Category: জাতীয়

  • বরিশালে ইভিএমে ধানের শীষের প্রায় তিন গুণ নৌকা

    বরিশালে ইভিএমে ধানের শীষের প্রায় তিন গুণ নৌকা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে যে ১১ কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়েছে তার মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে সাত হাজার ২২৪টি। আর ধানের শীষে পড়েছে দুই হাজার ৩৮৮ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির চেয়ে তিন গুণের বেশি ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

    সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট হয় নগরীতে। তবে বেলা ১২টার দিকে কারচুপির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার।

    আজ যে তিনটি সিটি করপোরেশনে ভোট হয়, তার মধ্যে ইভিএম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে বরিশালে। এখনকার ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিতেই ভোট গ্রহণ ব্যবহার করা হয়েছে এই যন্ত্র।

    মোট দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ ভোটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ভোটই নেয়া হয়েছে এই যন্ত্রে।

    ১২, ২০, ২১ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রের মোট ৭৮টি বুথে ইভিএমে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

    ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নারী কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৬৮২ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ২২৮ ভোট।

    একই ওয়ার্ডের একটি পুরুষ কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৭৯১ ভোট, আর ধানের শীষ পেয়েছে ২৬৯ ভোট।

    ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে এক হাজার ৯৪ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ১০৮ ভোট।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএম কলেজের কলা বিভাগ কেন্দ্র (পুরুষ) ও বিএম কলেজের বাণিজ্য বিভাগ কেন্দ্র (নারী)।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রথীকে পড়েছে এক হাজার ২৬৩ ভোট আর ধানের শীষের পক্ষে পড়েছে ৬৯৬ ভোট।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আরেকটি কেন্দ্রে নৌকায় পড়েছে ৬৫৯ ভোট, আর ধানের শীষে ২১১ ভোট।

    ব্যালটে ভোটের তুলনায় ইভিএমে ভোটের স্বচ্ছতা বেশি। এখানে একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ স্মার্টকার্ড পাঞ্চ করে এরপর আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হলেই তিনি ভোট দিতে পারেন।

    আবার ইভিএমে ভোট গণনাও সহজ। ভোট শেষে বাটন টিপ দিলেই ফলাফল জানা যায়। ফলে অন্যান্য কেন্দ্রে যখন গণনা কেবল শুরু হচ্ছে, ততক্ষণে ইভিএমে ফলাফল পাওয়া যায়।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও আ.লীগের জয়জয়কার। বিএনপি সমর্থিত ১৮ নং ওয়ার্ডের মীর জাহিদুল কবির ও ৩ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক মৃধা এবং জাতীয় পার্টির একে এম মর্তুজা আবেদীন ছাড়া সব কয়টি ওয়ার্ডে আ.লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে বরিশাল সিটির ১৫ টি কেন্দ্রের ফলাফল রাতে স্থগিত ঘোষনা করেছে। এসব কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত হলেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আ.লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে এ বছর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছে এবং অনেক জনপ্রিয় কাউন্সিল প্রার্থীও পরাজিত হয়েছে।

    বেসরকারীভাবে যে ৩০ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছেন তারা হচ্ছেন- ১ নং ওয়ার্ড; আমির হোসেন বিশ্বাস, ২ নং ওয়ার্ড; অ্যাড. একেএম মর্তুজা আবেদীন, ৩ নং ওয়ার্ড; বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক মৃধা, ৪ নং ওয়ার্ড; তৌহিদুল ইসলাম বাদশা, ৫ নং ওয়ার্ড; কেফায়েত হোসে রনি, ৬ নং ওয়ার্ড; খান মো জামাল হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ড; রফিকুল ইসলাম খোকন, ৮ নং ওয়ার্ড; সেলিম হাওলাদার, ৯ নং ওয়ার্ড; হারুণ অর রশিদ, ১০ নং ওয়ার্ড; এটিএম শহিদুল্লাহ, ১১ নং ওয়ার্ড; মজিবর রহমান, ১২ নং ওয়ার্ড; জাকির হোসেন ভুলু, ১৩ নং ওয়ার্ড; মেহেদী পারভেজ খান আবির, ১৪ নং ওয়ার্ড; তৌহিদুল ইসলাম ছাবিদ, ১৫ নং ওয়ার্ড; লিয়াকত হোসেন খান, ১৬ নং ওয়ার্ড; মোশাররফ আলী খান বাদশা, ১৭ নং ওয়ার্ড; আক্তারুজ্জামান গাজি হিরু, ১৮ নং ওয়ার্ড; মীর জাহিদুল কবির, ১৯ নং ওয়ার্ড; গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, ২০ নং ওয়ার্ড; জিয়াউল রহমান বিপ্লব, ২১ নং ওয়ার্ড; শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ২২ নং ওয়ার্ড; আনিচুর রহমান, ২৩ নং ওয়ার্ড; এনামুল হক বাহার, ২৪ নং ওয়ার্ড; শরীফ আনিচুর রহমান, ২৫ নং ওয়ার্ড; এসএম সাইদুর রহমান মোল্লা, ২৬ নং ওয়ার্ড; হুমায়ুন কবির, ২৭ নং ওয়ার্ড; নুরুল ইসলাম, ২৮ নং ওয়ার্ড; জাহাঙ্গীর হোসেন, ২৯ নং ওয়ার্ড; ফরিদ আহমেদ, ৩০ নং ওয়ার্ড; আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা।

    এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কউন্সিলর পদে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন যারা-
    সংরক্ষিত (১, ২ ও ৩) নম্বর ওয়ার্ডে মিনু রহমান। সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯) নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর কহিনুর বেগম । সংরক্ষিত ৪ আসনে (১০, ১১ ও ১২) নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক প্যানেল মেয়র আয়শা তৌহিদ লুনা।  সংরক্ষিত (১৬, ১৭ ও ১৮) ওয়ার্ডে মজিদা বোরহান। সংরক্ষিত ৭ আসনে (১৯, ২০ ও ২১) নম্বর ওয়ার্ডে সালমা আক্তার শিলা। সংরক্ষিত ১০ আসনে (২৮, ২৯ ও ৩০) নম্বর ওয়ার্ডে রাশিদা পারভীন।’

  • বিসিসি নির্বাচনঃ বরিশাল সিটির মেয়র হচ্ছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ বরিশাল সিটির মেয়র হচ্ছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিপুল ভোটের ব্যবধানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৬৭ ভোট। আর সাদিক আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪০ ভোট।

    এর আগে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র দখল, ভোটারদের মারধর ও ব্যালট পেপারে সিল মারাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

    এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টায় তিনি ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলে বরিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনিষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ওবাইদুর রহমান (মাহাবুব)। এ সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীর ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হয় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

  • রাজশাহীর নতুন নগরপিতা লিটন

    রাজশাহীর নতুন নগরপিতা লিটন

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ৩৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩১২ ভোট। বুলবুলের চেয়ে ৮৭ হাজার ২০ ভোট বেশি পেয়েছেন লিটন।

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ২১৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী পাঁচজন। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন।

    সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা এক হাজার ২০টি।

  • বিসিসি নির্বাচনঃ ভোট দিলেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ ভোট দিলেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাউনিয়ার সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় বিএনপি প্রার্থী বলেন, একাধিক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের ধানের শীষের এজেন্ট সাজিয়ে কেন্দ্রে বসানো হয়েছে। কাউনিয়ার সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এরকম একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলার কথাও জানান সরোয়ার। পরে প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার বাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী যেকোনো ভাবে ভোটের ফলাফল তার পক্ষে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ভোটাররা যদি ৪টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকবেন বলেও জানান বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী।

    এদিকে সকাল ৮টায় সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। কেন্দ্রের প্রথম ভোটটি দেন তিনি।

    ভোট প্রদান শেষে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মেনে নেব। নির্বাচনে যেই জয়লাভ করবে তাকে সহায়তা করব।’

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হবে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

    অপরদিকে বাসদ মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সরকারি বলিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে একাধিক ব্যালটে আগে থেকেই সিল মারা দেখে প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছিত করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

    এছাড়া নগরীর দিয়াপাড়া, দত্তপাড়া ও বিসিক এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাসদ মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী একে আজাদ।

    তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উল্লেখ্য সোমবার সকাল ৮টা থেকে বরিশালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন নগরবাসী।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।

  • ডিএসসিসির ১৬৭০ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা!

    ডিএসসিসির ১৬৭০ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা!

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন সাড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ বাড়িতেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বাহিত এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ১৯ হাজার ৫৪২টি বাড়ি পরিদর্শন করে এক হাজার ৬৭০টি বাড়িতে লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    গত ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডিএসসিসি এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক মশকের লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসকরণ কার্যক্রমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়বহ চিত্র ডিএসসিসির অঞ্চল ১-এ। সাতটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ অঞ্চলের ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঠালবাগান, মন্ত্রিপাড়া ও সেগুনবাগিচার চিত্র ভয়াবহ। মশকের লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসকরণে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অঞ্চল ১-এর দুই হাজার ৫৯৯টি বাড়ি পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ৯৩৮টি বাড়িতেই লার্ভার উপস্থিতি পান তারা। লার্ভার উপস্থিতির হার ৩৬ দশকিম ০৯ শতাংশ। এছাড়া প্রজননস্থল পাওয়া গেছে ৯৬১টি। পরিদর্শনে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি ১৬৬১টি বাড়িতে।

    এছাড়া আরও চারটি অঞ্চলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অঞ্চল ২-এ ওয়ার্ড সংখ্যা ১২টি। সেখানে চার হাজার ৩৪৪টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৭৮টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শতকরা হিসাবে যা ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। বাড়িগুলোর মধ্যে চার হাজার ১৬৬টি বাড়িতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

    একইভাবে অঞ্চল ৩-এ ওয়ার্ডের সংখ্যা ১২টি। সেখানে চার হাজার ৬৯৩টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৭৫টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শতকরা হিসাবে যা ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চার হাজার ৪১৮টি বাড়িতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

    অঞ্চল ৪-এ ওয়ার্ড সংখ্যা ১১টি। সেখানে তিন হাজার ৪০৬টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৬৯টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা শতকরা ২ দশমিক ০২ শতাংশ। বাড়িগুলোর মধ্যে তিন হাজার ৩৪০টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

    অঞ্চল ৫-এ ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৫টি। সেখানে চার হাজার ৫০০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২১০টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শতকরা হিসাবে যা ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বাড়িগুলোর মধ্যে চার হাজার ২০৯টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক চিত্র দেখে লার্ভা বা প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসকরণে ফের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এর আগেও এমন কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

    এডিস মশার লার্ভা বা প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। সেই কমিটির সদস্যরা বাড়ির পরিত্যক্ত কলস, বালতি, বোতল, কনটেইনার, টায়ার, পলিথিন ব্যাগ, পানির ড্রাম, ফুলের টবে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে মশার লার্ভা পেয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ লিফলেট বিতরণও করেন।

    তবে গত ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মশকের লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসকরণ কার্যক্রমে অনেক বাসাতেই ডিএসসিসির মশক নিধনকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা শিহাবুল ইসলাম বলেন, পত্র-পত্রিকা ও টিভিতে জেনেছি ডিএসসিসি মশকের লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে আমাদের বাসা বা আশপাশের বাসায় তাদের দেখা যায়নি। মশকনিধন টিম তো দূরের কথা মশা মারার ওষুধ ছিটানো কর্মীদেরও দেখা মেলেনি।

    রাজধানীর মুগদার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় মশার উপদ্রব অনেক বেশি। মাঝেমাঝে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো চোখে পড়লেও বাসায় বাসায় গিয়ে মশকের লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসকরণের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম আমাদের বাসায় বা আশপাশেও দেখা যায়নি।

    ডিএসসিসির নেয়া কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘এ কার্যক্রমে প্রায় ২০ হাজার বাড়িতে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। যেসব বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে তা ধ্বংস করা হয়েছে। এসব বাড়িতে ভবিষ্যতে যাতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রজননস্থল ধ্বংস করার কৌশলও শিখিয়ে দেয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘অঞ্চল ১-এ মশকের লার্ভার বিষয়টি আমাদের কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। এ অঞ্চলের ধানমন্ডি, কলাবাগান, সেগুনবাগিচা ও মন্ত্রিপাড়ার ৪৫ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ কারণে আমরা এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসকরণে আবারও কর্মসূচি নিয়েছি।’

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে থেকেই মশকের বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ, এডিস মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বাসাবাড়ির ভেতরে থাকা ফ্রিজ, এসি, ফুলের টবে জমে থাকা পানি অপসারণ, সচেতনতামূলক টিভিসি সম্প্রচার, গণবিজ্ঞপ্তি, লিফলেট ও মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • রাত পোহাবার অপেক্ষা

    রাত পোহাবার অপেক্ষা

    রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সোমবার। মাঝে শুধু একটি রাত। রাত পোহালেই অর্থাৎ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা চলবে ভোটগ্রহণ। এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    তিন সিটিতে মোট ১৭ মেয়রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আট লাখ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগরপিতা নির্বাচিত করবেন।

    তিন সিটিতে শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণা। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা। রোববার সকাল থেকেই এ তিন সিটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করতে দেখা যায়। টানা কদিনের জমজমাট প্রচারণা শেষে সবই যেন থমকে যায় ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনের জন্য। তবে কৌশলী প্রচারণা চালান প্রার্থীরা।

    নির্বাচন উপলক্ষে তিন শহরে মোতায়েন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এসব সিটির ১৫টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে তিন সিটিতে সোমবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, তিন সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।

    ইসির একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইসি একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) উইংয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

    রাসিক

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন দুই সাবেক মেয়রসহ ৫ প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৫২ জন প্রার্থী।

    এই নগরীর মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন পুরুষ এবং এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী। ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

    এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। আরও চার প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, ভোটের নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বপালন করছেন অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

    তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে ও পরে তিন দিন পুরো নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ঘিরেও থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে ভোটারদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই নগর পুলিশ কর্মকর্তা।

    সিসিক

    সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। এবার নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ২৭টি টিম কাজ করছে। ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য থাকবেন।

    তবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন করে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এ ছাড়া ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ৯টি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।

    সিসিক নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে ২ হাজার ৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

    বিসিসি

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এর মধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।

    বিসিসি নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ৬২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা।

    অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার মিলিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ছাড়াও পুলিশের একাধিক দলকে টহল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিজার্ভ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচারের জন্য ১০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

    এছাড়া ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩০০ সদস্য কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

  • হজে গিয়ে বরিশালের বারেকসহ ৩ জনের মৃত্যু

    হজে গিয়ে বরিশালের বারেকসহ ৩ জনের মৃত্যু

    পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে আরও তিন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন বরিশাল বাকেরগঞ্জ ‍উপজেলার ভরপাশা গ্রামের এম এ বারেক হাওলাদার (৬৩), দিনাজপুর সদরের মো.আখতারুজ্জামান (৬২) ও কিশোরগঞ্জ হোসাইনপুরের সাহেদল গ্রামের মো. মতিউর রহমান (৫৯)। এ তিনজনকে নিয়ে চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মোট আটজন হজযাত্রী মারা গেলেন। এদের সবাই মক্কায় মারা যান।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মক্কা থেকে প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    গত শুক্রবার (২৭ জুলাই) মো. মতিউর রহমান মারা যান। তার পিলগ্রিম আইডি ১৪৫৩১৪১ ও পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ ০৩৮৯৬৫৪। তিনি সেরাপ অ্যাভিয়েশন সার্ভিসেসের (হজ লাইন্সেস নম্বর ১৪৫৩) মাধ্যমে ২৬ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্স যোগে সৌদি যান।

    শনিবার (২৮ জুলাই) এম এ বারাক হাওলাদার মারা যান। তার পিলগ্রিম নম্বর ০২৮৬০৩৮ ও পাসপোর্ট নম্বর বিএম ০৪৪৪৮২৭। তিনি বিলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের (হজ লাইন্সেস নম্বর ০২৮৬) মাধ্যমে ২৪ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যোগে সৌদি আরব যান।

    শনিবার মো. আখতারুজ্জামান নামে আরও একজন মারা যান। তার পিলগ্রিম আইডি নম্বর ০৩৪৭১৭৭ ও ও পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ ০৯৩২৩৭৮। তিনি আকাবা ইন্টারন্যাশনালের (হজ লাইসেন্স নম্বর ০৩৪৭) মাধ্যমে ২৪ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্সে সৌদি পৌঁছান।

    এর আগে যে পাঁচজন মারা যান

    আবদুর রহমান আকন্দ। মারা যান ২৫ জুলাই। তার পিলগ্রিম আইডি নম্বর ১৪৯৪১১২ ও পাসপোর্ট নম্বর ওসি ৯১৮৭৮২৫। তিনি এহসান অ্যাভিয়েশন হজ এজেন্সির (হজ লাইসেন্স নম্বর ১৪৯৪) মাধ্যমে গত ১৮ জুলাই সৌদি আরব যান।

    আবদুল হালিম আকন্দ। মারা যান ২৪ জুলাই। তার পিলগ্রিম আইডি নম্বর ১২৪৪২১২ ও পাসপোর্ট নম্বর বিআর ০৫০৯০৫৩। তিনি সানলাইন ট্রাভেলস লিমিটেডের (হজ লাইসেন্স নম্বর ১২৭৭) মাধ্যমে ২০ জুলাই সৌদি পৌঁছান।

    ২৩ জুলাই মারা যান জামালপুর জেলার সদর থানার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম আজাদ (৬০)। তার পাসপোর্ট নম্বর বিটি ০২৯৯৪৬৬।

    ১৮ জুলাই মানিকগঞ্জের মো. আবদুস সাত্তারের (৬৯) মৃত্যু হয়। তার পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০৫৪০০০৮। ১৫ জুলাই মুত্যু হয় নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ আমির হোসেনের (৫৪)। তার পাসপোর্ট নম্বর বিআর ০৯৪৭১৩১।

  • বিসিসি নির্বাচনঃ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ওবাইদুরের সংবাদ সম্মেলন

    বিসিসি নির্বাচনঃ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ওবাইদুরের সংবাদ সম্মেলন

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান (মাহবুব) বলেছেন, সরকারকে বলবো ৩০ জুলাই (সোমবার) একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করুন। মুখে মুখে শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা না বলে নিশ্চিত করুন যাতে প্রত্যেকটি ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে এবং যাকে খুশি তাকে দিতে পারে।

    রোববার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল নগরের সদর রোডের চায়না প্যালেস রেস্তোরাঁয় ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ওবাইদুর বলেন, শনিবার (২৮ জুলাই) এক প্রার্থী বরিশাল নগরে যে শোডাউন করেছে তাতে আমরা শঙ্কিত। আমাদের মধ্যে শঙ্কার আবির্ভাব হয়েছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সেক্রেটারি মাওয়ালা জাকারিয়া হামিদী।

  • বরিশালসহ তিন সিটিতে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ ইসির

    বরিশালসহ তিন সিটিতে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ ইসির

    রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যেই ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) তিন সিটিতে এসব বিতরণ করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে তিন শহরে মোতায়েন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এসব সিটির ১৫টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এরও। আগামী সোমবার (৩০ জুলাই) এই তিন সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    জানা যায়, তিন সিটিতে নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, তিন সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আমরা যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।

    ইসির একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইসি একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) উইংয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

    যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচন উপলক্ষে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত তিন সিটিতে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, তিন চাকার গাড়ির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ২৮ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সেখানে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    অন্যদিকে ২৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ২৮ তারিখ থেকে ১ আগস্ট অর্থাৎ নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা পর পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশ নিষিদ্ধ।

    মাঠে থাকবে ৬৪৪ পর্যবেক্ষক
    এই তিন সিটির নির্বাচন উপলক্ষে কমিশনের ৩৫টি পর্যবেক্ষক কমিটি থাকবে। ইসির জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় জেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন এই কমিটিতে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ৬০৯ জন পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ১৫টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ৫৯২ জন ও বিদেশি রয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্টের পর্যবেক্ষকও রয়েছেন।

    ইসির একাধিক সূত্র জানায়, রাজশাহীতে ১৯২ জন স্থানীয় ও সাতজন বিদেশি পর্যবেক্ষক, বরিশালে ২০৩ জন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশি এবং সিলেটে ২০৩ জন স্থানীয় ও সাতজন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

    মোতায়েন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য
    নির্বাচন উপলক্ষে তিন সিটিতে ২৪৮ প্লাটুন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন ২২ জন পুলিশ ও ভিডিপি সদস্য। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৮৭ প্লাটুন র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও বরিশালে ৩০ প্লাটুন এবং সিলেটে ২৭ প্লাটুন।

    এছাড়াও তিন সিটিতে ৪৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও বরিশালে ১৫ প্লাটুন করে এবং সিলেটে ১৪ প্লাটুন। এছাড়াও রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ ফোর্স। থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও।

    ১৫ কেন্দ্রে ইভিএম
    নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তিন সিটির ১৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রাজশাহী ও সিলেটের দুটি কেন্দ্রে ও বরিশালের ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

    জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) উইংয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম  বলেন, ইভিএম ব্যবহারের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আশাকরি আগের কেন্দ্রগুলোর মতো এবারও আমরা সুফল পাব এবং ভোটাররা ভালোভাবে ভোট দিতে পারবেন।