Category: জাতীয়

  • আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    ডিএমপি নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় গত ১৩ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে। তিনি এখন রিমান্ডে রয়েছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে রিমান্ড চলছে তার।

    ডিবির জিজ্ঞাসায় সালমান এফ রহমান বলেন, আমাকে আটকে রাখলে, আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজার লোক বেতন পাবে না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে সেই ঋণের কিস্তি দিতে পারব না। এতে দেশেরই ক্ষতি হবে। তাই আমাকে ছেড়ে দিন। আমি দেশ ঠিক করে দেব। এ সময় ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি ঠিক করলে এখানেই করুন। কোর্টে গিয়ে কথা বলুন। কিন্তু আপনাকে ছাড়া হবে না। একের পর এক মামলায় কমপক্ষে এক বছর আপনাকে রিমান্ডে থাকতে হবে।’ সালমান এফ রহমানের কাছে ডিবির জিজ্ঞাসা-‘গত নির্বাচনের আগেই তো আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার কথা ছিল। তখন হয়নি কেন?’ উত্তরে সালমান বলেন, আমরা ভারতের মাধ্যমে আমেরিকাকে ঝুঝাতে পেরেছিলাম যে, আমরা আমেরিকার পক্ষেই আছি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তখন আমাদের এবং ভারতের কথায় আমেরিকা কনভিন্স হয়েছিল। না হলে তখনই আমাদের পতন হয়ে যেত।’

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।

  • হাসনাত আব্দুল্লাহর সবশেষ অবস্থা জানালেন ঢামেক পরিচালক

    হাসনাত আব্দুল্লাহর সবশেষ অবস্থা জানালেন ঢামেক পরিচালক

    রাজধানীর সচিবালয়ে আনসার ছাত্র সংঘর্ষে আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেবিনে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোববার রাতে সচিবালয়ে আনসার-ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের এখানে ৬০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আমরা ভর্তি করেছিলাম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার থেকে এখন কেবিনে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, তার অবস্থা এখন ভালো আছে। তার মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন তবে তিনি এখন সংক্রামুক্ত বলে জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, রোববার দিনভর আনসাররা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় ঘিরে রাখেন। সেখানে বিক্ষুব্ধ আনসার সদস্যদের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয় হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকে আহত হন।

  • চার হাজার আনসারের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা

    চার হাজার আনসারের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা

    বেআইনি সমাবেশ ও পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় ৪ হাজার ১১৪ আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

    সোমবার পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এ মামলায় ৯৫ আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। 

    নিজেদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি আদায়ে গতকাল প্রায় ১০ হাজার আনসার সদস্য একত্রিত হয়ে সচিবালয় ঘেরাও করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাত জন উপদেষ্টাসহ সচিবালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রাখে। 

    উত্তেজিত আনসার সদস্যদের শান্ত করার জন্য বিকালে মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপি সচিবালয়ে আসেন এবং আনসার সদস্যদের সকল দাবি মেনে নেন।  

    এরপরও উত্তেজিত আনসার সদস্যরা সচিবালয় এলাকা ত্যাগ না করে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কিছু আনসার সদস্য সচিবালয়ের তিন নম্বর গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। 

    এ সময় উত্তেজিত আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর টহলের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠি দ্বারা আঘাত করে। 

    পরবর্তীতে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে আনসারদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।

  • সচিবালয়ে নাশকতা: গ্রেফতার ১০৯ আনসারকে নেওয়া হয়েছে আদালতে

    সচিবালয়ে নাশকতা: গ্রেফতার ১০৯ আনসারকে নেওয়া হয়েছে আদালতে

    সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার ১০৯ আনসার সদস্যকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তোলা হয়েছে।

    সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শাহবাগ, রমনা ও পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়।

    আদালতে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার আনসার সদস্যদের আদালতের লকআপে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সচিবালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আনসার সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

    এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনকে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনসার সদস্যরা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়েও সচিবালয় অবরোধ করে রেখেছে জানতে পেরে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সচিবালয় এলাকায় উপস্থিত হলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পরে সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হন আনসার সদস্যরা।

  • সচিবালয়ে আনসারকাণ্ড নিয়ে যা বললেন আইন উপদেষ্টা

    সচিবালয়ে আনসারকাণ্ড নিয়ে যা বললেন আইন উপদেষ্টা

    বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় গতকাল রোববার রাতে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আহতদের দেখতে উপদেষ্টারা ঢাকা মেডিকেলে যান। এ সময় তারা কেবিনে থাকা সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

    আহতদের দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘কালকের ঘটনায় আমরা খুবই ব্যথিত। আহত সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আগের চেয়ে ভালো আছে।’

    আইন উপদেষ্টা বলেন, যারা আনসারের ছদ্মবেশে এসেছিল, তাদের দাবি আদায়ের এজেন্ডা ছিল না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। লাঠি তাদের স্টকে ছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তারা ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। যেসব ছাত্র স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, যারা আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ, তাদের রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মেরেছে। আনসারদের দাবি ছিল রাত ১০টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন করে চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। অসম্ভব ও অবাস্তব দাবি তুলেছিল অনসাররা।

    এই জাগ্রত ছাত্রসমাজ, ‘যারা আন্দোলন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, তারা আবারও তাদের অপরিসীম ত্যাগের ভূমিকা রাখে। পুরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে তারা। যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা সফল হবে না। প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা সঠিক পথে দাবি আদায়ের আন্দোলন করছেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, বিবেচনা করে দেখবেন ১৭ বছরের বৈষম্য ও শোষণ ১৭ দিনে কি সমাধান করা যায়?’

    তিনি বলেন, ‘ধৈর্য ধরেন, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দাবি জানান। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি, কোনো দলের প্রতিনিধি না। সবার স্বার্থ নিশ্চিত হয় এমনভাবে কাজ করব। তবে সেটা সময় লাগবে। আহত হাসনাতের অবস্থা মোটামুটি ভালো। দুজন পথচারীও আহত আছে।’

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মনে হচ্ছে দাবি আদায়ের মৌসুম শুরু হয়েছে, ধান কাটার মৌসুমের মতো। প্রতিটা দাবির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। যেখানে সরকারের ব্যয় বাড়বে। সরকারের রাজস্ব তো হঠাৎ করে রাতারাতি বেড়ে যাবে না। কীভাবে দাবি মেটাব, টাকা ছাপতে পারি, তবে টাকা ছাপলে মূল্যস্ফিতি বেড়ে যাবে। তখন সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই সরকার বানের জলে ভেসে আসে নাই। ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে এই সরকারকে এনেছে। এটা জনপ্রত্যাশার সরকার। আমরা গত সরকারের সবকিছু জানি। তবে আমাদের সময় দিতে হবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ অনেকে।

  • ফের স্থগিত ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা

    ফের স্থগিত ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা

    সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আবারও স্থগিত করেছে ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা। এই বিসিএসের মাধ্যমে ২৫টি ক্যাডারে ১ হাজার ৭১০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

    রোববার পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনন্দ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এসব পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার জেরে কারফিউ জারি হলে ৪৪তম বিসিএসের সাধারণ ক্যাডারের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত হয়। এসব পরীক্ষা ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি।

    ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পরে ২০২২ সালের ২৭ মে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। তাতে উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ৭০৮ জন।

    এই বিসিএসের মাধ্যমে ২৫টি ক্যাডারে ১ হাজার ৭১০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তার মধ্যে সাধারণ ক্যাডারে ৪৪৯ জন, টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৪৮৫ জন, সাধারণ কলেজের জন্য সাধারণ শিক্ষায় ৪০১ জন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের জন্য সাধারণ শিক্ষায় ২০ জন ও কারিগরি শিক্ষায় ৩৫৫ জন নিয়োগের কথা রয়েছে।

  • নির্বাচন কখন হবে সেটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের নয়

    নির্বাচন কখন হবে সেটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের নয়

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়।

    আজ (রোববার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেন, একটা বিষয়ে সবাই জানতে আগ্রহী, কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে। এটার জবাব আপনাদের হাতে, কখন আপনারা আমাদেরকে বিদায় দেবেন। আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই।  আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীও এই লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে একটা টিম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। দেশবাসীকে ঠিক করতে হবে আপনারা কখন আমাদের ছেড়ে দেবেন। আমরা ছাত্রদের আহ্বানে এসেছি। তারা আমাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা। দেশের আপামর জনসাধারণ আমাদের নিয়োগ সমর্থন করেছে। আমরা ক্রমাগতভাবে সবাইকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে যাবো যাতে হঠাৎ করে এই প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়— আমরা কখন যাব। তারা যখন বলবে আমরা চলে যাব।

    ড. ইউনূস বলেন, আমরা সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকেও সংস্কার করব। কমিশনকে যে কোনো সময় আদর্শ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখব।

    ড. ইউনূস আরও বলেন, একটা বিশেষ ব্যাপারে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিন সচিবালয়ে, আমার অফিসের আশপাশে, শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের অনেক দুঃখ- কষ্ট আপনাদের জমা আছে। সেটা আমরা বুঝি। আমাদের যদি কাজ করতে না দেন তাহলে এই দুঃখ ঘোচানোর সব পথ বন্ধ হয়ে থাকবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের কাজ করতে দিন। আপনাদের যা চাওয়া তা লিখিতভাবে আমাদের দিয়ে যান। আমরা আপনাদের বিপক্ষ দল নই। আইনসংগতভাবে যা কিছু করার আছে আমরা অবশ্যই তা করব।

    তিনি বলেন, আমাদের ঘেরাও করে আমাদের কাজে বাধা দেবেন না। সবাই মিলে তাদের বোঝান তারা যেন এ সময়ে তাদের অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমাদের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা না দেন।

  • তিন দিনে ৪৪ ট্রাক ত্রাণ পাঠাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

    তিন দিনে ৪৪ ট্রাক ত্রাণ পাঠাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

    দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য গত তিনদিনে ৪৪ ট্রাক ত্রাণ ও ২০ হাজারের বেশি রিলিফ প্যাকেজ পাঠিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ১৯ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী ও ২০ হাজার রিলিফ প্যাকেজ বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

    রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক মো. মহিউদ্দিন ও নাদিম শুভ এসব তথ্য জানান। ত্রাণ সামগ্রী ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়।

    জানা যায়, রিলিফ প্যাকেজগুলো টিএসসি থেকে ছোট-বড় ট্রাকে করে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে নৌবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেন।

    সহ-সমন্বয়ক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বড় একটি ট্রাক বা লরিতে ৭০০-৮০০ রিফিল প্যাকেট রাখা যায়। সে হিসেবে গতকাল ১৯ ট্রাক ত্রাণ দুর্গত এলাকায় গেছে বাকি আরও প্রায় ৪০ ট্রাক ত্রাণ নৌবাহিনীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে ত্রাণ কম পৌঁছাচ্ছে সেদিকে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

  • আ.লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গ্রেফতার

    আ.লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গ্রেফতার

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পশ্চিম নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে রোববার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারের পর আব্দুস সোবহান গোলাপকে তেজগাঁও থানায় নেওয়া হয়েছে। তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, সাবেক এমপি আবদুস সোবহান গোলাপকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মো. আবদুস সোবহান মিয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ পান। এর আগে তিনি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

  • শিগগিরই প্রত্যাহার হচ্ছে জামায়াত নিষিদ্ধের আদেশ

    শিগগিরই প্রত্যাহার হচ্ছে জামায়াত নিষিদ্ধের আদেশ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেড় দশক পর প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। দলটির কার্যালয় এরইমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করে সামাজিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিয়েছে তারা।

    ৫ই আগস্টের নাটকীয় পরিবর্তনের পর জামায়াত বৈঠক করেছে প্রেসিডেন্ট, প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে। যদিও কাগজে-কলমে দলটি এখনো নিষিদ্ধ। তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে।

    সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে দুএকদিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। নিষিদ্ধের আদেশ এবং নিবন্ধনের বিষয়টি ফয়সালার জন্য জামায়াত এরইমধ্যে শিশির মনিরকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে।

    যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। আমরা আশা করি খুব দ্রুতই ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, আমরা আইনগত আলাপ আলোচনা করেছি। তাতে আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস, সরকারই নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করে নেবে। আমাদের কার্যক্রমটি সরকারের নিকট প্রক্রিয়াধীন। আশা করি শিগগিরই এ বিষয়ে জানতে পারবেন।

    সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানও আশা প্রকাশ করেন দ্রুত জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
    তিনি বলেন, কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ফেরাতেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

    শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পহেলা গত আগস্ট জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।

    সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময় জামায়াত তীব্র কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। পরে ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান।