Category: জাতীয়

  • পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি

    পানি উন্নয়ন বোর্ডেও দুর্নীতি হয়, সেটি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাওরে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    বারবার বাঁধ ভাঙার মতো অভিযোগ আসে, কিন্তু জড়িতদের শাস্তি হয় না- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এমন ৮ জন প্রকৌশলীকে কিন্তু আমরা সাসপেন্ড করেছি। এটা আইনের মাধ্যমে করতে হবে। এটা তো আর্মি না যে একজন লোককে রিটায়ার্ড করে দেওয়া যায়। বাইরে কিন্তু নিয়ম আছে। নিয়মের বাইরে কিন্তু কাউকে সাসপেন্ড করতে পারব না। দুদকের মামলা চলবে, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে সেই ৮ জনের বিরুদ্ধে। আমরা রাতারাতি একজন প্রকৌশলীকে বলতে পারি না তোমরা বাড়ি চলে যাও। আমরা নিয়মের মধ্যে চলছি। প্রকৌশলীদের কাজের মান যাতে ভালো হয়, দুর্নীতি যাতে কম হয়, সেজন্য পিএসি করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ এলাকায় যার জমি আছে সে সেখানকার সভাপতি। আরেও চারজন যাদের জমি আছে তারা মেম্বার। সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মেম্বার করা হয়। মসজিদের ইমামকেও মেম্বার করা হয়। এখন আমাদের প্রকৌশলীর হাতে কিছু নাই। কমিটিগুলোও ইউএনও করেন। প্রকৌশলীরা টেকনিক্যালি অ্যাডভাইস দেয়। এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন আসে না। আমি বলব না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ দুর্নীতি করে না। দুর্নীতি করে, আমরা চেষ্টা করছি সেটি কমিয়ে আনার জন্য। সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য।

    বর্ষার সময় কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষার সময় যখন একটি জায়গা ভেঙে যায় সেখানে তাৎক্ষণিক কাজ না করলে পুরো গ্রামটা বিলীন হয়ে যাবে। সেজন্য আমরা কাজ করি। এটা মানে এই না যে আমরা বর্ষার সময় কাজ করতে যাই। বর্ষার সময় আমরা সেখানেই কাজ করতে যাই যেখানে ভেঙে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়াররা যায় না কেন? এই প্রশ্নটা এখন করতে পারবেন না। আমরা মানবতার জন্য কাজ করতে এসেছি। আমাদের কাজে গাফিলতি আছে কেউ বলতে পারবে না।

    তিনি বলেন, অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করেছি। ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন করে সমস্যা তৈরি হয় সেজন্য সতর্ক থাকছি। আমাদের প্রকৌশলীরাও কাজ করে যাচ্ছে। আমরা নদীমাতৃক দেশ। আমাদের পলিমাটিতে যখন পানি নামতে পারে না, বাঁধগুলো নরম হয়ে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়। আমাদের প্রাকৃতিক সমস্যাটা আপনাদের বুঝতে হবে। এসব কারণে নদীভাঙন আমাদের বাপ-দাদারা দেখে আসছেন। একদিকে নদী ভাঙছে, আরেকদিকে নদী ভরছে। আমরাও দেখছি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তারাও দেখবে। এটা কিন্তু বন্ধ করা যাবে না। এর মধ্যেই আমাদের বসবাস করতে হবে
    প্রতিমন্ত্রী জানান, ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেবো। কৃষিঋণ থাকলে যেন মওকুফ হয় সেটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেছেন তিনি হাওরে যাবেন, আমরা একসঙ্গে যাব।

    উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, ৫৩৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৫০ মিটার, আরেকটি ৫০ মিটার এবং ৩০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি জায়গা আমরা বন্ধ করতে পেরেছিলাম। আরেকটি জায়গায় দেখলাম বন্ধ করেও লাভ নেই। কারণ পানির গভীরতা ৫০ থেকে ৬০ ফিটের মতো। ১ থেকে ৬ তারিখ মোট ১২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আমি সেখানে যাওয়ার পর ১১টি উপজেলার ছুটি বাতিল করেছি। সেখানে কিন্তু সব স্তরের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেটি নিয়ে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। আমরা স্থায়ী প্রকল্পগুলো করছি। ১৩ বছর আগেও আমাদের ভাঙন ছিল সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর সেটি এখন সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরে আসছে। তিন বছরে আমার সুনামগঞ্জে ২০৪টি সফর হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব আমরা পালনের চেষ্টা করছি। যেখানে গাফিলতি আছে সেখানে তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় এবং আইনের আওতায় আনার জন্য যে প্রক্রিয়া সেটি মাথায় রেখে আমরা আগাচ্ছি।

    সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায় বিএনপি: কাদের

    ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায় বিএনপি: কাদের

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন তাদের শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায়।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো না বুঝলে, ধারণ না করলে নাকি বিএনপি নেতাদের মুক্তি হবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে এখনো তারা পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি থেকে বের হতে পারেননি। বিএনপি নেতাদের অন্তরে এখনো পাকিস্তান রয়ে গেছে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মিমাংসিত একটি বিষয়। কাজেই নতুন করে এ বিষয়ে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে

  • ১১২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন ১০৪তম

    ১১২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন ১০৪তম

    বিশ্বের মোট ১১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখন ১০৪তম, যা দুর্বলতম পাসপোর্টের দিক থেকে নবম। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ২২৭ দেশের মধ্যে মাত্র ৪০টিতে ভ্রমণ করা যায়। এর আগে ২০২০ সালে এই পাসপোর্ট নিয়ে আগে থেকে ভিসা ছাড়াই ৪১টি দেশ ভ্রমণ করতে পারতেন বাংলাদেশিরা।

    বিশ্বে পাসপোর্টের মান নির্ধারণকারী সূচক ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২২’ এর সর্বশেষ সংস্করণে এই তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে কসোভো ও লিবিয়া। এতে বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩তম।

    সূচক অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ভূটান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার পাসপোর্ট বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশগুলোর অবস্থান যথাক্রমে ৮৫, ৯১, ৯৮ ও ১০৩তম।

    অন্যদিকে সূচকে নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই দেশগুলোর পাসপোর্টের অবস্থান যথাক্রমে ১০৬, ১০৯ ও ১১২তম।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স এ সূচক তৈরি করে থাকে। পাসপোর্টের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক স্কোর দেওয়া হয় এই সূচকে। একটি দেশের পাসপোর্টধারীরা আগে থেকে ভিসা ছাড়াই বিশ্বের কতটি দেশে যেতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করে এই স্কোরিং করা হয়।

    সর্বশেষ প্রকাশিত এই সূচকে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর ও জাপান। দেশ দুটির নাগরিকরা মোট ১৯২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।

    এদিকে, সূচকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন রয়েছে ৩৪তম অবস্থানে। ১৪৩টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে দেশটির। অন্যদিকে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানো রাশিয়া আছে ৪৯তম অবস্থানে। রাশিয়ানরা ১১৭টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।

  • জন্মসনদ দিতে হয়রানি করলে কাউকে ছাড় নয়’

    জন্মসনদ দিতে হয়রানি করলে কাউকে ছাড় নয়’

    জন্মসনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণকে হয়রানি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলাম। রোববার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

    মন্ত্রী বলেন, অটোমেশন হয়ে মানুষ যেভাবে জন্মনিবন্ধন পাচ্ছে সেখানে অনেক ত্রুটি আছে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। সেটি ওভারকাম করতেই আজকের সভা। একটি সভা করলেই সব সমাধান হয়ে যাবে পৃথিবীর কোথাও নেই। জন্মনিবন্ধনপ্রপ্তিতে যদি কোনো স্তরে জনগণকে হয়রানি করা হয়, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জন্মনিবন্ধনটা ইদানিং খুব বার্নিং ইস্যু হিসেবে আমরা দেখছি। তারপরও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জন্মনিবন্ধন প্রাপ্তি কীভাবে আরও সহজ করা যায় সেজন্যই আমরা বসেছি। যাতে কাউকে হয়রানি করতে না পারে।

    সার্ভার জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের এখানে সার্ভার নতুনভাবে রিরেশোনালাইজেশন হয়েছে। সেজন্য কিছুদিন শাটডাউন ছিল সার্ভার। এখন চালু হয়েছে। এখনও কোনো কমপ্লেইন আছে কি না আমি নিশ্চিত না। এটা অনেক টাকা বিনিয়োগ করে করা হয়েছে। ইউনিসেফ আমাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। তারা নিজেরাই দেখভাল করছে যাতে সুন্দরভাবে এটি পরিচালনা করা যায়।

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধন হলো একজন মানুষের মূল ভিত্তি। গুড গভর্নেন্সের কমিটমেন্ট ফুলফিল করতে হলে এবং আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে জন্মনিবন্ধনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে।

    দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত কোনো দেশ নাই, কমবেশি কিছু দুর্নীতি আছে। কিন্তু বিশাল আকারে দুর্নীতি এই মূহুর্তে সারাবিশ্বে খুবই কম।

    তিনি বলেন, ইদানিংকালে আমরা সব বিষয়ে অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। কিন্তু জন্মনিবন্ধনে এখন অসংখ্য ভুল থাকে। তাই বলে এটা বলা যাবে না যে তিনি (জন্মনিবন্ধনকারী) অশিক্ষিত বলে ভুল দিয়েছে। আপনি (কর্মকর্তা) তো শিক্ষিত। তিনি অশিক্ষিত বলেই তো আপনাকে এখনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য তো আপনি কমিটমেন্ট দিয়ে বসেছেন, আমি কমিটমেন্ট দিয়েছি। আমার কাজ যদি আমি না করি তাহলে আমি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবো না।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জন্মনিবন্ধনে অসংখ্য ভুল। আপনি যেভাবে দরকার সেভাবে সেটি সমাধান করবেন। এই যে লোয়ার এনটিটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। সেখানকার মেম্বারদের সেখানে এই কাজে নিয়োগ করা যাবে কি না জানি না। একটি ইউনিয়নে ২৫ হাজার লোক, সেখানে অনেক দূরত্বও রয়েছে। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব জায়গায় যেতে পারে না। এখানে একটি ম্যাকানিজম থাকতে পারে, এখানে কার জন্ম হবে সঙ্গে সঙ্গে সেটি নিবন্ধন করা। সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের একটিভ হতে হবে। চেয়ারম্যানরা যখন মাসিক মিটিং করবে তখন প্রত্যেকটি নাগরিকের খবর রাখতে হবে, কোনো ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছে, কে মৃত্যুবরণ করেছে।

    তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমি কয়েকদিন আগে দুবাই গিয়েছি। সেখানে আমাদের কনস্যুলেট অফিসে গিয়ে দেখলাম, একটি সিরিয়াস কমপ্লেইন যে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাদের নামের একটু এদিক-সেদিক হয়ে যায়। আমাদের মানুষ কিছু ভুল করে ফেলে, প্রথমে সেটি গুরুত্ব দেয় না, পরে গুরুত্ব দেয়। এটাকে কীভাবে সহজ এবং সমস্যা সমাধান করা যায় সেটি দেখতে হবে। আপনি আমি সাফার করছি না, কেউ কেউ তো করছে। এরা কিন্তু অসহায় মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় জায়গায় ঘুরে। সাধারণ একটি ভুল ভ্রান্তির জন্য হয়রানির শেষ নাই। আমি যদি তাকে হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে পারি তাহলে তো সে তার নিজের কাজে ঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারে। হয়তো তিনি একটি চাকরি পেয়েছেন, সেখানে যোগ দিতে পারছেন না এই ভুলের জন্য। হয়তো এক সপ্তাহ বা ১৫ দিন তাকে ঘোরাচ্ছে। এদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলররা অনেক সময় ডুপ্লিকেশনের কথা বলে। এটা কীভাবে হবে? আপনি যখন এন্ট্রি করবেন তখন একই নাম আসলে সেটা তো এন্ট্রি হবেই না। আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। দেখা যায় একটা ইউনিয়নে ২৫ হাজার মানুষ। কিন্তু দেখা গেছে কোনো কোনো দেশেই ২৫ হাজার মানুষ নাই। সেখানে আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশ।

  • রোদে পুড়ে অপেক্ষা, তবুও মেলে না টিসিবির পণ্য

    রোদে পুড়ে অপেক্ষা, তবুও মেলে না টিসিবির পণ্য

    রামপুরা বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গাড়ি এসেছে ঠিক দুপুর ১টায়। তখন সেখানে উত্তপ্ত রোদ। সুবিধাজনক জায়গা না পেয়ে রোদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছে গাড়িটি।

    সেখানে পণ্য নিতে আসা সালেহা বেগম বলেন, ‘এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার উপায় নেই। রোজা থেকে খুব কষ্ট হয়ে যায়। তারপরও পণ্য পাওয়া গেলে খুব উপকার হবে। কয়েকদিন দাঁড়িয়ে সিরিয়াল পাইনি।’

    ট্রাকসেল পরিচালনা করছে শেখ জেনারেল স্টোর। ডিলারের কর্মী জাহিদ আগেই ২৫০ জনকে হাতে কালি দিয়ে সিরিয়াল দিয়েছেন। ভিড়ের কারণে এখন রাজধানীর অধিকাংশ টিসিবির ট্রাকসেলে ক্রেতাদের হাতে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর সে অনুযায়ী পণ্য দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাক আসার কিছুক্ষণের মধ্যে বরাদ্দের ২৫০ জনের সিরিয়াল শেষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, যারা হাতে এ সিরিয়াল পেয়েছেন তারা কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, আবার রোদের কারণে পাশের জনকে দাঁড় করিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করছেন। রোজাদাররা এ লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

    জাহিদ বলেন, টিসিবির বরাদ্দ অনুযায়ী একটি ট্রাকসেল থেকে ২৫০ জন ক্রেতা সব ধরনের পণ্য পান। এরপরও প্রচুর মানুষ আসছে। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তাদের পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে না। বললেও শুনছে না। বারবার পণ্যের জন্য তাগাদা দিচ্ছে।

    এখন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় টিসিবির পণ্য কিনতে স্বল্প আয়ের মানুষের লাইন দীর্ঘ হয়েছে বেশ আগে থেকেই। চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ মানুষের ভিড় ও ডিলারের বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়ার উৎকণ্ঠায় বিশৃঙ্খলাও দেখা দেয় এসব লাইনে। তখন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্রেতাদের হাতে অমোচনীয় কালিতে নম্বর বসিয়ে দেন ডিলারের কর্মীরা। ফলে সিরিয়াল শেষ হওয়ার পরও এসে অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না।

    ভিড়ের কারণে পরপর কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্রেতার। এখন অনেকে এসে নম্বর পাচ্ছেন না। পেলেও শেষ দিকে আগের নম্বরের ক্রেতারা একাধিকবার পণ্য নেওয়ায় গরমিল হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অপকৌশলে পণ্য নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে শেষে নম্বর পেয়েও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

    এদিকে রমজানে প্রত্যেক ডিলারকে ৫০০ লিটার তেল, ৫০০ কেজি করে চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা একজন ক্রেতার কাছে সবোর্চ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি করে অন্যান্য পণ্য কিনতে পারছেন। বর্তমানে টিসিবির প্রতি কেজি ছোলা ৫০ টাকা, প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনির দাম ৫৫ এবং খেজুর ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • বৈষম্য নিরোধ বিল সংসদে: বাসা ভাড়া না দিলেও যাওয়া যাবে আদালতে

    বৈষম্য নিরোধ বিল সংসদে: বাসা ভাড়া না দিলেও যাওয়া যাবে আদালতে

    সমান অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য নিরোধে নতুন একটি আইন করার প্রস্তাব সংসদে উঠেছে। সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী সব ধরনের বৈষম্য নিরোধে এ আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বাসা ভাড়া না দিলেও যাওয়া যাবে আদালতে।

    মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘বৈষম্যবিরোধী বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে সেটি ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী সব ধরনের বৈষম্য নিরোধে এ আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

    আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ আপত্তি করেন। তবে তার আপত্তি সংসদে নাকচ হয়ে যায়।

    প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বৈষম্য নিরোধে একটি মনিটরিং কমিটি থাকবে, যার সভাপতি হবেন আইনমন্ত্রী। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এর সদস্য হবেন।

    বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, মানবাধিকার ও সমাজসেবায় জড়িত এমন সংগঠনের তিনজন, দুজন শ্রমিক প্রতিনিধি- যার মধ্যে একজন চা শ্রমিক হবেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের চারজন প্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি, দলিত সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি এর সদস্য হবেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন যুগ্মসচিব হবেন সদস্য সচিব। প্রতি তিন মাসে এই কমিটিকে কমপক্ষে একটি বৈঠক করতে হবে।

    বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র জাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ভাষা, বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক, মানসিক বা তৃতীয় লিঙ্গ, জন্মস্থান, জন্ম, পেশা এবং অস্পৃশ্যতার অজুহাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিচের কাজগুলো করলে তা বৈষম্যমূলক কাজ বলে গণ্য হবে:

    ১. সরকারি আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি অফিসের সেবা থেকে বঞ্চিত করা।

    ২. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সর্বসাধারণের স্থলে প্রবেশ বা উপস্থিতিতে বাধা প্রদান, নিয়ন্ত্রণ অথবা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।

    ৩. কোনো পণ্য বা সেবা আইনানুগভাবে উৎপাদন, বিক্রি অথবা বিপণন করতে বাধা দেওয়া বা আইনে নির্ধারিত কোনো সুবিধা বা পণ্য বা সেবা গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।

    ৪. প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ার কারণে কোনো শিশুকে পরিবারে প্রতিপালন না করে বিশেষ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা বা প্রতিবন্ধিতার অজুহাতে পরিবারে বসবাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।

    ৫. উপযুক্ত কারণ ছাড়া বাবা-মায়ের পরিচয় দিতে অসমর্থতার কারণে কোনো শিশুকে ‍শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি বা অমত বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা বাধা দেওয়া বা সমান সুযোগ-সুবিধা বা অবস্থানের ক্ষেত্রে পার্থক্য, বঞ্চনা, বিধি-নিষেধ আরোপ, সীমাবদ্ধকরণ, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার বা অন্য যে কোনো ধরনের বৈমষ্য করা।

    ৬. সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ, ছুটি, পদোন্নতি, বদলি, বেতন-ভাত-মজুরি বা সুযোগ-সুবিধাদি প্রাপ্তিতে পার্থক্য, বঞ্চনা, বিধি-নিষেধ আরোপ, সীমাবদ্ধকরণ বা পদত্যাগ করতে বাধ্য করা বা চাকরিচ্যুত করা।

    ৭. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানের আয়োজন, তাতে প্রবেশ ও অংশ নেওয়ার বা নিজস্ব ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশ ও অংশগ্রহণ বা নিজ ধর্ম অনুযায়ী দাফন বা শেষকৃত্য বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা সৎকার সম্পাদন ও যোগদানে বাধা দেওয়া।

    ৮. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো বৈধ পেশা বা চাকরি গ্রহণ বা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করা।

    ৯. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বাড়িভাড়া না দেওয়া বা বসবাসের স্থান দিতে অস্বীকৃতি জানানো বা অমত করা বা আবেদন অনুমোদন না করা বা কঠিন শর্ত আরোপ করা।

    ১০. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে তার বা তাদের বাসস্থানের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়া, বাসস্থান বা এলাকা থেকে উচ্ছেদ বা এলাকা বা বাসস্থান ত্যাগে বাধ্য করা।

    ১১. গ্রাম্য সালিশ বা সামাজিকভাবে বা ধর্মীয়ভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে একঘরে করা, সামাজিকভাবে বয়কট করা বা হয়রানি করা।

    ১২. তালাকপ্রাপ্ত, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে বৈষম্যমূলক আচরণ করা।

    ১৩. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা রীতিনীতি পালন করা থেকে বিরত রাখা বা তাদের অন্য কোনো ধর্মগ্রহণ ও পালন বা ত্যাগ করতে বাধ্য করা।

    ১৪. স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক, রাজনৈতিক, ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।

    ১৫. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনানুগভাবে সম্পত্তি অর্জনে ও হস্তান্তরে বাধা দেওয়া এবং সম্পত্তিতে অধিকার বা উত্তরাধিকার লাভে বঞ্চিত করা।

    প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো বৈষম্যমূলক কাজ ঘটলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী বা ঘটনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দায়েল করতে পারবে। জেলা কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করবে। ঘটনা প্রমাণ হলে অভিযুক্তের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে।

    জেলা কমিটি প্রতিকার করতে না পারলে বিভাগীয় কমিটির কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এ কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে। না করলে অভিযোগকারী জাতীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। এ কমিটি ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে।

    জাতীয় কমিটি যদি প্রতিকার করতে না পারে তবে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, দেওয়ানি কার্যবিধিতে যাই থাকুক না কেন মামলা দায়েরের পর ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আরও ১৫ দিন সময় পাবে আদালত।

    আদালত যথাযথ প্রতিকারের আদেশ এবং প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারবে।

  • মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

    মন্ত্রী জানান, এবছর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন। আসন সাপেক্ষে তাদের মধ্যে প্রথম ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

    বাকিদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন আছে মোট ৬ হাজার ৪৮৯টি।

    পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৫ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন সুমাইয়া মোসলেম মীম নামে এক শিক্ষার্থী।

    ফল প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। আমরা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাইনি। ছেলেদের থেকে মেয়েরা বেশি পাস করেছে। সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর পেয়েছে মেয়ে। বেশি পাস করেছে মেয়ে।

    তিনি বলেন, এবছর ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেন ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন। শতকরায় যা ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। শিক্ষার্থীরা আগামী ৭-১২ এপ্রিল পর্যন্ত রিভিউয়ের (পুনর্মূল্যায়ন) আবেদন করতে পারবেন। কীভাবে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করতে হবে তা পরবর্তীকালে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, আমাদের তিনটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের প্রথম থেকেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল শতভাগ সুন্দর ও স্বচ্ছ পরীক্ষা উপহার দেওয়া। আমাদের সংশ্লিষ্ট সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই পরীক্ষাকে শতভাগ সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য। আমরা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি।

    এমবিবিএস (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গত শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টায়। ১৯টি কেন্দ্রের মোট ৫৭টি ভেন্যুতে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৮টি মেডিকেল ও একটি ছিল ডেন্টাল কলেজ।

    মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ইতিহাসে এবছর এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৩০ জন অংশ নেন। দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৪ হাজার ৩৫০টি। এ হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়েছেন ৩৩ জন।

    ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান।

  • দেশের প্রথম পাতাল রেলের কাজ শুরু শিগগির, পরিবেশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    দেশের প্রথম পাতাল রেলের কাজ শুরু শিগগির, পরিবেশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, নদ্দা, বাড্ডা ছুঁয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ছুটবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। এই অংশের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার। সব ঠিক থাকলে ডিপো নির্মাণের কাজ শুরু হবে আগামী জুন মাসে। এবার প্রকল্প এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকবে পরিবেশের ওপর। যথাসম্ভব রোধ করা হবে শব্দ ও বায়ুদূষণ। ব্যবহার করা হবে না কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি। নির্মাণকাজ কমলাপুর থেকেই শুরু হবে বলে জানায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

    ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন, পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে ছয়টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল)। এর আওতায় মোট ১২৯ দশমিক ৯০১ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে উড়াল ৬৮ দশমিক ৭২৯ কিলোমিটার এবং পাতাল ৬১ দশমিক ১৭২ কিলোমিটার। দীর্ঘ রুটে ১০৫টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে উড়াল ৫২টি ও পাতাল ৫৩টি।

    এমআরটি লাইন-১
    এটি বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এটি দুটি অংশে বিভক্ত। অংশ দুটি হলো- বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) এবং পূর্বাচল রুট (নতুনবাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো)। বিমানবন্দর রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার এবং মোট পাতাল স্টেশন সংখ্যা ১২টি। পূর্বাচল রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। নতুনবাজার ও নদ্দা স্টেশন বিমানবন্দর বুটের অংশ হিসেবে পাতাল নির্মিত হবে। নতুনবাজার স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ থাকবে। এই ইন্টারচেঞ্জ ব্যবহার করে বিমানবন্দর রুট থেকে পূর্বাচল রুটে এবং পূর্বাচল রুট থেকে বিমানবন্দর রুটে যাওয়া যাবে। উভয় রুটের বিস্তারিত স্ট্যাডি সার্ভে ও বেসিক নকশা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিটেইলড নকশার কাজ চলমান। ডিটেইল্ড নকশা অগ্রগতি শতভাগ। নির্মাণকাজের সব দরপত্র দলিল প্রস্তুত কার্যক্রমের অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ। এমআরটি-১ এর ডিপো ও ডিপো অ্যাক্সেস করিডোর নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ ও ব্রাহ্মণখালী মৌজায় ৯২ দশমিক ৯৭২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
    এমআরটি রুট-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (সিভিল, ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিং অ্যান্ড ইউটিলিটি) মো. মাহবুব উল আলম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের প্রথম পাতাল রেল নির্মাণকাজ শুরুর শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। চলতি বছরের জুন মাসে কমলাপুর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পাতাল মেট্রোরেলের খননকাজ শুরু করতে পারবো। এই লক্ষ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের আগে যেসব কাজ করতে হয় তার সবই শেষ পর্যায়ে।

    ডিএমটিসিএল জানায়, নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধানের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। ডিপোর ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্যাকেজের কারিগরি দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জাইকা সম্মতি দিয়েছে। ডিপোর ভূমি উন্নয়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ।

    এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোট, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।

    রুট
    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-খিলক্ষেত-কুড়িল-যমুনা ফিউচার পার্ক-বাড্ডা-রামপুরা-মালিবাগ-রাজারবাগ-কমলাপুর এবং কুড়িল থেকে কাঞ্চন সেতুর পশ্চিম পাশ পর্যন্ত।

    প্রস্তাবিত স্টেশন
    বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ, কমলাপুর ও কুড়িল, বসুন্ধরা, মাস্তুল, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল টার্মিনাল।

    ডিএমটিসিএল জানায়, মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত বিধায় কোনো ধরনের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানি ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ুদূষণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মেট্রোরেল অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করবে বিধায় ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার বহুল সংখ্যায় কমে জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস পাবে। এতে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যাবে। মেট্রোরেলের রেলওয়ে ট্র্যাকের নিচে মাস স্প্রিং সিস্টেম (এমসিসি) থাকবে। কন্সট্রাকশন উইলডিডি রেল ব্যবহার করা হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পাশে শব্দ প্রতিবন্ধক দেওয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদণ্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে না, বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

    প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ সেফটি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের খননকাজ শুরু হবে সহসাই। আমরা পরিবেশগত বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে খনন, ধুলোবালি ও নির্মাণকাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা দুর্ভোগে না পড়েন। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য থাকবে যাতে বায়ুদূষণ না হয়। বর্তমানে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কত, প্রকল্পের কাজ শুরুর পরে কত হবে- বিষয়গুলো নিয়ে নানা ধরনের ছক কষছি। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য থাকবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয়রা যাতে দুর্ভোগে না পড়েন এবং ঢাকার বায়ুমান যেন ঠিক থাকে।

    উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলমান। প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা ধুলাসহ নানা ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন। এমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এমআরটি-৬ এর দায়িত্বে আমি নেই। তবে আমি বলতে পারি এমআরটি-১ প্রকল্পে ১৬ কিলোমিটারের বেশি পাতাল মেট্রো। সুতরাং এখানে সমস্যা হবে না। যেখানে উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণ হবে সেই অংশেও জনবসতি কম। তারপরও পরিবেশ ও মানুষের প্রতিবন্ধকতা যেন না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্পের কারণে ধুলোবালি, দূষণ ও মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক যাতে ঠিক থাকে সে বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

  • রমজানের শিক্ষা সমাজের সব স্তর ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক

    রমজানের শিক্ষা সমাজের সব স্তর ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রমজানের মহান শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। তিনি পবিত্র মাহে রমজান উপললেক্ষ দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন।

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বছর ঘুরে বরকতময় মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। মহান আল্লাহর নৈকট্য এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র এ মাস। সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমালাভের জন্য যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ মাসটি পালন করে থাকে।

    সিয়াম ধনী-গরিব সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে- এ কথা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, রমজানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখবেন এ প্রত্যাশা করি।

    রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে তিনি যথাযথ স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    আবদুল হামিদ সমাজের সচ্ছল জনগোষ্ঠীকে অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

    রমজানের পবিত্রতায় সবার জীবন ভরে উঠুক- এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত দান করুন।

  • ধৈর্য ও সংযমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ধৈর্য ও সংযমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, ‘আসুন, পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছলতা ও সংঘাত পরিহার করি এবং জীবনের সর্বস্তরের পরিমিতিবোধ, ধৈয ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি।’

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, সিয়াম সাধনা ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। এ মাসে আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্যলাভ এবং ক্ষমালাভের অপূর্ব সুযোগ হয়। সিয়াম ধনী-গরিব সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। আমাদের সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রমজানের তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায়ের আহ্বান জানাচ্ছি। সিয়াম পালনের পাশাপাশি আমরা যেন ঘরে অবস্থান করে, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকি।’

    তিনি বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের জাতীয় জীবনে পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজান আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি, সকলের জীবন মঙ্গলময় হোক। আমাদের দেশ ও জাতি তথা বিশ্ববাসী এই করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পাক- মহান রাব্বুল আল-আমিনের কাছে এই দোয়া করি। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সবার হেফাজত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।