Category: জাতীয়

  • বারবার নির্বাচিত করেছে বলেই দেশের উন্নতি করতে পেরেছি

    বারবার নির্বাচিত করেছে বলেই দেশের উন্নতি করতে পেরেছি

    নরসিংদী জেলায় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের বৃহত্তম ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    এসময় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি করতে পেরেছি। আমরা ডেল্টা প্ল্যান করেছি। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন উন্নত জীবন পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছি।’

    চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তো হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষি ও খাদ্য পণ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল শষ্য ও খাদ্য উৎপাদন করছি। এই পণ্যগুলো রফতানির উদ্যোগ নিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    এদিকে,  ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন সার কারখানাটি উৎপাদনে আসবে বলে জানানো হয়েছে। আর এই কারখানা থেকে বছরে সোয়া নয় লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। এদিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিটাক, বিসিক ও বিএসইসির সমাপ্ত চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সড়কে নামলো টয়লেটযুক্ত স্লিপার কোচ, আছে নামাজের স্থানও

    সড়কে নামলো টয়লেটযুক্ত স্লিপার কোচ, আছে নামাজের স্থানও

    ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে চালু হলো টয়লেটযুক্ত অত্যাধুনিক স্লিপার কোচ। এম আর পরিবহনের এ কোচে রয়েছে ডাবল বেডের ১০টি ও সিঙ্গেল বেডের আটটি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে টেলিভিশন ও চার্জিং পোর্ট রাখা হয়েছে। রয়েছে এলইডি লাইটিং স্ট্রাইপ ও এসি কন্ট্রোলার। যাত্রীর সুবিধার্থে পেছনের দিকে রাখা হয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থা। আছে নামাযের স্থানও।

    ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিটি কেবিনে পর্দার বদলে গ্লাস পার্টিশন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেবিনে আর্টিফিশিয়াল ফুলের ডিজাইন করা। রয়েছে ওয়াইফাই সুবিধাও।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সাতক্ষীরা সঙ্গীতা মোড়ে এম আর পরিবহন কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রার মাধ্যমে নতুন এ বাসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক।

    এম আর পরিবহনের পরিচালক শফিউল্লাহ রাজু বলেন, বাংলাদেশে টয়লেট কেবিন যুক্ত স্লিপার কোচ এটিই প্রথম। বাসটি প্রতিদিন সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে ঢাকা রুটে চলাচল করবে। আমরা সাতক্ষীরার যাত্রীদের সর্বাধুনিক মানের সেবা দিতে পেরে আনন্দিত।

    এম আর পরিবহনের চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন, অত্যাধুনিক স্লিপার কোচটি অশোক লেল্যান্ড চ্যাসিসে নির্মাণ করেছে দেশের ক্লাস মোটরস লি.। এত সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এমন স্লিপার কোচ বাংলাদেশে এটিই প্রথম। প্রাথমিকভাবে শ্যামনগর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। সেবাটি আপাতত ঢাকা সাতক্ষীরা রুটে থাকলেও পরবর্তীতে সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত এ বাস সার্ভিস চালু হবে।

  • আগামী বছর থেকে প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

    আগামী বছর থেকে প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

    আগামী বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি ও ইবতেদায়ী) পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

    তিনি বলেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সব ধরনের পরীক্ষা তুলে দেওয়া হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন কথা জানান।

  • যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গা নারীরা

    যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গা নারীরা

    বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে দেশীয় দালাল চক্র। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারাদেশে সক্রিয় এ চক্রটি।

    গত বছরের জুন মাসে কক্সবাজার থেকে পাচারের সময় অন্তত ২১ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করা হচ্ছিল তাদের। এর আগে একই বছরের ১৪ মে উদ্ধার করা হয় ১৭ জন নারীকে।

    কক্সবাজারে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে নোঙর নামে একটি স্থানীয় এনজিও। তারা এইচআইভি নিয়ে কাজ করলেও রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে।

    প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ বলেন, স্থানীয় দালাল চক্র ছাড়াও আগে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকে এ গোষ্ঠীটির নারীদের নানা উপায়ে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করছে। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে এ কাজে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের।

    তিনি বলেন, চাকরির নামে বিদেশে যাদের পাচার করা হয় তাদের আসলে যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়। পাচারের সময় অনেক রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করা হয়। চাকরি ছাড়াও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়। অনেক রোহিঙ্গা নারী এখানে আসার পর ক্যাম্পের বাইরে থেকেই তাদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। তাদের শুধু কক্সবাজার এলাকায় নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও পরিচয় পাল্টে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে।

    ঠিক কতজন রোহিঙ্গা নারী যৌন ব্যবসায় জড়িয়েছে তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও তাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানান তিনি।

    দিদারুল আলম বলেন, এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প সুরক্ষিত নয়। আর ক্যাম্পের মধ্যেই যৌন ব্যবসার দালালদের নেটওয়ার্ক রয়েছে।

    কক্সবাজার এলাকার হোটেল ছাড়াও দালালরা যৌন ব্যবসার জন্য বাসা ও বিভিন্ন রেস্ট হাউজও ব্যবহার করে। তবে, রোহিঙ্গা নারীদের যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

    কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা নারীরা যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে সে তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গা নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হন- এমন অভিযোগ আমরা পাই। যৌন ব্যবসার ব্যাপারে পুলিশের নজরদারি আছে।

  • নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশে ঢুকতে পূরণ করতে হবে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম

    নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশে ঢুকতে পূরণ করতে হবে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম

    বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বাংলাদেশে প্রবেশ করার তিনদিন আগেই প্রত্যেক যাত্রীকে অনলাইনে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করতে হবে। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে বেবিচক। একই সঙ্গে উড়োজাহাজে যাত্রী সংখ্যার ওপর বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা জারি না করা পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবির স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাত্রীদের দেশে আসার তিন দিন আগেই হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করতে হবে। তারা healthdeclaration.dghs.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন। ফরমটি পূরণ করার পর কিউআর কোডযুক্ত একটি হেলথ কার্ড আসবে। সেটি প্রিন্ট করে কিংবা সফট কপিটি (মোবাইলে) নিজের কাছে রাখতে হবে।

    কোনো দেশে ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশে এলে ট্রানজিট এয়ারপোর্টে চেক-ইন করার আগে নতুন করে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করতে হবে। বোর্ডিংয়ের সময় এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের হেলথ কার্ড আছে কিনা যাচাই করবে। দেশে আসার পর বিমানবন্দরে যাত্রীকে কিউআর কোডযুক্ত হেলথ কার্ড বা মোবাইলে সফট কপি দেখাতে হবে।

    বেবিচকের অনলাইন হেলথ ডিক্লারেশন ফরমে যাত্রীর করোনার আক্রান্তের তথ্য, টিকা, জ্বর-কাশিসহ নানা তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। এতদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৈরি কাগজের হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করে দেশে প্রবেশ করতে হতো। দেশে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারের আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো যাত্রীদের।

    বাংলাদেশে আগত যাত্রীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধ অনুযায়ী, যেসব যাত্রী করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন, তাদের আরটি পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে না। তবে সেক্ষেত্রে যাত্রীদের টিকা সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।আর যেসব যাত্রী এক ডোজ কিংবা কোনো টিকা নেননি, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। ১২ বছরের নিচে শিশুদের কোনো করোনা টেস্ট করাতে হবে না। তবে তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনাগুলো মানতে হবে।

    বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে করোনা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। যাত্রীরা যে দেশে যাবেন, সেখানকার নির্দেশনা অনুসরণ করবেন বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।

  • যা আছে নতুন সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার খসড়ায়

    যা আছে নতুন সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার খসড়ায়

    সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ৪৩ বছরের পুরোনো। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আচরণ বিধিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ২০২২’ এর খসড়া করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। এছাড়া অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সম্প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। মূল্যবান সামগ্রী, অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর এবং উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মের কথা বলা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়।

    নতুন আচরণ বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’এর আওতায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এ বিধিমালার আওতায় অসদাচরণের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন আচরণ বিধিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালাটি বেশ পুরোনো। এখন যুগ পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের কাজের পরিমাণ বেড়েছে। কর্মচারীদের মনোভাব এখন গণমুখী। সবকিছু মাথায় রেখে কর্মচারীদের আগের খোলস থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য নতুন আচরণ বিধিমালা করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট সবগুলো আইন আধুনিক করার কাজ করছি। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই নতুন আচরণ বিধিমালার খসড়া করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এটি চূড়ান্ত করবো।’

    সম্পদের হিসাব

    খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেয়ার সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বিমা পলিসি এবং অলংকারাদিসহ নগদে রূপান্তরযোগ্য সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা করবেন।

    প্রত্যেক কর্মচারী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ডিসেম্বর মাসে বিগত পাঁচ বছরের হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পত্তির হিসাব বিবরণী বা আয়কর সনদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাখিল করবে। সরকার আদেশের মাধ্যমে এই বিধির অধীনে সম্পত্তির হিসাব বিবরণী দাখিলের পদ্ধতি এবং যে কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবে তা নির্ধারণ করতে পারবে বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের বিধিমালায় আয়কর বিবরণী দাখিলের বিষয়টি ছিল না, একই সঙ্গে অলঙ্কারের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে, সেটার হিসাব দিতে হতো। নতুন বিধিমালায় সেই সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    মূল্যবান সামগ্রী, অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর

    কোনো সরকারি কর্মচারী ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা অন্য কোনো পন্থায় হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান বা সচিবকে জানাবেন। কর্মচারী নিজেই বিভাগীয় প্রধান হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে এবং সরকারের সচিব হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের কাছে ঘোষণা দেবেন। এ ঘোষণায় সার্বিক অবস্থা, প্রস্তাবিত বা দাবি করা মূল্য এবং বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের পদ্ধতির বিবরণ থাকবে।

    সরকারি কর্মচারী বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া কেনাবেচা, দান, উইল বা অন্যভাবে বহিঃবাংলাদেশ অবস্থিত কোনো স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। কোনো বিদেশি নাগরিক বিদেশি সরকার বা বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কোনো প্রকার ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবেন না কোনো সরকারি কর্মচারী।

    কোনো সরকারি কর্মচারী নির্মাণ ব্যয় বা ক্রয়ের প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস উল্লেখ করে এই উদ্দেশ্যে আবেদনের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ ছাড়া ব্যবসায়িক বা আবাসিক ব্যবহারের অভিপ্রায়ে নিজে বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে বা কিনতে পারবেন না বলে খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    উপহার গ্রহণ নিয়ে যে নিয়ম আসছে
    কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমতি ছাড়া নিকটাত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধু ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কোনো উপহার গ্রহণ বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে উপহার নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন না, যে উপহার গ্রহণ সরকারি কর্তব্য পালনে তাকে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ করে।

    তবে যদি মনোকষ্ট দেওয়া ছাড়া উপহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করা যায়, তাহলে উপহার গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে যে ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠান, বার্ষিকী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপহার নেওয়ার নীতি প্রচলিত অনুষ্ঠানে দাপ্তরিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন নিকটাত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধুর কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা যাবে। উপহারের মূল্য মূল বেতনের সমপরিমাণ বা ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে তা সরকারকে অবহিত করতে হবে।

    বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রতিনিধি কোনো উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দিলে, মনে কষ্ট দেওয়া ছাড়া উপহার গ্রহণ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর তা করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয় তবে তিনি উপহার গ্রহণ করতে পারবেন এবং নিষ্পত্তির আদেশের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপহার গ্রহণের বিষয়টি জানাবেন।

    সরকারের সচিব বা সমপদমর্যাদা সম্পন্ন কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান প্রধান দেশে বা বিদেশে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সরকারের কর্মকর্তার দেওয়া শুভেচ্ছা স্মারক উপহার হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। যদি গ্রহণ করা উপহার সরকারি অফিস বা সরকারি বাসভবনে ব্যবহার উপযোগী হয় তাহলে তা ব্যবহার করতে হবে। যদি ব্যবহার সম্ভব না হয় তবে সরকারি কর্মকর্তা তা নিজের ব্যবহারের জন্য রাখতে পারবেন।

    সরকারি কর্মচারী তার কর্ম অধিক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সংস্থায় ব্যক্তিগত আতিথ্য পরিহার করবেন বলেও খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    অনুমতি ছাড়া ফেসবুকের সম্প্রচারেও অংশগ্রহণ নয়

    সরকারি কর্মচারী বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি বা প্রকৃত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র ছাড়া প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক বা অনলাইন মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) সম্প্রচারে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে নিজ নামে বা বেনামে বা অন্যজনের নামে কোনো নিবন্ধ বা পত্র লিখতে পারবেন না। অন্য বিষয়গুলো আগে থাকলেও ‘অনলাইন মিডিয়া’ ও ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ নতুন বিধিমালায় যুক্ত করা হচ্ছে।

    সরকারি কর্মচারী নিজ নামে প্রকাশিত কোনো লেখা বা জনসম্মুখে তার দেওয়া বক্তব্যে বা বেতার বা টেলিভিশন বা কোনো প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কোনো বিবৃতি বা মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না, যা সরকারের সঙ্গে জনগণের কিংবা কোনো শ্রেণি বিশেষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে সক্ষম।

    রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না

    আগের মতোই সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে বা অন্য কোনোভাবে এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না বা বাংলাদেশ বিদেশের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারেই সহায়তা করতে পারবেন না।

    সরকারি কর্মচারী নিজে বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের প্রচলিত কোনো আইনে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজ হিসেবে গণ্য এমন কোনো আন্দোলনে বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বা অন্য কোনো উপায়ে সহযোগিতা করতে পারবেন না বলে নতুন বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    তথ্য অধিকার আইনের ক্ষেত্র ছাড়া তথ্য প্রকাশে মানা

    খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তার দখলে থাকা দলিল, এসব দলিলের বিষয়বস্তু বা তথ্য প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বিভাগ বা সংযুক্ত দপ্তরে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারীর কাছে বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তির কাছে বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন না। তবে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী যে সকল তথ্য প্রদানে বা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এই বিধির আওতাভুক্ত হবে না।

    রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে তদবির নয়

    সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী কোনো বিষয়ে তার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা বেসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হতে পারবেন না।

    এতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী তার চাকরি সংক্রান্ত কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব খাটাতে পারবেন না। একইসঙ্গে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যম ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো ধরনের আবেদন দাখিল করতে পারবেন না।

    এতে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী নারী সহকর্মীর প্রতি কোনো প্রকারের এমন কোনো ভাষা ব্যবহার বা আচরণ করতে পারবেন না যা অনুচিত বা অসঙ্গত এবং দাপ্তরিক শিষ্টাচার ও নারী সহকর্মীদের মর্যাদাহানি ঘটায়। সরকারি কর্মচারীর অনুচিত বা অসঙ্গত ভাষা প্রয়োগ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হলে সরকারের ব্যাখ্যা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

    কোনো সরকারি কর্মচারী বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। যদি কোনো সরকারি কর্মচারীর স্ত্রী বা স্বামী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বিষয়টি সরকারকে লিখিতভাবে জানাবেন।

    ফটকা কারবার, বিনিয়োগ, চাকরি-ব্যবসা

    কোনো সরকারি কর্মচারী এমন কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবেন না যার মূল্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। তবে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার বা বন্ড ক্রয়ে বিধি-নিষেধ কার্যকর হবে না।

    নতুন বিধিমালায়ও কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে বা অন্য কোনো চাকরি বা কাজ গ্রহণ করতে পারবেন না।

    তবে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা অনুমোদন ছাড়া দাপ্তরিক দায়িত্বে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে পরিবারের সদস্যদের শ্রম কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে বলে খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • কোনো প্রগতিশীল সংগঠন বিএনপির ফাঁদে পা দেবে না: কাদের

    কোনো প্রগতিশীল সংগঠন বিএনপির ফাঁদে পা দেবে না: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এককভাবে আন্দোলন করার সক্ষমতা হারিয়ে বিএনপি এখন অন্যদের দলে টানার চেষ্টা করছে।

    তিনি আজ (বুধবার) সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে ব্রিফিংকালে একথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এদেশের কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে না।

    নেতৃত্ব সংকটে ভুগতে থাকা বিএনপির সামনে এখন শুধুই মরীচিকা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা এখন দিনের আলোতেই অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। কারণ তাদের চেয়ারপারসন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

    সরকার নাকি তারেক রহমানকে নির্বাসনে রেখেছে, বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার তারেক রহমানকে নির্বাসনে রাখে নাই, বরং সে নিজেই রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়েছে।

    বিএনপিকে হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ অবিরাম মিথ্যাচার শুনতে শুনতে এখন আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। গত নির্বাচনের আগেও বিএনপির ঐক্যের কিম্ভুতকিমাকার চেহারা দেশের মানুষ দেখেছে। ঐক্যের নামে বিএনপি ও তার শরীকদের মধ্যে লেজেগোবরে অবস্থা দেশের মানুষের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যাবার কথা নয়। একঘরে হয়ে বিএনপি আসলে এখন হতাশাগ্রস্ত।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিবেকবান, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক কোনো নেতৃত্ব গণতন্ত্রের হন্তারক বিএনপির নেতৃত্বাধীন উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সমর্থন করবে না। এ বিষয়টি বোঝার সক্ষমতাও তারা হারিয়েছে। কিন্তু বিএনপি না বুঝলেও জনগণ ঠিকই বোঝে।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচন দাবি করলেও নির্বাচনের মাঠ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে যায় কি না তা নিয়ে দেশের মানুষ শঙ্কায় আছে। কারণ বিএনপি নির্বাচন ও জনগণকে ভয় পায়। তারা গণ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।

  • প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন: স্পিকার

    প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন: স্পিকার

    জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ছিল দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এজন্য তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে আজীবন কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এসব কাজের অধিকাংশই এখন দৃশ্যমান।’

    বুধবার (২০ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, অসহায় প্রতিবন্ধী ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার সুফল আজ প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের সফলতাও জনগণ আজ ভোগ করছে।’

    এসময় স্পিকার উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের খোঁজ-খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। জনগণ যেন উন্নয়নের সব সুফল সহজেই পায়, সেজন্য পীরগঞ্জের সব কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা উপকরণ হিসেবে পীরগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ছাত্রীদের মধ্যে ৫০টি বাইসাইকেল এবং পীরগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাৎসরিক এককালীন শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০০ জনকে দুই হাজার ৪০০ টাকা হারে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ জনকে ছয় হাজার টাকা হারে এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২৫ জনকে ৯ হাজার ৬০০ টাকা হারে বিতরণ করা হয়।

  • চার প্রকল্পের উদ্বোধন ও একটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বৃহস্পতিবার

    চার প্রকল্পের উদ্বোধন ও একটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বৃহস্পতিবার

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বাস্তবায়িত ১৪ তলা বিশিষ্ট বিসিক প্রধান কার্যালয় (নতুন) ও মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী (সম্প্রসারণ) সহ মোট চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে বৃহস্পতিবার। এ দিন ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

    চারটি প্রকল্পের মধ্যে অন্য দুইটি হলো – বিটাকের কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে টেস্টিং সুবিধাসহ টুল ইনস্টিটিউট স্থাপন ও বিএসইসির এলইডি লাইট (সিকেডি) এ্যাসেমব্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প।

    বিসিকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও উন্নত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তেঁজগাও এলাকায় নির্মিত হয়েছে ১৪ তলা বিশিষ্ট বিসিক প্রধান কার্যালয়।

    এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিসিকের মতিঝিল অবস্থিত অফিস ভবনের সকল কার্যালয়সহ ঢাকার অন্যান্য সকল অফিস একই ভবনে স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রকল্প অফিসসমূহ একই ভবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে ভাড়া বাবদ দেওয়া সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে।

    বিসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৫০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অফিস কক্ষ বা ওয়ার্ক স্টেশনের সংস্থান হয়েছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

    বিসিক প্রধান কার্যালয়ে এক লাখ ২৬ হাজার ৯০০ বর্গফুট জায়গার সংস্থান রয়েছে। ভবনটি পরিবেশবান্ধব, এতে সোলার সিস্টেম, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা ইত্যাদির সুব্যবস্থা রয়েছে।

    ভবনটির দুইটি বেইজমেন্টে ৬৪টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা, চারটি প্যাসেঞ্জার লিফটসহ ১৪ তলা ভবন, মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসহ বিভিন্ন সভা বা সেমিনার পরিচালনার জন্য চারটি কনফারেন্স বা সভাকক্ষ, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই ভবনে সমন্বিতভাবে স্বল্প সময়ে সকল কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ, ভবনের নিচ তলায় কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য তিন হাজার ৮৪১ বর্গফুট জায়গায় পণ্য প্রদর্শনীর সংস্থান, মাল্টিমিডিয়া ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত তিনটি প্রশিক্ষণ কক্ষ, প্রত্যেক ফ্লোরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম এবং ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে অফিস ভাড়া বাবদ প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ১৯৮৭ সালে মাদারীপুর জেলায় ১৬ দশমিক ৩৩ একর আয়তন বিশিষ্ট একটি শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করে। এ শিল্পনগরীর অধীনে বর্তমানে সেখানে ৯৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে তেলের মিল, বেকারি, আটা-ময়দা-সুজির কারখানা, পিভিসি পাইপ, ফার্নিচার ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানা উল্লেখযোগ্য।

    শিল্পোদ্যোক্তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে ২০১৪ সালে মাদারীপুর জেলায় আরও একটি শিল্পনগরী (মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ) প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো- পরিবেশসম্মত শিল্পনগরী স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প প্লটের চাহিদা পূরণ করা, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো যেমন: ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১৫৮টি প্লটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ইউনিট স্থাপন করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তাসহ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখা।

    প্রকল্পটি ৫৩ কোটি ৯৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০ দশমিক শূন্য ৫৫ একর জমিতে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পটিতে মোট শিল্প প্লটের সংখ্যা ১৫৮টি এবং সাত হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রকল্পটিতে সম্ভাব্য শিল্প খাতগুলো হলো – খাদ্য ও খাদ্যজাত সামগ্রী, বস্ত্র ও বস্ত্রজাত সামগ্রী, অটোমোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রিক্যাল সামগ্রী, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি, কাঠ ও স্টীলের আসবাবপত্র এবং গবাদিপশুর খাদ্য তৈরি ইত্যাদি।

  • প্রাথমিকে নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা-উপজেলায় পরীক্ষা

    প্রাথমিকে নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা-উপজেলায় পরীক্ষা

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা তিন ধাপে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২২ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে ও তৃতীয় ধাপে ৩ জুন পরীক্ষা হবে।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এর তথ্য জানান।

    দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলায় পরীক্ষা:

    আগামী ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহী, খুলনা, ফরিদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট, রংপুর জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়া নওঁগা জেলার সদর, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রানীনগর, পোরশা, সাপাহার উপজেলা, নাটের জেলার বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাশপুর, লালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, সদর ও তাড়াশ উপজেলা, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, সদর ও মিরপুর, ঝিনাইদাহ জেলার হরিনাকূণ্ড, সদর, কালিগঞ্জ, যশোর জেলার অভয়নগর, চৌগাছা, সদর, বাঘেরপাড়া উপজেলা, সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ উপজেলা, বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট, মোংলা, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরনখোলা উপজেলা, জামালপুর জেলার সদর মাদারগঞ্জ, মেলান্দাহ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা, সদর, নান্দাইল, ফুলপুর, তারাকান্দা, ত্রিশাল উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী, মদন, মোহনগঞ্জ, সদর, পূর্বধলা উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার সদর কুলিয়াচর, মিঠামইন, নিকলী, পাকুন্দিয়া, তাড়াইল, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি, মধুপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর, সফিপুর, বাসাইল উপজেলা, রাজবাড়ি জেলার কালুখালি, গোয়ালন্দ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, লালমাই, সদর দক্ষিণ, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাগলকোট, তিতাস উপজেলা, নোয়াখালি জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানিগঞ্জ, হাতিয়া উপজেলা, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, নেছারাবাদ, সদর, পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, সদর, রাঙ্গাবালি, দুমকি উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা, সদর, তাহিরপুর উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার সদর, লাখাই, মাধবপুর, নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রাজারহাট, রাজিবপুর, রৌমারী, উলিপুর উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষা হবে।