Category: জাতীয়

  • ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা : আমির হোসেন আমু

    ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা : আমির হোসেন আমু

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনের পথ নির্দেশনা’।

    ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে ১৪ দল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।  আমু বলেন, ‌‘এ ভাষণ শুধু বঙ্গবন্ধুর জীবনেরই নয়, ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।


    বঙ্গবন্ধু তার এ ভাষণের মধ্য দিয়ে একদিকে পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসন, শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন, বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, শোষণের হাত থেকে বাঙালিকে মুক্তির পথ নির্দেশনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও গেরিলা যুদ্ধের রূপরেখা তুলে ধরেন।’

    আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে শিকদার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের নেতারা।

  • আনারস কলা নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

    আনারস কলা নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

    বাংলাদেশে উন্নত মানের রপ্তানিযোগ্য আনারসের জাত এমডি-২, জি-নাইন কলা, ডেলমন চা এবং মাকাপুনো নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন। এ বিষয়ে শিগগির বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে এ তথ্য জানানো হয়। সমাপনী দিনের সেশন শুরুর আগে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী উইলিয়াম ডি. ডার। বৈঠকে এ তথ্য জানান হয়।

    বাংলাদেশে এরইমধ্যে ফিলিপাইন থেকে এমডি-২ জাতের আনারসের তিন লাখ চারা এনে চাষ শুরু হয়েছে। আরও চার লাখ চারা আনা প্রক্রিয়াধীন আছে। আগের চেয়ে আরও কম দামে ও সহজ শর্তে এ জাতের আনারসের চারা বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী। এছাড়া, রপ্তানিযোগ্য সুস্বাদু জি- নাইন কলা, চা ও ধান চাষসহ কৃষিখাতে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সইয়ে সম্মত হন দুই মন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কৃষি উন্নয়নে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন, বৈঠকে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল উইল অ্যান্ড কমিটমেন্ট খুবই প্রশংসনীয়। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও মানবসম্পদ এখন শক্ত অবস্থানে আছে

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী মিথালাওয়ে মাহিনদানার আলুথগামেজ

    কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ থেকে আমের জাত ও ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ব্রিধান-৮৯ নেওয়ার জন্য ফিলিপাইনকে আহ্বান জানান। এছাড়া ফিলিপাইনে গোল্ডেন রাইস চাষের অভিজ্ঞতা জানতে চান মন্ত্রী।

    এ বিষয়ে ফিলিপাইনের মন্ত্রী জানান, তারা সেদেশে এরইমধ্যে গোল্ডেন রাইস চাষের অনুমোদন দিয়েছেন। বীজ উৎপাদনের কাজ এখন চলছে। এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করবেন ও সহযোগিতা দিবেন।

    বিশ্বে ফিলিপাইন একমাত্র দেশ যারা গোল্ডেন রাইস চাষের অনুমোদন দিয়েছে।

    আলু নেবে শ্রীলঙ্কা
    শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী মিথালাওয়ে মাহিনদানার আলুথগামেজের সঙ্গেও আজ বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী। বৈঠকে শ্রীলঙ্কার নারকেল গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে পারস্পরিক সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষিখাতে সহযোগিতার জন্য শ্রীলঙ্কার দুইটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। বৈঠকে এ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণে সস্মত হন দুই মন্ত্রী।

    শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশে চা ও দারুচিনি রপ্তানি ও বার্টার পদ্ধতিতে বাংলাদেশের আলু নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে তাদের বার্টার সিস্টেম চালু আছে।

    বাংলাদেশ বার্টার সিস্টেমের সম্ভাবনা বিবেচনা করে দেখবে বলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান।

    লাওসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক হবে
    এরপর লাওসের কৃষি উপমন্ত্রী থংপাথ ভংমানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় আপদকালীন চাল সংকট মোকাবিলায় লাওস থেকে আমদানি করার আগ্রহের কথা জানালে সহযোগিতার আশ্বাস দেন থংপাথ ভংমানি।

    কৃষিখাতে পারস্পরিক সহায়তা বাড়াতে শিগগির সমঝোতা স্মারক সই করার বিষয়েও সম্মত হয় দুই দেশ। থংপাথ ভংমানি এসময় বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    এই তিন বৈঠকেই কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

  • সয়াবিন তেলের দাম বেশি নিলে ১৬১২১-এ জানানোর পরামর্শ

    সয়াবিন তেলের দাম বেশি নিলে ১৬১২১-এ জানানোর পরামর্শ

    সরকার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে বাজার মনিটরিংয়ে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এরপরেও অনেকে গোপনে অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিলে ভোক্তা অধিদপ্তরের হটলাইনে কল করে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা। একই সঙ্গে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দাম অর্থাৎ ন্যায্যমূল্যও জানিয়েছেন।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করে দেয়। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া বাজারমূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ১৬৮ টাকা এবং বোতলজাত ৫ লিটারের দাম ৭৯৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার সর্বোচ্চ ১৪৩ টাকা এবং খোলা পাম অয়েল লিটারপ্রতি ১৩৩ টাকা।

    মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘অনেকেই ভোজ্যতেলের প্রকৃত দাম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এটা প্রচার করা বেশি প্রয়োজন। কারও কাছ থেকে নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে, আমাদের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানাতে হবে। আমরা দ্রুত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

    আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে হঠাৎ করেই সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রিফাইনারি কোম্পানিগুলো। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সব রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ভোজ্যতেলের আমদানি ও রিফাইনের পরিমাণ জানতে চিঠি দেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

    এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে দাবি করে আসছেন তেল সরবরাহকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, আগের মতোই তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা রমজান সামনে রেখে সয়াবিন মজুত করছেন। এজন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

    তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, সয়াবিন সরবরাহকারী কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের তেল দিচ্ছে না। ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ওঠাতে পারছেন না তারা। কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ রাখায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

    তবে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথ অভিযানে নামার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে সয়াবিনের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে সরকার।

    রমজানকে সামনে রেখে বাজারে যাতে সয়াবিনসহ নিত্যপণ্যের কোনো কৃত্রিম সংকট না হয়, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    তবে ভ্যাট প্রত্যাহার হলেও সহসাই তেলের দামে কমবে না বলে মনে করছেন ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বাজারে তেলের মজুত নিয়ে কারসাজির যেসব অভিযোগ আসছে, তা সব সত্য নয়। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যদি তেলের ওপর আরোপিত ভ্যাট কমানোও হয়, তবু সহসাই বাজারে এর প্রভাব পড়বে না। কারণ যেসব তেল ইতোমধ্যে বন্দর থেকে খালাস হয়ে গেছে এবং বাজারে আছে, সেগুলোতে কোনো দাম কমানোর সুযোগ নেই। ফলে নতুন করে বন্দরে তেল না ঢোকা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারদরে পড়বে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ছিল ১৬০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ছিল ১৩৬ টাকা। বোতলজাত সয়াবিনের পাঁচ লিটার তেলের দাম ছিল ৭৬০ টাকা এবং পাম তেলের দাম ছিল ১১৮ টাকা।

  • বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে: মোমেন

    বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে: মোমেন

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে বিদেশে বাংলাদেশের ৮০টি মিশনকে সংযুক্ত করে একটি ভার্চুয়াল ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুবাইয়ে বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম ২০২২-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে আপনাদেরকে (বিদেশি বিনিয়োগকারীদের) স্বাগত জানাতে পারলে খুশি হবো, যাতে আপনারা বাংলাদেশের ব্যবসার সুযোগগুলো থেকে আপনার অংশীদারদের খুঁজে পেতে পারেন।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘দৃঢ়তা ও সংকল্পের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অগ্রগতির মূলে রয়েছে উদ্ভাবনী ও অদম্য চেতনা, ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হতে উত্তরণের জন্য অবিচলিত প্রবৃদ্ধির গতিপথকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে

    তিনি বলেন, ‘দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের যাত্রায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যকূটনীতি অনুসরণ ও জোর দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে আমরা সক্ষমতাকে শক্তিশালী এবং এ বিষয়ে প্রচেষ্টা তীব্রতর করেছি।’

    মোমেন বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তাকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার নির্দেশ দিয়েছি। বিদেশে আমাদের রাষ্ট্রদূতদেরও এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য চিঠি লিখেছি এবং সেই সঙ্গে বিদেশিদের মধ্যে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আমরা কীভাবে আরও ভালো এবং সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে তাদের মতামত চেয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, বিডা, বেজা, বিএসইসি এবং হাই-টেক পার্ক অথরিটিসহ সংশ্লিষ্ট সব জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করতে এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য সব বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো মোকাবিলা ও সমন্বয় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ওয়ান গর্ভমেন্ট’ নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে উৎপাদনশীল সক্ষমতার জন্য প্রচুর প্রশংসামূলক অ্যাসেট পোর্টফোলিও স্থাপন করেছে। আমরা স্বল্পমেয়াদে এসএমই পর্যায়ের কনফিগারেশনে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মধ্যমেয়াদে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছি।

    আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যমান বাজার শক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। আমি আপনাদের সবাইকে আমাদের এসএমই উদ্যোগে অংশ নিতে এবং আপনাদের ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি আপনি দক্ষ হাত খুঁজে পাবেন যারা বিশ্বের যে কোনও জায়গা অপেক্ষা দ্রুত কর্ম সম্পাদন করতে পারে।

    তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করার এবং সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্যের অনুপাত হ্রাস করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও গতিশীল নেতৃত্বে অর্জিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ একটি ‘অলৌকিক উন্নয়ন’ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক বছরে ঢাকা ন্যায়সঙ্গত বাজার প্রবেশাধিকার, রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ সম্প্রসারণ, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এফডিআই প্রবাহ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশে পেশাজীবী ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান লাভের প্রত্যাশা করে। আমি এটাকে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি প্যাকেজ’ বলছি।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, এফবিসিসিআইয়ের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

  • বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন অনুপ্রেরণা: হানিফ

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন অনুপ্রেরণা: হানিফ

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ সারা বিশ্বের স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম  হানিফ।

    ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন-২০২২ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেছেন।

    ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুনাজ আহমেদ নূরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড.হারুন-অর-রশিদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম  হানিফ বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ৭ মার্চের এই ঐতিহাসিক ভাষণটি। যেখানে তিনি বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। একইভাবে এই অমর বাণী ও ভাষণ পৃথিবীর সব নিপীড়িত ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপিত করে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের দুনিয়া কাঁপানো ঐতিহাসিক এই ভাষণ বিশ্বের স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন অনুপ্রেরণা।

    মুখ্য আলোচক ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড.হারুন-অর-রশিদ বলেন,বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল একজন দক্ষ কৌশলীর সুনিপুণ বক্তব্য। ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি (বঙ্গবন্ধু) ‘স্বাধীনতার’কথা এমনভাবে উচ্চারণ করেন, যাতে ঘোষণার কিছু বাকিও থাকলো না,আবার তার বিরুদ্ধে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার অভিযোগ উত্থাপন করাও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য সম্ভব ছিল না। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতারই ঘোষণা। তবে সরাসরি তা ঘোষণা না করে তিনি কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার অবস্থান ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি সংখ্যালঘিষ্ঠ পশ্চিম পাকিস্তানি থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কেন বরং সংখ্যালঘিষ্ঠরাই বিচ্ছিন্ন হোক।

    আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শুনিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ মার্চের সেই ভাষণেরই সফল পরিণতি স্বাধীন বাংলাদেশ। ৫০ বছরেও ১৮ মিনিটের সেই ভাষণের আবেদন এতটুকু কমেনি বরং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এ ভাষণ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

    আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো.আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মুহাম্মদ শাহীনূল কবীর, শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব)মো. আশরাফুজ্জামান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত)ফারজানা আক্তার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামছুদ্দীন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আসছে হরতালের ঘোষণা

    দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আসছে হরতালের ঘোষণা

    দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের দুঃশাসনের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট আগামী ২৮ মার্চ সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) বেলা ১১টায় মুক্তিভবনের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করবে সংগঠনগুলো।

    বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় বাম সংগঠনগুলোর একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সহ আটটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’।


    সূত্র বলেছে, হরতালের আগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের এই কর্মসূচিতে বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোসহ অন্যান্য দলের সমর্থন থাকতে পারে।


    বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন বলেন, আগামীকাল (শুক্রবার) হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আগামী ২৮ মার্চ হরতাল হবে।

    বাম সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মানুষ নিদারুণ অর্থ ও খাদ্য সংকটে আছে। এমন বাস্তবতায় তারা হরতালের সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা (সিপিবি) সারা দেশে এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। এটা আজ থেকে শুরু হয়েছে, আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

    এরইমধ্যে বাম নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, অন্যান্য সমমনা দলের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা একটা কর্মসূচি ঠিক করছি, সেটা আগামীকাল জানানো হবে। তাতে সম্ভাব্য হরতাল ও অন্যান্য কর্মসূচি থাকবে। সেটা মাসের শেষ দিকে থাকবে।

  • দ্রুত গতিতে চলছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ

    দ্রুত গতিতে চলছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ

    কর্ণফুলী নদীর গহীনে পড়েছে আলোর ঝিলিক। নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ঘিরে বেড়েছে উচ্ছ্বাস। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে সরকারের এই মেগা প্রকল্পটি। শুধু নদীর তলদেশে নয়, দুই পারেও লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। ধানি জমির বুক চিরে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। টানেল ঘিরে নির্মিত সড়কে বিটুমিনের প্রলেপ। তাতে রোদের ঝিকিমিকি খেলা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই টানেল হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চ্যানেল। বাড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার। খুলে যাবে পর্যটনশিল্পের নতুন দুয়ার।

    প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যে কোনো জলোচ্ছ্বাসের পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য টানেলের দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে লোহার গেইট। ভেতরে লাগানো হয়েছে সমান্তরাল বাতি। টিউবের ভেতরে গাড়ি চলাচলের জন্য তৈরি করা হচ্ছে পিচঢালা সড়ক। দেওয়া হচ্ছে সিমেন্টের প্রলেপ। সংযোগ সড়কে এরই মধ্যে চারটি প্রলেপ দেওয়া শেষ। নিচের দুই লেয়ারে ব্যবহার হয়েছে ৬০-৭০ গ্রেড এবং ওপরের দুই লেয়ারে মডিফাইড বিটুমিন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে বসুন্ধরা বিটুমিন। টানেলের ঠিক পাশের সড়কেই বিটুমিনের মিক্স প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই টানেলকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পার থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের সংযোগ আরও গতিশীল করতেও কাজে আসবে টানেলটি। চট্টগ্রামের সিটি আউটার রিং রোড হয়ে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে সরাসরি টানেলে প্রবেশ করা যাবে। এতে চট্টগ্রাম শহরের যানজট থেকেও মুক্তি মিলবে।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার। তবে দুটি টিউবের প্রতিটি দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার এবং ব্যস ১০. ৪০ মিটার। ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের এই টানেল। যেটি নির্মাণ হলে চীনের সাংহাই শহরের মতো চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে আনোয়ারা। আর দুয়ে মিলে পরিণত হবে ওয়ান সিটি টু টাউনে।

    কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, করোনাকালে সবকিছু স্থবির থাকা সত্ত্বেও একদিনের জন্য বন্ধ হয়নি এখানকার কর্মযজ্ঞ। এরই মধ্যে দুটি টিউবের রিং প্রতিস্থাপনসহ বোরিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে টিউবের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীন নির্মাণ কাজগুলো চলমান রয়েছে। লেন স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজও প্রায় শেষ। টানেলের দুটি টিউবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে ১৯ হাজার ৬১৬টি সেগমেন্ট কাস্টিং, যেগুলো বানানো হয় চীনের জিয়াংসু প্রদেশের জেংজিয়াং শহরে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার ভায়াডাক্টের ডেক স্লব ও পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়ে গেছে। টাগ বোটের নির্মাণ কাজও শেষ। টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে মোট ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে এই সড়কে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে।

    প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, প্রায় এক বছর ধরে সড়ক তৈরির কাজ চলছে। এই প্রকল্পের ইতিবাচক দিক হলো, এর মেয়াদ এবং ব্যয় কোনোটাই বাড়ানোর দরকার হয়নি। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগেই টানেলটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। কাজের গতি বাড়াতে বৃদ্ধি করা হয়েছে জনবল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। করোনা মহামারীর মধ্যেও সমানতালে চলেছে টানেলের কর্মযজ্ঞ।

    তিনি বলেন, বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের মূল কাজ দুটি টিউব খনন সম্পন্নসহ টানেল প্রকল্প অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রকোপের কারণে প্রায় দুই বছর ধরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হয়েছে।এ কারণে সময়ও লেগেছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। তার পরেও প্রত্যাশিতভাবে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রকল্প কাজ সম্পন্নের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

    প্রায় দেড় দশক আগে চট্টগ্রামে এক জনসভায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি সই হয়। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

  • ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার নিশ্চিতে ঐক্যের ডাক

    ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার নিশ্চিতে ঐক্যের ডাক

    দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার নিশ্চিতে সবাইকে এক হয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    একইসঙ্গে এ লক্ষ্য অর্জনে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কৃষি অর্থায়নে বিশেষ আঞ্চলিক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

    বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা (ফাও) এর ৩৬তম এশিয়া এবং প্যাসিফিক আঞ্চলিক কনফারেন্সে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এ আঞ্চলিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে আবুধাবি সফরে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরকালীন আবাসস্থল থেকে আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং লম্বা সময় ক্ষমতার থাকার সুবাধে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিশ্চয়ই খাদ্য নিরাপত্তা জনগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

    দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৩০৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ এখনো ক্ষুধার্ত। আমরা সবাই যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি তাহলে সহজে তাদের সবার খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি। ’

    যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সব দেশ-জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি দেখিয়েছে এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষ কতটা অসহায়। এ মহামারি আরও দেখিয়েছে সবাই এক হয়ে কীভাবে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। ’

    এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনটি প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রথম প্রস্তাবে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ করছি। ’

    দ্বিতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের ফাও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি এবং রোবটিক্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জ্ঞান বিনিময় বাড়ানোর কথা বলেন।

    আঞ্চলিক তহবিল গঠনের সুপারিশ করে তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক কৃষিতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন, তাই কৃষিতে অর্থায়ন ও সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল তৈরি করা যেতে পারে। ’

    চলমান করোনা মহামারিতে কৃষির ক্ষতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্যান্য সেক্টরের মতো কোভিড-১৯ মহামারি কৃষি খাততে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    ২০২০ সালে মহামারির শুরুতে প্রাথমিকভাবে কৃষির সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হয়েছে। এর ফলে এ খাতের উৎপাদক এবং ভোক্তা উভয়ই মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’

    ‘তবে আমাদের সময়মতো এবং কার্যকর পদক্ষেপ এই সেক্টরটিকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে।

    আমরা যান্ত্রিকীকরণসহ অব্যহতভাবে খাদ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। ’

    বাংলাদেশের কৃষিখাতের অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও জিডিপিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব আপেক্ষিকভাবে কমে যাচ্ছে, কিন্তু সার্বিকভাবে অবদান (absolute contribution) কমেনি, বরং বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সাল থেকে কৃষি জিডিপি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ’

    টানা তিনবারের সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষি এখনো কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। এর ওপর ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে প্রায় ২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি কৃষি খাতে কাজ করছেন, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী। ’

    ‘এছাড়াও এখন অনেক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প চাল, চিনি, চা, ফলের রস, মসলা, ভোজ্যতেল, তামাক, পাট বস্ত্র, তুলা বস্ত্র, স্টার্চ এবং অন্যান্য মৌলিক কাঁচামালের জন্য পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এভাবে কৃষি এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে রয়ে গেছে। ’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ ধান, সবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে।

    বছরে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে স্বয়সম্পূর্ণ। ’

    ‘বিশ্বে বাংলাদেশ পাঠ ও মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চুতর্থ, ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। ’

    কৃষক এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের অব্যাহত নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা এবং আমাদের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের প্রচেষ্টার কারণে এই অর্জনগুলো সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও উদ্যোক্তারা একটি সমৃদ্ধ বেসরকারি খাত তৈরি করেছে যেখানে কৃষি ক্রমবর্ধমান এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। ’

    খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে কৃষিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এত সফলতা সত্ত্বেও আমরা বুঝি প্রকৃত অর্থে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। কারণ এই সেক্টরে প্রকৃতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অস্বাভাবিকতা বার বার আঘাত হানে। ’

    বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই কৃষির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বড় হুমকি।

    জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো মোকাবিলার করার জন্য আমরা আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল থেকে বিভিন্ন অভিযোজন এবং প্রশমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। ’

    পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান’ এবং ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা বন্যা-খরা প্রতিরোধী এবং লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছেন যা কঠিন পরিবেশে জন্মানো যেতে পারে। ’

    বাংলাদেশের জীবিকা নির্ভর কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের উচ্চমানের খাদ্য উৎপাদন এবং কম মূল্যের খাদ্যের মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে খাদ্য বহুমুখীকরণে

  • খাদ্য নিরাপত্তা অবশ্যই মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’

    খাদ্য নিরাপত্তা অবশ্যই মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা এবং উচ্চ প্রযুক্তির হস্তান্তর ও বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো উচিত। খাদ্য নিরাপত্তা অবশ্যই মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৩০৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ এখনও ক্ষুধায় ভুগছেন। আমরা সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে তাদের জন্য সহজে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি।

    প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৬ তম আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার পেশকৃত তিনটি সুপারিশের মধ্যে প্রথম সুপারিশে এ কথা বলেন।
    তিনি তার দ্বিতীয় পয়েন্টে বলেছেন, জৈব-প্রযুক্তি, ন্যানো প্রযুক্তি, এবং রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি কৃষি খাতে উচ্চ প্রযুক্তির হস্তান্তর ও বিনিময়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ফাওর’ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জোরদার করতে হবে।

    চূড়ান্ত পয়েন্টে তিনি আরো বলেন: ‘যেহেতু আধুনিক কৃষির জন্য প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন সেজন্য কৃষি খাতে অর্থায়ন ও সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।’

    বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক ভার্চুয়াল হাই-ব্রিড ইভেন্ট আয়োজন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি এতে যোগ দেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মানুষ যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছিল এবং কীভাবে মানব জাতি একসাথে কাজ করে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে তাও এই মহামারি শিখিয়েছে।

    কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে ফাও মহাপরিচালক কিউ দংইউ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বক্তব্য রাখেন। 

  • মার্চের শেষে ঘর পাচ্ছে আরও ৪০ হাজার গৃহহীন পরিবার

    মার্চের শেষে ঘর পাচ্ছে আরও ৪০ হাজার গৃহহীন পরিবার

    চলতি মাসের (মার্চ) শেষের দিকে আরও ৪০ হাজার গৃহহীন পরিবারের কাছে দুর্যোগ সহনীয় ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এ কথা জানান।


    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ দেশে কেউ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেকের ঠিকানা হবে। সেজন্য দরিদ্র গৃহহীন মানুষকে দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬০৪টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৭ হাজার পাঁচটি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৬ হাজার ২৯১টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করেছে।’

    এনামুর রহমান বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে এক হাজার ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৪০ দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

    যেগুলো চলতি মাসের শেষে প্রধানমন্ত্রী হস্তান্তর করবেন। আমরা বিভিন্ন জায়গায় এ ঘরগুলো পরিদর্শনে গিয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি, ঘরগুলো মানুষকে ক্ষমতায়িত করেছে, তাদের সম্মান বাড়িয়েছে। জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করেছে। নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে।’


    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্যোগ আঘাত হানছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ দুর্যোগপ্রবণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান পঞ্চম। প্রতিবছর বন্যা, ভূমিধস, বজ্রপাতসহ নানান দুর্যোগ আমরা মোকাবিলা করে থাকি। ২০২০ সালের মার্চ থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। এ মহামারির সময়েও প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ পরিবারকে তালিকা করে নিয়মিতভাবে তাদেরকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে সরকার।’

    করোনা সংকটে অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবার দারিদ্রসীমার মধ্যে নেমে এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা তাদের জন্য ৩৩৩ নম্বর চালু করেছিলাম, যেটি এখনো চালু আছে। এ নম্বরে ফোন করে যারা খাদ্য সহায়তা চেয়েছেন, তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’


    প্রায় ২২ লাখ পরিবার ৩৩৩ নম্বরের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী।


    বিগত ঘূর্ণিঝড়গুলোতে মৃত্যু শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে দাবি করে এনামুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্বের কাছে রোল মডেল।

    ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষ করেছি। সাড়ে পাঁচশ মুজিব কেল্লা তৈরির কাজ চলমান।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪৫৭টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। আরও ১১০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনীয় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানের সঙ্গে চার দফা বৈঠক হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়েছে।

    সেই অনুযায়ী তিনটি ধাপে বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমরা ফোকাল পার্সন নিয়োগ দিয়েছি, কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম দফায় তারা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। দ্বিতীয় দফায় একশ থেকে দুইশ বছরের পুরোনো যে ভবনগুলো আছে। সেগুলো ধ্বংস করে জাপানের আর্থিক সহায়তায় ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করা হবে। এরপর যে ভবনগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষা সংস্কার করা হবে।’

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেনসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।