Category: জাতীয়

  • উচ্চ আদালতের রায় দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করেছে

    উচ্চ আদালতের রায় দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করেছে

    সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতিদের সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘উচ্চ আদালত রায় দিয়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছে।’

    বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনে আধুনিক ও নান্দনিক ১২তলা ‘বিজয়-৭১ ভবন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী ‘আমরা যারা আপনজন হারিয়েছিলাম, আমাদের কোনো অধিকার ছিল না বিচার চাওয়ার। এমনকি আমি বাংলাদেশে ফিরে এসে মামলা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মামলা করতে দেওয়া হয়নি। কারণ ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে খুনিদের।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু করা হয়েছিল। সে অবস্থার একমাত্র পরিবর্তন করতে পেরেছি, যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি তখন। সেখানে অনেক বাধা, অনেক কিছুই আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নিম্নআদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা বিচারহীনতা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে পেয়েছি।’

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করতে এবং সংবিধানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর প্রতিটি দেশের উচ্চ আদালতই নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। আমাদের সুপ্রিম কোর্টও এর ব্যতিক্রম নয়। এর ইমারতগুলো কেবল বিচারের চিরায়ত পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যের প্রতীকই নয়, সেগুলোর প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য আইন ও সাংবিধানিক ইতিহাস। আমাদের পুরাতন হাইকোর্ট ভবন ও প্রধান ভবনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। আজ যে বিজয় ৭১ ভবনটি হলো এটাতেও সুপ্রিম কোর্টের স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হয়েছে।’

    প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারকরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন সততা, মেধা ও শ্রম দিয়ে মামলার জট কমিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত বিচার প্রার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব ন্যায়বিচার দিয়ে বাড়ি ফেরাতে। আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্দশার সুযোগ নেওয়াকে বরদাশত করা হবে না।’

    সভাপতিত্ব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এছাড়া স্বাগত বক্তৃতা করেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এসময় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স এক্সটেনশন (বর্ধিত) ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৫৮ কোটি চার লাখ ২২ হাজার টাকা। যার পুরোটাই বহন করছে সরকার। এনেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে ১৮ হাজার ১৩৪ বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত হলো এ ভবন।

    এতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বিচারপতিদের জন্য ৫৬টি চেম্বার, ৩২টি এজলাসকক্ষ (কোর্ট রুম), আলাদা দুটি লিফট, আধুনিক জেনারেটর ও দোতলা বিদ্যুতের সাব-স্টেশন। এছাড়া এ ভবনে ৩২টি ডিভিশন বেঞ্চ ও বিচারপতিদের চেম্বার ছাড়াও ২০টি অফিসকক্ষ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দাপ্তরিক কক্ষ রয়েছে।

  • গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে র‌্যাব

    গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে র‌্যাব

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। দেশের একমাত্র এলিট ফোর্স র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এরই মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষায় গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দপ্তরের শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব চরমপন্থিদের আগ্রাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রক্তাক্ত জনপদে মানুষ পেয়েছে নিরাপদ জীবন। ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রেয়েছে। জঙ্গি দমনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণের নিরাপত্তা সমুন্নত হয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, জলদস্যুতা দমনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান। বিভিন্ন হত্যা, খুন, অপহরণ, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারের বিচার পাওয়ার পথ সুগম করেছে। র‌্যাব মানবপাচার বিরোধী অভিযান পরিচালনা ও ভিকটিম উদ্ধার করার ফলে নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছে অনেকে। বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকে। র‌্যাব মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ও বর্তমান সময়ে শীর্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এই এলিট ফোর্স। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি দমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কৌশলের আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদমনে যে সফল তৎপরতা চালিয়েছে তাতে র‌্যাবের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানসহ শোলাকিয়া, সিলেটের আতিয়া মহল, ঢাকার আশুলিয়া, মিরপুর, তেজগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে ও ঝিনাইদহসহ প্রতিটি জঙ্গি দমন অপারেশনে র‌্যাব তার পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর র‌্যাব একই দিনে আশুলিয়া, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে। এই দিন হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও জেএমবি প্রধান সারোয়ার জাহান গ্রেফতার এড়াতে বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। এ ধরনের বহু অভিযান চালিয়ে র‌্যাব জনমনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। পাশাপাশি বিপথগামী জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষে কাজ করছে র‌্যাব। মোটিভেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। র‌্যাবের এই মানবিক উদ্যোগটি সফল হোক। এভাবে র‌্যাব মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

    মাদকের ভয়াল ছোবলের কবলে গ্রাস হচ্ছে অনেক মানুষের জীবন ও সংসার উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদক বিস্তার রোধে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই সামাজিক যুদ্ধ এবং অভিযাত্রা আমাদের সফল করতে হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা মাদকবিরোধী অভিযান সুসংহত কারার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলায় একটি পরিপূর্ণ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছি। একই সঙ্গে আমরা একটি যুগোপযোগী ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করেছি। গত ১ বছরে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ পিস ইয়াবা, ১৪৯ কেজি হেরোইন, ২৮ কেজি আইস, ১ লাখ ৩৯ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭১১ কোটি টাকা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, জঙ্গিবাদ দমন, চরমপন্থি দমন, জলদস্যু দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সর্বশেষ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। র‌্যাবের বিশেষ উদ্যোগে র‌্যাব ডি-র্যাডিকালাইজেশন ও রি-হ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম ‘নবদিগন্তের পথে’ অত্যন্ত অভিনব ও যুগান্তকারী এই উদ্যোগ। অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় আবার তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা। আত্মসমর্পণকৃত ৪২১ জন সন্ত্রাসীদের (জলদস্যু ও জঙ্গি) পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যুক্ত রয়েছে।

    মানবিকতা দিয়ে অপরাধ দমনের এ সাফল্য বিশ্বের বুকে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেনন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গর্হিত কাজ: প্রধানমন্ত্রী

    র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গর্হিত কাজ: প্রধানমন্ত্রী

    আমেরিকাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা অপরাধীদের রক্ষা করে তাদের দেশে স্থান দেয়। আর বিনা অপরাধে আমাদের দেশে (র‌্যাব সদস্যদের) নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অত্যন্ত গর্হিত কাজ’ বলেও মনে করেন তিনি।

    সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টায় কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদরদপ্তরের শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে বিশেষ দরবারে একথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলা সংস্থার যে কেউ যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে আমরা কিন্তু শাস্তির ব্যবস্থা করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, যারা আমাদের বিনা কারণে বিনাদোষে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের দেশে কিন্তু এ ধরনের অপরাধ করলে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আমি স্পষ্ট বলি, আমেরিকায় ছোট্ট বাচ্চা ছেলে জাস্ট পকেটে হাত দিয়েছে, তাকে গুলি করে মারল অথবা পা দিয়ে পাড়া দিয়ে গলা চেপে মেরে ফেলে দিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, সেখানে কেউ অপরাধ করলে শাস্তি নিশ্চিত করি। তারপরও দুর্ভাগ্যের বিষয় যে যারা হলি আর্টিজানের মতো এ ধরনের অভিযান করে সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমাদের এই সাফল্যে এরা দুঃখ পেয়েছে কি না আমি জানি না। তবে বাংলাদেশ যে সাফল্য অর্জন করেছে, সেটাই সত্য। সেখানে এরকম নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে আমি মনে করি।

    তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হলো- আমাদের দেশের কিছু মানুষ নানা ধরনের অপপ্রচার চালায়। তারা কিন্তু অপরাধী। কোনো না কোনো কারণে চাকরি হারিয়েছে বা দেশ ছেড়েছে। সেখানে আমাদের যুদ্ধাপরাধীরা যেমন ঠাঁই পেয়েছে, তেমনি জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিও আমেরিকায় বসবাস করছে। তাকে তারা সেখানকার সিটিজেন করে নিয়েছে। আমরা বারবার তাদের রিকোয়েস্ট করেছি। একের পর এক প্রেসিডেন্টের কাছে ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছি। তারা অপরাধীদের রক্ষা করে তাদের দেশে স্থান দেয়। আর বিনা অপরাধে আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এটাই যাদের চরিত্র, তাদের বিষয়ে আর কী বলবো?

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন। একটাই লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলবো। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পরে হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আজকের এই উন্নয়নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানসহ র‌্যাবেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের আইনশৃঙখলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্ব এই বাহিনীকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারাবাহিকতা আমাদের বজায় রাখতে হবে। তার জন্য যে কাজগুলো চলছে- তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বব্যাপী যে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস শুরু হলো। কিছু এলাকায় এমন কিছু ঘটনা ঘটত জলদস্যু বনদস্যু; এদের জন্য মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও পণ্য পরিবহন সবকিছু বিঘ্নিত হত। তাছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০০১ এর পরে বিএনপি-জামায়াতের আমলে দেশে সবেচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। র‌্যাব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চরমপন্থিদের দমন ও ভেজালবিরোধী অভিযানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদ দমনে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে আমাদের এই বাহিনী। এজন্য এই বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।

    এসময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার উপর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোজাকে সামনে রেখে কিছু মজুতদারী, কালোবাজারী আছে। এগুলোর বিরুদ্ধেও র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে।

    র‌্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রিকশাচালকেরও লাগবে লাইসেন্স, ভাড়া থাকবে নির্ধারিত

    রিকশাচালকেরও লাগবে লাইসেন্স, ভাড়া থাকবে নির্ধারিত

    ঢাকা মহানগরে চলাচল করা সব রিকশা আসছে নিবন্ধনের আওতায়। লাইসেন্স নিতে হবে চালককেও। রিকশাচালকের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। রিকশার রং, কুশন প্রভৃতিতে থাকবে নতুনত্ব। মালিকরা ইচ্ছেমতো জমা আদায় করতে পারবে না। একই সঙ্গে দূরত্ব অনুযায়ী ট্রাফিক অঞ্চলভেদে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে ভাড়া।

    এসব নিয়ম রেখে ২১ মার্চ ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল (নিয়ন্ত্রণ) প্রবিধান’-এর গেজেট জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটিও এমন প্রবিধান করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।

    প্রবিধান অনুযায়ী, অঞ্চলভেদে রিকশাচালকদের পোশাকের রং ভিন্ন হবে। অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশাচালকের কাছ থেকে মালিক দৈনিক সর্বোচ্চ কত টাকা ভাড়া (জমা) আদায় করতে পারবেন, তা করপোরেশন নির্ধারণ করে দিতে পারবে। কোনো রিকশায় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বেশি বহন করা যাবে না।

    এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা বা নির্ধারিত জোনে নির্দিষ্ট দূরত্বে যেতে অস্বীকৃতি জানালে রিকশাচালককে জরিমানা করা যাবে। রিকশাচালকের বয়স ১৮ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হতে পারবে না।

    এতে আরও বলা হয়েছে, রিকশার ভেতরে বা বাইরে কোনো রকম বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বা অশ্লীল ছবি/চিত্র সাঁটানো যাবে না।

    প্রবিধান অনুযায়ী, অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নিবন্ধন-লাইসেন্স বাতিল ও রিকশা জব্দ করতে পারবে সিটি করপোরেশন।

    এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, রিকশা বা অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে তেমন কোনো বিধিবিধান ছিল না। প্রবিধানটি করা খুব দরকার ছিল, সেটি হয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রবিধানের গেজেটও করেছি। আমরা এখন এটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের দিকে যাবো। প্রবিধানের আলোকে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আমরা কিছু রিকশার লাইসেন্সও দেওয়া শুরু করছি।

    তিনি বলেন, এই প্রবিধানের আওতায় অযান্ত্রিক যানবাহনকে আমরা একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসবো। রিকশাচালকেরও লাইসেন্স লাগবে। আরও কিছু নতুন বিষয় এসেছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।

    প্রবিধান অনুযায়ী, করপোরেশনের অঞ্চল বা ওয়ার্ডভিত্তিক ‘অযান্ত্রিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক কমিটি’ দায়িত্ব পালন করবে। কমিটির আহ্বায়ক হবেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা/মেয়রের মনোনীত কর্মকর্তা/ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সাত সদস্যের এই কমিটিতে শ্রমিক, রিকশা মালিক ও চালক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

    এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদ আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে আমরাও একটি প্রবিধান করছি। একটি খসড়া করা হয়েছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

    jagonews24

    তিনি আরও বলেন, আমাদের অংশে রাস্তাঘাট সরু। প্রচুর ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। উত্তরে রাস্তাঘাট বেশি প্রশস্ত। তাই আমাদের প্রবিধানটি উত্তরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হবে।

    রিকশাচালকের লাইসেন্স ও যোগ্যতা
    সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন চালাতে চাইলে তাকে অবশ্যই লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স প্রথমত এক বছরের জন্য ইস্যু করা হবে এবং মেয়াদ শেষে নির্ধারিত ফি দিয়ে তা নবায়ন করতে হবে।

    ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালক দিয়ে অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশা চালাতে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো মালিক ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা চালক দিয়ে রিকশা চালান তবে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে চালককে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হবে করপোরেশনের দেওয়া রিকশার নম্বরটি। একবার জব্দ করা হলে রিকশার লাইসেন্স নম্বরটিও বাতিল হয়ে যাবে বলে প্রবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে না দেওয়া হলেও অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশাচালকের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিবন্ধকের কাছে কয়েকটি বিষয়ে উপযুক্ত বিবেচিত হতে হবে।

    চালক শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত বলে সিটি করপোরেশনের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সনদ বা প্রত্যয়ন লাগবে। আবেদনকারীকে সিটি করপোরেশন ও এর আশপাশের প্রধান প্রধান সড়ক, স্থাপনা, অফিস আদালত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ইত্যাদির বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। আবেদনকারীকে সড়কপথে চলাচল করার সময় যেসব নিয়ম-কানুন, ট্রাফিক সংকেত অন্য চালকরা মেনে চলেন- তা জানতে ও বুঝতে হবে।

    রিকশাচালকের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম এবং ৫০ বছরের বেশি হতে পারবে না।

    রিকশাভাড়া নির্ধারণ

    সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অঞ্চলভিত্তিক ভাড়ার তালিকা নির্ধারিত থাকবে। এই প্রবিধান অনুযায়ী করপোরেশন প্রতিটি অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশার জন্য দূরত্ব অনুযায়ী একটি ভাড়ার তালিকা তৈরি করতে পারবে। মুদ্রিত ভাড়ার তালিকা জনবহুল এলাকায় দৃশ্যমান করে টাঙাতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে রিকশার মালিককে সংশ্লিষ্ট জোনের সব ভাড়ার তালিকাও সরবরাহ করতে হবে। জনগণের সুবিধার্থে কখনো চালককে লাইসেন্স দেখাতে বলা হলে লাইসেন্সের সঙ্গে ভাড়ার তালিকাটিও দেখাতে হবে।

    নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দাবি করা বা নির্ধারিত জোনে নির্দিষ্ট দূরত্বে যেতে অস্বীকৃতি জানালে রিকশাচালককে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে বলে প্রবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যেমন হবে রিকশা
    প্রবিধানে বলা হয়েছে, প্রতিটি অযান্ত্রিক যানবাহন তথা রিকশার গঠন ও আকৃতি সুন্দর, মজবুত এবং কমপক্ষে দুজন স্বাস্থ্যবান মানুষ বসার মতো উপযুক্ত হতে হবে। রিকশার চাকা হবে মজবুত রাবারের টায়ার বেষ্টিত, চলার সময় কোনো রকম বাজে শব্দ ও কম্পন হবে না এবং সঠিকভাবে উপযুক্ত প্লাসবোর্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকবে।

    স্প্রিং ও এক্সেলগুলো ধাতব বস্তু দিয়ে গঠিত হবে, যা শক্তিশালী, সঠিকভাবে গঠিত এবং মরিচা থেকে মুক্ত হবে। রিকশার হুড এবং কুশনের কাভার সুন্দর শক্ত কাপড় বা করপোরেশন অনুমোদিত ক্যানভাস বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে নির্মিত হবে, যা দেখতে সুন্দর হবে এবং পানি চুঁইয়ে পড়বে না। ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী রিকশা আলাদা রঙের হুড ও কুশনে আবৃত হতে হবে।

    ভাঙাচোরা বা খুঁতযুক্ত কিংবা ত্রুটিপূর্ণ কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশাকে রাস্তায় চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

    প্রতিটি অযান্ত্রিক যানবাহনের হেডলাইট থাকতে হবে এবং পেছনের বাতি উজ্জ্বল হতে হবে। পেছনের প্রতিটি বাতিতে লালগ্লাস এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে পেছনে কোনো গাড়ির পাঁচ মিটারের মধ্যে থেকে তা দৃশ্যমান হয়।

    গরু বা ঘোড়া দিয়ে চালিত যানবাহন হলে টানা প্রাণী, গরু কিংবা ঘোড়া যাতে কোনো ধরনের সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত না থাকে, স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত হয় এবং দেখতেও যাতে সুন্দর হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিবন্ধকের মতামত অনুযায়ী ওই প্রাণীদের জন্য ব্যবহার্য দড়ি বা চেনগুলো চামড়া দিয়ে বা ভালো কোনো আবরণে যাতে প্রাণীর জন্য আরামদায়কভাবে মোড়ানো থাকে, সে ব্যবস্থা মালিককে করতে হবে।

    উপরের শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে অযান্ত্রিক যানবাহন/রিকশা/ভ্যানগাড়ি বা ঘোড়া/গরুর গাড়ির মালিককে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ওই অযান্ত্রিক যানবাহনের নিবন্ধন বাতিল করা যাবে।

    অযান্ত্রিক যান-রিকশা চলাচলের নিয়ম
    নির্ধারিত এলাকা/অঞ্চল/জোন ছাড়া কোনো এলাকায় কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন/রিকশা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে দুই লেন, চার লেন বা ছয় লেনের সড়কে অযান্ত্রিক যানবাহন/রিকশা চলাচল কিংবা ক্রসিং কিংবা পার্কিং কিংবা সাময়িক অবস্থান করতে পারবে না।

    নির্ধারিত অঞ্চল ও জোন অনুযায়ী অযান্ত্রিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের রং এবং চালকের পোশাকের রং ভিন্ন ভিন্ন হবে এবং করপোরেশন তা নির্ধারণ করবে। অযান্ত্রিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের রং ও চালকের পোশাকের রং ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হবে।

    অযান্ত্রিক যানবাহনের পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করে করপোরেশন সময়ে সময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশা পার্কিং আইনত দণ্ডনীয় হবে।

    প্রত্যেক রিকশাচালক বাহুতে বা কব্জিতে একটি ব্যাজ ধারণ করবেন, যা সিটি করপোরেশন লাইসেন্সের সঙ্গে সরবরাহ করবে। এজন্য করপোরেশন যুক্তিসঙ্গত ফি নিতে পারবে।

    রিকশার নিবন্ধন
    যেসব অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশা সিটি করপোরেশন সীমানার মধ্যে চলাচল করবে, এর প্রতিটিকেই নিবন্ধকের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নিবন্ধন প্রতি দুই বছর পর পর নবায়ন করতে হবে।

    প্রতিটি অযান্ত্রিক যানবাহনের প্রকার অনুযায়ী লাইসেন্স ভিন্ন প্রকৃতির ও ফর্মের হবে। লাইসেন্সে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি ও বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ থাকবে।

    নির্ধারণ করে দেওয়া হবে মালিকের জমা
    প্রবিধানে অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশার মালিকের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশাচালকের কাছ থেকে মালিক দৈনিক সর্বোচ্চ কত টাকা ভাড়া আদায় করতে পারবেন তা করপোরেশন নির্ধারিত করে দিতে পারবে। নির্ধারিত দৈনিক ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া কোনো মালিক আদায় করতে পারবেন না।

    করপোরেশন রিকশার দৈনিক ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও যদি কোনো মালিক নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করেন তবে মালিককে শাস্তি দেওয়া যাবে। করপোরেশন ওই মালিকের রিকশার লাইসেন্সও বাতিল করতে পারবে।

    jagonews24

    বিজ্ঞাপন বা অশ্লীল ছবি সাঁটানো যাবে না রিকশায়
    নিবন্ধকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো রিকশা কিংবা ভ্যানে ছাপানো লিখিত বা অন্য কোনো উপায়ে ভেতরে বা বাইরে কোনো রকম বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন কিংবা অশ্লীল ছবি/চিত্রমালা ইত্যাদি সাঁটানো কিংবা প্রদর্শন করা যাবে না বলে প্রবিধানে জানানো হয়েছে।

    রিকশাচালকদের জন্য প্রশিক্ষণ
    সিটি করপোরেশন চালকদের জন্য রিকশা চালানোর ও নিয়ম-কানুন শেখাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। এতে তারা সড়কপথে চলাচল করার সময় পালনীয় নিয়ম-কানুন, ট্রাফিক সংকেত, দূরত্ব অনুয়ায়ী নির্ধারিত ভাড়া বিষয়ে জানতে পারবেন। যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরপর দুবার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে চালকের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।

    বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি
    যদি কেউ এই প্রবিধান ভঙ্গ করে সিটি করপোরেশনের মধ্যে কিংবা নির্ধারিত জোনের বাইরে অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশা চালান তাহলে মালিককে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং চালককে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। একই সঙ্গে রিকশার লাইসেন্স ও চালকের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।

    কোনো রিকশাচালক একক বা দ্বৈত যাত্রীকে কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রিকশার যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া অন্য কোনো কারণে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। কোনো চালক কোনো ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে চালককে ৫শ টাকা জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।

    অযান্ত্রিক যানবাহন বা রিকশা কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কাজে ব্যবহার হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে এবং যানবাহন জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

    কোনো রিকশায় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বেশি বহন বা রিকশার আয়তনের চেয়ে বড় বা বেশি ওজনের বস্তু বা দ্রব্যাদি বহন করা যাবে না।

    পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান ছাড়া রিকশা পার্কিং করা যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া পার্কিং করা হলে রিকশার মালিক বা চালককে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।

    করপোরেশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা জরিমানা আরোপ করতে পারবেন বলেও প্রবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বাম জোটের অর্ধদিবস হরতাল শুরু

    বাম জোটের অর্ধদিবস হরতাল শুরু

    নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতাল শুরু হয়েছে।

    সোমবার (২৮ মার্চ) ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এ হরতাল চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত ১১ মার্চ সকালে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

    এতে জানানো হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি প্রতিবাদে আগামী ২৮ মার্চ সারাদেশে অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি পালন করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

    বাম জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতালে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি ও প্রগতিশীল ছাত্র জোট। হরতালের সমর্থনে কর্মসূচিও ঘোষণা করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

    কর্মসূচিগুলো হলোঃ
    ২১ মার্চ দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ে, ২২ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২৪ মার্চ বেলা ১১টায় বুয়েটের পলাশীতে হরতালের সমর্থনে প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগ করবেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগে মশাল মিছিল করবে তারা।

  • সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ দেওয়ায় জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা

    সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ দেওয়ায় জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা

    সরকারে থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘দেশের জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেই আমাদের এই সৌভাগ্য হয়েছে।’

    রবিবার (২৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির যৌথ সভায় তিনি একথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার যে সুযোগটা পেয়েছি। এর আগে আমরা ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীও উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এজন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা ভোট দিয়ে নির্বাচন করে সেবার করার সুযোগ আমাকে দিয়েছে বলেই আজকে আমাদের এই সৌভাগ্য হয়েছে।

    সরকার প্রধান বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশে আবার চেতনা ফিরিয়ে আনবো। স্বাধীনতার আদর্শে দেশকে গড়ে তুলবো। ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসাবে।

    তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা ২০২১ সালেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজকে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি। সব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। সেদিন খুব বেশি দেরি না, যেদিন দেশের একটি মানুষও ঠিকানাবিহীন, ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। অত্যন্ত তাদের বেঁচে থাকার একটু সুযোগ আমরা করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।

  • ইতিহাস জানলে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে

    ইতিহাস জানলে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    রোববার (২৭ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কার্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’ উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস জানার মধ্য দিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভেতর একটা চেতনা জাগ্রত হবে, দেশপ্রেমে তারা উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানুষের কল্যাণে তারা আরও কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবে। ’

    ‘নতুন প্রজন্মের এই মানসিকতা যত বেশি ফিরে আসবে, তত আমার দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিকভাবে এগিয়ে যাবে। ’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতাটা বজায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেননা ২১ বছর (৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৯৬ সাল)  আমাদের বিজয়গাঁথা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের অনেকে সে ইতিহাস জানতেই পারেনি। আজকে তা আবার ফিরে এসেছে। ’

    একটানা আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার সুফলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সমগ্র বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখে। ’

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘’৭৫ এর পর ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল, জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সামান্য কয়েকটা বাছা বাছা গান বাজানো হতো, যে গানগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল, সেগুলো নিষিদ্ধ ছিল। কোথাও এতটুকু জায়গায়ও যদি বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি থাকতো… সেটাকে ঢেকে রাখা হতো। ’

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস বলতে গেলে সব জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ছবি চলে আসে। সেগুলো সবসময়… যেন দেখা না যায়, মানুষ যেন জানতে না পারে—একটা বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি করার চেষ্টা এবং মূল ইতিহাসটাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। …যারা সত্যকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, মুছে ফেলা যায় না—আজকে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। ’

    বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর বিদেশে রিফিউজি হিসেবে থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রবাসে ছিলাম, রিফিউজি হিসেবে। নিজের নাম-পরিচয় দিতে পারিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এই শোক, কষ্ট, ব্যথা সহ্য করা খুবই কঠিন। তারপরেও আমাদের জীবনের একটা প্রতিজ্ঞা ছিল জীবনে একদিন না একদিন সময় আসবে। কারণ এত আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। ’

    এত রক্তপাত, এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যেন বৃথা না যায় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এসএসএফ কার্যালয়ে স্থাপিত মুজিব কর্নার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে কর্নারটা করা হয়েছে, সেখানে ইতিহাসের অনেক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কাজেই যারা দায়িত্ব পালন করতে আসবেন, তারা একদিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন আর বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলার প্রেরণা পাবেন। ’

    দেশি ও বিদেশি ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ সদস্যদের পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান। এসএসএফ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবীর আহাম্মদ।

  • বাঙালির অধিকার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কখনো আপস করেননি

    বাঙালির অধিকার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কখনো আপস করেননি

    স্বাধীনতা একটি কঠিন পথ বেয়ে এসেছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, অনেক আত্মত্যাগ, প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। আর তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন কারাভ্যন্তরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। কিন্তু বাঙালি জাতির অধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কখনো আপস করেননি।

    শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে “গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রী” শিরোনামে জাতীয় গণহত্যা দিবস-২০২২ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এ মাসেই জন্ম হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ মহান নেতাই নেতৃত্ব দিয়েছেন ২৪ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে।

    ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এ মাসেই জন্ম হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ মহান নেতাই নেতৃত্ব দিয়েছেন ২৪ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে।

    স্পিকার বলেন, আজকের প্রজন্ম অর্থাৎ ১৯৭১ সালের পরে যাদের জন্ম তাদের গণহত্যার ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোথায় কোথায় সেই রাতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল এবং পাক সেনাবাহিনী যে আক্রমণটা চালিয়েছিল তা যে সুদূর পরিকল্পিত ছিল এগুলো জানা দরকার। কীভাবে তারা অগ্রসর হয়েছে- ফার্মগেট থেকে শুরু করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ হলের দিকে তার ইতিহাস জানতে হবে। প্রতিটি জায়গায় একটার পর একটা হত্যাযজ্ঞের ছক সাজানো ছিল পাক হানদারদের। প্রতিটি জায়গায় আক্রমণ করে এগিয়ে গেছে তারা। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত একটি জাতির ওপরে এ ধরনের আক্রমণ অবশ্যই গণহত্যা। এ ব্যাপারে কোনোমতেই দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই।

    তিনি আরও বলেন, সেই গণহত্যায় জীবন দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, জীবন দিয়েছেন নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ। আমরা বলি ৩০ লাখ মহান শহীদ ও ২ লাখ মো-বোনেরা তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা কিন্তু তার চেয়েও বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন যা আজও অজানা রয়ে গেছে। হয়তো তাদের নাম আমরা এখনো জানতে পারেনি। ইতিহাসের অতল গহ্বরে তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণেই আজকের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরাই আজকের আলোচনায় সেই সময়ের বর্ণনা করেছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৫ মার্চ ফার্মগেইটে প্রতিরোধের ব্যারিকেডের নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    ২৫ মার্চ কালরাত্রি স্মরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। ২৫ মার্চ হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী এবং দীপ্ত টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়াদ চৌধুরী ও রাজারবাগ প্রতিরোধযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী কতৃক সারাদেশে গণহত্যা এবং রাজারবাগ পিলখানায় প্রতিরোধসহ ফার্মগেটের প্রথম প্রতিরোধের স্মৃতিচারণ করেন।

    বক্তারা বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙ্গালিদের ওপর বর্বর অপারেশন চালানোর নির্দেশ দেন। অপারেশন সার্চ লাইট নামক ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম সদর দপ্তরটি গঠিত হয়। এখানে ৫৭তম ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার আরবাপকে শুধু ঢাকা নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং মেজর জেনারেল খাদিম রাজাকে প্রদেশের অবশিষ্টাংশ দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপারেশনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। বাঙালি মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা এবং রাজনৈতিক কর্মীরা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি সৈন্যদের অভিযান ঠেকাতে রাস্তায় প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করা হয়।

    ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা মেশিনগান জিপ ও ট্রাকে করে ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে। তাদের প্রথম সাঁজোয়া বহরটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এক কিলোমিটারের মধ্যে ফার্মগেট এলাকায় ব্যারিকেডের মুখে পড়ে।

    বক্তরা বলেন, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান কামালের (বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নেতৃত্বে ছাত্র-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ নেতারা এ ব্যারিকেড তৈরি করেন। রাস্তাযর সব পাশেই ফেলে রাখা হয়েছিল বিশালাকৃতির গাছ। অকেজো পুরনো গাড়ি, অচল রোড রোলার ও ব্যারিকেডের কাজে ব্যবহার করা হয়। কয়েকশ লোক প্রায় ১৫ মিনিট ধরে অলিগলি থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। তবে সেনাদের গুলি দ্রুত তাদের নিস্তব্ধ করে দেয়। সেনাবহর শহরময় ছড়িয়ে শুরু করে গণহত্যা।

    অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চ কালরাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব‍্যারিকেডের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় ও “ব‍্যারিকেড ৭১” নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে একটি মোমবাতি মিছিল কেআইবি থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেটে অবস্থিত প্রথম ব‍্যারিকেডস্থলে গিয়ে শেষ হয়।

  • অপারেশন সার্চ লাইট’র নামে চালানো হয় বাঙালি নিধনযজ্ঞ

    অপারেশন সার্চ লাইট’র নামে চালানো হয় বাঙালি নিধনযজ্ঞ

    একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেছেন, আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, দেশে উন্নয়নের যে গতিধারা সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

    শনিবার (২৬ মার্চ) ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

    একইসঙ্গে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সব বাংলাদেশিকে ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

    স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে ৫১ বছরে পদার্পণ করল বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশে এবং প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশি নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাকে, যাদের সুযোগ্য দিক নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের আত্মত্যাগের ঋণ কখনো শোধ হবে না উল্লেখ করে তিনি সম্মান জানান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। কৃতজ্ঞতা জানান সব বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন, সংস্থা, ব্যক্তি এবং বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বোতভাবে সহায়তা করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হলেও ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব এই ভূখণ্ডে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দিনে দিনে পাকিস্তানিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যমূলক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। শেখ মুজিব যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালিদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে অটল থেকেছিলেন। তার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ, যে সংগঠন দু’টির সৃষ্টি থেকে শুরু করে তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ’৬২-এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে এ সংগঠন দুটির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গণরোষের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।

    তিনি বলেন, শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর, বঙ্গবন্ধু। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেছিলেন, আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় এদেশটির নাম হবে পূর্ব-পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু, পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে। শেখ মুজিব অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন। ২৩ মার্চ সারাদেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে শুরু করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বাঙালির জননেতাকে পাকিস্তানের মিয়াওয়ালী কারাগারে বন্দি করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। জাতির পিতার ডাকে বাংলার মুক্তিপাগল জনতা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং একজন প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার প্রাণপ্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করেন, অবকাঠামো পুনস্থাপন ও উন্নয়ন করেন এবং উৎপাদন খাত ও অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। স্বাধীনতা অর্জনের নয় মাসের মধ্যেই একটি সংবিধান উপহার দেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন। তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি এবং ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ’৭১-এর পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাতে থাকে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শাহাদতবরণ করেন। খুনি মোস্তাক-জিয়া ও তাদের উত্তরসূরিরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করে। বিএনপি ২৫ মার্চে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলব, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির পিতার খুনিদের মহান সংসদে বসিয়ে এবং তাদের গাড়িতে

    স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়ে বাঙালি জাতির গর্বিত ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে।

    দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের জীবনমান পরিবর্তনের মিশনে নেমে পড়ি। দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত করি। আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তুহারা মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করি। মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করি। ১৯৯৬ সালেই ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করি এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী চাকমা উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করি। ব্যক্তি মালিকানায় টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর অনুমোদন দেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে আমরা জাতির পিতা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি। ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে সমাজ ও জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকাল ছিল সকল পশ্চাৎপদতা, অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে অন্ধকার থেকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে অভিযাত্রা।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবকটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে সরকার পরিচালনা করছে। এরইমধ্যেই আমরা রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে এসেছি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছি।

    তিনি বলেন, অতি শিগগির আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করব। তাছাড়া, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রজেক্টের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। করোনা মহামারি মোকাবিলায় মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছি, অর্থনীতিকে সচল রাখতে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি।

    তিনি বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা দিয়েছি। মহামারি পরিস্থিতিতেও আমরা ৬.৯৪ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। শুধুমাত্র মুজিববর্ষেই আমরা ১,১৭,৩২৯ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনকে সেমিপাকা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি আরও ৫৪,৫৫১টি বাড়ি হস্তান্তরের জন্য নির্মাণাধীন। আমাদের মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২,৫৯১ মার্কিন ডলার। আমরা ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, রূপকল্প ২০৪১ প্রণয়ন করেছি এবং সে অনুযায়ী ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন করছি।

    জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে পাকিস্তনি শাসকদের দায়ের করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দলিল-এর ৪ খণ্ড, তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট (১৯৪৮-১৯৭১)-এর ১৪ খণ্ডের মধ্যে ১১ খণ্ডসহ তার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’ প্রকাশ করেছি। আমার বিশ্বাস এ বইগুলো পড়লে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাসে জাতির পিতার দৃপ্ত পদচারণা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানলাভ করতে পারবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, ২০২০-২১ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যুগপৎভাবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করেছি।

    স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এ মাহেন্দ্রক্ষণে সব বাংলাদেশিকে ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

  • স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

    স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

    স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

    শনিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

    দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    আবদুল হামিদ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সমর্থক, বিদেশি বন্ধু এবং সর্বস্তরের জনগণকে, যারা অধিকার আদায় ও মুক্তিসংগ্রামে বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।

    বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার (বঙ্গবন্ধুর) সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার কমছে। এক দশকে মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিনগুণ।

    তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যা গোটা বিশ্বে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের ধারণার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে নিমার্ণাধীন পদ্মাসেতু এবছরই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। মেট্রোরেল, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজও নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ এরইমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, টেকসই উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাল্লাহ।

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার (কভিড-১৯) গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে সরকার করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে নানামুখী আর্থসামাজিক ও বিনিয়োগধর্মী প্রকল্প, কর্মসূচি এবং কার্যক্রম গ্রহণের ফলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এসময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সকলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের পাশাপাশি সকলকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’- বঙ্গবন্ধুর এ আদর্শ অনুসরণে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আমাদের অর্জন প্রশংসনীয়।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ও নির্যাতিত লাখ-লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধাসহ উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন,বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী।

    রাষ্ট্রপতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মিয়ানমারসহ জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

    গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার (বঙ্গবন্ধুর) নীতি-আদর্শকে মুছে ফেলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাঙালি বীরের জাতি। কোনো কিছুই বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বরং বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর মধ্যদিয়ে হয়ে উঠেছেন মহামৃত্যুঞ্জয়ী। মৃত্যু তাকে নিঃশেষ করেনি বরং বাঙালির চিত্তাকাশে আরও উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত করেছে। তাই, নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বোঝাতে হবে, আজ তারা যে পথটি দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা তৈরি করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভবিষ্যতেও তার দেখানো পথই হবে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত হোক, মহান স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমার প্রত্যাশা।