Category: অন্যান্য

  • কে এই পরীক্ষার্থী যার পরীক্ষা নিলেন ১৬ কর্মকর্তা!

    কে এই পরীক্ষার্থী যার পরীক্ষা নিলেন ১৬ কর্মকর্তা!

    বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শনিবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। যদিও এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৭৮২। পরীক্ষার্থী নাজমুলের পরীক্ষা নিতে কেন্দ্র সচিব, সহকারী কেন্দ্র সচিব, হলসুপার, কক্ষ পরিদর্শকসহ ১৬ জনকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। কেন্দ্রের আশে পাশে যথারীতি বহাল ছিল ১৪৪ ধারা। একটিমাত্র উত্তরপত্র পুলিশ প্রটেকশনে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। জানা গেছে, ১১ নভেম্বর শনিবার জেএসসি’র কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। চলিত বছর থেকে এ বিষয়ের স্কুলভিত্তিক মুল্যায়ন পদ্ধতি চালু করায় হলে বসে পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী নাজমুল হক গত বছর পরীক্ষা ড্রপ দেয়। কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয় নাজমুলের ঐচ্ছিক ছিল। এবার সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় একাই তার পরীক্ষা নিতে হয়েছে। কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ জানান, কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয়ের আর কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না। একমাত্র পরীক্ষার্থী হিসেবে নাজমুল হক শনিবার পরীক্ষা দিয়েছে। তার পরীক্ষা নিতে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সকলকেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

  • আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথা সাহিত্যক হুমায়ূন আহমদের জন্মদিন

    আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথা সাহিত্যক হুমায়ূন আহমদের জন্মদিন

    হুজাইফা রহমান:

    আজ ১৩ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথা সাহিত্যক হুমায়ূন আহমদের জন্মদিন। হুমায়ূন আহমেদ ( ১৩ নভেম্বর , ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই , ২০১২ ) বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক , ছোটগল্পকার , নাট্যকার এবং গীতিকার ।

    বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তাঁর সৃষ্ট হিমু এবং মিসির আলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীও তাঁর সৃষ্টিকর্মের অন্তর্গত। ধরা হয় বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনপ্রিয়তা তিনি শুরু করেন। তাঁর রচিত প্রথম সায়েন্স ফিকশন ” তোমাদের জন্য ভালোবাসা

    ” তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তাঁর টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশী না হলেও তাঁর রচিত গানগুলোও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে , মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তাঁর নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী , শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালিখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

    হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও (উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার) হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। তার বাবা সাহিত্য অনুরাগী মানুষ ছিলেন। তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি করতেন। বগুড়া থাকার সময় তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন। গ্রন্থের নাম দ্বীপ নেভা যার ঘরে । তাঁর মা’র লেখালিখির অভ্যাস না-থাকলেও একটি আত্ম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম জীবন যে রকম ।

    পরিবারে সাহিত্যমনস্ক আবহাওয়ায় ছিল। তাঁর অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট। তাঁর রচিত উপন্যাস থেকে জানা যায় যে ছোটকালে হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তাঁর পিতা (ফয়জুর রহমান) নিজের নামের সাথে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীতে আবার তিনি নিজেই ছেলের নাম পরিবর্তন করে ‌হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, তাঁর পিতা ছেলে-মেয়েদের নাম পরিবর্তন করতে পছন্দ করতেন। তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম আগে ছিল বাবুল এবং ছোটবোন সুফিয়ার নাম ছিল শেফালি । ১৯৬২-৬৪ সালে চট্টগ্রামে থাকাকালে হুমায়ুন আহমেদের নাম ছিল বাচ্চু

  • বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান ইউনিয়নের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

    বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান ইউনিয়নের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

    হুজাইফা রহমান:

    গতকাল বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান ইউনিয়নের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরুতে ধর্মীয়গ্রন্থ পবিত্র গীতা ও পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, এ্যাড. এ. কে. এম জাহাঙ্গীর, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বরিশাল মহানগর।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ্। ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রফিকুল ইসলাম খোকন, সাবেক ভিপি, বরিশাল ল’কলেজ, নিরব হোসেন টুটুল, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বরিশাল মহানগর, পরিমল চন্দ্র দাস, সাধারন সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বরিশাল মহানগর, বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। এবং আরো উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নরসুন্দরগণ।

    অতিথিদের বক্তব্য শেষে বরিশালের জেলা নরসুন্দর কল্যান ইউনিয়নের সদস্যদের কৃতী সন্তানদের মধ্যে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এরপর ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে গান পরিবেশন করে বরিশালের তরী ব্যান্ড। এছাড়াও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্মল খাসকেল, সভাপতি, বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যান ইউনিয়ন। এছাড়া, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নিলয় খাসকেল।

  • বিবাহিত নারীর পরকীয়া

    অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক

    সুজন ও রীতার দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। হঠাৎ একটি মোবাইল ফোন তাদের সুখের সংসারকে তছনছ করে দেয়।

    সুজনের এক বন্ধু তাকে ফোন করে জানায় যে তার স্ত্রী রিতা অন্য একটি ছেলের সঙ্গে একটি শপিং মলে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ী সুজন হন্তদন্ত হয়ে শপিং মলে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা ছেলেটির পরিচয় জানতে চান। এ সময় সুজনের স্ত্রী উল্টো তাকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না। ’ সুজন রাগ সংবরণ করতে না পেরে স্ত্রীকে তখন কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। নারীর গায়ে হাত তোলার অপরাধে উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীরা সুজনকে পাকড়াও করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশের জেরায় সব সত্য প্রকাশ করেন রিতা।

    এ সময় রিতার প্রেমিক পুলিশকে বলেন, ‘রিতার সঙ্গে আমার এক বছরের সম্পর্ক। অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছে আমার কাছে। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

    ’ এ সময় স্বামীকে না চেনার ভান করায় সুজনও রিতাকে ঘরে নিতে অস্বীকার করেন। ঘটনার কিন্তু এখানেই শেষ নয়! শেষমেশ রিতা সুজনের কাছে ক্ষমা চায় এবং প্রেমিক ওই পুরুষটি তাকে ভুল বুঝিয়ে এ পথে নামিয়েছে জানিয়ে তার বিচার দাবি করেন। সুজন শেষমেশ রিতার কথামতো ওই প্রেমিক পুরুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচারের শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য লোকের স্ত্রী জানা সত্ত্বেও বা সেটা বিশ্বাস করার অনুরূপ কারণ রয়েছে এমন কোনো নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌন সঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌন সঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতাকে অন্য লোকের স্ত্রী হতে হবে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকের কোনো শাস্তির বিধান আইনে নেই। ওই স্ত্রীলোকটি যে দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী বা ব্যভিচারের অপরাধে দোষী অথচ তিনি কোনো সাজা পাবে না। এ বিষয়ে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা পাকিস্তান লিগ্যাল ডিসিশন, ১৯৭৪ সন্নিবেশিত রয়েছে। মহিলা আসামি হতে পারে না। তবে ওই পুরুষটির সাজা দিতে হলে অভিযোগকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, ওই মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার সময় আসামি জানত অথবা জানার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল যে, যৌন সঙ্গমকারী মহিলা অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী। উল্লেখ থাকে যে, কোনো মহিলাকে তার আগের স্বামী তালাক দিয়েছেন এই সরল বিশ্বাসে আসামি বিবাহ করলে তাকে এ ধারার অধীন দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করা হয় সে মহিলা ওই সময় বিবাহিত না হলে এই ধারার অধীনে কোনো অপরাধ আমলে আনা যায় না। এ ধারার অধীন শাস্তি দিতে হলে বিবাহের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণ করতে হয়। তবে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক যদি দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে তাহলে বলা যাবে না যে, তারা ব্যভিচারের অপরাধ করেছে। (পিএলডি ১৯৬২, ৫৫৮)। যেহেতু এ ধারার অপরাধ জামিনযোগ্য, অভিযুক্ত প্রেমিক পুরুষ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জানান এবং বিচারক মহোদয় তাকে জামিন দেন। এ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে হলে বাদীকে পাঁচটি বিষয় অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। প্রথমত, আসামি কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছিল, দ্বিতীয়ত, ওই নারী বিবাহিত ছিল, তৃতীয়ত, আসামি বিবাহের বিষয়টি জানত এবং তা বিশ্বাস করার কারণও ছিল, চতুর্থত, ওই যৌন সঙ্গম নারীর স্বামীর সম্মতি বা সমর্থন ব্যতিরেকে হয়েছিল, পঞ্চমত, ওই যৌন সঙ্গম নারী ধর্ষণের শামিল ছিল না। যেহেতু সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারামতে কোনো ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব বাদীর।   গোপাল চন্দ্র বনাম লাসমত দাসী মামলা যা ৩৪ ডিএলআর, ১৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিচার্য বিষয় সম্পর্কে যে পক্ষ কোনো ঘটনার অস্তিত্বের দাবি করে সে পক্ষই তা প্রমাণ করবে। এ মামলায় আসামি যে রিতার সঙ্গে ব্যভিচারী করেছে, বাদী সুজন প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় বিচারিক প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করে রায় প্রদান করেন।

    লেখক : আইনজীবী।

  • নিজের ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করে হাজতবাস!

    নিজের মেয়ে ও ছেলেকে বিয়ে করে নিলেন এক নারী। আজব এই ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার ওকলাহোমা প্রদেশের ডানকান অঞ্চলে।

    এদের তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও প্যাট্রিসিয়া স্প্যান নামে ওই নারীর দাবি যে এই বিয়ে আইনিভাবে বৈধ।

    স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। যদিও আদালতের নির্দেশে এই তিন ভাই-বোন থাকতে তাদের দাদির সঙ্গে। দাদি এই তিনজনকে নিজের সন্তান হিসেবে দত্তক নিয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না প্যাট্রিসিয়ার। বছর দুয়েক আগে তার সঙ্গে ফের দেখা হয় মেয়ে মিস্টি স্প্যানের। তার তখন ২৬ বছর বয়স। নিজেদের মা-মেয়ের সম্পর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল হয়েই তারা বিয়ে করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই প্যাট্রিসিয়া ও মিস্টিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই তদন্তে নেমে জানতে পারে যে নিজের সন্তানকে বিয়ে এর আগেও করেছিল প্যাট্রিসিয়া। ২০০৮-এ নিজের এক ছেলেকেও বিয়ে করেছিল সে। সেই ছেলের তখন বয়স ছিল ১৮। এরপরই নাতি-নাতনিদের দত্তক নিয়ে নেন তাদের দাদি। এই অপরাধের জেরে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। -এই সময়।

  • গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সময়োপযোগী উদ্যোগ।

    গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সময়োপযোগী উদ্যোগ।

    কাজী সাইফুলঃ

    বরিশাল পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১, রুপাতলী, বরিশাল এর সম্মানীত জেনারেল ম্যানেজার গ্রাহক সেবা বৃদ্ধিসহ যেকোন অভিযোগ সরাসরি তিনিসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য মূল অফিসের প্রবেশদ্বারেই সকল কর্মকর্তাগনের মোবাইল নাম্বার টাঙিয়ে দিয়ে যেকোন অভিযোগ সম্মন্ধে সরাসরি তাদের জানানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে করে গ্রাহক হয়রানী অনেকাংশেই লোপ পেয়েছে।

    আমাদের দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরটিই সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হয়রানীর বড় উদাহরণ।আর যে কারনে ভোগান্তির শিকার হন সাধারন জনগন ।অনেক অংশে দেখা যায় মিটারের রিডিং এর তুলনায় বিল বেশি আসে,বিলের ডকুমেন্টে তথ্য ভুল থাকে।এবং এই ভুল সংসোধনের ক্ষেত্রে ও জনগনের হয়রানির শিকার হতে হয়।এ ক্ষেত্রে এমন একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

    বিদ্যুত্ অফিসে আসা সাধারণ জনগন বিষয়টির প্রশংসা করেছেন। দেশের প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা চালু করা হলে গ্রাহক হয়রানী নিঃসন্দেহে বন্ধ হবে বলে বিশ্বাস করেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ।

  • গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    সৎ মায়ের অমানুষিক নির্যাতনে একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে গেছে শিশু সাইমুনের (৮)। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকী নবীনগর গ্রামে। জানা গেছে, ওই গ্রামের হালিম হাওলাদারের প্রথম স্ত্রী ছয়বছর পূর্বে মারা যায়। এরপর সাথী বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন হালিম। সৎ মা সাথীর জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হালিম তার প্রথম স্ত্রীর পুত্র সাইমুনকে কসবা শরীফবাড়ি নূরানী মাদ্রাসার ভর্তি করে সেখানকার বোর্ডিংয়ে রাখেন। দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র সাইমুন জানায়, শুক্রবার বিকেলে সে বাড়িতে এসে ওইদিন রাতে বাড়িতে থাকায় তার সৎ মা তাকে গালিগালাজের একপর্যায়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে তার একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে যায়। এসময় সাইমুনের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে শিশু সাইমুনের পিতা হালিম বাড়িতে পৌঁছে স্থানীয় এক চিকিৎসকের মাধ্যমে সাইমুনের চিকিৎসা করায়। সৎ মা কর্তৃক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • বরিশাল বিমান বন্দরে সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় আ.লীগ নেতা লাঞ্চিত

    বরিশাল বিমান বন্দরে সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় আ.লীগ নেতা লাঞ্চিত

    বরিশাল বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুর রহমানকে লাঞ্চিত করেছে তার (সরোয়ার) সহকর্মীরা। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে উপস্থিত ঝালকাঠীর আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি বিএইচ হারুন এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। তবে নগরীর বিমান বন্দর থানার ওসি বলেছেন, করমর্দন করা না করা নিয়ে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের বাদানুবাদ হয়েছে মাত্র।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বরিশাল বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে উপস্থিত সবার সাথে করমর্দন করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবর রহমানের দিকে করমর্দনের উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে দেন সরোয়ার। এ সময় ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুল রহমান করমর্দন থেকে বিরত থাকলে সরোয়ার তাৎক্ষনিক অপ্রস্তুত হন এবং ওই লাউঞ্জে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এমপি বিএইচ হারুন, সরকারী কর্মকর্তা সহ অন্যান্যদের সাথে পর্যায়ক্রমে করমর্দন করেন। পরে সরোয়ার ফের মজিবুল রহমানের পাশের সোফায় গিয়ে বসেন এবং করমর্দন না করার কারন জানতে চান। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে সরোয়ারকে বিমান বন্দরে এগিয়ে দিতে যাওয়া বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানকে লাঞ্চিত করেন। পরে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এমপি বিএইচ হারুন সহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এরপর যথারীতি সরোয়ার এবং মজিবুল রহমান সহ পূর্ব নির্ধারিত যাত্রীরা দুপুর দেড়টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
    বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান সরোয়ার ভিআইপি লাউঞ্জে বসে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়েছেন দাবী করে এ ব্যপারে খন্দকার মজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭৯ সালের ২৭ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হলে সরোয়ারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা হয়। সরোয়ার ওই সময় তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালান। এ কারনে তিনি সরোয়ারের সঙ্গে হাত মেলাতে চাননি। তিনি প্রতিবাদ করলে সরোয়ারের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকে পড়ে। খন্দকার মজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরোয়ার তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সরোয়ারকে বিমান বন্দরে এগিয়ে দিতে যাওয়া বরিশাল মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শিকদার জিয়া বলেন, চেনা-অচেনা নিয়ে বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃস্টি হয়েছিলো। কিন্তু পরক্ষনে সমস্যা মিটে যায়। এটা তেমন কিছুনা। ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানকে বিএনপি’র কোন নেতাকর্মী লাঞ্ছিত করেনি বলে দাবী করেন জিয়া। ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে রিং দেয়া হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ঝালকাঠীর আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি বিএইচ হারুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবুল হক কামাল বলেন, সালাম বিনিময় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একটু তর্ক হয়েছিলো। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। নগরীর বিমান বন্দর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি বা পুলিশের সিনিয়র কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। খবর পেয়ে তারা সেখানে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে ওসি আনোয়ার বলেন, করমর্দন করা নিয়ে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের বাদানুবাদ হয়েছে। তবে এর বেশী তিনি কিছু জানেন না।

  • ছেলের খুনিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন বাবা!

    রায় দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন বিচারক। সকলেই জানেন, মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে।

    বা যাবজ্জীবন। থমথম করছে গোটা আদালত কক্ষ।

    সেই সময় সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে করজোড়ে ৬৬ বছরের আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলে উঠলেন, ‘অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে। ’

    জিতমউদের কাছে ক্ষমা চাইল অভিযুক্ত। জিতমউদ জড়িয়ে ধরলেন আসামির স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে।

    চোখের পাতা ভিজে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলেরও। কিছু ক্ষণের জন্য আদালত মুলতুবি ঘোষণা করে তাঁর নিজের ঘরে চলে গেলেন বিচারক বানেল।

    গোটা আদালত কক্ষে যেন তখন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে!

    পিৎজা খেতে গিয়ে আড়াই বছর আগে জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ রয়েছে ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে। রয়েছে পিৎজার দোকানে ডাকাতি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। তদন্ত, তথ্যাদিতে তা প্রমাণিতও হয়েছে আদালতে। এত কিছুর পরেও বাবা হয়ে কীভাবেই বা তাকে বেমালুম ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ! আইনজীবী থেকে শুরু করে আদালত কক্ষে হাজির সকলেই মুখ চাওয়াচায়ি করতে থাকলেন।

    বিস্ময়ের আরও কিছু বাকি ছিল গত মঙ্গলবার কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট আদালতের ওই কক্ষে হাজির সকলেরই। বিচারক, আইনজীবীরা দেখলেন, রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেই থেমে থাকলেন না জিতমউদ, আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে রেলফোর্ডের কানে কানে সালাউদ্দিনের বাবা বললেন, ‘কোনও চিন্তা কোরো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়। ’

    রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে যে যে ধারায় অভিযোগ ছিল, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় মৃত্যুদণ্ড, না হলে ৩১ বছরের কারাদণ্ড। জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছু ক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেন রেলফোর্ডের।

    তার পর আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে রেলফোর্ডকে আরও এক বার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন জিতমউদ। তার পাশে গিয়ে বললেন, ‘ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এর পর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্য ভাবে এ বার গড়ে তোল জীবনটাকে। শুধু ভাল ভাল কাজ করবে এ বার, আর সকলকে ভাল কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। সঠিক পথে চলবে সব সময়। ইসলামকে স্মরণ করে চলার মাধ্যমে সেটা তুমি জেল থেকেই শুরু করে দাও না। এই করতে করতে ৭ বছর পর তোমার ৩১ বছর বয়সে যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে তখন জীবনটাকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে। ’

    শুনে চোখে পানি এসে গেল আসামী রেলফোর্ডের। জিতমউদ তখনও তাকে ধরে রয়েছেন বুকে। চোখের পানি মুছতে লাগল রেলফোর্ড।

    জিতমউদ তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে এখন থাকেন থাইল্যান্ডে। আগে অবশ্য তিনি বহু বছর কাটিয়েছেন মার্কিন মুলুকে। আমেরিকার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রধান ছিলেন লেক্সিংটন ইউনিভার্সাল অ্যাকাডেমিরও।

