Author: banglarmukh official

  • অাসাম থেকে বিতাড়িত মানুষদের পশ্চিমবঙ্গে স্থান দিতে আর্জি মমতার

    অাসাম থেকে বিতাড়িত মানুষদের পশ্চিমবঙ্গে স্থান দিতে আর্জি মমতার

    ভারতের অাসাম রাজ্য থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা মানুষদের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দেওয়ার জন্য রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন রাখলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের শামুকপোতায় এক জনসভা থেকে রাজ্যবাসীর কাছে এই আদেবন রাখেন মমতা।

    অাসাম থেকে ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ (এনআরসি)-র প্রথম খসড়ায় বাঙালি ও হিন্দী ভাষাভাষী মানুষের বাদ পড়া নিয়ে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আজকে অাসামে বাংলা ভাষায় যারা কথা বলছে-অনেক বৈধ নাগরিকের নাম তালিকায় না তুলে, তাদের বিদায় দেওয়ার নাম করে তাদের ওপর অত্যাচার করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। মালদা, নদীয়া, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি থেকে গত কয়েক বছর ধরে অাসামে বসবাস করছে ঠিক সেরকম ওখানকার মানুষও আমাদের রাজ্যে আছে। অথচ অাসামে সেই সব মানুষদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন এটা হবে?’

    মমতার দাবি, ‘অাসামের ৩.২৯ কোটি মানুষের মধ্যে থেকে ১.২৯ কোটির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি-এদের মধ্যে বাংলা ও হিন্দি ভাষাভাষী মানুষও রয়েছে’। এসময় সভায় উপস্থিত মানুষদের উদ্যেশ্যে মমতা বলেন, ‘তারা (অাসাম) কিভাবে ওই মানুষগুলোকে তাড়াতে পারে? আমি আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলবো। ওখান (অাসাম) থেকে অত্যাচারিত হয়ে যদি কেউ এখানে (পশ্চিমবঙ্গ) আসে তবে নিজের মনে করে তাদের স্থান দেবেন। আপনারা তাদের তাড়িয়ে দেবেন না’।

    মমতা আরও বলেন, ‘আমাদের পাশে ভুটান দেশ, ভুটানকে আমরা খুব ভালবাসি। আমাদের পাশে বাংলাদেশ, ওদের আমরা ভালবাসি, ওরাও আমাদের ভালবাসে। ওদের ভাষা বাংলা, আমাদের ভাষাও বাংলা। পাশে নেপাল আছে তাদের সাথেও আমাদের ভালো সম্পর্ক। ঠিক সেরকম পাশে অাসাম রাজ্যও আছে। এটা আমাদের সীমান্তবর্তী রাজ্য। বাংলা ভাল থাকলে অাসাম ভালো থাকে, আবার অাসাম ভালো থাকলে বাংলা ভালো থাকে। কিন্তু সেখানে কোন গণ্ডগোল হলে বাংলায় তার প্রভাব পড়ে, কিন্তু বাংলাতে কোন গণ্ডগোল হলে অাসামে তার প্রভাব পড়ে না কারণ আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখি’।

    তবে এবারই প্রথম নয় এর আগেও অাসামে বৈধ নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের নামে অাসামে সবাইকে তাড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

    এদিকে, এনআরসি নিয়ে মমতার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তাঁরই সরকারের নগরায়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।  কলকাতা যোধপুর পার্কে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি সেরকম তৈরি হয় তবে অাসামের বিতাড়িতদের এখানে আশ্রয়ের বিষয়টা গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখা হবে’।

    মন্ত্রী জানান, ‘ভারত আমাদের সকলের। এদেশের সব জায়গাই আমাদের সকলের। এদেশে একটা জাতিকে থাকতে দেবে না-এটা দেশের সংবিধানবিরোধী। ভারত সরকারের উচিত সেই রাজ্য সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া’।

    ফিরহাদ আরও জানান, ‘তিনি (মমতা) সত্য কথা বলতে কখনও ভয় পান না। বাঙালির ওপর অত্যাচার হলে মুখ্যমন্ত্রী বলবেনই। এতে বিরোধীরা কি বললো তাতে কিছু যায় আসে না’।

  • ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে মুক্তিযোদ্ধা

    ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে মুক্তিযোদ্ধা

    ভারতে চিকিৎসা করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা অতুল চন্দ্র হাজরা (৬৫)। বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার আখেড়া গ্রামের বাসিন্দা অতুল চন্দ্র গত ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর হিলি থেকে মালদা জেলার বুনিয়াদপুর পাথরঘাটায় এক আত্মীয় রঞ্জিত মন্ডলের বাড়িতে ওঠেন ওই বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা। সেখান থেকে গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের গুয়াহাটি-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসে ট্রেনে চেপে দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করাতে যাবার কথা ছিল তাঁর। সেইমতো রাতেই মালদা টাউন স্টেশনে ট্রেন ধরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন অতুল চন্দ্র হাজরা, সাথে ছিলেন তাঁর সম্পর্কিত ভাই রঞ্জিত মন্ডল। কিন্তু কুয়াশার কারনে ট্রেন বেশ কিছুক্ষণ দেরি হওয়ার কারণে মালদা রেল স্টেশনে ট্রেন ঢোকার পরই অপেক্ষমান যাত্রীদের মধ্যে গাড়িতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ওই হুড়োহুড়ির মধ্যেই ট্রেনে উঠতে যান অতুল চন্দ্র হাজরা। কিন্তু হাত ফসকে তিনি নীচে পড়ে যান। বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও তাঁর ডান হাতের কব্জিটি রেলে কাটা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই রাতেই অন্য যাত্রীদের সহায়তায় রঞ্জিত মন্ডল অতুল চন্দ্রকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর সেখানে অতুল চন্দ্রের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধা।

    রঞ্জিত মন্ডল জানান, ‘দাদাকে নিয়ে আমরা দুইজনে বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ট্রেন আসতে দেরী হওয়ার কারণে ভিড়টা বেশি ছিল, আমরা হঠাৎ করেই ট্রেনে চাপতে যাই। সে সময়ই আমার দাদা হাত ফসকে পড়ে যায়। তখনই ডান হাতের চারটি আঙুলসহ কব্জিটি কাটা পড়ে। আমরা এখন মালদা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসা হচ্ছে, তবে অবস্থা খুব একটা ভাল নয়’।

    তিনি আরও জানান, ‘আমার দাদা পাসপোর্টেই ভারতে আসে এবং চিকিৎসার জন্যই আমরা বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছিলাম। উনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সদস্য। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে এখন ভাতাও পান দাদা’।

  • বোনকে উদ্ধার করতে খদ্দের সেজে যৌনপল্লীতে ভাই, অতঃপর…

    বোনকে উদ্ধার করতে খদ্দের সেজে যৌনপল্লীতে ভাই, অতঃপর…

    ভারতের বিহারের বেগুসরাই জেলার যৌনপল্লী বখরী এলাকায় গিয়ে এক যুবক দুইশ’ টাকা তুলে দিয়েছিল এক দালালের হাতে। তারপরেই সেই যুবকের ‘পছন্দ’ করা যৌনকর্মীর ঘরে যাওয়ার অনুমতি মিলেছিল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই যুবকটি বেরিয়ে আসে সেই ঘর থেকে।

    কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবারও সে ফিরে এসেছিল সেই ‘কোঠা’য়, তখন সঙ্গে ছিল পুলিশ। যৌনকর্মীদের মধ্যে থেকে যুবকের ‘পছন্দ’ করা সেই মেয়েটি সামনে এগিয়ে এসেছিল।
    এই পর্যন্ত পড়ে কি আপনাদের মনে হচ্ছে যে এটা কোনও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট?একেবারেই নয়। এটা সম্পূর্ণ সত্যি ঘটনা। চমকের আরও বাকি আছে।

    দিন কয়েক আগে বেগুসরাইয়ের ওই যৌনপল্লীতে যে মেয়েটিকে ‘পছন্দ’ করেছিল দালালের হাতে টাকা তুলে দেওয়া যুবকটি, সে তারই বোন। বছর তিনেক আগে হারিয়ে যাওয়া বোনকে উদ্ধার করতেই ওই যুবক ‘খদ্দের’ সেজে হাজির হয়েছিল ওই যৌনপল্লীতে।

    বিহারের পুলিশ সেদিন দুজন নারীকে দেহব্যবসা থেকে উদ্ধার করেছে। তাদেরই মধ্যে একজন বিহারেরই আরেক জেলা শিবহরের বাসিন্দা প্রতিমা (নাম পরিবর্তিত)।

    তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরে ফোনে জানিয়েছেন, “বছর তিনেক আগে অশোক খলিফা নামে এক ব্যক্তি সীতামাড়ী জেলা থেকে আমাকে ফুঁসছিলে বুখরীতে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই ওই কাজ করাতে বাধ্য করেছিল সে।”

    ছোট ছেলেকে নিয়ে তখন থেকেই বখরীর ওই যৌনপল্লীতে একরকম বন্দী জীবন কাটাতেন ওই নারী। বাইরের জগতের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হতো না।

    তিনি বলেন, “সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার ঘরে এক ফেরিওয়ালা এসেছিল। আমি তাকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম – সে আমার বাপের বাড়ির এলাকার লোক। সে বলেছিল যে আমাকে চিনতে পেরেছে। আমি তার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে রেখেছিলাম। মাঝে ফোনে কয়েকবার আলোচনা করেছি তার সঙ্গে যে কীভাবে ওখান থেকে পালানো যায়”

    গ্রামে ফিরে এসে ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনকে পুরো ঘটনা জানান ওই ফেরিওয়ালা। বাপের বাড়ির কয়েকজন ওই নারীকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করার জন্য বেগুসরাইতে হাজির হন।

    প্রতিমার ভাই মনোজ (নাম পরিবর্তিত) বলেন, “ফোনেই ওই ফেরিওয়ালা আমার বোনকে জানিয়ে রেখেছিল যে আমি আসছি। সেইমতো আমি অশোক খলিফা নামের ওই দালালের কাছে যাই খদ্দের সেজে। দুইশ’ টাকায় রফা হওয়ার পরে আমার সামনে দুজনকে হাজির করা হয়েছিল। চোখের ইশারা করে দিয়েছিলাম বোনকে। তার ঘরে গিয়ে বলে আসি যে পুলিশ নিয়ে আসছি একটু পরে।”

    প্রতিমার বাবা আগেই বখরী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এরপরে ভাই থানায় গিয়ে পুলিশ দল নিয়ে ফিরে আসেন। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রতিমা এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা আরেক নারীকে।

    বখরী থানার ও সি শরৎ কুমার জানিয়েছেন, “প্রতিমাকে উদ্ধার করার পরের দিনই মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। তারপরেই তার বাবা-মায়ের হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”

    অভিযোগপত্রে নাম থাকা নাসিমা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্ত অশোক খলিফা এখনও পলাতক।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বাংলাদেশে প্রথম কন্যা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ঝালকাঠিতে

    বাংলাদেশে প্রথম কন্যা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ঝালকাঠিতে

    বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিভিন্ন দেশে থাকা ঝালকাঠির মেয়েদের নিয়ে কন্যা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কন্যা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে এই প্রথম কন্যা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    সোমবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠির একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আয়োজকরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য শারমিন মৌসূমী কেকা, পৌর কাউন্সিলর নাসিমা কামাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফরিন ফারজানা শিমুল, শিমুল সুলতানা হেপি, রাজাপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, সহকারী অধ্যাপক ড. কামরুন্নেছা আজাদ, প্রভাষক সাইফা আলম সঞ্চি, গৃহিণী মাহমুদা বেগম প্রমুখ। সম্মেলনে জেলা পরিষদ সদস্য শারমিন মৌসূমী কেকা বলেন, ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণকারী সকল বয়সী মেয়েরা এ উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে মিলন মেলা এবং ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণ ও দেশ বরণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ২০ জানুয়ারি জেলা শিল্পকলা একাডেমী হলরুমে বাছাই করা হবে। এতে গান, নাচ, আবৃত্তি, সুন্দরী ও রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৮ বছরের উর্ধ্বে থাকতে হবে।

  • বরিশাল সদর আসনের সাবেক সাংসদ, মন্ত্রী মতিউর রহমান আর নেই

    বরিশাল সদর আসনের সাবেক সাংসদ, মন্ত্রী মতিউর রহমান আর নেই

    জাতীয় পার্টি’র সাবেক মন্ত্রী, সচিব, রাষ্ট্রদূত এবং বরিশাল সদর আসনের সাবেক সাংসদ এম মতিউর রহমান ইন্তেকাল করেছেন।  মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকা’র একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

    মতিউর রহমান বরিশাল বিভাগের কাউখালী উপজেলা’র জয়কুল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি বিএম কলেজ থেকে ১৯৪০ সালে এইচ এস সি ও ১৯৪২ সালে ডিগ্রী পাশ করেন এবং ১৯৪৬ সালে লোকপ্রশাসন বিষয়ে এম.এ পাশ করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান একাউন্ট সার্ভিসে যোগদান করেন। এরপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিল্প সচিব নিযুক্ত হন।

    অবসরে যাওয়ার পর তিনি কোরিয়া ও জাপানের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি রাজনীতিতে যোগদান করে ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পার্টি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় আবারো বরিশাল সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম মতিউর রহমানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নিজবাড়ি কাউখালী’র জয়কুল গ্রামে নামাজে জানাযা শেষে তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি’র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল ও জেলা জাতীয় পার্টি’র নেতৃবৃন্দ।

  • বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বরিশালে প্রেস ব্রিফিং করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ১১ জানুয়ারী বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারী নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৫০টি স্টল থাকবে মেলা প্রাঙ্গনে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে সকলের জন্য। মেলায় লাঠি খেলা, বৌচি ও হারিভাঙ্গা, ভলিবলসহ নৃত্য পরিবেশনা, উন্নয়নমূলক জারি গান, বরিশাল-ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক নাটিকা, একক সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা ও প্যাকেজ পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসন তিনদিন ব্যাপী এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে। প্রেস ব্রিফিং এ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কালাম তালুকদার, মনির হোসেন হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার আহসান মাহামুদ রাসেল ও মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমূখ।

  • ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির মিডিয়া সেন্টারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা তফসিল ঘোলণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও সিটির সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, যাচাই বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রত্যাহার ২৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ জানুয়ারি ও ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ করপোরেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সদ্য প্রয়াত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ ডিসেম্বর থেকে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে। আইন অনুযায়ী ৯০ দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ উপ-নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। এ ছাড়া দুই সিটির আশপাশের ইউনিয়নযুক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর গত ৮ আগস্ট এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিএনসিসিতে সাধারণ ওয়ার্ড ( আগের ৩৬+ সংযুক্ত নতুন ১৮) ৫৪টি; সংরক্ষিত ওয়ার্ড (আগের ১২+ নতুন ৬) ১৮টি; ভোটকেন্দ্র ( আগের ১০৯৩+ নতুন ২৫৬) ১৩৪৯টি (সম্ভাব্য); ভোটকক্ষ (আগের ৫৮৯২+ নতুন ১৬০৮) ৭৫০০টি (সম্ভাব্য); অস্থায়ী ভোটকক্ষ (আগের ২৭৭+ নতুন ৬৮) ৩৪৫টি (সম্ভাব্য)। এ ছাড়া ডিএনসিসিতে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ২ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২ হাজার ৪৭২ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪২ জন। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ১২ লাখ ২৪ হাজার ৭০১ জন এবং নারী ভোটার ছিল ১১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ জন। ডিএসসিসির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৩১টি; ভোটকক্ষ ১২৩১টি, অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫৬টি। এসব ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৮ জন।

  • সিস্টিন চ্যাপেলের ভিতরেই মাতৃদুগ্ধ পান করাতে বললেন পোপ

    সিস্টিন চ্যাপেলের ভিতরেই মাতৃদুগ্ধ পান করাতে বললেন পোপ

    তামিলনাড়ুর জন্য গিয়েছিলেন জয়ললিতা। সাংসদ সে কাজটা সংসদ কক্ষের ভিতরেই। বললেন খোদ পোপ ফ্রান্সিস। উদ্দেশ্যে বললেন, ‘শিশু কেঁদে ওঠে বা ওদের খিদে, সিস্টিন চ্যাপেলের ভিতরেই মাতৃদুগ্ধ পান করান। কারণ এই স্নেহ-মমতার সর্বোৎকৃষ্ট’ মাতৃদুগ্ধ পান করান কোথায়, কীভাবে হবে, তা আদৌ জনসমক্ষে কি না.. তা নিয়ে বিতর্ক হয়নি।

    নারীরা অনেক বলেছেন, সদ্যোজাত শিশু ৬ মাস পর্যন্ত, এই বয়সের যে কোনও সময় খিদে পাবে। মায়েরা যদি বাড়ির থাকেন, তখন সন্তান সাথে থাকলেও মাতৃদুগ্ধ পান করানো যায় না। কারণ রাস্তাঘাটে তার ব্যবস্থা নেই ও একটা অস্বস্তিও কাজ করে-লোকে কী ভাববে।

    তাছাড়া সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে গিয়ে যৌন হেনস্থার মুখেও বহু সময় নারীদের পড়তে হয়েছে। সেটাও তাই একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জন্যই পুরো তামিলনাড়ু জুড়ে জয়ললিতা রাস্তার পাশে পাশে শেল্টার বানিয়েছিলেন, যাতে মায়েরা সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নারীদের অস্বস্তিবোধ থাকবে না।

    অস্ট্রেলিয়ার ওই সাংসদ সদ্যোজাতকে পার্লামেন্টের অধিবেশনেই নিয়ে যান ও তাকে সেখানেই মাতৃদুগ্ধ পান তিনি সব নতুন মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তারা যেন সন্তানকে নিজের কর্মস্থলে বা রাস্তাঘাটেই দুগ্ধপান করান। এতে লজ্জা বা অস্বস্তির কোনও কারণ নেই। এভাবেই মাতৃদুগ্ধ পানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা সময়ে উদ্যোগী হয়েছেন নানা স্তরের মানুষ। তবে রবিবার ‘ব্যাপটাইজ’ করার অনুষ্ঠানে পোপের এই কথা যে নিঃসন্দেহে সুদূরপ্রসারী, তা নিয়ে বিতর্ক নেই।

    স্টিন চ্যাপেল রোমান ক্যাথলিকদের অন্যতম পবিত্র স্থান। তার ভিতরে মাতৃদুগ্ধ পানের অনুমতি এক রকম অভাবনীয়ই। এ দিন ১৮টি মেয়ে ও ১৬টি ছেলেকে ‘ব্যাপটাইজ’ করেন পোপ।

    সেই অনুষ্ঠানেই সকলকে অবাক করে দিয়ে খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু বলেন, ওরা যদি কান্নার কনসার্ট শুরু করে, যদি ওদের অস্বস্তি হয়, খিদে পায় বা শীত করে ওদের মাতৃদুগ্ধ পান করান এর ভিতরেই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটা ভালোবাসারই আর একটা রূপ মাত্র। এ ক্ষেত্রে দুটো বার্তা দেওয়া গেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

    প্রথমত, মাতৃদুগ্ধ পান করাতে চান না অনেক মা। বিশেষত, যে কোনও দেশের শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি। এই বার্তায় সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পানের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। হয়তো কিছু ক্ষেত্রে ধর্মগুরু বলায় মতের পরিবর্তন হতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, কর্মস্থল-সহ জনসমক্ষে মাতৃদুগ্ধ পানের কোনও ভয় বা লজ্জা নেই, এগিয়ে আসতে হবে মায়েদেরই। এই বার্তাও গেছে পোপের কথায়। মাতৃদুগ্ধ পান নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ চলছে দেশে-বিদেশে। সেখানে পোপের বক্তব্য অনুঘটকের কাজ করতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ; তৃতীয় দফায় চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

    টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ; তৃতীয় দফায় চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে বহুজাতিক কোম্পানীর কর্মী রুপা খাতুনকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তৃতীয় দফায় আজ আরো চারজনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করবে আদালত। এরা হলেন, লাল মিয়া, হাসমত আলী, এম এ রৌফ ও ইমাম হোসেন।

    গত রবিবার রুপার লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রবীর এন কুমার, পঁচিশ মাইল এলাকার রশীদ মিয়া ও রহিজ উদ্দিন এবং রুপাকে বহনকারী বাস জব্দ করার সাক্ষী মধুপুরের শ্রমিক আবুল হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

    টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌশুলী (পিপি) একে এম নাসিমুল আক্তার জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে আজ রুপা ধর্ষণ হত্যা মামলায় চারজনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে।

    এর আগে গত বুধবার মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে সনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারি শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।

    ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারি শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে। ৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাঁরাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

  • ৮ বছরে ৮টা বিয়ে করে সাড়ে চার কোটি টাকার মালিক!

    ৮ বছরে ৮টা বিয়ে করে সাড়ে চার কোটি টাকার মালিক!

    পরিবহন ব্যবসা ভালো চলছিল না। বিকল্প ব্যবসা হিসেবে তাই বড়লোক বিধবা এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া নরীদের বিয়ে করা শুরু করেছিলেন তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার ভেল্লালোরের বাসিন্দা বি পুরুষোত্তমন। গত ৮ বছর ধরে এমন ৮ জন নারীকে বিয়ে করে প্রায়ে সাড়ে চার কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছিল ৫৭ বছরের পুরুষোত্তমন।

    কিন্তু ফের বিধাতা পুরুষের বক্র দৃষ্টির শিকার হয়েছে পুরুষোত্তমন। তার চতুর্থ স্ত্রী, চেন্নাইয়ের অধ্যাপক ইন্দিরাগান্ধীই প্রথম স্বামীর নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই পুরুষোত্তমনের ৮টি কুকীর্তির কথা সামনে আসে।

    ইন্দিরাগান্ধী পুলিশকে জানিয়েছেন, পুরুষোত্তমন তাকে বলেছিলেন, তিনি যেন তার চেন্নাইয়ের বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রি করে দেন, যাতে তারা কোয়েম্বাটুরে নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারেন। সেই মতো দেড় কোটি টাকায় বাড়ি বিক্রি করে পুরো টাকাটাই স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইন্দিরাগান্ধী। তারপর থেকেই ফেরার পুরুষোত্তমন। এরপরই পুলিশে অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার আগে আরও তিনজনকে এবং পরে আরও চারজনকে বিয়ে করেছিল পুরুষোত্তমন। তাদের কাছ থেকেও প্রচুর অর্থ হাতিয়েছিল সে।

    কোয়েম্বাটুর পুলিশ তার তিন স্ত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে। তার সপ্তম স্ত্রী কুমুদাবল্লী অভিযোগ করেছেন, পুরুষোত্তমন তাকে বলেছিল, জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তার ১৭ কোটি টাকা আটকে আছে। সমস্যা মেটাতে তার কিছু টাকার প্রয়োজন। স্বামীর প্রবোধবাক্যে ভুলে কুমুদাবল্লী তার কৃষিজমি বিক্রি করে ৩ কোটি টাকা দেয় পুরুষোত্তমনকে। তারপরই সেখান থেকে চম্পট দেয় পুরুষোত্তমন।

    পুলিশ তদন্তে আরও জানতে পেরেছে, কোয়েম্বাটুরের গান্ধীপুরমে ট্রাক পরিবহন ব্যবসা ছিল পুরুষোত্তমনের। তার স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা এবং ১৮ বছরের মেয়ে রয়েছে। পরিবহন ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় বিয়ে করে বড়লোক বিধবা এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া নারীদের কাছ থেকে টাকা হাতানোর ছক কষেছিল সে।

    এ ব্যাপারে তার সহায়ক ছিল কোয়েম্বাটুরের একটি পাত্রপাত্রী সংস্থার দুটি কর্মী মোহন এবং বনজা। তারাই পুরুষোত্তমনকে এধরনের নারীর খোঁজ দিতেন, যারা দ্বিতীয় বিয়েতে ইচ্ছুক। তাদেরকেও খুঁজছে পুলিশ। তারপরই রূপবান এবং বাকচতুর পুরুষোত্তমন নিজের রূপ এবং কথার জালে ভোলাত ওই নারীদের।

    এভাবেই সবিতা, ঊষারানি, বিমলা, ইন্দিরাগান্ধী, শান্তিনী, চিত্রা, কুমুদাবল্লী এবং সুশীলাকে বিয়ে করেছিল পুরুষোত্তমন। নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়াতে কয়েকটি বিয়ে নথিভুক্তও করেছিল সে। প্রতারক পুরুষোত্তমনের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।