বরিশালে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা নেননি বিসিএস শিক্ষকরা

‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’ দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতির দ্বিতীয় ও শেষ দিন অতিবাহিত হয়েছে। সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির ফলে বরিশাল বিভাগের ২৩টি সরকারি কলেজের ৮শ’ শিক্ষক সকল ধরনের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

গত রবিবার প্রথমদিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনও সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

কর্মবিরতির ফলে ২৩টি সরকারি কলেজের নিয়মিত ক্লাশ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পরীক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা স্ব-স্ব ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।

এদিকে, ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিভাগের ২৩টি সরকারি কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অলস সময় কাটিয়ে ফিরে গেছেন। একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বহু সেবাপ্রত্যাশী ওইসব অফিসে গিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়করণকৃত ২৮৩টি কলেজের শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে ক্যাডার বর্হিভুত করে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বতন্ত্র বিধিমালা জারির দাবি জানিয়েছেন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা।

দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতির পরও দাবি আদায় না হলে আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ৩দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালনের কথা বলেন তারা। একই সাথে ক্যাডারভুক্ত করে নতুন কোন কলেজ জাতীয়করণ করা হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেন বিসিএস শিক্ষক নেতারা।

 

এর আগে একই দাবিতে গত ১১ নভেম্বর বরিশাল বিএম কলেজে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। এছাড়া ২২ অক্টোবর বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিসিএস শিক্ষা সমিতির নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরে সবার সমর্থন কামনা করেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *