী খাল, জিয়া সড়ক খাল, আমানতগঞ্জ খাল, নবগ্রাম খাল, ভাটার খাল, কাশীপুর খাল, নাপিতের খাল, লাকুটিয়া খাল, চাঁদমারি খাল, পলাশপুর খালও ফের দখল হয়েছে।

    বর্তমান জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘আমরা বরিশালের ২৩টি খাল ফের দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামব। আর স্থায়ীভাবে খালগুলো দখলমুক্ত রাখতে এর দুই ধারে দেয়াল, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ডেনের সামনে ট্যাংকি করে তাতে নেট প্রদান করাসহ একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই কাজ শুরু করে দেব। ’

    বরিশাল নগরী ও এর উপকণ্ঠ এলাকাকে ২৩ খাল ঘিরে রেখেছে। খালগুলো দিয়ে আগে পানি প্রবাহিত হতো, নৌকা ও গয়না নৌকা চলাচল করত। বিভিন্ন এলাকা দিয়ে খাল হয়ে মামলামাল আসত বরিশালে। চিহ্নিত কিছু দখলদার জেল খালসহ সব খাল দখলে নিয়ে নেয়। কোনো কোনো খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। কোনো খালের ওপর গড়ে উঠেছে বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, খাল দখল করে একটি সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে।

  • ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা সই করেছে মিয়ানমার। ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই সমঝোতার বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লোকজনের ফিরে যাওয়া শুরু হবে।

    প্রত্যাবাসনের জন্য ভৌত ব্যবস্থাবিষয়ক একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় দলিল দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই মিয়ানমার এই সমঝোতা সই করেছে।

    যদিও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তর এই সমঝোতাকে উভয় দেশের জন্য জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সই করা যৌথ বিবৃতি। সেখানে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে পরিচয় যাচাই ও মিয়ানমারের গ্রহণ করার বিষয়ে সাধারণ নীতি ও নির্দেশিকা রয়েছে।

    নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর দুই দেশ ওই সমঝোতায় সই করে।

    উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতির আলোকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে বলেছিল, ১৯৯২ সালের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও এ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছিলেন।

    বাংলাদেশের মূল যুক্তি ছিল, ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতিতে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল সেটি এবার করা হলে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগের মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। কেননা রাখাইন রাজ্যে এবার তাদের বাড়িঘর এমনভাবে পোড়ানো হয়েছে যে সেখানে তাদের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার বিষয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে যে খুব নতুন কিছু আছে এমন নয়। কেবল একটি বিষয় নতুন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেছেন এবং পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। এটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটি বলা হয়নি। এর আগে মিয়ানমার বলেছিল, তারা যাচাই-বাছাই করেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। মিয়ানমার গতকাল যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    রোহিঙ্গারা কিভাবে যাবে, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করবে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, কিভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে তার একটি নমুনা ফরম বা তালিকা তারা বাংলাদেশকে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যদি তাতে রাজি হয় তবে সেটির ভিত্তিতেই কাজ করা হবে।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার তার পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। মিয়ানমার বলছে, যারাই মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তাদের নাগরিক প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার মিয়ানমার করবে।

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অতীতে তেমন একটা ফল আসেনি। ২০০৫ সাল থেকে মিয়ানমার একতরফাভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বিষয় হলে মিয়ানমার নানা টালবাহানা করে বিষয়টি পিছিয়ে দেয়। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে কোনো বহুপক্ষীয় উদ্যোগ হচ্ছে না। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয় হিসেবেই থাকছে। মিয়ানমার তার বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করেছে।

    বিবিসি বাংলা জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গতকাল সমঝোতা সইয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ বা সমঝোতা কাজ করেছে। মিয়ানমারে সরকারি মহলে জানাশোনা আছে—এমন কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে গেছেন। গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাতে চীন ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুকে যেভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে বা করতে চেয়েছিল মিয়ানমার তা পছন্দ করছে না। বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে।

    তবে অন্য আন্তর্জাতিক চাপগুলোও এখানে কাজ করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। যেমন—গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনার কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে খুব তড়িঘড়ি করেই মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চাচ্ছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, যাতে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) পশ্চিমা দেশগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিষয়টিকে (রোহিঙ্গা সংকট) আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদও এ ইস্যুতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি ইস্যু করেছে। ’

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নীতিগত অবস্থান হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উদ্ভূত ইস্যুগুলো অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে। বন্ধুত্ব ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় দেশের সম্মত এ ব্যবস্থায় (সমঝোতা) মিয়ানমারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি এনে দিয়েছে। ’

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রত্যাবাসনবিষয়ক সমঝোতা হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নির্ভর করছে পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় না রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হোক। বাংলাদেশের এমন পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ চায়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। এর জন্য মিয়ানমার সরকারকেই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এটি রাতারাতি বা দুই মাসে সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নেপিডো থেকে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গত বুধবার নেপিডোয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সমঝোতায় একটি সময়সীমা রাখার কথা মিয়ানমারকে বলেছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

    জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেনি। মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বললেও শেষ করার সময়সীমা দেয়নি। বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার কোনো সময়সীমা না দিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে মিয়ানমার আগের চেয়ে নমনীয় হলেও এ বিষয়টি সমঝোতা দলিলে উল্লেখ করতে রাজি হয়নি।

    বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়াও তিন সুয়ে ওই সমঝোতায় সই করেন। এ সময় তাঁরা ১৯৯৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি অনুস্বাক্ষর দলিল বিনিময় করেন। তাঁরা ২০০৭ সালে সম্মত ‘নাফ নদীতে সীমান্ত নির্ধারণী অতিরিক্ত প্রটোকল’ও সই করেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বহুল প্রত্যাশিত ঐকমত্যে পৌঁছার পর তাঁরা সমঝোতা সই করেছেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। সমঝোতা সই করা প্রথম ধাপ। এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করব। ’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সকালে নেপিডোয় মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ইউন মিয়াত আয়ের সঙ্গে দেখা করে রাখাইন রাজ্যের জন্য উপহার হিসেবে তিনটি অ্যাম্বুল্যাসও দিয়েছেন।

    গতকাল বিকেলে ঢাকায় একটি সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ। এটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

    জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার খসড়া ছয় দফা চালাচালির পর গত বুধবার বৈঠকে তা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক, মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমানসহ এ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কার্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ‘যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। মিয়ানমার বারবার কালক্ষেপণ করেছে এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নেওয়ার যে দায় রয়েছে তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আমরা যদ্দূর জানি, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে চেয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়নি। ’

    পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের পর তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো উদ্বেগের উল্লেখ করে সি আর আবরার বলেন, রোহিঙ্গারা কতটা স্বেচ্ছায়, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরে যেতে পারবে তার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই।

    এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করা অব্যাহত রেখেছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল নয়াদিল্লিভিত্তিক বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, মধ্য পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ৭৭ জন রাষ্ট্রদূতকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবহিত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার পরিষদে আগামী মাসেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে এ সংকট সমাধানে বাধ্য করতে বৈশ্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

  • তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা চীনের হাত থেকে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন আগে। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের সে স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করে চীনের অধীনে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে দালাইলামা বলেন, আমরা স্বাধীনতা চাইব না। আমরা চীনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা আরও উন্নয়ন চাই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ত্যাগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

    দালাইলামা বলেন, দুটি আলাদা দেশ হলেও চীন-তিব্বতের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যদিও মাঝে মধ্যে লড়াই হয়।

    তিনি আরও বলেন, অতীত অতীতই। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করলেও তিব্বত ও তিব্বতিদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি জোর দিয়েছেন স্বেচ্ছায় ভারতে নির্বাসিত এই আধ্যাত্মিক নেতা।

    তিনি বলেন, তিব্বতের আলাদা সংস্কৃতি আছে এবং পৃথক জীবনপ্রণালি আছে।

    চীনারা তাদের দেশকে ভালোবাসে এবং আমরাও আমাদের দেশকে ভালোবাসি।

    দালাইলামার দাবি, কোনো চীনাই ঠিকমতো জানেন না গত কয়েক দশকে কী কী ঘটে গেছে। বৌদ্ধ ধর্মের এ আধ্যাত্মিক নেতা তিব্বত মালভূমির বাস্তুসংস্থান রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সূত্র : এনডিটিভি

  • বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপির শোক প্রকাশ

    বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপির শোক প্রকাশ

    গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি……রাজেউন) তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবাররের প্রতি সমবেদনা এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ,স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি ।

  • ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদাবাজীর অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় ছিল।

    দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এমন মিশনে নামলেও শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। এবার চাঁদাবাজ ওই নেতাদের বিরুদ্ধে নিজেই আইনের আশ্রয় নিলেন সাদিক। ১৯ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তিনি। (ডায়েরী নং-১১৫৯)।

    সাদিক উল্লেখ করেন, অতিসম্প্রতি তার জনপ্রিতায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বরিশালসহ দেশের বেশকিছু দলীয় নেতাকর্মী এমনকি সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারির  নিকট বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার দিয়ে ফোন করে ‘সাদিক আবদুল্লাহ’ পরিচয় দিয়ে টাকা দাবী করছে। যার ফলে আমার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং ঐসব সম্মানিক ব্যক্তি বিভ্রান্তি এবং প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ।

    ঐসব অপরাধী এবং কুচক্রী মহলের মুখোশ উন্মোচন করতে আইনের আশ্রয় নিলেন।

  • কুমিল্লায় স্ত্রীর মৃত্যু শোকে স্বামীর মৃত্যু

    কুমিল্লায় স্ত্রীর মৃত্যু শোকে স্বামীর মৃত্যু

    স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে বাড়ির পাশে এসে স্বামীও জ্ঞান হারিয়ে মারা গেছেন।  আজ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বামনিশাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারা যাওয়া দুই জন হলেন, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের বামনিশাইর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮) ও তার স্ত্রী একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে রিফা আক্তার (২৪)। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় রিফা আক্তার স্বামীর বাড়ির পুকুরের ঘাটলায় বসে মোবাইল ফোনে ঢাকায় স্বামী আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পুকুরের পানিতে ডুবে যান। বাড়ির লোকজন পুকুর হতে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বামী আনোয়ার হোসেন রাতে ঢাকার রামপুরা থেকে বামনিশাইরের নিজ বাড়িতে রওনা দেন। রাত তিনটায় তিনি বাড়ির কাছাকাছি এসে পৌঁছান। এ সময় তিনি স্ত্রীর নাম ধরে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পথচারীরা তার লাশ দেখে বাড়িতে খবর দেন।

    স্ত্রী-স্বামীর এ মৃত্যুর সংবাদ শুনে এলাকাবাসী বামনিশাইর গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আনোয়ারের বড় বোন শিউলী বেগম বলেন, তার ভাই ঢাকার রামপুরার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার ভাই বাড়িতে আসার পথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

    এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্বামী-স্ত্রীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • বরিশাল ল’ কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ

    বরিশাল ল’ কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ

    বরিশাল ল কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সিদ্ধার্থ শংকর চ্যাটার্জী।
    গত রোববার ডাকযোগে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বরাবরে পদত্যাগ পত্র প্রেরন করে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তিনি।
    এদিকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মনির হোসেন হাওলাদারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে খন্ডকালিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও অতি দ্রুত স্থায়ীভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
    পদত্যাগের বিষয়ে বরিশাল ল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ শংকর চ্যাটার্জী জানান, শারিরিক অসুস্থতা এবং আইন পেশাকে মনোনিবেশ করার লক্ষ্যেই তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া তার এই পদত্যাগের ফলে কলেজ ভারমুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি কলেজের সার্বিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।