Category: জাতীয়

  • আব্দুল জব্বার কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব থাকবেন : তথ্যমন্ত্রী

    আব্দুল জব্বার কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব থাকবেন : তথ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের গানের পাখি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অজেয় কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

    আজ (বুধবার) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৭৯ বছর বয়সে তার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের খবরে মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গর্ব আব্দুল জব্বার তার হাজার হাজার হৃদয় ছোঁয়া গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে রয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এ কিংবদন্তী শিল্পীর গাওয়া গান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম প্রেরণা। বাংলা আধুনিক গানের জগতে তিনি অদ্বিতীয়। স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এ মহান শিল্পী যুগে যুগে এদেশের কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।’

    তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ, বিএসএমএমইউ’র পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হারুন, শিল্পী আব্দুল জব্বারের পুত্র মিথুন জব্বারও এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

    আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টায় আগারগাঁওয়ে জাতীয় বেতার ভবনে, সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শিল্পী আব্দুল জব্বারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

  • অর্ধলাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ!

    অর্ধলাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ!

    টানা সাতদিন সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থানের পর অবশেষে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন হাজার হাজার নির্যাতিত রোহিঙ্গা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে চলা বৃষ্টির মধ্যে তারা অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হন। স্থানীয় সূত্র ও অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

    বার্মিজ আর্মির হাতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও নিরুপায় এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর পুরনো রোহিঙ্গা বস্তি এবং স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

    বালুখালী বস্তি এলাকায় সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের ঢেকিবনিয়া মিয়াপাড়ার দিল বাহার বেগম (৪১)। তিনি বলেন, স্বামী সেদেশের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে ২৭ আগস্ট সীমান্ত এলাকায় আসি। তিনদিন ধরে জিরো পয়েন্টে অন্যদের সঙ্গে অবরুদ্ধ ছিলাম। পানি-খাবারের প্রচণ্ড সঙ্কট ছিল। শিশুদের কান্নায় অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আল্লাহ রহমত হিসেবে বৃষ্টি পাঠালেন।

    rohinga

    জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। কেউ আমাদের সেই সময় বাধা দেয়নি। আমরা ওখানে কয়েক হাজার ছিলাম। বাংলাদেশে প্রবেশ করে যে যার মতো আশ্রয় নিয়েছি- বলেন তিনি।

    কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেয়া ঢেকিবনিয়া ফকিরপাড়ার আমির হামজা (৪৫) বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পাই বাংলাদেশ সরকার আমাদের (রোহিঙ্গা) সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর শোনার পর আমরা সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃষ্টি শুরু হয়। খোলা আকাশে নিচে বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যাই। কোনো কিছু চিন্তা না করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করি।

    তিনি আরও বলেন, নো-ম্যানস ল্যান্ডে আমরা কয়েক হাজার ছিলাম। সবাই বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।

    সীমান্তরক্ষীরা (বিজিবি) বাধা দিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, গায়ে আইনি পোশাক ও হাতে অস্ত্র থাকলেও তারাও তো মানুষ। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি, এটা হয়তো অমানবিক ঠেকেছে তাদের কাছে। আমরা যে পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি সেই পথে তাদের দেখিনি। এটা হয়তো আল্লাহর রহমত বা সরকারের অনুকম্পা।

    rohinga

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও রিয়াল অ্যাডমিরাল খোরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশ দেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    সূত্রগুলোর মতে, মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের নানা তথ্য ও ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। যা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিষয়টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে মুলমানদের ভেতরে সেন্টিমেন্ট গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকরা।

    ইস্যুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে সীমান্ত এলাকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার ব্যাপারে উদ্যোগী হতেও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    সূত্রগুলো আরও জানায়, এসব বিষয় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। আপাতত অনুপ্রবেশের পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়ে সরকার ভাবছে না বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো দাবি করেছে।

    rohinga

    এদিকে, বুধবারও রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্তত তিনটি গ্রামে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, বার্মিজ আর্মিদের নির্মমতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না। তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়িঘরগুলো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে যাতে ফের রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে বসতি স্থাপন করতে না পারে।

    বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কক্সবাজার কার্যালয়ের অফিস প্রধান সংযুক্তা সাহানী সংবাদ সম্মেলন করে গত এক সপ্তাহে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের তথ্য জানান।

    তিনি জানান, যারা প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোরে জিরো পয়েন্টে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে কি না- বিষয়টি স্পষ্ট না করলেও যারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন তাদেরও খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে যারাই অনুপ্রবেশ করবে বা শরণার্থী হিসেবে তাদেরকে সহায়তা দেয়া আমাদের কাজ।

    rohinga

    সরেজমিন বুধবার সীমান্তের রেজু আমতলী গিয়ে দেখা যায়, শত শত রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে টমটম গাড়িযোগে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে অন্তত নতুন কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে।

    অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আনা গরু, ছাগল, মুরগি স্থানীয় কতিপয় সুবিধাভোগী পানির দরে কিনে নিচ্ছে। রোহিঙ্গারাও সেগুলো বাড়তি বোঝা দেখে তর্ক ছাড়াই হাতবদল করছে। পরে অপেক্ষমাণ ইজিবাইক ও অন্যান্য গাড়িতে করে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

    উখিয়ার বালুখালী বস্তির লালু মাঝি জানান, বুধবার পর্যন্ত তার ক্যাম্পে এক হাজার ৩৮৫টি নতুন পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

    কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর জানান, অসংখ্য রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকে পড়েছে। ঠিক কত হাজার, তা বলা মুশকিল।

    rohinga

    রেজু আমতলী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা মংডুর সাহেব বাজার নারাইন সং গ্রামের মৃত নূর আহম্মদের ছেলে ৭৫ বছর বয়সী আবদুল গফুর বলেন, গত পাঁচদিন ধরে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে না খেয়ে অবস্থান করি। বৃষ্টি ও ক্ষুধার কারণে আর লুকিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। বুধবার সকালে ওয়ালিদং পাহাড় পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি।

    মংডু ফকিরাবাজার এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ চলে এসেছে। পাশের গ্রামে আগুন দেয়া হলে ভয়ে আমরা পালিয়ে আসি।

    একই গ্রামের আবদুল কাদের বলেন, গত শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হই। গহীন জঙ্গলে তিনদিন লুকিয়ে ছিলাম। মঙ্গলবার রাতে শতাধিক মগ সেনা দেখে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে চলে আসি। গাছের লতাপাতা ছাড়া এ সময় কোনো কিছুই খাওয়া হয়নি।

    মিয়ানমারের ফকিরাবাজারের নুরুল কবির অভিযোগ করেন, বহু কষ্টে চারটি গরু জিরো পয়েন্টে আনি। কিন্তু কিছু যুবক তা লুট করে নিয়ে যায়। আমার সঙ্গে আরও পাঁচ পরিবার ছিল। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির সুযোগে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আমরাও তাদের সঙ্গে ঢুকে পড়ি। এখনও জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

    rohinga

    ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া ও রেজু আমতলিতে অসংখ্য টমটম রোহিঙ্গাদের পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছে। ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছাতে তারা জনপ্রতি ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা গরু-ছাগল স্থানীয় কিছু যুবক পানির দামে কিনে নিচ্ছে।

    বৃষ্টির কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের দেখা মেলেনি। তাই বাধাহীনভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বিজিবি’র কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পয়েন্ট ছাড়া বাকি সীমান্তে টহল দেয়া সম্ভব হয়নি। এ সুযোগে কিছু রোহিঙ্গা হয়তো অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে।

    rohinga

    তিনি আরও বলেন, ওপারে এখনও গোলাগুলি ও বোমার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারীদের প্রতি আমরা কঠোরতা দেখাচ্ছি না। তবে, আগের মতোই রোহিঙ্গাদের প্রতিহত করা হচ্ছে।

  • খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

    খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এ কথা জানিয়েছেন।

    খবর- বাসস’র।

    আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক সেকেন্দার আলী মোল্লার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছে দেন।

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

  • দেশের এগারতম শিক্ষা বোর্ড ‘ময়মনসিংহ’

    দেশের এগারতম শিক্ষা বোর্ড ‘ময়মনসিংহ’

    দেশের এগারতম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড হল ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা নিয়ে নতুন এই শিক্ষা বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

    গত ২৮ অাগস্ট এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

    বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল, যশোর ও দিনাজপুরে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ময়মনসিংহ হচ্ছে দেশের ১১তম শিক্ষা বোর্ড।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নতুন বোর্ড গঠন সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিনেন্সের ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও জামালপুর জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান এবং উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ শহরে শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করল।

    উল্লেখিত আদেশে এই চার জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার রহিত করে এসব জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও উন্নয়নের ক্ষমতা নবগঠিত বোর্ডের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। এ বিভাগ গঠনের পর থেকেই ময়মনসিংহে একটি শিক্ষা বোর্ড স্থাপনের দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সরকার ময়মনসিংহে নতুন শিক্ষা বোর্ড স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মতামতের ভিত্তিতে ময়মনসিংহে নতুন শিক্ষা বোর্ড স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর তা অনুমোদন করেন। এরপরই নতুন শিক্ষা বোর্ড গঠনের আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

  • সব সময় আমাদের সাপোর্ট দেন প্রধানমন্ত্রী : সাকিব

    সব সময় আমাদের সাপোর্ট দেন প্রধানমন্ত্রী : সাকিব

    ঢাকা টেস্টে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চতুর্থ দিনেই অসিদের হারের লজ্জা দেন টাইগাররা।

    সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা দেখতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হবার কিছুক্ষণ আগে মাঠে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেষ পর্যন্ত মাঠে বসেই বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ের সাক্ষী হন তিনি। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমেও গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বেশ কিছু সময়ও কাটান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা টেস্টের ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) সব সময় আমাদের সাপোর্ট দেন, ক্রিকেট অনেক পছন্দ করেন।  কালকেও উনি আসতে চেয়েছিলেন, ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি।  দলের জন্য এমন সাপোর্ট দরকার। আমাদের এটা উৎসাহ দেয়। আমরা সবাই জানি, পুরো দেশ আমাদের সাথে আছে। ’

  • কাউন্সিলর রুমকিসহ ৫ জনের জামিন নামঞ্জুর

    কাউন্সিলর রুমকিসহ ৫ জনের জামিন নামঞ্জুর

    বগুড়ায় ধর্ষণের পর বিচারের নাম করে ধর্ষিতা ছাত্রী ও তার মাকে মারপিট ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিসহ পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। অপরদিকে মামলার তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত  নির্যাতিত মা-মেয়েকে রাজশাহীর সেইফ হোমে রাখার আগের আদেশই বহাল রাখা হয়েছে।

    জানা যায়, আজ মামলার ধার্য তারিখে জেলা কারাগার থেকে কাউন্সিলর রুমকি, তার মা রুমি বেগম, মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকারের স্ত্রী আশা খাতুন এবং তুফান সরকারের দুই সহযোগী আতিক ও মুন্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জামিন আবেদন করা হলে তা শুনানী শেষে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে আবারো কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন। নির্যাতিত কলেজছাত্রী ও তার মা আদালতের নির্দেশে ৮ আগস্ট থেকে রাজশাহীর সেইফ হোমে অবস্থান করছে। আজ তারা বগুড়ার শিশু আদালতে হাজির হয়ে সেইফ হোম থেকে নিজেদের বাড়িতে ফেরার আবেদন জানান। কিন্তু মামলার তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজশাহীর সেইফ হোমে রাখার পুরনো আদেশই বহাল রাখেন বগুড়ার ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও শিশু আদালতের বিচারক মোহা. ইমদাদুল হক। বগুড়া নারী ও শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি এ্যাড. আমান উল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই ধর্ষণের বিচার করার নাম করে অভিযুক্ত বহিস্কৃত শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তার বোন নারী কাউন্সিলর রুমকি, মা রুমি বেগমসহ বেশ কয়েকজন মিলে মারপিটের পর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে।
    মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ওসি (অপারেশন্স) আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্যাতিত মা ও মেয়ে দুই জনই বগুড়া আদালতে হাজির হয়েছিল। তাদের সেফ হোমেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • ‘ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না’

