পটুয়াখালীতে স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, স্বামীসহ গ্রেফতার ৪

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার ওসি এমআর শওকাত আনোয়ার।

গ্রেফতাররা হলেন- বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার মৃত্যু আবুল কাসেমের ছেলে স্বামী মিলন খান, গলাচিপার সাগর চৌকিদার, হেলাল চৌকিদার, মোসা. রুবি বেগম। পুলিশ জানায়, চার বছর পূর্বে গ্রেফতার মিলন খানের সঙ্গে তয়নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তয়না বুঝতে পারে যে তার স্বামী প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।


তখন থেকেই মিলনকে ভালভাবে চলাফেরা করতে ও অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন তয়না। এসব কথা বলার পর থেকেই তয়না সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে মিলন।


এসব ঘটনার পরে উভয়পক্ষের মুরুব্বিরা একাধিক সালিশের মাধ্যমে এ সমস্যা মীমাংসা করে। তারা আবার সংসার শুরু করে। কিছু দিন যাবার পর মিলন আবার পূর্বের মতো রকম আচরণ শুরু করে।

এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে মারপিট সহ্য করতে না পারায় বাবার বাড়িতে চলে আসে। আসার পরেই মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে তয়নাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশসহ নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। ২ মার্চ উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের গুপ্তের হাওলা গ্রামের ওই গৃহবধূর বাবার বাড়িতে তয়নার শয়ন কক্ষের জানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে। মিলনের ছোড়া অ্যাসিডে তয়নার মুখ ও শরীরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তয়নার বড় ভাই ইভান হাওলাদার গলাচিপা থানায় একটা মামলা দায়ের করেন।


এ বিষয়ে গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ আসামি মিলনকে গ্রেফতারে মাঠে নামে। মিলন ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে সে ছদ্মবেশে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে থাকে।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ মার্চ ভোর ৫টার দিকে ঢাকা গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে পুলিশ এসআই মৃণাল চন্দ্র সিকদার প্রধান আসামি মিলনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এই অ্যাসিড সন্ত্রাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে মিলন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা গলাচিপা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *