Category: জাতীয়

  • এখনও যোগদান না করা পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে

    এখনও যোগদান না করা পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে

    পুলিশের যেসব সদস্য এখনও কাজে যোগদান করেননি তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যারা এখনও যোগদান করেনি তাদের আমরা পুলিশ বলব না। তাদের ক্রিমিনাল বলব। আমরা আনসার, পুলিশ ও বিজিবি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দু’একদিনের মধ্যে আপনারা সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পাবেন।

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আজ ছিল আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় সভা। বেলা ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, এবারের পূজা সবচেয়ে নির্বিঘ্ন হবে, সবচেয়ে ভালো হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আশুলিয়ায় শিল্পকারখানায় যে ঝামেলা চলছে, তা নিয়েও কথা বলেছি। অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ও মাদকের ব্যবহার রোধ নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেছি। মিয়ানমার সীমান্ত নিয়েও আমরা কথা বলেছি।

    তিনি বলেন, পূজা নির্বিঘ্ন করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার, সবই নেব। আশা করব এবারের পূজা আগের বারের চেয়ে অনেক ভালো হবে। এজন্য সবার সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি যেটা হয়েছে, সেটা সন্তোষজনক। যত দিন যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

    উপদেষ্টা বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন মাজার ও দরগায় কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাত নিয়ে আমরা কথা বলেছি।

    কতজন পুলিশ এখনও কাজে যোগ দেয়নি– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮৭ জনের মতো ছিল। পরে মনে হয় আর কেউ যোগদান করেননি। যারা যোগ দেননি, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের আমরা পুলিশ বলব না, তাদের আমরা অপরাধী হিসেবে গণ্য করব।

  • সাগর-রুনি হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার অনুমতি পেলেন ৯ আইনজীবী

    সাগর-রুনি হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার অনুমতি পেলেন ৯ আইনজীবী

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় বাদীর ব্যক্তিগত খরচে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরসহ ৯ আইনজীবীকে মামলা পরিচালনা করার আনুমতি দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলী রোমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার একই আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য ৯ আইনজীবীকে নিয়োগের আবেদন করেন বাদী। শুনানি শেষে আদালত বাদীর উপস্থিতিতে এ বিষয় শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

    আবেদনে বলা হয়, মামলার ভিকটিম সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনিকে অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিরা ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। মামলাটি দীর্ঘ ১২ বছর তদন্ত চলামান থাকলেও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলায় কোনো প্রকার অগ্রগতি নেই। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটরকে সহায়তার জন্য বাদী পক্ষে নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা আব্যশ্যক।

    শিশির মনির ছাড়া অন্য আইনজীবীরা হলেন-অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, মিজানুল হক, মোস্তফা জামাল, আবু রাসেল, মহিউদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ইকবাল হোসেন ও মোত্তাকিন হোসাইন।

    আলোচিত এ হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অন্য আসামিরা হলেন— বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

    ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক এসআই। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

  • এক যুগেও সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক: হাইকোর্ট

    এক যুগেও সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক: হাইকোর্ট

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ১২ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া শুধু তার পরিবারের জন্য না, সমগ্র জাতির জন্য দুঃখজনক। বিচার বিভাগের জন্যও এটা কষ্টের কারণ।

    রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিকালে সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন।

    শুনানি শেষে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়। টাস্কফোর্স গঠনের পর ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    হাইকোর্ট বলেছেন, আশা করি এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং তদন্তের জন্য দেওয়া এবারের ছয় মাস, মানে ছয় মাস।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে মামলার বাদী নওশের রোমান সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।

    নিয়োগের বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেছিলেন, আমরা সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করবো। এর অংশ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে খুবই দ্রুত মিটিং করবো। একইসঙ্গে হত্যার রহস্য উন্মোচনে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।

    সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত ১১৩ বার সময় বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।

    ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।

  • প্রত্যাহার হচ্ছে সাইবার আইনের মামলা, গ্রেফতাররা মুক্তি পাচ্ছেন

    প্রত্যাহার হচ্ছে সাইবার আইনের মামলা, গ্রেফতাররা মুক্তি পাচ্ছেন

    সাইবার আইনে দায়ের হওয়া ‘স্পিচ অফেন্স’ সম্পর্কিত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাছাড়া এসব মামলায় কেউ গ্রেফতার থাকলে তিনিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন।

    আইন মন্ত্রাণালয় সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীনে আগস্ট, ২০২৪ পর্যন্ত দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোট ৫ হাজার ৮১৮টি মামলা চলমান রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, উক্ত মামলাগুলোর মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তমত প্রকাশের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ‘স্পিচ অফেন্স’ এবং কম্পিউটার হ্যাকিং বা অন্যকোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিকে ‘কম্পিউটার অফেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বর্তমানে স্পিচ অফেন্স সম্পর্কিত মোট ১ হাজার ৩৪০টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ৪৬১টি মামলা তদন্তকারী সংস্থার নিকট তদন্তাধীন এবং ৮৭৯টি মামলা দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

    স্পিচ অফেন্স সম্পর্কিত মামলাগুলোর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে ২৭৯টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৭৮৬টি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে ২৭৫টি মামলা চলমান রয়েছে।

    বর্তমান সরকার স্পিচ অফেন্স-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ হাজার ৩৪০টি স্পিচ অফেন্স সম্পর্কিত মামলার মধ্যে বিচারাধীন ৮৭৯টি মামলা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। তদন্তাধীন ৪৬১টি মামলা চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

    এসব মামলায় কেউ গ্রেফতার থাকলে তিনি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন।

  • অর্থনীতি পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা অপরিহার্য: প্রধান উপদেষ্টা

    অর্থনীতি পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা অপরিহার্য: প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এবং সেখানে গণতন্ত্রের শেকড় গভীরে প্রোথিত করতে জাপানের সহযোগিতা অপরিহার্য।

    নিউইয়র্কে জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানেই তিনি এনএইচকে-কে সাক্ষাৎকার দেন।

    তিনি বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ তার সবচেয়ে বড় দাতা জাপানের কাছ থেকে সহায়তার পেতে উন্মুখ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এবং সেখানে গণতন্ত্রের শেকড় গভীরে প্রোথিত করতে জাপানের সহযোগিতা অপরিহার্য।

    সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার করা এবং সরকার প্রস্তুত হলেই নির্বাচন আয়োজন করবে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা এমন কিছু নয় যে, তা আমরা মেনে নিতে পারব না।’

    জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ছাত্ররা—উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই বিপ্লবে তরুণেরা তাদের জীবন দিয়েছে। এ সময় তিনি নীতিনির্ধারণে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তার অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

  • সিটি করপোরেশন চালাতে কমিটি, কাউন্সিলরের দায়িত্বে সরকারি কর্মকর্তা

    সিটি করপোরেশন চালাতে কমিটি, কাউন্সিলরের দায়িত্বে সরকারি কর্মকর্তা

    ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসক হবেন এই কমিটির প্রধান। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে কমিটিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে সদস্য হিসেবে।

    গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটি স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে রোববার।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ‘স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫(ক) (২) মোতাবেক সরকার কর্তৃক নিম্নরূপভাবে কমিটি করা হল। ‘

    এই কমিটি স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কর্ম সম্পাদনে সহায়তা করবেন। কমিটির সদস্যরা কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ কাজের জন্য কমিটির সদস্যরা বিধি অনুযায়ী সম্মানী ভাতা পাবেন। তবে তা পাঁচ হাজার টাকার বেশি হবে না। এর বাইরে অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তারা পাবেন না।

    ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কমিটি ২৫ সদস্যের। কমিটির প্রধান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য সচিব।

    এছাড়া অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন, ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন করে কর্মকর্তা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    ঢাকার বাইরের বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রধান। একইভাবে সদস্য সচিব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এসব সিটি করপোরেশনে কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৩ জন। কমিটির সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি।

    গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তিনটি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কমিটির সভাপতি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।

    গত ৫ অগাস্ট প্রবল গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এর ১১ দিনের মাথায় ১৯ আগস্ট দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। সেদিনই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বতীকালীন সরকার।

    গত বৃহস্পতিবার দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩২৩ পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের অপসারণ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    সিটি মেয়রদের মধ্যে প্রায় সবাই আত্মগোপনে অথবা মামলার আসামি হয়েছেন। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থক কাউন্সিলররাও কার্যালয়ে আসছিলেন না।

  • ‘সমবায় ব্যাংক থেকে ১২ হাজার ভরি সোনার হদিস নেই’

    ‘সমবায় ব্যাংক থেকে ১২ হাজার ভরি সোনার হদিস নেই’

    বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকে থাকা ১২ হাজার ভরি সোনার কোনো হদিস মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বার্ডের ৫৭তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এই কথা জানান।

    এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের ১২ হাজার ভরি সোনার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকের সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে। যারা একসময় ব্যাংকে ছিলেন তারাই বেদখল করে বসে আছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসি চেয়ারম্যান ড. হোসেইন জিল্লুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমেদ, বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ।

  • ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে বছরের রেকর্ড

    ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে বছরের রেকর্ড

    ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২২১ জন। যা চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২২১ জন।

    হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৩, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬৭, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২২৮, খুলনা বিভাগে ১৩৪ জন রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ এবং রংপুর বিভাগে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

  • কোনো রকম তথ্য না দিয়ে ফের পানি ছাড়ল ভারত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

    কোনো রকম তথ্য না দিয়ে ফের পানি ছাড়ল ভারত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

    গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে বেড়েছে তিস্তার পানি। এরই মাঝে গতকাল দুই দফায় গজলডোবা বাঁধ দিয়ে প্রায় ১১ হাজার কিউমেক পানি ছেড়েছে ভারত।

    বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এই বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে তাদের কিছু জানা ছিল না।

    কিউমেক মানে হলো কোনো নদী থেকে প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনমিটার পানি ছাড়া হয়েছে সেই হিসাবের একক।

    প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনফুট পানি (প্রায় ২৮.৩১ লিটার) ছাড়া হলে তাকে এক কিউসেক বলা হয়। আর ৩৫.৩১ কিউসেকে এক কিউমেক হয়।

    বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেছেন, ‘ভারত যে বাড়তি পানি ছেড়েছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে অফিশিয়াল কোনো খবর নেই।’

    তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। এই নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

    এই নদীর বাংলাদেশ ও ভারত উভয় অংশে ব্যারেজ বা বাঁধ আছে। বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদীর বাঁধ রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায়, নাম তিস্তা ব্যারেজ।

    ভারতে তিস্তা নদীর ওপর একাধিক বাঁধ আছে। তার মাঝে একটি হল জলপাইগুড়ির গজলডোবা বাঁধ।

    গজলডোবা বাঁধ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত ৮টায় প্রায় ছয় হাজার ও তারপরে রাত সাড়ে ১২টায় আরও ৪ হাজার ৭০০ কিউমেকের বেশি পানি ছাড়া হয়েছে। এরপরে আর নতুন করে পানি ছাড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    বাঁধের কিছু কবাট বছরের একটা বড় সময়ই খোলা থাকে। যখন কোনো কারণে পানির পরিমাণ বাঁধের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সেই বাড়তি পানি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাঁধের আরও গেট খুলে দেওয়া হয়।

    গজলডোবা বাঁধ দিয়ে হঠাৎ করে এত বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সেচ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মতো ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলায়ও তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে।

    ফলে তিস্তা নদীর ভারতের অংশের বেশ কয়েকটি জায়গায় পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং বাঁধের পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ওই পানি বের করার জন্য এক পর্যায়ে আরও গেট খুলতে হয়েছে।

    শুক্রবার কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত নদীর দুই তীরেই লাল সতর্কতা জারি হয়েছিল।

    শনিবার মাঝরাতে মেখলিগঞ্জের উজান অঞ্চলেও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া

    সরদার উদয় রায়হান বলেন, মে থেকে শুরু করে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সময়ে বাঁধ সাধারণত খোলাই থাকে। মূলত বর্ষাকালে বাঁধ বন্ধ রাখা হয় না। বাংলাদেশের যে বাঁধ, সেটিও এই সময়ে খোলাই থাকে। এখন যেহেতু বর্ষাকাল, তাই সেচেরও দরকার নাই। বাঁধ দেওয়ার মূল কারণ তো সেচ। তাছাড়া এ সময় পানির পূর্ণ প্রবাহ থাকে। তাই ব্যারেজের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে সবসময়ই খোলা রাখা হয়।

    বাঁধের গেট যেহেতু বর্ষাকালে খোলাই থাকে, তাই আলাদা করে এ ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয় না।

    জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে ড্যাম বা বাঁধ দেওয়া হয়, তা থেকে পানি ছাড়ার আগে জানাতে হয়।

    কারণ ড্যামের বিষয়টা ভিন্ন। ড্যামে পানির ধারণক্ষমতা বেশি। এখানে পানি জমিয়ে রাখে, পরে রিলিজ করে। ব্যারেজের ধারণক্ষমতা ড্যামের চেয়ে অনেক কম।

    তার মতে, বাংলাদেশ যে ২ হাজার ২৬৭ কিউমেক পানি প্রবাহের কথা জানে, তা এই মৌসুমের স্বাভাবিক প্রবাহ। কিন্তু যদি সত্যিই ওই প্রায় ১১ হাজার কিউমেক হয় তাহলে এতক্ষণে অনেক বড় বন্যা হয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশে।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা

    শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা

    শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চারপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকাকে ‘সাইলেন্ট জোন’ বা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, এ সাইলেন্ট জোনের এলাকা হবে বিমানবন্দরের উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় দিকের নির্ধারিত অঞ্চলটি স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল লে মেরিডিয়ান পর্যন্ত প্রসারিত।

    বিমানবন্দরের আশেপাশে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০৬ এর বিধি ৪ এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।