    ‘ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না’

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না। যদি চলাচল করে তবে পুলিশ এসব গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

    এখানে কোন ছাড় দেয়া হবে না, কারণ জনগনের স্বস্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে আমরা কাউকে রাস্তায় চলতে দিতে পারি না।

    তিনি আজ বুধবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

    মন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে টাইগার টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকে কেউ অন্য কোন ভিশন নিয়ে মেতে নেই। একটু কষ্ট হলেও ক্রিকেট জয়ের আনন্দ নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরবে।

    এসময় মন্ত্রীর সাথে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, হাইওয়ে ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজ্জাকের মৃত্যুতে মুশফিকের শোক

    রাজ্জাকের মৃত্যুতে মুশফিকের শোক

    বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। সোমবার ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    নায়ক রাজের মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনের পাশাপাশি গোটা দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করেছেন অসংখ্য ভক্ত-শুভাকাঙ্খি।

    বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও শোকার্ত। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক আজ (সোমবার) না ফেরার দেশে চলে গেলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। তার পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা। ’

    হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রাজ্জাককে সোমবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নায়করাজ।

  • চাঁদ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে ১ সেপ্টেম্বর ঈদ

    চাঁদ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে ১ সেপ্টেম্বর ঈদ

    সোমবার সৌদি আরবের আকাশে কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সে হিসাবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হবে ঈদুল আযহা।

    এবং আগামী ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান প্রধান বিচারপতি : প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান প্রধান বিচারপতি : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সমক্ষমতা কেড়ে নিতে চান বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন। যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্বা।

    গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আলোচনা সভায় অধিকাংশ বক্তাই প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলা আদালতের কাজ না। প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া। বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এই পদে থাকব না। তিনি বলেন, সব কিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা সহ্য করা যায় না। আর আমাকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ, জীবন বাঁচানোর মালিকও আল্লাহ। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে সেজদা দেই, আর অন্য কারও কাছে মাথানত করি না। জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত, জনগণের শক্তিই বড় শক্তি, এটা সবাই মনে রাখবেন। ‘পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করেছেন, সেখানে কিছুই হয়নি’— প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের সমালোচনা করে দেশবাসীর ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগে পেয়েছি স্বাধীনতা, যে পাকিস্তান এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেই দেশটিকে নিয়ে তুলনা করায় বিচারের ভার দেশের জনগণের। কারণ জনগণের আদালতই হচ্ছে বড় আদালত। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ভালো, কিন্তু তা বালকের জন্য নয়। বালক সুলভ আচরণ ভালো নয়। রাজাকার-আলবদর কিংবা শান্তি কমিটির সদস্যরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা তা প্রমাণ করেছি। সুতরাং পাকিস্তানে কী হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে আমাকে হুমকি দেবেন না। এটা সহ্য করা হবে না। আইয়ুব খান দেখেছি, ইয়াহিয়া খান দেখেছি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াকে দেখেছি। ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নাই।

    প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণের বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপির ফরমায়েশি রিপোর্ট দেওয়া বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির তদন্ত দুদক যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখলেন। তদন্ত করা যাবে না কেন? দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া, দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করা প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। এটা সংবিধানকে অবহেলা করা। সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। তিনি বলেন, গণপরিষদের সদস্যদের করা আইন প্রধান বিচারপতির পছন্দ নয়। উনার পছন্দ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জারি করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই কি তার জুডিশিয়াল কাউন্সিল পছন্দ? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এ কোন ধরণের দাবি? তিনি বলেন, বিএনপি অনেক বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, ভুয়া সনদধারীদের বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করে গেছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হলে তো কারোরই বিচার হবে না। তিনি আরও বলেন, আজ উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের ক্রিমিনাল বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যবসা করা কি অপরাধ? ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য হলে ক্রিমিনাল কেন বলা হবে?

    প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তার নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না। তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিল। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়েছিলেন বলেই আজ সবাই স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছেন। তিনি বলেন, একটি আইন পাস করতে গেলে অনেক পর্যায় পার হতে হয়। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। আর আদালতে এক খোঁচায় তা বাতিল করে দেন। এত সংসদ সদস্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা তাদের কারোরই কোনো জ্ঞান-বুদ্ধি নেই। জ্ঞান-বুদ্ধি আছে শুধু এক বা দুজনের? অন্য বিচাররকা স্বাধীনভাবে মতামত তুলে ধরতে পেরেছে কি না, এটা নিয়েও কথা আছে। ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, তা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে না। তারা আদালতকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ‘সংসদ কতদিন চলবে তা কেবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়’, প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে এ দাবি অসত্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাবিনেটে সংসদ কতদিন চলবে তা নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় না। সংসদ সম্পর্কে এতটুকু ধারণা থাকলে এ কথা বলতে পারতেন না। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংসদ কতদিন চলবে, কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে। এমন বহু অবান্তর কথা বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় ভালো করে পড়ছি এবং অসঙ্গতিগুলোর নোট নিচ্ছি। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সময় এলে নিশ্চয় সব কিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ দেশের জনগণের কাছে। পাঁচ বছর পর পর আমাদেরকে জনগণের আদালতের সামনে দাঁড়াতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে না আসে সেই দায়িত্ব কার? এটা তো ওই রাজনৈতিক দলেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিএনপি তো সবসময় উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উত্তর পাড়া তাকে কোনো সাড়া দেয়নি। আর ড. কামাল হোসেন তো কোনোদিন সরাসরি ভোটে জিততে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আবার বড় বড় কথা বলেন কীভাবে? নির্বাচনী আইনেই রয়েছে কোনো আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।

    ‘কয়েকটা ফ্লাইওভার বা রাস্তা হলেই উন্নয়ন হয় না’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা ফ্লাইওভার কিংবা রাস্তায় নয়, আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করেছি। দেশের মানুষ দু’বেলা খেতে পারছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কী চোখে পড়ে না আমাদের প্রধান বিচারপতির। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আমরা দেশের সম্মান নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতা দখল করলেই কি উন্নয়ন হবে? সেই অবস্থা আর নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে তার বিচার হবে। জনতার আদালত সবচেয়ে বড় আদালত, মনে রাখবেন।

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তার মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সে সময়কার গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একের পর এক ১৩টি গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়েছিল আমাদের জনসভায়। এরপর কারাগারেও একটি গ্রেনেড পাওয়া যায়। সেদিন কারাগারে আরও অনেক গ্রেনেড ঢুকানো হয়েছিল। কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে কিছু দুর্ধর্ষ কয়েদিকেও অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে আনা হয়েছিল। তাদের ষড়যন্ত্র ছিল আমাকে হত্যা করার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাইরে বের করে আনা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধের ময়দান আর সেনাবাহিনীর ব্যবহূত গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায়। এর আগের আমার ওপর অনেকবার হামলা চালানো হয়। তার ঠিক আগে বিএনপি নেতারা আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, দেশে আরেকটা ১৫ আগস্ট হবে। আমাকে বঙ্গবন্ধুর পরিণতি বরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সংসদে আমার নাম ধরেই বলেছিলেন, আগামী ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারব না। সংসদে তারই দলের সংসদ সদস্যরা ওই হামলায় আমাদেরই ওপর দোষ দিতে থাকল। এমনও বলা হতে থাকল, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গেছি। পরে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি বলল, এটা নাকি প্রতিবেশী দেশ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসতে ১০০ বছর লাগেনি। তার আগেই ক্ষমতায় এসেছি, দেশের উন্নয়ন করছি। আলোচনা সভায় অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেমন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল, কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।