
Category: জাতীয়
-

‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ প্রতিযোগিতায় চমক দিচ্ছেন জেসিয়া!
আগামী ১৮ নভেম্বর চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ এর ৬৭তম আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১২০টি দেশ থেকে সুন্দরীরা অংশগ্রহণ করছেন। এবার সেখানে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে অংশ নিয়েছেন মিস বাংলাদেশ-২০১৭ বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম। সম্প্রতি চীনের এক হোটেলে মিস ওয়ার্ল্ড ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন জেসিয়া।এ রাউন্ডের ফলাফল থেকেই শীর্ষ ৪০জন প্রতিযোগীকে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নেওয়া হবে। যদিও এখনো ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ এর ফলাফল জানা যায়নি, তবে জেসিয়া আছেন গ্রুপ নম্বর ছয়ে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, ব্রাজিল, বটসওয়ানা ও ইথিওপিয়ার সুন্দরীরা। কোন দেশের সুন্দরীরা কোন গ্রুপে থাকবেন, ড্রয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারিত হয়েছে।মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭ প্রতিযোগিতায় আয়োজক কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘দ্য গ্রেট প্যাজেন্ট কমিউনিটি ডট কম’ নামের একটি অনলাইন সংস্থা এক গণভোটের আয়োজন করেছে। যে কোনো মানুষ বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকেই এ ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এমনকি একজন ব্যক্তি যত খুশি ইচ্ছা ভোটও দিতে পারবেন।
সম্প্রতি এ অনলাইন সংস্থাটি নিজেদের ওয়েব সাইটে লিখে- ‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭’তে কোন দেশের সুন্দরী বিজয়ী হওয়া উচিত? ইতোমধ্যে সে সাইটে ব্যাপক পরিমাণ ভোট পড়ে এবং দর্শকদের এ অনলাইন ভোটে শীর্ষস্থানে চলে আসে বাংলাদেশের জেসিয়া ইসলামের নাম। মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই অনলাইনে ভোটে জেসিয়ার এ শীর্ষস্থান অর্জনকে বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখছেন মিস ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশের অনুসারীরা। ‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭’র চূড়ান্ত পর্বে ফলাফল যাই আসুক না কেন, অনলাইন ভোটে জেসিয়ার এ এগিয়ে থাকাতে উচ্ছ্বসিত তারা। জেসিয়া এমন চমক দেখিয়ে যাবেন বলেই ভক্তদের প্রত্যাশা। -

পিইসি পরীক্ষার্থীদের পাশে গ্রামবাংলা পাঠাগার
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের পতাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাষী পতাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ জন পিইসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে গ্রামবাংলা পাঠাগার (সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন)।গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াতে ও মেধা বিকাশের লক্ষে পিইসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্তুতি ক্লাস নেয়া হয়। শুক্রবার সকালে এ আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রামবাংলা পাঠাগার এর সংগঠক শহিদুল ইসলাম রুবেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমীন ইসলাম। অতিথি ছিলেন ডেমোক্রেসি ইন্ট্যারন্যাশনালের প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর হাফিজুর রহমান দিপু। তিনি পিইসি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মূল্যবান তথ্য প্রদান করেন।তিনি বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবিত আছেন তাদের কর্মের মধ্যে। তারা বেঁচে আছেন তাদের লেখার মধ্যে এবং তোমাদের মতো শিক্ষার্থী ও এমন সব পাঠাগারের অন্তরালে।’বিশেষ অতিধি ছিলেন চাষী পতাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী হাওলাদার । তিনি বলেন, ‘গ্রাববাংলা পাঠাগারের এমন আয়োজনের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। তারা ওএমআর সিটসহ পরীক্ষার খাতার ন্যায় এমন পূর্ব প্রস্তুতির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক বড় অভিজ্ঞতা পেয়েছে।’আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রামবাংলা পাঠাগার এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে আমাদের সংগঠন। এর আগেও আমরা কয়েকটি প্রোগ্রাম সফলতার সঙ্গে সমাপ্তি করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।’অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাষী পতাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গাজী আনোয়ার হোসেন জসিম, গ্রামবাংলা পাঠাগারের সংগঠক মল্লিক আরিফুর রহমান, জাফর আহমেদ মনির, প্রিন্স, আবুল কাশেম, রাকিব, বাপ্পিসহ আরো অনেকে। -

প্রথমে শাওনকে আঘাত পরে শামসুন্নাহারকে হত্যা করে জনি
রাজধানীর কাকরাইলে মা শাহসুন্নাহার ও ছেলে শাওনকে ‘হত্যাকারী’ আল আমিন ওরফে জনিকে গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পরে র্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জনি। বোনকে সুখী দেখতে তিনদিন আগে সে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেরর ভিত্তিতে এ কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
তিনি বলেন, চার বছর আগে অভিনেত্রী শারমিন মুক্তার সঙ্গে বিয়ে হয় আবদুল করিমের। বর্তমানে মুক্তা তার মা ও ভাই জনিকে নিয়ে পল্টনের একটি বাসায় থাকেন। করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর করিমও তাদের সঙ্গে থাকতেন।
মুফতি মাহমুদ বলেন, বিয়ের পর থেকে করিম ও মুক্তার মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। করিমের অধিকাংশ সম্পত্তির মালিক প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার হওয়ায় এ নিয়ে মুক্তার মধ্যে অসন্তোস ছিল। প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের প্ররোচনায় তিন-চার মাস আগে তৃতীয় স্ত্রী মুক্তাকে তালাকের প্রক্রিয়া শুরু করেন করিম। এ কারণে সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন মুক্তা। বোনের স্বার্থ বিবেচনায় পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শামসুন্নাহারকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় জনি।
জনি র্যাবকে জানায়, ঘটনার আগের দিন ৩১ অক্টোবর নিউমার্কেট থেকে ১১০০ টাকায় ১১ ইঞ্চির একটি ছুরি কিনেন। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের বাসায় ঢুকে শামসুন্নাহারের ছোট ছেলে শাওনকে ছুরিকাঘাত করে চুপ করে বসে থাকতে বলেন। পরে শামসুন্নাহারকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তখন শাওন এগিয়ে গেলে তার গলাতেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে জনি। পরে শাওন দৌড়ে নিচে নামতে চাইলে জনি তাকে থামতে বলেন। জখমপ্রাপ্ত শাওন হঠাৎ চতুর্থ তলার সিড়িতে পড়ে যায়। ‘অপেশাদার খুনি’ জনির ছুরিকাঘাতের সময় দুটি আঙ্গুল কেটে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ থেকে ভুয়া নাম এন্ট্রি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় জনি।
এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পর উপরে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে যখন দারোয়ান উপরে যাচ্ছিল, হত্যা করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়ার সময় জনিই দারোয়ানকে বলেন, উপরে মারামারি হচ্ছে। দারওয়ানকে জনির ছবি দেখানো হলে সে তাকে শনাক্ত করে।
মুফতি মাহমুদ জানান, জনি আগে থেকেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ব্যাগে করে জামা-কাপড় রেখে যায়। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত পোষাক পরিবর্তন করে ভিন্ন নামে ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তারপর ঢাকাতেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন এবং পরে গোপালগঞ্জে আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় করিম ও মুক্তা জড়িত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, খুনের পরিকল্পনায় তারা জড়িত কিনা আমরা এখনো জনতে পারিনি। তদন্তের পর তা বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ভিআইপির রোডের ৭৯/১ নম্বর বাসার গৃহকর্তা আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে হত্যা মামলা দায়ের করে ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
-

স্ত্রীর স্বীকারোক্তি, কথিত প্রেমিক রিমান্ডে
রাজধানীর বাড্ডায় জামিল শেখ ও তার মেয়ে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী আরজিনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে তার কথিত প্রেমিক শাহীন মল্লিককে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
শনিবার আসামিদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় আর্জিনার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপরদিকে শাহীনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আসামিদের গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জামিলকে হত্যা করেন। এ ঘটনা মেয়ে নুসরাত দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন শাহীন। এতে তার মা আরজিনা বেগমের সম্মতি ছিল।
শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ বলেন, আরজিনা বেগম ও জামিল ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড্ডায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। একই বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন শাহীন। ওই বাড়ির প্রথম তলায় থাকতো আরজিনারা। আর তৃতীয় তলায় থাকতেন শাহীন ও তার স্ত্রী মাসুমা।
মাসুমা সারাদিন অন্যের বাসায় কাজ করতেন। জামিল ছিলেন ড্রাইভার। আরজিনা বেগম ও শাহীন দু’জনই সারা দিন বাসায় থাকতেন। সে সুযোগে তাদের মধ্যে নানা কারণে নৈকট্য হয়। শাহীন বিভিন্নভাবে প্রশংসা করায় তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে আরজিনা। কয়েকদিন পর ওই বাড়ি ছেড়ে জামিল ও আরজিনা ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর বাড়ির ছাদে ৭ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নেয়।
নতুন বাসায় এসেও শাহীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন আরজিনা। নিয়মিত তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। শাহীনকে কাছে পেতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন আরজিনা। সংসারের খরচ কমানোর কথা বলে শাহীনের পরিবারকে সাবলেট দেয়ার পরামর্শ দেন স্বামী জামিলকে। পূর্বপরিচিত হওয়ায় শাহীন ও তার স্ত্রীকে ৩ হাজার টাকায় সাবলেট দেন জামিল।
নতুন বাসায় এসে আরজিনা ও শাহীনের সম্পর্ক আরও গভীর হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আরজিনা জামিলকে তালাক দিয়ে শাহীনের কাছে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শাহীন তাকে তালাক না দেয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে দুইজন মিলে জামিলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
বুধবার রাতে একই বিছানায় ঘুমান জামিল, আরজিনা, নুসরাত ও তার ছোট ভাই। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরজিনা ঘরের দরজা খুলে রেখে ঘুমান। পরে শাহীন বাড়ির নিচ থেকে একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ঘরে ঢুকে জামিলের মাথায় আঘাত করেন। প্রথম আঘাতের পর জামিল উঠে যায় এবং জিজ্ঞেস করে কেন তাকে আঘাত করা হল। এরপর শাহীন কোনো কথা না বলে আরও কয়েকবার আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
এ সময় ঘুম থেকে জেগে যায় মেয়ে নুসরাত। সে শাহীনের কাছে বাবাকে কেন হত্যা করা হলো জানতে চায় এবং চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহীন। তবে প্রথমবার এতে আরজিনা সম্মতি দেননি। পরবর্তীতে বিপদে পড়ার আশঙ্কায় মেয়েকে হত্যার সম্মতি দেন আরজিনা। এরপর নুসরাতকে বিছানায় গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন শাহীন। তখন নুসরাত চিৎকার করায় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়।
জামিল ও নুসরাতকে হত্যার পর ছাদে শাহীন ও আরজিনা গল্প সাজাতে থাকেন। একপর্যায় তারা সিদ্ধান্ত নেন কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবেন ডাকাতরা জামিল ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে। এছাড়াও ডাকাতরা যাওয়ার সময় তাকে ধর্ষণ করেছে বলে দাবি করবে আরজিনা। এই নাটক বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য সারা রাত ছাদের সিঁড়ির সামনে মুখ গোমড়া করে বসে ছিলেন আরজিনা। পরদিন সকালেও পুলিশ গিয়ে তাকে সিঁড়ির সামনে বসে থাকতে দেখে। আর ওই রাতেই স্ত্রী মাসুমাকে নিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান শাহীন।
ডিসি জানান, এ ঘটনায় তদন্তে আশপাশের অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা শিশুও কিছু তথ্য দিয়েছে। সব মিলে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই দুইজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের ৩০৬/পাঠানভিলার তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় বাবা জামিল শেখ (৩৮) ও মেয়ে নুসরাত জাহানের মরদেহ। নিহত জামিলের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের করপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম বেলায়েত শেখ (মৃত)। তিনি তেজগাঁওয়ে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায় দুই কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। গত কোরবানির ঈদের পর স্ত্রী আরজিনা (৩০), মেয়ে নুসরাত (৭) ও ছেলে আলফিকে (৩) নিয়ে ওই বাসায় উঠেন জামিল।
-

৩০তম বিসিএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিপু, সম্পাদক কিবরিয়া
৩০তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল কাদির শিপু ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। শুক্রবার রাজধানীর ফার্স হোটেল মিলনায়তনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আব্দুল কাদির শিপু তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত। আর গোলাম কিবরিয়া ঢাকা কর অঞ্চল-১০-এর সহকারী কমিশনার (ট্যাক্স)। ৩০তম বিসিএসের সব ক্যাডারের প্রতিনিধি তাদেরকে নির্বাচিত করে।
২০১৮-২০১৯ সালের জন্য দুই বছর মেয়াদে এ কমিটি নির্বাচিত হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল কাদির শিপু জানান, ৩০তম বিসিএস ব্যাচের সব ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে যথাযথ আন্তঃক্যাডার সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে এ কমিটি কাজ করবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল কাদির মিয়া শিপু জানান, ৩০তম বিসিএস ব্যাচের সকল ক্যাডারের কর্মকর্তার মধ্যে যথাযথ আন্তঃক্যাডার সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে এ কমিটি কাজ করবে।
এছাড়াও পুলিশের এটিএম আরিফ হোসেন, সড়ক ও জনপথের আশীষ মুখার্জি সহ-সভাপতি, স্বাস্থ্যের ডা. গাউসুল আজম ও শিক্ষার মামুনুর রশিদ সাংগঠনিক সম্পাদক, আনসারের রুবেল উকিল, প্রাণিসম্পদের রিগ্যান মোল্লা, খাদ্যের কামাল হোসেন যুগ্ম সম্পাদক, অডিটের সোহেল রানা ট্রেজারার, প্রশাসনের অমিত দেবনাথ দফতর সম্পাদক, পররাষ্ট্রের বশির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, গণপূর্তের মোস্তাফিজুর রহমান তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক, শিক্ষার মনিরুজ্জমান শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, কৃষির রাজু আহমেদ প্রচার সম্পাদক, পুলিশ ক্যাডারের নিশাত রহমান মিথুন সাংস্কৃতিক সম্পাদক, রেলওয়ের মাইনুল ইসলাম আইন সম্পাদক, সমবায়ের ফারহানা আক্তার সমাজকল্যাণ সম্পাদক, স্বাস্থ্য ক্যাডারের ডা. যুবায়ের আনাম স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও সকল ক্যাডার হতে আরও আট জন কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি পুলিশ ক্যাডারের নাজমুস সাকিব খান ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসন ক্যাডারের আশরাফুল আলম ইকবাল আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৮ নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
-

নাফ নদী সাঁতরিয়ে ফের ২২ রোহিঙ্গার প্রবেশ
নাফনদী সাঁতরিয়ে এবার বাংলাদেশে ঢুকেছে ২২ রোহিঙ্গা যুবক। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকালে নাফ নদী সাঁতরিয়ে পৃথকভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছান এই ২২ রোহিঙ্গা যুবক।
সাড়ে তিন ঘণ্টা জারিকেন বুকে নাফ নদী সাঁতরিয়ে বিকাল সাড়ে ৪ টায় শাহপরীর দ্বীপ জেটির কাছাকাছি পৌঁছলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র শাহপরীর দ্বীপ বিওপির কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে। এরপর আরো তিন রোহিঙ্গা যুবক সাতরিয়ে আসেন। শুক্রবার রাত পর্যন্ত তারা বিজিবি হেফাজতে রয়েছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
নাফ নদীর লোনা জল সাঁতরিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা হলেন, রাসিডং এলাকার আব্দুল মোনাফ (৩০), ছাবের আহমদ (১৪), বুসিডং এলাকার আনোয়ার খালেদ (১৯), জাহেদ উল্লাহ (২২), মোহাম্মদ ইয়াছিন (১৫), রহমত উল্লাহ (১৭), আজিজুর রহমান (১৮), মোঃ আয়াজ (১৬), আবু সৈয়দ (২৪), মোঃ নুর (১৮), কবির আহমদ (২১), সিরাজুল ইসলাম (৩২), নুর কবির (২৪), পুইম আলী এলাকার মোঃ আয়ুব (২৬), নজির আহমদ (২০), আব্দুল আজিজ (২২), জহির আহমদ (২২), মংডু কাইন্দা পাড়ার মোঃ নুর (১৯),মংডু শহরের ফরিদ আলম (১৭)। পরে আসা তিন রোহিঙ্গার নাম ঠিকানা রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সাঁতরিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবক আবু সৈয়দ জানায়, ‘আমরা ধাওনখালী সীমান্তে চরে এসে অপেক্ষা করেছি এগারো দিন। সেখানে তাবু করে নৌকার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। খাবার যা ছিল তাও ফুরিয়ে গেছে, ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আমাদের চোখের সামনে চরে অপেক্ষমানদের দুই তিন জন করে শিশু প্রতিদিন মারা গেছে। কিন্তু এ সাতদিনে আমরা কোন নৌকা পাচ্ছিলামনা বাংলাদেশে ঢুকতে। প্রতিরাতে দুই একটা নৌকা ধাওনখালী সীমান্তে গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পারায় নৌকায় ওঠা হয়নি আমাদের। সেনারা এসে আমাদের কাছে মিয়ানমার মুদ্রা যা ছিলো তাও ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা প্রায় অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের মায়েরা অনুরোধ করেছে সাঁতরিয়ে বাংলাদেশ ঢুকতে, তাদের জন্য কোন উপায় খুঁজে বের করা যায় কিনা। ’
.jpg)
ওই রোহিঙ্গা যুবক আরো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইনের বুসিডং এলাকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার সেদেশের সেনা ও মগদের নির্যাতনে প্রাণ রক্ষার্থে বাংলাদেশ পালিয়ে আসার লক্ষ্যে ওপারের ধাওনখালী সীমান্তে জড়ো হয়েছে। সেখানে তারা কেউ একমাস, কেউ দশ থেকে পনের দিন অপেক্ষার পরও এপারে ভিড়তে কোন নৌকা না পাওয়ায় আটকা পড়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
সাঁতরিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবক আনোয়ার খালেদ জানায়,‘মিয়ানমার সেনারা আমাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে আমরা বুসিডং ছেড়ে ঢংখালী সীমান্তে এসে অবস্থান করি। সেখানে আমাদের মতো এখনো আরো প্রায় ২০ হাজারের মতো নারী-শিশু সহ রোহিঙ্গারা এপারে ঢুকতে অপেক্ষা করছে। এপারে ঢুকতে কোন নৌকা না পাওয়াতে তারা খুবই ভয়ের মধ্যে আছে। তাদের কান্নাকাটি সইতে না পেরে ওপারে ফেলে আসা মা-বোনদের বাঁচার আকুতিটুকু বাংলাদেশে গিয়ে জানাবো এমন আশায় আমরা ২২ যুবক মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরিয়ে বাংলাদেশ এসেছি। ’
আরেক রোহিঙ্গা যুবক আজিজুর রহমান জানায়, ‘সেনা ও মগরা আমাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। ঘর থেকে বের হয়ে বাজার বা দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের জন্য বেরোতেও দিচ্ছেনা। একদিকে আমাদের বাড়িঘরে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি সেনাদের হাতে যেকোন মুহূর্তে প্রাণ হারানোর ভয়তো থাকছেই। তাছাড়া এখনো রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গা রয়ে গেছে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে বাধ্য করছে সেনারা। এমন পরিস্থিতি আমরা বাংলাদেশে একটু আশ্রয় চাইতে এসেছি। ’
উল্লেখ্য, এর আগেও গত চার দফায় নাফ নদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল ২৩ রোহিঙ্গা যুবক। প্রথমবার গত ১১ অক্টোবর ১১ জন এবং শেষ তিনবারে চার জন করে ১২ জন। সর্বশেষ আজ একযোগে আসে ২২ রোহিঙ্গা। এ নিয়ে পাঁচ দফায় নাফ সাঁতরিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে সীমান্তে ঢুকেছে ৪৫ জন রোহিঙ্গা।
-

বরিশালে জেলহত্যা দিবস পালিত
বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জেল হত্যা দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা ও নগর আওয়ামী লীগ পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগ তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা নগরীর সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সময়ে মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ও প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
পরে জেলা ও মহানগর যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।
-

‘নাইট’ উপাধি পেলেন আখলাকুর রহমান চৌধুরী
যুক্তরাজ্যের রানির দেওয়া অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি ‘নাইট’ পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আখলাকুর রহমান চৌধুরী। দেশটির হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগের অংশ হিসেবে তাঁকে এ উপাধি দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি ‘স্যার আখলাকুর রহমান চৌধুরী’ হিসেবে পরিচিত হবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ ‘বাকিংহাম প্যালেসে’ রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ আখলাকুর রহমানকে ‘নাইট’ উপাধি প্রদান করেন। এদিন দেশটির হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মোট ১১ জন বিচারককে এ উপাধি দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আখলাকুর রহমান চৌধুরী প্রথম কোনো ব্যক্তি, যিনি এ উপাধি পেলেন। আর বাঙালিদের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি হিসেবে ‘নাইট’ খেতাব পেয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় বাঙালি এবং প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এ গৌরবময় উপাধি অর্জন করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান আখলাকুর রহমান চৌধুরী। গত ২ অক্টোবর থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়। আখলাকুর রহমান চৌধুরীর জন্ম যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারে। বাবা প্রয়াত আজিজুর রহমান চৌধুরী এবং মা সুলতানা চৌধুরীর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তিনি বড়। স্ত্রী সফিনা ও তিন সন্তানকে নিয়ে আখলাক লন্ডনে বাস করেন। তাঁদের আদি বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে।
আখলাকুর রহমান চৌধুরীর ভগ্নিপতি কাওসার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আখলাক স্ত্রী সফিনাকে নিয়ে নাইটহুড প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রানি তাঁর সঙ্গে হাত মেলান এবং কাজ সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন, গত ১৬ অক্টোবর লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসে আখলাকুর রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

আখলাকুর রহমান চৌধুরীকে যুক্তরাজ্যের রানির দেওয়া নাইটহুড উপাধির পদক। যুক্তরাজ্যের বিচারকেরা সাধারণত গণমাধ্যমে কথা বলেন না। নিজেদের অর্জনের বিষয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। প্রভাবমুক্ত থাকতেই এমন রীতি মানা হয় দেশটিতে।
গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক আখলাকুর রহমান চৌধুরী। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ১৯৯২ সালে ‘বার অ্যাট ল’ সম্পন্ন করে শুরু করেন আইন পেশা। বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও তথ্য আইন বিশেষজ্ঞ আখলাকুর রহমান দীর্ঘদিন পররাষ্ট্র দপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বিভাগসহ যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগে আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব আপিল’-এর দুজন বিচারকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। ছিলেন ব্রিটিশ তথ্য কমিশনারের উপদেষ্টাও। আইন পেশায় অভিজ্ঞতা ও ব্যতিক্রমী অবদান রাখার জন্য তাঁকে ২০১৫ সালে কুইন্স কাউন্সেল বা কিউসি খেতাব দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে আখলাক ‘রেকর্ডার’ হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৬ সালে তাঁকে ‘ডেপুটি হাইকোর্ট জজ’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ নিয়োগ পেলেন হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে। তিনি হাইকোর্টের কুইন্স ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিভাগ চুক্তি ও ব্যবসাসংক্রান্ত বিবাদের সুরাহা করে।
গত ২০ জুলাইয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ব্রিটিশ হাইকোর্টে মোট ৯৬ জন বিচারক রয়েছেন। এর মধ্যে কুইন্স ডিভিশনের বিচারক ৬১ জন। হাইকোর্টের বিচারকেরা লাল-কালো রঙের গাউন পরেন বলে তাঁরা ‘রেড জাজেস’ নামেও পরিচিত।
-

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস (৯৩) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।
আজ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর বনানীর বাসভবন থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির ছেলে মাহমুদ হাসান বিশ্বাসের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে ওই সংসদ আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।
বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে ১৯২৬ সালে ১ সেপ্টেম্বর আবদুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম। বরিশাল শহরেই তিনি স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৫০-এর দশকে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি ১৯৬২ এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের সংসদীয় সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ২২তম অধিবেশনে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। তাঁর আনুগত্য ছিল পাকিস্তান সরকারের প্রতি। তিনি ১৯৭৪ এবং ১৯৭৬ সালে দুবার বরিশাল বার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং ১৯৮১-৮২ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ৪ এপ্রিল ১৯৯১ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর মেয়াদ শেষ হয়।
-

কালুনগর-হাজারীবাগ খালে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান
রাজধানীর কালুনগর-হাজারীবাগ খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কামরাঙ্গীচর থানাধীন কোম্পানিঘাট এলাকায় অবস্থিত কালুনগর-হাজারীবাগ খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
সেখানে প্রায় ৫০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী ও তৌহিদ এলাহী।
অভিযানকালে উচ্ছেদস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহহম্মাদ শাহিদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস মিয়া।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী জানান, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল খাল হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করবে ঢাকা জেলা প্রশাসন। প্রতি সপ্তাহে একাধিক উচ্ছেদ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক। উচ্ছেদকৃত খালগুলো ঢাকা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন ও পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করবে।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন লালবাগ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দেবনাথ, কামরাঙ্গীচর থানার সাব ইন্সপেক্টর ইমাম আরেফিন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী।