Category: জাতীয়

  • নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    ঘুষ গ্রহণের এক মামলায় বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    খবর-বিডিনিউজ’র।

    এর আগে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল ও তার স্ত্রী সিগমাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানিতে পাঠায়।

    এই রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    জজ আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। হাইকোর্টের রায়ে সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় সেই জরিমানা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

    বর্তমানে নতুন দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা হাইকোর্টে নিজেই শুনানি করেছিলেন। তবে বুধবার রায়ের সময় তিনি আদালতে ছিলেন না।

    সিগমা হুদার পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউ সি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ।

    ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলায় অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার মালিকানাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য জনৈক মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তারা।

    ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২০ মার্চ নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট।

    পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ০১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টে এ মামলার পুনঃশুনানি শুরু হয়।

  • মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    রাখাইন রাজ্যে আন্ত সম্প্রদায় সহিংসতা ও সামরিক বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইতালির স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাসতিয়ানো কার্ডি পরিষদের পক্ষে বিবৃতিটি পড়ে শোনান। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তার দেশের নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার না করলেও বিবৃতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের এ বিবৃতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি পরিষদে গৃহীত দলিল হিসেবে লিখিত থাকবে।

    চীনের আপত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব আনতে পারছে না—আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমন তথ্যের মধ্যেই চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সব সদস্যের সম্মতিতে ওই বিবৃতি গৃহীত হয়েছে। এতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তিনি এই সংকট উত্তরণে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। সংকট নিরসনে তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতেও মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতি গ্রহণের ৩০ দিন পর মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি দিতেও জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত বর্ণনাতীত সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নাখোশ হয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান এ বিবৃতিকে ‘অযৌক্তিক চাপ’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ জানান। সংকট নিরসনে এ বিবৃতি সহায়ক হবে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার মধ্য দিয়ে এ ট্র্যাজেডির শুরু এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিও লড়াই করছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, ওই ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে বিবৃতির কিছু অংশ মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করলেও সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। হাও দো সুয়ান বলেন, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবে।

    মিয়ানমার সংকট সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে ‘প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি’ গ্রহণ করায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছি এবং আমাদের যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ না করবে ততক্ষণ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ’

    রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতেও মিয়ানমার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণে সব সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব মিয়ানমার সংকট সমাধানে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিবিধ ভূমিকার ক্ষেত্রে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা জাতিসংঘ মহাসচিবের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত। ’

    মাসুদ বিন মোমেন বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রথমত, উত্তর রাখাইন প্রদেশে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়া, যাতে যে রোহিঙ্গা জনগণ সেখানে রয়েছে তাদের আর পালাতে না হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে অবশ্যই দৃশ্যমান, ফলপ্রসূ ও টেকসই কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজকে এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

    নিরাপত্তা পরিষদের এক হাজার ৩৬২ শব্দের বিবৃতির শুরুতেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গত ২৫ আগস্ট আরসার হামলার তীব্র নিন্দা এবং আরসার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরের অনুচ্ছেদেই রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, সহিংসতায় ছয় লাখ সাত হাজার ব্যক্তির গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে এবং তাদের বড় অংশই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের।

    নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারাসহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের খবরে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে বল প্রয়োগ ও দমন-পীড়ন, হত্যা, যৌন সহিংসতা এবং বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে পরিষদ উল্লেখ করেছে।

    পরিষদ রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত কাঠামো বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের—এ কথা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করে পরিষদ মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়ণে নিরাপত্তা ও সামাজিক খাত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য মিয়ানমারের ‘ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ কাঠামো’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে ওই কাঠামো যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে সহায়ক হয় এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পরিষদ সংশ্লিষ্ট সরকার ও সব মানবিক অংশীদারকে নারীদের বিশেষ করে যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন রাজ্য বিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রতি মিয়ানমার সরকারের প্রকাশ্য সমর্থনকে নিরাপত্তা পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে। এ ছাড়া পরিষদ ধর্ম বা গোষ্ঠী-নির্বিশেষে সবার নাগরিকত্ব, সেবা পাওয়ার সমান সুযোগ, চলাফেরার সুবিধাসহ কোনো ধরনের বৈষম্য না করে সবার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাখাইনে সংকটের মূল কারণগুলো মিয়ানমার সরকারকে সমাধান করতে বলেছে।

    মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ওপরও জোর দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সব সংস্থার, বিশেষ করে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাজে সহযোগিতা করতে এবং দেশটিতে এ হাইকমিশনারের অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতিতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে দ্রুত রাখাইন রাজ্যসহ সারা দেশে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেন। ওই সেশনে মিয়ানমার প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। এরপর ১৩ অক্টোবর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ‘আরিয়া ফর্মুলা’ মিটিংয়ে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ব্রিফিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে এবং গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’-এর সহযোগিতায় ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা : শুধু নিন্দা জ্ঞাপনই নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

    মহাসচিবের বিশেষ দূত বাংলাদেশে : কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা পাট্টিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত রবিবার থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। এদিকে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শিশুদের পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন বলে জানা গেছে

  • ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    আজ ৭ নভেম্বর, ঘটনাবহুল ও আলোচিত দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন পৃথক নামে দিনটি পালন করে। বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাসদ পালন করে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। আর প্রগতিশীল দল ও সংগঠনগুলোর অনেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
    ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ১১ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর আগে ৮ নভেম্বর সেখানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

    নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন (সিপিএ) হচ্ছে। এতে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা ১১ নভেম্বর শনিবার সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি এখনো পাইনি। তবে আশাবাদী অনুমতি পাব।’

    বিএনপির সূত্র জানায়, সিপিএ সম্মেলনের কারণে এবার ৭ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো ও ফাতিহা পাঠের কর্মসূচি রাখা হয়নি। দলের মহাসচিবও যাচ্ছেন না। তবে এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে এ কর্মসূচি পরে পালন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
    জাসদের একাংশ আজ বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে। এতে জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অংশ নেবেন। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম স্মৃতি পরিষদ ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। একই সময়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও জয় বাংলা মঞ্চ নামের দুটি সংগঠন যৌথভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। এর আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বর শুরু হয় সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন। ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন।

  • বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    রাজধানীর সিগন্যাল বাতি গাড়ির গতি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে অনেক আগেই। এরপর ফেল মারল হাতের ইশারা আর বাঁশিও।

    তাই অবশেষে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিআইপি সড়কগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে দড়ি আর বাঁশের ব্যবহার। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দুর্ঘটনা ঠেকাতে ও যানজট কমাতে নিতে হয়েছে এ ব্যবস্থা।

    সরজমিনে বিজয় সরণি এলাকায় দেখা যায়, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সিগন্যাল পড়লেই দড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় গাড়ি থামিয়ে দড়ি টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁধছেন। আবার সিগন্যাল ছাড়লে খুলে দেওয়া হচ্ছে দড়ি। এ রাস্তায় দড়ি ব্যবহূত হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আবুল কালাম বলেন, ‘হাত দেখালেও থামে না গাড়িগুলো। অন্য দিক থেকে গাড়ি চলে আসায় অনেক সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনা কিংবা তৈরি হয় যানজট।

    তাই দড়ি দিয়ে বেঁধে দিই, যাতে সামনের দিকে যেতে না পারে। ’ রাজধানীর পান্থপথেও চোখে পড়ে একই চিত্র। অফিস সময়ে যানবাহনের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। তাই দড়ি দিয়ে রাস্তার দুপাশ বেঁধে থামানো হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে লেন ও ফুটপাত চিহ্নিত করা হয়েছে। রাস্তার মধ্যে রাখা ডিভাইডারের মধ্য দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বাঁশ। একই অবস্থা মহাখালীর রাস্তাতেও। ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মোটরসাইকেলগুলো হাতের ইশারা না মেনে বেরিয়ে যায়, থামানো যায় না। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাইলনের দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা রঙিন দড়ি বাঁধেন। এতে দূর থেকে দেখা যায়। এখানে আসে বাঁশকল লাগানোর কথা। কিন্তু এ রোডে সেটা সম্ভব না। তাই যানজট আর দুর্ঘটনা ঠেকাতে দড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের কাজে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০০ সালের দিকে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ৭০টি জায়গায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানোর কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০০৮ সালে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার না হওয়ায় অল্প দিনেই বেশির ভাগ বাতি অকেজো হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১০-১১ অর্থবছরে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরঞ্জাম কেনা হয়। এর আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯২টি মোড় বা ইন্টারসেকশনে সোলার প্যানেল, টাইমার কাউন্ট-ডাউন, কন্ট্রোলার ও ক্লেব স্থাপন করা হয়। এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থাও এখন অকার্যকর। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আধাস্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়। নতুন পদ্ধতিতে মোড়ে দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে থাকবে রিমোট কন্ট্রোল। যে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা সেখানে সবুজ বাতি জ্বালাবেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও সংস্থার মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। ফলে এ উদ্যোগটিও বিফলে যায়।

  • মুক্তামণির মতো রোগে আক্রান্ত স্বর্ণালি

    মুক্তামণির মতো রোগে আক্রান্ত স্বর্ণালি

    মুক্তামণির মতো বিরল রোগে আক্রান্ত আরেক শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের টেগাটাপাড়া গ্রামের স্বর্ণালির ডান হাতে মুক্তামণির মতো রোগ দেখা দিয়েছে।

    জন্মের সময় ছোট কালো দাগ থেকে এখন পুরো হাতেই ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় ও মানসিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বর্ণালির বাবা-মা। স্বর্ণালির বয়স এখন ১২ বছর। স্থানীয় নোনামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। তার বাবা আবদুল মান্নান দুর্গাপুরের দাওকান্দি কলেজের পিয়ন ও মা রুমা বেগম গৃহিণী। স্বর্ণালির ডান হাতে জন্মের পর থেকে কালো দাগ থেকে এ রোগের উত্পত্তি। বিরল এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই ভেবে এত দিন ডাক্তার দেখাননি বাবা-মা। তবে পত্রপত্রিকায় মুক্তামণির রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে খবর প্রকাশের পর তা দেখে মনে সাহস জেগেছে তাদের। এ রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে এ আশায় তারা ছুটে যান চিকিৎসকের কাছে। তবে অপারেশন বাবদ যে টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে, এ ব্যয়ভার জোগানো কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বর্ণালির মা রুমা বেগম ও বাবা আবদুল মান্নান জানান, মুক্তামণির হাতে যে বিরল রোগ, তার মেয়ের হাতেও একই রোগ বাসা বেঁধেছে।

  • ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন

    ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন

    ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি হচ্ছে মোট ২২ দিন। এর মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

    গতকাল প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন বছরের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৮ সালের জন্য ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ৮ দিন সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ছুটি থাকবে ২২ দিন। ২০১৭ সালেও মোট ২২ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে ১০ দিনের ছুটি পড়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। আর ২০১৬ সালে ২২ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে চার দিনের ছুটি পড়েছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৯ এপ্রিল বৌদ্ধ পূর্ণিমা, ১ মে মে দিবস, ১৫ জুন জুমা’তুল বিদা, ১৬ জুন ঈদুল  ফিতর, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২২ আগস্ট ঈদুল আজহা, ২ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ২১ নভেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর বড় দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া সরকারের নির্বাহী আদেশে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ২ মে শবে বরাত, ১২ জুন শবে কদর, ১৫ ও ১৭ জুন ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের দিন, ২১ ও ২৩ আগস্ট ঈদুল আজহার আগে ও পরের দিন এবং ২১ সেপ্টেম্বর আশুরার ছুটি থাকবে। এবারে সাধারণ ছুটির ১৪ দিনের মধ্যে চার দিন এবং নির্বাহী আদেশে আট দিনের মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র-শনিবার পড়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব নিয়ম ও বিধি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় বা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেসব অফিস নিজেদের নিয়মে জনস্বার্থ বিবেচনা করে ছুটি ঘোষণা করবে।

  • শাহজালালে আবার সোনামানব!

    শাহজালালে আবার সোনামানব!

    হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সোনা মানবকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। আটক যাত্রীর নাম সোহেল রানা (৩০)।

    তার পায়ুপথ থেকে ২৯ লাখ টাকার সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।

    কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল সকালে শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়া বিমানের একটি ফ্লাইটে (জি-৯৫১৩) ঢাকায় আসেন সোহেল। কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। তার হাঁটাচলা অস্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তার পেটে সোনা থাকার কথা অস্বীকার করেন। এরপর তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়। রিপোর্টে যাত্রীর পায়ুপথে সোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তাকে বিমানবন্দরে আনা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটে নিয়ে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে দুটি সোনার বার বের করে আনেন সোহেল।

    তার হাতব্যাগের ভ্যাসলিনের কৌটার ভিতর থেকে আরও দুটি সোনার বার ও প্যাকেট থেকে ১০৯ গ্রাম সোনার অলঙ্কার জব্দ করা হয়। তার কাছ থেকে মোট ৫৭৪ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। আটক সোহেল চলতি বছর ৯ বার শারজাহ ভ্রমণ করেছেন।

  • মোবাইল ব্যাংক হিসাবে তিন লাখ টাকার বেশি নয়

    মোবাইল ব্যাংক হিসাবে তিন লাখ টাকার বেশি নয়

    মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আরও কড়াকড়ি আনল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বছরের ১ জানুয়ারির পর মোবাইল ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি রাখা যাবে না।এর বেশি থাকলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কমানো নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দিয়ে সব ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৮ সালের মধ্যে একজন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) গ্রাহক তার ব্যক্তিগত মোবাইল হিসাবে ৩ লাখ টাকা স্থিতি রাখতে পারবেন। যেসব ব্যক্তির মোবাইল হিসাবে এর বেশি অর্থ রয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উল্লেখিত স্থিতি সীমার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

    এক্ষেত্রে হিসাবধারী ব্যক্তির সংযুক্ত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে অপব্যবহার রোধ, সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য এ নির্দেশনা জারি করা হল। এদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন করতে হবে। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। কর্মীদের চাকরি থেকে শুরু করে বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত কোনো নীতিমালা নেই। এ ছাড়া আর্থিক কাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকগুলো। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক অভিন্ন নীতিমালা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • জাপানি হোন্ডা তৈরি হবে বাংলাদেশে

    জাপানি হোন্ডা তৈরি হবে বাংলাদেশে

    বিশ্বখ্যাত জাপানি মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হোন্ডা এখন উৎপাদিত হবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্থাপিত হবে মোটরসাইকেল ফ্যাক্টরি।

    ২০১৮ সালের মধ্যভাগে উৎপাদনে যাবে কোম্পানিটি। বছরে উৎপাদিত হবে এক লাখ মোটরসাইকেল। রবিবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় আবদুল মোমেন অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু মাটি খনন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্যাক্টরির কাজ উদ্বোধন করেন। জাপানি ব্র্যান্ড হোন্ডা ও বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এ কোম্পানি।

  • বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না’

    অনলাইন ডেস্ক

    বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। জিয়া মারা যাওয়ার পর তার দল যারা করছেন, তারা তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে চাইছেন।

    বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না। আজ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, আমাদের স্বাধীনতা ও বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিলেন। সুতরাং যারা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিলেন তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।

    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন