Author: banglarmukh official

  • যে রেকর্ড শুধু বঙ্গবন্ধু পরিবারেরই

    যে রেকর্ড শুধু বঙ্গবন্ধু পরিবারেরই

    কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন ফুটবলে পারদর্শী। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়া অবস্থায় তিনি কলকাতার বিখ্যাত দুই ক্লাব এরিয়ান্স ও মোহামেডানে খেলার অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অফার গ্রহণ করেননি। দেশে ফিরে তিনি ঢাকার একটি শৌখিন ক্লাবে কিছু দিন খেলে যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্সে

     

    ফুটবলে প্রতিটি পজিশনই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্ট্রাইকারদের কদরই আলাদা। স্ট্রাইকার পজিশনে খেলে অসংখ্য মনোমুগ্ধকর গোল করে উপমহাদেশে বিখ্যাত হন সামাদ। পরবর্তীতে তিনি জাদুকর সামাদ বলেই পরিচিত হয়ে উঠেন। পেলে ও ম্যারাডোনা স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেই দুনিয়ার সেরা ফুটবলার হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবলার ছিলেন তা কারোর অজানা নয়। তখনকার বিখ্যাত ক্লাব ওয়ান্ডারার্সের নিয়মিত ফুটবলার ছিলেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দলের সাদা-কালো জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিলেন। অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

    ফুটবলার বঙ্গবন্ধু পরিচিত হলেও মাঠে তার পজিশন বা পারফরম্যান্স কেমন ছিল তা অনেকেরই জানা নেই। বঙ্গবন্ধু খেলতেন স্ট্রাইকার পজিশনে। তিনি প্রতিপক্ষদের আতঙ্ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু বল পাওয়া মানেই নিশ্চিত গোল। তার শর্টে এতটা পাওয়ার ছিল যে গোল পোস্টের জাল অনেক সময় ছিঁড়ে যেত। হ্যাটট্রিকও করেছেন বেশ কটি ম্যাচে। ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগের যাত্রা হয় ১৯৪৮ সালে। রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় বঙ্গবন্ধুর সেইভাবে লিগ খেলা সম্ভব হয়নি। তার আগে অসংখ্য টুর্নামেন্ট খেলেছেন। চল্লিশ দশকে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এক জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে ওয়ান্ডারার্স অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই ম্যাচে ফাইনালে ওয়ান্ডারার্স ৫-০ গোলে জয়ী হয়। তখনকার সত্তর মিনিটের ম্যাচে প্রথমার্ধেই বঙ্গবন্ধুর দেওয়া অসাধারণ ২ গোলে ওয়াল্ডারার্স এগিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল হয় তার নিখুঁত পাসে। টুর্নামেন্টে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান বঙ্গবন্ধু। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে প্রথম দিকে ৯ ও পরে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন বঙ্গবন্ধু।

    কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন ফুটবলে পারদর্শী। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়া অবস্থায় তিনি কলকাতার বিখ্যাত দুই ক্লাব এরিয়ান্স ও মোহামেডানে খেলার অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অফার গ্রহণ করেননি। দেশে ফিরে তিনি ঢাকার একটি শৌখিন ক্লাবে কিছু দিন খেলে যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্সে। সাবেক খ্যাতনামা ফুটবলার গজনবী বঙ্গবন্ধুর খেলা নিজ চোখে দেখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন রাজনীতিতে ব্যস্ততার কারণে বঙ্গবন্ধু বেশিদিন খেলতে পারেননি। যদি খেলতেন তিনি চল্লিশ দশকে এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হতে পারতেন।

    বাবা ছিলেন তারকা ফুটবলার। যা অনুপ্রেরণা জোগায় দুই ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামালকে। কামাল ফুটবলে সেভাবে খ্যাতি না পেলেও ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল খেলে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ওয়ান্ডারার্সের তুখোড় ফুটবলার। ছেলে কামাল ছিলেন সেই দলের তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড়। ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে ওয়ান্ডারার্স লিগ জয়ের পেছনে কামালের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। মহসীন স্মৃতি ট্রফি জিতে কামালের নেতৃত্বে। ক্রিকেটে অফ স্পিনার হিসেবে সত্তর দশকে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনে। খেলেছেন কলাবাগান ও আবাহনীতে। দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্লাব ঢাকা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের (বর্তমান আবাহনী লিমিটেড) প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালই। ১৯৭২ সালে ক্রীড়াঙ্গনে এই ক্লাবের অভিষেক হলেও ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে সর্বোচ্চ লিগ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে।

    শেখ জামালও খেলেছেন ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স। ক্রীড়াঙ্গনে দুই ভাইয়ের ছিল অসম্ভব রকম প্রতিযোগিতা। শেখ কামাল আবাহনী গড়ার পর শেখ জামাল ১৯৭৪ সালে ঐতিহ্যবাহী আজাদ স্পোর্টিংয়ের ফুটবলে শক্তিশালী দল গড়েন। জামালের ডাকে সাড়া দিয়ে অসংখ্য তারকা ফুটবলার সেবার যোগ দিয়েছিলেন আজাদে। শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল খুকু ছিলেন দেশের খ্যাতনামা অ্যাথলেট। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক গেমসে লং জ্যাম্পে নতুন রেকর্ড গড়ে সোনার পদক জেতেন সুলতানা। ১৯৭০ সালে অল পাকিস্তান অ্যাথলেটিকেস লং জ্যাম্পে চ্যাম্পিয়ন হন সুলতানা। তখনও সুলতানা বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ হননি। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন সুলতানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিকসে প্রথম নারী ব্লু পাওয়ার কৃতিত্ব সুলতানারই।

    বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। দুই ছেলে কামাল ও জামাল এবং পুত্রবধূ সুলতানাও ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। পৃথিবীতে এক পরিবারের বাপ-ছেলের খেলোয়াড় হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু কোনো দেশের স্থপতি বা জাতির জনকের এক পরিবারে এতজন খেলাধুলার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন এই রেকর্ড শুধু বঙ্গবন্ধু পরিবারেরই।

    স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানালেন, ‘ফুটবলার পিন্টু হিসেবে দেশ জুড়ে যে পরিচয়টা পেয়েছি তার পেছনে বড় অবদান বঙ্গবন্ধুরই। সোজা কথা বলব আমি ফুটবলার হতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুর কারণেই। ১৯৫৬ সালে আমি তখন পিরোজপুরে নবম শ্রেণিতে পড়ি। বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন রাজনীতি সফরে। আমিই তখন বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুরোধ করি আপনি যখন এসেছেন আমাদের একটা ম্যাচ দেখে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু বললেন ঠিক আছে তোরা খেলার ব্যবস্থা কর।’

    পিন্টু সেই মধুর স্মৃতিচারণে বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে প্রধান অতিথি করে আমরা স্কুলে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করি। আমি ছিলাম স্কুল দলের ক্যাপ্টেন। প্রতিপক্ষ অফিসার্স ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন আমার বাবা ডা. নজিব উদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হয়েই বললেন, দেখি বাপ-বেটার লড়াইয়ে কে জিতে? ম্যাচে আমারই দেওয়া ২ গোলে স্কুল দল চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরস্কার দেওয়ার আগে বাবাকে কাছে ডেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বললেন আগে আমাকে কথা দিতে হবে। তারপর পুরস্কার দেব। বঙ্গবন্ধু বললেন আপনি আপনার ছেলেকে চিকিৎসক করতে চান। আমি বলব চিকিৎসক না হয়ে পিন্টুকে ফুটবল খেলতে দিন। আমি নিশ্চিত ও একদিন দেশের নামকরা ফুটবলার হবে। বাবা বঙ্গবন্ধুকে কথা দিলেন আপনি যা চাইছেন তাই হবে।’

    পিন্টু জানালেন, ‘১৯৭৩ সালে মারদেকা গোল্ডকাপ খেলতে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেখানে আমাকে দেখেই বললেন কিরে পিন্টু বলেছিলাম না তুই নামকরা ফুটবলার হবি। দেখলিতো তুই হয়ে গেলি বাংলাদেশ দলের প্রথম অধিনায়ক। বঙ্গবন্ধুর সেই কথা এখনো কানে বাজে। একজন মহান নেতা ফুটবলকে যে কতটা ভালোবাসতেন তা বলে শেষ করতে পারব না। কি খেলা পাগল পরিবার, নিজে ছিলেন ফুটবলার। দুই ছেলে খেলেছেন। পুত্রবধূ ছিলেন খ্যাতনামা অ্যাথলেট। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা পাগল। অথচ আফসোস এরপরও দেশের ফুটবলে কি নাজুক অবস্থা।’

  • শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের

    শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের

    দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনজাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিগ, ভারতীয় চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মী বিনায়ক সেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাঞ্জেলা ওয়াই ডেভিস ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোসালিন্ড সি মরিস।

    বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদুল আলমকে গ্রেফতার ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার খুবই উদ্বেগজনক।

    এতে আরও বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজের ফ্ল্যাট থেকে গত ৫ আগস্ট গ্রেফতার হন শহীদুল আলম।

    বিবৃতিতে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. অাবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    অাজ বুধবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলের করুণ সুর বেজে ওঠে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অাওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যাগ করার পর সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর অাওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ,তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু অাইনজীবী পরিষদ, ১৪ দলসহ অাওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অাওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মরা বনানীতে যান। সেখানে ১৫ অাগস্ট শহীদ হওয়া অন্যান্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

    এর অাগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

    পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি।

  • বঙ্গবন্ধু বাংলার, বঙ্গবন্ধু মানুষের

    বঙ্গবন্ধু বাংলার, বঙ্গবন্ধু মানুষের

    শেখ সুমন :

    ‘যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি, পারব না। এর আগে আমি অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব না। জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয় নাই।’

    এই কথা শেষ হতে না হতেই, তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ছিল বাঁশের লাঠির হাতে ধরে রাখা সংগ্রামী বাঙালি জনতা। চিৎকারে বিদীর্ণ করে তুলছিল গোটা রেসকোর্স ময়দান। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণগুলোর মধ্যে একটি ভাষণ এর অংশ এটি। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষণ। এই অংশটুকুর মাঝে যে শক্তি, যে অর্থ আর যে গভীরতা তা আসলে স্বাধীন বাংলার বিকাশে অপরিমেয় গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গবন্ধুর মুখের কথাই ছিল একটি রাষ্ট্রের শুন্য থেকে বেড়ে ওঠার মন্ত্র।

    পাক শকুনের দলের হিংস্র আঁচড়ে যখন বাংলার নিরীহ জনপদ রক্তাক্ত, নিরীহ, শান্তিপ্রিয় বাঙালিকে তাঁতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, বলেছিলেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধু বাংলার বাজারে বাজারে ঘুরে মুক্তির ঘ্রাণ বিক্রি করেছেন, বিনিময়ে নিয়েছিলেন বাংলার মানুষ এর ভালবাসা। মুক্তিকামী সংগ্রামী জনতাকে তাঁতিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ মানুষ এর কাছে যাওয়ার সহজ মন্ত্রটা এই মানুষটির চেয়ে আর কার বেশি ভাল জানা ছিল?  তিনি জানতেন, এক বঙ্গবন্ধুর জন্য লক্ষ বাঙ্গালী জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তত। তাই তো তিনি বলতেন, ‘মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।’

    তার শক্তি আর দুর্বলতাকে একাকার করে ফেলেছিল এই বাংলার মানুষ, সেই ভালবাসার কথাই বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশি ভালবাসি।’

    ক্ষমতার লোভ, পদমর্যাদার মত ক্ষুদ্র বিষয় যাকে ছুঁয়ে যায়নি, যার একমাত্র সুখ ছিল মেহনতি জনগণ এর ভালোবাসার ঘাম বুকে জড়ানোতে তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন এভাবে, ‘প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই। প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়। কিন্তু, যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।’

    তিনি বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

    সমাজতন্ত্র আর সাম্যবাদ পূজারী বঙ্গবন্ধুর দেশে কেউ গায়ে খেটেও না খেয়ে থাকবে, তাদের পেটে লাথি পড়বে, এটা মেনে নেয়ার মত মানুষ ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত-শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের উপর অত্যাচার করবেন? এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’

    নিজের জীবনকে হাতের মুঠোয় করে ঘুরেছেন দেশের মানুষ এর অন্যায়, অবিচার, আর কষ্ট ক্লিষ্টমুক্ত একটি বাংলাদেশ এর স্বপ্ন কিনে দেয়ার জন্য। তর্জনী উঁচিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ‘দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।’ বাংলার মানুষ এর মৌলিক অধিকার প্রাপ্তি যার মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের পর পৃথিবীর নানা প্রান্তে নিজের দেশের মানুষ এর অভুক্ত মানুষ এর পেট এ দুটো দানা দেয়ার জন্য হাত পেতেছিলেন বিশ্ব নেতাদের কাছে।

    বাংলার মানুষ এর শান্তির জন্য নিজের পুরো জীবনটা উৎসর্গ করা বাংলার ইতিহাসের এই মহানায়ক বলেছিলেন, ‘আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না। এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।

    ধরণীর বুক চিরে যে মেহনতি মানুষগুলো দেশ এর মানুষ এর পেট এ অন্ন যোগায় তাদের জীবনের দুর্দশা যাকে ভাবাত তিনি হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বলেন, আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।

    দেশটাকে একদম শুন্য থেকে গড়ে তোলা শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের। সোচ্চার ছিলেন শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার মূলমন্ত্র ঝুলিতে নিয়ে। তিনি রাজাকে প্রজার সেবক বলে বিশ্বাস করতেই স্বস্তি বোধ করেছিলেন। বাংলার মানুষকে বলে দিয়েছিলেন, যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না। সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে।

    দেশ গড়তে শিল্প সংস্কৃতি গুরুত্ব পেয়েছিল রুচিশীল বঙ্গবন্ধু চিন্তায়। শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ ছাড়া একটি দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না সে বার্তা তিনি ঠিকই দিয়েছিলেন। শিল্পী সাহিত্যিকদের মনোযোগ দিতে বলেছিলেন অসহায় মানুষ এর দিকে যেন ওই অসহায় মানুষগুলোর প্রয়োজন যেন সমাজটাকে কাদাঁয় বলেছিলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এর বীজ বপনকারী বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’

    বঙ্গবন্ধু ঝড়ের দমকা হাওয়ায় বঙ্গবন্ধু হয়ে জনতার সামনে দাঁড়াননি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন সাধারণ ছাত্র নিরীহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অধিকার আদায়ে আন্দোলন এর ঝড় তুলেছিলেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীবৃন্দের অধিকারের জন্য হাসতে হাসতে মাথা পেতে নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি বহিষ্কারাদেশ। আন্দোলন এ কীভাবে জনগণ এর শক্তিকে আন্দোলিত করে শোষক এর কড়াল গ্রাস থেকে নিজের অধিকারটুকু আদায় করে নিতে হয় সে কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অধিকার বঙ্গবন্ধু আন্দোলন এর মন্ত্র শিখিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে।

    তিনি বলেছিলেন, গণআন্দোলন ছাড়া, গণবিপ্লব ছাড়া বিপ্লব হয় না। জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোন রকম গণআন্দোলন হতে পারে না। আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না। আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়। আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়। আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী হতে হয়। ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার। আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।

    স্বাধীন দেশ এর সুবিধাজনক পদে বসে দেশের ভাল-মন্দে নিজের দলের, নিজের সরকারের নেতাদের গা বাঁচিয়ে- পিঠ বাঁচিয়ে চলার কোন সুযোগ বঙ্গবন্ধু দেননি। জনগণ এর সামনে আদর্শ নেতা আর বর্জনীয় নেতার পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন। জনগণকে রাজনীতির অআকখ পাঠ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন,” অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে: নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।

    স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতিকে একটি দেশ, একটি মানচিত্র উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। খেটে খাওয়া মানুষকে, বাংলার আবেগি মানুষ এর কানে স্বনির্ভর হওয়ার। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বনির্ভর বাংলাদেশকে নিজ হাতে তৈরি করার মন্ত্র জপতেন নিয়মিত। তিনি বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না। দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।

    বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী।

    সকল ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে একটি পরিচয় নিয়েই মিলেমিশে থাকবে, এমনতাই ভাবতেন মানুষটা। ধর্ম যে রাজনীতি আর শোষণ এর হাতিয়ার এবং অপশক্তি হয়ে উঠতে পারে, এই ভবিষ্যৎ তিনি ঠাওর করেছিলেন অনেক আগেই। তাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এর এই স্বপ্নদ্রষ্টা বলেছিলেন, যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আত্বঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি, তাহলে যারা এদেশের মানুষের ভালো চান না ও এখানাকার সম্পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও দুঃখী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে। আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

    শহীদ এর রক্তের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশি পরিচয় বুকে ধারণ করে নির্ভীক পদক্ষেপে যে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেছিলেন, শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।

    বাংলাদেশ এর সাফল্যের একেকটা পালক পাথর হয়ে যেন বাংলাদেশ এর অমঙ্গলকামী অপশক্তি, বাঙালি জাতির শত্রু, এদেশের মানুষ এর শত্রুর বুকে চেপে বসে এমন কামনা করে হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। হুমকিপত্রে লিখেছিলেন, ‘বাংলার মাটি দু্র্জয় ঘাঁটি জেনে নিক দুর্বৃত্তেরা।’

    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু।

  • যেভাবে শেখ মুজিব থেকে হয়ে উঠলেন ‘বঙ্গবন্ধু’

    যেভাবে শেখ মুজিব থেকে হয়ে উঠলেন ‘বঙ্গবন্ধু’

    ঢাকা: বাঙালির মহাপ্রাণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে এমনভাবে উজাড় করে দিয়েছিলেন মানুষের জন্য যে, তাকে সবাই ‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করেন। বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে জাতির জনক শেখ মুজিব তার নিজের নামের চেয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই সবার কাছে পরিচিত। যেভাবে এই শব্দের মুকুট তাকে দেয়া হলো, সে ইতিহাসের পেছনের মানুষ বরাবরই অন্তরালে থেকে গেছেন।

    প্রায় পাঁচ হাজার দিন কারাগারে কাটিয়েছেন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা– জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত বাঙালির অধিকার, দাবিদাওয়া আদায়সহ স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ গড়তেই বার বার জেল খেটেছেন তিনি। তার কারাবাস ছিলো জীবনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগসমান।

    এমন ত্যাগী নেতা ছাড়া আর কে হতে পারেন বাংলা ও বাঙালির বন্ধু? সেই চিন্তা থেকেই ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবের হাতে গড়া ছাত্রলীগের মধ্যসারির এক নেতা তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার চিন্তা লিখিত আকারে প্রথম প্রকাশ করেন।

    ১৯৬৮ সালের ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চোধুরী মোশতাক বলেন, ‘৮ আগস্ট ১৯৬৮-তে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে যে ট্রায়াল চলছিলো, সে ট্রায়ালে আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আমার মাঝে একটি তাড়না কাজ করেছিলো, শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি সুন্দর শ্রুতিমধুর উপাধি দেয়ার। নভেম্বরে  ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি বুলেটিন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি আর শেখ কামাল। সেখানে দেয়ার জন্য একটি আর্টিকেল লিখলাম। সেই আর্টিকেলের শেষে প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি লিখেছিলাম।’

    ১৯৬৮ সালের ঢাকা কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কর্মকাণ্ড বর্ণনা করতে গিয়ে একটি চার পৃষ্ঠার বুলেটিন ছাপানো হয়। চতুর্থ পৃষ্ঠায় ছয় দফার বর্ণনা ছিল যার হেডিং ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর দেওয়া ছয় দফা কর্মসূচি। সেখানেই বঙ্গবন্ধু শব্দটি প্রথম ছাপা আকারে পাওয়া যায় ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে।’

    সেই লেখা মানুষের কাছে যত টানা প্রচার পেয়েছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে বিষয়টি উঠে এসেছে আরো প্রায় এক বছর পর। ১৯৬৯ সালে যখন ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা ও তৎকালীন সভাপতি তোফায়েল আহমেদ নিজে এক সভামঞ্চ থেকে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বলে সম্বোধন করে প্রথম ঘোষণা করেন।

    সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায় । আমি যখন জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই, তখন ১০ লক্ষ লোক হাত উত্তোলন করলো। আমি তখন ঘোষণা করলাম, এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

    যারা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর ছিলেন, তার অনুসারী নেতা-কর্মী ছিলেন, কাছ থেকে তাকে দেখবার, বুঝবার সুযোগ হয়েছিলো, তারা আজও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন বিশাল হৃদয়ের সেই মানুষটির অমুল্য অবদান স্মরণ করে।

    ১৯৬৮ সালের ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চোধুরী মোশতাক বলেন, ‘যখন বঙ্গবন্ধু নামটি উচ্চারিত হয়, সাথে সাথে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ এ নামটি আজকে সারা বাঙালি জাতিসত্তার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার প্রতীক হয়েছে।’

    স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবকে দেয়া বঙ্গবন্ধু উপাধি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানান ঐতিহাসিক দলিলে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। কেন-না, বঙ্গবন্ধুর নামেই লক্ষ-কোটি বাঙালি, বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।

  • ঢাবি ছাত্রীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

    ঢাবি ছাত্রীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সামনে থেকে হলের একজন আবাসিক ছাত্রীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি নামে ওই ছাত্রীকে মঙ্গলবার সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে তুলে নেওয়া হয়। তবে কি কারণে তুলে নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী  বলেন, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে তিনি তা বলেননি।
    এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা বলেন, শুনেছি একজন ছাত্রীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তাকে অবহিত করে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে অবহিত করা হয়নি। তবে তিনি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে জানিয়েছেন।
    জানা গেছে, তাসনিম আফরোজ ইমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তবে তার কোনো পদবী ছিল না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী। ইমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্লোগান ৭১-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সাবেক কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন।
  • এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা, স্থান পেয়েছেন ৩১ জন

    এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা, স্থান পেয়েছেন ৩১ জন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে স্টিভ রোডস নিয়োগ পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কয়েকদিন আগে। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাদেরকে পেয়েছেন, তাদের সম্পর্কে তেমন একটা অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে। তার পরেও শেষ করে এসেছেন একটা সফল সফর।

    স্টিভ রোডস খুব দ্রুত বিসিবির কাছে অন্তত ৩০ সদস্যের একটি দল চেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে ফিরে আসার পর পরই। তাদেরকে নিয়ে বেশ কিছু সেশন পার করার পর তিনি বুঝতে পারবেন, কে কেমন। তাছাড়া আগামী এশিয়া কাপের জন্য তার নিজের মতো করে একটা দল বাছাই করার সুযোগ পাবেন স্টিভ।

    ঈদ-উল-আজহার আগেই এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হবে বলে শোনা যাচ্ছিল। ঈদের পর পরই প্রস্তুতি শুরুর জন্য ৩১ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল বাছাই করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকমন্ডলি ।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি ঘোষণা করা হয়। শরিফুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ এবং ফজলে রাব্বি মাহমুদ এসেছেন নতুন হিসেবে।

    ২৭ আগস্ট থেকে এই ৩১ জনকে নিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। সেখান থেকেই বাছাই করা হবে এশিয়া কাপের জন্য ১৪ কিংবা ১৫ সদস্যের মূল স্কোয়াড।

    জানা গেছে এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দলে আছেন

    মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাইফ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, লিটন কুমার দাস, আবু হায়দার রনি, নাজমুল ইসলাম অপু, মেহেদী হাসান মিরাজ।

    এছাড়া রয়েছেন, মুমিনুল হক সৌরভ, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, আরিফুল হক, আবু জায়েদ রাহী, নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মোহাম্মদ জাকির হাসান, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিথুন, ফজলে রাব্বি মাহমুদ।

  • স্কুলবিহীন গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

    স্কুলবিহীন গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

    সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রথম দেশে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেন। বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ইতিহাসের এমন নিন্দনীয় ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এজন্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের নামে স্কুলবিহীন গ্রামে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন এক ব্যক্তি।
    তিনি হলেন- গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভায় এ পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনুমোদন দেয়া হয়। ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
    এ পাঁচটি বিদ্যালয় হলো- সোনামুই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরমোহাইল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাতুটিয়া শেখ রেহানা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আজগড়া শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়।
    এ সব গ্রামে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। এলাকার বিত্তহীন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুরা দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছিলো। এমতাবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার নিজ উদ্যোগে এবং বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তির অনুদানে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। স্কুলের জমি কেনা, আসবাব পত্র ক্রয় এবং শিক্ষা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেখানে ভবন নির্মাণ করে দেয়। এ পাঁচ বিদ্যালয়ে ঝরে পড়াসহ প্রায় দুই হাজার দরিদ্র শিশু এখন অবৈতনিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
    উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শিক্ষা বঞ্চিত এলাকায় এসব স্কুল করা হয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের যে অপরিসীম অবদান সেটি চিন্তা করেই নামকরণ করা হয়।
  • বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে চাকরি খোয়ালেন মন্ত্রী!

    বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে চাকরি খোয়ালেন মন্ত্রী!

    বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে চাকরি খোয়াতে হলো নরওয়ের মৎস্যমন্ত্রীকে। ইরানি বংশোদ্ভূত বান্ধবীর সঙ্গে সে দেশে অবকাশে গিয়ে নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের পর মৎস্যমন্ত্রী পার সান্ডবার্গ।

    মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, তিনি তার ২৮ বছর বয়সী বান্ধবী বাহারেহ লেতনেসের সঙ্গে ইরানে অবকাশে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেননি।

    ৫৮ বছর বয়সী পার সান্ডবার্গ তার সরকারি ফোনটিও সঙ্গে করে ইরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইরানে গিয়ে দেশটির গুপ্তচরদের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকিতে ছিলেন তিনি। সান্ডবার্গের বান্ধবী লেতনেস একজন সাবেক সুন্দরী। তিনি এখন মাছ রপ্তানির ব্যবসা করেন। নরওয়েতে তার বসবাসের অনুমোদন আছে।

    কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী সলবার্গ সাংবাদিকদের বলেছেন, পদত্যাগ করে সান্ডবার্গ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

    নরওয়ের ক্ষমতায় জোট সরকার রয়েছে। এই জোটে আছে প্রোগ্রেস পার্টি। এই পার্টির উপনেতার পদও ছেড়েছেন সান্ডবার্গ।

  • ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৩ অক্টোবর

    ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৩ অক্টোবর

    রাজধানীর পূর্ব রাজারবাজারে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন আগামী ৩ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

    মঙ্গলবার মামলার প্রতিবেদন দেয়ার দিন ধার্য ছিল। এদিন পুলিশ তা দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর আদালতের বিচারক সুব্রত ঘোষ শুভ এদিন ধার্য করেন।

    মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে পূর্ব রাজাবাজারের দোতলা বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আট-নয় জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা করেন।

    এ হত্যা মামলায় বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজন হিসেবে জেএমবি, আনসারুল্লাহ ও হুজির ১৩ সদস্যসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১২ জন এখনও কারাগারে রয়েছেন।