Author: banglarmukh official

  • যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের রিপোর্ট দাখিল

    যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের রিপোর্ট দাখিল

    অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতায় যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে তথ্য পাচারের অপরাধ সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা তিনি ১৪ বছর কারাদন্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া আইনে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ক্ষতিকর তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে।

    ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া সভাপতিতে সংসদের ২০তম অধিবেশনের সোমবারের বৈঠকে উপস্থাপতি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮-এর প্রতিবেদনে নতুনভাবে সংযোজিত আইনের এসব বিধান উল্লেখ করা হয়। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা নিরীক্ষার এ রিপোর্ট সংসদে পেশ করেন কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ। রিপোর্টে সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক ও তাদের সুপারিশ বিলটিতে সন্নিবেশিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিলে ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি ওয়েবসাইট আ অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্বেও কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। উক্ত একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন তাহলে তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২৯ ধারায় ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্যানাল কোডের ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানিকর কোনও তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করার দায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা বিভিন্ন শ্রেণী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটাইবার উপক্রম হয়, তাহলে তিনি ৭ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি (অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতাভুক্ত) কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা তিনি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৪৩ ধারায় পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এক্ষত্রে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও দলিলাদি জব্দ ও উক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করতে পারবে। তবে তল্লাশি সম্পন্ন করার পর এ বিষয়ে ট্রাইবুনালকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

    ৮ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোন বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোন তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ক্ষেত্রমত ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবেন। একইধারায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জন শৃঙ্খলা রক্ষায় মহাপরিচালকের মাধ্যমে একইভাবে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের এ ধারায় সরকারকে অবহিত করে বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত অনুরোধ কার্যকরার সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ নিরাপদ ব্যবহার আবশ্যক। বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এর সুফলের পাশাপাশি অপপ্রয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইবার অপরাধের মাত্রাও বাড়ছে। তাই জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল অপরাধসমুহের প্রতিকার, প্রতিরোধ, দমন, সনাক্তকরাণ, তদন্ত এবং বিচারের উদ্দেশ্য আইন প্রনয়ন আবশ্যক।

  • নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি

    নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি

    ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন তারা এই অভিযোগ করেন।

    নিখোঁজ রনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানান তারা। রনি সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার মাসদাইর পাকাপুল এলাকার ঠিকাদার মোস্তফা কামাল ওরফে ফুফা মোস্তফার ছেলে। জানা গেছে, রনির বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মামলায় সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

    রনির স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল ১০টায় রনি বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। রাত সাড়ে ১০টায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ভাইকে জানায়, ঢাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা রনিকে কালো রঙের একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।

    এর পর থেকে রনি নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের স্বজনরা কাছে আত্মীয়দের বাড়িতে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে খোঁজ করেও রনির সন্ধান পাননি।

    এ ব্যাপারে রোববার বিকেলে ফতুল্লা থানায় জিডির আবেদন করা হয়েছে বলে জানান স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের সহায়তা করছে না। রনিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি নিয়ে থাকে তাহলে সেটা নিশ্চিত করে জানানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান স্বজনরা।

    রনির আইনজীবী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস জানান, রনির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগে মামলা রয়েছে, যেগুলোর বাদি পুলিশ। পূর্বে ১১টি মামলা ছিল। চলতি মাসে আরও দুটি হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ১৮ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন রনির হদিস দিতে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে রনির দুই ভাইসহ নিকট আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। রনির বাবা, মা ও বড় ভাই হজ পালনে সৌদি আরব গিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।

  • ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি ‘চিরস্মরণীয়’?

    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি ‘চিরস্মরণীয়’?

    দেশের সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বর্তমানে বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। এই বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত সমিতির এক মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি বক্তৃতা দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তার যুক্তফ্রন্ট এখনও বিএনপি জোটে শামিল হয়নি। কথাবার্তা চলছে।

    তার আগেই ড. কামাল হোসেন বিএনপির যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবিগুলোর পক্ষে উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে শুরু করেছেন। তাতে বিএনপির দাবিগুলোর পরিপূরক কিছু নিজস্ব কথাও আছে। তিনি হয়তো ভাবেন, তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নেতা, তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথা বললেও কেউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না।

    তার এই ধারণাটা সত্য নয়। তিনি যতই নামজাদা মানুষ হোন, তার উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা যে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না, তার প্রমাণ অতীতে সব নির্বাচনে দলবলসহ তার শোচনীয় পরাজয়। এমনকি যদু-মধু প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছেও।

    সেজন্য তিনি সাময়িকভাবে দমে গেলেও আবার একটি সাধারণ নির্বাচন সামনে দেখে নতুন করে জেগে উঠেছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ দলগুলোর মঞ্চে, সেমিনারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন।

    সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেসব কথা বলেছেন, তার প্রতিবাদে ঢাকার একটি দৈনিকের কলামে (যুগান্তরে নয়) আমি কিছু না লিখে পারিনি। ড. কামাল হোসেন খুবই জ্ঞানী-গুণী মানুষ হতে পারেন।

    তাই বলে দেশের আর সব মানুষকে বোকা মনে করেন কেন? আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেয়া রায়কে ‘চিরস্মরণীয়’ আখ্যা দিয়ে এই সিনহাকে যারা চাকরিছাড়া, দেশছাড়া করে ছেড়েছেন, তাদের বিচার করে ছাড়বেন বলে হুমকি দিয়েছেন। অতীতে অনেক ব্যাপারে তিনি এই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তারপর নিজেই প্রতিপক্ষের ভয়ে দেশ ছেড়ে উধাও হয়ে গেছেন।

    আমার মতে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে চিরস্মরণীয় নয়, স্মরণীয় রায় আখ্যা দেয়া যেত, যদি বিচারপতি সিনহা এই রায়ের সঙ্গে অবজারভেশনের নামে একটি দীর্ঘ পর্যালোচনা যুক্ত না করতেন।

    জুডিশিয়ারির এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে তিনি এমন একটি পর্যালোচনা অনাবশ্যকভাবে রায়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, যেটি পাঠ করলে যে কোনো মানুষের ধারণা হবে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক পর্যালোচনা।

    এই পর্যালোচনায় সরকার, ক্ষমতাসীন দল, তাদের মন্ত্রী, এমপি- এমনকি পার্লামেন্টকেও এমনভাবে নিন্দা করা হয়েছে, যাতে মনে হতে পারে, জুডিশিয়ারি সরকারের প্রতিপক্ষ এবং প্রতিপক্ষ হিসেবেই এই পর্যালোচনা লেখা হয়েছে এবং রায়ের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে।

    পরে জানা গেছে, এই পর্যালোচনা বিচারপতি সিনহা নিজে লেখেননি, বাইরে থেকে লিখে তাকে গেলানো হয়েছে। যারা বাইরে থেকে এই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণটি বিচারপতি সিনহাকে লিখে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের আইন ব্যবসায়ের এক সহযোগী এবং একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকের নাম বাজারে ছড়িয়েছিল।

    এর সত্য-মিথ্যা আমি জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, এই পর্যালোচনাটি লেখা এবং বিচারপতি সিনহাকে দিয়ে তা গেলানোর ব্যাপারে যে গুজব রটেছে, তার পেছনে কিছু সত্য আছে।

    গত বছর মে মাসে আমি ঢাকায় যাই। তখনও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়া হয়নি। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সিনহা কী ধরনের রায় দিতে পারেন, তা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। সম্ভবত আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও চিন্তিত ছিলেন। তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।

    এই সময় একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। আমি সোবহানবাগে এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছিলাম, এই সময় বিচারপতি এসকে সিনহা নিজে আমাকে টেলিফোন করে জানালেন, আপনাকে আমরা সুপ্রিমকোর্টে আমন্ত্রণ করে এনে একটু সম্মান দেখাতে চাই। আপনি আসবেন কি?

    আমি তাকে বিনীতভাবে বলেছি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছ থেকে সম্মান লাভের যোগ্য আমি নই। তবু কয়েক বছর আগে একবার তা পেয়েছি। এখন আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে আসতে পারি, যদি আপনি সম্মতি দেন। তিনি বললেন, আপনি আমার বাসায় এলে খুশি হব। কবে আসবেন, বলুন। আমি তাকে একটি তারিখ দেই।

    বিচারপতি এসকে সিনহাকে আমি শ্রদ্ধা করতাম, এখনও করি। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে মৃণাল হকের তৈরি একটি নারী ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা করে (তখনও ভাস্কর্যটি সরানো হয়নি) তিনি যে শিল্পবোধ ও সাহসের পরিচয় দেখিয়েছেন, সেজন্য তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই তার প্রতি আমার মনে শ্রদ্ধা জেগেছিল।

    তার বাসায় তিনি এবং তার বিদুষী স্ত্রী আমার জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। দীর্ঘকাল পর এই প্রথম তার সঙ্গে আমার আবার সাক্ষাৎ। একথা-সে কথার পর তিনি তার আসন্ন রায় দেয়ার কথা বলে বললেন- এই রায়ে সরকার হয়তো খুশি হবে না।

    আমি কী করব, আমি তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দায়বদ্ধ। আমি তাকে বলেছি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের আওতা থেকে বিচার বিভাগের মুক্তি আমাদের সবার কাম্য।

    সেদিন এর বেশি তার সঙ্গে কথা হয়নি। ইতিমধ্যে একদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা। তিনি আমার পকেটে টুক করে একটা কাগজ গুঁজে দিলেন। বাসায় এসে কাগজটা খুলে দেখি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কিত রায় যে ধরনেরই হোক, দেশে তা কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে সে সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে ব্রিফ করেছেন। আমি সাংবাদিক এসব নিয়ে লেখালেখি করি। ভেবেছি, তিনি এ সম্পর্কে ব্রিফিং দিতে পারেন।

    কয়েকদিন পরেই বিচারপতি সিনহার বাড়িতে আবার আমার আমন্ত্রণ। আমার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। তিনি তাদের ড্রয়িং রুমে বসিয়ে রেখে আমাকে নিয়ে একটি খাস রুমে ঢুকলেন। তারপর যা বললেন, তাতে একটু বিস্মিত হলাম।

    তিনি বিভিন্ন মামলায় তার দেয়া রায় এবং বিভিন্ন দেশের বিচারপতিদের বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশংসামূলক বক্তব্যের একটি ফাইল আমার হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন, আমি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার গণ্ডি না ভেঙে আওয়ামী লীগকে অনেক বিচারিক চক্রান্ত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আমাকে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই।

    আমি জিজ্ঞাসা করেছি, আপনাকে কেউ সরকারবিরোধী বলে সন্দেহ করেন? তিনি বললেন, সরকারের শীর্ষস্থানীয় কেউ কেউ করেন। আমার সম্পর্কে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর কান ভারি করার চেষ্টা করছেন। আমাকে হয়তো প্রধান বিচারপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে।

    তাকে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনার মনে এ ধরনের সন্দেহ কেন হচ্ছে? তিনি বললেন, আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন এমন কিছু প্রাক্তন সহকর্মী আছেন। তাছাড়া আমার কাছে বিখ্যাত আইনজীবীদের অনেকে আসেন, আমাকে নানা ধরনের পরামর্শ, উপদেশ দেন।

    আইনের পেশায় তারা আমার সিনিয়র। আমি সবার কথাই শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনি। তবে নিজের ইচ্ছায় কাজ করি। আমার কাছে এদের আসা-যাওয়া নিয়েও সরকারের কান ভারি করা হচ্ছে।

    আমার একটু শঙ্কাবোধ হল, জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে ড. কামাল হোসেন এবং তার বন্ধুরা পরামর্শ, উপদেশ দেন কি? তিনি বললেন, আমি কারও নাম করতে চাই না। প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি কারও জন্যই আমার ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে পারি না।

    তার কথা শুনে আমার মনে হয় দৃঢ়প্রত্যয় জন্মালো প্রধান বিচারপতি যখন ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে ব্যস্ত, তখন নিশ্চয়ই ড. কামাল হোসেন এবং তার কয়েকজন আইনজীবী বন্ধু প্রধান বিচারপতির স্বনিযুক্ত কনসাইন্স কিপার সেজে এই রায় সম্পর্কে তার নিজস্ব বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

    প্রধান বিচারপতিকে বলেছি, আমি একজন সামান্য সাংবাদিক। আপনাকে পরামর্শ দেয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। আপনি প্রধানমন্ত্রীয় সঙ্গে বসে ভুল বোঝাবুঝিটা দূর করুন। আর যেসব বিজ্ঞ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ আপনাকে রাজনৈতিক মতলব নিয়ে পরামর্শ দিতে আসেন, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

    আপনার ও জুডিশিয়ারির ওপর কোনো আঘাত এলে আমার ক্ষুদ্র সাধ্য অনুযায়ী তার প্রতিবাদ করব। আমি তাকে দেয়া কথা রেখেছি। কিন্তু তিনি হয়তো আমার সন্দেহের এই বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রভাব ও পরামর্শ এড়াতে পারেননি।

    এরপর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বেরিয়েছে। তা নিয়ে দেশে হৈচৈ হয়েছে। আমার অত বড় রায় পড়ার সময় ছিল না এবং ইচ্ছাও ছিল না। শুধু বুঝেছি, রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মিডিয়ায় এক সময় নানা প্রচার-প্রোপাগান্ডা শুরু হয়। আমি তাতে কান দেইনি। মনে করেছি, তার অনেক শত্রু আছে। এটা তাদেরই কাণ্ড। দু’দিন পর এগুলো হাওয়ার মিলিয়ে যাবে।

    কিন্তু এরপরই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি অবজারভেশন বা পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়। এটি পাঠ করে আমি বিস্মিত হই। এটি রায়ের কোনো আইনি বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা নয়। সরকার, মন্ত্রিসভা ও এমপিদের অযোগ্যতা নিয়ে ঢালাও রাজনৈতিক সমালোচনা।

    এ ধরনের বিতর্কমূলক রাজনৈতিক বিবৃতিদানের এখতিয়ার উচ্চ আদালতের আছে কিনা আমি জানিনা। সরকারের বা সরকারি কোনো বিভাগের ভুল-ত্রুটি ধরা পড়লে আদালত সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে থাকেন বলে দেখেছি। কিন্তু গোটা সরকার ও পার্লামেন্টকে এমনভাবে তুলাধুনো করার উদাহরণ আমার জানা নেই।

    প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে যেভাবে তার পদ থেক সরতে হয়েছে, তা আমি আগেও সমর্থন করিনি, এখনও করি না। তিনি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু দশচক্রে ভগবান ভূত হয়েছেন। আমার ধারণা সঠিক কিনা জানিনা, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে যুক্ত পর্যবেক্ষণটি সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা নয় বলেই আমার বিশ্বাস।

    পর্যবেক্ষণের বক্তব্য, ভাষা ও আক্রমণের ভঙ্গিতে তথাকথিত সুশীলসমাজ এবং তার বিজ্ঞ ও প্রবীণ আইনজীবীদের প্রভাব লক্ষণীয়। গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেশে যে একটি জুডিশিয়াল ক্যু ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল এবং বিচারপতি সিনহাকে তার অজ্ঞাতেই এই ক্যু ঘটানোর শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়া হয়েছিল, তাতে সন্দেহ পোষণের অবকাশ কম।

    আমার দুঃখ হয়, ড. কামাল হোসেনদের সংস্রবে এসে, পরামর্শ শুনে দেশের বহু ভালো মানুষ ও সৎ মানুষের সর্বনাশ হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন একজন। দেশের দুর্দিনের সারথি, একজন সৎ ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ব্যক্তি হয়ে থাকতে পারতেন।

    জেনারেল এরশাদের পতনের পর অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে তার নীতিপরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার জন্য সারা দেশের মানুষের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন তিনি।

    কিন্তু ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে চারপাশে তার কনসাইন্স কিপার হয়ে এসে জুটলেন ড. কামাল হোসেন, সঙ্গে ডা. বদরুদ্দোজা, মান্নান ভুঁইয়া প্রমুখ। বেগম খালেদা জিয়াও তার সঙ্গে ঘনঘন দেখা-সাক্ষাৎ শুরু করেন। দশচক্রে ভগবান ভূত হলেন। আজ তিনি আগের সুনাম ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে বেঁচে থেকেও বেঁচে নেই। বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছেন।

    ড. ইউনূসের যতই সমালোচনা করি, তিনিও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমায় যেতে রাজি ছিলেন না। তাকে রাজি করালেন কে? বাজারে প্রচলিত নামটা আর উল্লেখ করতে চাই না। এই মামলা-মোকদ্দমা চলাকালে আমি ছিলাম ঢাকায়।

    ড. ইউনূসের অন্যতম আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ আমাকে জানালেন, নোবেলজয়ী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে চান, সরকার আপস করতে রাজি কিনা তা আমার মাধ্যমে জানতে চান। আমি তখনকার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিককে জানাই। তিনি বললেন, সরকার ইউনূসের সঙ্গে বিবাদ চায় না। আপস চায়। আগামীকাল আদালতে মামলার তারিখ। ড. ইউনূসের আইনজীবীকে বলুন, কাল আদালতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে আমাকে জানাতে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যা করণীয় তা করব।

    ঠিক হল পরদিন সকালে রোকনউদ্দিন মাহমুদ আমাকে তা জানাবেন। আমি আইনমন্ত্রীকে জানাব। কিন্তু আমি বনানীতে আমার হোটেল কক্ষে বসে আছি। সঙ্গে আমার বন্ধু সাবেক সিএসপি মোকাম্মেল হক। সকাল দশটায় আইনমন্ত্রী জানতে চাইলেন, খবর কী? বললাম, এখনও কিছু জানি না।

    এর পরপরই রোকনউদ্দিন মাহমুদ জানালেন, মামলা উইথড্র হবে না। ড. ইউনূস মত পাল্টেছেন। কারণ কী? পরে জানলাম, ড. ইউনূসকে তার প্রধান আইনজীবী মামলায় জেতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান আইনজীবীর পরামর্শ শুনে তিনি মামলায় জেতেননি। আম এবং ছালা দুই-ই হারিয়েছেন। এখন তিনি উড়ন্ত বিমানে দুরন্ত ব্যবসায়ী।

    এই ড. কামাল হোসেন নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের কাঁধে সওয়ার হয়েছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজে দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি? তার অতীতের ইতিহাস কী বলে? নিজে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। চক্রান্তের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ করে দেন। তাতে গণতন্ত্রের সর্বনাশ হয়, মঙ্গল হয় না।

  • মৈয়ূরীকে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান’

    মৈয়ূরীকে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান’

    তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খবর বাসসের।

    রোববার সংসদ ভবন কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

    তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আবিদা ইসলাম মৈয়ূরী।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত আবেগঘন হিসাবে বর্ণনা করেন।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বৃত করে বলেন, মৈয়ূরী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাকে তার (শেখ হাসিনার) নিজের সন্তান হিসাবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান।’

    এ সময় মৈয়ূরী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘অতীতে কোন সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করেনি।

    প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ হাতে নিয়েছে এবং তাদেরকে পরিবারের সঙ্গে থাকার অধিকার নিশ্চিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোববার ‘তৃতীয় লিঙ্গে’র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ছবি-সংগৃহীত

    সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়।

    এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ‘সিরি সমাজ কল্যাণ সংস্থা’-এর আওতায় জামালপুর জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করে।

  • পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী পুলিশ। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এসব খুনের ঘটনায় রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে তা ভিত্তিহীন।

    রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

    আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন এ রকম আর কোনো গুজব ছড়াতে না পারে সে জন্য সাংবাদিকদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আগস্ট মাসে ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নে (মুলঘর, আলীপুর ও বানীবহ) তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে ওইসব এলাকায় নানা ধরণের গুজব ছড়াতে থাকে।

    শুরুতে পুলিশ বিষয়টি আমল না দেয়ায় গুজব ডালপালা মেলে আরও ছড়িয়ে যায়। অনেকেই গলাকাটা আতঙ্কে এলাকায় পাহারা দিতে শুরু করে। অবশেষে আমরা হত্যাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

    পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে হাজেরা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী তমিজউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একমাস ধরে এই হত্যা মামলা তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    এসপি বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পারি ওই গৃহবধূর ছেলে হাফিজুল প্রবাসে থাকেন। হাফিজুলের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (২৫) অনেক ভালোবাসতেন তার মা হাজেরা বেগম। এ কারণে হাজেরা মাঝেমধ্যেই ছেলের বউয়ের কাছে ঘুমাতেন। কিন্তু ছেলের বউ স্বপ্নার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল স্থানীয় সোহেল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে।

    রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন রাতে সোহেল তার সহযোগী কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতে আসে। এসময় স্বপ্না ও তার চার বছর বয়সী ছেলে সানী এবং শাশুড়ি হাজেরা একই বিছানায় শুয়েছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে ছেলের বউয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলেন হাজেরা। আর এতেই সোহেল, কবির ও স্বপ্না মিলে গলাকেটে হত্যা করে হাজেরাকে। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে স্বপ্নাকে সন্দেহ করতে না পারে এজন্য সোহেল স্বপ্নার দুই হাতে কোপ দিয়ে জখম করে দিয়ে যায়।

    পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে হাজেরার লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তার ছেলের বউ স্বপ্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওইসময় মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বপ্না জানান, ওইদিন রাতে খাবার খেয়ে সে তার ছেলেসহ শাশুড়ি একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান ঘরের আলো নেভানো এবং তার শাশুড়ির শরীরে রক্ত। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পাশের ঘরে থাকা শ্বশুরসহ অন্যান্যরা ছুটে এসে দেখেন হাজেরা বেগমের গলাকাটা লাশটি খাটের ওপর পড়ে আছে।

    কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর হত্যার মূলহোতা সোহেল ও তার সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের শাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন স্বপ্না।

    এর আগে ৭ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে নিজ বসত ঘরে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ আদুরী আক্তার লিমাকে (২৫) গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন গত ৮ আগস্ট নিহতের স্বামী রড মিস্ত্রি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, পিলার থেকে ম্যাগনেট সংগ্রহ চক্রের সদস্য ছিলেন আদুরী বেগম। তার আপন দুই দেবর এবং এক ফুফাতো দেবরও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই ম্যাগনেট ব্যবসার দ্বন্দের কারণেই তিন দেবর মিলে গলাকেটে হত্যা করে আদুরীকে। আদুরীর তিন দেবর বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

    এছাড়া গত ২ আগস্ট দিনগত রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে দাদী শাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া আক্তারকে (৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়। জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ আগস্ট নিহত শিশু লামিয়ার বাবা গার্মেন্টেস কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে সংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় আসামি গ্রেফতার রয়েছে। এ হত্যার রহস্যটিও আমরা ইতিমধ্যে উদঘাটন করেছি। কিন্তু, আমাদের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। আশা করছি ওই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই এ হত্যার বিষয়ে আপনাদের জানাতে পারবো।

    সাংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন, সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. কামাল হোসেন ভূইয়া ও পরিদর্শক মো. জিয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • সেবা চালু করলো ঢাকার বাইরে তিন শহরে উবার

    সেবা চালু করলো ঢাকার বাইরে তিন শহরে উবার

    আন্তর্জাতিক কার ও বাইকে যাত্রী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার এতদিন শুধু ঢাকা মহানগরীতে চালু ছিল। তবে গ্রাহক চাহিদা থাকার কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে সেবা সম্প্রসারণ করলো প্রতিষ্ঠানটি।

    রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসার কারণে, ফ্যাক্টরি ভিজিটে, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে অথবা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে শহরের বাইরে (নারায়ণগঞ্জ, সাভার বা গাজীপুর) যেতে প্রয়োজন হলে ব্যবহার করতে পারেন উবার ইন্টারসিটি।

    এখন থেকে অ্যাপের একটি বাটন প্রেস করে পরিকল্পনা করে ফেলুন গাজীপুর, সাভার বা নারায়ণগঞ্জের কোন কোন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন।

    এখন ইন্টারসিটি রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীরা উবারের সেরা মানের সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারবেন ১০ ঘন্টা পর্যন্ত।

    এই সময়ের মধ্যে ফ্যাক্টরির কোনো কাজ বা ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের মতো দর্শনীয় স্থান অনায়াসে ঘুরে আসা সম্ভব।

    সেবার স্থান সম্পর্কে উবার জানিয়েছে, এই সার্ভিসটি শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ব্যবহার করা যাবে এবং যাওয়া যাবে গাজীপুর, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জ শহরে।

    যেভাবে কাজ করে উবারইন্টারসিটি

    ক) উবার অ্যাপ খুলে আপনার পছন্দমতো গন্তব্যস্থল (সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভাওয়াল ইত্যাদি) সেট করুন।

    খ) অ্যাপে ভেসে উঠবে উবার ইন্টারসিটি অপশন

    গ) বুকিং কনফার্ম করলেই উবারের গাড়ি চলে আসবে

    ঘ) অ্যাপ আপনাকে যাত্রার সম্ভাব্য ভাড়া জানাবে। মূল ভাড়া নির্ধারিত হবে ট্রিপের ভ্রমণ দূরত্ব ও সময় অনুযায়ী।

    ঙ) ওয়ান ওয়ে ট্রিপের ক্ষেত্রে যদি ট্রিপটি ঢাকার সার্ভিস এরিয়ার বাইরে শেষ হয় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরতি ভাড়া যোগ হয়ে যাবে। ফিরতি ভাড়া সাভার অথবা গাজীপুরে ভ্রমণকৃত দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

    চ) রাউন্ড ট্রিপের ক্ষেত্রে পুরো ট্রিপের দূরত্ব এবং অতিবাহিত সময় অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হবে।

    ভাড়া পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, উবার ইন্টারসিটির সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৯৯ টাকা। প্রতি মিনিট চার্জ ৩ টাকা। প্রতি কিমি চার্জ ২২ টাকা এবং ক্যান্সেলেসন ফি ৫০ টাকা।

  • আল্লাহ পরিবর্তন চেয়েছেন বলেই এই সমস্যায় ফেলেছেন : ইমরান খান

    আল্লাহ পরিবর্তন চেয়েছেন বলেই এই সমস্যায় ফেলেছেন : ইমরান খান

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের কাছে দেশ চালানোর মতো টাকাই নেই। হয়তো আল্লাহ পরিবর্তন চেয়েছেন বলেই এই সমস্যায় ফেলেছেন।

    দেশটির আমলাদের সাথে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ইমরান খান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাকেই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার যেমন জনগণের পাশে আছে তেমনি জনগণকেও সরকারের পাশে থাকতে হবে। সরকার যেমন সাধারণ মানুষের দায়িত্ব নেবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষকেও সরকারকে আপন করে নিতে হবে।

    ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে ঋণের বোঝায় ডুবে আছে। পাকিস্তানকে ঋণের বোঝা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। আমাদের নিজেদের ও দেশের দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।

    ধর্ম অবমাননামূলক বিষয়গুলো বন্ধ করতে না পারাকে মুসলিম দেশগুলোর ‘সম্মিলিত ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহীত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ধর্ম অবমাননা বন্ধে কোন যথাযথ আন্তর্জাতিক নীতি না থাকার কারণেই তা কমছেনা বলে মনে করেন ইমরান। পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন এই নেতা। বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সিনেটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেয়া প্রথম বক্তৃতায় ইমরান খান বলেন, আমার সরকার বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করবে। তবে আমার মনে হয় না সেটিই যথেষ্ট হবে।

    এদিন পাকিস্তান সিনেটে ডাচ নেতা গ্রিট উইল্ডার্সের ধর্ম অবমাননামূলক কার্টুনের প্রতিযোগীতার বিষয়টি জাতিসঙ্ঘের নজরে আনার জন্য একটি প্রস্তাব পাস হয়। নেদারল্যান্ডের ফ্রিডম পার্টির ইসলাম বিদ্বেষী ওই নেতা এ ধরনের একটি প্রতিযোগীতা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এর আগে গত সপ্তাহে উইল্ডার্সের ঘোষণার বিষয়ে পাকিস্তানের নিয়োজিত নেদারল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ইমরান খান তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আমারদের সরকার বিষয়টি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিতে বিষয়টি তুলবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে গ্রহণযোগ্য হয় এমন একটি নীতি গ্রহণ করতে মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানাবে’।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরো আগেই এটি করা উচিত ছিলো’। এসময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার কর্তৃক ইহুদি নিধনের বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে চারটি ইউরোপীয় দেশের কঠোরতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

  • ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিল সিরিয়া

    ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিল সিরিয়া

    দামেস্কো বিমানবন্দরের কাছে ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে সিরীয় বাহিনী। ইহুদি রাষ্ট্রটির নিক্ষেপ করা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে সিরিয়ার বিমানবাহিনী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছে, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কোনো খবরের জবাব দেবে না তারা।

    সিরিয়ায় গত সাত বছরের যুদ্ধে ইরানের প্রভাব বিস্তারে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিপদ সংকেত দেখতে পাচ্ছে। সিরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ইরান।

    সিরিয়ায় ইরানি স্থাপনাগুলোকে বেশ কয়েকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এ যুদ্ধে হিজবুল্লাহ আন্দোলনকেও অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে তেহরান।

    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দামেস্কোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আগ্রাসন রুখে দিয়েছে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

    রাজধানী দামেস্কোতে একটি বাণিজ্যমেলায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাতের আকাশে তারা বিস্ফোরক নিক্ষেপ করতে দেখেছেন।

  • আমি হবো আমেরিকার প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট

    আমি হবো আমেরিকার প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট

    ইউসুফ দাউড়। যার বয়স মাত্র ১৪ বছর। এই কিশোর বয়সেই ইউসুফ স্বপ্ন দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট হবার। ইউসুফ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় বসবাস করে। সে ও তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইউসুফ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবার জন্যে তার পরিকল্পনা ও প্রচারণা শুরু করেছে। বিবিসির এক ভিডিও বার্তায় ইউসুফকে নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইউসুফ বলেন, আমি টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট বুশের ছবি দেখেছি। ২০১৫ সালে আমি একটি ভিডিও তৈরি করি। সেটি করেছিলাম রিপাবলিকান রাজনৈতিক বেন কার্সনের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। তিনি জর্জ ডাব্লিউ বুশের মতো পোশাক পরতেন। রিপাবলিকান ওই রাজনৈতিক বর্তমানে ট্রাম্পের মন্ত্রীসভার সদস্য।

    বেন কার্সন বলেছিলেন, বলেছিলেন কোন মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডন্ট হতে পারবেন না। এই জাতির জন্যে আমি কখনো কোন মুসলিমকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবো না।

    তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউসুফ বলেন, এটা আমার মোটেও পছন্দ হলো না। কারণ আমি তো প্রেসিডেন্ট হতে চাই। তিনি আমার স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছেন। তখন আমি মাকে বললাম, আমার হোমওয়ার্ক করতে এবং তারপর আমি একটা ভিডিও বানাবো। যার শিরোনাম হবে ‘আমি হবো আমেরিকার প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট’। এবং আপনি এটা নিজের চোখে দেখবেন।

    এরপর ইউসুফ ভিডিওটি তৈরি করে। পরে এটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরতে ইউসুফ একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে ইউসুফ তার পরিকল্পনা প্রকাশ করে ভিডিও ছাড়ে।

    ভিডিওতে ইউসুফ জানায়, আমি হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে কলেজে পড়তে চাই। অপরাধ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাই। তারপর ল’ স্কুলে যেতে চাই। ল’ স্কুল শেষ করে তারপর কয়েক বছর আমি স্থানীয় কিছু অফিস চালাতে চাই। তারপর রাজ্যে, তারপর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং তারপর প্রেসিডেন্ট।

    ইউসুফ বলেন, আপনি যদি কিছু বদলাতে চান, জনগণের সঙ্গে কথা বলতে চান, তাহলে তাদেরকে সম্মান করতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের এটার অভাব আছে। বিশেষ করে আজকের পৃথিবীর রাজনীতিতে। আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা করছি যিনি জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে না।

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ ও ধর্ম বৈষম্য নিয়ে ইউসুফ বলেন, কৃষ্ণাঙ্গদের যে সীমা ছিল ওবামা সেটা ভেঙেছেন। মুসলমানদের নিয়ে যে সীমা আমি সেটা ভাঙবো। আমরা সবাই আমেরিকান, আমরা সবাই সমান।

  • ঝালকাঠির বীর মুক্তিযোদ্ধা: এম আলাউদ্দিন আর নেই

    ঝালকাঠির বীর মুক্তিযোদ্ধা: এম আলাউদ্দিন আর নেই

    ঝালকাঠি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম, আলাউদ্দিন রাত ১২:২০ মিনিটের দিকে ঢাকায় তার ছেলের বাসায় ইন্তেকাল করেন।

    ইন্নালিল্লাহে অইন্না ইলাইহে রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন ঝালকাঠির কামার পট্টিতে বসবাস করে আসছিলেন।