Author: banglarmukh official

  • রাসূল (সাঃ) এর খাদ্য গ্রহনে সাবধানতা ও আধুনিক বিজ্ঞান

    রাসূল (সাঃ) এর খাদ্য গ্রহনে সাবধানতা ও আধুনিক বিজ্ঞান

    বর্তমানে বারবার জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, কম আহার করুন । বেশিদিন বাঁচতে পারবেন । মানুষের কাছে বারবার এ কথার উপকারিতা বর্ননা করা হচ্ছে । বেশি খেলে যেসব রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হয়, তার একটি তালিকা প্রণয়ন করেছেন প্রফেসর রিচার বার্ড । নিম্নে তা দেওয়া হল :

    (১) মস্তিষ্কের ব্যাধি (Brain Diseases); (২) চক্ষু রোগ (Eyes Diseases) (৩) জিহবা ও গলার রোগ (E.N.T. Diseases) (৪) বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি (Chest and Lungs Diseases) (৫) হৃদ রোগ (Heart and Valves Diseases); (৬) যকৃত ও পিত্তের রোগ (Liver and Gall bladder diseases); (৭) ডায়াবেটিস (Diabetec) (৮) উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure); (৯) মস্তিষ্কের রক্তক্ষরন (Brain Hemorrhage); (১০) দুশ্চিন্তাগ্রস্থ (Depression) (১১) অর্ধাঙ্গ রোগ (Paraliysis) (১২) মনস্তাত্ত্বিক রোগ (Psychological Diseases) (১৩) নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়া (সান উইকলি সুইডেন)

    গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, এ লিস্ট প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর লিস্ট, যা প্রফেসর সাহেব গভীর চিন্তা ও গবেষনার পর প্রকাশ করেছেন । কিন্তু অপরদিকে রাসূল (সাঃ) এর বর্ননার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন । রাসূল (সাঃ) বলেন, পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ।

    (মযাকুল আরেফীন) একজন দার্শনিকের নিকট যখন হুজুর (সাঃ) এর নির্দেশের কথা শুনানো হল তখন সে বলতে লাগল, এর চেয়ে উওম ও শক্তিশালী কথা আমি আজ পর্যন্ত শ্রবন করিনি ।

    লেখকঃ হুজাইফা রহমান

    কবি ও সাংবাদিক

  • নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করালেন প্রধানমন্ত্রী

    নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করালেন প্রধানমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে সিলেটে লাখো জনতাকে ওয়াদা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আগামী যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আমরা সবার কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাই। নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে, উন্নয়নের পক্ষে নৌকা এগিয়ে নিচ্ছে।’

    মঙ্গলবার সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    এর আগে, সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিকাল ৪টায় বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট সফর করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলেন শেখ হাসিনা। তিনি নিজের বক্তব্যেও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

    দীর্ঘ ৩৯ মিনিটের বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চারবছর পূর্ণ করে এখন পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা পূণ্যভূমি সিলেট থেকে শুরু করেছি। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁঁয়া লেগেছে।’

    মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় আলিয়া মাঠে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ বাংলাদেশকে গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির জনককে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমভবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫ এর পর বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়ন শুরু হয়।’

    প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে চলছিল সাজ সাজ রব। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।

    আলিয়া ময়দানের জনসমুদ্রে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়। পরপর দুবার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের উপর আক্রমণ হয়। সে আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া একাধিকবার কামরানের উপর হামলা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের উপর বোমা হামলা হয়।’

    বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির হত্যাযজ্ঞ সারাদেশে চলে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা রেহাই পায়নি। সারাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়, বহু নেতাকে গুম করা হয়।’

    তিনি বলেন, ‘বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা চালায়। সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ২০১৩. ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলা ভাই, আবদুর রহমান তৈরী হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রোলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫শ’ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে তিন হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এরকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি।’

    তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে।’

    ‘আজ সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। সামনে আরো কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে।’ নিজের বক্তব্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের জন হাহাকার ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আজ আমরা দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আমরা কম্পিউটারের উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সহজলভ্য করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষার হার ৬৫.৫ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতার হার কমিয়ে ৪৫ ভাগে নিয়ে আসেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা এ হারকে ৭২ ভাগের উপরে নিয়ে গেছি। আমরা প্রতিটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করছি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে শিক্ষাকে বহুমুখী করে দিচ্ছি।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ দেশে ১৪ কোটি সিমকার্ড ব্যবহৃত হয়। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। মাত্র ১০টাকায় কৃষক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। দুই কোটির উপর কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। এক কোটির উপর কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে। যেখানে যে বন্যায় আক্রান্ত, সেখানে বীজ, সারসহ অনান্য উপকরণ আমরা দিচ্ছি। কৃষকের ঋণ আদায় যেন স্থগিত থাকে তার ব্যবস্থা করছি। সিলেটের চা উৎপাদন যেন বৃদ্ধি পায়, তার ব্যবস্থা করছি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র করছি। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সাথে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫শ’ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি।  সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, গ্রামের জনগণের উন্নতি। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, দশের প্রতিটি মানুষ পেট ভরে খাবার খাবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আমরা জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। আজ আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। যারা হতদরিদ্র, শ্রমিকশ্রেণি, সেই সব মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ের জন্য ভাতা দিচ্ছি। ছেলে মেয়েরা যেন উচ্চশিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। দেশকে উন্নত করতে হলে, জাতিকে দারিদ্রমুক্ত করতে হলে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীদের জন্য তিনটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি হয়ে গেছে। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশেল সুনাম হয়। দেশ পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ , সন্ত্রাস হয়ে যায় তাদের মূল কাজ। এই দেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আ.লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশে এতো উন্নয়ন হতো হনা। আ.লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। তা করেছি। জাতির জনকের খুনিদের বিচার করেছি। বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক মা, বোন, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক, সকল অভিভাবক সবাইকে নিজেদের ছেলেমেয়েদে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশিদিন অনুপস্থিত কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না।’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সিলেট আজ শান্তির নগরী। এই শান্তি যেন বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একসাথে মিলে কাজ করতে হবে, যাতে সিলেটের সকল পাড়া-মহল্লায় শান্তি বজায় থাকে। আমরা বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে আমরা উন্নত করে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করবো।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কারো কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলেন অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

    আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আমরা সবার কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাই। নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে। উন্নয়নের পক্ষে নৌকা এগিয়ে নিচ্ছে।’ তিনি হাত তুলিয়ে উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করান।
    নিজের বক্তব্যে প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দেওয়ান ফরিদ গাজী, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে মোমেন প্রমুখ।

    সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহী, আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রব্বানি চিনু, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রিজনভ্যান থেকে ২ নেতাকে ছিনিয়ে নিল বিএনপি কর্মীরা!

    প্রিজনভ্যান থেকে ২ নেতাকে ছিনিয়ে নিল বিএনপি কর্মীরা!

    বিএনপি খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে আটক দুই নেতাকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপির কর্মীরা। তবে আটক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাইকোর্টের ঈদগাহ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর বাংলা নিউজের।

    বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে প্রিজনভ্যানটি ভাঙচুর করে ওই দুইজনকে ছিনিয়ে নেন।

    তবে এ খবর অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল। তিনি বলেন, একটি প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করা হলেও ভ্যানে কোনো আসামি ছিল না। কাউকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

    শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় একটি প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের আটক করতে অভিযান চলছে।

  • কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    সিলেটের বিশ্বনাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক গাফিলতির কারণে ১লা ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না দুই ছাত্র। কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন নামের এই দুই ছাত্র উপজেলার তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার কথা ছিল।

    দু’ছাত্রের পরীক্ষা অনিশ্চিতের খবর ছড়ানোর পর মঙ্গলবার সকালে রীতিমত তুলকালাম কাণ্ড ঘটে তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে প্রহৃত হন অফিস সহকারী দিলহুর আলম। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন এলাকাবাসীও। পরে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মাদরাসার অফিস সহকারীকে। এছাড়া, ঘটনার তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

    জানা যায়, ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্যে রেজিস্ট্রেশন করে উপজেলার তেলিকোনা আলিম মাদরাসার ৬২ শিক্ষার্থী। তারা যথারীতি প্রি-টেস্ট ও টেস্টেও অংশ নেয়। গত ২৯ জানুয়ারী সোমবার ৬০ জন শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ড এলেও সেটা পাননি দাখিল পরীক্ষার্থী উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের হাজী জমশিদ আলীর পুত্র কামরান আহমদ ও সিলেটের খাদিমনগর নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুন নুরের পুত্র আবদুল গাফ্ফার লিমন। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসায় এসে তারা এ বিষয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অফিস সহকারী দিলহুর আলমের কাছে এর কারণ জানতে চান। এসময় তিনি কোনো সদুত্তর না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার উপর চড়াও হয়।

    খবর পেয়ে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরিস্থিতি সামাল দেন। এসময় সকলের উপস্থিতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অফিস সহকারী দিলহুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং ঘটনাটি তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বশীল মাওলানা মুখলিছুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য করা হয় ইংরেজীর প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনকে।

    এব্যাপারে দাখিল পরীক্ষা অনিশ্চিত হওয়া দুই ছাত্র কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন কান্নাজড়িত কন্ঠে  জানান, তারা যথাক্রমে
    ৩৮০০টাকা ও ৩০০০টাকা দিয়ে দাখিলের রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে, সে সময় শুধুমাত্র তাদের ছবি নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের দস্তখত নেয়া হয়নি।

    অফিস সহকারী দিলহুর আলম নিজেই সব পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরমে ডান হাতে বাম হাতে দস্তখত করেন। এছাড়াও, কামরান ও লিমন সব পরীক্ষার্থীর সাথে
    প্রি-টেস্ট ও টেস্টে অংশ নেন। অথচ, সোমবার অন্যদের এডমিট কার্ড এলেও তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে রেজিস্ট্রেশনই হয়নি। এসময়
    তারা দিলহুর আলমের বিরুদ্ধে বৃত্তির টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন।

    এদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী দিলহুর আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৬২ জনের
    ছবি ও টাকা নেয়া হলেও ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন কেন কেন্দ্রে পাঠানো হল-এমন প্রশ্নের কোনো উত্তরই দিতে পারেননি দিলহুর আলম। তবে বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শ্রেণিশিক্ষকরা জানেন বলে তিনি জানান।

    মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মো. হুসাইন ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, অফিস সহকারীর ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ দুই ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের সাথে আমরা কথা বলে একটা সমাধানের চেষ্টা করছি।

    খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, দু’ছাত্রের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়াটা দুঃখজনক। এর দায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের। আমরা বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। সকলের সাথে কথা বলেছি। একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।

    এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বিষয়টি দেখার জন্যে এখনই উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিচ্ছি। এ ঘটনায়
    দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বিশ্বাস করি আমরাই এগিয়ে থাকব: মাহমুদুল্লাহ

    চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে টিম শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, স্বাগতিক টাইগাররাও ছেড়ে কথা বলতে নারাজ।

    ঘরের মাঠে খেলা বলে নিজেদের এগিয়ে রেখেছেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ফেবারিট হিসেবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না। শ্রীলঙ্কা টেস্টে ভালো করছে। আমাদের হোম কন্ডিশনে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং বিশ্বাস করি আমরা এগিয়ে থাকব। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যে টিম ব্যালেন্স আছে…যদিও সাকিব নেই, তারপরও দল ব্যালেন্স আছে। ভালোমানের স্পিনার এবং পেস বোলার আছে। এবং ইতিবাচক ব্যাটসম্যান আছে। আশা করছি আমরা যে কোনো মূহুর্তে ভালো কিছুর আশা করতে পারি।’

    ভালো ফলের জন্য মাহমুদুল্লাহ দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, ‘সবাই দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে তাহলে অধিনায়কত্ব করা খুব সহজ হয়ে যায়। আমরা সব সময় দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করি। এবারও আমাদের লক্ষ্য থাকবে দলগতভাবে ভালো পারফর্ম করা। ওই জিনিসটা যদি করতে পারি তাহলে আমার জন্য সহজ হয়ে যাবে। দলে কম-বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে এবং জুনিয়র ক্রিকেটাররা সবাই বেশ সহায়ক। সেদিক থেকে আমি বলবো আমার জন্য ভালো হবে।’

    উল্লেখ্য, ইনজুরির কারণে দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছে না দল। সাকিবের অভাব পূরণ সম্ভব নয়।

  • ভারতে ৮ মাসের শিশুকে ধর্ষণ করল আত্মীয়!

    ভারতে ৮ মাসের শিশুকে ধর্ষণ করল আত্মীয়!

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ধর্ষণ নামক ভয়ানক ব্যধির কবল থেকে রক্ষা পেল না ৮ মাসের শিশুটিও। ২৮ বছর বয়সী এক নিকট আত্মীয়ের এই নির্মমতার শিকার হয়ে এখন দিল্লির একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশুটি।

    ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিশুটির মা একজন বেবি সিটার। শিশুটি যখন ধর্ষণের শিকার হয় তিনি তখন নিজ কাজে ছিলেন। শিশুটির ওই নিকটাত্মীয় এ ফাঁকে শিশুটিকে নিয়ে খেলাধুলার ছলে তাকে ধর্ষণ করে।

    এদিকে টাইমস নাও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রবিবার ঘটনাটি ঘটলেও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সোমবার তা প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় জড়িত ২৮ বছরের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঘটনার পরই দিল্লি নারী কমিশনের প্রধান স্বাতি মালওয়াল হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে আসেন।

    পরে তিনি এক টুইটে জানান, হাসপাতালে শিশুটির তিন ঘণ্টায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার গোপনাঙ্গ ভয়ংকর ক্ষতি হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সে এখন নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছে।

    টুইটে স্বাতি আরও লিখেছেন- ‘কী করো, দিল্লিতে আজ যখন আট মাসের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, তখন মানুষ ঘুমায় কী করে?

  • ভাড়া বাকি, তাই বিএনপি কার্যালয় তালাবদ্ধ!

    ভাড়া বাকি, তাই বিএনপি কার্যালয় তালাবদ্ধ!

    চুক্তির শর্তভঙ্গ ও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করায় সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২৫ বছর ধরে সমবায় বিভাগের ভবনটি বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা অফিসটি তালাবদ্ধ করে দেয়।

    সমবায় সমিতির সহকারী পরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, ভাড়া বাকি ও চুক্তির শর্তভঙ্গ করার কারণে চুক্তিনামা বাতিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৯ জানুয়ারি কার্যালয়ে সমিতির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদের পাশে সমবায় অফিসের একতলা ভবনটি তৎকালীন সংসদ সদস্য এম আকবর আলী নিজের নামে ভাড়া নেন। আকবর আলীর নামে ভাড়া নিলেও পরে এটি বিএনপি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রায় দু’বছর ধরে বিএনপি এই কার্যালয়ের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। বারবার ভাড়া ও বিল দিতে বলা হলেও তাদের কেউ তা আমলে নেননি। তাই বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উল্লাপাড়া বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় অফিস দখল নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই ভাড়া পরিশোধ করেনি। আর এজন্যই উপজেলা সমবায় বিভাগ তাদের অফিস ভাড়ার চুক্তিনামা বাতিল করেছে।

    উপজেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আকবর আলী বলেন, কার্যালয়টি আমি ভাড়া নিলেও পরবর্তীকালে বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। দলীয় কোন্দলের কারণে দু’বছর ধরে ওই কার্যালয় নিয়মিত ব্যবহার হয় না। এ কারণে ভাড়া বাকি রয়ে গেছে।

    আকবর আলী দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের দলীয় সংসদ সদস্যের চাপে পড়ে সমবায় বিভাগ চুক্তিনামা বাতিল করে এই কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে।

  • যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে: আইনমন্ত্রী

    যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে: আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তথ্য নির্ভর সত্য প্রকাশ গুপ্তচরবৃত্তি হবে না। যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (৩২ ধারা) ফলে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ হবে। গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। অহেতুক ভীতি সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী চান না কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার হোক।

    তিনি আরও বলেন, ৫৭ ধারায় বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে তা করা হয়নি। বাকস্বাধীনতা একটুও হরণ করা হবে না।

  • ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই মেলায় নয় : ডিএমপি

    ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই মেলায় নয় : ডিএমপি

    সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয় কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আনা যাবে না হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    আসন্ন অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বই যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলা একাডেমির একটা ডেডিকেটেড টিম কাজ করবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এমন বই যারা মেলায় আনবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে কেউ যদি বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে পুলিশকে অবহিত করলে তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘মেলার ভেতর ও চারপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে। চারপাশে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

  • ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

    ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

    আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আশপাশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে লোকসমাগম করবে দলটি। সারা দেশেও রাজপথে সরব থাকবেন নেতা-কর্মীরা। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নেতিবাচক রায় এলে দেশজুড়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে।

    বকশীবাজার এলাকা থেকে বেগম জিয়াকে জেলে নিতেও বাধা দেওয়া হবে। এরপর শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূটির দিকেও যেতে পারে দলটি। প্রাথমিকভাবে এসব কর্মসূচি নিয়ে ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে দলের নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাহী কমিটি চাইলে কর্মসূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, রায়-পরবর্তী দলের করণীয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্নজনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই যেন দলে ভাঙন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলুপ্ত করে তা স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন করিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় দলের সদস্যপদের অযোগ্যতার বিষয়ে যা উল্লেখ ছিল, তাতে কেউ দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনি দলের সদস্য থাকতে পারবেন না। ওই ধারার (ক)-তে আছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নম্বর ৯-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

    লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও সার্বিক বিষয় তদারক করছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা করছেন। গতকালও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। এর আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে উত্তর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। আজ তিনি গুলশানে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, বয়স হয়ে গেছে। সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন, সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই হবে।’

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এক নেত্রী আদালতে যাবেন, আরেক নেত্রী নির্বাচনী জনসভা করবেন, এটা গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হলে এ দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সারাধণ মানুষই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

    এরই মধ্যে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার। রাজধানীতে মধ্যম সারির নেতাদের বাসায় সাদা পোশাকে পুলিশ যাতায়াত করছে বলেও অভিযোগ দলটির। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে মধ্যম সারি ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কেউ গ্রেফতার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে রাত যাপন করতে বলা হয়েছে। কৌশল নিয়ে সবাইকে চলতে বলা হয় দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। রায়ের দিন ঢাকার রাজপথে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, মোড়ে মোড়ে অবস্থান, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ হলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভায় সবার বক্তব্য শুনবেন। এরপর তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ‘রাজদর্শন’ হলে  সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধানবলে দলের চেয়ারপারসনের পরামর্শক্রমে মহাসচিব জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। তিনি কমিটির সদস্যদের নোটিশ দিয়েছেন ৩ জানুয়ারির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এটাই বর্তমান কমিটির প্রথম বৈঠক। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সারা দেশের শাখাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় সম্পর্কে যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে তখন থেকে এ সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে।’