Category: জাতীয়

  • ঢাকা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি (প্রথম পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত) উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করে এ নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, কাজের মোট অগ্রগতি ৩২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই কাজগুলো এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    সরকার প্রধান বাংলাদেশ বিমানের আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন।

    এসময় অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মোকাম্মেল হোসেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • দুই যুগ পর জাতীয় ক্রীড়ানীতি সংশোধনের উদ্যোগ

    দুই যুগ পর জাতীয় ক্রীড়ানীতি সংশোধনের উদ্যোগ

    দীর্ঘ ২৪ বছর পর জাতীয় ক্রীড়ানীতি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ১৯৯৮ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল জাতীয় ক্রীড়ানীতি। দেশের খেলাধুলা কিভাবে চলবে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে জাতীয় ক্রীড়ানীতিতে। এই নীতি আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে।

    জাতীয় ক্রীড়ানীতিতে সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন কিভাবে হবে সে জন্য মন্ত্রণালয় গত আগস্টে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল। করোনার কারণে ওই কমিটি কোনো সভা করতে পারেনি।

    কমিটি গঠনের ৬ মাসেরও অধিক সময় পর প্রথম সভা হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (ক্রীড়া) সভাপতিত্বে কমিটির একটি সভা আছে মঙ্গলবার। ওই সভায় জাতীয় ক্রীড়ানীতি নিয়ে পর্যালোচনা হবে।

    উল্লেখ, ১৯৯৮ সালে সাভারের বিকেএসপিতে জাতীয় ক্রীড়া সম্মেলন করে সেখান থেকে ক্রীড়া সংগঠকদের মতামত নিয়ে জাতীয় ক্রীড়ানীতি প্রণয়ন করেছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তারপর দীর্ঘ দুই যুগ এই ক্রীড়ানীতি সংশোধন করা হয়নি। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপির উদ্যোগে জাতীয় ক্রীড়ানীতি সংশোধন হতে যাচ্ছে।

    গত আগস্টে ক্রীড়ানীতি প্রণয়ন কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (ক্রীড়া-১)।

    কমিটির ১৪ জন সদস্য হলেন-ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ক্রীড়া), বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর, আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল, ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ, পাক্ষিক ক্রীড়া জগত পত্রিকার সম্পাদক দুলাল মাহমুদ, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং যুব ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আকবর আলী।

  • বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস আজ

    বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস আজ

    বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস আজ (১৫ মার্চ)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে নানা আয়োজন হাতে নেওয়া হয়েছে। সমসাময়িক পেক্ষাপটে এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় নায্যতা।

    ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন। ভোক্তার চারটি অধিকার সম্বন্ধে তিনি আলোকপাত করেন। এগুলো হলো- নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরও বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরও আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করে। কেনেডির ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনটিকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

    বাংলাদেশে ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ ও ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কাজ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে সরকার ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ অধিদপ্তরটি। প্রতিবছর এ দিবসকে পালন করছে সরকারি এ সংস্থা।

    এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুজিব বর্ষে শপথ করি-প্লাস্টিক দূষণ রোধ করি’। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    তার আগে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সামনে ওসমান গনি রোডে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

  • জয় বাংলা’ আমাদের মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান: প্রধানমন্ত্রী

    জয় বাংলা’ আমাদের মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান: প্রধানমন্ত্রী

    জয় বাংলা’ বিজয়ী জাতির, বাঙালি জাতির মাথা উঁচু করে চলার স্লোগান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, দেশের সব অর্জনের মূলে থাকা ‘জয় বাংলা’কে তার সরকার জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে আমরা এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছি যে, বাঙালি মাথা নিচু করে নয় বরং মাথা উঁচু করেই চলবে।

    সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে ‘জয় বাংলা উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    শেখ হাসিনা বলেন, এই জয় বাংলা স্লোগানটা আজ সবার হয়েছে এবং এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই- আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয় অর্জন করেছি। মাথা নত করে আমরা চলি না, মাথা নত করে চলবো না। বিশ্ব দরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করেই চলবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার একমাত্র ছোটবোন শেখ রেহানার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা দুজনেই আজ সব থেকে বেশি খুশি। কারণ এই জয় বাংলা স্লোগান এদেশের মানুষকে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। যে স্লোগান দিয়ে এদেশের মানুষ রক্তের অক্ষরে লিখে গেছে- আমি বিজয় আনতে চাই। বাংলাদেশের জয় হবে। আজ সেই জয় বাংলা আমাদের সবার, এদেশের মানুষের। বিজয়ী জাতির-বাঙালি জাতির, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার এ স্লোগান।

    এই স্লোগান ধারণে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ত্যাগ যে বৃথা যায় না আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিএবি চেয়ারম্যার মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত তার ঐতিহাসিক কালোত্তীর্ণ ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে। সেই থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্লোগানে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা হয়ে যায় ‘জয় বাংলা’।

    বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নিয়েছিলেন।

    এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ২০২২ সালের ২ মার্চ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জয় বাংলা স্লোগান এক সময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে, হ্যাঁ আমরা আওয়ামী লীগ যারা করি আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা ধরে রেখেছি, যারা এদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযোদ্ধারা- তারা এটা ধরে রেখেছিলেন। বাধা এসেছে, অনেক সময় অনেক কটুক্তি -সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা এই সত্যটাকে ধরে রাখতে পেরেছিলাম বলেই আজ এটা জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

    তিনি বলেন, জয় বাংলা স্লোগান আমাদের মুক্তি সংগ্রামের স্লোগান। জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। জয় বাংলা আত্মত্যাগের স্লোগান। জয় বাংলা আমাদের অর্জনের স্লোগান। যে স্লোগানের মধ্যদিয়েই আমরা বিজয় অর্জন করেছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। যে মানুষগুলো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল।

    তিনি বলেন, জাতির পিতা যখন ৬ দফা দিলেন ঠিক তার আগেই ছাত্রলীগকে এই জয়বাংলা স্লোগানটাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর অন্তর্নিহিত অর্থ একটাই ছিল- সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনাটা জাগ্রত করা। এই স্লোগানের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এবং সবশেষে বিজয় অর্জন। যার প্রতিটি পদক্ষেপ জাতির পিতা নিয়েছিলেন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে।

    স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের যে ভাষণ, সেই ভাষণও তিনি শেষ করেন ‘জয় বাংলা’ বলে। অর্থাৎ বাঙালির যে বিজয় হবে সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর মোকাবিলা করতো এই জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে। এই স্লোগান প্রতিটি মুক্তকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করতো।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। সে সময়ে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে তিনি গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে এনে রেখে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সময় যে অপপ্রচার ছিল স্বাধীনতা অর্জনের পরও সেটা থেমে থাকেনি। অর্থাৎ স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত সবসময় ছিল। যখন অনেক ষড়যন্ত্র করেও মানুষের হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে পারেনি তখনই চরম আঘাত এলো ৭৫ এর ১৫ আগস্ট।

    তিনি বলেন, যে স্লোগান একদিন এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, একটি গেরিলা যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল, পাকিস্তানিদের বর্বর নির্যাতনও যে স্লোগানকে একদিন থামাতে পারেনি; সেই স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে গেল। ১৫ আগস্ট আমরা আপনজন হারিয়েছি, আর দেশের জনগণ তাদের সব সম্ভাবনাকেই হারিয়ে ফেললো।

    সরকার প্রধান বলেন, আমাদের কাজটা হচ্ছে জনগণের সেবা করা। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সবকিছু যেন সহজভাবে চলতে পারে সে সুযোগটা করে দেওয়া, সেটাই আমরা করে দিচ্ছি। আমরা ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি যেখানে দেশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও মজবুত হয়ে উঠবে এবং মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বাড়বে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার তৃণমূলকে লক্ষ্য ধরেই দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা যত বাড়বে ততই আপনাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত হবে।

    এ সময় বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করতে তার সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাকে বলেছিল এতগুলো বেসরকারি ব্যাংক দিয়ে কী হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতো খুব ছোট। কিন্তু এটা ছোট থাকবে না বরং একদিন যে বড় হবে সে আশাবাদই আমি তখন ব্যক্ত করেছিলাম।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেসরকারি ব্যাংকের আর শাখা খোলার সুযোগ না দিয়ে সরকারি ব্যাংকের অনেক শাখা বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আমাদের সরকারি বাস চলাচল করবে সেখানেও বাধা দেওয়া এবং সেটাও বন্ধ করার প্রচেষ্টা হয়েছিল।

    শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এতই দুর্বল ছিল যে আন্তর্জাতিক সংস্থা যে পরামর্শ দিতো তাই তারা মেনে চলতো। নিজেদের কোনো চিন্তা-চেতনা বা পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু আমি সরকারে আসার পর থেকে ওইসব পরামর্শ শুনি নাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলেছি, এই দেশ আমাদের। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। এদেশের মানুষের মঙ্গল কিসে হবে আমরাই তা সবথেকে ভালো জানি। যেটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক সেটাই আমরা করবো।

    শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ব্যাংক, বিমা থেকে শুরু করে বেসরকারি টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিও, সবার হাতে মোবাইল ফোন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দেওয়া সহ ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সক্ষম হয়েছি।

    ব্যাংক ব্যবস্থাকে তৃণমূলে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মাত্র ১০ টাকায় একজন কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ভতুর্কির টাকাটাও ব্যাংকের মাধ্যমেই তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত বা গৃহহীন আর থাকবে না।

  • হঠাৎ অসুস্থ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি

    হঠাৎ অসুস্থ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি

    হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।

    রোববার (১৩ মার্চ) তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসার পথে প্লেনের ভেতর তিনি অসুস্থবোধ করেন।

    পরে বিকেল তিনটার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম ২০২২-এ যোগ দিতে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন ড. মোমেন।


    গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল বলেন, তুরস্ক থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর তাকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, তুরস্ক থেকে আসার পথে ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার নিয়মিত ঘুম হয়নি। তুরস্কে ঠাণ্ডা ছিল, দুবাইয়ে তাপমাত্রা বেশি ছিল, এসব কারণে তিনি অসুস্থবোধ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক আছেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন বলে জানান তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাই পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ঢাকা ডেল্টা হসপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ এস এ মুয়িয সুজন জানান, ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা। তবে বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

    শারীরিক সুস্থতার জন্য সিলেটবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

    সেখান থেকে তুরস্কে দ্বিতীয় আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার আমিরাত থেকে আঙ্কারায় পৌঁছান ড. মোমেন।

  • সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা, ৩৩ বাংলাদেশি গ্রেফতার

    সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা, ৩৩ বাংলাদেশি গ্রেফতার

    নদীপথে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার অভিযোগে ৩৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে হিঙ্গলগঞ্জ থানার মালেকান ঘুমটি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেন।

    পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ মার্চ) রাতে হিঙ্গলগঞ্জের মালেকান ঘুমটি এলাকায় সীমান্তে কালিন্দি নদী পেরিয়ে ভারতে ঢোকার সময় সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ-এর জওয়ানরা ৩৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেন।

    এদিন সকালে বিএসএফ-এর তরফ থেকে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, কাজের খোঁজে দালালের মাধ্যমে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছেন। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায়। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • ইউক্রেনের বাংকারে আটকা দুই বাংলাদেশি

    ইউক্রেনের বাংকারে আটকা দুই বাংলাদেশি

    ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর মারিউপোলের একটি বাংকারে আটকা পড়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। যুদ্ধের কারণে তারা সেখান থেকে বের হতে পারছেন না।

    শনিবার (১২ মার্চ) জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা হলেন- মাহমুদুল হাসান দোলন ও মেহেদি হাসান। এক মাস আগে তারা স্টুডেন্ট ভিসায় ইউক্রেনে গিয়েছিলেন।

    দোলনের ভগ্নিপতি পোল্যান্ড প্রবাসী মাসুদুর রহমান তুহিন টেলিফোনে বলেন, গত শনিবারের পর থেকে দোলনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গত শনিবার শেষকথা হয়েছে। সে সময় পাঁচ ঘণ্টার ‘হিউম্যান করিডর’ দেওয়া হয়েছিল। তখন দোলন ও মেহেদিসহ ৪০ জন সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মাঝপথে ইউক্রেনের সেনারা তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দেয়। কারণ তখন রাশিয়া সেখানে বোমাবর্ষণ করছিল। আমরাও ফোনে বোমাবর্ষণের আওয়াজ পেয়েছি।

    এ বিষয়ে পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন বলেন, এরই মধ্যে নয়জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুই বাংলাদেশিকেও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, সমস্যা হলো, ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না গত পাঁচ-ছয়দিন ধরে। এই দুই বাংলাদেশিকে তাদের ‘লোকেশন’ ধরে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা অপেক্ষা করছি হিউম্যান করিডরের জন্য।

    এদিকে দোলন ও মেহেদির পরিবারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

  • সারাদেশ থেকে নাপা সিরাপের নির্দিষ্ট ব্যাচের নমুনা পাঠানোর নির্দেশ

    সারাদেশ থেকে নাপা সিরাপের নির্দিষ্ট ব্যাচের নমুনা পাঠানোর নির্দেশ

    ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে নাপা সিরাপ খেয়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সারাদেশ থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এর (প্যারাসিটামল ১২০ মি. গ্রাম/৫ মি. গ্রাম, ব্যাচ নম্বার ৩২১১৩১২১, উৎপাদন তারিখ ১২/২০২১, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ১১/২০২৩) উৎপাদিত নাপা সিরাপের নমুনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

    বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তাকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে এই নির্দিষ্ট ব্যাচের নাপা সিরাপের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য কেন্দ্রীয় ঔষধ পরীক্ষারাগারে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ মার্চ) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে অদিপ্তর। সারাদেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনার পাশাপাশি দুজন পরিচালকের নেতৃত্বে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, একটি কমিটি আশুগঞ্জের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। আরেকটি কমিটি গাজীপুরে বেক্সিমকোর ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করে নির্দিষ্ট ব্যাচের উৎপাদিত ওষুধ কী অবস্থায় রয়েছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে নাপা সিরাপ খেয়ে ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খান (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।

    দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্যারাসিটামল ‘নাপা সিরাপ’ বিক্রি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।

  • আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে এশিয়ার প্রতি আহ্বান মোমেনের

    আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে এশিয়ার প্রতি আহ্বান মোমেনের

    বাংলাদেশ প্রবর্তিত শান্তির সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

    শনিবার (১২ মার্চ) তুরস্কের আন্তলিয়ায় আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তলিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে ‘এশিয়া এনিউ: ফর সাসটেইনেবল রিজিওনাল গ্রোথ’শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সুযোগ নিতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের জন্য এশীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতের কথা তুলে ধরে ড. মোমেন গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বিশ্ব উপহার দেওয়ার জন্য পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহানুভূতি অতি জরুরি।

    রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত। এ আঞ্চলিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

    ড. মোমেন পুনরুল্লেখ করেন যে, সাউথ-সাউথ ফোরাম অব ফরেন মিনিস্টার্সের জন্য বাংলাদেশ একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো তুলে ধরার জন্য সর্বোত্তম উপায় আয়ত্ত করবে।

    তিনি সব দেশের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিতের গুরুত্ব এবং লাভজনক নিয়োগ নিশ্চিতের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ড. মোমেন, কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী দুইদশকের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশেগুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সরকার কীভাবে তার নীতিগুলো বাস্তবায়ন করছে তা বর্ণনা করেন।

    উচ্চ পর্যায়ের এ গোলটেবিল বৈঠকে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন। ফোরাম বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুৎ কাভুসোগলুর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে, দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

  • দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ছয়দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-১৩০২) একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট শনিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ফ্লাইটটি। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

    শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

    ইহসানুল করিম বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-১৩০২) একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে রাত ১২টা ১০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।’

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে গত ৭ মার্চ উপসাগরীয় দেশটিতে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এই সফরে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

    সেগুলো হলো- বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং এমিরেটস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (ইসিএসএসআর) মধ্যে সহযোগিতার জন্য এমওইউ দুই দেশের বৈদেশিক পরিসেবা একাডেমি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং দুবাই ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক এবং দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার জন্য এফবিসিসিআই ও ইউএই চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

    এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। গত ৯ মার্চ দুবাই প্রদর্শনী কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ৮ মার্চ দুবাই প্রদর্শনী কেন্দ্র (ডিইসি) পরিদর্শন করেন। ওইদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় যোগ দেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ডিইসিতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ও ইউএই প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এফএও আঞ্চলিক সম্মেলনেও যোগ দেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের যৌথ আয়োজনে বিজনেস ফোরামে যোগ দেন তিনি।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।

    এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী রাস আল খাইমায় বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।