Category: জাতীয়

  • শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ইসির সংলাপ আজ

    শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ইসির সংলাপ আজ

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলসহ সব মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে রোডম্যাপ তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আজ (১৩ মার্চ) শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপ করা হবে।

    বিকেল ৩টায় ৩০ জন শিক্ষাবিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন। পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নির্বাচন বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসা হবে।

    বুধবার (৯ মার্চ) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

    তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সবার পরামর্শের আলোকে তৈরি করা হবে রোডম্যাপ। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে সবার শেষে।’

    গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন তারা শপথ নিয়ে প্রথম অফিস করেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভোটার দিবস উদযাপন করেন তারা।

    এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদ্রুত এর আগের কোনো কমিশন মতবিনিময় বা সংলাপে বসার উদ্যোগ নেয়নি। অবশ্য দায়িত্ব নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিইসি বলেছিলেন- আমরা দলগুলোকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে পারি।

    নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ২০১৭ সাল। ওই বছরের ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে কার্যত ওই সংলাপ শুরু হয়েছিল। এরপর ৪০টি রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও বসে তৎকালীন কে এম নূরুল হুদার কমিশন।

  • বাড়তি ফসল ফলাতে চরে নজর সরকারের

    বাড়তি ফসল ফলাতে চরে নজর সরকারের

    ##চরে পতিত জমি এক লাখ হেক্টরের বেশি
    ## শস্য নিবিড়তা ১৪০ শতাংশ, এটিকে ১৪৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা
    ## বিতরণ হবে ৪২৮১টি সৌরচালিত আলোক ফাঁদ ও ৪২৮১টি এলএনপি

    দেশে খাদ্যের অভাব যেন না হয় সেজন্য প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদ করার নির্দেশনা আছে সরকারের। এই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। এজন্য নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য, বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো। সেই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমানো। এরই অংশ হিসেবে দেশের চরাঞ্চলে পতিত জমিতে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চরাঞ্চলে প্রায় এক লাখ এক হাজার ৮৯২ হেক্টর পতিত জমি রয়েছে। এসব জমির শস্য নিবিড়তা ১৪০ শতাংশ (কোনো জমিতে এক ফসল হলে সেটির শস্য নিবিড়তা শতভাগ ধরা হয়, সে হিসেবে ১৪০ শতাংশ শস্য নিবিড়তার অর্থ ওই জমিতে এক ফসল এবং আরেক ফসলের অর্ধেকের মতো ফলে)। এসব পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ হবে, গড়ে উঠবে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, ফসলের উন্নত জাত ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব এলাকার শস্য নিবিড়তা বাড়বে আরও ৫ শতাংশ। সে লক্ষ্যে পতিত জমি ব্যবহারের জন্য চার হাজার ২৮১টি সোলার প্যানেলযুক্ত (সৌরশক্তিচালিত) আলোক ফাঁদ, চার হাজার ২৮১টি এলএনপি (লো লিফট পাম্প) বিতরণ করা হবে। চরে ১২১টি বিশাল শেড, ১২১টি সাবমার্সিবল পাম্প ও ১২১টি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

    পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশের চর এলাকার উপযোগী আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। প্রকল্প প্রস্তাবনা সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশন যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। অনুমোদনের পর ছয় বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পটি

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, দেশে প্রায় দুই হাজার ২২৫ বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চল রয়েছে। যেখানে দেড় মিলিয়ন বা ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। এই বিশাল চরাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশ উত্তরাঞ্চলে, যা প্রায় দেড় হাজার বর্গকিলোমিটার। এ চরাঞ্চলে ফসল ফলিয়ে চরের মানুষের ভাগ্য বদলাতে প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া পতিত জমি ব্যবহারও জরুরি।

    অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চরাঞ্চলে ফসল ফললেও সেটা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয় না। এর কারণ কৃষকরা প্রচলিত ও আদি কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করছেন। সেখানে ভালো বীজের অভাব যেমন আছে, তেমনি নেই কৃষি বিকেন্দ্রীকরণের কোনো পদ্ধতি। তবে উন্নত বীজ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে চাষাবাদ করে ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শস্যের নিবিড়তা বাড়িয়ে কৃষকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রকল্পে ৪২৮১ ব্যাচে কৃষকের দক্ষতা উন্নয়ন
    এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নসহ নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে চার হাজার ২৮১টি ব্যাচে কৃষকের দক্ষতা উন্নয়ন; চারা উৎপাদন ও পানির হাউজে সবজি উৎপাদনকারী কৃষকের দক্ষতা উন্নয়ন এবং এক হাজার ২১০টি মাঠ দিবস, ৪১১টি কৃষিমেলা, ৩০টি সেমিনার ও ৩৬০টি উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণের আয়োজন।

    এই প্রকল্পের আওতায় ৮৮ হাজার ১৮১টি কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনী হবে। এতে নানা ধরনের কৃষিপণ্য প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আখ, পাট, কালোজিরা, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখী, মরিচ, মটরশুটি ইত্যাদি। প্রকল্পটি ৩৫টি জেলার ১২১টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রকল্পের উদ্দেশ্য
    ‘বাংলাদেশের চর এলাকার উপযোগী আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, দেশে চরাঞ্চল উপযোগী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন।

    চরের জমি প্রায় দেড় ফসলি করতে উদ্যোগী সরকার

    প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে শস্যের নিবিড়তা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১৪৫ শতাংশে উন্নীত, প্রকল্প এলাকা উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও ফসলের আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, চর এলাকার জনগণের পুষ্টিমানের উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    অধিদপ্তর বলছে, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ বালু, দোআঁশ ও পলিমাটি স্তরে স্তরে জমে গড়ে ওঠে চর। নদীভাঙন, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়, এসব মোকাবিলা করেই চরের মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। এই বিষয়গুলোও প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম বলেন, দেশের চরাঞ্চল উপযোগী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। চরে উন্নত জাতের সরিষা চাষ করা যায়। এছাড়া আধুনিক জাতের ভুট্টাও উৎপাদন করা যায়। নানা ধরনের রবিশস্য চাষের অবারিত সুযোগ রয়েছে চরে। আধুনিক জাতের রবিশস্য উৎপাদনে চরাঞ্চলে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

    তিনি আরও বলেন, দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। আবাদি জমিও কমে যাচ্ছে নানা কারণে। চরের পতিত জমি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন দেশের খাদ্যঘাটতি মিটবে, অন্যদিকে চরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের চাকাও ঘুরবে।

  • পূর্বাচলের ১২৭টি প্লটের স্থগিতাদেশ পর্যালোচনায় কমিটি

    পূর্বাচলের ১২৭টি প্লটের স্থগিতাদেশ পর্যালোচনায় কমিটি

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বরাদ্দ করা ১২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের স্থগিতাদেশের সার্বিক কারণ পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

    সম্প্রতি এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন-২) আহ্বায়ক এবং প্রকল্প পরিচালককে (

    কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন- রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন), সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন শাখা-৬)।

    উপসচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০১৩, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে ১২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লট যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বরাদ্দ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এ রিভিউ কমিটি গঠন করা হলো

    কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, কমিটি পূর্বাচল শহর প্রকল্পে বরাদ্দ করা ১২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের স্থগিতাদেশের সার্বিক কারণ পর্যালোচনা করবে। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ নীতিমালার শর্তানুযায়ী শ্রেণিভিত্তিক যোগ্য প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই ও প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে স্থগিতাদেশ হওয়া ১২৭টি প্লটের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে।

    এ কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও অফিস আদেশে বলা হয়।

  • টিকাকরণে ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    টিকাকরণে ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    করোনা প্রতিরোধী টিকাকরণে ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

    শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ সম্মেলন কক্ষে একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির উদ্যোগে ফুসফুসীয় পুনর্বাসন সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা জানান মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫ ভাগ মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে (টিকাকরণ) ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ও তার সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতার পেছনে ওষুধ কোম্পানিগুলোরও ভূমিকা আছে। অন্য দেশের তুলনায় করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার অনেক কম; ৩২ হাজার লোক মারা গেছেন। ভারতে ৫ লাখ ও শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রেও ১০ লাখ মানুষ করোনায় মারা যায়। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।

    অনুষ্ঠানে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. জাকির হোসাইন, সহকারী অধ্যক্ষ ডা. সাইফুদ্দিন আলমগীর, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমানসহ চিকিৎসক ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সংকটে পড়া মানুষ স্বস্তি খুঁজছে টিসিবির ট্রাকে

    সংকটে পড়া মানুষ স্বস্তি খুঁজছে টিসিবির ট্রাকে

    দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সীমাহীন সংকটে ফেলেছে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে। এসব মানুষ সরকারি বাণিজ্য সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক ঘিরে স্বস্তি খুঁজছে। কিন্তু কখনও শ্রমসময় ব্যয় করে নিষ্ফল চেষ্টায়ও ভাঙা মন নিয়ে ফিরতে হয় নগরের অভাবীদের।

    শনিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কমলাপুরের শাহজাহানপুর কলোনি টিসিবির ট্রাক ঘিরে দেখা গেছে নিত্যপণ্যের দামের প্রেষণে পিষ্ট শত শত মানুষ। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা। পুরুষের তুলনায় নারীদের লাইন দীর্ঘ।

    টিসিবির ট্রাক থেকে জনপ্রতি ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল ও ৩-৫ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে

    লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে শঙ্কা- তারা পাবেন তো তেল, ডাল, পেঁয়াজ ও চিনি। নাকি খালি হাতেই ফিরতে হবে। তাই সবাই যেন কিছুটা অসহিষ্ণু। বাজারে বিক্রি হওয়া দু-তিনগুণ বেশি দামের চারটি পণ্য সাশ্রয়ী দামে যে পেয়ে যান, তার মুখে থাকে বিজয়ীর হাসি।

    এমনই বিজয়ী হাসি মুখে সামনে পড়লেন প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়া। তিনি অন্ধ। শাহজাহান বলেন, ‘গত দুদিন লাইনে দাঁড়াইয়াও জিনিস পাইনি। মানুষ বেশি মাল কম। আইজ দুই ঘণ্টা দাঁড়াইয়া থাইক্যা পাইছি।’

    jagonews24কিছুক্ষণের মধ্যেই টিসিবির ট্রাক অদৃশ্য হয়ে যায়

    বিজ্ঞাপন

    তিনি বলেন, ‘আমি অন্ধ তাই কাজ করতে পারি না। বাসায় দুই মাইয়্যা, এক পোলা। বাচ্চাগো মা মানুষের বাসায় কাম করে। সব জিনিসের অনেক দাম। ঠিকমতো সংসার চলে না।’

    লাইনে দাঁড়ানো সুলেখা বেগম বলেন, ‘স্বামী রিকশা চালায়, সব জিনিসের দাম বেশি। সংসার চালাইতে পারে না। আমরা সরকারের কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাই না। সকাল থাইক্যা লাইনে দাঁড়াইয়া রইছি। আমার পরে আরও ১৫-২০ জন রইছে। তারপরও ত্যাল-ডাইল পামু কি না জানি না।’

    jagonews24লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে শঙ্কা- তারা পাবেন তো তেল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি

    বেলা সাড়ে ১১টার দিকেই ট্রাকের পণ্য শেষ হয়ে যায়। হইচই করে ওঠেন লাইনে থাকা মানুষ। কোনো কারণ ছাড়াই ট্রাকটির পিছু ছুটতে থাকেন নারী-পুরুষরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাকটি অদৃশ্য হয়ে যায়।

    jagonews24পুরুষের তুলনায় নারীদের লাইন দীর্ঘ

    বর্তমানে টিসিবির ট্রাক থেকে জনপ্রতি ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল ও ৩-৫ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা রাখা হয়। বাজারে এই পণ্যগুলোর দাম কয়েকগুণ বেশি।

  • ১৫ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী

    ১৫ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামী ১৫ মার্চ থেকে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রমে ফিরছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ওইদিন থেকে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    শনিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর টিকাটুলিতে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভবন উদ্বোধন শেষে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ২১ জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় ২২ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়

    তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হয় গত ২ মার্চ। এছাড়া আগামী ১৫ মার্চ থেকে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু হবে।

    তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও এতদিন বিভিন্ন শর্তারোপ করা ছিল। এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া অন্য শর্তগুলো তুলে দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    বিস্তারিত আসছে…

  • জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই আ’লীগের সৃষ্টি: কাদের

    জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই আ’লীগের সৃষ্টি: কাদের

    জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংগ্রাম।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এ বিবৃতি দেন তিনি।

    ‘সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়!’ বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনৈতিক দল, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংগ্রাম।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপির মতো বন্দুকের নলের মুখে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেনি, করবেও না।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এদেশের মানুষের স্বাধিকার, স্বাধীনতা, মুক্তি, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির সৃষ্টি এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে হত্যার মধ্যদিয়ে স্বৈরশাসনের পটভূমিতে। তাদের নেতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের আখরে রচিত পবিত্র সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে জাতির পিতাসহ জাতীয় চার নেতার খুনিদের সুরক্ষা দেয়।

    তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের চক্রান্তে আবর্তিত হয়েছে বিএনপির রাজনীতি। বিএনপির শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ভয়াবহ নজির স্থাপন হয়েছিল। উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে বিএনপিই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

    এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় গিয়েছে তখনই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কার্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে এবং পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করার পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বার বার হুমকির মুখে ফেলেছে। তারা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। দেশপ্রেমের বহ্নিশিখায় ঐক্যবদ্ধ প্রজন্ম গঠনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আপসহীন নেতৃত্বেই দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ।

    তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সর্বদা বদ্ধপরিকর। আমরা স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকদের হাতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে তুলে দিতে পারি না।

    কাদের বলেন, মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত অভিষ্টে পৌঁছাতে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি উদার প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক উন্নত-আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

  • গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই দেশে উন্নয়ন হচ্ছে

    গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই দেশে উন্নয়ন হচ্ছে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘টানা ১৩ বছর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশকে কেউ আর পেছনে টানতে পারবে না। ’৭৫-এর পর একটা কালো অধ্যায় ছিল, সেই কালোমেঘ কেটে গেছে। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

    শুক্রবার (১১ মার্চ) রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা তার সফরকালীন আবাসস্থল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর ১৩ বছর পূর্ণ করছি। দেশের মানুষের ভোট এবং সহযোগিতায় রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছি। আমার দৃষ্টিতে এটা হচ্ছে, জনগণের সেবা করার সুযোগ। ক্ষমতাটা আমার কাছে কোনো ভোগের বস্তু নয়, জনগণের সেবা করার সুযোগ। যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন, সেটা পূর্ণ করা।’

    সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ। যে দেশ সম্মানের সঙ্গে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। বাঙালি জাতি মাথা উচু করে চলবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যদি একটু দেখেন, লক্ষ্য করবেন- ’৭৫-এর পর এ দেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে। একেকটা ক্যু হয়েছে সেনাবাহিনীর বহু সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, বিমানবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা, গুম করা হয়েছে। অস্থিরতা ছিল, বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল, গণতান্ত্রিক ধারা কখনোই অব্যহত ছিল না।’

    দেশের জনগণ ও প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা প্রবাসী আপনাদের কাছ থেকেও আমরা সমর্থন পেয়েছি, সহযোগিতা পেয়েছি। সেই কারণেই আজকে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসবো। আজকে অন্তত এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে, স্বীকৃতি পেয়েছে।’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এ দেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না। আজকে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যে, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। সরকার থেকে তাদের ভূমি ও জমি নিয়ে ঘরবাড়ি করে দিচ্ছে। তাদের জীবনটাই পাল্টে যাচ্ছে। তাদের এখন অসহায় হয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় না। আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাজেই প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।’

    jagonews24

    সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর পুষ্টি নিরাপত্তাও আমরা দিচ্ছি। আমাদের আয়ুষ্কালও বেড়ে এখন ৭২ থেকে ৭৩ বছরে দাঁড়িয়েছে। এখন হতদরিদ্র ভাবটা মানুষের মাঝে নেই, থাকবেও না। তার জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সবাইকেই অবদান রাখতে হবে। একদিনে এটা সম্ভব না। একটা গাছ লাগালেও ফল খেতে সময় লাগে।’

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আবুধাবি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চারটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সফর শেষে ১২ মার্চ দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন আবাসস্থল উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রান্তে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আবুধাবি প্রান্তে ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, এফবিসিআইআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

    এসময় রাস আল খাইমার প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়কমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি তাজ উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাদেশিক শহর রাস আল খাইমার বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • করোনার টিকায় ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    করোনার টিকায় ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    করোনার টিকা কেনা ও টিকাদান কার্যক্রম মিলে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২২’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে করোনার টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক দিনেই ১ কোটি ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছি, যা একটি রেকর্ড। আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ২২ কোটি ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে সাড়ে ১২ কোটি ডোজ প্রথম, সাড়ে ৮ কোটি ডোজ দ্বিতীয় ও ৫০ লাখ ডোজ বুস্টার ডোজ দিতে সক্ষম হয়েছি। এই টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষাধিক লোক কাজ করছে। এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে তেমন কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি দেখা যায়নি।’

    জাহিদ মালেক বলেন, এক দিনে ১ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়াসহ অল্প সময়ে ২২ কোটি ডোজ টিকা দিয়ে দেশে করোনা মহামারি রুখে দেওয়ায় ব্লুমবার্গ করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অষ্টম অবস্থানে তুলে এনেছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এই করোনায় বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন ভয়াবহ, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

    কিডনি রোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘করোনায় দিনে ২০ জন মানুষ মারা গেলে আমরা কত চিন্তায় থাকি। অথচ কিডনির অসুস্থতায় দিনে ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে, ক্যানসারে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ মারা যাচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি সচেতন থাকি না। এই রোগগুলো নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজির পরিচালক মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশিদ আলম, নেফ্রলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস।

  • শিশুমৃত্যু রোধে ৪৫ উপজেলায় ৮ হাজার যত্ন কেন্দ্র

    শিশুমৃত্যু রোধে ৪৫ উপজেলায় ৮ হাজার যত্ন কেন্দ্র

    প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১০ হাজারই থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।


    ডুবে শিশুদের এভাবে প্রাণহানি রোধে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশের কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।


    গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাবা-মায়েরা যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন শিশুরা বেশি পানিতে ডুবে মারা যায়।

    এজন্য ওই সময়টা শিশুদের নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে পারলে এই মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব গত ২২ ফেব্রুয়ারি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে।

    তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭১ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। বেসরকারি সংস্থা ও সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সহায়তায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশু একাডেমির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।


    এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৬ জেলার ৪৫টি উপজেলায় আট হাজার শিশু যত্ন কেন্দ্র করা হবে। গবেষণায় মোতাবেক পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিপূর্ণ সময় অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিশুরা এসব কেন্দ্রে থাকবে।

    কেন্দ্রে পাঁচ ঘণ্টা থাকার সময় শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সহায়ক নানা শিক্ষা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই ৪৫ উপজেলায় এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই লাখ শিশু কার্যক্রমটির আওতায় আসবে।

    একই সঙ্গে এই ৪৫ উপজেলায় ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানো হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতাভুক্ত অঞ্চলের দুই লাখ মা-বাবাকে সচেতন করা হবে, যেন তারা শিশু যত্ন, সুরক্ষা এবং বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারেন।


    ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাংলাদেশ হেলথ ও ইনজুরি সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনজুরি বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। ইনজুরি বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর মধ্যে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ পানিতে ডুবে মারা যায়। জরিপ অনুযায়ী, প্রতিদিন ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

    এছাড়া প্রতি বছর বাংলাদেশে সব বয়সের প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১০ হাজারই থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

    কেন্দ্রে শিশুরা সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত থাকবে। ছড়া, গানসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের বিকাশের কাজগুলো করা হবে। দুপুরে যেন তাদের একটা খাবার দেওয়া যায়, যেটা তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিংয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এক থেকে চার বছরের শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশই মারা যায় পানিতে ডুবে।

    পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে বেসরকারি সংস্থার কিছু উদ্যোগ থাকলেও এতদিন সরকারের দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো কার্যক্রম ছিল না। ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিয়ে এই প্রথম বড় আকারে প্রকল্প নিলো সরকার।

    পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে আশার আলো দেখছেন তারা।

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান) অনুবিভাগ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে।


    রেজুলেশন অনুমোদনের পর আমরা যখন পাবো, এরপর কাজ শুরু হয়ে যাবে। প্রকল্প পরিচালক বা পিডি নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের দিক থেকে অন্যান্য পদগুলো পূরণ করে দেবো।’

    তিনি বলেন, ‘যে বিষয়টিতে আমাদের নজর ছিল না, সেই বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। এটা খুবই আনন্দের বিষয়।’ অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। প্রকল্প নেওয়ার আগে গবেষণা হয়েছে। কোন শিশু ঝুঁকিপূর্ণ, তা সেখানে উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাবা-মায়েরা যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন শিশুরা বেশি পানিতে ডুবে মারা যায়।

    এজন্য ওই সময়টা শিশুদের নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে পারলে এই মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ওই সময়টায় শিশুদের শিক্ষামূলক নানা কর্মকাণ্ডে রাখা যেতে পারে, যেন শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশটা হয়। সেই অনুযায়ী নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।’

    ‘এই প্রকল্পের আওতায় আমরা শিশু যত্ন কেন্দ্র করবো। সরকার ও এনজিওদের সহায়তায় ১৬ জেলায় আট হাজার কেন্দ্র করা হবে। সবার সহযোগিতায় শিশু একাডেমি মূলত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।’

    এই প্রকল্পের আওতায় ছয় থেকে ১০ বছরের শিশুদের সাঁতার শেখানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এক লাখ ২০ করে তিন বছরে তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানো হবে।’