Author: banglarmukh official

  • ১০২ বছর বয়সে দৌড়ে স্বর্ণ জয়!

    ১০২ বছর বয়সে দৌড়ে স্বর্ণ জয়!

    বয়স কোনো বাধা নয়—এ কথা বিভিন্ন সময় অনেকেই প্রমাণ করেছেন। এবার সেটা করলেন ১০২ বছর বয়সী ভারতীয় নারী অ্যাথলেট মান কৌর। তিনি সম্প্রতি স্পেনের মালাগায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতেছেন।

    ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতিযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ থেকে ১০৪ বছর বয়সীদের নিয়ে ২০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় মান কৌর সোনা জয় করেন। ৩ মিনিট ১৪.৬৫ সেকেন্ড সময়ে ২০০ মিটার দৌড়ে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন।

    মান কৌর ৯৩ বছর বয়সে নিজেকে অ্যাথলেটিকেসর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। চলতে থাকে তাঁর অনুশীলন। ৮ বছর পর ১০১ বছর বয়সে তিনি চণ্ডীগড় শহর থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে গিয়ে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে জয়ী হন।

    ২০১৬ সালে আমেরিকান মাস্টার্স গেমসে বিশ্বের শতবর্ষী হিসেবে দ্রুতগামী হয়ে রেকর্ড করেন এই নারী। দৌড়ের প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, দৌড় প্রতিযোগিতায় কথা শুনলেই তিনি মুখিয়ে থাকেন। ৮০ বছর বয়সী তাঁর পুত্র গুরুদেব সিংও আন্তর্জাতিক দৌড় ও অ্যাথলেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে মান কৌর বলেন, ‘আমি এটি উপভোগ করেছিলাম, আমি ভীষণ খুশি। আমি ফের দৌড়াতে যাচ্ছি। দৌড় আমি ছাড়ছি না। দৌড়ে আমি অংশ নেব, এর কোনো ব্যত্যয় নেই।’

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে অদম্য এই নারী বলেন, ‘আমি আরও জয় করতে চাই। জয়ের পর আমি ভীষণ খুশি অনুভব করি। সরকার আমাকে কিছু দেয়নি। তবে এটা কোনো ব্যাপার না, আমি শুধু দৌড়াতে চাই। কারণ দৌড় আমাকে প্রশান্তি দেয়।’

    শুরুর দিকে প্রথম পাঁচ মাস মান কৌর ও তাঁর ছেলে পাতিয়ালায় অবস্থিত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কীভাবে স্বাস্থ্য ধরে রাখেন এমন প্রশ্নের জবাবে মান কৌর বলেন, তিনি দিন শুরু করেন দই ও আটার তৈরি রুটি খেয়ে।

  • নক্ষত্রের অস্বাভাবিক রশ্মি নিয়ে ধন্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

    নক্ষত্রের অস্বাভাবিক রশ্মি নিয়ে ধন্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

    নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কিছুটা ধন্দে পড়েছেন। দূর মহাকাশে একটি নিউট্রন নক্ষত্র থেকে বিকিরিত অস্বাভাবিক উজ্জ্বল ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি তাঁদের নতুন এক ভাবনায় ফেলেছে।

    পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত নাসার হাবল টেলিস্কোপ থেকে তোলা ছবিতে এই অস্বাভাবিক ঘটনা ধরা পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের দল মনে করছে, অতি ভারী নিউট্রন নক্ষত্রের পরিণতি কোন দিকে গড়ায়, এ থেকে তার কিছু ধারণা পাওয়া যাবে।

    সুপারনোভার মাধ্যমে যখন বিশাল আকৃতির নক্ষত্রগুলোর মৃত্যু ঘটে, তখন সেই নক্ষত্র তার সমস্ত বস্তু নিয়ে নিজের ভেতরেই নিজে আছড়ে পড়ে। এই আছড়ে পড়া কেন্দ্রীয় অঞ্চলটি তখন অতি উচ্চগতিতে বনবন করে ঘুরতে থাকে আর তা থেকে স্পন্দনের মতো বিকিরণ নির্গত হয়। এ জন্য এগুলোর আরেকটি নাম পালসার।

    নিউট্রন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করা হয় সাধারণত এক্স-রে টেলিস্কোপ ও বেতার তরঙ্গ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে। এখন অবলোহিত রশ্মিও যদি এগুলোর মধ্য থেকে নির্গত হয়, সে ক্ষেত্রে এগুলোকে পর্যবেক্ষণের নতুন একটি জানালা খুলে যাবে।

    যে নক্ষত্রটি থেকে অবলোহিত রশ্মি পাওয়া গেছে, সেটির কেতাবি নাম আরএক্স জে ০৮০৬.৪-৪১২৩ আর সেটা পালসারের এমন একটি দলের সদস্য, যে দলকে দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন বা সাত জাঁদরেল নামে ডাকা হয়। বয়সের অনুযায়ী যতটা উত্তপ্ত থাকার কথা, এগুলো তার চেয়ে অনেক উত্তপ্ত। অর্থাৎ এগুলো অনেক দুরন্ত।

    এ পর্যন্ত সব ঠিকই আছে। কিন্তু ধন্দ লাগছে এটির অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নিয়ে। গবেষকেরা অনুমান করছেন, এই বাড়তি উজ্জ্বলতার পেছনে বাড়তি কোনো কারণ থাকতেই হবে। না হলে ব্যাখ্যা করা মুশকিল।

    এই উজ্জ্বল বিকিরণ শনাক্ত করেছে বিজ্ঞানীদের যে দল, তার নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক বেটিনা পোসেল্ট। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলেন, একটা তত্ত্ব হলো, সুপারনোভার পর নক্ষত্রটির চারপাশে বস্তুরাজি এসে জড়ো হয়েছে। সেগুলো একটি চাকতির মতো আকার নিয়ে ঘুরছে। দুটির মধ্যে টানাপোড়েনে পালসার নক্ষত্রটি উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে কমে গেছে এটির ঘূর্ণনের গতি।

    এই অনুমান সত্যি হলে নিউট্রন নক্ষত্রের বিকাশ ও পরিণতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পুরোনো ধারণায় পরিবর্তন আসবে।

    দ্বিতীয় আরেকটি তত্ত্ব হলো এটির পেছনে ক্রিয়াশীল পালসার ঝড় নীহারিকা। এটিতে বলা হচ্ছে, নক্ষত্র থেকে ছুটে আসতে থাকা চার্জিত কণিকাগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা গ্যাসের সঙ্গে ঘর্ষণ লেগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং অবলোহিত রশ্মি ছড়াচ্ছে।

    সত্যিকারে কী ঘটছে, তা জানতে হলে বিজ্ঞানীদের নতুন আরেকটি টেলিস্কোপ বসানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

  • ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার ২০ উপায় জেনে রাখুন !!

    ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার ২০ উপায় জেনে রাখুন !!

    শুধু বুড়ো মানুষই নয়, বহু তরুণও এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসের সরাসরি নিরাময় না থাকায় এতে আক্রান্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তবে কিছু উপায় রয়েছে যা আগে থেকে পালন করলে ডায়াবেটিস দূরে রাখা যায়। এ লেখায় রয়েছে ডায়াবেটিস সচেতনতার তেমন কিছু উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    ১. ডায়াবেটিসকে জানুনঃ শরীরের ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হয়। সময় থাকতেই ডায়াবেটিস সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। এতে আগে থেকেই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়।

    ২. খাবারের পরিমাণ কমানঃ মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়া ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এ কারণে খাবারের পরিমাণ কমানো উচিত আগেভাগেই। খাবার খাওয়া কমানোর জন্য ছোট ছোট প্লেটে অল্প করে খাবার নিতে পারেন। এছাড়া খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলেও তাতে খাবারের পরিমাণ কমতে পারে।

