Category: জাতীয়

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকবে কড়া নিরাপত্তা

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকবে কড়া নিরাপত্তা

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সভাশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও প্রশ্নফাঁস রোধে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এর সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সচিব বলেন, প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তারা নানা বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। পুরোনো প্রার্থী পেলে তাকে তখনই ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে। কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম করলে বা করার চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

    এদিকে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত করা সম্ভব না হওয়ায় সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা তিন ধাপে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২২ এপ্রিল, দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী ৩ জুন।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ২২টি জেলার মধ্যে ১৪টির সব উপজেলা এবং ৮টি জেলার কয়েকটি উপজেলা মিলে মোট ৫০৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    তিন ধাপে দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিকের এ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২০ মে আয়োজন করা হবে। এ ধাপে কতটি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ২৭ মে নির্ধারণ করা হলেও সেদিন বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থাকায় তা পরিবর্তন করে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ধাপের লিখিত পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রার্থীদের অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে মোবাইল ফোনে এসএমএস দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীর নিজ নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।

    ডিপিই থেকে জানা গেছে, প্রথম ধাপে আগামী ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, গাজীপুর, নরসসিংদী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট জেলার সব উপজেলার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    একইদিন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ, কাজীপুর, যশোর জেলার ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদি, টাঙ্গাইল জেলার সদর, ভূয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ি, ঘাটাইল, গোপালপুর, কুমিল্লা জেলার বরুয়া, ব্রাক্ষণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি এবং নোয়াখালী জেলার কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমড়ি, সুবর্ণচর উপজেলার প্রার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে শঙ্কার কিছু নেই। সব সূচকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘অফশোর ট্যাক্স অ্যামনেস্টি’ ও ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ বিভাগ উপস্থাপন করে এই প্রেজেন্টেশন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ অর্থ সচিব, ইআরডি সচিব এবং ব্যাংকিং সচিবসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে শ্রীলঙ্কার চলমান সংকটের কারণ ও এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখা হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক। প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে বলে মত প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।

    তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায়, দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে একটি সমন্বিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    সভায় উপস্থিত বক্তারা জানান, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখনো ঝুঁকি সীমার অনেক নিচে।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন।

  • ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

    ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

    করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ মে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

    দেশে করোনাভাইরাস মহামারির ব্যাপক সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত দুই বছর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এর পরিবর্তে দুই বছর ধরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    তবে এ বছর দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকাংশেই শিথিল হওয়ায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারবেন মুসল্লিরা। এরইমধ্যে ঈদগাহ মাঠ ঘিরে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

  • সারের সংকট নেই, মজুতও আগের চেয়ে বেশি: কৃষিমন্ত্রী

    সারের সংকট নেই, মজুতও আগের চেয়ে বেশি: কৃষিমন্ত্রী

    এ মুহূর্তে দেশে সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মজুতও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আছে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সারবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী এ কথা জানান। কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন উপস্থিত ছিলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনা করেছি সার নিয়ে। আমাদের এ মুহূর্তে সারের কোনো সংকট নেই। আমাদের প্রতি বছর ২৬ লাখ টন ইউরিয়া সার প্রয়োজন। টিএসপি সাড়ে ৭ লাখ টন, ডিএপি সাড়ে ১৬ লাখ টন, এমওপি সাড়ে ৭ লাখ টন লাগে। আজ পর্যন্ত আমাদের মজুদে কোনো সমস্যা হয়নি। এ পর্যন্ত টিএসপি, এমওপি ও ডিএপির মজুত আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আছে। ইউরিয়া যেটুকু প্রয়োজন সেটাই আছে।

    তিনি বলেন, সামনে কি হবে সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। গত বছর (২০২১ সালে) আমাদের যেটুকু চাহিদা ছিল সেটুকুই নির্ধারণ করেছি।

    আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছরই অর্থবছরের শেষে আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য কি পরিমাণ সার প্রয়োজন সেটি নির্ধারণ করি। এ বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এমন নীতি বা কৌশল নেবো, যাতে করে কৃষি উৎপাদন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। সার নিয়ে আমাদের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সার না পেয়ে ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। তারা কোনো সাহায্য চায়নি, তারা শুধু ন্যায্য মূল্যে সার চেয়েছিলেন, এজন্য তাদের রক্ত দিতে হয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থনীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে একটি হলো কৃষি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষির গুরুত্ব আগেও ছিল আগামীতেও থাকবে। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের জীবিকা কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এজন্য সারের বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখি। প্রধানমন্ত্রী সেই নির্দেশ দিয়েছেন, সার ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়। সার নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’

    আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, কৃষির উৎপাদন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না হই।

    সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী ও কমিটির সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলাইকৃষ্ণ হাজরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    চলতি বছরের মতো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা আগামী বছরের এপ্রিল মাসে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুনে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের এ দুই পাবলিক পরীক্ষা সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও সময়ে আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালে এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এসব পরীক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন করে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে তারা সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে সপ্তাহে ৬ দিন করে অংশগ্রহণের সুযােগ পাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এসব পরীক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলে ১৬২ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযােগ পাবে। (স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের ৩১৬ কর্মদিবস ক্লাস করার কথা)।

    দীপু মনি বলেন, তারা ২০২০ সালের ৮ম শ্রেণির ফাইনাল ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। নবম শ্রেণিতেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। পুরো সময়টা তারা টেলিভিশনের ক্লাসে এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে, অ্যাসাইনমেন্ট করেছে। এসব ক্লাস এবং অ্যাসাইনমেন্টগুলো ২০২২ সালের জন্য পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১৫০ কর্মদিবসের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এই শিক্ষার্থীরা গত ৮ মাস ক্লাস করার সযোগ পায়নি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হলে তারা মোট ২০০ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে (স্বাভাবিক অবস্থায় ৩৩০ দিন ক্লাস নেওয়া হয়)।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ সমস্ত দিক বিবেচনায় ২০২৩ সালের এসএসসি/দাখিল ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

    তবে এসএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ও এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ বছরের উভয় পরীক্ষায় সব বিষয়ের পূর্ণ নম্বরে এবং পূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ছিদ্দীকুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন) অধ্যাপক মশিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    এদিকে আগামী ১৯ জুন ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান এবং ২২ আগস্ট এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।

    গত ১ মার্চ বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সই করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) তপন কুমার সরকার।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশনধারী এসএসসি শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে পরীক্ষার ফরম পূরণ করবে। প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৯ মে থেকে।

    অপরদিকে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণের সম্ভাব্য তারিখ ৮ জুন। এদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৪ জুলাই থেকে।

  • জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট এবং ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা বিএনপি-জামায়াত শাসনের বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    তিনি বলেন, জনগণের টাকা লুটপাট, অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ এবং ইশতেহারে দেওয়া অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত সরকারের বৈশিষ্ট্য। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ১০০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাস্তবতার মুখ দেখেছে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার ৫ বছর, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছু ছিল হাওয়া ভবনের দখলে’ শিরোনামের একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সব নির্মাণ প্রকল্প যেমন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, সরকারি ভবনের সব কাজ থেকেছে অসম্পূর্ণ। কাজের নামে হয়েছে হরিলুট আর ভাগাভাগি।

    পোস্টের সমর্থনে একটি ভিডিও যোগ করে তিনি বলেন, এই ভিডিওটির মাধ্যমে আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে হাওয়া ভবন কীভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব সরকারি প্রকল্প বিতরণ করতো। কীভাবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক হয়েছিল। কথাগুলো শুনবেন সাধারণ মানুষের মুখেই, যারা ওই সময় বিএনপি জামায়াতের এই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের ভুক্তভোগী ছিলেন।

    ২০০১-২০০৬ মেয়াদকে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার পাঁচ বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই সময়ের কিছু গুরুতর সমস্যার কথা বলেন। যার মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অত্যধিক মূল্য, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টের শেষে লিখেন, আমাদের ফেসবুক পেজে, আমি পর্যায়ক্রমে, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন সম্পর্কে তথ্য এবং পরিসংখ্যান জানাবো। অনুগ্রহ করে আমাদের পেজে আপনার চোখ রাখুন। মন্তব্য বক্সে আপনার মতামত শেয়ার করতে মিস করবেন না।

  • ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন

    হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

    তিনি বলেন, বিশ্বমানের এ বিমানবন্দর নির্মাণকাজ প্রত্যাশিত লক্ষ্যের চেয়ে এক দশমিক ৯ শতাংশ এগিয়ে আছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর নাগাদ এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কুর্মিটোলায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    মাহবুব আলী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ শেষ হলে যাত্রী সেবায় অবকাঠামোগত যে সীমাবদ্ধতা আছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

    তৃতীয় টার্মিনালের কাজের সঙ্গে টার্মিনাল প্রবেশের টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কাজগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজটি কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে। তখন এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে টার্মিনালকে যুক্ত করা হবে। টানেল আশকোনা হজ ক্যাম্প পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কাজ হবে।

    এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা দেখবো। যেটা সামঞ্জস্য ব্যয়, সেটাই দেখা হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের গন্তব্যে উচ্চ দামের বিমান ভাড়া প্রসঙ্গে মাহবুব আলী বলেন, এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে বসে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। টিকিটের দাম আগামী এক মাসের মধ্যে কমে আসবে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হলে এই বিমানবন্দরে অনেক উড়োজাহাজ আসবে রানওয়েতে।

    এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) সুকেশ কুমার সরকার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

  • শিগগির চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন

    শিগগির চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন

    করোনার কারণে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালুর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে সোমবার (১১ এপ্রিল) এ সিদ্ধান্ত আসে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন এবং নিরাপত্তা বিভাগ ট্রেন চলাচলে সম্মতি দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রেলওয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জনসাধারণের জন্য ট্রেন চলাচল শুরুর আগে চিৎপুর, হরিদাশপুর সহ ট্রানজিট পয়েন্টগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের প্রয়োজন। যদিও এ রুটে ট্রেন চলাচলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে দাবি করে আসছেন দুই দেশের নাগরিকরা।

    ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, স্বাধীনতা দিবসে (২৬ মার্চ) দুই দেশের মধ্যে ফের ট্রেন চলাচল শুরুর প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। প্রস্তুতির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে এটা এখন এক সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা সম্ভব।

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা-কলকাতা রুটে এবং বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ ট্রেন দুটি বন্ধ করা হয়।

    গত বছরের ২৬ মার্চ আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের ট্রেন যোগাযোগ আবার চালু হলে এটিও চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) টোকিওতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাসার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

    এ বছর দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই শুভ বার্ষিকী অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    জাপানের নাম বাংলাদেশের জনগনের কাছে অতি প্রিয় এবং জাপান বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি (সুনীল অর্থনীতি), অটোমোবাইলস, আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালসে, প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির মতো উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের অপার সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাযাত্রার সঙ্গে জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আকৃষ্ট হবে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ব্লু ইকোনমি, আইসিটি এবং ফার্মাসিউটিক্যালসে খাতে আরও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রাখবে।

    এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিন প্রধানের জন্যে জাপানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব সহায়তার কারণেই বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে।

    এছাড়া দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করেন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ভাসানচরে স্বেচ্ছায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরসহ এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত প্রদেয় সহায়তার পাশাপাশি সমস্যা নিরসনে জাপানের অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জাপানের আরও সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

    জবাবে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াাশি ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

    এসময় ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া বা লিবিয়া যেখানেই যুদ্ধ হয় সেখানে জানমালের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।

    দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু এবং বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উপর এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন। তারা বৈশ্বিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশে আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপানের সহায়তা কামনা করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে ভবিষ্যৎ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন এবং একে অপরের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা বিবেচনা করতে সম্মত হন।

  • র‌্যাবের অভিযানে ৫৩ চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী আটক

    র‌্যাবের অভিযানে ৫৩ চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী আটক

    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকালে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।

    তিনি বলেন, গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত রাজধানীর রমনা, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ ও ওয়ারী এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। এছাড়া চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ ও চাঁদা উত্তোলনের রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।