Category: জাতীয়

  • নির্বাচন উপলক্ষে দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন

    নির্বাচন উপলক্ষে দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হয়েছে।

    সশস্ত্র বাহিনী ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পর শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৩-১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন বা স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করবে।

    সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীগুলোর এলাকাভিত্তিক মোতায়েন সম্পন্ন করছে। সেনাবাহিনী ৬২টি জেলায় নিয়োজিত হয়েছে।

    সমতলে সীমান্তবর্তী ৪৫টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে; এ ছাড়া সীমান্তবর্তী ৪৭ উপজেলায় সেনাবাহিনী বিজিবির সঙ্গে এবং উপকূলীয় চার উপজেলায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় দুটি জেলাসহ (ভোলা ও বরগুনা) সর্বমোট ১৯ উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

    বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার সহায়তা দেবে। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে নির্বাচনী সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

  • শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড,কয়েক মিনিটের মধ্যেই শর্তে জামিন

    শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড,কয়েক মিনিটের মধ্যেই শর্তে জামিন

    শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার আসামির ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেকের ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
    রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের চাকরিস্থায়ী করা, কল্যাণ তহবিলের গঠন ও শ্রমিকদের ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আপিলের শর্তে ৫ হাজার টাকা বন্ডে চারজনকেই এক মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত।

    এদিন রায় শুনতে দুপুরে আদালতে হাজির হন ড. ইউনূস। দুপুর আড়াইটার দিকে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। ৮৪ পৃষ্ঠা রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান আদালত। রায়ে আদালত বলেন, নোবেলজয়ী হিসেবে ড. ইউনূসের বিচার হয়নি, বিচার হয়েছে শ্রম আইন লঙ্ঘনের।

    এর আগে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা রায়ের জন্য ১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

    ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় শুনানি, চলে রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত। মাঝে এক ঘণ্টা দুপুরের খাবার এবং মাগরিবের নামাজের জন্য বিরতি দেয়া হয় ১৫ মিনিট। শ্রম আদালতে এত সময় ধরে কোনো মামলা শুনানির ঘটনা এটিই প্রথম।

    এদিন ড. ইউনূসের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ ও অ্যাডভোকেট এসএম মিজানুর রহমান। অন্যদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বরত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

    গ্রামীণ টেলিকমের ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতর।

    শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ড. ইউনূসসহ চারজনকে আপিলের শর্তে জামিন দিয়েছেন শ্রম আদালত। রায় ঘোষণার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসামিদের জামিন দেন আদালত।

    সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ড. ইউনূসসহ একই মামলায় দণ্ডিত চারজনকে সাজার রায় ঘোষণার পর তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা।

    দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করা হয়। রায় শোনার জন্য ১টা ৪০ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    এদিন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। খবর সংগ্রহের জন্য ভিড় জমান দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

    ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

    এ মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নূরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়।

  • শিক্ষকদের অসন্তোষের মুখে প্রাথমিকে ছুটি বাড়ালো ১৬ দিন

    শিক্ষকদের অসন্তোষের মুখে প্রাথমিকে ছুটি বাড়ালো ১৬ দিন

    অনলাইন ডেস্ক ::: মাধ্যমিকের চেয়ে প্রাথমিকে বাৎসরিক ছুটি কম রাখায় চরম অসন্তোষ জানান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশ হয়। এরপর ছুটি বাড়িয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    নতুন ছুটির তালিকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতোই প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বছরে ৭৬ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। ছুটি বাড়ানোয় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।

    রোববার (৩১ ডিসেম্বর) নতুন ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এ তালিকায় ২৮ ডিসেম্বর সই করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ অন্য কর্মকর্তারা।

    আগের ও পরের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম তালিকায় মোট ছুটি ছিল ৬০ দিন। সেই ছুটি বাড়িয়ে ৭৬ দিন করা হয়েছে। পবিত্র রমজান, বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শব-ই-কদর, ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষসহ টানা ২১ দিন ছুটি ছিল প্রথম তালিকায়। সেখানে ছুটি বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয়েছে।

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ৭ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৪ দিন, দুর্গাপূজার ছুটি ৫ দিনের জায়গায় ৭ দিন করা হয়েছে। এছাড়া শীতকালীন অবকাশ একদিন বাড়িয়ে ১১ দিন করেছে অধিদপ্তর।

    অন্যদিকে ২০ জুলাইয়ের আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ২ অক্টোবরের শুভ মহালয়ার একদিন করে দুটি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৬ দিনের ছুটি সমন্বয় করে মাধ্যমিক ও প্রাথমিকে ৭৬ দিন বাৎসরিক ছুটি রেখে তালিকা প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর।

    প্রাথ‌মিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় প‌রিষদের সমন্বয়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে ছুটির তালিকায় সমন্বয় করেছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আন্ত‌রিক কৃতজ্ঞতা জানা‌চ্ছি।’

  • থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস না ওড়ানোর আহ্বান ফায়ার সার্ভিসের

    থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস না ওড়ানোর আহ্বান ফায়ার সার্ভিসের

    থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি না ফোটানোর এবং ফানুস না ওড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিনের বরাত দিয়ে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য জানায়।

    ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ২০২২ সালের থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানোর কারণে প্রায় ১০০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে; যাতে আনুমানিক ১৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো থেকে ২০২১ সালে ১৬টি অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয় এবং আতশবাজির উচ্চশব্দে তানজিম উমায়ের ওরফে মাহমুদুল হাসান নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২০২০ সালে ৫০টি অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ২০১৯ সালে ৭২টি অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং ২০১৮ সালে ৪২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৫৬ লাখ ৬ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। এসব অগ্নিকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে ফায়ার সার্ভিস ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদ উদ্ধার করে।

    ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ হতে ইতোমধ্যে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট ও ভিডিও ক্লিপস শেয়ার করা হয়েছে। একইসাথে বিশেষ করে ঢাকার ফায়ার স্টেশনসমূহকে সতর্ক রাখা হয়েছে; যাতে এ সংক্রান্ত যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত রেসপন্স করা যায়।

  • ২০২৩ সালে ৩৩ হাজার ৪৬৫ টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫ হাজার ৫৯২ জন

    ২০২৩ সালে ৩৩ হাজার ৪৬৫ টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫ হাজার ৫৯২ জন

    ২০২৩ সালে সড়কপথে ছোট-বড় ৩৩ হাজার ৪৬৫ টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৯ জন এবং নিহত হয়েছে ৫ হাজার ৫৯২ জন।

    ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে বিজয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য রোড-এর মহাসচিব শান্তা ফারজানার পঠিত প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ২৫২ টি মোটর বাইক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮১৪ জন, নিহত হয়েছেন ৯০৪ জন; ৯ হাজার ৮৬৭ টি ট্রাক দুর্ঘটনায় আহত ১০ হাজার ৮৩৪ এবং নিহত হয়েছেন ৯৩৪ জন, নির্ধারিত গতিসীমা না মানা, পরিবহন মালিকদের উদাসিনতা ও সতর্কতা অবলম্বন না করায় বিশ্রাম না নিয়ে টানা ১২ থেকে ২০ ঘন্টা বাহন চালনাসহ বিভিন্ন নিয়ম না মানায় ১১ হাজার ৩৪৬ টি বাস দুর্ঘটনায় আহত ১৩ হাজার ১৮৫ এবং নিহত হয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন, দায়িত্বে অবহেলা, স্থানিয় পুলিশ-প্রশাসনের দুর্নীতিসহ বিভিন্নভাবে সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ বাহন নাসিমন-করিমন এবং অন্যান্য ৩ চাকার বিভিন্ন ধরণের বাহনে ১১ হাজার ১০৪ টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৭০৮ এবং নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫১১ জন।

    সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, জিয়াউর রহমান জিয়া, আইয়ুব রানা ও লায়ন ইমাম হোসেন-এর তত্বাবধায়নে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক দেশ রূপান্তর, দৈনিক দিনকাল, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক কালের কন্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক জনকন্ঠ, দৈনিক কালবেলাসহ ২২ টি জাতীয় দৈনিক, আরটিভি, জিটিভি, যমুনা নিউজ, মাছরাঙ্গা, এটিএন বাংলাসহ ২০ টিভি-চ্যানেল, জাগো নিউজ, বাংলা নিউজ, বিডি নিউজসহ আঞ্চলিক ও স্থানিয় ৮৮ টি নিউজ পোর্টাল এবং স্থানিয় প্রত্যক্ষদর্শী-সেভ দ্য রোড-এর স্বেচ্ছাসেবিগণের দেয়া তথ্যানুসারে এই প্রতিবেদন দুর্ঘটনামুক্ত পথ-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র সচেতনতা-গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়- ২০২৩ সালে নৌপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯০৫ টি। আহত হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ জন, নিহত হয়েছে ১৯৬ জন। রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ১৯৬ টি। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯ জন। নিহত হয়েছেন ২৫৭ জন।

  • ৭ জানুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনারা ভোট দিতে যাবেন: প্রধানমন্ত্রী

    ৭ জানুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনারা ভোট দিতে যাবেন: প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মা-বাবা, ভাইসহ সব স্বজনদের হারিয়েছে। সব শোক-ব্যথা বুকে নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। লক্ষ্য একটাই, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

    মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের পর বাংলার মানুষ ছিল অবহেলিত। তাদের মাথাপিছু আয় বাড়েনি। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আমি এগিয়ে এসেছি।

    উত্তরবঙ্গে মঙ্গা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে মঙ্গা দূর করা হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। দুই বেলা খেতে পারবে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা সেটা করতে পেরেছি।

    দেশকে আরও উন্নত করতে চাই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য কেবল নৌকা মার্কা থাকলেই সেটা সম্ভব। আমার আর হারাবার-পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আপনারা ভালো থাকবেন সেটাই আমার লক্ষ্য। এ জন্য ৭ জানুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনারা ভোট দিতে যাবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডিউককে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। আরও একবার তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কাই আপনাদের জীবনমান উন্নয়ন করেছে। তাই আরও একবার সুযোগ দেবেন।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী তার সময়কালে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ তুলে ধরেন।

    এর আগে রংপুরের তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

    সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে প্রথমে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ওয়াকফ এস্টেট কলেজ মাঠে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী সভায় যোগ দেন।

    জনসভা শেষে সড়ক পথে স্বামীর বাড়ি পীরগঞ্জের লালদীঘি ফতেহপুর যাবেন শেখ হাসিনা। ফতেহপুরে স্বামী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করবেন এবং নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও খাবার শেষে বিকেলে পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। সেখানে রংপুর-৫ (পীরগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে ভোট চাইবেন তিনি।

  • নির্বাচন বন্ধ করে ফায়দা লুটবে, এটা হবে না: শেখ হাসিনা

    নির্বাচন বন্ধ করে ফায়দা লুটবে, এটা হবে না: শেখ হাসিনা

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে ফায়দা লুটবে, এটা বাংলার মাটিতে চলবে না।

    বড়দিন উপলক্ষে রোববার (ডিসেম্বর ২৪) দুপুরে গণভবনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের কাছে যেতে হবে মানুষের কল্যাণের কথা বলে, মানুষের উন্নয়নের কথা বলে, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারব সেই কথা বলে। কিন্তু মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে ফায়দা লুটবে, এটা বাংলার মাটিতে চলবে না।

    তিনি বলেন, এভাবে জীবন্ত মানুষ পোড়ানো, এটা তো মহাপাপ। এটা তো অন্যায়। এই অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া যায় না। ধিক্কার জানাই তাদের, যারা এই ধরনের হুকুম দেয় এবং যারা এই ধরনের কাণ্ড ঘটায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের দেশেও আমরা দেখি কিছু মানুষ; তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অগ্নিসংযোগ করে মানুষকে হত্যা করে। রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে দেয়। কেন? রেলের বগিগুলো পড়ে যাবে আর মানুষ নিহত হবে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি আমি জানি না। আমার কাছে অবাক লাগে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মারা, বাসে আগুন, গাড়িতে আগুন দিয়ে খেলা। এটা কেন? রাজনীতি হবে আদর্শ নিয়ে, নিজের যদি কর্মসূচি থাকে জনগণের কাছে যাবে। জনগণের কাছে বলবে।

    তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ট্রেনে আগুন দিয়েছে। একটি মা তার সন্তানকে বুকে ধরে পুড়ে মারা গেছে। এই ধরনের করুণ দৃশ্য তো আমরা দেখতে চাই না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মানুষকে পুড়িয়ে মেরে, মানুষের ক্ষতি করে কী অর্জন করছে, সেটাই আমার প্রশ্ন। এই ধরনের সংঘাত বন্ধ হোক, সেটাই আমরা চাই।

  • সারা দেশে ১৪৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    সারা দেশে ১৪৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে ১৪৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি।

    রোববার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৬ প্লাটুনসহ সারা দেশে ১৪৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

  • মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি, এক মাস আগে কোচিং বন্ধ

    মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি, এক মাস আগে কোচিং বন্ধ

    আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আর এক মাস আগে ৯ জানুয়ারি থেকে মেডিকেলে ভর্তির কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রী বলেন, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আমরা একটি শিডিউল ঠিক করেছি, সে অনুসারে পরীক্ষা হবে। ভর্তি পরীক্ষার শিডিউলের পাশাপাশি কীভাবে মান উন্নয়ন করা যায়, কীভাবে আরও যুক্তিসঙ্গত পরীক্ষা নেওয়া যায়, যাতে ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ভর্তির যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ন্যূনতম ৪৯ নম্বর পেতে হবে। যেটা আগেও ছিল। মাইগ্রেশনের সুযোগ তিনবার রাখা হয়েছে। সব কলেজে একবারে চয়েস দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশি শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি থেকে আবেদন করতে পারবেন। আর ৪ জানুয়ারি থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন নেওয়া যাবে।

    সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ধীর গতির চীনা ঋণে যেভাবে প্রকল্প ব্যয় বাড়ে

    ধীর গতির চীনা ঋণে যেভাবে প্রকল্প ব্যয় বাড়ে

    সরকার থেকে সরকারের (জিটুজি) পর্যায়ে চুক্তির একটি প্রকল্প: ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রজেক্ট’ ২০১৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ একনেক- এর অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পে বাজেট থেকে বরাদ্দ রাখা হয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

    প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তিতে চায়না এক্সিম ব্যাংক ১.১ বিলিয়ন ডলার বা ৯ হাজার ৪৭২ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন দেয়। ব্যয়ের বাকি অংশ নির্বাহ করবে বাংলাদেশ। তবে অনুমোদনের চার বছর পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে চায়না এক্সিম ব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি হয় সরকারের।

    ঋণচুক্তি করতে এই বিলম্বের কারণে মূল্যও দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে, কারণ এই চার বছরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে ৬২৫ কোটি টাকা।

    ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ধীরগতির ফলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ও বাস্তবায়ন পেছাচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-র মতে, চীনের ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য নির্ধারিত পাঁচ প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে।

    ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘চীন ৩ শতাংশ সুদহারের প্রস্তাব দিয়েছিল। সুদ-সংক্রান্ত আলোচনায় কারণে ঋণ চুক্তি হতে সময় লেগেছে। প্রায় এক বছর আলোচনার প্রেক্ষিতে ২ শতাংশ সুদ নির্ধারণ হয়।’

    তবে চুক্তি পর ঋণ কার্যকর হতেও সময় লাগে। ‘ঋণটি কার্যকর হয় ২০২২ সালের ১০ মে। ফলে অনুমোদনের পরে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতেই প্রায় ৫ বছর লেগেছে। দেরিতে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ার এই প্রকল্পের বর্তমান ভৌত অগ্রগতি ১২ শতাংশ’- বলে জানান তিনি।

    রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। কিন্তু, এর ৫৫ মাস পরে এই বছরের ১০ মে মাসে চীনের সাথে ২৭৬.২৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে।

    এই প্রকল্পের পরিচালক, পারভেজ মামুদ বলেন, প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সময়মতো ঋণচুক্তি না হওয়ার কারণে প্রকল্প বিল্মবিত হয়েছে। ‘প্রকল্পটি এখন শেষ করতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত লাগবে।’

    চীনের অর্থায়নে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পও অনুমোদনের দুই বছর পর ঋণ চুক্তি হয়।

    ঋণ চুক্তিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে ইআরডির সিনিয়র একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত চীনা পক্ষের কারণেই এমনটা হচ্ছে। বিলম্বের নানান কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে– ঋণ চুক্তির অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা।

    দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া

    ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে ঋণচুক্তির দ্রুত প্রক্রিয়ার তুলনায়– ঋণ অনুমোদন দিতে দীর্ঘ সময় নেয় চীন।

    তাঁরা বলেন, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বা জাইকার মতো বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্প সাধারণত একনেকে অনুমোদনের মাসখানেকের মধ্যে চুক্তি হয়ে যায়। এর বিপরীতে, অনেক সময় নিয়ে প্রকল্প প্রস্তাব এবং ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চীন।

    চীনের ঋণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। এরমধ্যে শুরুতে কোন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য চীনকে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। চীন তখন প্রকল্প প্রস্তাব চায়, এরপর সেটিকে অনুমোদন দিলে, পরের পর্যায়ের কাজ শুরু হয়।

    এরপর চীন প্রকল্পের ওপর বিস্তৃত সমীক্ষা ও বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিক ঋণ প্রস্তাব চায়। ঋণ অনুমোদনের আগে একের পর এক এসব ধাপ সম্পন্ন হতে সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর লেগে যায়। এরপর চুক্তি সই হলেও, তহবিল পেতে আরও এক বছর লাগে।

    ইআরডির একজন সিনিয়র কর্মকর্তার মতে, ‘বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্পে সরকারের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ঋণ প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে হয়। যে কারণে সরকারের অনুমোদন পাওয়া পর পর ঋণ চুক্তি হয়ে যায়। তাছাড়া, চীন বিভিন্ন দেশকে ঋণ দেয়। সেক্ষেত্রে একসঙ্গে বাংলাদেশে একাধিক প্রকল্পে অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব হয় না। সাধারণত দেখা যায়, বাংলাদেশকে বছরে একটি প্রকল্পে ঋণ দেয় দেশটি’ – যোগ করেন তিনি।

    বিলম্বিত ঋণচুক্তি

    ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন এবং ছয়টি জাহাজ ক্রয়- বর্তমানে এ দুটি প্রকল্পে ঋণ পেতে চীনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইআরডি।

    চীন বছরে সাধারণত একটি করে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ায়, এই অর্থবছরেই একটি ঋণচুক্তি হতে পারে। অন্য প্রকল্পগুলোর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

    সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর অনুমোদন দেওয়া হয়, ২০২৪ সালে যার বাস্তবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৪৭৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। তবে অনুমোদনের দুই বছর পরেও বৈদেশিক অর্থায়নের মন্থর অবস্থার কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণের আওতায় ছয়টি জাহাজ কেনার অনুমোদন দেয় সরকার। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, কবে এই ঋণচুক্তি হবে সেটি তিনি জানেন না।

    ছয়টি টিভি স্টেশন স্থাপনের জন্য ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ চীনের অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। তবে পাঁচ বছর পরেও ১২৫.১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

    ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকল্পটির গুরুত্ব কমেছে। এই কারণে প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা– তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    এদিকে কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়িয়ে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চীনা অর্থায়নে মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, কবে নাগাদ বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা যাবে জানে না মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষ।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতি পাওয়া গেলেই ইআরডির মাধ্যমে চায়না এক্সিম ব্যাংকের কাছে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হবে।

    এ ছাড়া, আখাউড়া থেকে সিলেট সেকশনে মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করার প্রকল্পটি চীনের ১,২৭২.৯৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের এপ্রিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে এই প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করে তা কমানো হয়। এ অবস্থায়, এই প্রকল্পে শেষপর্যন্ত চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    বাংলাদেশের মোট চীনা ঋণের স্থিতি

    ইআরডির তথ্যমতে, ৩০ জুন পর্যন্ত বহুপাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের মোট ঋণের স্থিতি (আউটস্ট্যান্ডিং) ছিল ৬২.৩১ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে চীনের অংশ ৫.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৮.৬২ শতাংশ। বাংলাদেশের ঋণের স্থিতিতে চীনের অবস্থান চতুর্থ।

    বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) স্বল্প-সুদে ঋণ দেয়। বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের ঋণের স্থিতি ১৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট পরিমাণের ৩১.৩৪ শতাংশ। তারপরেই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণের স্থিতি ১৪.১১ বিলিয়ন ডলার, বা মোট অংকের ২২.৬৫ শতাংশ। এরপর জাপানের রয়েছে ১০.৯৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট স্থিতির ১৭.৬৫ শতাংশ।

    চীনের ঋণের ধরন ও সুদহার

    চীন সরকার সাধারণত দু’ধরনের ঋণ দেয়, এর একটি হলো- মার্কিন ডলারে প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) এবং অপরটি হলো– চীনের নিজস্ব মুদ্রায় গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন (জিসিএল) বা সরকারিভাবে দেওয়া রেয়াতি ঋণ।

    উভয় ধরনের ঋণের সুদহারই ২ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সুদহারের কাছাকাছি। এর সাথে কমিটমেন্ট ফি যুক্ত হয় আরও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

    আইডিএ’র ঋণে সুদহার ১.২৫ শতাংশ, এর সাথে সার্ভিস চার্জ যোগ হয় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। জাপানের দ্বিপাক্ষিক ঋণের সুদহার সবচেয়ে কম, বা ১.৬ শতাংশ।

    বিশ্বব্যাংকের কিছু ঋণের সুদহার আবার বাজার-ভিত্তিক, যা বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের সুদহার হচ্ছে বাজার-ভিত্তিক।