    ৩. শারীরিক অনুশীলন করুনঃ আপনি যদি নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করেন তাহলে তা নানাভাবে আপনার স্বাস্থ্যের উপকার করবে। বিশেষ করে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন রোগ দূরে রাখায় এর ভূমিকা রয়েছে। এতে ডায়াবেটিসের মতো রোগও দূরে থাকবে।

    ৪. ওজন কমানঃ শরীরের ওজন যদি বেশি বেড়ে যায় তাহলে তা ডায়াবেটিসকে ডেকে আনতে পারে। তাই দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. লাল আটার খাবারঃ ধবধবে সাদা আটা-ময়দা বাদ দিয়ে লাল আটার তৈরি রুটি ও অন্যান্য খাবার খান। এটি আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

    ৬. সকালের নাস্তা গুরুত্ব দিনঃ সকালের নাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি কখনোই বাদ দেওয়া ঠিক নয়। সকালের নাস্তায় প্রোটিন যুক্ত করলে তা সারাদিনের ক্ষুধা কমায়। এতে শরীর যেমন সুস্থ থাকে তেমন ডায়াবেটিসও দূরে থাকে।

    ৭. ফ্যাটযুক্ত খাবার বাদ দিনঃ ফাস্ট ফুড দোকানের জাংক খাবার ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা আপনার রক্তে ক্ষতিকর কোলস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি রক্তের শর্করার মাত্রাও বাড়ায়। তাই এসব খাবার বাদ দিতে হবে।

    ৮. মিষ্টি পানীয় বাদ দিনঃ তেষ্টা পেলেই মিষ্টি পানীয় বা কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস বাদ দিন। মূলত যে কোনো মিষ্টি পানীয়ই ক্ষতিকর। তাই এসব পানীয় সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন।

    ৯. স্বাস্থ্যকর খাবার খানঃ আপনি যদি বিকালের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য অস্বাস্থ্যকর পিজা বা ফাস্ট ফুড বাদ দিয়ে তাজা ফলমূল কিংবা সালাদ খেতে পারেন তাহলে তা ডায়াবেটিস থেকে আপনাকে রক্ষায় সহায়তা করবে।

    ১০. সবজি খানঃ অনেকেই সবজি খেতে মোটেই আগ্রহী থাকেন না। যদিও সবজি আপনার বহু উপকার করতে পারে। তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত সবজি।

    ১১. মানসিক চাপমুক্ত থাকুনঃ মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে ইয়োগা, মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন।

    ১২. ভালোভাবে ঘুমানঃ রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। এতে আপনার দেহের ওপর চাপ কমবে এবং ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ দূরে থাকবে। ঘুমের অভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষতি হয়।

    ১৩. আঁশযুক্ত খাবার খানঃ যেসব শাক-সবজি ও খাবারে প্রচুর আঁশ রয়েছে সেসব খাবার খান। এতে আপনার টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে আঁশযুক্ত খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। এতে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    ১৪. প্রচুর পানি পান করুনঃ প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। পানি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম চালানো সহজ করে দেবে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেহের নানা সমস্যা হতে পারে।

    ১৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুনঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো নীরবেই থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা তা বুঝতে পারেন না। ফলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

    ১৬. সূর্যতাপ গ্রহণ করুনঃ ভিটামিন ডি দেহের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। আর সূর্যতাপ ভিটামিন ডি গ্রহণের অন্যতম উপায়। তাই নিয়সিক সূর্যতাপ গ্রহণে ডায়াবেটিস দূরে থাকে।

    ১৭. মসলাসমৃদ্ধ খাবার খানঃ জার্মান গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনিসমৃদ্ধ খাবার ডায়াবেটিস দূরে রাখতে সহায়তা করে। তাই খাবারে দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করুন।

    ১৮. সয়ার খাবার খানঃ সয়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। তাই সয়াযুক্ত খাবার খেয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করুন। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে।

    ১৯. গ্রিন টি পান করুনঃ নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যা রক্তের শর্করা কমাতে ভূমিকা রাখে।

    ২০. ধূমপান বর্জন করুনঃ ধূমপানে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ হলো দেহের হরমোনজনিত পরিবর্তন। এ কারণে ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে ধূমপান বর্জন করা উচিত।

  • সরকারি সাত কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে

    সরকারি সাত কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের বাণিজ্য, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে। ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে অধিভুক্ত সাত কলেজের ওয়েবসাইটে।

    এ পরীক্ষা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে ভর্তিপরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হবে।

    বিস্তারিত তথ্য www.7collegedu.com ওয়েব সাইটে ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

  • এশিয়া কাপের মধ্যেই ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আফগানিস্তানের শাহজাদকে

    এশিয়া কাপের মধ্যেই ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আফগানিস্তানের শাহজাদকে

    ফিক্সিংয়ের করাল গ্রাস থেকে বেরোতেই পারছে না ক্রিকেট। বরং দিনকে দিন এটা ভয়ংকর থেকে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। চলতি এশিয়া কাপেই ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন আফগানিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। তবে সেটা তিনি সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়ে দিয়েছেন টিম ম্যানেজম্যান্টকে।

    এশিয়া কাপের মধ্যে প্রস্তাব দেয়া হলেও শাহজাদকে অবশ্য এই টুর্নামেন্টে কিছু করতে বলেনি জুয়াড়িরা। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে আফগান প্রিমিয়ার লিগ। এবারই প্রথমবারের মতো বসছে আসরটি। এতে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাকে। শাহজাদ প্রস্তাব পেয়ে টিম ম্যানেজম্যান্টকে জানিয়েছেন। তারা সেটা জানিয়েছে আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিটকে। এখন আইসিসিই পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে।

    আফগান প্রিমিয়ার লিগে শাহজাদের দলের নাম পাকতিয়া। এই টুর্নামেন্টে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিশ্বের নামকরা কয়েকজন খেলোয়াড়ও অংশ নেবেন। এদের মধ্যে আছে ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদি, আন্দ্রে রাসেল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো নাম। আছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহীম আর তামিম ইকবাল।

    আইসিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চলতি এশিয়া কাপে একটা প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে সেটা তাদের (আফগানিস্তানের) নিজস্ব টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য। শনিবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়টা আমরা অবহিত হয়েছি। এন্টি করাপশন ইউনিট সেটা খতিয়ে দেখছে।’

    সোমবার দুবাইয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল নিশ্চিত করেছেন, গত ১২ মাসে কমপক্ষে পাঁচজন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন পূর্ণ সদস্য দেশের। একমাত্র পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ তার প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি লোকসম্মুখে প্রকাশ করেন।

  • গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পাওয়ার বিষয়টি ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হওয়ার পর তা দেখে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন।

    গত ১৩ এপ্রিল প্রতীকী পরিচ্ছন্নতায় গিনেস বুকে থাকা পূর্বের রেকর্ডের লোকসংখ্যার থেকে অনেক বেশি লোক অংশগ্রহণ করে ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা কর্মসূচিতে।

    ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বচ্ছ ঢাকা গড়তে নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রতীকী এই কর্মসূচির আয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন না হলেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এই শহরের নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে লেখা থাকবে। ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে এ প্রচার অভিযান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মসূচিতে জাতীয় স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ফায়ার সার্ভিস, নৃত্যশিল্পী, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন অংশ নিয়েছিলেন। এতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করলেও রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ১৫ হাজার ৩১৩ জন।

    ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতের আহমেদাবাদের কাছের একটা শহরে ৫ হাজার ২৬ জনকে নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করার একটি রেকর্ড রয়েছে। সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতায় জনগণকে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

  • দো-টানায় কাদের সিদ্দিকী

    দো-টানায় কাদের সিদ্দিকী

    মহাজোটে নাকি জাতীয় ঐক্যে থাকছেন, তার কোনটিই পরিষ্কার করলেন না কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। বরং রাজনীতির হালচালে নিজের অবস্থানকে দো-টানাতেই জিইয়ে রাখলেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসা এই রাজনীতিক।

    তবে সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী বনেই যাচ্ছেন টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী পরিবারের এই প্রভাবশালী সদস্য, অন্তত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তারই প্রমাণ মিলছে।

    ঢাকায় যখন রাজনীতির আলোচনায় বাতাস লেগেছে, তখন কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের সখীপুর-বাসাইলে নির্বাচনী আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় তার অনুপস্থিতি রাজনীতির আরেক রহস্য। শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর সমালোচনায় মুখর থাকা কাদের সিদ্দিকী হঠাৎ করেই নীরব।

    সম্প্রতি টাঙ্গাইলের এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘হাসিনাবিরোধী ষড়যন্ত্রে আমি থাকতে পারি না’। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করার পর থেকেই তিনি ভোল্ট পাল্টায় বলে অনেকে মনে করছেন।

    তাহলে কী পুরনো ঘর আওয়ামী লীগেই ফিরছেন, জানতে চাইলে জাগো নিউজকে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি আমার দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেব, তা পরিষ্কার করেছি।

    শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন করবেন কি-না, এমনটি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।

    নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে শেখ হাসিনার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন, সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

    জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ভালো মানুষেরা একসঙ্গে চললে সমাজ, রাষ্ট্র ভালো হয়।’ এ পথে আপনিও হাঁটবেন কি-না, জানতে চাইলে সিদ্দিকী বলেন, ‘যখন প্রয়োজন ছিল আলোচনায় অংশ নিয়েছি। প্রয়োজন নেই চলে এসেছি। দরকার হলো আবার আলোচনায় যাব। সময়ই সব বলে দেবে।’

  • ডেঙ্গুতে ফ্যাকাশে অদ্রিতার জীবনের আলো

    ডেঙ্গুতে ফ্যাকাশে অদ্রিতার জীবনের আলো

    ভোরের আভায় চোখে-মুখে যেন উচ্ছ্বাসের ছটা। হাসপাতালের বিছানা থেকে মুক্তি মিললেই খেলার মাঠে আলো ছড়াবে অদ্রিকা। কিন্তু নিদারুণ যন্ত্রণায় সমস্ত আলো যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে তার। চোখ লাল, দুর্বল শরীর, হাতে ক্যানোলা। প্রায় অনাহারে থাকা শিশুটি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। সর্বনাশা ডেঙ্গু অদ্রিকার সমস্ত সুখ যেন কেড়ে নিয়েছে।

    রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে এমন চিত্র দেখা মেলে। ভিকারুন্নেসা স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে অদ্রিকা। গত বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। ২২ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরের পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অদ্রিকার মা তাকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে খেতে চাচ্ছে না। কান্না আসছে কিন্তু কাঁদতে পারছে না।

    অদ্রিতার মা জানালেন, মাঝে হঠাৎ প্রচুর গরম পড়েছিল। বাসায় এসি ছেড়ে দিয়ে মশারি না টানিয়েই ঘুমাতে বাধ্য হয়েছি। ফলও পেলাম। ফুলের মতো ফুটফুটে মেয়েটা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো।

    একই হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে ডেঙ্গু রোগী ইসমাইল হোসেনের দেখা মেলে। বয়স ৩১। রাজধানীর মিরপুরে বাসা। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। এখন তিনি নিজেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি। গত এক সপ্তাহ ধরে এখানে, এর আগে ছিলেন আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে।সেখানে ‘তেমন ভালো’ চিকিৎসা না পেয়ে এখানে আসা।

    mosha2

    ইসমাইল হোসেন  বলেন, প্লাটেলেট (অণুচক্রিকা) অনেক কমে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে চার ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। এখন প্লাটেলেট বেড়েছে, কিন্তু পেট ফুলে গেছে। বসে থাকতে কষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে শুয়ে আছি, শরীরে ব্যথাও আছে। দু-তিনদিন জ্বর আসেনি। তবে একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছি।

    জানা গেছে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১৮ জন বিভিন্ন বয়সী ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রন্ত রোগী আসছেন। তবে রোববার মাত্র একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে রিপোর্ট করেন অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম। তিনি  বলেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বৃষ্টি শুরুর পর থেকে সাধারণত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ বছরের জুনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ৫০ জন, জুলাইয়ে ৭৩ জন, আগস্টে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ জনে। এর মানে ওই তিন মাসে ২১৩ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত জুনের ২৫ তারিখে ৭০ বছর বয়সী এক রোগী মারা যান।

    এ বিষয়ে হাসপাতালের মেট্রন (সেবা, তত্ত্বাবধায়ক) গোলাপী হালদার  জানান, সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৫১ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন। জ্বর নিয়ে অনেকেই ভর্তি হন, কিন্তু আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে রিপোর্টে লিপিবদ্ধ করি না। কোন রোগীর কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেটাও রিপোর্টে লিপিবদ্ধ হয়।

    হাসপাতালটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভর্তি হওয়া প্রায় সবারই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা, খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব এবং পেটে যন্ত্রণা ছিল। অনেক শিশুর সারা শরীরে হামের মতো ফুসকুড়িও দেখা যায়। বড়দের অনেকের ত্বকে কালচে দাগ, নাক, মুখ, মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়ারও রেকর্ড রয়েছে।

    এ বিষয়ে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক প্রফেসর ড. স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীরা খুব দুর্বল অনুভব করেন। এই দুর্বলতা দীর্ঘ সময় থাকে। তাই খাবার ও চলাফেরায় সচেতন হতে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালের আশপাশ থেকেই বেশি রোগী আসে। নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল কোন স্থানের লোক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমার মনে হয়, সবাই কাছাকাছি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।

    চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। বাড়ির পানির ট্যাংক, চৌবাচ্চা, এয়ার কুলার এবং বাড়ির অনান্য জলাধারের পানি সপ্তাহে একদিন খালি করে শুকিয়ে নিতে হবে এবং সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া সারা শরীর ঢাকা থাকে এমন পোশাক পরতে হবে এবং রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারির ব্যবহার জরুরি।

    কিন্তু এসব নিয়ম মেনেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার নজির মিলছে। রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে রোববার সকালে জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু নিয়ে কমপক্ষে ছয়জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে একজন ২৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

    mosha2

    পাশে থাকা তার ভাবি ঝুমুর বলেন, শাহজাদপুরের বাসায় আছি সাত বছর ধরে। বাসায় কখনও মশার উপস্থিতি ছিল না। কেউ মশা বাহিত জ্বর বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্তও হয়নি। এরপরও ইমরান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলো। আজ পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে। তার প্লাটেলেট ৪৮ হাজারে নেমে গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, ইমরান চাকরি করে গুলশানে। আমার মনে হয় অফিসেই মশায় আক্রান্ত হয়েছে সে।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. শ্রাবনী বলেন, প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছে। গড়ে ৮-১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

    আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মাহমুদা হাসান  বলেন, গত মাসে এ আর রিজন নামে দুই মাসের এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়। অনন্যা নামের ১৩ মাসের এক বাচ্চাও এই মাসে ভর্তি হয়। তবে তারা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছে।

    তিনি বলেন, অনেক শিশুই আসছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা খারাপ ছিল। কিন্তু বড় কোনো ইনসিডেন্ট হয়নি। মারা যাওয়ার কোনো রেকর্ড এখানে নেই।

    বাচ্চাদের বিষয়ে মা-বাবাকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চাদের শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি গরম অনুভূত হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পরামর্শ ব্যতীত কোনো ওষুধ সেবন করানো যাবে না। এখন যেহেতু ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরামর্শ। এর বাইরে শিশুদের তরল খাবার দিতে হবে। নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।’

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিশালের সাংবাদিকরা

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিশালের সাংবাদিকরা

    ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবিতে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের সংবাদকর্মীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালীর বাউফলে শনিবার এ ব্যাপারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। আইনটি বাতিলের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে স্থানীয় পত্রিকার বার্তা সম্পাদকদের সংগঠন নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল।

    এ সংগঠনের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা শুরু থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। তার (হাসিবের) মতে এ কালাকানুন বাতিল না হলে সাংবাদিকতা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে। এ আইন বাতিলের দাবিতে আমরা লাগাতারভাবে অহিংস আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি বরিশালের গনমাধ্যম কর্মীরা আমাদের ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দাবি আদায়ের কর্মসূচিতে সামিল হবেন। শহীদ আবদুর সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীন সাংবাদিক এ্যাডভোকেট এস.এম ইকবাল বলেন, প্রত্যেক মানুষের সুরক্ষার জন্যই আইন রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলে সরকারের উচিত হবে প্রথমে তার সুষ্ঠু তদন্ত করা। তাঁর (ইকবাল) মতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি যদি অপপ্রয়োগ করা হয় তাহলে তা অবশ্যই খারাপ হবে। আর সঠিক ব্যবহার হলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা হবে বলে তিনি আশা করেন।

    এদিকে গত বৃহস্পতিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সুর্বন জয়ন্তী উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরী বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সত্য প্রকাশকারী, উন্নয়ন, গনতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা সাংবাদিকদের কোন ভয়ের কারন হবেনা।

    বিলের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত আ জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট আ অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত অপমান, অপদস্ত বা হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। উক্ত একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন তাহলে তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২৯ ধারায় ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্যানাল কোডের ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানিকর কোনও তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করার দায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটাবার উপক্রম হয়, তাহলে তিনি ৭ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি (অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতাভুক্ত) কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা তিনি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৪৩ ধারায় বলা পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও দলিলাদি জব্দ ও উক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করতে পারবে। তবে তল্লাশি সম্পন্ন করার পর এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

    ৮ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ক্ষেত্রমতো ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবেন। একইধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জন শৃঙ্খলা রক্ষায় মহাপরিচালকের মাধ্যমে একইভাবে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের এ ধারায় সরকারকে অবহিত করে বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত অনুরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    তবে সম্পাদক পরিষদ তাদের বিবৃতে বলেছে, এই প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হচ্ছি। কেননা, খসড়া আইনটির ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় মৌলিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই ধারাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি।

  • মাথাবিহীন অদ্ভুত শিশুর জন্ম

    মাথাবিহীন অদ্ভুত শিশুর জন্ম

    মাথাবিহীন অদ্ভুত এক ছেলে শিশুর জন্ম হয়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলায়। সোমবার সকালে উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে নাজমুল হক সোহেলের শ্বশুরবাড়িতে তার স্ত্রী মিশু আক্তার স্বাভাবিকভাবে (প্রথম সন্তান) এ শিশুটি প্রসব করেন।

    শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য এলাকার উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, মাথাবিহীন নবজাতক শিশুটি হাত-পা নাড়াচ্ছে। তবে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরার্মশ দিলে অভিভাবকরা অসম্মতি জানান।

    এ সময় শিশুটির বাবা নাজমুল হক সোহেল বলেন, শিশুটির মাথা নেই। তাকে খাওয়ালে বা হাসপাতালে নিলে কি হবে? জানি না আল্লাহর কাছে কী পাপ করেছি, এমন সন্তান কেন আমায় দিল?