    এই লেক্সিংটনেই একটা পিৎজার দোকান ছিল জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনের। সেখানে ২২ বছর বয়সী সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করেছিল রেলফোর্ড। তার পর তার দোকান লুঠপাট করে ক্যাশবাক্স ভাঙচুর করেছিল, আড়াই বছর আগে।
    বিচারক রেলফোর্ডকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাকে জড়িয়ে ধরে জিতমউদ বলেছেন, ‘আমি তোমাকে দোষ দিই না। দোষ সেই শয়তানটার। যে তোমাকে ওই জঘন্য অপরাধ করতে প্ররোচনা দিয়েছিল। সেই শয়তানটা আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। আমরা কেউ কেউ তাকে বাড়াবাড়ি করতে দিই, কেউ দিই না। ’

    রায় দেওয়ার আগে বিচারক রেলফোর্ডের মা গেল কুট বার্ডের সাক্ষ্যও শুনেছেন। রেলফোর্ডের মা বলেছেন, জিতমউদ যে তাঁর ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তা ভাবতেও পারেননি। তিনি অভিভূত। ছেলে রেলফোর্ড যে ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত, আদালতে সে কথাও বলেন তার মা কুট বার্ড।

    জিতমউদ জানিয়েছেন, আদালত কক্ষে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রেলফোর্ডের মা-ও। জিতমউদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাঁর ই-মেল অ্যাড্রেস নিয়েছেন রেলফোর্ডের মা। আর ইসলাম সম্পর্কে তিনি আরও জানতে চেয়েছেন জিতমউদের কাছে। কথা দিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মেল পাঠাবেন জিতমউদকে, ইসলামের আদর্শ জানতে, বুঝতে।

    ৭ বছরের জন্য জেলে গেল রেলফোর্ড। তাইল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছেন জিতমউদও।
    আর জিতমউদ ও রেলফোর্ডের পরিবার পরিজনদের কাছে থেকে গেল আদালত কক্ষের বাইরে দুই পরিবারের গ্রুপ ফোটোগ্রাফ।

    ক্ষমায় এক হয়ে গেল পৃথিবীর দুই গোলার্ধের দুটি পরিবার

  • বরিশালে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

    হুজাইফা রহমান

    গতকাল শুক্রবার বরিশালের বগুড়া রোডস্থ আম্বিয়া হাসপাতালের পাশে অবস্থিত জীবনানন্দ অঙ্গনে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “আড্ডা ধানসিড়ি”র আড্ডারুদের উপস্থিতিতে বিকেল চারটা থেকে আড্ডা শুরু করে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত একটানা দু’ঘন্টা প্রাণবন্ত একটি সাহিত্য আড্ডা চলে। সেখানে ড. মুহম্মদ মুহসিন’র সঞ্চালনায় এবারের আড্ডার অতিথি ছিলেন কবি হুমায়ুন কবির।

    শুরুতেই “আড্ডা ধানসিড়ি”র আড্ডারু কবি আসমা চৌধুরী’র একটি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এরপর আড্ডায় নিজেদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আড্ডারু শফিক আমিন, জয়নাল আবেদীন, ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আবদুর রহমান, অনিন্দ্য দ্বীপ, মাহমুদ অর্ক্য, সামছুল আলম, সাইমুন ইসলাম, এসকে লুনা ও হুজাইফা রহমান। তাদের পাঠ করা কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ড. মুহম্মদ মুহসিন ও কবি হুমায়ুন কবির। পরিশেষে চা চক্রের মধ্য দিয়ে আড্ডার পরিসমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য যে, “আড্ডা ধানসিড়ি” বরিশালের একটি সাহিত্য সংগঠন। প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শুক্রবার বরিশালের বগুড়া রোডস্থ আম্বিয়া হাসপাতালের পাশে অবস্থিত জীবনানন্দ অঙ্গনে সাহিত্য প্রেমীদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।