ফুচকা বিক্রেতা শারমিনের কাছ থেকে পুলিশ দৈনিক চাঁদা নেয় ২৫০ টাকা

ব্যবসায় লাভ হোক আর না হোক; ফুচকা বিক্রেতা শারমিনকে প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় ২৫০ টাকা। লাইনম্যানের মাধ্যমে এই চাঁদার টাকা চলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফুটপাতে দোকানে দাঁড়িয়েই পুলিশকে চাঁদা দেয়ার কথায় জানান শারমিন। তিনি বলেন, ‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করতে পারি? কে কোথায় দোকান বসাবে, কতক্ষণ থাকবে-তার সবই হয় পুলিশের ছকে। চাঁদা দিয়ে দোকান করি, এটি ঢাকা শহরের একটি কাকও জানে।’

গল্পচ্ছলে জীবন-জীবিকার কথা শোনান শারমিন। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। স্বামী শাহজালাল শৈশব থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফেরি করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। ১১ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। ৮ বছর বছর বয়সী মেয়ে ধানমন্ডির একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলের বয়স দুই বছর।

আগে শুধু ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও এখন সঙ্গে বুট আর ফুচকাও বিক্রি করেন এই দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ব্যবসায় যোগান দিয়ে আসছেন তিনি। আগের জায়গা থেকে সরে মিরপুর সড়কের এই জায়গায় দোকান করেছেন এক বছর হলো। ৩২ নম্বরে থাকাকালে প্রতিদিন চাঁদা দিতেন ১২০ টাকা করে। নতুন জায়গায় আসার পর তা বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

প্রধান সড়কের পাশে এভাবে দোকান করা ঠিক কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে শারমিন বলেন, ‘অবশ্যই ঠিক না। জানি, মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হয়। কিন্তু উপায় কী! কাজ করে তো খাচ্ছি। পুলিশ চাঁদা নিয়ে দোকান করার জায়গা দিয়েছে। দৈনিক ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে কষ্ট হয়। তবে ব্যবসাও এখন ভালো হয়। আর চাঁদার টাকা তো পকেট থেকে দিই না। আগে যে মুড়ি বিক্রি করতাম ১০ টাকায়, এখন তা বিক্রি করছি ১৫ টাকায়। এই অতিরিক্ত ৫ টাকা থেকেই চাঁদা দিই।’

ব্যবসার লাভ-লোকসান বিষয়ে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যবসা করি। স্বামী-স্ত্রী শিফট করে দোকান করি। দিনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। বিক্রি ভালো হলে লাভ থাকে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। তবে পণ্যের দাম কম থাকলে আরও লাভ হতো।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *