Author: banglarmukh official

  • মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    গত ২ মাস ধরে এক কিশোরীকে ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে ৩ জন ব্যক্তি। এরপর সেই কিশোরী যখন পুলিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন তারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে কিশোরীকে হত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে কিশোরীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেইনপুরি জেলায়।

    পুলিশ জানায়, মা-বাবাকে খুন করার হুমকি দিয়ে দুই ‌মাসেরও বেশি সময় ধরে ৩ জন অভিযুক্ত সেই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে গেছে। কিছুদিন আগে সেই কিশোরী এই ঘটনাটি তার মা-বাবার কাছে জানালে তারা পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার ২দিন পরও পুলিশ কোনও ধরনের পদক্ষেপ করেনি।

    বুধবার সেই ৩ অভিযুক্তকে আক্রান্তের বাড়ির পাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সেই সময় ওই কিশোরী একাই ছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরের মধ্যে ঢুকে তার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে দেয়।

    এই ঘটনার পরই ফেরার ৩ অভিযুক্ত। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের।

  • বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানান কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এর পরপরই সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    যেখানে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। এরপর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব), ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমীন, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। অপরদিকে এখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে শহরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে ৭১’র মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

    এরআগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের সব সরকারি বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে দু’দিন আগে থেকেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জার মাধ্যমে আলোকিত করা হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় ও বিবির পুকুরকে ঘিরে বাহারী রংয়ের আলোকসজ্জা করার পাশাপাশি ব্যানার-ফ্যাস্টুন, তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়কে রাজনৈতিক নেতারা তেরণ ও ব্যানার টানিয়ে রেখেছে।

  • বরিশালে মাছ হাবিবের লালসার শিকার কলেজছাত্রী- গেলো প্রাণ!

    বরিশালে মাছ হাবিবের লালসার শিকার কলেজছাত্রী- গেলো প্রাণ!

    বরগুনা জেলার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মালেক মিয়ার কন্যা শামিমা আক্তার ছবি (৩০) শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ(শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিষপানের কারণে মাঝ বয়সী ডিভোর্সি ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে পর্যালোচনা করে মিলেছে তথ্যের বহু অসংলগ্নতা। শনিবার হাসপাতালে ছবি’র লাশের সঙ্গে থাকা তার ফুফাতো ভাই কবির জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় ছবি’র বোনের মেয়ে রিমু’র বাসায় বসে বিষপান করেন ছবি। খবর পেয়ে তিনি (কবির) পাথরঘাটা থেকে এসেছেন। তবে বিষপানের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছবি’র বাবা মালেক মিয়া বলেন, আমি অসুস্থ। কিছুই বলতে পারব না। কিন্তু রহস্যের জাল বিস্তর করেছে দুই কন্যা সন্তানের ওই জননীর মৃত্যুর সাথে বরিশালের বাসিন্দা মৎস্য শ্রমিকলীগ নেতা খান মো. হাবিব ওরফে মাছ হাবিবের সম্পৃক্ততার বিষয়টি। শুক্রবার রাতে শেবাচিম হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে দায়িত্বরত জালাল মিয়া বলেছেন, ওই নারীকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে আসেন তার (জালালের) পূর্ব পরিচিত খান মো. হাবিব ও মান্নান নামের দুই ব্যক্তি। পরবর্তীতে ছবি’র মৃত্যু হলে মান্নানকে সেখানে রেখে হাবিব পালিয়ে যান। এরপর ওই রাতে এবং শনিবার সারা দিনেও হাবিবকে লাশের আশেপাশে দেখা যায়নি।

    সরেজমিনে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে হাবিবকে দেখা না গেলেও বরিশাল তার সাঙ্গপাঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত একাধিক লোককে হাসপাতালে ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে। তবে হাবিব সাংবাদিকদের কাছে ছবিকে তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বলেছেন, ছবির মেয়ে অনি তাকে মোবাইলে ফোন করে মায়ের বিষপানের খবর জানালে সে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাথরঘাটার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে- খান হাবিবের সাথে মৃত শামিমা আক্তার ছবির হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই বিবাদ সৃষ্টির কারণ থেকে ছবিকে লাশ হতে হয়েছে। আর অবস্থা বেগতিক দেখে মাছ হাবিব পালিয়ে গিয়ে অর্থ ও ক্ষমতার জোরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নিহত ছবির পরিবারকে অর্থের লালসা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রেখেছেন।

    এই বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছবির পরিবার হাবিবের কাছে তার লাশ বিক্রি করে দিয়েছে। অর্থের ভারে মাটিতে মিলিয়ে গেছে হাবিবের অপরাধ। তবে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি বোনের মেয়ের বাসায় বসেই ছবি বিষপান করে এবং তার মেয়ে অনি বিষয়টি জেনে থাকে তাহলে তারা হাসপাতালে ভর্তির সময় কেন হাবিব এবং মান্নানের সাথে ছিলেন না এবং শনিবার দিনে লাশের সুরতহাল, পোস্টমর্টেমসহ কোন কার্যক্রমেই মেয়ে এবং বোনের মেয়েকে কেন দেখা যায়নি (?) আর যাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসলেন, তার মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের পাশে থাকার পরিবর্তে কেন খান হাবিব মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন ? বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে অনুসন্ধানের জন্য পাথরঘাটার একাধিক ভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আলাপ করে পাওয়া গেছে বহু অজানা তথ্য। অনেকের মতে খান হাবিবের সঙ্গে নিহত ছবির গোপন অভিসার এবং তার অপকর্মের ফিরিস্তি সম্পর্কে।

    স্থানীয় ও হাবিব ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, পাথরঘাটায় মৎস্য মোকামের ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে খান হাবিব মাসের অধিকাংশ সময় সেখানে অবস্থান করেন। মাছ ব্যবসার পাশাপাশি হাবিবের সেখানে বরিশাল গেস্ট হাউজ নামে একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলও আছে। আর নিহত ছবি’র দুই মেয়ে অনি ও জিমি। প্রায় দুই বছর আগে স্বামী লাল মিয়ার সাথে ছবির বিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে সরকারি বরিশাল কলেজে অনার্সে পড়ুয়া বড় মেয়ে অনি থাকেন নগরীর বৈদ্যপাড়ার একটি ছাত্রী মেসে। আর ছোট মেয়ে জিমিকে নিয়ে পাথরঘাটায় থাকতেন ছবি। পরিবার বরিশালে রেখে হাবিব পাথরঘাটায় একা থাকায় এবং ডিভোর্সি শামিমা আক্তার ছবি’র বেপরোয়া-উশৃঙ্খল জীবন যাপন থেকেই উভয়ের মাঝে ঘটে পরিচয়, সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা। একপর্যায়ে তারা পরকীয়ায় আশক্ত হলে হাবিবের গেস্ট হাউজে ছবি’র শুরু হয় অবাধ যাতায়াত। পরবর্তীতে ছবির পিত্রালয়ে ঘর নির্মাণ, আসবাবপত্রসহ আলিসান কায়দায় জীবন যাপনের সব রকম ব্যবস্থা করে দিয়ে পাথরঘাটায় অবস্থানকালে হাবিব ছবি’র বাড়িতেই জামাই আদরে থাকতে শুরু করেন।

    হাবিবের সার্বিক বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি  জানিয়েছেন, দিনের পর দিন ওই নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন হাবিব। তার অর্থের লোভে পড়ে কিছু দিন যেতেই ওই নারী হাবিবকে চাপ দিতে শুরু করেন বিয়ের জন্য। সেখান থেকেই তাদের মাঝে মনোমালিন্য এবং বিবাদের সূত্রপাত। বরিশালে স্ত্রী-সন্তান থাকায় ছবির সঙ্গে সবকিছু করলেও বিয়ে করতে রাজি হননি হাবিব। এভাবে ঝগড়া-বিবাদের মাঝেও তাদের রাত্রীযাপন অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি ছবি বিয়ের জন্য হাবিবকে ঘনঘন তাগাদা দিলে শুক্রবার বিকেলে এ নিয়ে গেস্ট হাউজে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক বাগবিতন্ডা হয়। সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই হাবিব তার লোকজনকে জানায় ছবি অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাসপাতালে নিতে হবে। সুচতুর হাবিব স্থানীয় হাসপাতালে ছবিকে নিয়ে গেলে সব ফাঁস হওয়ার ভয়ে পাথরঘাটার মৎস্য মোকামের এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর গাড়িতে করেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের অবৈধ সম্পর্কের শেষ পরিণতিতে ছবি’র মৃত্যু হলে হাবিব নিজেকে রক্ষায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং মুঠোফোন বন্ধ করে তার লোকজন দিয়ে নিহত ছবির পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

    ছবির বাবা, দুই মেয়ে এবং অন্যান্য আত্মীয়দের অর্থের লালসা দেখিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন এবং কাউকে প্রকৃত ঘটনা জানালে ছবির মতই পরিণতি হবে বলে হুশিয়ার করে দেন। এসব ঘটনা পাথরঘাটার একাধিক বাসিন্দা ও হাবিবের ঘনিষ্ঠ লোকজনদের কাছ থেকে শোনা গেলেও প্রকাশ্যে কিছুই বলতে পারবেন না বলে তারা সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন। তবে বিয়েতে হাবিবের অমতের কারণে মনোকষ্টে ছবি বিষপান করেছেন, নাকি ছবি বিয়ের জন্য অতিমাত্রায় চাপ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিব তাকে বিষপান করিয়েছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ। এই বিষয়ে জানতে বরিশাল মৎস্য শ্রমিকলীগ নেতা খান মো. হাবিবের মুঠোফোনে একাধিক চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

  • মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন মহানগর আওয়ামীলীগ

    মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন মহানগর আওয়ামীলীগ

    শেখ সুমন :

    আজ মহান বিজয় দিবসে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ।এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড.গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ.কে.এম জাহাঙ্গির , সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিনটু , যুগ্ম  সাধারন সম্পাদক যুবরত্ন সেরনীয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ্ সহ মহানগর যুবলীগ , ছাত্রলীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।

    শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদরশন পূরবক নিরবতা পালন করা হয়।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এরপর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

    শ্রদ্ধা জানানোর পর কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • এক বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিকের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা

    বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা ফটো সাংবাদিকদের একজন জুয়েল সামাদ তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু দু:সাহসিক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইরাক রণাঙ্গন থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার হোয়াইট হাউস, এশিয়ান সুনামি থেকে রিও অলিম্পিক- বহু বিচিত্র বিষয় কভার করেছেন।

    বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেসব অভিজ্ঞতা।

    এয়ার ফোর্স ওয়ান :
    লস এঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে আকাশে উড়েছে এয়ার ফোর্স ওয়ান। পাঁচ ঘন্টার ফ্লাইট। লস এঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত দিন কেটেছে সবার। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন এক অনুষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নানা বিষয়ে প্রতিদিন চিঠি লেখেন অনেক মানুষ। নির্বাচিত কিছু পত্রলেখককে প্রেসিডেন্ট লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে। ছিল আরও নানা আনুষ্ঠানিকতা।

    ফিরতি যাত্রায় এয়ারফোর্স ওয়ানের প্রেস কেবিনে সফরসঙ্গী সাংবাদিকরাও কিছুটা ক্লান্ত।

    নানা কাজে ব্যস্ত কেউ কেউ। হঠাৎ কেবিনের দরোজা দিয়ে ঢুকলেন প্রেসিডেন্ট। এএফপির ফটো সাংবাদিক জুয়েল সামাদের জন্য সেটাই ছিল এয়ার ফোর্স ওয়ানের শেষ ফ্লাইট। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বশেষ সফর।

    “আমার নতুন পোস্টিং হয়েছে নিউইয়র্কে। সেদিন আমার শেষ জার্নি এয়ার ফোর্স ওয়ানে। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে তাঁর স্টাফরা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই রীতি অনুযায়ী বিদায় জানাতে এসেছেন তিনি”, বলছিলেন জুয়েল সামাদ।

    “যেভাবে তিনি আমাকে বিদায় জানাতে আসলেন প্রেস কেবিনে, দ্যাট ওয়াজ ভেরি নাইস। আমি কিছুটা আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। উনি আমার সঙ্গে বেশ রসিকতাই করলেন। বললেন, নিউইয়র্কে কেন যাচ্ছো। ওখানে তো বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি। ”

    হোয়াইট হাউস প্রেস কোরের সদস্য হিসেবে প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে বিশ্বের বহু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ওবামার সফর-সঙ্গী ছিলেন জুয়েল সামাদ। ছিলেন বহু ঐতিহাসিক মূহুর্তের সাক্ষী। তবে এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক মধুর অন্তরঙ্গ মূহুর্তের স্মৃতিও আছে। এটি ছিল সেরকম একটা দিন।

    হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সাংবাদিকদের জন্যও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার মতো ব্যাপার। সাংবাদিকরা যখন খ্যাতির শিখরে পৌঁছান, তখন সাধারণত ‘প্রাইজড পোস্টিং’ হিসেবে হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়। জুয়েল সামাদের জন্য সেখানে কাজ করার সুযোগটা এসে গিয়েছিল বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে।

    বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাস পরের ঘটনা সেটি।

    “তখন আমার পোস্টিং ইন্দোনেশিয়াতে। আমাদের এএফপি’র নর্থ আমেরিকার ডিরেক্টর, উনি আমাকে হোয়াইট হাউজে নিয়ে আসেন। উনি চাইছিলেন হোয়াইট হাউজ একটু ভিন্নভাবে কভার করতে। একজন ফ্রেশ, ইয়াং কোন ফটোগ্রাফারকে দিয়ে। আমেরিকার সঙ্গে রিলেটেড নয় এমন কাউকে দিয়ে। আমাকে উনি ওয়াশিংটনে নিয়ে আসলেন। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আমি ওবামা এডমিনিস্ট্রেশন কাভার করেছি। ”

    বারাক ওবামা ছিলেন হোয়াইট হাউসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আর জুয়েল সামাদ তার প্রেস কোরে ঠাঁই পাওয়া প্রথম কোন বাংলাদেশি সাংবাদিক।

    এপি এএফপি, রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমস, শুধু এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ফটোসাংবাদিক থাকেন হোয়াইট হাউসে। এরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলের অংশ। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট যেখানেই যাবে, তার সঙ্গে থাকবেন এই চারজন। এরকম একটা বিরল সুযোগ পেয়ে জুয়েল সামাদ ছিলেন তাঁর ভাষায় ‘সুপার একসাইটেড’।

    “আমি কখনো ভাবিনি যে একদিন হোয়াইট হাউজ কভার করার সুযোগ আসবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাভেল করে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ হবে। প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবো এবং ট্রাভেল করতে পারবো। সত্যি কথা বলতে কি, এটা একটা প্রিভিলেজ। আমি যে সাড়ে ছয় বছর এই কাজটা করতে পেরেছি, সেজন্যে আমি কৃতজ্ঞ। ”

    ক্যামেরা হাতে কিশোর :
    তবে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত জুয়েল সামাদের এই জার্নিটা খুব সহজ ছিল না।

    নব্বুই এর দশকের শুরুতে ঢাকা শহরে ঝাঁক বেঁধে নানা জায়গায় ছুটে যেতে ফটো সাংবাদিকদের যে দল, তাদের মধ্যে ছিল ১৫ বছরের এক কিশোর। কিছুটা নেশায়, কিছুটা জীবিকার তাগিদে তাকে পথে নামতে হয়েছিল।

    “আমার বাবা, দুই চাচা ছিলেন এই পেশায়। এটা যেন আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম আমার এডুকেশন সাপোর্ট করার জন্য। অন্য কিছু আর মাথায় আসেনি ফটোগ্রাফি ছাড়া। তখন আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। ”

    কাজ শুরু করেছিলেন ঢাকার মর্ণিং সান পত্রিকায়। কিছুদিন পর যোগ দেন দৈনিক জনকন্ঠে। সেখানে কাজ করেছেন পাঁচ বছরের বেশি।

    “যে বয়সটা খেলাধুলার, সেই বয়সে আমি ঢুকে গেলাম কাজে। এক অর্থে এটা ছিল আমার জন্য ভালো সুযোগ। আবার অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। ”

    বড় বড় ফটো সাংবাদিকদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেতে অনেক সময় লেগেছে। টিটকারি শুনতে হয়েছে কাজ করতে গিয়ে।

    “হাতে গোণা দু একজন লোক ছাড়া শেখানোর লোক খুব কম ছিল। উল্টো বাধা দেয়ার লোক অনেক ছিল। রাস্তায় যখন ছবি তুলতে যেতাম, তখন নানা কথা শুনতে হতো, বলতো, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সাংবাদিক বনে গেছে। ”
    কিন্তু সেসব তিনি গায়ে মাখেন নি।

    আজকের সাফল্যের পর পেছন ফিরে দেখলে কি মনে হয়?

    “আমার জন্য দরকার ছিল এই স্ট্রাগলটা। আমার জন্য এটা ফাউন্ডেশন হিসেবে কাজ করেছে। এখান থেকে আমি যা শিখেছি, তা আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে। ”

    ২০০০ সালে ক্যারিয়ারে প্রথম বড় সুযোগ পান এএফপির ঢাকা অফিসে যোগ দেয়ার মাধ্যমে।

    “এএফপিতে যোগ দেয়ার পর বুঝতে পারি যে ফটো জার্নালিজম মানে বাংলাদেশের গন্ডিতে আটকে থাকা নয়। সারা বিশ্বে কাজ করার সুযোগ আছে। তখন থেকেই আমার ইচ্ছে হয়, আরও অনেক ধরণের অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করার। এবং এএফপিতে জয়েন করার পর আমি সুযোগগুলো পাই। ”

    যুদ্ধ দিনের গল্প:
    ২০০১ সালে ভারতের গুজরাটের ভূমিকম্প ছিল জুয়েল সামাদের প্রথম ফরেন অ্যাসাইনমেন্ট। এরপর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বা অন্যান্য অঞ্চলে যত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলো কভার করার সুযোগ হয়েছে। আফগান এবং ইরাক যুদ্ধের সময় এএফপির হয়ে সেখানে গেছেন।
    “আফগান এবং ইরাক যুদ্ধ আমার ক্যারিয়ারের বড় দুটি ঘটনা। এই দুটি যুদ্ধ আমাকে তৈরি করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে পাঠানো হয় আামাকে। আমি ছিলাম পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারে। যখন তালেবানের পতন হয়, তখন কাবুলে যাই। ভয়ের চেয়ে উত্তেজনাটাই বেশি কাজ করছিল এরকম একটা সুযোগ পেয়ে। ”

    “আফগানিস্তানে একটা ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। আমি এবং আমার এক অস্ট্রেলিয়ান কলিগ কাজ করছিলাম। আমেরিকান বি-ফিফটি-টু বিমান থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল পাহাড়ে। রাস্তার ধারে থেমে আমরা ছবি পাঠাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছনে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পেছনের গাড়িতে টরোন্টো স্টারের একজন সাংবাদিক এবং ফটো সাংবাদিক ছিল। তারা আসলে স্বামী-স্ত্রী। মহিলা সাংবাদিকের একটা পা গ্রেনেড হামলায় উড়ে গেছে। ”

    ঐ আহত সাংবাদিককে পরে জুয়েল সামাদ এবং তাঁর সহকর্মীই নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার লোকজন বললো, এখানে চিকিৎসা করা যাবে না। পরে তারা আবার গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যান নিকটবর্তী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে। সেখান থেকে কাবুলে এয়ার-লিফট করা হয় তাকে। ঐ মহিলা সাংবাদিকের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা।
    মোট পাঁচ দফায় ইরাক যুদ্ধ কভার করেছেন জুয়েল সামাদ। সেখানেও ছিল অনেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

    “যে পাঁচ বার ইরাক যুদ্ধ কভার করতে যাই তার মধ্যে তিনবারই মার্কিন বাহিনির সঙ্গে ‘এমবেডেড’ হয়ে। দুবার বাগদাদে স্বাধীনভাবে। ”

    টিকরিটে যে মার্কিন সেনাদল সাদ্দাম হোসেনকে তার গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আটক করে, জুয়েল সামাদ ছিলেন সেই সেনাদলের সঙ্গে এমবেডেড।

    “ওরা বিভিন্ন রেইডে যাওয়ার সময় আমাদের সাথে নিয়ে যেত। কিন্তু যেদিনের অভিযানে সাদ্দাম হোসেন ধরা পড়ে, সেদিন আমাদের নেয়নি। পরের দিন আমাদের সেখানে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনি। সাদ্দাম হোসেন বাংকার টাইপের ছোট্ট একটা গর্তে লুকিয়ে থাকতেন। আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। ”

    সেনাবাহিনির সঙ্গে ‘এমবেডেড’ হয়ে কাজ করার সময় কয়েকবার হামলারও শিকার হয়েছেন।

    “টিকরিটে একবার আমাদের কনভয়ের একটি গাড়িতে আইইডি হামলা হয়। আমি ছিলাম তিন গাড়ি পেছনে। আরেকবার আমাদের কনভয়ের ওপর গুলি চলে। তবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। ”

    তবে এত অভিজ্ঞতার মাঝে হোয়াইট হাউসের সাড়ে ছয় বছরের জীবনকেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় বলে মনে করেন জুয়েল সামাদ।

    প্রতিদিন প্রেসিডেন্ট কোথায় যাচ্ছেন, কী কর্মসূচি, তার বিস্তারিত আমরা আগের রাতেই জানতে পারতাম। সেই অনুযায়ী তারা কাজের পরিকল্পনা করতাম। প্রেসিডেন্টের পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স কি আছে, কোথায় ছবি তোলা যাবে, কোথায় যাবে না, এসব আগে থেকে জানানো হতো আমাদের। ”

    যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে যেদিন, সেদিন জুয়েল সামাদের দায়িত্ব পড়েছিল নিউইয়র্কে হিলারি ক্লিন্টনের সমাবেশ কভার করার।

    হিলারি ক্লিনটনের জন্য স্টেজটি সাজানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের আদলে। হিলারি জিতবেন, এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি, তার একটি ‘আইকনিক’ ছবি তোলার জন্য দুদিন ধরে ক্যামেরা সেট করলেন তিনি।
    কিন্তু ফল যখন ঘোষণা করা হলো, সব পরিকল্পনা পাল্টে গেল!

    “যদি হিলারি জিততো, তাহলে হয়তো এটি একটি আইকনিক ছবি হতে পারতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাপের মাঝখানে হিলারি দাঁড়িয়ে তার বিজয়ের পর বক্তৃতা দিচ্ছেন, এরকম একটা ছবি। ”

    তবে তাই বলে খেদ নেই জুয়েল সামাদের। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা একটি সংস্থার আর্কাইভে আছে তার ছবি আছে প্রায় ৯০ হাজার। এএফপির হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন ফটোগ্রাফারেরই এত বেশি ছবি তাদের আর্কাইভে রাখা হয়েছে।

    জুয়েল সামাদ এখন এএফপির নিউইয়র্ক ব্যুরোতে কাজ করেন। কিন্তু তারপরও বিশ্বের যেখানেই বড় কোন ঘটনা ঘটে, সেখানে পাঠানো হয় তাকে।

    জুয়েল সামাদের স্ত্রী গোধুলি খানও ফটো সাংবাদিক। দুই কন্যা নিয়ে নিউইয়র্কে তাদের সংসার।

    তার স্বপ্ন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করা।

    “যদি সম্ভব হয় বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করতে চাই্। তারা অনেকেই বেশ ভালো করছেন। অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন। আমার কাজের অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। “

  • লাল-সবুজের বিজয় গাথা আজ

    লাল-সবুজের বিজয় গাথা আজ

    আজ ভোরে পুব আকাশে যে নতুন সূর্য উঠবে সেই সূর্যই স্মরণ করিয়ে দেবে দিনটি গৌরবের, আনন্দের, বিজয়ের। জাতির জীবনে আজকের দিনটি মহা-আনন্দের। এমনি এক দিনের প্রতীক্ষায় কেটেছে বাঙালির হাজার বছর। বহু কাঙ্ক্ষিত এ দিনটির দেখা মিলেছিল ইতিহাসের পাতায়।

    দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের, ১৬ ডিসেম্বর। তৎকালীন ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র ফেলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল বিজয়ী বীর বাঙালির সামনে। স্বাক্ষর করেছিল পরাজয়ের সনদে। সেদিন পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।

    দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের দিনটিতে আনন্দের পাশাপাশি বেদনাও বাজবে বাঙালির বুকে। শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরণ করবে জানা-অজানা সেসব শহীদকে। যারা সেই সংগ্রামের উত্তাল দিনে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে।

    সেই রাজাকার-আল শামস ও আল-বদরদের কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, জামায়াতের অন্য নেতা মো. কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে।

    এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে।

    আজ সকাল থেকেই সারাদেশে বিজয়ের আনন্দে পথে নামবে উৎসবমুখর মানুষ। শহীদদের স্মরণে দেশের সব স্মৃতিসৌধ ভরিয়ে দেবে ফুলে ফুলে। রাজধানীতে সব বয়সী অগণিত মানুষ সমবেত হবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। শ্রদ্ধায় ঢেকে যাবে সৌধের বেদী।

    লাল-সবুজ পতাকা উড়বে আজ বাড়িতে ও গাড়িতে, সব প্রতিষ্ঠানে। মাথায় থাকবে পতাকার রঙে রাঙা ফিতা। পতাকার রঙের পোশাকও থাকবে উৎসবে। পতাকায় সজ্জিত করা হবে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ। আজ সরকারি ছুটির দিন। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবনে করা হবে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, শিশুসদন ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার। পত্রপত্রিকা প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বরাবরের মতোই এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে।

    তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করলেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাঙালি জাতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

    দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে পৃথিবীর বুকে সৃষ্টি করে স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সব মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বরাবরের মতো যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করবে।

    কর্মসূচি:

    ১৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয় ক্ষণে : দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ) সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

    বিজয় র‌্যালি:

    ঢাকা মহানগরীর অন্তর্গত সব থানা শাখার আওয়ামী লীগের নেতা ও জাতীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকা থেকে বিজয় শোভাযাত্রা সহকারে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক ক্ষণ বিকেল ৩টায় শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর অভিমুখে বিজয় র‌্যালি শুরু হবে।

    টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি:

    ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমণ্ডলীল সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলনসহ অন্যান্য নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

    ১৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন জাতীয় নেতারা ও বুদ্ধিজীবীরা।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

    ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

    আগামী ৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চলনায় নগরীর কালীবাড়ি রোডস্থ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বাস ভবনে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। প্রধান অথিতির বক্তব্যে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন- ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোন রকম চাঁদাবাজী করা চলবে না। এমন কর্মকান্ডে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনী ব্যবস্থ গ্রহন করা হবে। যদি কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী করার তথ্য থাকে তবে ০১৭২৬১০১৮৮৯ মোবাইল নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।

    এই সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ৪ঠা জানুয়ারি প্রথম প্রহরে (রাত ১২.০১) বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন ও কেক কাটা, সকাল ৬টায় একই স্থানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় সমাবেশ ও আনন্দ র‌্যালি, সন্ধ্যা ৬টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়া মহান বিজয় দিবসে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে আহবান করা হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিল ছাত্রলীগে পৌর, উপজেলা ও জেলা ছাত্রলীগে নেতৃবৃন্দ।