Category: জাতীয়

  • আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    হুজাইফা রহমানঃ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই দিনে ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) অনুষ্ঠিত জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল।

    পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়৷ নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা।

    এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়; পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষে ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে “ডকুমেন্টারী হেরিটেজ” (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই ভাষণটি সহ মোট ৭৭ টি গুরুত্বপুর্ণ নথিকে একইসাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপুর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে। ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে (এমওডব্লিউ) ’ ৭ মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭ টি গুরতুপুর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধাননন্ত্রী শেখ হাসিনা একে ইতিহাসের প্রতিশোধ হিসেবে তুলনা করেছেন। কারণ স্বাধীন দেশে দীর্ঘসময় এই ভাষণের প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।

    শাবিপ্রবির শিক্ষক জাফর ইকবাল প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বঙ্গবন্ধু নয় বরং ইউনেস্কোই এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত হয়েছে। কারণ এখন তাদের কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণটি আছে, এমনটা তারা বলতে পারবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সচিবালয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন৷ একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয়, সেদিকেও তাঁর সতর্ক দৃষ্টি ছিল৷

    তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি৷ তার এই সতর্ক কৌশলের কারণেই ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই জনসভার ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিলেও তা করতে পারেনি৷ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ প্রতিবেদনে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না৷’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, “২০১৫ সালে ক্যানাডার একজন অধ্যাপক সারা বিশ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে একটা গ্রস্থ প্রকাশ করেছিলেন৷ সেখানেও বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল৷ তখন অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি পেলেও এবার পেলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি৷”

  • ৭ই মার্চে সাজছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

    ৭ই মার্চে সাজছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

    মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভার প্রস্তুতির কাজ চলছে। দিবসটিতে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ সমাবেশ করলেও এবারের আয়োজন পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। কারণ ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে গত বছরের অক্টোবরে।

    মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, সমাবেশ উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশ পরিষ্কার করা হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর জন্য চলছে টাওয়ার নির্মাণের কাজ। আর মাটিতে বাঁশ পুঁতে তার উপরে বসানো হচ্ছে রঙ-বেরঙের নৌকার পাল।

    প্রস্তুতির কাজ করছেন রমজান আলী। জানতে চাইলে  তিনি বলেন, এই প্রথম আমরা কোনো সমাবেশে ব্যানার লাগানোর জন্য এ ধরনের টাওয়ার করছি। এরকম পাঁচটি টাওয়ার তৈরি করা হবে, পাল থাকবে ৫০টি।
    আওয়ামী লীগের জনসভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে লেকের পূর্বপাশে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলেই। মঞ্চের কাজও শেষ পর্যায়ে।

    অনুষ্ঠানস্থলের দক্ষিণ অংশে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘হেলথ ক্যাম্প’। এছাড়া পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বিকেলে সমাবেশস্থল পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক

    এ সময় সড়ক ওবায়দুল কাদের বলেন, একাত্তরের চেতনাকে তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান থাকবে আগামীকালের (বুধবার) সমাবেশে। একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলার মাটি থেকে এখনো নির্মূল হয়নি। সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ বিজয়কে সংহত করার পথে অন্তরায়। সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ উৎপাটনে জনগণের সহযোগিতা চাইবেন নেত্রী।

    অন্যদিকে এ সমাবেশ বিশাল গণজমায়েতের জন্য আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোও প্রচারণা চালাচ্ছে। ৬ দিন ধরে সমাবেশের মাইকিং করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, আমরা ছাত্রলীগের ২০টি টিম প্রচারণার কাজ করেছি। আশা করছি বিপুল সংখ্যক লোকসমাগম হবে। তার মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা থাকবে প্রায় ৭০ হাজার।

  • সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যাচেষ্টা মামলা- শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যাচেষ্টা মামলা- শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, যাদের মধ্যে শফিক রেহমানও আছেন।

    মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে এই অভিযোগ গ্রহণ করেন। শফিক রেহমান ছাড়া যাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

    আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, শুনানির সময় মাহমুদুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শফিক রহমান উপস্থিত না হতে পারায় সময় আবেদন করা হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত আদালতে উল্লেখিত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামুনের ছেলে রিজভী আহাম্মেদ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে তা অন্য আসামিদের সরবরাহ করেন। আর প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এই ষড়যন্ত্রে অর্থ যোগানোর পাশাপাশি পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

    মামুন জাসাসের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি এখনও সে দেশেই বসবাস করেন। জয়ের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত গোপন তথ্য পেতে এফবিআইএর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালে মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে কারাদ- হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে প্রকাশ পেলে তোলপাড় হয়। তখন জয়ও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেন। বলেন, যারা এই চক্রান্তে জড়িত, তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাজা পাওয়া বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ সিজার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি অনুযায়ী জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য তিনি বাংলাদেশি এক সাংবাদিককে দিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন।

    ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। এতে জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র আনা হয়। মামলায় বলা হয়, জাসাসের সহ-সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন এবং দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। ‘প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জীবননাশসহ যে কোনো ধরনের ক্ষতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।

    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিএনপির হাইকমান্ড দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন করছে।’ ২০১৬ সালের এপ্রিলে শফিক রেহমানকে তার ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাসা থেকে জয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য ও গোপনীয় নথিও পাওয়া গেছে। পাঁচ মাস পর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শফিক রেহমান। অন্যদিকে দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই বছরের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান।

  • আগামী এপ্রিলে উড়বে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

    আগামী এপ্রিলে উড়বে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

    আগামী এপ্রিলের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহেই মহাকাশে যাত্রা করবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’। ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্স-এর লন্ড প্যাড থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। ঢাকায় নব নির্মিত উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্লোরিডায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    শাহজাহান মাহমুদ জানান, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই স্যাটেলাইট প্রকল্পের উদ্বোধনকে জাতীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার আর প্রসারে সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস নামের প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এই স্যাটেলাইট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। এখন সেটি রাখা আছে ফ্রান্সে। কয়েক দিনের মধ্য সেটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নেওয়া হবে।

    এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য রকেট নির্মাণ করেছে বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক টেলসলার প্রধান নির্বাহী অ্যালেন মস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্প। ফ্যালকন-৯ নামক একটি রকেট দিয়ে এটির উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।

    এপ্রিলের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে এটির উৎক্ষেপণ করা হবে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দিন তারিখ ঠিক হওয়ার মাত্র ১৫ দিন আগে আমাদের জানানো হবে।

    এই স্যাটেলাইটটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের দিন ধার্য ছিল। তবে, স্পেস এক্স-এর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আগুন ধরে প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিলম্ব হলো বলে জানানো হয় ব্রিফিংয়ে।

    স্যাটেলাইটটি সঠিকভাবে মহাকাশে পাঠানো গেলে ৮ দিন পর এটি মহাকাশে বরাদ্দ পাওয়া ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে, বাংলাদেশের প্রায় ৩৭টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল যারা এখন বিদেশের স্যাটেলাইট নির্ভর ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার আয় করা যাবে। তবে, এই টিভি চ্যানেলগুলি এখনকার প্রচলিত ক্যাবল ভিত্তিক প্রচারণার পরিবর্তে ছোট ছোট ডিস অ্যানটেনার ডাইরেক্ট টিভি সিগনাল পাবে। সেই সিগনাল ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের দায়িত্ব থাকবে দুটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো গ্রুপ এবং বায়ার মিডিয়া এই পুরো টিভি চ্যানেল ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ এবং সিগন্যাল বিকিকিনির পুরো ব্যবসায়িক দিকটি উপভোগ করবে। এদের ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি এখানে ডিটিএস প্রযুক্তির ব্যবসায় নামতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।

    কোন পন্থায় মাত্র দুটি কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান বিটিআরসির চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ‘এটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এটা স্পর্শকাতর একটি বিষয়, আমার কাছে সঠিক উত্তর নেই’।

    বাংলাদেশের গাজীপুরে প্রায় ১৩ একর জায়গার ৫ একর জুড়ে এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছে। প্রায় ১৫ জনের দলে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন তাসনিয় তাহমিদ নামের একজন।

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি বিদেশি বা প্রতিবেশী দেশের কাছে ভাড়া দিতে পারবে। উৎক্ষেপণের পর পরবর্তী ১ বছর পর্যন্ত এর তদারকি করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। এটি আগামী ১৮ বছর পর্যন্ত মহাকাশে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি এবং কাজ করতে পারবে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দীন আহমেদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল শামীম আহমেদ এনডিসি, বিটিআরসি রেগুলেটরি কমিশনের সচিব মোহাম্মদ সারোয়ার আলম আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের কনস্যালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান, স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) ম্যানেজিং পার্টনার শফিক এ চৌধুরী প্রমুখ ।

  • ৫ সিটি কর্পোরেশনে জুনেই নির্বাচন করতে চায় সরকার

    ৫ সিটি কর্পোরেশনে জুনেই নির্বাচন করতে চায় সরকার

    দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে দু-এক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো শুরু করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারা চায়, জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জুলাইয়ে এই নির্বাচন করতে ইচ্ছুক।

    স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট গ্রহণ করতে হবে। সে অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক এই চিঠি দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৪ অক্টোবর।

    তবে ইসি বলছে, নির্বাচনের জন্য চিঠি পাঠানোর বাইরেও সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা জটিলতা নিরসন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে হবে। কমিশন এবার সব জটিলতা শেষ করেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা জানায়, গাজীপুর নিয়ে এখনো সীমানা জটিলতা আছে। সেখানকার ছয়টি মৌজা ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নভুক্ত। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। হাইকোর্ট এটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও এ বিষয়ে এখনো ফয়সালা হয়নি। তবে বাকি সিটিগুলোয় মামলাজনিত কোনো সমস্যা নেই। এর মধ্যে সীমানা জটিলতায় থমকে গেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

    জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারসচিব আবদুল মালেক বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর পূর্তি হবে। সে অনুযায়ী আমরা দু-এক দিনে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ করব। তবে আমি মনে করি, জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা উচিত। কেননা ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন রয়েছে। আর সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নানা কাজের ঝামেলা থাকে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশনই।’

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজে লাগানো হবে। তাই অন্তত ছয় মাস আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে কমিশনের। সে অনুযায়ী আগামী জুন-জুলাইয়ের যেকোনো সময় এক দিনে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় মাস আগে ২০১৩ সালের জুন-জুলাইয়ে পাঁচ সিটিতে নির্বাচন হয়। পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেলে কমিশন পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে বসে সবকিছু ঠিক করবে। একসঙ্গে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। তবে কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    এদিকে ইসির আরেকটি সূত্র জানায়, এবার স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন করার জন্য চিঠি দিলেই হবে না; তাদের স্পষ্ট জানাতে হবে, কোনো সিটি করপোরেশনের সীমানা বেড়েছে কি না, নতুন ওয়ার্ড হয়েছে কি না বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না। ঢাকার মতো এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় যাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়, তাই সবকিছু ঠিক করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় সরকার বিভাগেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সব ধরনের জটিলতা এড়াতে আমরা এবার প্রস্তুতি নিয়েই তফসিল ঘোষণা করব, যাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মতো কোনো জটিলতা না হয়। আমরা সাধারণত বৃষ্টি-বাদলের সময়, রমজানের সময় নির্বাচনের তারিখ দিতে চাই না। এ ছাড়া আমাদের কিছু পৌরসভা নির্বাচন, ইউনিয়ন নির্বাচন রয়েছে। সব মিলিয়ে কমিশন বসে আলোচনা করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে।’ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর হয় কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন।

  • জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না

    জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশের মানুষ আর একবার ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের কোনো খবর থাকবে না। তারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার লেবার পার্টির আলোচনা সভায় এই কথা বলেন তিনি।

    খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না হতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, আপনারা সরকারি খরচে নৌকায় ভোট চাইবেন আর আমাদের নেত্রীকে কারাগারে রাখবেন তা হবে না। সভা সমাবেশে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন। নির্বাচন আইনে আছে তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দল ও নেতা কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না। তাই শেখ হাসিনা এখন জনসভা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকটু সংযত হলে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়া যেত। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যেত। তার সামনে সুযোগ ছিল বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কপালে যে কালিমা লেপন হয়েছে তা মুছে ফেলার। কিন্তু তিনিও সেটা না করে করলেন উল্টোটা। তিনি চাইলে পারতেন মানুষের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র সুসংহত করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা না করে করলেন একদলীয় শাসন কায়েম।

    মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে কোনো স্লোগান দরকার হবে না। খালেদা জিয়া আমাদের সাথে থাকবেন আর স্লোগান হবে ৭০ টাকা দরে চাল খাব না, নৌকায় ভোট দেব না। ১৫০ টাকায় পেঁয়াজ খাব না নৌকায় ভোট দেব না।

    লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মীর নাসির, বরকত উল্লাহ বুলু, বাবু নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

  • কখনও আদর-যত্ন পায়নি সাকিব-তামিমরা

    কখনও আদর-যত্ন পায়নি সাকিব-তামিমরা

    আহা রে! কখনও গোসল বা ধোয়া-মোছা হয় না সাকিব তামিম মুশফিকদের শরীর। দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পর থেকে কখনও একটু আদর-যত্ন পায়নি তারা। জাতীয় ক্রিকেটারদের শরীর পরিষ্কার করার প্রয়োজন মনে করেনি কোনো কর্তৃপক্ষ। দেখে মনে হচ্ছে দূষিত চাক্তাই খাল থেকে সদ্য ডুব দিয়ে এসেছেন জাতীয় ক্রিকেটাররা।

    বলছিলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে বিশ্বরোডের মোড়ে নির্মিত বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটারদের ভাস্কর্যের কথা। ধুলাবালিতে ভাস্কর্যগুলোর এমন অবস্থা, মনে হচ্ছে ক্রিকেটাররা কোনো ডোবা থেকে ডুব দিয়ে ওঠেছেন এই মাত্র। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে এমন হতেই পারে। তবে পরিষ্কার তো করা যায়। পরিষ্কার করতে কী সুন্দর দেখা যেত ভাস্কর্যগুলো। যারা এ গুলো নির্মাণ করেছেন, এ গুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের থাকা উচিত। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেউ পালন করে বলে মনে হয় না। বলা যায় বেওয়ারিশ ভাস্কর্য।

    কিছুদিন আগে এই পথ দিয়েই ধূলা-বালিময় এই ভাস্কর্য দেখে দেখেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা দল ও টাইগার দল। তামিমেরা ধূলা-বালিময় নিজেদের এই ভাস্কর্য দেখে হেসেছে নাকি কেঁদেছে জানি না।

    টাইগারদের ভাস্কর্যের কাছেই আছে বাংলাদেশ বিমানের চমৎকার একটি ভাস্কর্য। সেটিরও একই অবস্থা।

    লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক।

  • জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী এই সেই দুর্বৃত্ত

    জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী এই সেই দুর্বৃত্ত

    জনপ্রিয় লেখক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই হামলাকারীর নাম পরিচয় জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মঞ্চে বসে ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এসময় মোটর সাইকেলযোগে দুই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। পরে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা যুবক মঞ্চে বসে থাকা ড. জাফর ইকবালকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। এতে মাথার পেছনে গুরুতর জখম হলে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এসময় হামলাকারীকে আটক করে শিক্ষার্থীরা বেধরক পেটাতে থাকে। পরে ওই হামলাকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তবে বেধড়ক পিটুনিতে ওই যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে অপর ব্যক্তি ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    এছাড়া এ ঘটনায় ইব্রাহিম নামে পুলিশের এক কনস্টেবলও ছুরিকাহত হন।

  • চুপি চুপি ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন কিনে দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা

    চুপি চুপি ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন কিনে দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা

    চুপি চুপি ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন কিনে দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা !

    সত্যিই বিশ্বে বিরল দেশরত্ন শেখ হাসিনার মত এমন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা মায়েদের মোবাইল ফোনের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে ২০ লাখ মোবাইল সেট কিনে দিতে হয়েছে সরকারকে। কারণ হতদরিদ্র্য এই মায়েদের ফোন কেনার সামর্থ্য ছিল না। তবে পুরো কাজটিই সরকার করেছে অনেকটাই গোপনে। না হলে সবাই বিনামূল্যে ফোন চাইতো বলে ধারণা ছিল সরকারের।

    সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২৬৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নিজে এ কথা জানান।

  • তুমব্রু সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্র সরিয়েছে মিয়ানমার :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    তুমব্রু সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্র সরিয়েছে মিয়ানমার :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে যেসব ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল মিয়ানমার সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    আগের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ টহল দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।

    শনিবার রাজধানী তেজগাঁওয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

    বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা শিগগিরই দেশে ফিরে যেতে পারবেন বলে মনে করছি।