Category: জাতীয়

  • ডিসি, এডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি শিক্ষার্থীদের

    ডিসি, এডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি শিক্ষার্থীদের

    রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের সময় পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিসি, ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি হারুন-অর-রশিদ ও নিউমার্কেট থানার ওসি স.ম. কাইয়ুমকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) রাতে ঢাকা কলেজের শহীদ আ. ন. ম. নজিব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন কথা বলেন, ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজয় বালা ও মাসুম বিল্লাহ।

    এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

    ১. এই ন্যক্কারজনক হামলার উস্কানিদাতা, ইন্ধনদাতা ও হামলাকারীদের তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

    ২. আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সব দায়ভার নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।

    ৩. হকারদের হামলায় নিহত পথচারী নাহিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    ৪. রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

    ৫. দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিসি, এডিসি ও নিউ মার্কেট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে ও পুলিশ প্রশাসনকে কলেজ প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    ৬. প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে সিসিটিভি স্থাপন করতে হবে।

    ৭. প্রতিটি মার্কেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আচরণ বিধি প্রণয়ন ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।

    ৮. ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ কার পার্কিং উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

    ৯. ক্রেতা হয়রানি, নারীদের যৌন হয়রানি বন্ধে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

    ১০. চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ও নিউ সুপার মার্কেটে ঢাকা কলেজের সম্পদ লিজ বাতিল করে ফিরিয়ে দিতে হবে।

    এছাড়াও এই হামলার প্রধান ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, ফরমান মোল্যা, জাহাঙ্গির হোসেন, আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপুসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবিও জানান তারা।

  • সরকার উৎখাতে ব্যস্তদের ‘কর্মসূচি’ তুলে ধরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকার উৎখাতে ব্যস্তদের ‘কর্মসূচি’ তুলে ধরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ যখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল, তখন আমাদের দেশের কিছু মানুষ বিদেশের কাছে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ব্যস্ত। সরকার উৎখাতে ব্যস্ত। খুব ভালো কথা। তারা তাদের কর্মসূচি দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরুক, তারা দেশের জন্য কী করতে চায়। আমরা তো আমাদের কর্মসূচি তুলে ধরেছি।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষ এই সরকারের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছে, তারা যে সরকার উৎখাত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কী? আমার একটা প্রশ্ন- আমাদের অপরাধটা কী?

    এসময় প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতে তার সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। পাঁচ বছর (২০২০-২৫) মেয়াদে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

    এই প্রকল্পের আওতায় ১২ ক্যাটাগরিতে ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, কৃষক বন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) ইত্যাদির মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। কৃষি সেবাকে সহজে পৌঁছে দিতে ‘কৃষি বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে। ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন, কৃষি কমিউনিটি রেডিও চালু, ই-কৃষি সেবায় ফসলের মাঠ থেকে ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেই সমস্যা চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান দেওয়া হচ্ছে।

    কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক সভাপতি এম এ জলিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ হাওলাদার, সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।

  • শক্তিশালী বিরোধীদল আবির্ভাবের ঘোষণায় বিএনপিকে কাদেরের হুঁশিয়ারি

    শক্তিশালী বিরোধীদল আবির্ভাবের ঘোষণায় বিএনপিকে কাদেরের হুঁশিয়ারি

    বিএনপি যদি আন্দোলনের নামে আবারও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিবের অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাবের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

    তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিগগিরই বিএনপিকে শক্তিশালী বিরোধী দল ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে তাদের শক্তিহীনতা দুর্বলতা অক্ষমতা ও দৈন্যতার নির্মম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কথার পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই সেটাই প্রতীয়মান হয় যে, বিএনপি আসলেই বর্তমানে শক্তিহীনতায় আছে।

    সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের শক্তিমত্তা প্রতিষ্ঠিত করার স্থান হলো জাতীয় সংসদ, এমন মনে করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিবৃতিতে বলেন, সেজন্য কোনো রাজনৈতিক দল শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা আবশ্যক।

  • আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না: সিইসি

    আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, একটা সুন্দর গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না।

    সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাওঁয়ে নির্বাচন ভবনে দেশের জ্যেষ্ঠ ইলেকট্রনিক্স সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এদিন বেলা ১১টায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহীসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়ে ইসির চতুর্থ ধাপের সংলাপ শুরু হয়।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংলাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে এ নিয়ে কয়েকটি মিটিং করেছি। যেহেতু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু ইভিএমের যে সুবিধাটা সেখানে পেশিশক্তির ব্যবহার হ্রাস করতে পারে, যেখানে সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স পূরণ করা যায় না। কাজেই ইভিএমের ভালো দিক আছে।

    হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা ইভিএম নিয়ে স্টাডি করছি, যেটা জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন। নির্বাচনে কেউ আসল, কী আসল না এটা আমাদের দায়িত্ব নয়। কেউ কেউ বলেছেন- দলগুলো যদি তাদের লোকবল দিয়েই ভারসাম্য করতে পারে, নির্বাচনে যদি দুপক্ষ থাকে, তবে দুপক্ষকে খেলতে হবে, তাহলে নির্বাচনটা ওইদিক থেকে সহজ হয়।

    স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের ভেতরে ক্যামেরা ও বাইরের মনিটরে দেখা যায়- এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমার সহকর্মীরাও বিশ্বাস করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিচরণ যদি থাকে, তারাও রিপোর্ট করতে পারবেন। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই সমস্ত বিষয়ের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। আমাদের সাধারণভাবে ওপেন হতে হবে। তথ্য দিতে হবে বলে মনে করি।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের সৎভাবে দায়িত্ব পালনের স্প্রীহা ও চেষ্টা আছে, থাকবে। ব্যাপক অনিয়মের তথ্য আমাদের কাছে আসলে সাহস নয়, আমাদের দায়িত্ব হয়ে যাবে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অনেক বিধান আমাদের অনুকূলে থাকলেও তা প্রয়োগের হার বাড়াতে হবে। নির্বাচনকে হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখতে যা যা করতে হয়, তা তা করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা। অনেক সময় কারচুপির হয়, সেটা রোধ করতে হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবো- যোগ করেন তিনি।

    সিইসি বলেন, কে নির্বাচনে অংশ নেবে, কে নেবে না সেটা ফোর্স (জোর) করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তবে দায়িত্ব থাকবে আহ্বান করা যে- আপনারা আসেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে অংশ না নিলে কিন্তু গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। গণতন্ত্র বিকশিত হয় কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমেই।

    আজকের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন- জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, একুশে টিভির হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী, বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক, মাইটিভির হেড অব নিউজ শেখ নাজমুল হক সৈকত, সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা দানিশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির চিফ নিউজ এডিটর আশিস সৈকত, মাছরাঙ্গা টিভির হেড অব নিউজ রেজোয়ানুল হক রাজা, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, দেশ টিভির চিফ নিউজ এডিটর বোরহানুল হক সম্রাট, নিউজ ২৪’র এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা, ডিবিসি নিউজের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউনের বার্তা প্রধান মাসুদ কামাল, গ্লোবাল টিভির এডিটর সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ, নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ এবং স্পাইস টিভির এডিটরিয়াল হেড তুষার আব্দুল্লাহ।

  • শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারের নজরদারি আছে

    শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারের নজরদারি আছে

    আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই শ্রমিকরা বোনাস ও চলতি মাসের অন্তত ১৫ দিনের বেতনসহ বাড়ি যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী।

    রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শ্রমিকদের ঈদের বেতন-বোনাস প্রাপ্তির বিষয়ে এ কথা জানান তিনি।

    সচিব বলেন, আমরা বলেছি যে চলতি মাসের অন্তত ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার জন্য। এটা সবাই কম্প্লায়েন্স করবে। আমাদের ইন্সপেক্টরসহ সব জায়গায় কড়া নজরদারি রেখেছি, এটা নিয়েই আমরা এখন ব্যস্ত। কিন্তু শ্রমিকরা অনেকেই পুরোটা চাচ্ছেন, এটা ঠিক নয়। কারণ আমরা তো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হবে।

    নির্দেশনার পরও বেতন ও বোনাস নিয়ে শ্রমিক-মালিক সমস্যা নজরে আসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এহছানে এলাহী বলেন, না এগুলো মিথ্যা কথা। দু-একটি কোম্পানি একটু সমস্যায় পড়ে। তারা একটু দেরি করে দেন। আমি তো নতুন এসেছি তবুও আমি খবর নিয়েছি। তারা (শ্রমিকরা) আরও দাবি দাওয়া করছে আলাদা বকেয়ার জন্য, সেগুলো তো অন্য জিনিস।

    এর আগে গত ১১ এপ্রিল এক সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, তৈরি পোশাকসহ সব খাতের শ্রমিকদের ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই বোনাস ও চলতি এপ্রিল মাসের অন্তত ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শ্রমিকরা যেন ঈদের ছুটিতে ভালোভাবে ঈদে যাতায়াত করতে পারেন

  • মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা

    মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা

    দুই বছর পর বাংলা বর্ষবরণে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ছাত্রকেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে থেকে বের হয় শোভাযাত্রাটি। ‘নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ প্রতিপাদ্যে বের হওয়া শোভাযাত্রার গন্তব্য ছিল ঢাবি ভিসির বাসভবন। ভিসির বাসভবনের সামনে স্মৃতি চিরন্তন ঘুরে শোভাযাত্রাটি আবার টিএসসিতে ফিরে যায়।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, মেট্রোরেলের কাজ চলায় শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় এবার শোভাযাত্রার গতিপথে পরিবর্তন আনা হয়।

    শোভাযাত্রা ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো শোভাযাত্রার চতুর্দিকে সোয়াট, ডিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও স্কাউট সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী চোখে পড়ে। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টিমও তৎপর ছিল।

    শোভাযাত্রার পুরো পথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পথে কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেননি। কারণ চতুর্দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মানবপ্রাচীর গঠন করা হয়। নিরাপত্তার জন্য রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় কেন্দ্রীয় রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়।

    শোভাযাত্রা বেরোনোর আগেই টিএসসি থেকে নীলক্ষেত যাওয়ার পথটি লোকারণ্য হয়ে পড়ে। যদিও সকাল থেকেই রং-বেরঙের মাছ, পাখি, ঘোড়া, টেঁপা পুতুল, ঢাকঢোল-বাঁশি নিয়ে চারুকলা অনুষদের সামনের সড়কে অপেক্ষায় ছিলেন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা।

    শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে খুন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার প্রত্যয়। অতীতের গ্লানি মুছে দিয়ে অনাগত সুদিনের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাড়না ছিল শোভাযাত্রার শিল্পকাঠামোয়।

    প্রতিবারের মতো মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রতিটি প্রবেশ মুখে ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। এছাড়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল পুলিশ, র্যাব, সোয়াতসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল।

    ঢাকঢোলের বাদ্যি আর তালে তালে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ছন্দোবদ্ধ নৃত্যে আনন্দ-উৎসবমুখর হয়ে ওঠে শোভাযাত্রা। বাংলাদেশে কাজ করেন এমন অনেক বিদেশি বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

    ঢাবি ভিসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, দুই বছর পর মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দুই বছর পর এবার পহেলা বৈশাখ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসে জায়গা পহেলা বৈশাখ। এটি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাণের একটা উৎসব।

    jagonews24

    তিনি বলেন, সব সম্প্রদায়ে মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে বলেই এই উৎসবটি অসম্প্রদায়িক মানবিক চেতনা জাগ্রত করে। ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সকলের। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রতি, মানবিক কল্যাণ সুদৃঢ় হোক সেটা প্রত্যাশা করি।

    ৮০ এর দশকে সামরিক শাসনের শেকল ভাঙার আহ্বানে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে চারুকলা থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে তা মঙ্গল শোভাযাত্রা নাম ধারণ করে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এই কর্মসূচি।

    মহামারি হানা দেওয়ার পর ২০২০ সালে বর্ষবরণের আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত, সে বছর মঙ্গল শোভাযাত্রাও হয়নি। ২০২১ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও তা ছিল প্রতীকী, সেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগও ছিল না।

  • আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির মহামিলনের দিন

    আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির মহামিলনের দিন

    যাত্রা শুরু হলো নতুন আরেকটি বাংলা বছরের। পঞ্জিকার পালাবদলে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে যা ছিল খাজনা উপলক্ষ, তা এখন উদ্যাপনের উৎসব।

    এ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে, উদ্যাপন করতে সমগ্র বাঙালি জাতি আজ এক কাতারে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসবের দিন এটি।বিশিষ্টজনদের মতে, আমাদের এখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই। অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে বিবেচনা করলে পহেলা বৈশাখ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতিগতভাবেও বৈশাখ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফসলি মাস, অন্যদিকে কালবৈশাখী। সব মিলিয়ে বৈশাখ উদ্দীপনামূলক এক মাস, যা আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

    আবহমানকাল বাংলার গ্রামীণ জনপদে উদ্যাপিত হওয়া নববর্ষের আয়োজন এখন ছুঁয়েছে নগর জীবনে এবং নতুন মাত্রায়। সর্বত্র উদযাপিত হচ্ছে বাংলার উৎসব, উচ্চারিত হচ্ছে বাঙালিয়ানার জয়গান। কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য। ‘

    প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখ শুধু আমাদের একার উৎসব নয়। গোটা অঞ্চলেই বৈশাখ উদ্যাপিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলেই প্রকৃতির বদল হয়। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলি, সেটার সঙ্গে প্রকৃতির সংলগ্নতা রয়েছে। এটাই আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান।

    বর্তমানে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে মুখ্য হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা প্রবর্তনের কৃতিত্ব প্রায় পুরোটুকুই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি শান্তিনিকেতনে প্রথম ঋতুভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলার প্রান্ত থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই চেষ্টা প্রতিরোধেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল বর্ষবরণের আয়োজন।

    এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম জানান, বৈশাখ প্রকৃতিতে সব রঙ নিয়ে আসে। বৈশাখ মানেই রঙের মেলা। যদিও এ সময় প্রকৃতি খুব কঠোর থাকে, যার মাধ্যমে বৈশাখ আমাদের মধ্যে সুদৃঢ় এক শক্তি তৈরি করে দেয়। বৈশাখে প্রকৃতির বৈপরীত্য থাকে। একটি কোমল, আরেকটি রূঢ় রূপ। এটা ঠিক বাঙালিদের চরিত্রের মতো। সব মিলিয়ে আমার কাছে বৈশাখ মানে আত্মআবিষ্কারের মাস। যেখানে আমাদের মেধা-মনীষার সৃজনশীল সব উপাদানই রয়েছে।

    গ্রামীণ জীবন থেকে শহুরে জীবনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের ব্যাপকতা লাভ করে ১৯৬৭ সালে রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এ পথচলা এত সহজ ছিল না। পাকিস্তান আমলে তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশেও আক্রমণের শিকার হয়েছে এ উৎসব। ২০০১ সালে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বোমায় রক্তাক্ত হয়েছে। রমনায় বোমা হামলা করেও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। পরের বছর থেকে বিপুল উৎসাহে মানুষ বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রাও।

    সেই বার্তা নিয়েই আজ দেশব্যাপী উদ্যাপিত হবে বাংলা নববর্ষ। কায়মনে বাঙালি প্রার্থনা করবে- ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…। ‘

  • রেলের রানিং স্টাফদের ধর্মঘট, সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

    রেলের রানিং স্টাফদের ধর্মঘট, সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

    বেতন-ভাতা (মাইলেজ) সংক্রান্ত দাবি মেনে না নেওয়ায় সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছেন ট্রেন চালকরা। বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে তারা সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

    রেলওয়ের রানিং স্টাফ (চালক-গার্ড) ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় চালকরা কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। ট্রেনের লোকো মাস্টার ও রানিং স্টাফ কর্মচারীরাও কর্ম বিরতিতে গেছেন।

    দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট ডাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমলাপুর রেলস্টেশনে আগত যাত্রীরা।

    জানা গেছে, রেলের চাকা সচল রাখতে একজন চালককে দিনে গড়ে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা ট্রেন চালাতে হয়। এজন্য তাদের বাড়তি মজুরি ও পেনশনে ৭৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়। বেতনের বাইরেও যত মাইল দায়িত্ব পালন করেন এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, তার জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা পেয়ে থাকেন তারা। এটা রেলে ‘মাইলেজ ভাতা’ হিসেবে পরিচিত।

    সম্প্রতি রেলের অতিরিক্ত এ সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ হন রেল চালকরা। এর আগে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার ঘোষণাও দেন। এ কারণে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

    রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্বক্ষণিক হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্রিটিশ আমল থেকে চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা চালক, গার্ড ও টিকিট চেকারদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সময়ে প্রতি ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালালে দেওয়া হয় মূল বেতনের একদিনের সমপরিমাণ টাকা। পেনশনের সঙ্গে দেওয়া হয় বাড়তি ৭৫ শতাংশ টাকা।

    এসব চালক ও গার্ডদের বেতন-ভাতা দেওয়া হতো রেলওয়ের স্বতন্ত্র কাঠামোয়। কিন্তু গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’র মাধ্যমে রেলের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের (রানিং স্টাফ) আগের সেই ‘মাইলেজ’ সুবিধা থাকছে না।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত জানার পর মাইলেজ সুবিধা চালুর দাবিতে নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা করেন চালক, গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিকিট চেকারেরা। তারা রেলমন্ত্রী, রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক সভাও করেন।

    jagonews24

    দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা/ছবি: সংগৃহীত

    গত ১০ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসমারিক কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিক হিসাবের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে কোনো ভাতা যোগ করে সুযোগ নেই বিধায় রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে ‘রানিং ভাতা’ পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবে নির্দেশক্রমে পুনরায় অর্থ বিভাগের অসম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।

    এমন ঘোষণার পর, ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন রেলের রানিং স্টাফরা। এর প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

  • নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ চলাচলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি মালিকদের

    নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ চলাচলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি মালিকদের

    সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন নৌপথে চলাচল করা ৭০টি লঞ্চের সময়সূচি স্থগিত করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। মানবিক বিবেচনায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বন্ধ হওয়া এই লঞ্চগুলোকে আবারও চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মালিকরা।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর পুরোনো পল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে সংস্থাটির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে ছোট ছোট লঞ্চ স্বল্প দূরত্বে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-মতলব, নারায়ণগঞ্জ-মাছুয়াখাল, নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ-ওয়াপদা-সুরেশ্বর ও নারায়ণগঞ্জ-রামচন্দ্রপুর নৌপথে চলাচল করে আসছিলো।

    ‘গত ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় কোস্টাল জাহাজ এমভি রুপসী-৯ এর ধাক্কায় এম এল আফসার উদ্দিন লঞ্চটি ডুবে যায়। এতে ১০ জন লোকের প্রাণহানি ঘটে। এই রুটে এ পর্যন্ত যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার সবকটিই কোনো না কোনো কার্গো জাহাজের ধাক্কায় হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই রুটগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।‘

    লঞ্চ দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক আইনের তোয়াক্কা না করে ২১ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে ৭০টি লঞ্চের সময়সূচি স্থগিত করেন। এতে ৭০টি পরিবার পথে বসে গেছে। প্রতিটি লঞ্চে ৬ জন করে স্টাফ রয়েছে। ফলে ৪২০টি পরিবার আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। লঞ্চ মালিকদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, জীবন-জীবিকা ও আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই নৌযানগুলো।‘

    মাহবুব উদ্দিন আরও বলেন, এই লঞ্চের মালিকরা এক বছরের অগ্রিম আয়কর, ভ্যাট, বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধান, ডিজি শিপিং সার্ভে ও রেজিষ্ট্রেশন এবং নৌরুট অনুমোদন ফি দিয়ে সময়সূচি গ্রহণ করেছেন। এগুলো চলাচলের জন্য সার্ভে মেয়াদ রয়েছে। একটি যাত্রীবাহী জাহাজ স্থগিত করার কিছু নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ কোনো নিয়ম অনুসরণ করেনি।

    ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় নিয়ে তিনি বলেন, সামনে ঈদুল ফিতর। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এই লঞ্চগুলো চলাচলের অনুমতি একান্ত প্রয়োজন। দু-তিনটি ধার করা লঞ্চ দিয়ে এত যাত্রী পারাপার করা সম্ভব হবে না।

    ‘লঞ্চ না চলায় যাত্রীরা এখন অবৈধ ট্রলারযোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। লঞ্চ চালু না হলে যেকোনো সময় শ্রমিক অসন্তোষও দেখা দিতে পারে।‘

    ‘এরই মধ্যে এমভি নিউ আরিফ নামের যে লঞ্চটিকে সময়সূচি দেওয়া হয়েছিল সেটি অন্য একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ লেগে ডোবার উপক্রম হয়েছিল। সুতরাং সানকেন ডেকের (সমতল ডেকবিশিষ্ট ছোট লঞ্চ) পরিবর্তে হাইডেক অথবা ওয়েদার ডেকবিশিষ্ট নতুন ছোট জাহাজ তৈরি করলেও ক্ষুদ্র আকৃতির কারণে পৃথক লেনে সেগুলো পরিচালনা করতে হবে। নতুবা এরূপ সংঘর্ষের সম্ভাবনা থেকেই যাবে।‘

    উপরোক্ত যুক্তি তুলে ধরে মানবিক দিক বিবেচনায় ও লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান মাহবুব উদ্দিন আহমদ।

    এ সময় তিনি আরও বলেন, ৭০টি লঞ্চের জন্য গত ৩ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি শিপিংকে যে নকশা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে পৃথক লেন করে দিলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে।

  • ঈদের আগে উৎসবভাতাসহ পুরো বেতন চান পোশাকশ্রমিকরা

    ঈদের আগে উৎসবভাতাসহ পুরো বেতন চান পোশাকশ্রমিকরা

    একদিন আগেই শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এক নির্দেশনায় বলেছিলেন, ঈদুল ফিতরের আগেই তৈরি পোশাকসহ প্রতিটি কারখানার শ্রমিকদের বোনাস দিতে হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটির আগে এপ্রিল মাসের ১৫ দিনের বেতনসহ বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।

    তবে পোশাক খাতের শ্রমিকদের দাবি, ১৫ দিন নয়, আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের পূর্ণ উৎসব ভাতাসহ পুরো এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট (জিএসএফ) এর সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, শবে কদর, মে দিবস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পোশাকশ্রমিকরা এপ্রিল মাসের পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকারী। মাস শেষ হওয়ার পরও পুরো বেতন পরিশোধ না করার চেষ্টা মজুরি বকেয়া রেখে শ্রমিকদের কর্মস্থলে আটকে রাখার অপকৌশলের অংশ।

    জরুরি রপ্তানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি রপ্তানি কাজের প্রয়োজনে কারখানা খোলা রাখার কথা ঘোষিত হলেও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর মুদ্রামানের মারাত্মক অবনতির মধ্যে শ্রমিকদের জীবনমান ধরে রাখতে মজুরি সমন্বয় বা মহার্ঘ্য ভাতার কী হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

    গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নেতারা আরও বলেন, করোনার সময় কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরির ৩৫ শতাংশ কেটে রেখে ৬৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছিল। করোনা পরবর্তীকালে তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানির পরিমাণ আগের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আবার শ্রমিকের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্যও অনেকক্ষেত্রে শতভাগ বেড়েছে। এতে শ্রমিকের মজুরির প্রকৃত মান নেমেছে অর্ধেকের নিচে। ফলে একদিকে কাজের চাপ অপরদিকে অভাবের চাপে পোশাকশ্রমিকরা দিশেহারা। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার যে কোনো অপচেষ্টা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

    বিবৃতিতে ২১ এপ্রিলের মধ্যে এপ্রিল মাসের বেতনসহ পূর্ণ উৎসব বোনাস পরিশোধ এবং শতভাগ মহার্ঘ্য ভাতা পরিশোধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের সম্মানে আগামী ২৪ এপ্রিল দিনকে গার্মেন্টস শিল্পে শোক দিবস ঘোষণা করাসহ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।