Category: জাতীয়

  • হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনতে তিন মিশন কাজ করছে

    হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনতে তিন মিশন কাজ করছে

    ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলার ঘটনায় নিহত হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে ফেরাতে একসঙ্গে তিনটি মিশন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব-ইউরোপ) শিকদার বদিউজ্জামান।

    বুধবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের ২৮ নাবিক রোমানিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় তিনি বলেন, জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ এখনও ইউক্রেনে রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ দেশে ফেরাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। তবে কত দিনের মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসা সম্ভব হবে, তার সঠিক সময় বলা মুশকিল।ইউক্রেনে যুদ্ধ চলার কারণে সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে তার মরদেহ দেশে আনতে আমরা যথেষ্ট আন্তরিক। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের তিনটি মিশন একসঙ্গে কাজ করছে।

    শিকদার বদিউজ্জামান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ, ইউক্রেনে যুদ্ধাবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। পোল্যান্ড, সোমালিয়া ও অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। হাদিসুরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যাপারে কাজ করছি, সেটা সম্পন্ন হোক। তারপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য যা করণীয়, তা আমরা করব।’ শিকদার বদিউজ্জামান বলেন, দেশে ফেরা ২৮ নাবিক পুরোপুরি সুস্থ আছেন।তবে তারা ট্রমাটাইজড। তাদের মেডিকেল টেস্টসহ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।’ এর আগে ইউক্রেনে আটকে পড়া জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক দেশে পৌঁছান।

    বুধবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭২২ ফ্লাইটে নাবিকরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে নাবিকদের ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুল-দুবাই হয়ে আজ ঢাকায় অবতরণ করে। এ ছাড়া জাহাজে হামলার ঘটনায় মারা যাওয়া থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ হাদিসুর রহমানের মরদেহ ইউক্রেনের একটি বাংকারের ফ্রিজারে রাখা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানা গেছে।

    গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকা পড়ে বাংলার সমৃদ্ধি। ২ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে জাহাজটি হামলার শিকার হয়। হামলার কবলে পড়া ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র জীবিত ২৮ নাবিককে গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

  • বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়: ঠাকুরগাঁওয়ে তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়: ঠাকুরগাঁওয়ে তথ্যমন্ত্রী

    বুধবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাও জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে এসে এই সব কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুতরাং তাদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই। সে জন্য তারা তাদের দলকে নির্বাচন মুখী করতে চায় না। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে তাদের পরাজয় হবে সেটিও তারা নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    তথ্য মন্ত্রী আরও বলেন, গত বার বছরে বাংলাদেশ বদলে গেছে, প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিটি মানুষ ভালো আছে। কিন্তু এই উন্নয়ন অগ্রগতি যাদের পছন্দ হয় না। সেই বিএনপি এবং তাদের দোসরেরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে এবং দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন গত ১৩ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, সে জন্য দেশের মানুষ আওয়ামীলীগের সাথে আছে। সেই কারণেই বিএনপিসহ তাদের দোসরেরা সংকিত। তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এবং আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় তারা এখন নানা ধরনের বিভ্রান্ত ছড়াছে বলে জানান তিনি।

    আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯২তম দেশ। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনে পৃথিবীতে ৩য়, ধান উৎপাদনে ৩য়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে ২য়, আলু উৎপাদনে ৭ম। এটা সম্ভব হয়েছে কোন যাদুর কারণে নয়, শেখ হাসিনার যাদুর রাজনীতির নেতৃত্বে।

    দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে। সেই অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশের বেশীর ভাগ বড় বড় ব্যবসায়ী বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত, মির্জা ফখরুল ইসলামের সাথে অনেকেই যুক্ত। মির্জা ফখরুল ইসলামের যে চক্রান্ত তাদের হাত মিলিয়ে পণ্য মজুত করে মূল্য বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যে কথা গুলো বলেছেন, শুধু মির্জা ফখরুল নয় রেজভি সাহেবও অনেক কথা বলেছেন। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন আমি কিন্তু গ্রামের এমপি। আমি বিশ বাইশ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকায় যাই। রেজভি সাহেব তো নয়া পল্টনে তাদের কার্যালয়ে বসে থাকেন। ওখানেই খায়, ওখানেই ঘুমায়। সে কারণেই তিনি দেশের অবস্থা জানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কেন্দ্রয় সদস্য সাবেক এমপি এ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, এ্যাড. সফুরা বেগম রুমি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহা. সাদেক কুরাইশী, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবন্দ।

    তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়, তাদের যে সন্ত্রাসী রাজনীতি, জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বেগম জিয়া ও তারেক রহমান দুজনই শাস্তিপ্রাপ্ত দণ্ড প্রাপ্ত আসামী। সে জন্য তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

    বুধবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাও জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে এসে এই সব কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুতরাং তাদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই। সে জন্য তারা তাদের দলকে নির্বাচন মুখী করতে চায় না। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে তাদের পরাজয় হবে সেটিও তারা নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    তথ্য মন্ত্রী আরও বলেন, গত বার বছরে বাংলাদেশ বদলে গেছে, প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিটি মানুষ ভালো আছে। কিন্তু এই উন্নয়ন অগ্রগতি যাদের পছন্দ হয় না। সেই বিএনপি এবং তাদের দোসরেরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে এবং দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন গত ১৩ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, সে জন্য দেশের মানুষ আওয়ামীলীগের সাথে আছে। সেই কারণেই বিএনপিসহ তাদের দোসরেরা সংকিত। তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এবং আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় তারা এখন নানা ধরনের বিভ্রান্ত ছড়াছে বলে জানান তিনি।

    আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯২তম দেশ। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনে পৃথিবীতে ৩য়, ধান উৎপাদনে ৩য়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে ২য়, আলু উৎপাদনে ৭ম। এটা সম্ভব হয়েছে কোন যাদুর কারণে নয়, শেখ হাসিনার যাদুর রাজনীতির নেতৃত্বে।

    দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে। সেই অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশের বেশীর ভাগ বড় বড় ব্যবসায়ী বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত, মির্জা ফখরুল ইসলামের সাথে অনেকেই যুক্ত। মির্জা ফখরুল ইসলামের যে চক্রান্ত তাদের হাত মিলিয়ে পণ্য মজুত করে মূল্য বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যে কথা গুলো বলেছেন, শুধু মির্জা ফখরুল নয় রেজভি সাহেবও অনেক কথা বলেছেন। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন আমি কিন্তু গ্রামের এমপি। আমি বিশ বাইশ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকায় যাই। রেজভি সাহেব তো নয়া পল্টনে তাদের কার্যালয়ে বসে থাকেন। ওখানেই খায়, ওখানেই ঘুমায়। সে কারণেই তিনি দেশের অবস্থা জানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কেন্দ্রয় সদস্য সাবেক এমপি এ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, এ্যাড. সফুরা বেগম রুমি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহা. সাদেক কুরাইশী, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবন্দ।

  • ২০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ সয়াবিন তেলে

    ২০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ সয়াবিন তেলে

    অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবত থাকবে।

    এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য ভোজ্যতেল ও চিনি থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।


    অর্থমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। আবার আমদানিকারকরা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যারা সিন্ডিকেট করে মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করে তারা এবার সুযোগ পাবে না। কারণ সরকার টিসিবিকে শক্তিশালী করছে। টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সরবরাহ করা হবে। টিসিবিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    তবে ভোজ্যতেল চিনি আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে এনবিআর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হয় না।

    এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নীতি) মো. মাসুদ সাদিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, আমি এই মুহূর্তে বাজেট সভা করতে রাজশাহীতে রয়েছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না, ফলে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।


    সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। যদিও সেই প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সায় দেয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে ভোজ্যতেল আমদানিতে যে পরিমাণ ভ্যাট নেওয়া হয় সেটা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। এই সংকটময় সময়ে সরকার আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট তুলে নিলে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

    এদিকে আজ এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সভায় সংগঠনটির আহ্বায়ক ড দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ যেসব আমদানি নির্ভরপণ্য বেশি ব্যবহার করে, সেগুলোর ওপর থেকে সরকারের শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন।

    ক্রয় কমিটির সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৮টি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রস্তাব রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে ছোলা মসুর ডাল সয়াবিন কিনে জনগণের মধ্যে বিতরণ করবে। টিসিবি’র প্রতি কেজি চিনি ৭৯ টাকা, ছোলা ৮১ টাকা ৪০ পয়সা মসুর ডাল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৮ টাকা দরে কিনছে।

  • সিইসি’র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

    সিইসি’র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

    রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘গণসংহতি আন্দোলনকে’ নিবন্ধন দিতে উচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশনা না মানায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।


    দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির আবেদনে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রুল দেন।


    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

    গণসংহতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়। পরের বছরের ১৯ জুন নির্বাচন কমিশন এক চিঠির মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষে দলটির প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন।

    রিটের প্রাথমিক শুনানির পর আদালত দলটির নিবন্ধন প্রশ্নে রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল রুল যথাযথ ঘোষণা করেন এবং রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন দিতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে এম নুরুল হুদা।


    পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ রায় ও আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হয়। আদালত থেকেও রায় সিইসির দপ্তরে পাঠানো হয়। তারপরেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

    এরপর বিভিন্ন সময় দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ফল না পাওয়ায় গত বছরের ১০ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয় নুরুল হুদাকে। ওই নোটিশের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন গণসংহতির নিবন্ধনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

    এরপরই গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিইসি কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে অবেদন করেন গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি।

    আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “আবেদনটি কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সিইসি পরিবর্তন হওয়ায় আদালতের নির্দেশ বর্তমান সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে বিবাদী করা হয়েছে। এখন রুলের জবাব বর্তমান সিইসিকেই দিতে হবে। ”

  • ড. কামালকে আইনি নোটিশ দুই শীর্ষ নেতার

    ড. কামালকে আইনি নোটিশ দুই শীর্ষ নেতার

    বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, প্রখ্যাত আইনজীবী ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে তার দলেরই একাংশের দুই শীর্ষ নেতা।

    বুধবার গণফোরামের একাংশের সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

    কাউন্সিল আয়োজনের অনুমতি দিয়েও কমিটি গঠনের পর নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে এ সংক্রান্ত বিষয় অস্বীকার করে ড. কামাল প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে নোটিশে।

    জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ গনমাধ্যমকে বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে গণফোরামের কাউন্সিল হয়েছে। ড. কামাল হোসেন নিজেই চিঠি দিয়ে কাউন্সিল আয়োজনে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এরপর কাউন্সিল হয়েছে, গণফোরামের নতুন কমিটি হয়েছে। এখন আমরা দেখছি, আগামী ১২ মার্চ মোকাব্বির খানের নেতৃত্বে আবার গণফোরামের সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এই সম্মেলনে উপস্থিত হলে ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    মহসিন রশিদ আরও বলেন, ড. কামাল হোসেনের অনুমতি নিয়েই আমরা সম্মেলন করেছি। পরে কাউন্সিল থেকে গণফোরামের নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়। কমিটির নেতাদের নাম উল্লে­খ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু ড. কামাল হোসেন ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে পালটা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারায় অপরাধ করেছেন। তাই আমরা তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।

  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সরকার দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে দুর্যোগে প্রাণহানি এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।  

    তিনি বলেন, প্রতি বছরের মতো দেশব্যাপী জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা’ যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দুর্যোগ নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে দুর্যোগে প্রাণহানি এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় চিরাচরিত ‘দুর্যোগ পরবর্তী সাড়াদান ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘আগাম ব্যবস্থাপনা’ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে এনেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচি প্রণয়নের পথিকৃৎ। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় সেই সময় ১৭২টি উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করেন, যা পরে জনগণ ‘মুজিব কিল্লা’ নামকরণ করে। 
      
    তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের সময়ে ‘মুজিব কিল্লা’কে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করে মানব ও প্রাণিসম্পদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আশ্রয়স্থল করা হয়েছে। একইভাবে পুরুষের সঙ্গে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও গতিশীল করা হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ব্যবস্থাপনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেন্ডার রেসপনসিভ ক্যাটাগরিতে ঘূর্ণিঝড়ে প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-তে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্মানসূচক জাতিসংঘ জনসেবা পদক-২০২১ অর্জন করেছে।’

    দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে দেশের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় টেকসই ও আধুনিক বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ক্রমবর্ধমান হারে গৃহীত প্রকল্প, গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মি দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, বজ্রপাত নিরোধক কর্মসূচি, গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচি ইত্যাদি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ১০৯০ (টোল ফ্রি) আইভিআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পূর্বপ্রস্তুুতি গ্রহণ করে জনগণকে সুরক্ষিত করে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার পাশাপাশি সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।

  • সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নিলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব

    সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নিলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সঠিক সময়ে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া গেলে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্ব-প্রস্তুতিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১০মার্চ) ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এদিন দেশব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে।

    তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা গেলে এসব দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। 

    রাষ্ট্রপতি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। উপকূলীয় বনায়নের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং মুজিব কিল্লা নির্মাণের কাজও তখন থেকে শুরু হয়েছিল। তিনি ১৯৭৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচিকে (সিপিপি) সরকারের অন্যতম একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যা আজও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি উত্তম চর্চা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

    আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই বর্তমান সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণ রাস্তায় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রমীণ মাটির রাস্তাগুলো টেকসই করার লক্ষ্যে হেরিংবোন বন্ডকরণ, উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

    তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে সম্পদের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। 
    সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেও রাষ্ট্রপতি  প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • মোদিকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ

    মোদিকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ

    যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক টুইট বার্তায় বুধবার মোদিকে তিনি ধন্যবাদ জানান। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই এ খবর দিয়েছে।

    টুইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অপারেশন গঙ্গার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করায় তাকে ধন্যবাদ জানান হাসিনা।

    রাশিয়ার আগ্রাসনে ইউক্রেনের বিধ্বস্ত বিভিন্ন শহর থেকে গত কয়েক দিনে কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় নেপাল, পাকিস্তান, তিউনিশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও উদ্ধার করে ভারত।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো চাইলে তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন থেকে উদ্ধারে নয়াদিল্লি­ সহায়তা করবে বলে প্রস্তাব দেন। তার এই প্রস্তাবের পর পাকিস্তানের কয়েকজন নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। পরে ইসলামাবাদও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়।

  • প্রতিদিন ১১৫ শিশু জন্মদিচ্ছে রোহিঙ্গারা, বাড়ছে অস্থিরতা

    প্রতিদিন ১১৫ শিশু জন্মদিচ্ছে রোহিঙ্গারা, বাড়ছে অস্থিরতা

    উখিয়ার বালু খালি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী রোকেয়া বেগমের বয়স মাত্র ২৫ বছর। এরই মধ্যে তিনি ছয় সন্তানের জননী। এছাড়া বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে জন্ম দিয়েছেন তিন সন্তানের। সন্তান বেশি হওয়ায় এখন নাকি তার সংসারে তেমন অভাব নেই। কারণ ছেলেরাও আয়-রোজগার করছে। তবে এই ছোট্ট ঘরে সবাইকে নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়। আরো সন্তান নেয়ার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে প্রথমে কথা বলতে লজ্জাবোধ করলেও পরে রোকেয়া বলেন, আল্লাহ চাইলে ও তার স্বামীর ইচ্ছা থাকলে ছেলে মেয়ে বেশি হলে দোষ কি। তবে ক্যাম্পে এসে এখন চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের শরীর ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি।


    পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের আরেক নারী তৈয়বা খাতুন। বয়স ২৩। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী। চেহারা রোগাক্রান্ত, দেখেই বোঝা যায় অসুস্থ শরীর, চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। তিনি আবারো ছয় মাসের গর্ভবতী। তিনি জানান, স্বামীর আদেশ মানতে গিয়ে নাকি তার আজ এ অবস্থা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রী নিজেরা ব্যবহার না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেন বলেও জানান তিনি।

    রোকেয়া-তৈয়বার মতো এমন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী রয়েছেন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে, যাদের সন্তান সংখ্যা পাঁচের বেশি। এসব নারীর সন্তানরাও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তবে সন্তানদের শারীরিক গঠন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

    মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গারা সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য। ক্যাম্পে অবস্থানরত অনিশ্চিত জীবনেও থেমে নেই তাদের সন্তান নেয়ার প্রবণতা। গত সাড়ে চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় দুই লাখ শিশু জন্মলাভ করেছে। অশিক্ষিত রোহিঙ্গারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণে অনাগ্রহী। বেশি সন্তান জন্মদান শারীরিকভাবে ক্ষতিকর বুঝলেও তারা তা মানছেন না। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়ছে একাধিক বিয়ে করার প্রবণতাও।

    কুতুপালং ১৬ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা আবুল কালাম জানান, তার স্ত্রী রয়েছেন দু’জন। প্রথমটি মিয়ানমারে, দ্বিতীয়টি এ দেশে এসে বিয়ে করেছেন। দুই সংসারে রয়েছে ৯ সন্তান। তার বড় মেয়ে রশিদা বেগমকে অন্য একটি ক্যাম্পে বিয়ে দিয়েছেন। তারও রয়েছে দুই সন্তান।

    তিনি আরো জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদেরকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে তারা একসময় বিশাল একটি জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। মূলত এ বিশ্বাস থেকেই তারা কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে থাকেন। অনেক পুরুষ রোহিঙ্গা আবার একাধিক বিয়ে করে সন্তান সংখ্যা বাড়িয়ে চলছেন। তাই প্রতি বছর রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে সদস্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এছাড়া এ দেশে এসে রোহিঙ্গা পরিবারে সদস্য সংখ্যা যত বেশি থাকবে, তত বেশি সরকারি, বেসরকারি ত্রাণ বা রেশন সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পে অধিকাংশ পুরুষ রোহিঙ্গার একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তারা সন্তান জন্মদানকে আল্লাহর দান বলে মনে করেন। যেকোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণেও রয়েছে তাদের চরম অবহেলা। ক্যাম্পের নারীরাও কিছু ধর্মীয় কথাবার্তাকে পুঁজি করে বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী। খুব প্রয়োজন না হলে রোহিঙ্গা নারীরা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে যান না। এছাড়া রোহিঙ্গা নারীরা মনে করেন, স্বামী ছেড়ে গেলেও সন্তান বেশি থাকায় ক্যাম্পে রেশনিং কার্ডে ত্রাণসামগ্রী বেশি পাবেন।

    কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত সাড়ে চার বছরে প্রায় ২ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর এখন হিসাব অনুযায়ী নতুন এবং পুরোনো রোহিঙ্গা এবং এ দেশে জন্ম নেয়া শিশুসহ রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। প্রতি বছর গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৩৯ হাজার ৪৩৮ শিশু।

    টেকনাফ ২১ নম্বর ক্যাম্পের চাকমারকুল মেডিকেল ক্যাম্পে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী উম্মে কুলসুম বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো ধরনের ধারণা পায়নি।

    কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা নারীদের বিষয়টি বোঝানোর জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও এনজিওগুলো কাজ করছে। এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের কাছে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরছি।

    অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, জন্মহার বাড়ছে, তবে নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পে দায়িত্বরত সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত চার বছরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাড়ছে অস্থিরতা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যার সমান হবে রোহিঙ্গারা।

    কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন ১১৫ থেকে ১২০ জন শিশু জন্ম নিচ্ছে বলে একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে।

    উখিয়ার বালু খালি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী রোকেয়া বেগমের বয়স মাত্র ২৫ বছর। এরই মধ্যে তিনি ছয় সন্তানের জননী। এছাড়া বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে জন্ম দিয়েছেন তিন সন্তানের। সন্তান বেশি হওয়ায় এখন নাকি তার সংসারে তেমন অভাব নেই। কারণ ছেলেরাও আয়-রোজগার করছে। তবে এই ছোট্ট ঘরে সবাইকে নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়। আরো সন্তান নেয়ার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে প্রথমে কথা বলতে লজ্জাবোধ করলেও পরে রোকেয়া বলেন, আল্লাহ চাইলে ও তার স্বামীর ইচ্ছা থাকলে ছেলে মেয়ে বেশি হলে দোষ কি। তবে ক্যাম্পে এসে এখন চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের শরীর ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি।


    পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের আরেক নারী তৈয়বা খাতুন। বয়স ২৩। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী। চেহারা রোগাক্রান্ত, দেখেই বোঝা যায় অসুস্থ শরীর, চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। তিনি আবারো ছয় মাসের গর্ভবতী। তিনি জানান, স্বামীর আদেশ মানতে গিয়ে নাকি তার আজ এ অবস্থা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রী নিজেরা ব্যবহার না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেন বলেও জানান তিনি।

    রোকেয়া-তৈয়বার মতো এমন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী রয়েছেন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে, যাদের সন্তান সংখ্যা পাঁচের বেশি। এসব নারীর সন্তানরাও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তবে সন্তানদের শারীরিক গঠন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

    মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গারা সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য। ক্যাম্পে অবস্থানরত অনিশ্চিত জীবনেও থেমে নেই তাদের সন্তান নেয়ার প্রবণতা। গত সাড়ে চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় দুই লাখ শিশু জন্মলাভ করেছে। অশিক্ষিত রোহিঙ্গারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণে অনাগ্রহী। বেশি সন্তান জন্মদান শারীরিকভাবে ক্ষতিকর বুঝলেও তারা তা মানছেন না। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়ছে একাধিক বিয়ে করার প্রবণতাও।

    কুতুপালং ১৬ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা আবুল কালাম জানান, তার স্ত্রী রয়েছেন দু’জন। প্রথমটি মিয়ানমারে, দ্বিতীয়টি এ দেশে এসে বিয়ে করেছেন। দুই সংসারে রয়েছে ৯ সন্তান। তার বড় মেয়ে রশিদা বেগমকে অন্য একটি ক্যাম্পে বিয়ে দিয়েছেন। তারও রয়েছে দুই সন্তান।

    তিনি আরো জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদেরকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে তারা একসময় বিশাল একটি জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। মূলত এ বিশ্বাস থেকেই তারা কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে থাকেন। অনেক পুরুষ রোহিঙ্গা আবার একাধিক বিয়ে করে সন্তান সংখ্যা বাড়িয়ে চলছেন। তাই প্রতি বছর রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে সদস্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এছাড়া এ দেশে এসে রোহিঙ্গা পরিবারে সদস্য সংখ্যা যত বেশি থাকবে, তত বেশি সরকারি, বেসরকারি ত্রাণ বা রেশন সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পে অধিকাংশ পুরুষ রোহিঙ্গার একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তারা সন্তান জন্মদানকে আল্লাহর দান বলে মনে করেন। যেকোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণেও রয়েছে তাদের চরম অবহেলা। ক্যাম্পের নারীরাও কিছু ধর্মীয় কথাবার্তাকে পুঁজি করে বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী। খুব প্রয়োজন না হলে রোহিঙ্গা নারীরা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে যান না। এছাড়া রোহিঙ্গা নারীরা মনে করেন, স্বামী ছেড়ে গেলেও সন্তান বেশি থাকায় ক্যাম্পে রেশনিং কার্ডে ত্রাণসামগ্রী বেশি পাবেন।

    কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত সাড়ে চার বছরে প্রায় ২ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর এখন হিসাব অনুযায়ী নতুন এবং পুরোনো রোহিঙ্গা এবং এ দেশে জন্ম নেয়া শিশুসহ রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। প্রতি বছর গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৩৯ হাজার ৪৩৮ শিশু।

    টেকনাফ ২১ নম্বর ক্যাম্পের চাকমারকুল মেডিকেল ক্যাম্পে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী উম্মে কুলসুম বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো ধরনের ধারণা পায়নি।

    কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা নারীদের বিষয়টি বোঝানোর জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও এনজিওগুলো কাজ করছে। এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের কাছে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরছি।

    অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, জন্মহার বাড়ছে, তবে নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পে দায়িত্বরত সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত চার বছরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাড়ছে অস্থিরতা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যার সমান হবে রোহিঙ্গারা।

  • প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ ভৈরব শহরের ভৈরবপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

    তার বাবা মরহুম মেহের আলী মিয়া ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও ময়মনসিংহ লোকাল বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং জেলা বোর্ডের সদস্য। জিল্লুর রহমান ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে আওয়ামী মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুর্থনের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।


    ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগের দুবার ও বাকশালের একবার সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৮ সালের ২৭ জুন তিনি ভৈরবের মেয়ে আইভি রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়ের স্বাক্ষী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

    ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ঘাতকরা হত্যা করলে সামরিক শাষকরা তাকে গ্রেফতার করে। ১৯৯৬ সালে আ.লীগ সরকার গঠন করলে তাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ২০০৯ সালে আ.লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে ওই সালের ১২ ফেব্রুয়ারী তিনি দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হন।

    জিল্লুর রহমানের এক ছেলে নাজমুল হাসান পাপন ও দুই মেয়ে তানিয়া ও ময়না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তার স্ত্রী আইভি রহমান নিহত হন। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ তিনি অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুর মাউথ এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান।


    আজ তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভৈরব উপজেলা আ.লীগ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।