হুয়াওয়ে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সেবা বন্ধ

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল চীনা ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সেবাসহ নিজেদের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে গুগল অ্যান্ড্রয়েডের পরবর্তী যে ভার্সন বাজারে আনবে সেখানে হুয়াওয়ের জন্য তাদের আপডেট বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, এখন যারা হুয়াওয়ে ব্যবহার করেন, তাদের কোনো চিন্তা নেই।

গুগল আসলে কী বলছে?

গুগল সেই সব সেবা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে যেখানে হার্ডওয়্যার অথবা সফটওয়্যারের জন্য টেকনিক্যাল সার্ভিস প্রয়োজন হয়। এখানে আবার বলা হয়েছে, ওপেন সোর্স লাইসেন্সের আওতায় যে সব সেবা আছে, সেগুলো পাওয়া যাবে।

ওপেন সোর্স লাইসেন্সের সেবা মূলত ‍মূলত বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করার স্বাধীনতা, তার প্রোগ্রামিং সংকেত (কোড) দেখার স্বাধীনতা, বিতরণ করার স্বাধীনতা, নিজের মতো পরিবর্তন করে তা ব্যবহার ও আবার বিতরণ করার স্বাধীনতা সকলের থাকে। এগুলো একটি ওপেন সোর্স লাইসেন্সের আওতায় থাকে।

সে ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের নতুন ফোনে পাওয়া যাবে না অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট। একই সঙ্গে জনপ্রিয় সেবা গুগল প্লে স্টোর, জিমেইল, ক্রোম ব্রাউজার এবং ইউটিউবও চলবে না। এগুলো গুগলের নিজস্ব ব্যবসায়িক সেবা।

তাহলে হুয়াওয়ে কী করবে?

মোবাইল ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম না পাওয়া মানে হুয়াওয়ের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ বিশ্ববাজারে তাদের নিজস্ব কোনো অপারেটিং সিস্টেম নেই। নতুন ফোনে তারা অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট (এওএসপি) ব্যবহার করতে পারবে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এই সিস্টেম আধুনিক ডিভাইসের মতো উন্নত নয়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হুয়াওয়ে বসে নেই। গত কয়েক বছর ধরে সমস্যা আঁচ করতে পেরে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে তারা। চীনে কিছু প্রযুক্তি তারা বাজারেও ছেড়েছে। তা ছাড়া চীনে গুগলের অধিকাংশ অ্যাপ নিষিদ্ধ। নিজেদের দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সেখানে। তাই বিশ্ববাজারে হুয়াওয়ে বিপাকে পড়লেও নিজ দেশের বাজারে অতটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।

গুগলের কেন এমন সিদ্ধান্ত?

গুগল মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে এটি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুয়াওয়েকে ‘বিপজ্জনক’ তালিকাভুক্ত করার কয়েক দিন বাদে এই সিদ্ধান্ত নিল তারা। আমেরিকার অভিযোগ, চীনের এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *