পবিত্র হজ শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, এটা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ-লাখ মুসলিমের এক অপূর্ব মিলনমেলাও বটে। এ মিলনমেলায় ঘটে যায় এমনসব ঘটনা, যা শুনলেও মন ভরে ওঠে অন্যরকম আনন্দে। এবারের হজে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা থেকে তেমনই দু’টি ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো :
আরাফাত ময়দানে সন্তান প্রসব জর্দান থেকে হজে গিয়েছিলেন হাজি মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী। হজের নিয়ম অনুসারে যেদিন তাদের আরাফাতের ময়দানে রাত কাটানোর কথা, সেদিনই প্রসব বেদনা উঠলো তাঁর স্ত্রীর। দ্রুত তাঁকে নেয়া হলো আরাফাতে অবস্থিত জাবাল আল-রাহমা জেনারেল হসপিটালে। সেখানে জন্ম হলো সুস্থ সুন্দর একটি ছেলেশিশুর। হাসপাতালের জেনারের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. ওয়াদ্দাহ আবদুল সাত্তার নিজে বের হয়ে এসে শিশুর পিতাকে সুসংবাদটি দিলেন। খবর শুনে আবেগে আপ্লুত হাজী মোহাম্মদ। তিনি ভাবতেও পারেননি পবিত্র হজ পালনের সময় সন্তানের পিতা হবেন। তিনি ডাক্তারের কাছে তাঁর নাম জানতে চাইলেন। যে-ই শুনলেন ডাক্তারের নাম ওয়াদ্দাহ, বললেন, আমার ছেলের না্মও তাহলে হবে ওয়াদ্দাহ।

হাজী সাহেবের কথা শুনে ডাক্তার সাহেবও অবাক! বললেন, এটা আমার জন্য চমৎকার একটা উপহার। আমি এমনটা ভাবতেও পারিনি। আমার সত্যিই অসম্ভব খুশি লাগছে।
এদিকে প্রসূতি মা যাতে হজ সম্পন্ন করতে পারেন দ্রুত সে ব্যবস্থা নেয় সউদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা প্রসূতি মা-কে আরাফাত ময়দানে রাত্রি যাপনের সুবিধার্থে মুজদালিফায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে মিনায়ও নেয়া হয়। স্ত্রীর প্রতি এত যত্ন নেয়া দেখেও আপ্লুত হাজী মোহাম্মদ।
১৫ বছর পর ভাই-বোনের দেখা ইসরাইলী দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে আক থেকে ৩০ বছর আগে পরিবারের সাথে প্যালেস্টাইন ছেড়ে লেবানন চলে গিয়েছিলেন দু’ ভাই-বোন মূসা ও লতিফা। ভাইটির বয়স তখন দু’ বছর মাত্র। এ সময় লতিফা চলে যান মিশর। তারপর মাঝে একবার দেখেছিলেন ভাইকে। আর এবার সউদি বাদশার বদান্যতায় ফিরে পেলেন ভাইকে। এসময় ভাইকে কাঁদতে-কাঁদতে ভাইকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
সূত্র : সউদি গেজেট

Leave a Reply