Category: জাতীয়

  • ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে গত ১৫ বছর ব্যাপক আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বিশেষ করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে ২০১১ সালে প্রথম আলোচনায় আসে ব্যাংকটি। শুধু হলমার্ক নয়, টি এন্ড ব্রাদার্স, রূপসী, মডার্ন স্টিলসহ ২০ গ্রাহকের ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

    এক কথায় নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের অর্থে গঠিত ব্যাংকটি। চলতি বছর ব্যাংকটিকে এসব গ্রাহক থেকে আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ৫ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশই দেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এর উল্লেখযোগ্য অংশ। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকা পড়েছে ৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এসব খেলাপি গ্রাহক থেকে ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বছরের পাঁচ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১১৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ৯৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর ১২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর বড় অংশই গেছে হাতেগোনা কয়েকজনের পকেটে। প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারায় সোনালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপির তালিকায় আছে টি এন্ড ব্রাদার্স গ্রুপ। সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায় এই গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯০ কোটি টাকা। বর্তমানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন জিনাত ফাতেমা।

    একই শাখায় গ্রাহক হলমার্ক গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১২ সালের মধ্যে জালিয়াতি করে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল। এসংক্রান্ত মামলায় এখন কারাগারে আছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ।

    জানতে চাইলে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামিম আল মামুন বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা তো ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে হলে চেয়ারম্যান ও এমডির কারামুক্তি প্রয়োজন। তারা মুক্ত হলে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই তাদের মুক্তি দিচ্ছেন না।’

    তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার গ্রাহক রূপসী গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৪৬৫ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে চট্টগ্রামের লালদিঘী করপোরেট শাখার গ্রাহক মডার্ন স্টিল মিলসের খেলাপি ৪৪৮ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রতনপুর গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঋণখেলাপি। ট্রাস্ট ব্যাংকের এসংক্রান্ত এক মামলায় রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান ও তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান এবং মারজানুর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে তাইপেই বাংলা ফেব্রিক্স। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নেওয়া এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা আর ক্রয়াদেশ না থাকায় ঋণটি খেলাপি হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঋণ পুনঃতপশিল করার চিন্তা আছে।’

    ষষ্ঠ অবস্থানে ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন জসিম আহমেদ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

    এছাড়া নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার রহমান গ্রুপের ৩১৪ কোটি, লোকাল অফিসের অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ কোটি, একই শাখার মুন্নু ফেব্রিক্সের ২৫৫ কোটি, দিলকুশা করপোরেট শাখায় লীনা গ্রুপের ২১৫ কোটি, লালদিঘী করপোরেট শাখায় রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস ২১৪ কোটি, লোকাল অফিসে মাগুরা পেপার মিলসের ২০৩ কোটি, একই শাখার এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং ১৫৬ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টসের ১৫৫ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের ১৫১ কোটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৩১ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১১৪ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটিংয়ের ১০৪ কোটি এবং শরীফ জুট ট্রেডিংয়ের ৯৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

  • আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    রাজধানীর নিউমার্কেটে দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

    এ সময় ইনুকে উদ্দেশ্য করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টের নিচে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একাধিক ডিম ইনুর শরীরে পড়েছে।

    মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে সিএমএম কোর্টের নিচে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবীরা ইনুর গায়ের চামড়া, তুলে নেবো আমরা; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি ইনুর ফাঁসি চাই বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    এর আগে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইনুকে সিএমএম কোর্টে আনে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাকে বহনকারী গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের তিনটি প্রটেকশন গাড়ি ছিল।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দারের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সোমবার বিকালে উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম (৪৫) নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞানামা। এই মামলায় ইনুকে গ্রেফতার করা হয়।

  • মেনন ৬ দিন ও ইনুর ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর

    মেনন ৬ দিন ও ইনুর ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর থানার মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোসহ ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদাবর থানার পরিদর্শক মিন্টু চন্দ্র বণিক ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ দিনের মঞ্জুর করেছে আদালত।

    এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    এর আগে ২৩ আগস্ট রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    গত ২২ আগস্ট পোশাকশ্রমিক রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট রুবেল আদাবরের রিংরোডে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেন। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা, সাহায্য, সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে মিছিলে গুলি ছুড়া হয়। এতে বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান তিনি।

    মামলায় আসামির তালিকায় দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ যুবলীগ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বাংলাদেশ মৎসজীবী লীগের নামও রয়েছে।

  • কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

    কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপদত্যাগ ও গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।

    মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশের ৮০ ভাগ অঞ্চলের প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দ্বৈতশাসন ও ৪৭ বছর ধরে চলমান শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য আরইবি-পবিস একীভূতকরণসহ অভিন্ন চাকুরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সব চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের ২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া চলমান।

    দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বন্যাদুর্গত মানুষের কথা বিবেচনায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়, ছাত্র সমন্বয়ক এবং দেশের সুশীল সমাজের আহ্বান এবং সর্বোপরি আপামর জনসাধারণের অনুরোধের প্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত গণপদত্যাগ ও গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলো।

    বাপবি বোর্ডের নব যোগদানকৃত চেয়ারম্যান এবং বিদ্যুৎ বিভাগ দায়িত্ব নিয়ে আরইবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রিফর্ম কার্যক্রম ও সকল চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দাবি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবেন এবং অনতিবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।

    এমতাবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কবৃন্দ আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন।

  • আইসিটি’র ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ, পাসওয়ার্ড জানেন শুধু পলক

    আইসিটি’র ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ, পাসওয়ার্ড জানেন শুধু পলক

    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল। বিভাগের ওয়েবসাইটে তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকে ক্লিক করলে কিছু পাওয়া যায় না।

    খবর নিয়ে জানা গেছে, আইসিটির ফেসবুক পেজ ও চ্যানেলের পাসওয়ার্ড জানেন কেবল সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

    আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতো ঢাকা লাইভ নামের একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মার্কেটিং টিম। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের নানা আয়োজন সামাজিকমাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। আর এই সব কিছু এককভাবে তদারকি করতেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা লাইভের প্রধান কার্যালয়টি বন্ধ। তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজও বন্ধ রয়েছে।

    আইসিটি বিভাগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন। এগুলোর পাসওয়ার্ড তার জানা। তবে এসব পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় এবং অনুসারীর দিক দিয়ে শীর্ষে ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ। ফেসবুকে তার নিজের নামেও ভেরিফায়েড পেজ ছিল। সেটাও এখন বন্ধ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল রাষ্ট্রীয় অংশ। এটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় সঠিক বিধি তৈরি হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তির পরিবর্তন হবে, কিন্তু পেজ ও চ্যানেল সচল থাকবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আইসিটি বিভাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের কাছে না দিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করতেন। তিনি শেষ সময়ে পেজগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পুনরায় চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলটির নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছেন। গত ৬ আগস্ট দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে আটক হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকও। এরপর ১৪ আগস্ট হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারে ফের দফতর পুনর্বন্টন

    অন্তর্বর্তী সরকারে ফের দফতর পুনর্বন্টন

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বন্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহামদ ইউনুস পেয়েছেন ছয়টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব।

    এগুলো হলো– ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ; ২. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; ৩. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ; ৪. খাদ্য মন্ত্রণালয়; ৫. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; ৬. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন– অর্থ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা হাসান আরিফ পেয়েছেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; ভূমি মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন– বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ পেয়েছেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

  • কানাডা হাইকমিশনের সেই দুই নারী কর্মকর্তা ‘উধাও’

    কানাডা হাইকমিশনের সেই দুই নারী কর্মকর্তা ‘উধাও’

    অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা নামে দুই নারীকে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের দুজনের চুক্তি বাতিল করা হয়। তাদেরকে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    কিন্তু ১৪ আগস্ট চুক্তি বাতিলের চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তাদের কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলা চুক্তি বাতিলের আগেই তাদের অনুকূলে থাকা কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন করেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের চিঠি ইস্যু করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান রোববার সন্ধ্যায় জানান, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলার চুক্তি বাতিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মিশনে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা হাইকমিশনে আসা বন্ধ করেছেন এবং মিশনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ফলে তাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে হাইকমিশনের কাছে কোনো তথ্য নেই।

    চুক্তি বাতিলের চিঠি ওই দুই কর্মকর্তা কীভাবে পেয়েছেন-এমন প্রশ্নে নাহিদা সোবহান জানান, তাদের দুজনকে ই–মেইলে চিঠি পাঠানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট বাতিলের জন্য তারা দুজন তদবিরও করেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় ৮ আগস্ট রাতে। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ওই দিন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা ও তার স্বামী এবং ছেলের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এ–সংক্রান্ত নথিতে দেখে গেছে, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের অনুমোদনের জন্য অপর্ণা রাণী পালের এবং মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা, তাঁর স্বামী ও ছেলের অনুকূলে থাকা পাসপোর্ট বাতিলের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন অনুবিভাগ) ডি এম সালাউদ্দিন আহমেদ ফাইলটি উত্থাপন করেন। ফাইলে পররাষ্ট্রসচিবের অনুমোদন পাওয়ার পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট চারটি বাতিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি কনস্যুলার অনুবিভাগকে পরামর্শ দেন।

  • ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। অন্তবর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?

    সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমনটি বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার অনুরোধে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদের কাজ করার সুযোগ দিন।

    আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে দেখে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জামায়াতের আমির এ কথা বলেন।

    গতকাল রোববার রাতে সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হন।

    জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে আন্দোলনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল আনসার সদস্য গায়ের জোরে ঢুকে পড়েছিলেন। যাঁরা জীবন দিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে বুলেটের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকারকে পলায়ন করতে বাধ্য করেছিলেন, সেই ছাত্ররা এসেছিলেন তাঁদের কথা শোনার জন্য, শান্ত করার জন্য। কিন্তু তাঁরা সবকিছুর সীমা ছাড়িয়ে ছাত্রদের আঘাত করেন। বাধ্য হয়ে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেকে আহত হন।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, মাত্রই তো তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এত দিন আপনারা কোথায় ছিলেন? এত দিন দাবি জানাননি কেন? সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। তাদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের দুঃসাহস আবারও দেখালে জনগণ ক্ষমা করবে না।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন প্রমুখ।

  • এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে ১১ লাখ কিউসেক পানি। বাঁধ খুলে দেওয়ায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশেও।

    বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশকে তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    সোমবার ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেশী দুই রাজ্যে বন্যার জেরে পানির চাপ পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, এখনও নেপাল থেকে পাহাড়ি ঢল নামেনি। ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৭৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় বাধ্য হয়ে গেট খুলতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফিডার ক্যানেলেও পানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর দেশ পাণ্ডে বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় এলার্ট রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে যেভাবে পানির চাপ তৈরি হয়েছে তাতে ১০৯ গেটের সবকটি খুলে না দিল ব্যারাজের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছিল। বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। আপাতত ফিডার ক্যানেলে ৪০ হাজার কিউসেক ও ডাউন স্ট্রিমে ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

    এদিকে ২০ আগস্ট থেকে দেশের ১১টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সেগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলার ৭৭টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। মোট ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯০১টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩০।

  • বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    সোমবার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বন্যায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন।

    এই ২৩ জনের মধ্যে কুমিল্লায় ছয় জন, ফেনীতে এক জন, চট্টগ্রামে পাঁচ জন, খাগড়ছড়িতে এক জন, নোয়াখালীতে পাঁচ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে এক জন ও কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বন্যা আক্রান্ত ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। মোট ১১ জেলার ৭৪ উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫৫০টি। ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট তিন হাজার ৮৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট চার লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি এবং উজানের নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত আছে।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে পানি সমতল বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।