সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে তাড়িয়ে দিয়েছে ৩ ছেলে

মায়ের শেষ সম্বল ভিটে মাটিসহ প্রায় ১০ শতক জমি লিখে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলেদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের পাঁচ দোয়াল গ্রামে।

ভাগ্যাহত ওই মায়ের নাম সালেহা বেগম (৯০)। তিনি উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের পাঁচ দোয়াল গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দীনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মাকে মারপিট করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ৩ ছেলে। পরে ওই মা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার গেলেও কেউ বিষয়টি সমাধান করেননি। অবশেষে কোন পথ না পেয়ে ১০ দিন ধরে বালিয়াডাঙ্গী বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে সহযোগিতা তুলে জীবন-যাপন করেছেন তিনি।

টাকার অভাবে ছেলেদের মারপিটে আহত হওয়ার চিকিৎসাও করাতে পারেননি। ছোট ছেলের আঘাতে মুখে কালো রং ধারণ করেছে।

সেই মা বলেন, বিয়ের পর ৩ ছেলের জন্ম হওয়ার কয়েক বছর পরই মারা যায় তার স্বামী। স্বামী শেষ সম্পত্তিটুকু আগলে অনেক কষ্টে বড় ছেলে খলিলুর রহমান, মেজো ছেলে আব্দুল ও ছোট ছেলে খাজিজুল রহমানকে লালন-পালন করেন তিনি। পরে একে একে তিন ছেলেকে বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের পর কোনো ছেলেই তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। ১ মাস আগে স্বামীর শেষ সম্বলটুকুও জোর করে লিখে নিয়েছে ছোট ছেলে খাজিজুল।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে জমি লিখে নেয় আমাকে নতুন করে ঘর করে দিয়ে দেখাশুনা করবে এমন শর্তে। কিন্তু জমি লিখে দেওয়ার পর আমার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আমি বাড়ি থেকে বের হতে না চাইলে মারপিট করে মুখ ফাটিয়ে দেয় খাজিজুল।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রেজু হক বলেন, ছোট ছেলে খাজিজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী প্রায় বৃদ্ধ মায়ের ওপর অত্যাচার করতো। একাধিকার বিচার শালিসও করেছি আমি ও স্থানীয়রা।

তবে মোবাইল ফোনে ওই তিন ছেলের সঙ্গে একাধিকার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই বৃদ্ধ মাকে খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি তার তিন ছেলেকেও ডাকা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান হবে। ছেলেরা মাকে নিতে না চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতিত মাকে সহযোগিতা করা হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *