Author: banglarmukh official

  • অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ক্যাটরিনা!

    অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ক্যাটরিনা!

    বলিউডের এসময়ের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’। সিনেমাটিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন হার্টথ্রুব অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ।

    ইতোমধ্যে সিনেমাটির গান ও ট্রেইলারের অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের মনে কেড়েছে।    ছবির বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্যে রয়েছেন ক্যাটরিনা। সিনেমাটির তেমনি একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ক্যাটরিনা।

    ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মরক্কোতে টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমার শুটিং করছিলেন সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ। দৃশ্যটি ছিল সালমান ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটবেন, অন্যদিকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি চালাবেন ক্যাটরিনা। সেটি করতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে ক্যাটরিনা বলেন, ‘এই শটটাতে আমাকে একটি সরু গলির মধ্যে দিয়ে খুবই দ্রুতগতির গাড়ি চালাতে হয়। এই সরু রাস্তা দিয়ে দিক ঠিক রাখা কঠিন হচ্ছিল। এই জন্য আমি অনেক প্রশিক্ষণও নিয়েছি কিন্তু চূড়ান্ত দৃশ্যধারণের সময় গাড়িটি গিয়ে একটি দেয়ালে ধাক্কা দেয়।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি গুরুতর আঘাত পেতে পারতাম। কিন্তু ক্রুরা সব তাদের দামি ক্যামেরা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিল, কারণ সেটি আমার গাড়ির নিচে চাপা পড়েছিল। তবে ভাগ্যভালো আমি কোনো আঘাত পাইনি এবং পরবর্তী শটেই সঠিকভাবে দৃশ্যটি করতে পেরেছি। ’

    টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলী আব্বাস জাফর। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এক থা টাইগার সিনেমার সিক্যুয়েল এটি। আগের সিনেমাটির মতো এই সিনেমাতেও জুটি বেঁধেছেন সালমান-ক্যাটরিনা। বড়দিন উপলক্ষে আগামী ২২ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

    বা:মু:প্র: তানজিল শুভ

  • এবার দাউদ ইব্রাহিমের ব্যবসার দায়িত্বে ‘লেডিস গ্যাং’!

    এবার দাউদ ইব্রাহিমের ব্যবসার দায়িত্বে ‘লেডিস গ্যাং’!

    আন্ডারওয়ার্ল্ড জগতের ত্রাস ভারতীয় মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিম।  মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এ ডন।   ভারতের দাবি দাউদ বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন।   যদিও পাকিস্তান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।   আর আত্মগোপনে থেকেও সদর্পে নিজ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন দাউদ।   কিন্তু এবার দাউদের ব্যবসার দায়িত্ব নিচ্ছে একটি নতুন ‘লেডিস গ্যাং। ‘

    ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিজের পরিবারের পুরুষদের ওপর আর বিশ্বাস নেই আন্ডারওয়াল্ড ডন দাউদে ইব্রাহিমের। এছাড়া দাউদের এক ভাই অসুস্থ এবং আর এক ভাই ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। দাউদের পারিবারিক ব্যবসা রীতিমতো লাটে উঠতে চলেছে।

    এমতাবস্থায় দাউদ নিজের সম্মান রক্ষা করতে এবং ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তার ব্যবসার দায়িত্ব দিতে চলেছেন লেডিস গ্যাংদের হাতে। অন্তত এমনটাই দাবি গোয়েন্দাদের।

    অপরাধ জগতের সঙ্গে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তারা তাদের পরিবারের নারীদের অন্তত এসব থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করে। কিন্তু দাউদের বিষয়টা অন্যরকম । পরিবারের পুরুষদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে তার ব্যবসার হাল ধরার জন্য নারীদেরকেই পছন্দ করেছেন দাউদ।

    জানা গেছে, দাউদের ডি–কোম্পানি তৈরি করেছে ‘‌লেডিস উইং’‌। যাদের প্রধান পরিচালক হবেন নারীরা।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাউদের ফোন কল ট্যাপ করে জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন ক্ষমতাশালী নারীদের কাছ থেকে এই নারী গ্যাংকেই জোর করে টাকা আদায় করার কাজে লাগানো হবে। দাউদকে এই ‘‌লেডিস উইং’‌ তাদের কাজের গতিবিধি সব সময় জানাতে থাকবে। তবে তারা কখন, কোন ‘‌মিশনে’‌ যাবে তা বলে দেবেন দাউদই।

    গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, দাউদের ঘনিষ্ঠ সহকারি ছোটা শাকিল এই ‘‌লেডিস গ্যাং’‌য়ের দায়িত্ব দিয়েছে শাকিলের ঘনিষ্ঠ উসমান নামের একজনকে।

    প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পি কে জৈন জানান, ‘‌আমি সত্যিই অবাক হচ্ছি দাউদ নিজের ব্যবসাকে ছড়িয়ে দিতে শেষে নারীদের ব্যবহার করছে। ’‌ ডি–কোম্পানির এই নতুন বিষয় প্রকাশ্যে আসে কিছুদিন আগেই।

    খার পুলিশ থানায় এক নারী অভিযোগ করে জানান যে, তাঁকে পাকিস্তানের একটি নম্বর থেকে এক নারী ফোন করে ১ কোটি টাকা দাবি করে এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই অভিযোগের পরই গোয়েন্দারা তৎপর হয়ে ওঠে এবং দাউদের ফোন ট্যাপ করতে শুরু করে।

    সূত্র: আজকাল

    বা :মু : প্র: সিমু আক্তার

  • কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    মাহামুদ হাসান

    বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকা ডায়ানামাইটসের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।   আর তামিমদের বিপক্ষে ৯৫ রানের বড় জয় পেয়ে এবারের আসরের ফাইনালে ওঠে গেল ঢাকা।

    ঢাকার দেওয়া ১৯২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে কুমিল্লা।   প্রথম ওভারেই শূন্যরানে ফিরেন আগের ম্যাচে অর্ধশতক করা লিটন দাস।   এরপর একই পথে হাটেন জস বাটলার(৫), ইমরুল কায়েস(৯), মারলন স্যামুয়েলস(৬), শোয়েব মালিক (৭), ডিজে ব্রাভো (০) ও সাইফুদ্দিন (০)।   যা একটু প্রতিরোধ গড়েছেন শুধু তামিম ইকবাল ২৮ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে করেছেন ৩১ রান।   কুমিল্লা ৯৬ রানে অলআউট হয়েছে।

    ঢাকার হয়ে আফ্রিদি ৩টি, সাকিব, মোসাদ্দেক, ২টি এবং আবু হায়দার রনি ও সুনীল নারিন ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে বিপিএলের পঞ্চম আসরের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে এভিন লুইস, আফ্রিদি ও কাইরন পোলার্ডের ঝড়ো ইনিংসের ভর করে ৭ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ঢায়নামাইটস।   এভিন লুইস ৪৭, কাইরন পোলার্ড ৩১ শহীদ আফ্রিদি ৩০ ও ডেনলি ৩২ রান সংগ্রহ করেন।   কুমিল্লার হয়ে হাসান আলী ৩টি, ডিজে ব্রাভো ২টি ও শোয়েব মালিক ১টি উইকেট নেন।

    এদিকে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স।   গেইলের সেঞ্চুরিতে ২৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফির দল।

    আর ঢাকার বিপক্ষে কুমিল্লার হার ও খুলনার বিপক্ষে রংপুরের জয়ের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রংপুর রাইডার্স।

  • ‘ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে যত টাকা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দেবেন’

    ‘ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে যত টাকা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দেবেন’

    ডিএনডির সংস্কার কাজ ৫শ’ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও যত টাকা প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী খোদ এ বিষয়টা নিয়ে বেশ আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকার কোন সমস্যা এখানে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান এ প্রকল্পটি দ্রুত হোক এবং ডিএনডিবাসী জলাবদ্ধতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাক। মন্ত্রীর এ ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা উৎফুল্লা হয়ে পড়ে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যকে করতালী দিয়ে স্বাগত জানায় উপস্থিত ডিএনডিবাসী।
    শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ডিএনডি এলাকার নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
    এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সানজিদা খানম।
    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান এসময় বলেন, ডিএনডির সংস্কার কাজ করার সময় এবং ২০ লাখ লোককে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে প্রয়োজনে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের স্থাপনাও ভেঙ্গে দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বোাচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছেন। এজন্য সকলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, এ প্রজেক্ট সম্পন্ন করার জন্য যত টাকার প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী দিবেন বলে পানি সম্পদ মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এতে করে নারায়ণগঞ্জ ঢাকার চাইতেও আধুনিক একটি শহরে পরিণত হবে।

    ফলে নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ রেখে যেতে পারব। দুই বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, সাংবাদিকদের নিউজের কারণে এ ফান্ড আনতে আমার অনেক সুবিধা হয়েছে।
    এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিএনডি’র প্রজেক্ট করা হয়েছিল সেচ কাজের জন্য। এখানে চাষবাদ করা হবে সে লক্ষ্যেই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। কালের বিবর্তনে এখানে পরিবর্তন এসেছে। এখানে অনেক স্থাপনা, গার্মেন্ট কারখানা, কল কারখানা গড়ে উঠেছে। তখন অনেকের উপলব্ধি হয় নাই যে এটা এক সময়ের চাষের উপযোগি থাকবে না। এখন এখানে প্রচুর মানুষ বসবাস করে। কিন্তু বর্ষার সময়ে এলাকাটি পানির নিচে থাকে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন এ সমস্যা সমাধানের। এখানে এমপি শামীম ওসমানের বিরাট অবদান।

    মন্ত্রী তিনি বলেন, এ কাজে দুটি করপোরেশন জড়িত। একটি ঢাকার সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ করপোরেশন। এছাড়াও একটি বড় অংশের কাজ আছে এলজিইডির। কারণ ড্রেন ও সুয়ারেজের পানির জন্য সিটি করপোরেশন ও এলজিইডি কাজ করবে। ইতোমধ্যে আমি নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গেও কথা হয়েছে। দুইজনই আমাকে কথা দিয়েছে সমান্তরালভাবে কাজ চলবে। শামীম ওসমানও নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি তাদের কাজগুলোও দ্রুত করবে। ’

    তিনি বলেন, ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ডিএনডি এলাকার নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি ৫৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায় একটি স্থায়ী সমাধান আনয়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মোঃ তৌহিদ হোসেন, ২০ ইসিবি’র প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্নেল মুহাম্মদ রোমিও নওরীন খান, নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি, কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, ইফতেখার আলম খোকনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • বাবুগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধ: যুবকে কুপিয়ে জখম

    বাবুগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধ: যুবকে কুপিয়ে জখম

    রাকিব শিকদার নয়ন

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিন ভুতেরদিয়া গ্রামে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে আহত করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    আহত হয়েছেন – দক্ষিন ভুতেরদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বেপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন। স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বেপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন বাড়ীর সামনে বসেছিলেন। জমি-জায়গা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই একই গ্রামের আবদুর রব চৌকিদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন চৌকিদার ও শাওন চৌকিদার চাপাতি, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে উপর হামলা করে।

    এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বেপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ থানার আফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে’

    রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে’

    আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো।  এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই।  তবে নিরাপত্তার জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।  আজ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    নুরুল হুদা আরো বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৩ জন সশস্ত্র অস্ত্রধারী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ২১ ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর সকল প্রস্তুতি শেষের পথে।

  • ‘বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চায় ভারত’

    ‘বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চায় ভারত’

    সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাশকতা রোধে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চলেছে ভারত সরকার।
    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কলকাতায় এক বৈঠকের পর এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
    প্রধানত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ৪০৯৬ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত আরও সুরক্ষিত রাখতেই ফিজিক্যাল ও নন-ফিজিক্যাল বেরিয়ারের পাশাপাশি সীমান্তে এই ধরনের গ্রিড চালুর চিন্তাভাবনা নিয়েছে সরকার।
    রাজনাথ বলেন ‘বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪০৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা। এর মধ্যে ৩০০৬ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। বাকী ১০৯০ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত। সেখানে টেকনোলজিক্যাল সলিউশন প্রয়োগ করা হবে। এই অঞ্চলটি দুর্গম হওয়ার কারণেই সেখানে ‘নন ফিজিক্যাল বেরিয়ার’ অর্থাৎ ডে-লাইট ক্যামেরা, সেন্সর, র‌্যাডার, লেসার’এর সহায়তার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। প্রথমে অাসামের ধুবড়ি সেক্টরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান ‘সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে ফিজিক্যাল ও নন-ফিজিক্যাল বেরিয়ার ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের পুরোটাই ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’এর অধীনে নিয়ে আসা হবে। এই গ্রিডের অধীনে সীমান্তে নজরদারি চালু রাখতে সারভেলেন্স সিস্টেম, ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, রাজ্য পুলিশ, বিএসএফ, রাজ্য ও কেন্দ্রের কিছু নিরাপত্তা এজেন্সি থাকবে।

    প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি স্ট্যাডিং কমিটি এই গ্রিডের নজরদারিতে থাকবে’। এর ফলে সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেহেতু খুবই শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে পুরো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আমি মনে করি যে কোন ঘটনার মোকাবিলা করার জন্য তৈরি থাকা উচিত’।
    এদিনের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। রাজনাথ জানান ‘সন্ত্রাসবাদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারে। সেই কারণে আমাদের সবসময়ই সতর্ক থাকতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আমরা অনেকটাই দমন করতে পেরেছি। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসবাদী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে যদিও প্রতিবেশি এই দেশটির সহায়তায় ওই জঙ্গিদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে’।
    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে এদিন বিকাল তিনটায় শুরু হয় বৈঠক, তা চলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অাসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থান হাওলা এবং মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তারা, ছিলেন বিএসএফ সহ নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির কর্মকর্তারাও।

  • নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নাকে খত দিয়ে নয়, সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই বাধ্য হতে হবে।

    কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।’

    এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সমগ্র দেশের জনগণের কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই প্রশ্ন এসেছে যে এটা (নির্বাচন) সবচেয় বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করা- এই প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

    তিনি বলেন, যে কথাটা আমরা বারবার বলেছি, আমরা সংঘাত চাই না, আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। আমরা এবারকার নির্বাচন যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জন্যে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়, গণতন্ত্রকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমরা চাচ্ছি, জনগণ সেটা চাচ্ছে।

    ‘যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এদিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।’

    বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী- সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) দায়। আজকে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা যিনি সরকারের প্রধান তার দায়। নির্বাচন করবেন কি করবেন না, নির্বাচন হবে কি হবে না এটার দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন এটা জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের ওপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে।’

    ‘সেজন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন যে, তার ওপরে, তার দলের ওপরে এবং দেশের মানুষের ওপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন’ বলেন ফখরুল।

    জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না।

  • ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে কুমিল্লা; কিন্তু সর্বাধিক তারকার দল ঢাকা ডায়নামাইটস। এক ঝাঁক নামি-দামি ক্রিকেটারের ছড়াছড়ি। কুমারা সাঙ্গাকারা, এভিন লুইস, শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন, কাইরন পোলার্ড, কেভিন কুপার, মোহাম্মদ আমির ও জো ড্যানলি- কত নাম।

    মাঠের পারফরমেন্সে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা সেরা; কিন্তু কাগজে-কলমে ঢাকা এখনো এক নম্বর দল। তবে তারকাভর্তি দল ঢাকা ডায়নামাইটস কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন কোয়ালিফায়ারের লড়াইয়ে কুমিল্লাকেই এগিয়ে রাখতে চান। খালেদ মাহমুদের চোখে, শুক্রবারের ম্যাচে ফেবারিট কুমিল্লা। আর ঢাকা হলো আন্ডারডগ।

    ঢাকা সন্দেহাতীতভাবেই সর্বাধিক তারকায় ঠাসা দল; এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে কোন দলের চেয়ে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ অনেক বেশি সমৃদ্ব। কুমারা সাঙ্গাকারা, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর কেভিন কুপারের মত ক্রিকেটারও যে দলের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। যাদের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মত টি টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সেই দলকে কোয়ালিফায়ার পর্বে আন্ডারডগ ভাবা হবে না কেন?

    এ নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন উঠছে। তার ব্যাখ্যাও অবশ্য দিয়েছেন ঢাকার কোচ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তাদের দু’বার হারিয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করেছে। তাই ঢাকা ডায়নামাইটস কোচের মন্তব্য, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কাল আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলব। কুমিল্লা আমাদের সাথে দুটি ম্যাচই জিতেছে। দারুণ খেলেছে তামিমের দল।’

    তবে কি ঢাকা ভাল খেলেনি? এ প্রশ্নের জবাবে খালেদ মাহমুদ সুজনের ব্যাখ্যা, ‘আমরাও ভাল খেলছি। তবে আমাদের ধারাবাহিকতার একটু অভাব ছিল। যদিও দুই ভেন্যুতে আমরা দুশো রানের উপরে করছি, আবার কিছু ম্যাচে দেড়শ রানের কমে থেমে গেছি। তো ওই জায়গায় একটু ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।’

    ঢাকা কোচের মূল্যায়ন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সঠিক সময় জ্বলে ওঠা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার কুমিল্লার সাথে ম্যাচে তার দলের ক্রিকেটাররা ওই সময় মত জ্বলে উঠবেন- এমনটাই আশা খালেদ মাহমুদের।

    Dhaka-comilla

    তাই তো মুখে এমন কথা, ‘এই ফরম্যাটে যেটা হয় যে, রাইট টাইমে মোমেন্টাম পিক করা। আমার মনে হয় সেই হিসাবে আমরা কালকে একটা দারুণ ম্যাচ (রংপুরের বিপক্ষে) জিতছি অল্প রান করেও। আমাদের বোলিং অসাধারণ ছিল, সাকিব ক্যাপ্টেনের ভূমিকা দারুণভাবে পালন করেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের লোকাল স্টার যারা আছে তারাও ভাল টাইমে পিক করছে।’

    কোয়ালিফয়ার ম্যাচে খুব গুরুত্বপূর্ণ গেম অভিহিত করে ঢাকা কোচ বলেন, ‘খুব টাইট গেম হবে। মনে হয় দারুণ লড়াই হবে।’

    প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফেবারিট মানলেও তাদের নিয়ে বেশি ভাবতে নারাজ ঢাকার কোচ। তার চিন্তা-ভাবনার বড় অংশ জুড়ে আছে নিজ দল। তার মূল্যায়ন, ‘প্রতিদ্ব›িদ্ব হচ্ছে প্রতিপক্ষ। যাকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। কেবল নিজেদেরটাই করতে পারবেন। যখন টপ অর্ডার পারফর্ম করে তখন বেশি কিছু লাগে না। মূল কথা হচ্ছে আমাদের টপ অর্ডার কেমন করছে সেটা। আমাদের টপ অর্ডারে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। যেমন লুইস, নারিন। এরা প্রমাণ করেছে তারা বড় ইনিংস খেলতে পারে। জো ড্যানলি শেষ ম্যাচ ছাড়া ভাল করেছে। টপ অর্ডারে রান পেলে আমার মনে হয় আমরা বড় স্কোর ছুঁড়ে দিতে পারব।’

    যেহেতু দুপুরে খেলা। তাই টসের তেমন কোন কার্যকর প্রভাব পড়বে না। খালেদ মাহমুৃদ সুজনেরও মনে হয় না টসের তেমন কোন গুরুত্ব আছে। তার কথা হলো, গেম প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিপক্ষকে, কতটা রিড করতে পারছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে কিংবা পরে ব্যাটিং নয়, মোমেন্টামটা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভাল না হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়তে হয়। এ কারণে এখানে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকালকের শুরুটা আমাদের ভাল ছিল না; কিন্তু পরের দিকে সাকিব ও মারুফ ভাল জুটি করেছে- এটা একটা ভাল উদাহরণ। তাতে অন্তত একটা পুঁজি দিতে পেরেছিলাম যাতে লড়াই করা যায়। আমাদের বোলিং শক্তিশালী ছিল। তারা তাদের ভূমিকা পালন করছে বলে ইজি ছিল। শুরটা খুব দরকারি, প্রথম ছয় ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

    ঢাকা কোচের শেষ বক্তব্য, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্ট জেতার যথেষ্ঠ সামর্থ আছে আমাদের।’ তাহলে সেই সামর্থ্যরে যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না কেন?

    এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে জানান, দলে উঁচু মানের বিদেশি ক্রিকেটার বেশি থাকাটা প্লাস পয়েন্টের পাশাপাশি ‘মধুর সমস্যা’ হয়েও দেখা দিয়েছে। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন? চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি। তারচেয়ে বড় কথা, সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তারপরও বিদেশিদের কাছ থেকে দায়িত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের আশায় ঢাকা কোচ, ‘আমি চাই যে আমার বিদেশি খেলোয়াড়রা এমন দায়িত্ব নিয়ে খেলুক। আমি বলছি না যে আলাদা বাড়তি দায়িত্ব। আমি চাই তারা খেলা উপভোগ করুক। মাঠে রেজাল্ট কি হয় না হয় সেটা পরের ব্যাপার; কিন্তু উপভোগ করুক এটা চাই। লুইসের স্টাইল বদলাতে বলব না, পোলার্ডের স্টাইলও বদলাতে বলব না। চাইব তারা তাদের মতই খেলুক। দেখি কি হয়!’

  • উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    সেরা চার দলের লড়াই; কিন্তু সেমিফাইনাল নয়। শুধু ক্রিকেটে নয়, যে কোন খেলায় সেমির যুদ্ধ মানেই কারো মতে নক আউট, নিশ্চিত বিদায়। আবার কারো মতে ‘সাডেন ডেথ’ বা নিশ্চিত মৃত্যু।

    কিন্তু বিপিএলে তেমনটা হবে না। আগামীকাল শুক্রবার শেরে বাংলায় যে চার দলের লড়াই হবে, সেটাকে তাই সেমিফাইনাল বলা হচ্ছে না। বলার সুযোগও নেই। সাধারনতঃ সেমিফাইনালের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যায়। আর পরাজিত দল ছিটকে পড়ে।

    কিন্তু বিপিএলে তা হবে না। এখানে সেরা চার দলের মধ্যে হবে তিনটি ম্যাচ। মানে একটি ম্যাচ বেশি হবে। তাই নামকরণ পাল্টে সেমিফাইনালের বদলে রাখা হয়েছে ‘কোয়ালিফায়ার’ ও ‘ইলিমিনেটর’। এর কোনটাই অঘোষিত সেমিফাইনাল নয়।

    তবে এর মধ্যে কোয়ালিফায়ার-১ ‘এ’ যারা খেলবে তাদের জন্য থাকছে ডাবল সুযোগ। জয়ী দল সোজা চলে যাবে ফাইনালে। আর পরাজিত দলের বিপিএল শেষ হয়ে যাবে না। তারা আরও একটি সুযোগ পাবে। সেই দল ১০ ডিসেম্বর খেলবে কাল ইলিমিনেটরে বিজয়ী দলের সাথে।

    শুক্রবার দুপুরে ইলিমিনেটর রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থান পাওয়া খুলনা টাইটান্স এবং চার নম্বর দল হিসেবে সেরা চারে জায়গা করে নেয়া রংপুর রাইডার্স। এই খেলার বিজয়ী দল টিকে থাকবে। যদিও কোয়ালিফায়ার-১ বিজয়ীর মত সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত হবে না দলটির। তাদের খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার-২। কোয়ালিফায়ার-১ এ পরাজিত দলের বিপক্ষে। আর ইলিমিনেটরে পরাজিত দল বিদায় নেবে।

    কাজেই আগামীকাল কোয়ালিফায়ার পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস আর তামিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর ইলিমিনেটর পর্বের প্রথম ম্যাচে লড়বে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স ও মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স। সাত দলের আসরে চিটাগং ভাইকিংস, রাজশাহী কিংস এবং সিলেট সিক্সার্স আগেই বিদায় নিয়েছে। এবার ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে চার দলের লড়াই।

    অনেক আসর বা টুর্নামেন্টেই কাগজে-কলমের হিসেবের সাথে মাঠের হিসাব-নিকাশ মেলে না। তবে এবারের বিপিএলে কাগজে কলমের সাথে মাঠের চালচিত্রর অনেকটাই মিলে গেছে। মাঠের লড়াই শেষে সেরা চার দলই সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কথা দেশের চার সেরা ও শীর্ষ তারকা মাশরাফি, তামিম, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর দলই শেষ চারে। এছাড়া দেশের যে দুই সময়ের সেরা কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের দলও সেরা চারে। আর যে দুই বিদেশি প্রশিক্ষক মাহেলা জয়বর্ধনে আর টম মুডি- তাদের দলও সেরা চারে।

    বলার অপেক্ষা রাখে না, কোচ সালাউদ্দীনের প্রশিক্ষণে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে ভাল খেলেছে। এবং সর্বাধিক ৯ ম্যাচেও জয়ী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিদেশি ক্রিকেটার দলে থাকা যেমন প্লাস পয়েন্ট, আবার বেশি বিদেশি তারকা দলে থাকার অসুবিধাটাও ভোগ করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। তারপরও খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রশিক্ষণে সাকিব আল হাসানেনর দল ঢাকা ডায়নামাইটস বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে।

    টি-টোয়েন্টির দুই বিশ্ব সেরা ব্যাটিং পারফরমার ক্রিস গেইল এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল রংপুর তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নৈপুন্য পায়নি; কিন্তু মধ্য তিরিশে পা রাখা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার গতিশীল ও উজ্জিবীত নেতৃত্বে রংপুর উঠল সেরা চারে।

    অন্যদিকে তেমন নামী ও দামি বিদেশি তারকা দলে না থাকলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তরুণ আরিফুলের ব্যাটিং এবং পেসার শফিউলের কার্যকর নৈপুন্যে খুলনাও ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।

    চার দলের শক্তির ফারাক খুব বেশি নয়। ঢাকা-কুমিল্লা আর খুলনা-রংপুর কাছাকাছি শক্তির দল। কাজেই সবার ধারণা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কোয়ালিফায়ার আর ইলিমিনেটর রাউন্ডে; কিন্তু তারপরও উইকেটের কারণে মাঠে যত ভাল ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট হবার কথা ছিল তা কিন্তু হচ্ছে না

    এখন শেষ পর্বে খেলা জমবে কি না, বিগ স্কোরিং গেম হবে কি না- সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এসই নির্ভর করছে উইকেটের ওপর। উইকেট নিয়ে নানা কথা। রাজ্যের সমালোচনা। বাংলাদেশের মাশরাফি-তামিম থেকে শুরু করে বিদেশি তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও সুনিল নারিনও উইকেটের সমালোচনা করেছেন। উইকেট সত্যি ভাল নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উপযোগি নয়। সবাই বলছেন- শেরে বাংলায় যে সব পিচে বিপিএল হচ্ছে সেগুলো ঠিক টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়।

    উইকেটের গতি ও বাউন্স ঠিক নয়। বল কখনো থেমে আসে। আবার কোন সময় ঠিক গতিতে ব্যাটে যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা, বেশিরভাগ সময় বল নিচে থাকছে। আবার কিছু কিছু ডেলিভারি লাফিয়ে উঠছে। এমনকি স্পিন ও স্লো মিডিয়াম পেসারদের বলও ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে। যে কারণে ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দে খেলা কঠিন হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা হাত খুলতে খেলতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়ছেন।

    হয় প্রত্যাশার চেয়ে দেরিতে বল এসে মিসটাইমড হচ্ছে। না হয় স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু কিংবা লাফিয়ে উঠে বিপদেও কারণ ঘটাচ্ছে। সে কারণেই ফ্রি স্ট্রোক প্লে বা চার ও ছক্কার ফুলঝুরিও ছিল তুলনামুলক কম। দর্শক বিনোদনের খোরাক গেছে কমে। বিগ স্কোরিং গেমও হচ্ছে না। দর্শক, সমর্থক ও ভক্ত সবার প্রত্যাশা- কোয়ালিফায়ার, ইলিমিনেটর ও ফাইনালে শেরে বাংলার উইকেটের চেহারা ও চরিত্র পাল্টাবে। না হয় মূল আয়োজনটাই ফিকে হয়ে যাবে।