যুক্তফ্রন্টের ৫ দফা দাবি ও ৯টি লক্ষ্য ঘোষণা

পাঁচ দফা দাবি ও নয়টি লক্ষ্য ঘোষণার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের যাত্রা শুরু হলো যুক্তফ্রন্টের।

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কয়েকদফা অনুমতি চেয়েও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুমতি দেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেখানেও বাধা দেয় পুলিশ। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে মাইক টানানো হলে পুলিশ তা কেড়ে নিয়ে যায়।

পরে বাধ্য হয়ে প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এ সময় পাশে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় ঐক্যের পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। কর্মসূচিতে আসার পথে মগবাজারে ‘অসুস্থ’’ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, শহীদ মিনারে কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না, জানতে পেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আজকে ৫ দাবি ও ৯ লক্ষ্যের মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের যাত্রা শুরু হলো। এক্ষেত্রে আমরা সবারই সহযোগিতা চাই। সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক জনগণ। তাদের চাওয়া পাওয়াই আমাদেও কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, আজ জণগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নেতা নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।

নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়াসহ ৫ দাবি তুলে ধরে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। ওই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক্, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না। নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

নাগরিক ঐক্য আহবায়ক বলেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *