বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সহধর্মিণী বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  বরিশাল শহরের কাউনিয়া এলাকায় অভিজাত কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর  পিতার নাম কাজী মোখলেসুর রহমান। ছাত্র জীবন থেকেই বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি বরিশাল মহিলা কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। একই ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বেগম আরজু মনি সেরনিয়াবাত, আওয়ামী যুবলীগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মাতা।  পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তিনি পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডির বেচে যাওয়া গুলিবিদ্ধ একজন প্রত্যক্ষ দর্শী । সেদিন ঘাতকের গুলিতে তাঁর চার বছরের শিশু পুত্র সুকান্ত বাবু, শ্বশুর আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ননদ বেবী সেরনিয়াবাত, দেবর আরিফ সেরনিয়াবাত, এবং ভাসুর শহিদ সেরনিয়াবাত নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  একজন মহীয়সী নারী হিসেবে সমাজ ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন নিজ গুণাবলীতে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যেমন যুক্ত ছিলেন, তেমনি ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তিনি বরিশালের অন্যতম নাট্য সংগঠন শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান ছিলেন। যুক্ত ছিলেন প্রান্তিকের সাথেও।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম সাহান আরা  আব্দুল্লাহ ৭ জুন ২০২০ইং (রবিবার) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্বামী, তিন পুত্র, এক কন্যা এবং নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।  বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ এর আপন বড় মামী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আওয়ামী যুবলীগ এর পক্ষ থেকে সবার দোয়া কামনা করা হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *