মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ইব্রাহিম সলিহ

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ইব্রাহিম সলিহ

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন বিরোধী দলের প্রার্থী ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট পদে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনকে পরাজিত করে নির্বাচনে জিতেছেন ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। তিনি ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, আবদুল্লা ইয়ামিন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ১৩২ ভোট। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে দ্বীপপুঞ্জে বিরোধী মতকে দমনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এখনো নির্বাচনে তাঁর পরাজয় স্বীকার করেননি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে ইতিমধ্যেই সলিহ–সমর্থকেরা জয় উদ্‌যাপনে রাস্তায় নেমে আসেন।

নির্বাচনের ফল জানার পর সলিহ–সমর্থকদের উদ্‌যাপন। ছবি: রয়টার্স

সলিহ প্রেসিডেন্ট ইয়েমেনকে ‘জনরায় মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। ইবু নামে জনপ্রিয় সলিহ রাজধানী মালেতে বলেন, ‘এই বার্তা এখন পরিষ্কার। মালদ্বীপের জনগণ পরিবর্তন, শান্তি ও ন্যায়বিচার চায়।’

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আরেক মেয়াদে জয় পাবেন বলে মনে করা হচ্ছিল। তাঁর প্রতিপক্ষের অনেকে এখন কারাগারে। ভোটের আগে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের পক্ষে ভোটে কারচুপি হবে।

নির্বাচনে জয় পাওয়া সলিহ মালদ্বীপের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক। দেশটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এবার নির্বাচনে তিনি বিরোধী জোট থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন। তাঁর জোটে রয়েছে এমডিপি, জুমহরি পার্টি ও আদহালাথ পার্টি। ২০১১ সাল থেকে তাঁর দল এমডিপির হয়ে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নির্বাচনের ফলের পর দেশটির নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ টুইটারে সলিহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, মালদ্বীপের জনগণের জন্য ‘তিনি খুবই ভালো কাজ করেছেন’। নাশিদকে ২০১২ সালে উৎখাত করেন ইয়ামিন।

প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন ভোট দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি

চার লাখের বেশি অধিবাসীর দেশ মালদ্বীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের সঙ্গে লড়াই করে চলতে হয়। দেশটির অর্থনীতিতে মূল ভূমিকা রাখে পর্যটন।

দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট নাশিদসহ নয়জন বিরোধী নেতাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর পরই প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং দুই বিচারপতিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে আদালত ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। ওই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ইয়ামিন তাঁর শাসনকে চ্যালেঞ্জ করবে—এমন কোনো কিছু সহ্য করবেন না। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় জ্বলে ওঠে ওয়াশিংটন, লন্ডন ও নয়া দিল্লি।

ছোট্ট এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অনেকে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। নাশিদও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সুনজরে দেখেনি ভারত। ইয়ামিনের শাসনামলে মালদ্বীপ তাদের বড় প্রকল্পগুলোতে চীনের অর্থায়নকে স্বাগত জানায় এবং দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে। মালদ্বীপে এখন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় চীনের পর্যটক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

চীনের অর্থায়নে নির্মিত সিনামালে নামে এই সেতু রাজধানী মালের সঙ্গে বিমানবন্দর দ্বীপ হুলহুলেতে সংযোগ স্থাপন করেছে। ছবি: রয়টার্স

বিশ্লেষকদের মতে, স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে—এই ভয় থেকে মালদ্বীপে সরকার পরিবর্তন হোক তা চায়নি চীন।

ইয়ামিন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের সৎভাই। দেশটিতে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন দশক পর্যন্ত দেশটিতে স্বৈরশাসন চালান মামুন আবদুল গাইয়ুম। ওই নির্বাচনে নাশিদ জয়ী হয়েছিলেন। গত জুন মাসে মামুন আবদুল গাইয়ুমকে কারাগারে পাঠানো হয়।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *