Author: banglarmukh official

  • বরিশালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

    বরিশালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

    ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বরিশালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আজ সকাল ৯টায় নগরীর সদর রোডের সোহেল চত্বরের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ।

    এর পরপরই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

    এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (০৭ মার্চ) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    শেখ হাসিনা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষ থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আরেকটি পুষ্পস্তবক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তুলে দেন।

    পরে, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।

    ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু এক কালোত্তীর্ণ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • চিফ হুইপকে হত্যাচেষ্টার সময় অস্ত্রসহ যুবক আটক

    চিফ হুইপকে হত্যাচেষ্টার সময় অস্ত্রসহ যুবক আটক

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মো. রনি (৩০) নামে এক যুবককে রামদা সহ আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে চিফ হুইপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন।

    আটক রনি বাউফল পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিকেলে বাউফল উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে বাউফল উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভা চলাকালীন ওই যুবক (রনি) সভাকক্ষে চিফ হুইপের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকবার ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শিক্ষা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সভায় তখন উপস্থিত ছিলেন আ স ম ফিরোজ। এক পর্যায়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে চিফ হুইপের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করলে চিফ হুইপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন। এ সময় আটক ওই যুবকের কাছ থেকে একটি ধারালো রাম দা, গাঁজা, একটি অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন এবং দুই হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ৭ই মার্চ উপলক্ষে র‌্যালি এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের কারণে চিফ হুইপ সারাদিনই নেতাকর্মী দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন। দুপুরের পর যখন নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরে যান ঠিক তখনই এই ঘটনা। এটা গভীর একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ঘটনায় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে  পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্যই ওই যুবককে এখানে পাঠানো হয়েছে।

    শিক্ষা কমিটির ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, বাউফল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হকসহ শিক্ষা কমিটির অপর সদস্যরা।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সকল বিষয় গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • উদ্ভোধনী বয়ানের মধ্যদিয়ে চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিল শুরু

    উদ্ভোধনী বয়ানের মধ্যদিয়ে চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিল শুরু

    ৭-ই মার্চ জোহরের নামাজের পর উদ্ভোধনী বয়ানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে চরমোনাই মাহফিলের এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
    পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করীম তার বয়ানের শুরুতেই সবাইকে ধন্যবাদ দেন এত কষ্ট করেও চরমোনাই মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য। তিনি চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমার আব্বাজান দাদাজানের সূত্রে বলতেন, আল্লাহভোলাদেরকে আল্লাহর পথ দেখানোই হলো চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্য। চরমোনাই মাহফিল আখিরাতের কামাইয়ের জন্য, দুনিয়া অর্জনের জন্য নয়। এখানে পার্থিব উন্নয়নের কোনো তদবির দেয়া হয় না। আমরা তদবির দিই না। কোনো তদবির দিতেও জানি না। আল্লাহর হুকুম মেনে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে পীর সাহেব বলেন, আল্লাহপাক মানুষকে তার ইবাদত করার জন্যই শ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। শুধু নামাজের নামই ইবাদত নয়, সর্বক্ষেত্রে মালিকের হুকুম মেনে চলার নামই ইবাদত। কেউ মাগরিবের নামাজ চার রাকাত আদায় করলে কি তার নামায হবে? হবে না। কারণ, আল্লাহর হুকুম হলো তিন রাকাত পড়া। এজন্য বেশি পড়ে লাভ হবে না। আল্লাহ যেভাবে তার হুকুম পালন করতে বলেছেন, সেভাবেই আদায় করতে হবে।
    এরপর অন্যান্য আরো আলোচনা এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে বয়ানের প্রথম পর্ব শেষ করে মাহফিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। বয়ানের শুরুতেই লাখো মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয় কীর্তণখোলা নদীর প্রান্তর। লাখো মানুষের এ অংশগ্রহন যেন সত্যিই অবাক করার মত। মাহফিলের সূত্র থেকে জানাযায় পীর সাহেব দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ট বয়ান এবং আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন। কেবল তৃতীয়, চতুর্থ বয়ান করবেন শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। সর্বশেষ ১০ তারিখে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এই বিশাল জনসমাগম।
    মাহফিল সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, এ বছর মাহফিলে লোক সমাগম অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। মুসুল্লিদের জন্য নির্ধারিত চার মাঠ গত রাতেই কাণায় কানায় পুর্ন হয়ে গেছে। পঞ্চম মাঠ ঠিক করা হয়েছে গত রাতে যে মাঠও রাতের মধ্যে পুর্ন হয়ে গেছে বলে জানা যায়। মাহফিলে পীর সাহেবদের আধ্যাতিক বয়ান ছাড়াও প্রতিদিন কিছু ধারাবাহিক কার্যক্রম রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাহফিলের দ্বিতীয় দিন সকাল দশটা থেকে উলামা মাশায়েখ সম্মেলন এবং মাহফিলের তৃতীয় দিন সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রদের গন জমায়েত। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল অঙ্গ সংগঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি রয়েছে যেখানে সংগঠনের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম জাতির উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা মুলক বক্তৃতা প্রদান করবেন।  বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মেহমানরাও মাহফিলে ধারাবাহিক বয়ান বক্তৃতা করবেন বলে জানা গেছে।
    বরিশালের চরমোনাইর এই বাৎসরিক মাহফিল কেবল এদেশেই নয় বিদেশেও আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছে। অনেক বিদেশী মেহমানদের সমাগম হবে এ মাহফিলে। বিদেশী বেশ কিছু ভিআইপি ধর্মীয় শায়েখ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাহফিলে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। কওমি শিক্ষার সুতিকাগার ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষক, সৌদি, কাতার, মিশর, বাহরাইনসহ অনেক দেশ থেকেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ মাহফিলে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন মাহফিল সূত্র।
    চরমোনাই এই বাৎসরিক মাহফিল দেশ ও জাতির কল্যান কামনায় বদ্ধ পরিকর রয়েছে সব সময়। মাহফিলের সর্বোচ্চ সফলতা কামনায় সবার প্রতি দোয়া চেয়েছেন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম।
  • কিশোর প্রেমের ভয়ঙ্কর কিলিং মিশন

    মাইসার সঙ্গে আগেই রওনকের সম্পর্ক ছিল। পরে রওনক মাইসার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুহু নামে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে। কিন্তু তুহুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অন্য একটি ছেলের। তুহুর ওই প্রেমিক রওনকের আগের প্রেমিকাকে ব্যবহার করে রওনককে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয় হোলি উৎসব।

    পরিকল্পনামতো রওনক হোলি উৎসবে এলে তাকে হত্যার মাধ্যমে ইতি ঘটে ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের। এ ঘটনায় সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এক নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন— রিয়াজ আলম ওরফে ফারহান, ফাহিম আহম্মেদ ওরফে আব্রো, ইয়াসিন আলী, আল আমিন ওরফে ফারাবী খান ও লিজা আক্তার ওরফে মাইসা আলম। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি। তবে মূল পরিকল্পনাকারী তুহুর দ্বিতীয় প্রেমিককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খান জানান, মূলত রওনকের দ্বিতীয় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওই ছেলে ও রওনকের মধ্যে ফেসবুকে কথাকাটাকাটি ও একজন অন্যজনকে হুমকিদানের ঘটনা ঘটে। তাই ওই ছেলে পরিকল্পনা করে হোলি উৎসবকে বেছে নেয় রওনককে খুন করার  তাই মাইসাকে ব্যবহার করে রওনককে হোলি উৎসবে নিয়ে আসে ওই তরুণ।

    ডিসি বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাইসার কল পেয়ে ১ মার্চ রওনক কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে কলাবাগানে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়। রওনক পৌঁছার আগেই ওই তরুণ লক্ষ্মীবাজারে কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে এবং ছুরি সরবরাহ করে। রওনক বন্ধুদের সঙ্গে শাঁখারী বাজার শনি মন্দিরের সামনে গেলে মাইসা তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে যায়।

    সেখানে ২০-২৫ জন মিলে তাকে মারধর করে। এদের মধ্যে কয়েকজন রওনককে ছুরিকাঘাত করে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ফারহান নিজেই ছুরিকাঘাত করেছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে রওনকের বর্তমান প্রেমিকার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

    এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রওনক, মাইসা, তুহু কিংবা এই বন্ধুমহলের কেউ কোনো নির্দিষ্ট এলাকা অথবা একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে না। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে তারা একসঙ্গে দেখা করে। এদের মধ্যে কলেজছাত্র যেমন রয়েছে তেমনি ফলের দোকানিও আছে। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তাদের পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক গলিতে ছুরিকাঘাতে রওনককে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিনই নিহতের মা হেনা বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

  • অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে ৭১’র চেতনা’র মানববন্ধন

    অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে ৭১’র চেতনা’র মানববন্ধন

    হুজাইফা রহমানঃ

    লেখক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠন ৭১’র চেতনা,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে সোমবার সকাল ১০:১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মানববন্ধন করা হয়।

    এ সময় ৭১’র চেতনা,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোঃ লোকমান হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিলয় আহাম্মেদ রাজু, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাজারুল ইসলাম,কামরুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল ইভান, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি পরাগ প্রলয় ও মার্কেটিং বিভাগের এম.বি.এ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নয়ন কর্মকার।

    এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। বক্তারা বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবাল বিশেষ করে তরুণ-কিশোরদের মেধা মনন গঠনের ক্ষেত্রে তার লেখার মধ্য দিয়ে যে কাজ করে যাচ্ছেন, তা বন্ধ করতেই এ হামলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে প্রগতিবাদী দর্শনের প্রতিফলন না হলে এ সব হামলা আরও বাড়তে থাকবে।

    অধ্যাপক জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশ সঙ্কটে পড়লে তার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়। তারই জীবন যখন অনিরাপদ তখন সাধারণদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবাও যায় না। তারা জাফর ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং অনতিবিলম্বে অপরাধী চক্রকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    হুজাইফা রহমানঃ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই দিনে ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) অনুষ্ঠিত জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল।

    পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়৷ নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা।

    এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়; পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষে ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে “ডকুমেন্টারী হেরিটেজ” (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই ভাষণটি সহ মোট ৭৭ টি গুরুত্বপুর্ণ নথিকে একইসাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপুর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে। ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে (এমওডব্লিউ) ’ ৭ মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭ টি গুরতুপুর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধাননন্ত্রী শেখ হাসিনা একে ইতিহাসের প্রতিশোধ হিসেবে তুলনা করেছেন। কারণ স্বাধীন দেশে দীর্ঘসময় এই ভাষণের প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।

    শাবিপ্রবির শিক্ষক জাফর ইকবাল প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বঙ্গবন্ধু নয় বরং ইউনেস্কোই এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত হয়েছে। কারণ এখন তাদের কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণটি আছে, এমনটা তারা বলতে পারবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সচিবালয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন৷ একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয়, সেদিকেও তাঁর সতর্ক দৃষ্টি ছিল৷

    তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি৷ তার এই সতর্ক কৌশলের কারণেই ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই জনসভার ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিলেও তা করতে পারেনি৷ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ প্রতিবেদনে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না৷’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, “২০১৫ সালে ক্যানাডার একজন অধ্যাপক সারা বিশ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে একটা গ্রস্থ প্রকাশ করেছিলেন৷ সেখানেও বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল৷ তখন অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি পেলেও এবার পেলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি৷”

  • ৭ই মার্চে সাজছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

    ৭ই মার্চে সাজছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

    মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভার প্রস্তুতির কাজ চলছে। দিবসটিতে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ সমাবেশ করলেও এবারের আয়োজন পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। কারণ ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে গত বছরের অক্টোবরে।

    মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, সমাবেশ উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশ পরিষ্কার করা হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর জন্য চলছে টাওয়ার নির্মাণের কাজ। আর মাটিতে বাঁশ পুঁতে তার উপরে বসানো হচ্ছে রঙ-বেরঙের নৌকার পাল।

    প্রস্তুতির কাজ করছেন রমজান আলী। জানতে চাইলে  তিনি বলেন, এই প্রথম আমরা কোনো সমাবেশে ব্যানার লাগানোর জন্য এ ধরনের টাওয়ার করছি। এরকম পাঁচটি টাওয়ার তৈরি করা হবে, পাল থাকবে ৫০টি।
    আওয়ামী লীগের জনসভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে লেকের পূর্বপাশে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলেই। মঞ্চের কাজও শেষ পর্যায়ে।

    অনুষ্ঠানস্থলের দক্ষিণ অংশে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘হেলথ ক্যাম্প’। এছাড়া পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বিকেলে সমাবেশস্থল পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক

    এ সময় সড়ক ওবায়দুল কাদের বলেন, একাত্তরের চেতনাকে তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান থাকবে আগামীকালের (বুধবার) সমাবেশে। একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলার মাটি থেকে এখনো নির্মূল হয়নি। সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ বিজয়কে সংহত করার পথে অন্তরায়। সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ উৎপাটনে জনগণের সহযোগিতা চাইবেন নেত্রী।

    অন্যদিকে এ সমাবেশ বিশাল গণজমায়েতের জন্য আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোও প্রচারণা চালাচ্ছে। ৬ দিন ধরে সমাবেশের মাইকিং করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, আমরা ছাত্রলীগের ২০টি টিম প্রচারণার কাজ করেছি। আশা করছি বিপুল সংখ্যক লোকসমাগম হবে। তার মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা থাকবে প্রায় ৭০ হাজার।

  • বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান- ৩ দেহ ব্যবসায়ী আটক

    বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান- ৩ দেহ ব্যবসায়ী আটক

    বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেল গালিবে অভিযান চালিয়ে ৩ দেহ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার নগরীর দক্ষিন চকবাজার এলাকার হোটেলে গালিব থেকে তাদের আটক করে। পুলিশ জানায়, অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারনে তাদের আটক করা হয়। আটক ৩ দেহ ব্যবসায়ীকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
    উল্লেখ্য, বর্তমান পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন যোগদান করার পর থেকে বরিশাল নগরীর কোন আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা করা যাবেনা বলে হুশিয়ারী দেন। কিন্তু কিছু অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীরা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে মনির তার নিজের আবাসিক হোটেল গালিব ও হোটেল পাতারহাটে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যাচেষ্টা মামলা- শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যাচেষ্টা মামলা- শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, যাদের মধ্যে শফিক রেহমানও আছেন।

    মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে এই অভিযোগ গ্রহণ করেন। শফিক রেহমান ছাড়া যাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

    আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, শুনানির সময় মাহমুদুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শফিক রহমান উপস্থিত না হতে পারায় সময় আবেদন করা হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত আদালতে উল্লেখিত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামুনের ছেলে রিজভী আহাম্মেদ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে তা অন্য আসামিদের সরবরাহ করেন। আর প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এই ষড়যন্ত্রে অর্থ যোগানোর পাশাপাশি পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

    মামুন জাসাসের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি এখনও সে দেশেই বসবাস করেন। জয়ের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত গোপন তথ্য পেতে এফবিআইএর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালে মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে কারাদ- হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে প্রকাশ পেলে তোলপাড় হয়। তখন জয়ও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেন। বলেন, যারা এই চক্রান্তে জড়িত, তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাজা পাওয়া বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ সিজার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি অনুযায়ী জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য তিনি বাংলাদেশি এক সাংবাদিককে দিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন।

    ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। এতে জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র আনা হয়। মামলায় বলা হয়, জাসাসের সহ-সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন এবং দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। ‘প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জীবননাশসহ যে কোনো ধরনের ক্ষতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।

    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিএনপির হাইকমান্ড দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন করছে।’ ২০১৬ সালের এপ্রিলে শফিক রেহমানকে তার ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাসা থেকে জয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য ও গোপনীয় নথিও পাওয়া গেছে। পাঁচ মাস পর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শফিক রেহমান। অন্যদিকে দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই বছরের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান।