Bangla Online News Banglarmukh24.com
আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ রাজণীতি

যে পাঁচ কারণে ভরাডুবি হলো কংগ্রেসের

পরপর টানা দুবার ভরাডুবি হলো রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের। রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের অধীন ইউপিএ জোটের চেয়ারম্যান। জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে তিনি ইউপিএকে তলানি থেকে উঠিয়ে আনতে পারলেন না। ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামানো হয় রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। তিনি মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে ভোটের মাঠে তিনি ব্যর্থ হলেন। স্বাধীনতার পর প্রায় চার দশক ভারত শাসন করা কংগ্রেসের এই নাজুক অবস্থার নেপথ্যের পাঁচটি কারণ জানানো হলো।

দুর্বল নেতৃত্ব
সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল। সোনিয়ার আমলে দুবার ইউপিএ জোটের ওপর ভর করে সরকার গঠন করে কংগ্রেস। তবে ২০১৪ সাল থেকে দলের মূল ভূমিকায় আসেন রাহুল। তার পর থেকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় চরিত্রের রাজনীতিক হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেননি তিনি, যেটা পেরেছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী থেকে ভারতের ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে গেছেন মোদি।

বিজেপিবিরোধী ইস্যু তৈরিতে ব্যর্থতা
রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন। যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; রাফায়েল দুর্নীতি, অর্থনীতির মন্দা গতি, কৃষক অসন্তোষ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন। তবে এসব ইস্যুতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল। রাজনীতির জন্য সঠিক সময়ে সঠিক ইস্যু তৈরি করে মানুষের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি তার।

আঞ্চলিক দলের আস্থাহীনতা
উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোট গড়তে ব্যর্থ হন রাহুল। তাদের দৃষ্টিতে, রাহুলের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। একই চিত্র পশ্চিমবঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি হননি। মোটা দাগে এমন চিত্র আরও কিছু রাজ্যে।

মোদিঝড়
প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ইস্যুতে ঝড় তুললেও রাহুল তা পারেননি। গণমাধ্যমে তার মুখ দেখা গেছে খুবই কম। মোদির মতো তিনি তেমন প্রচারে আসতে বা থাকতে পারেননি। তাছাড়া মোদি যেভাবে ভারতের মানুষের আবেগকে ধরতে পেরেছেন রাহুল সেখানে ব্যর্থ।

পারিবারিক রাজনীতির প্রতি অনীহা
বিজেপি যেভাবে গান্ধী পরিবার নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করেছে, তা সামাল দিতেপারেনি কংগ্রেস। জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীকে নিয়ে বিতর্কিত ইস্যু চাঙ্গা করে ভোটের মাঠে ফায়দা তুলেছেন মোদি ও অমিত শাহরা। আর অমিত শাহর ধর্মীয় রাজনীতি মোকাবেলার মতো তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না রাহুলের হাতে।

ভারতের স্বাধীনতার পর ৭২ বছরের মধ্যে ৫৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেছে কংগ্রেস। এর মধ্যে রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পরই কেবল কয়েক বছরের জন্য দলের নেতৃত্ব গান্ধী পরিবারের বাইরের কারও হাতে ছিল। দীর্ঘ সময় দল ও দেশের নেতৃত্বে থাকা পরিবারটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল অতীতে। বিজেপি সেই বিষয়টি সামনে আনতে পেরেছেন ভালোমতোই, যা ভোটারদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সহকর্মীদের চোখের জলে সাংবাদিক তুষারের শেষ বিদায়

banglarmukh official

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ উপহার দিলো ছাত্রদল

banglarmukh official

আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

banglarmukh official

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

banglarmukh official

জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

banglarmukh official

দিল্লির ঘরে ঘরে জ্বর!

banglarmukh official