মুখ বেঁধে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার হাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

বুধবার সকালে জেলা কৃষি ফার্ম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী (১৪) বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে তার (প্রধান শিক্ষক ) কক্ষের শৌচাগারে জড়িয়ে ধরেন। পরে ওড়না দিয়ে মেয়েটিকে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ সময় ভয়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তার চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে সুস্থ করে তোলেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ছাত্রীকে শিক্ষক আইন উদ্দিন ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। মেয়েটি ওই দিন স্থানীয় দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করে বাড়িতে গিয়ে তা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনা জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী কয়েক দফা মানববন্ধনও করেন।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলে, হেড স্যার গত জানুয়ারির শেষ দিকে আমার এক বান্ধবীকে ওই শৌচাগারের ভেতরে নিয়ে এ রকম করেছিলেন। বিষয়টি আমি দেখে ফেলায় তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন।

এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে আমাকে স্যার তার কক্ষে ডেকে নিয়ে খাবার খাওয়ার কয়েকটি প্লেট ধুতে বলেন। আমি শৌচাগারে প্লেটগুলো ধুতে গেলে তিনি কৌশলে সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি তোয়ালে দিয়ে আমার মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে আমার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমার জ্ঞান ফিরলে তিনি বলেন, তুই ওই ঘটনাটি যেহেতু দেখে ফেলেছিলে তাই তোকেও এমন করলাম। বিষয়টি এখন কাউকে জানালে তোকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিব এমনকি মেরে ফেলব।

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের অপর ঘটনায় আরেক ছাত্রীর দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার সকালে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে শিক্ষক আইন উদ্দিন জানতে পারেন যে, ২৮/২/ ২০১৯ তারিখের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে। এ খবর পেয়ে শহরের কৃষি ফার্মের ভেতর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ডিবি পুলিশের এসআই শরিফুল হক ও এসআই জাকির হোসেন তাকে গ্রেফতার করেন।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ নূর এ আলম জানান, বুধবার সকাল ৯টায় বারহাট্টা থানার ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *