Category: জাতীয়

  • পারিবারিক কলহে প্রাণহানি বাড়ছে

    পারিবারিক কলহে প্রাণহানি বাড়ছে

    রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলে এবং উত্তর বাড্ডায় বাবা ও মেয়েকে হত্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘পারিবারিক কলহ’। স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের একে-অপরের সঙ্গে কলহ-দ্বন্দ্ব আদিম যুগ থেকেই বাংলাদেশে ছিল। তবে বর্তমানে তা ভয়ঙ্ককর রূপ ধারণ করেছে। শুধু গত ১০ মাসে এই কলহের জেরে আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৫১৩ জন। তাদের মধ্যে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কেউ আত্মহত্যা করেছেন।

    বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পারিবারিক কলহের জেরে মারা গেছেন ৩৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৮ জন। ২০১৬ সালে একই কারণে প্রাণ যায় ৩৮৪ জনের এবং আহত হন ৩১৩ জন। ২০১৫ সালে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৭৯ এবং আহত ৩২৭জন।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে ব্যবসায়ী আবদুল করিমের স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে শাওনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়ারা দাবি করছেন, বাড়ির মালিক আবদুল করিমের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সৃষ্ট কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    ওইদিন একই সময়ে মুন্সীগঞ্জে মো. মমিন (৫০), স্ত্রী লুবনা বেগম (৪৪) ও শিশুকন্যা সানজিদা (৯) একসঙ্গে বিষপানে ‘আত্মহত্যা’ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যা করা হয় বাবা ও মেয়েকে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধারণা, ওই তিন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পারিবারিক কলহ। বিএমবিএসের ওই পরিসংখ্যানকে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    bb

    উত্তর বাড্ডায় নিহত জামিল ও মেয়ে নুসরাত (ডানে)

    বিএমবিএসের জরিপ ও গবেষণা নিয়ে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা সোহেল আহমেদ বলেন, ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়, শিক্ষা ও অর্থের অভাব, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অভাবের কারণেও এ ধরনের কলহ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। আমাদের দেশে বিনোদনের মাধ্যমগুলোও এর অন্যতম কারণ। বিনোদনের নামে দেশের জনগণের ওপর কনফ্লিক্টের (দ্বন্দ্ব) বীজ দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় সিরিয়ালগুলো এজন্য অনেকাংশে দায়ী। তাদের পারিবারিক কলহ আমাদের দেশের দর্শকদের দ্বন্দ্বে জড়াতে প্রভাবিত করে। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাস, সঠিক শিক্ষা ও বিনোদন নিশ্চিত করতে হবে।’

    ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে রাজধানীতে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, সামাজিক অস্থিরতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও পারিবারিক কলহ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, এ ধরনের সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই আছে। মূলত যাদের বেড়ে ওঠা সঠিকভাবে হয়নি, তারাই এ ধরনের আচরণ করে। এছাড়া এর পেছনে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা থাকতে পারে।

    ‘স্বামী মদ খাবে, টাকা না পেলে স্ত্রীকে মারধর করবে। এ ধরনের ঘটনা থেকেই সূত্রপাত হয় কলহের। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবও এর জন্য দায়ী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তারা মনে করে নিজেরা সর্বেসর্বা। তারা যেহেতু আয় করে তাই তারা মনে করে পুরো পৃথিবীই তার। আর যে সমস্ত নারী আয় করেন তারা পুরুষের এই একঘেয়েমি সহ্য করেন না, যা পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। বিচ্ছেদও বাড়ে এ কারণে।’

    kk

    কাকরাইলে নিহত শামসুন্নাহার ও ছেলে শাওন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার বলেন, ‘মানবিকবোধের বিপর্যয়, বস্তুবাদী, সামাজিক সংহতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, পরিবারকেন্দ্রিক বন্ধন কমে যাওয়াই পারিবারিক কলহের মূল কারণ।’

    তিনি বলেন, ‘সামাজিকীকরণের মধ্যে আগে যেমন পাস্পরিক সম্প্রীতি ছিল, সেখানে এখন অনেক ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে মানুষের মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা দেখা যাচ্ছে, আমরা বস্তুবাদী হয়ে যাচ্ছি। মানবিক সম্পর্ক এবং নৈতিকতার বন্ধন থেকে আজ মানুষ বস্তুকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একইসঙ্গে আগেরকার সময়ে আমাদের সামাজিক যে প্রতিষ্ঠান বা সম্প্রীতি ছিল সেটিও কমে যাচ্ছে। যার কারণে মানুষ একতাবদ্ধ থাকছে না।’

    ‘তাদের একিভূত করে রাখার যে বিষয়গুলো ছিল; যেমন- ধর্ম, পরিবার, আত্মীয়তার বন্ধন- এগুলো কিন্তু আমাদের জীবন থেকে একেবারে উঠে যাচ্ছে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। এক সময় সামাজিক কিছু নিয়ম-রীতি ছিল, যার মাধ্যমে এলাকার মাতব্বররা এসব সমস্যার মিউচ্যুয়াল (সমাধান) করে দিতেন। এগুলো কিন্তু এখন আর নেই।’

    বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু পরিবার নয় আমাদের মধ্যে ছোটকালের স্কুলের শিক্ষকদের, প্রতিবেশী ও ধর্মীও নেতাদের শেখানো নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। রাষ্ট্রকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে হবে। কমিউনিটি বেইজড প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।

  • ভ্যাটমুক্ত হতে পারে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

    ভ্যাটমুক্ত হতে পারে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

    ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যয় কমাতে ভ্যাটমুক্ত করার ঘোষণা আসতে পারে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সম্প্রতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের সঙ্গে তিনটি এজেন্ডা নিয়ে বৈঠক হয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের। বৈঠকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভ্যাট আরোপের ফলে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন স্কুল প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভর্তি, টিউশন ফিসহ অন্যান্য ব্যয়ে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় শিক্ষা ব্যবস্থায় কীরূপ বৈষম্য হচ্ছে তাও তুলে ধরেন তারা।

    এছাড়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা সংশোধনী নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ এবং অভিভাবক-শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের যে রূপরেখা দেয়া হয়েছে তার নেতিবাচক কিছু দিক তুলে ধরা হয়।

    বৈঠকে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসিস্টেন্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল মো. মোর্শেদুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভ্যাট আরোপ করায় বাংলা ও ইংলিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ভর্তি ও টিউশন ফি-তে ভ্যাটযুক্ত হওয়ায় পড়ালেখায় ব্যয় বেড়ে গেছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

    ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মালিক সমিতির দুটি সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি আমরা অর্থমন্ত্রীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ভ্যাট বাতিলে দ্রুত ইতিবাচক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন’-বলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সভায় ভ্যাট মওকুফ ছাড়া আরও দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তা হলো- সংশোধনী নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা এবং স্কুল পরিচালনায় অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া।

    ‘সংশোধনী নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়াসহ বাংলা মাধ্যমের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এতে নিয়োগে সময়ক্ষেপণসহ নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া স্কুল অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি গঠনের কথা বলা হলেও কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।’

    মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনায় সরকারি কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। সেক্ষেত্রে বাংলা মিডিয়ামের আদলে আমাদের পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। বিষয়গুলো সহজীকরণে অর্থমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। দ্রুত এসব বিষয়ে সহজীকরণ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, সভায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট মওকুফের বিষয়টি মূল বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হয়। অর্থমন্ত্রী ভ্যাট মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও মন্ত্রী ইংলিশ মিডিয়াম ওনার সমিতির প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ সহজীকরণ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক নিয়োগে একটি প্যানেল তৈরি ও কমিটি গঠনে নতুনভাবে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাত শতাংশ ভ্যাট থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত শতাংশ আরোপ করা হয়। এ নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সানিডেল ও সানবিম স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এরপর দুই মাস ভ্যাট দিতে হয়নি অভিভাবকদের।

    তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন। ফলে নভেম্বর মাসে থেকে স্কুলগুলোকে আবার ভ্যাট দেয়া শুরু করতে হয়।

  • ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তঝরা ও বেদনাবিধুর একটি দিন আজ। ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। এরপর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

    জাতীয় এই চার নেতা হলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান।

    ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।

    মুক্তিযুদ্ধে চার নেতার অবদান

    জাতীয় এ চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে আটক বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও নেতৃত্ব দান করেন। বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তার ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    চার নেতার হত্যাকাণ্ড

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।

    গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন, খন্দকার মোশতাক আহমেদ জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোনো পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হবে, যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।

    বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্ররোচণায় এক শ্রেণির উচ্চাভিলাসী মধ্যম সারির জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। দেশের এই চার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে পাঠিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে গুলি এবং পরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানিকীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কুকীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার করা যাবে না – দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।

    জেল হত্যার মামলা

    জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলায় রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেয়া রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করে সরকার।

    ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সরকারপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তবে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেফতার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ওই আপিলের ওপর রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাসেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাদের খালাস দেয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করেন।

    জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচি

    জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবসটি।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা শহীদ জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

    একইভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাজী সহিদ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাজী সহিদ

    ৬ দিনের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হচ্ছেন ১ নম্বর প্যানেল মেয়র ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী কেএম শহীদুল্লাহ সহিদ।

    বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘সিটি নেট কনগ্রেস-২০১৭’  এ অংশ নিতে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন।

     

    আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র কামাল শ্রীলঙ্কায় অবস্থানকালীন সময়ে সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক নম্বর প্যানেল মেয়র হাজী সহিদকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন।

    গত ৩১ মেয়র মেয়র আহসান হাবিব কামাল এক অফিস আদেশে হাজী সহিদকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন।   ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নেবেন তিনি। এ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেলেন হাজী সহিদ।

  • কাবাডি খেলাকে এগিয়ে নিতে হবে : আইজিপি

    কাবাডি খেলাকে এগিয়ে নিতে হবে : আইজিপি

    বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা। এই খেলাকে এগিয়ে নিতে সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

    পাশাপাশি কাবাডি ফেডারেশনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোল্ডকাপ কাবাডি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন ও শেখ কামাল স্মৃতি সংসদ রানার্সআপ হয়।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী বেগম শামসুন্নাহার রহমান। কেএমপি কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিবের সভাপতিত্ব বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সাংসদ মিজানুর রহমান ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।

  • সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। ফেনীর সাজানো হামলার ঘটনা সংঘাতের উসকানি।

    গতকাল দুপুরে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা সংঘাত চাই না, সমঝোতা চাই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি আয়োজিত ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা জনগণের প্রস্তাব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব! আপনাদের মুখে সংলাপের কথা ও মনের কথার দূরত্ব যোজন যোজন। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন, তখন আমাদের ভাবতে হয় এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা?’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটা কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এর পরও আপনার ছেলের (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুর পর তাকে সমবেদনা জানাতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন, যারা তা করেছেন তারা তো সমঝোতায় বিশ্বাস করেন না। এ দরজা কী করে খুলব, তা আপনারা ভাবুন। ’

    নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো দলীয় বক্তব্য নিয়ে রাজনীতির চর্চা করে নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক, তা আমরা চাই না।

    কিন্তু বিএনপি এমন একটা নির্বাচন কমিশন চায় যার মাধ্যমে বিএনপি যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। ’ বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার ‘আসল খবর বের হয়েছে’ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিউ ডেকেছে। গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস, এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রংসাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করা হয়েছে। পুলিশের রিপোর্টেই এটা এসেছে। ’ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.), অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মেজর জেনারেল আবদুর রশীদ (অব.), দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছারসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জন্মস্থান বরিশালে পা রেখেই কাঁদলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার

    জন্মস্থান বরিশালে পা রেখেই কাঁদলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার

    জন্মস্থান বরিশালের মাটিতে পা রেখেই কাঁদলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘এ এক ভিন্ন অনুভূতি।

    ’ একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে জন্মস্থান ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল পুরো পরিবারকে। কলকাতায় গিয়েও একটা করুণ অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন। বাবা প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঠাকুরদা সতীশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশালে আইন পেশায় ছিলেন। বাবা-মার কাছে শুনেছেন, তার জন্ম বরিশালে ডগলাস বোর্ডিংয়ে। গতকাল বিকালে বরিশাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই স্ত্রী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নামেন বরিশালে জন্ম নেওয়া বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এই অতিথি দম্পতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, মহানগর পুলিশের উপকমিশনার উত্তম কুমার পাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক একে. এম জাহাঙ্গীর, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান, যুবলীগ, ছাত্রলীগ  নেতৃবৃন্দ । জন্মস্থানে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে বর্ষীয়ান রাজনীতিক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘এ অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না।

    ’ ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে গতকাল বিকালে ঢাকা হয়ে আকাশপথে জন্মস্থান বরিশালে আসেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-৪৮ সালে আমার জন্ম। অনেক দিন ধরেই বুকের ভিতর চাপা প্রত্যাশা ছিল জন্মভূমিতে আসার।

    সে আশা আজ পূরণ হয়েছে। কাল (আজ) দেখতে যাব জন্মভিটা। ’ আজ সকাল ১০টায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সস্ত্রীক পিতৃভিটা দেখতে প্রথমে বিএম কলেজে যাবেন। পরে গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া মঠ, আগৈলঝাড়ার গৈলায় মনসা মঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দির পরিদর্শন শেষে আবার সার্কিট হাউসে ফিরে মধ্যাহ্ন ভোজ করবেন। বিকালে যাবেন বরিশাল মহাশ্মশান ও চারণকবি মুকুন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত কালিমন্দির দর্শনে। আগামীকাল দুপুরে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করবেন তিনি।

  • উল্টোপথে পুলিশের গাড়ি চলবে না : আইজিপি

    উল্টোপথে পুলিশের গাড়ি চলবে না : আইজিপি

    পুলিশের গাড়ি উল্টোপথে না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, যানজট নিরসন এবং সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার লক্ষে উল্টোপথে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাদ যাবে না পুলিশের যানবাহনও।

    সোমবার দিনব্যাপী পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কোয়াটারলি কনফারেন্স’ (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) এ সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    এসময় সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় উল্টোপথে পুলিশের যানবাহন না চলা ও সারাদেশে যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস।

    তিনি জানান, নারী নির্যাতনের ন্যায় শিশু নির্যাতন মামলা অধিকতর গুরুত্বসহ তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি থানায় শিশু অধিকার সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

    আইজিপি বলেছেন, প্রত্যেক থানা ও জেলায় নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক থানায় একটি আলাদা কক্ষ তৈরি করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

    পুলিশ প্রধান বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং তাদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য নিয়মিত ধ্বংস করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

    আইজিপি বলেন, সামাজিক সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং একটি কার্যকর মাধ্যম। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সুসর্ম্পক তৈরি হলে পুলিশ ভীতি কমে আসবে, সমাজে অপরাধ কমবে।

    bangla.earthtimes24.com

    সভায় পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আবু হাসান মুহম্মদ তারিক চলতি বছরের জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। অপহরণ, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অ্যাসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকদ্রব্য, চোরাচালান দ্রব্য, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, সড়ক দুর্ঘটনা, গাড়ি চুরি, রাজনৈতিক সহিংসতা, অপমৃত্যু, পুলিশ আক্রান্ত মামলাসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

    পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সারাদেশে ৫৬ হাজার ৪৭৪টি মামলা রুজু হয়েছে, যা গত এপ্রিল-জুন ২০১৭ সময়ের তুলনায় প্রায় ৩.১৮ ভাগ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সারাদেশে মাদক দ্রব্য এবং চোরাচালান দ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের কোয়ার্টারের তুলনায় মামলার সংখ্যা বেড়েছে।
    তবে কমেছে ডাকাতি, অ্যাসিড নিক্ষেপ, সড়ক দুর্ঘটনা এবং পুলিশ আক্রান্ত মামলার সংখ্যা।

    অপরদিকে দস্যুতা, খুন, অপহরণ এবং নারী নির্যাতন মামলার সংখ্যা বেড়েছে। আলোচ্য কোয়ার্টারে গাড়ি চুরির মামলা হয়েছে ৪০৯টি। এর মধ্যে পুলিশ ২৯৭টি গাড়ি উদ্ধার করেছে। অনুষ্ঠানে আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশ নিদের্শমালা সংক্রান্ত ১৬টি পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

    সভায় এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজিপি) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) মো. মোখলেসুর রহমান, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. নওশের আলী, পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজিপি বিনয় কৃষ্ণ বালা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে আইজিপি এসবি, র্যাব, পিবিআই, নৌ পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশসহ সকল মেট্রোপলিটন এবং রেঞ্জের প্রধানদের সঙ্গে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর ও বিনিময় করেন।

  • নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প

    নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প

    রাজধানী ঢাকা নগরীর জমি ও ফ্ল্যাটের মূল্য গগনচুম্বী, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এ অবস্থায় এসব মানুষের জন্য ২০ হাজার ১৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

    মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। অনুমোদন পেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকার ‘উত্তরা ১৮নং সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনসাধারণের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

    জানা গেছে, উত্তরা আদর্শ মডেল টাউনের (তৃতীয় ফেজ) ১৮নং সেক্টরে এজন্য ২১৪ দশমিক ৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ করবে সরকার। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ভবনে একতলা বেজমেন্টসহ ১৬ তলাবিশিষ্ট ২৪০টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ২০ হাজার ১৬০টি ফ্ল্যাট থাকবে। পুনর্গঠিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রবল্পটি ২০২০ সাল নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফ্ল্যাট প্রদান, সম্প্রসারিত এলাকায় আবাসন সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঢাকা শহরের জনসংখ্যার আবাসিক চাপ হ্রাস করার জন্য প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিদ্যমান প্রকট আবাসন সমস্যা নিরসন, মিরপুর ও টঙ্গীর মাঝখানে পর্যায়ক্রমে নগরায়ণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা, নতুন নগরকেন্দ্র সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের আবাসন চাহিদা পূরণ করার জন্যই এ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধীকার প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম বলে গৃহায়ণ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন বর্তমানে ব্যস্ততম এবং জনবহুল শহর। চাকরি, ব্যবসা এবং বহুবিধ কারণে লাখ লাখ লোক ঢাকা শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এ বিপুলসংখ্যক লোকের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বসবাসযোগ্য জায়গা অপ্রতুল। ফলে দিনের পর দিন ঢাকা মহানগরী ঘণবসতিপূর্ণ, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হয়ে পড়ছে, হারাচ্ছে সৌন্দর্য। এর সবকিছুই হচ্ছে পরিকল্পিত নগরায়ণের অভাবে। নগরীর চতুর্দিকে পরিকল্পিত স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকটের চাপ কমানো যেতে পারে।

    জানা গেছে, ২০ একরের চেয়ে বেশি জমি ব্যবহারের সংশ্লিষ্টতা আছে বিধায় প্রকল্পটি রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রস্তাব করা হলেও পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।

    পরিকল্পনা কমিশন জানায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১১ এর নভেম্বর হতে ২০১৬ সালে জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদিত হয়। অতঃপর রেট সিডিউল পরিবর্তন, প্রকল্পের অর্থে এসটিপি, স্কুল ও মানেজমেন্ট বিল্ডিং নির্মাণ, বিআইসিইকে ফ্ল্যাটের আকার পরিবর্তন, এলপি গ্যাসের সিলিন্পার ব্যাংক স্থাপন স্থাপন, কতিপয় নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মানে হলো সংশোধিত পুনর্গঠিত প্রকল্পে মোট ব্যয় এক হাজার ৮৭১ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনুমোদিত প্রকল্পের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ২১৪ দশমিক ৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন টাইপের ফ্ল্যাট নির্মাণ রয়েছে। এর মধ্যে ১৩১টি ভবনেেএক হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ১১ হাজার চারটি এবং ৪৮টি ভবনে এক হাজার ৫০ বর্গফুট আয়তনের চার হাজার ৩২টি ফ্ল্যাট, পরামর্শক নিয়োগ, বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৪০ জন জনবল নিয়োগ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ফুটপাত, সীমানা প্রাচীর, সেতু, কালভার্ট, সড়ক, স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি সেন্টার, পানির ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, সোলার সিস্টেম, বিদ্যুতায়ন, পার্কিং স্থান নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য প্রচারাণা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিশু পার্ক, পয়োনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ আছে।

  • মঙ্গলবার থেকে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন

    মঙ্গলবার থেকে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন

    আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আবেদন নেবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য আজ সোমবার বিকেলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন দলের নিবন্ধন দেবে ইসি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলগুলোর আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই করে মার্চে নতুন দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা শুধু নতুন দলের নিবন্ধনের তথ্যই নেব না বর্তমানে যে ৪০ দল নিবন্ধিত আছে সেসব দলের কাছেও চিঠি পাঠানো হবে। এ কারণে মঙ্গলবার আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে ইসি। নিবন্ধিত যেসব দল আইন অনুযায়ী কার্যক্রম মানে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি’।

    ইসি সূত্র জানায়, এর আগে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ৪০টি দলকে নিবন্ধন দেয় কমিশন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে অনেক দল কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিস-কমিটি দিয়েছে। কিছু দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি বহাল রয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এসব দল শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা তদারকি করবে ইসি।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়।

    শর্তগুলো হলো :

    ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটি যদি অন্তত একটি সংসদীয় আসন পায়।

    ২. যেকোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট আসনে পড়া মোট ভোটের ৫ শতাংশ পায়।

    ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/ মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত দলিল থাকে।